Wednesday, April 18, 2018

পুষ্পবৃষ্টি

এক ছিল এক দেশ। সেই দেশটি পৃথিবীতে কিনা, তা আমি জানি না। সেই দেশটি কেউ খুঁজে পায়নি। তবে আমি সেটা জানি। সেই দেশটির নাম পুষ্পষ্টি। আসলে পুরো ফরমটা হচ্ছে পুষ্পবৃষ্টি। কারণ, সেই দেশে তিনটি ঋতু ছিল এবং বর্ষাকালে পুষ্পের বৃষ্টি হতো দিনরাত। ফুলে ফুলে রাস্তাটাই ভরে যেত। দূর দূরান্ত থেকে যেই যেই ভালো মানুষ এদেশের কথা কোনভাবে জানতে পেরেছে, তারা গরীবদেরকে এই দেশের কথা বলেছে এবং তারা নিজেরাও গিয়েছে। খারাপ যারা এটা দেখেছে, তারা তো আর অন্যের উপকার করতে যাবে না। তারা নিজেরা গিয়ে নিজেরাই মজা উপভোগ করে চলে আসে। বর্ষাকালে ঐ দেশে অনেক মানুষ জমা হয়। অন্যান্য দুইটি ঋতুর নামগুলো হলো ধূলাকাল আর স্বর্ণকাল। ধূলাকালে পুরো দেশটির মাটি ধূলায় পরিণত হয়। আর স্বর্ণকালে পুরো দেশের গাছগুলো সোনায় পরিণত হয়। এবং স্বর্ণকালে প্রায় সব মানুষই এদেশে চলে আসতে চায়। তবে বেশি মানুষের আগমনের কারণে সেখানে ঐ সময় বাঘ-সিংহেরও সমাগম ঘটে। তাই মানুষ খুব কম আসে। যারা শিকারী এবং অনেক বেশি সাহসী, তারাই একমাত্র আসে। তবে এ কারণে এই কালটি আর বিখ্যাত রইল না। পুষ্পষ্টি দেশে এখন বর্ষাকালই বেশি বিখ্যাত। আর বর্ষাকালে জন্তু-জানোয়ার আসলেও তারা ফুলের গন্ধেই মাতোয়ারা হয়ে থাকে, মানুষের দিকে মনোযোগ দেবার সময়ই পায় না। আর বর্ষাকাল এমন একটি ঋতু, যেই ঋতুতে গরীবরাও ধনী লোকদের সমান সমান আনন্দ করতে পারে। কারণ, ঐ ফুল গরীবরাও গিয়ে নিতে পারে, কেউ বাধা দেয় না। 

Saturday, April 14, 2018

পহেলা বৈশাখের ছড়া

আজ খুশীর দিন,
আজ পহেলা বৈশাখ;
মারামারি করো না গো,
সব বাজাবাজি থাক।

চারিদিকে কাপড় হলো-
লাল আর সাদা;
সাদা রঙের ফতুয়া
পড়েছে আমার দাদা।

বৈশাখী মেলা হবে
অনেক জায়গাতে;
সবাই এবার খাওয়া সারবে
ইলিশ পান্তাভাতে।

Monday, April 9, 2018

ঘড়ি নিয়ে বিবাদ

এক ছিল এক স্কুল। স্কুলে অনেক অনেক  ছাত্র-ছাত্রী ছিল। একদিন একটা ক্লাসরুমে অনেক বাচ্চারাই ঘড়ি পরে আসল। আর এক জায়গায় দুইজন ঘড়ি পরা মেয়ে পাশাপাশি বসেছিল। তাদের একজনের নাম ছিল শিউলি আর আরেকজনের নাম ছিল বেলি। শিউলির ঘড়িতে ৮:৩৫ বাজে, আর বেলির ঘড়িতে ৮:৩৬ বাজে। বেলি বলল, "এই শিউলি! তোর ঘড়ি তো দেখছি ১ মিনিট স্লো।" শিউলি রাগ হয়ে বলল, "খবরদার, উল্টো পাল্টা কথা বলবি না। আমার ঘড়িটাই ঠিক আছে। তোরটাই এক মিনিট ফাস্ট। আমি আমার বাসার ঘড়ি দেখে দেখে ঠিক করেছি টাইম।" বেলি বলল, "তাতে কি? আমি আমার বাসার ঘড়ি দেখে ঠিক করেছি।" শিউলি বলল, "চুপ কর তুই! তোর বাসার ঘড়িটাই ফাস্ট।" তখন বেলি খুব রাগ হয়ে বলল, "মেজাজটা কিন্তু গরম হয়ে যাচ্ছে। তোর ঘড়িটা কিন্তু স্লো, আমি আগেই বলেছি। আমারটাকে কেন তুই ফাস্ট বলছিস?" শিউলি বলল, "তোর কথাই যে সত্যি হবে, এমন কি? আর তোর ঘড়িটাই যে ঠিক হবে, এমন কি?" বেলি বলল, "আর তোর কথাই কি সবসময় সত্যি হবে নাকি?" এই ঝগড়া আর কেউ থামাতে পারছে না। টিচার পড়াও পড়াতে পারছে না। এরা চিৎকার-চেচামেচি করে ক্লাসটা একেবারে মাছের বাজার করে দিয়েছে। টিচার খুব রাগ হয়ে প্রিন্সিপালের রুমে চলে গেল। সে এতই রাগ হয়ে গিয়েছিল যে, প্রিন্সিপালের সাথেও তার একটু উঁচু গলা ছিল। "আপা! আমি কি কিছু কথা বলতে পারি?" প্রিন্সিপাল বললেন, "বল।" টিচার বলল, "আপনার স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার সময় বেলি আর শিউলি কি পাস করেছিল?" তখন প্রিন্সিপাল বললেন, "বেলি আর শিউলি? ঐ দুইটা মেয়ে? হ্যাঁ, করেছিল। তবে পরীক্ষা দেবার সময়ও ওরা একটু কথা বলছিল। তাও ছোট্ট দুইটা মেয়ে- পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে, তাই ভর্তি নিলাম। কেন, কি হয়েছে? তারা কি করেছে?" টিচার বলল, "কি করেছে আর বলবেন না। কি করেনি, তাই বলেন। দু'জন দুইটা ঘড়ি পরে এসেছে; একজন বলে, তোরটা এক মিনিট স্লো। আরেকজন বলে, তোরটা এক মিনিস ফার্স্ট। এরকম করে ক্লাসটা একদম মাছের বাজার। আর এই ঝগড়ার কোন সমাধানই তো নেই। এদেরকে আপনি টিসিই দিয়ে দিন। একবারও ওয়ার্নিং লেটার দেওয়া লাগবে না।" প্রিন্সিপাল বললেন, "দাঁড়াও না, হুট করে কি আর টিসি দিয়ে দেওয়া যায়? আমার সাথে চল তোমার ক্লাসরুমে। আমি দেখি, কারা কেমন ঝগড়া করছে।" প্রিন্সিপাল ক্লাসে আসার সময় সবাই সালাম দিল, কিন্তু বেলি আর শিউলি সালামটাও দিতে পারল না, তারা ঘড়ি নিয়েই পড়ে থাকল সারাদিন।" প্রিন্সিপাল বললেন, "তোমাদের কিন্তু আমি ঘড়ি দুটোই নিয়ে নেব। কি হয়েছে, বেলি আর শিউলি? এমন করছ কেন ঘড়ি নিয়ে। ও! ওরটা এক মিনিট স্লো, আর তোমারটা এক মিনিট ফাস্ট?" বেলি বলল, "দেখুন তো, ও শুধু বলছে, আমারটা নাকি ফাস্ট। আসলে ওরটাই তো স্লো। আপনার ঘড়িতে কয়টা বাজে?" শিউলি বলল, "এই বেলি, রাখ তো। আসলে কিন্তু তুই একদম ভুল বলছিস। আমি যেটা বলেছি, সেটাই ঠিক।" প্রিন্সিপাল বললেন, "এমন করে করে তো তোমরা দশ মিনিট পার করেছ। শিউলির ঘড়িতে বাজে ৮:৪৫, আর বেলির ঘড়িতে বাজে ৮:৪৬। এ কি, আমার ঘড়িতে তো বাজে ৮:৪৭।" এখন খুব মজার একটা কাহিনী ঘটল। প্রিন্সিপালও ঝগড়ার মধ্যে জড়িয়ে গেলেন। তিনি বললেন, "তোমাদের দু'জনেরটাই তো স্লো। আসলে তো আমারটাই ঠিক।" তখন শিউলি বলল, "ধূত! মিস, আপনার ঘড়িটাই ফাস্ট। আর বেলি, তোর ঘড়িটাও ফাস্ট। শুধু আমার ঘড়িটাই ঠিক। আবার স্লো বলবেন না কিন্তু।" প্রিন্সিপাল বললেন, "এই শিউলি, এমনভাবে কেউ ঝগড়া করতে আসে? আমি না প্রিন্সিপাল! আমারটাই তো ঠিক হবে। আমি আমার বাসার ঘড়ি দেখে টাইম ঠিক করেছি।" শিউলি আর বেলি একসাথে বলল, "আমরাও তো আমাদের বাসার টাইম দেখে আমাদের ঘড়ির টাইম ঠিক করেছি। আর সবারটা তো ঠিক হবেই না।" এখন প্রিন্সিপালকে নয়, ক্লাস টিচারকে বেলি জিজ্ঞেস করল, "আপনার ঘড়িতে কয়টা বাজে?" ক্লাস টিচার বলল, "আমার ঘড়িতে তো ৮:৪৪ বাজে।" এই তো শুরু হলো আরেক মজা। ক্লাস টিচারও ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়লেন। ক্লাস টিচার বললেন, "প্রিন্সিপাল আপা! একটা কথা বলতে পারি? আমিও তো আমার বাসার টাইম দেখে ঠিক করেছি। আমার ঘড়িটা দেখেই আমি সবকিছু করি। আমারটাই নিশ্চয়ই ঠিক হবে। আর বেলি আর শিউলি, তোমরাই শোন, আমারটাই আসলে ঠিক।" এত্ত বড় ঝগড়া তো কেউ সমাধান করতে পারছে না। একটু পর অংকের স্যার আসলেন। এখন শিউলি বলল, "স্যার! একটা কথা বলি। আপনার ঘড়িতে কয়টা বাজে?" স্যার বলল, "আমার ঘড়িতে তো ৮:৪৮ বাজে।" এরপর বেলি আর শিউলি বলল, "আমাদের ঘড়িতে আপনার থেকে আলাদা সময়।" প্রিন্সিপাল আর ক্লাস টিচারও বললেন, "আমাদের ঘড়ির সময়ও আপনার থেকে আলাদা।" এরপর শুরু হলো আরো এক মজা। অংকের স্যারও জড়িয়ে গেলেন এই ঝগড়ার সাথে। অংকের বইটা রেখে দিয়ে তিনি ঘড়ি নিয়ে বসলেন। অংকের স্যার বললেন, "আমারটাই আসলে ঠিক। প্রিন্সিপাল আপা আর ক্লাস টিচার আপা! আপনাদের ঘড়ি আমারটার থেকে স্লো। আর বেলি আর শিউলি! তোমাদের ঘড়িও আমারটার থেকে স্লো। আমারটাই ঠিক।" এত জোরে ঝগড়া শুরু হল, স্কুলের বাইরে থেকেও সব শোনা যাচ্ছে। স্কুলের পাশে একটা বিল্ডিং ছিল। বিল্ডিংয়ের সবাই ঝগড়ার চোটে বিল্ডিং থেকেই নেমে আসল। তারপর স্কুলে গিয়ে ঢুকল। আর জোরে জোরে বলল, "সমস্যা টা কি? কান ঝালাপালা করে দিচ্ছেন কেন। এ কি কোন খেলা, নাকি সত্যি সত্যি ঝগড়া? কি নিয়ে ঝগড়া, শুনি?" তারপর তারাও দেখল, ঘড়ি নিয়ে ঝগড়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে আবার দুই জনের ঘড়ি ছিল। তাদের টাইমও আলাদা ছিল। ফলে তারাও জড়িয়ে পড়ল। শুরু হলো আরো এক মজা। সবাই মিলে ঝগড়ার মধ্যে জড়িয়েই যাচ্ছে, জড়িয়েই যাচ্ছে। যাদের যাদের ঘড়ি আছে, সবাই মিলে ঝগড়া করছে।
হঠাৎ স্কুলের এক সুইপার ঐ ক্লাসরুমটাতে ঢুকল। প্রিন্সিপাল আপাকে জিজ্ঞেস করল, "আপা! এখানে কি হচ্ছে? এত ঝগড়া কিসের, আপা?" যারা যারা ঝগড়া্য় নামেনি, যাদের ঘড়ি নেই, তারা তো হাসতে হাসতে মরে যায়। অথচ তাদের ঘড়ি থাকলে তারাও হয়তো জড়িয়ে যেত। সুইপার বলল, "এই সমস্যা! কম্পিউটার দেখে ঠিক করে নিলেই তো হয়।" প্রিন্সিপাল থামলেন না। আর যারা যারা ঝগড়ায় আছে, তারাও ভালোমত থামল না, ঝগড়া চালিয়েই যাচ্ছে। যারা যারা ঝগড়ায় নামেনি, তারা তারা সুইপারের সঙ্গে অফিস রুমে গেল। গিয়ে একজনের কম্পিউটারে টাইম দেখে নিল। আসলে টাইমটা ছিল ৮:৪৬। সুইপার দৌড়ে গিয়ে বলল, "আসলে টাইমটা ৮:৪৬।" সবাই তখন থেমে গেল। আর নিজ নিজ কাজে চলে গেল। আর ঝগড়া থামা হয়েছে গেল সেইদিন ছুটি দিয়ে দেওয়া হলো। আর সেই সুইপারকে প্রিন্সিপাল ১০০ টাকা পুরস্কার দিলেন। যারা যারা ঝগড়া করেনি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে, তারা তারা 'ইয়ে' বলে দৌড়ে ক্লাস থেকে নেমে গেল আর যার যার বাসায় চলে গেল।

Thursday, March 29, 2018

উইপোকা সমাচার

এক ছিল এক শহর। সেই শহরে থাকত একটি পরিবার। পরিবারে ভাই-বোন ও মা-বাবা ছিল। ভাই-বোন দু'জনের বয়সের মধ্যে বেশি একটা পার্থক্য নেই। ভাইয়ের ১০ বছর, বোনের সাড়ে ৮ বছর। তবে মাঝে মাঝেই ঝগড়া হয়। এমন কোন দিন নেই, যেদিন তাদের ঝগড়া হয়নি। মেয়েটির নাম ছিল শান্তা। আর ছেলেটির নাম ছিল হাসান। শান্তার আবার ছিল একটা ছোট্ট বাগান। সে সবসময় সেই বাগানেরই যত্ন নিত, আর খেলার সময় পুতুল দিয়েই শুধু খেলত। আর ছেলেটি শুধু শান্তাকে বলত, "এই শান্তা! সারাদিন শুধু বাগানের যত্ন নিস কেন? দেখ, আমি কেমন খেলি, মা আমাকে একটা বাক্স ৫০টি ছোট ছোট খেলনা সৈনিকসহ এনে দিয়েছে। তাদের মধ্যে আবার আলাদাও একজন আছে। খেলার মধ্যে আমি তাকে রাজা বানাই, কত কী করি! আর তুই সারাদিন বাগানের যত্ন নিস।" শান্তা বলল, "ভাইয়া! আমি শুধু বাগানের যত্ন নেই তোমাকে কে বলেছে? বাগানের যত্ন নেয়া শেষ হলে তো আমি একটুখানি খেলি। আর খেলা শেষ হলে আমি পড়তে যাই। রাতের খাবারের সময়ের আগ পর্যন্ত আমি পড়ি, আর বিকাল থেকে পড়া শুরু করি। তাই তো আমি সবসময় এ+ পাই। তুমি শুধু শুধু খেলনা নিয়ে খেল। খেলনার কি প্রাণ আছে? গাছ, ফুল এসবের প্রাণ আছে। আমি তাদের যত্ন নেই।" হাসান নাক ঘুঁচিয়ে ভ্রূ কুঁচকিয়ে বিদ্রূপের নাকি সুরে বলল, "ঊঁহ! ঢং কত! নিজে যখন পুতুলকে খাওয়ায় দাওয়ায় তার বেলা।" শান্তা বলল, "চুপ কর তো তুমি। আমি খেলি খুব অল্প সময়। এখন ঝগড়াটা থামাও। আমাকে গাছে পানি দিতে দাও।" রাত হলো। তারা ঘুম ঘুম চোখে। ঘুমিয়েই পড়বে একটু পর। শান্তার হাতে চুলকিয়ে উঠল। সে উঠে চিৎকার করল। হাসান তখন বলল, "কি হয়েছে, মা একটু শুয়েছে, চীৎকার করেছিস কেন?" শান্তা বলল, "পিছনে তাকিয়ে দেখ। পুরো ঘরটাতে কী হয়েছে!" হাসান পিছন ফিরে আবার চিৎকার দিয়ে উঠল। এরপর মাও পিছন ফিরে দেখল। মাও খুব আতঙ্কিত হয়ে উঠল। তাদের বাবা পিছন ফিরে দেখে বলল, "এ কী! এ যে উইপোকা। উইপোকার দল আমাদের বাড়িতে হামলা করেছে। কোথা থেকে আসল এই উইপোকা? উইপোকা নাকি সারা ঘরও খেয়ে ফেলতে পারবে।" পরের দিন তারা সকালে উঠে দেখল, বিছানা উইপোকার লাশে ভরে গেছে। শান্তা উঠে দৌড় দিল আর তাড়াতাড়ি ড্রেসিং রুমে গেল আর অন্য একটা জামা পড়ে আসল। সেই জামার মধ্যেও উইপোকার লাশ ছিল। আর শান্তার ভাই! সে তো এসব কিছু কেয়ারই করে না। সে তার বাবাকে বলল, "বাবা, বাবা! আমাদের তো একটা মশার র‍্যাকেট আছে। চল না, র‍্যাকেটটাই ব্যবহার করি উইপোকা মারতে।" বাবা রাগ হয়ে বলল, "চুপ কর! কেমন কেমন বুদ্ধি দেয়? কত বুদ্ধি! যেন কার্টুনের গোপাল ভাড়। মশার র‍্যাকেট দিয়ে উনি মারবে উইপোকা। র‍্যাকেটের সাথে যখন উইপোকার লাশ লেগে থাকবে, তখন কি হবে? তখন তো নিজেই ধরতে ঘৃণা পাবি।" তাদের আবার এক মামা ছিল। সেই মামাকে সবাই উইপোকা মামা বলে ডাকত। কারণ, সে উইপোকা তাড়াতে জানত। শান্তা যখন শুনেছিল যে, তার ভাইয়ের র‍্যাকেট দিয়ে মারার কথা; শান্তা বলল, "ভাইয়া! পুড়িয়ে মারতে হয় না। দরকার নেই তো। উইপোকা মামাকে ডেকে আনলেই তো হয়। উইপোকা মামা কত না জানি উইপোকা মারে।" এরপর উইপোকা মামা বাসায় এল। উইপোকা মামা দেখল, তাদের রান্নাঘরের চৌকাঠে উইপোকার বাসার মতন মাটি। সে উইপোকার ওষুধ দিয়ে দিল সেখানে। উইপোকারা কয়েকদিনের মধ্যেই মরে গেল। কারণ, উইপোকা মামা আরো অনেক কিছু করেছিল। এরপর উইপোকা মামা বাসায় ফিরে গেল। ওদের মা হাসান এবং শান্তাকে বলল, "শোন! তোদের বাসায় উইপোকা এসেছে কেন, জানিস? কারণ, তোরা সবসময় ঝগড়া করিস। তাই উইপোকা তোদের শাস্তি দেয়ার জন্য এই বাসায় এসেছে।" শান্তাকে ওর মা বলল, "তোমার গল্পের রূপকথার পরী এসে উইপোকা দিয়েছে, কারণ তোমরা ঝগড়া কর।" আর হাসানকে বলল, "তোমার খেলনা সৈনিকের দল তোমার ঐসব ভূতের মুভির ভূতদেরকে বলেছে উইপোকা দিতে। তাই বাসায় উইপোকা এসেছে।" তখন থেকে আর কেউ ঝগড়া করে না। এখানে গল্প শেষ।

Saturday, March 24, 2018

হালাল-হারামের বিড়ম্বনা

এক মুসলমান লোক অফিসের কাজে বিদেশ যাচ্ছিল। সে সবকিছুই গুছিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু খাবারের কথা তার মাথায়ই ছিল না। সে ভেবেছিল, খাবার তো দোকান থেকে কিনেই ম্যানেজ করা যাবে। এই ভেবে সে খাবার ছাড়া অন্যান্য সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে বিদেশে রওয়ানা হলো। বিদেশে পৌঁছে সে একটা হোটেলের রুম ভাড়া নিল। খাবার সময় কোথায়? এসেই বিদেশে তার অফিসের এক কলিগ তাকে ফোন দিয়ে বলল অমুক জায়গায় যেতে। আর সেখানে যাওয়ার সময় ল্যাপটপটা নিতে না ভুলতে। তখন দুপুরের খাবারের সময় ছিল। কিন্তু তার কলিগ বলেছিল আধ ঘন্টার মধ্যে পৌঁছে যেতে। যেতেই তো ২৫ মিনিট লাগে। তাই সে তাড়াতাড়ি না খেয়েই রওয়ানা দিল। তারপর পরের দিন সকালে সব রকম কাজ শেষ করে সে আবার হোটেলে ফিরে আসল। কিন্তু তাও পুরোপুরি সব কাজ শেষ হয়নি। পরের দিন আবার ঐ জায়গায় যেতে হবে। এরপর সে তাড়াতাড়ি গিয়ে হোটেলে খাবারের অর্ডার দিতে গেল। বলল, "কি কি খাবার পাওয়া যাবে এখানে?" হোটেলের লোকেরা খাবারের লিস্টটা দেখালো। লিস্টের মধ্যে যা লেখা ছিল, তা দেখে লোকটি তো চিন্তায় পড়ে গেল। কি খাবে সে? সবগুলোই তো হারাম। একটা ছিল বেকন (লবণে জারিত শুষ্ক শুয়োরের মাংস), আরেকটা ছিল চিকেন ফ্রাই। চিকেন ফ্রাই হালাল হলেও তারা তো জবাই দেয় না। তাই তাও খাওয়া গেল না। শেষ পর্যন্ত হালাল-হারামের মাঝামাঝি পাওয়া গেল কাঁকড়া। কিন্তু তাও লোকটি খেতে ঘৃণা লাগছিল। তাই সে সেটারও অর্ডার করতে চাইল না। সে বলল, "ভেজিট্যাবল নেই নাকি কোন?" তারপর ওখানকার বাবুর্চিরা বলল, "কেন পাওয়া যাবে না? তবে ভেজিট্যাবল আর পর্ক (শুয়োরের  মাংস) দিয়ে তৈরি একটি সালাদ আছে।" লোকটির তো মাথায় হাত। বলল, "শুধু ভেজিট্যাবল নেই? আচ্ছা, ভেজিটেবল না হয়, শুধু ফল তো থাকতে হবে!" বাবুর্চিরা বলল, "ফল? সে আমরা কিভাবে করব? ফল কি রান্না করার কিছু, যে হোটেলে থাকবে? সে তো কিনেই খেতে পারেন।" তখন লোকটি বলল, "ঠিক আছে, কোন প্রাণীর মাংস ছাড়া কি কিছু নেই নাকি?" বাবুর্চিরা বলে, "থাকবে না কেন, স্যার? একেবারে পিওর টাটকা শুয়োরের দুধ দিয়ে তৈরি মাখনের বাটারবন আছে।" লোকটি রাগ হয়ে বলল, "মুসলমানদের খাওয়ার মত কি কিছু আপনাদের হোটেলে পাওয়া যায় না নাকি? অন্তত একটা আইটেম তো থাকতে হবে!" শেষ পর্যন্ত তার ভাগ্যে বোধহয় খাবার জুটবে। কিন্তু তাও ফেলে ফেলে। সেখানে ডিম পোচ ছিল, কিন্তু ডিমের আশপাশ দিয়ে শুকরের গোশত কুচি কুচি করা ছিল। বাবুর্চিরা বলল, "এই আইটেমটা আপনি নিতে পারেন, শুধু বাইরের এই জিনিসগুলো সরিয়ে সরিয়ে শুধু ডিমটা খেতে পারেন। আমাদের বিদেশে আবার একটা নিয়ম আছে, সেটা হলো ঠিক করে দেয়া আইটেম ছাড়া এদিক ওদিক করা যাবে না। রেডিমেট আইটেমের মধ্য থেকেই খাবার বেছে নিতে হয়, অর্ডার মত কিছু তৈরি করা হয় না। তারপর যে খাবার সার্ভ করা হয়, সেগুলো থেকে কিছু খেতে ইচ্ছে না করলে সেগুলো নিজের হাতে সরিয়ে পরে যেটুকু খাওয়া যায় সেটুকু খেতে হবে। কিন্তু শুধু ডিম খাবেন বলে ডিমের দাম দেবেন না, পুরো আইটেমটার দামই কিন্তু দিতে হবে। তাহলে এটাই চুজ করলেন তো? তাছাড়া তো আপনার খাওয়ার মতন কিছু দেখছি না।" লোকটি নিরূপায় হয়ে তাই মেনে নিল। তারপর সার্ভ করার পর প্লেটটা হাতে নিল। সব বেকনগুলো ফেলে দিল। তবে ডিমের যেই জায়গাতে বেকনগুলো লেগে ছিল, সেই জায়গা থেকে কিছু ডিমও ছিঁড়ে ছিঁড়ে ফেলে দিল। সে যেটুকু খাবার পেয়েছে এর দাম তো দশ টাকাও নয়। সে মনে মনে বলতে লাগল, এর থেকে তো রাস্তার দুই টাকার ঝালমুড়িও ভালো। সে ওটুকুই খেল সেই দিনের মত। পরের দিন সে ভাবল, বিদেশে আসলাম, শুধু অফিসের কাজ করলেই কি হবে? অফিসের কাজ তো শেষ। এখন একটু ঘুরি। ঐদিকের হোটেলটাতে তো যাওয়াই হলো না। অথচ খুব কাছে। ঐ হোটেলে নাকি খাবার খেলে ক্যারাম খেলার চান্স পাওয়া যায়। আমি তো আবার ক্যারাম খেলতে খুব পছন্দ করি। যাই, ঐ হোটেলেই যাই। গিয়ে দেখল, সেই হোটেলে মুসলমানদের খাওয়ার মত অনেক কিছুই আছে। পাস্তা ছিল, নুডুলস ছিল, মাছ ভাজা ছিল, আর ভেজিটেবলও ছিল। লোকটি আফসোস করতে লাগল, প্রথমে যদি এই হোটেলটাতে এসেই উঠতাম, তাহলে তো কথাই ছিল না। এখন এই হোটেলে ভালোমত খেয়ে নেই। সে নুডুলস, পাস্তা এবং হালাল সব রকম খাবারই চুজ করে নিল। তারপর মজা করে খেল। আর আগের হোটেলের ড্রিংকস ছিল দুই রকম। একটা ছিল মরিচ ড্রিংকস, আরেকটা ছিল শুকরের দুধের ড্রিংকস। লোকটি আবার বেশি ঝাল খেতে পারত না। তাই মচিরের ড্রিংকসটাও চুজ করতে পারল না, আর অন্যটা তো খাওয়াই নিষেধ। আর এখানে অনেক রকম ড্রিংকস ও জুস আছে। আমের জুস, কমলার জুস, আপেলের  জুস, স্প্রাইট ইত্যাদি। সে যত পারল ততই অর্ডার করল আর ততই খেতে শুরু করল। খাওয়া শেষ করে ভাল করে হাত-মুখ ধুয়ে নিল আর মনে মনে ভাবতে লাগল, কেন যে ঐ হোটেলটাতে উঠতে গেলাম! শুধুই কলিগটার কথায় কান দিয়ে। কলিগ বলেছিল, এদেশের সব মানুষ নাকি ঐ হোটেল বেশি পছন্দ করে। তাই ঐ হোটেলে গিয়েছিলাম। আমি আরো কয়দিন থাকব, আর এই হোটেলেই থাকব। এরপর সে শুয়ে পড়ল। পরের দিন সকালবেলা উঠে সে ক্যারাম খেলল, আবার জিতেও নিল। এরপর সব শেষে সে আবার দেশে ফিরে আসল। তারপর তার বউ-বাচ্চা সবাইকে ঘটনা বলল। যত কষ্টেরই হোক, প্রথম দিকেরটা কিন্তু বেশি অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ ও অ্যাডভেঞ্চারপূর্ণ ছিল। আর সে লোকটি মনে মনে বলে নিল, এরপর অন্য কোথাও গেলে খাবার সঙ্গে করে নিয়ে যাবে, নয়তো খোঁজখবর নিয়ে নেবে ওখানে হালাল খাবার পাওয়া যায় কিনা।

Tuesday, March 20, 2018

দাতা জাতি

এই গল্পটি কাল্পনিক। এক দীপে বাস করত এক জাতি। সেই দীপের মানুষেরা সবাইকে দান করত। প্রয়োজনে নিজের কাজের জিনিসও দিয়ে দিত অন্যের সাহায্য করতে। তাই তাদের নাম ছিল দাতা জাতি। সেই দীপে দাতা জাতি থাকে বলে সেই দীপের নাম দাতা দ্বীপ। অনেক মানুষই দাতা দ্বীপে আগ্রহ করে দেখতে যায়। তারা যেইভাবে যায়, সেইভাবেই সুন্দরমত ফিরে আসতে পারে। দাতা জাতি সম্পর্কে কয়েকটা ইনফরমেশন জানতে চাও? দাতা জাতির প্রধান খাবার বনরুটি ও থানকুনি পাতার রস। তাদের দ্বীপে সব থেকে আকর্ষণীয় হলো, সেই দ্বীপে বনরুটিরও গাছ হয়। আর থানকুনি পাতার গাছ তো আছেই। তারা কিভাবে পানি খায়, জান? তাদের কাছে একজনের বালি দিয়ে পানি পরিস্কার করার পদ্ধতি জানা ছিল। আর তাদের প্রত্যেকের ঘরে ঘরেই সেই যন্ত্র ছিল। সেই দ্বীপটি সমুদ্রের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত ছিল। দ্বীপটি বাংলাদেশের ঢাকা শহরের সমান। দাতা জাতিরা গাছের উপর ইয়া বড় বাসা বানিয়ে থাকত। তাদের কাছে সুই-সুতাও ছিল। তারা সেই দ্বীপের পাতা দিয়েই সুই-সুতা দিয়ে সেলাই করে পাতার পোশাক বানাতো।মেয়েরা পাতার শাড়ি এবং ছেলেরা পাতার লুঙ্গি পরত। একদিন দাতা জাতিরই একটা বাচ্চা কাঁদছিল। দাতা জাতিরই আরেকজন এসে তাকে জিজ্ঞেস করল, "কি হে! তুমি কাঁদছ কেন?" বাচ্চাটি বলল, "মা আমাকে থানকুনি পাতার রস এনে দিয়েছিল। আমার মা আবার আমার উপর একটু রাগী। থানকুনি পাতার রস খাওয়ার আগেই সেই পাত্রটি আমার হাতে লেগে মাটিতে পরে গেল। আর সব থানকুনি পাতার রস মাটিতে মিশে গেল। এখন মা এসে দেখলে কি বলবে? সেই চিন্তাতেই আমি কাঁদছি। আর মা যে থানকুনি পাতার রস এনেছিল, সেটা ছাড়া সকালের কোন নাস্তাই বানানো হয়নি। খাব কি?" লোকটি বলল, "আমি খাওয়ার পর থানকুনি পাতা বেঁচে গেছে। আর আমি এমনিতেও বনরুটি খেয়েছি। আমার এই সবটুকুই তুমি নাও। আর যেগুলো মাটিতে পরেছে আমি সেগুলো পরিস্কার করে দিচ্ছি।" বাচ্চাটি খুব খুশী হলো। আর সেই লোকের ভাগের খাবারটি খেয়ে ফেলল। মা এসে বলল, "সবটুকু খেয়েছিস? ঠিক আছে।" একবার বাংলাদেশের ঢাকা শহরে একটি বাচ্চা তার বাবাকে বলল, "বাবা! আমি গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে দাতা দ্বীপে যাব। সেখানে নাকি দাতা জাতিরা থাকে। তাদের প্রধান খাবার নাকি বনরুটি আর থানকুনি পাতার রস। বনরুটিরও গাছ আছে সেই দ্বীপে। সবাই সবাইকে সাহায্য করে। তারা পাতা ও সুই-সুতা দিয়ে পোশাক বানায়। কততো মজার মজার বিষয়! আজকের পেপারে দিয়েছে। আমি গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে সেখানেই যাব। তুমি না নিয়ে গেলে কিন্তু আমি স্কুলেই যাব না। কোন দিন স্কুলে যাব না। বই-খাতা সব ছিঁড়ে জানালা দিয়ে ফেলে দেব। তুমি খুব দুষ্টু। নিয়ে যাও আমাকে। তুমি না মানতে চাইলে আমি মাকে বলব।" বাবা বলল, "কী! আমি রাজি হলাম না, আর তোমার মা রাজি হবে! কী বল? দাতা দ্বীপে যেতে অনেক যুগ লাগে। তাও আবার প্লেনে গেলেই দুই যুগ লাগে।" আর মনে মনে বলল, "দুই যুগ, না দুই দিন, ছাই!" বাচ্চাটি বলল, "কী! পেপারটা আগে পুরো পরে দেখ। প্লেনে যেতে এক দিন লাগে। তুমি আমাকে বুঝ দিচ্ছ, না! আমি তোমার অফিসের ব্যাগটাই ফেলে দেব। নিয়ে যাও আমাকে। গ্রীষ্মকালীন ছুটি কিন্তু কয়েকদিন পর থেকেই শুরু হবে।" বাবা বলল, "ইস! এই পেপারটা যে কেন ওর হাতে দিলাম! পেপারে কেন ওরা গল্প দেয়? গল্প পড়তে পড়তেই তো এটা পেয়ে গেছে পরের পেজে।" বাবা বলল, "সেই দ্বীপে কিন্তু প্রচণ্ড গরম। ওখানে গেলে কিন্তু সবসময় বনরুটি আর থানকুনি পাতার রস খেতে হবে। ওখানে অন্য কিছু খেতে বসলে দাতা জাতিরাও হয়তো খেতে চাইবে।" বাবুটি বলল, "না! ওরা অন্যজনকে দান করে, অন্যজনের কাছ থেকে নেয় না। আর ওখানে যাওয়ার জন্য আমি সব খাব। আমি এই ব্যাগ গুছানো শুরু করলাম। তুমি মাকে রাজি কর, এটাই আমার শেষ কথা।" বাবা বলল, "দুষ্টু মেয়ে! তুমি তো আমাকে ফ্যাসাদে ফেলে দিলে। ঠিক আছে বাবা, যাব। তোমার মাকে আমি রাজি করাতে পারব না। তোমার শেষ কথা আছে, আর এটা আমার শেষ কথা।" বাচ্চাটি বলল, "তোমার কথাই মা বেশি শোনে। তুমি একদিন মাকে বলেছিলে, কালকে অফিসে যেতে পারব না, বাসায় কাজ আছে। আর মা রাজি হয়ে গেল। কিন্তু মাকে যখন বলি যে, আমি স্কুলে যাব না, বাসায় আমার গেম খেলা আমার একটু বাকি রয়ে গেছে, বাসায় বসে সেই কাজ করব, তখন তো মা ধমক দিয়ে 'না' বলে। তোমার কথাই মা শুনবে। আমি বললে ধাবাড় দিয়ে 'না' বলবে, আমি সিওর।" বাবা বলল, "আচ্ছা, ঠিক আছে। যদি সম্ভব হয়, তাহলে। দাতা দ্বীপে যাওয়াটা সম্ভব, কিন্তু তোমার মাকে রাজি করানোটা কিছুটা অসম্ভব।" বাবা তখন মায়ের কাছে গিয়ে বলল, "শোন, তোমার মেয়ে একটা বায়না করেছে। আগে বল, তুমি মানবে কি মানবে না। আগেই তোমাকে বলতে হবে, মানবে কি মানবে না, তারপর শুনতে হবে।" মা বলল, "তোমার মেয়ের আবদার! সে নিশ্চয়ই আজগুবি আবদার হবে। আমি না শুনে বাবা মানতে পারব না।" বাবা বলল, "(একটু বাড়িয়ে বলল) তোমার মেয়ে বলেছে, তুমি যদি আগে উত্তর না দাও, তাহলে সে ভাববে তুমি নাকি তাকে ভালোই বাস না।" তখন মা বলল, "ঠিক আছে, আমি মানব। এবার শুনি দেখি, কী আজগুবি আবদার?" বাবা বলল, "তোমার মেয়ে দাতা দ্বীপে যেতে চায়, দাতা জাতি দেখতে। পেপারটা দেখলেই বুঝতে পারবে।" মা পেপার পড়ে বলল, "কী! আমি তো ভেবেছি, ওর জন্য অনেকগুলো বই কিনব, আর সেই বইগুলো গ্রীষ্মের ছুটিতে পড়িয়ে লিখিয়ে শেষ করিয়ে দেব। ভেবেছিলাম, একটু পড়ালেখা করিয়ে এই ছুটিটা পার করব। কিন্তু মেয়ের কাণ্ডটা কী! শুধু আজগুবি আবদার! তাও আবার যে সে জায়গায় নয়। একেবারে সেই সমুদ্রের মাঝখানে দাতা দ্বীপ। পেপারে একটা জিনিস দেখলাম। সেটা তোমাকে আমার মেয়ে বলেনি। সেটা হলো, তারা শুধু প্রধান খাদ্যই কি খাবে নাকি? সাথে একটা ফলও খায়, নাস্তা হিসেবে। ফলটির নাম সপ্তবীজ। আর কারণটা খুবই হাস্যকর। সেই ফলের মধ্যে নাকি সাতটা বীচি থাকে। আর সেটা নাকি আপেলের মত কামড়ে কামড়ে খেতে হয়, আর বীচিও নাকি খাওয়া যায়- তরমুজের বীচির মত। না খেলেও হয়। ঠিক আছে, প্রথমে যখন বলেই ফেলেছি, তাহলে যাওয়া হোক। তবে আমি কিন্তু এক্সট্রা কোন কিছু সাথে নেব না। যেমন- খাবার। ওখানকার বনরুটি আর থানকুনি পাতার রস অথবা সেই ফল খেয়েই থাকতে হবে।" তারা জামাকাপড় গুছিয়ে নিল। শেষ পর্যন্ত গ্রীষ্মের ছুটির দ্বিতীয় দিনই তারা প্লেনে উঠল। পরের দিন তারা পৌঁছে গেল। তখন সেই দ্বীপের সবাই ঘুমাচ্ছিল। কোন মানুষের পায়ের আওয়াজ টের পেয়ে তারা সবাই জেগে উঠল। তাদের মধ্যে একজন সবাইকে ডেকে তুলল আর বলল, "আমাদের দ্বীপে মেহমান এসেছে। তাদেরকে খাবার দিতে হবে। চল, তাড়াতাড়ি থানকুনি পাতা, বনরুটি আর সপ্তবীজ ফল নিয়ে ওদের কাছে যাই। আর পুরস্কারস্বরূপ তাদের জন্য কয়েকটা জামাকাপড়ও দেই।" সবাই ঝটপট সবকিছু নিয়ে তাদের সামনে গিয়ে পৌঁছালো। দেখল, তারা সমুদ্রের পাড়ে অর্থাৎ দ্বীপের কিনারে দাঁড়িয়ে ছিল। বসতে চাইছিল, কিন্তু বসছিল না। দাতা জাতিরা বুঝতে পারল, পৃথিবীতে তো বেঞ্চ, চেয়ার এগুলোতেই বসেছে, তাই এখানে বসতে ঘৃণা লাগছে। তাই তারা পরস্পরকে বলল, "চল, আমরা পাতা দিয়ে তৈরি মাদুর কয়েকটা নিয়ে ওদের কাছে দেই।" সবাই মিলে মানুষগুলোকে স্বাগতম জানালো। মাদুরে বসতে দিল এবং খাবারগুলো সুন্দর করে সাজিয়ে দিল। মেহমানদের দেয়ার জন্য তাদের কাছে কাঠের কয়েকটা গ্লাস ছিল। সেই গ্লাস ধুয়ে বালু দিয়ে পানি পরিস্কার করে তাদেরকে খেতে দিল।" বাচ্চাটি বলল, "তোমরা কোন্‌ ভাষায় কথা বল?" এরপর ঘটল এক অদ্ভূত ব্যাপার। দেখা গেল, দাতা জাতিরা বাংলায়ই কথা বলে। খাওয়া-দাওয়ার পর মানুষগুলো উঠে বসল আর বাচ্চাটি জিজ্ঞেস করল, "তোমরা কি খেয়েছ?" দাতা জাতিরা বলল, "না, আমরা এখনো খাইনি। তোমাদের না খাইয়ে আমরা কিভাবে খাব?" বাচ্চাটি বলল, "কেন? একসাথেই তো খেতে পারতাম।" দাতা জাতিরা বলল, "একসাথে খেতে পারতাম, কিন্তু আমরা কি তা করতে পারি?" এরকম করে প্রত্যেকদিনই খাওয়া দাওয়া হলো, মজা হলো। দাতা জাতিদের ছবিও তুলল। এরপর সেই বাচ্চাটি সবাইকে বিদায় জানিয়ে চলে আসল, কিন্তু তার সেখানেই থাকতে ইচ্ছা করছিল। এসে দাতা জাতিদের ছবি প্রিন্ট করে স্কুলে নিয়ে গেল এবং টিচারদেরকে দেখালো। আর এটাই তার জীবনের বেস্ট এডভেঞ্চার।

Saturday, March 10, 2018

ধনী রাজা

এক ছিল এক রাজা। সেই রাজা অনেক অনেক ধনী ছিল। তার রাণীও অনেক অনেক ধনী ছিল। রাজা ধনী হলে রাণী তো ধনী হবেই। কিন্তু এখানে বোঝাচ্ছে, রাজার শ্বশুরবাড়িও খুব ধনী ছিল। এতই ধনী ছিল রাজার রাজ্য যে, রাজা ও রানী প্রাসাদের মধ্যেও ঘুরত পালকিতে চড়ে। আর তাদের খাইয়ে দেয়ার জন্যও দাস-দাসী ছিল।  কিন্তু যাতে যুদ্ধে হেরে না যায়, সেজন্য এক্সারসাইজ (শরীর চর্চা) করানোরও লোক ছিল। রাজার ছিল এক ছেলে এবং এক মেয়ে। ছেলেটা ছিল ভীতু, কিন্তু মেয়েটা ছিল সাহসী। উল্টো, তাই না? কিন্তু এটাই সত্যি। রাজা ঠিক করল, জঙ্গলে শিকারে যাবে। ছেলেটাকে সাধল, কিন্তু ছেলেটা যেতে চাইছে না। সে বলল, আমার ভয় করে। আমি যেতে পারব না তোমার সাথে। আমি মায়ের সাথে প্রাসাদেই থাকব। কিন্তু মেয়েটা নেচে উঠে বলল, "বাবা! আমি যাব। আমি যাবই যাব, তুমি যাই বল। ভাইয়া না গেলেও হবে, কিন্তু আমি যাব। আমি একা যেতেও রাজি আছি, কিন্তু আমি যাবই যাব।" রাজা রাগ হয়ে ধাবাড় দিয়ে বলল, "তুই চুপ কর তো! তুই মেয়ে হয়ে যাবি শিকারে? আজগুবি আবদার করবি না।" মেয়েটা বলল, "বাবা! তুমি আমাকে তুই বলছ কেন? আমি তো রাজকন্যা। আমি শিকারে যাবই যাব। আমাকে শিকারে নিয়ে যাও, আর নাহলে আমি কিন্তু মাঝরাতে একা একা জঙ্গলে চলে যাব। আমি জীবনেও শিকার করিনি। ভাল্লাগে না।" রাজা বলল, "ঠিক আছে, তুমি যাবে। কিন্তু ওখানে তো শাড়ি পরা যাবে না, ওখানে শিকার করার সময় খুব সাবধানে থাকতে হবে এবং দরকার পড়লেই দৌড়ে এক জায়গায় লুকিয়ে পড়তে হবে। শাড়ি পরে কি দৌড়াতে পারবি তুই? যত্তসব আজগুবি আবদার!" মেয়েটা বলল, "শাড়ি পরার দরকার আছে কোন? রাজকীয় শাড়ি না পরলেও চলবে। কিন্তু আমি শিকারে যাব, আর তুমি কিভাবে পশুপাখি শিকার কর, আমি তা দেখব।" রাজা বলল, "তাহলে তোমার দাসীকে বল শিকারে যাওয়ার জন্য তোমাকে একটা পোশাক এনে দিতে।" মেয়েটা বলল, "ঠিক আছে, বলছি। এই দাসী! যাও, আমার জন্য শিকারে যাওয়ার জন্য একটা পোশাক নিয়ে এসো।" দাসী তো শুনে অবাক। সে বলল, "আগে একটা কথা বলতে পারি? রাগ করবেন না তো?" রাজকন্যা বলল, "না, না। রাগ কেন করব? বল।" দাসী বলল, "ইয়ে মানে আপনি মেয়ে হয়ে শিকারে যাবেন?" রাজকন্যা রেগে গিয়ে বলল, "তাতে তোমার সমস্যা কি? যাও গিয়ে আমার পোশাকটা নিয়ে এসো।" সকাল বেলা রাজার মেয়ে রাজার সাথে শিকারে বের হল।রানী তো চিন্তা করছে। মেয়েটা একা সব পুরুষদের সাথে শিকারে গেল। কি জানি কি হয়, বাবা!" কয়েকদিন হয়ে গেল। রাজা ফিরে আসল। এবং তার সৈন্যদের কাঁধে বড় বড় বস্তা। সেই বস্তার ভিতর হরিণ। হরিণগুলোকে মেরে রাজা নিয়ে এসেছে। রাণী মেয়েকে জিজ্ঞেস করল, "কি, কেমন লাগল শিকার?" মেয়েটা বলল, "বেশি একটা ভালো লাগেনি। কারণ, আমি তো কিছু করলামই না। সৈন্যরা দূর থেকে তীর ছুঁড়ল, আর হরিণগুলো মারা পড়ল। আর বেশি ভালোও লাগেনি। জঙ্গলের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে পা-ই ব্যথা হয়ে যায়।" রাণী বলল, "জঙ্গলটা তো অত বেশি বড় না। পুরো জঙ্গল কি ঘুরেছিস নাকি?" রাজকন্যা বলল, "তা কেন হবে? অর্ধেক পর্যন্ত গিয়েই তো সব হরিণদের মারলাম।" রানী বলল, "আসলে প্রাসাদে তো আমার সঙ্গে পালকিতে চড়েই ঘুরিস! আর জঙ্গলে তো পালকি নেয়াই যাবে না। বাঘের গর্জন শুনে বেয়াড়ারাই তো দৌড়ে পালিয়ে যাবে।" রাজকন্যা বলল, "যা হওয়ার তো ভালোই হয়েছে। হরিণগুলো কি করব? খাব নাকি?" রানী বলল, "খাবি না তো কী? দাসীদেরকে এখনই ডাকি। কে কোথায় আছিস? এসে হরিণগুলোকে রান্নাঘরে নিয়ে যা। এমনভাবে নিবি, যাতে কোন রক্ত রাজপ্রাসাদের অন্য জায়গাতে না পড়ে।" দাসীরা বলল, "ঠিক আছে। তাই হলো।" কিন্তু রাজা তো অনেকগুলো হরিণই শিকার করেছে। শুধু রাজপ্রাসাদের মানুষরা খেয়ে তো হবে না। রাজা ঠিক করল, তার রাজ্যের সবাইকে একটু একটু করে হরিণের মাংস খাওয়াবে। সেরকম করেই একটা মেলা হলো। আর সেই মেলায় সবাইকে খাওয়ানো হলো। যাই হোক, সবাই খুব মজা করল। গল্প শেষ।

আমরা সবাই হব বিভিন্ন পেশার

আমরা সবাই হব ডাক্তার
চিকিৎসা করব সবার।
আমরা সবাই হব শিক্ষক
পড়াব আমরা 'ব' তে হয় বক।

আমরা সবাই হব দোকানদার
দোকানে রাখব খাবার মজার মজার;
আমরা সবাই হব বাবুর্চি
সবজি কাটব চাকু দিয়ে করে কুচি কুচি।

Friday, March 9, 2018

ধনী ও গরীবের ভোজ

এক ছিল এক বিল্ডিং। সে বিল্ডিংয়ে সবথেকে ধনী লোক ছিল ৬ তলার দুটি বাসা মিলিয়ে একটি বাসার মালিক। অনেক লোক আছে ধনী, কিন্তু খারাপ। কিন্তু এই লোক ভালো। সে ভাবল, আমার তো অনেক কিছু আছে। অনেক টাকা-পয়সা। তো আমি তো আবার চাকরি করে করে এই বছরে টাকা অনেক জমিয়েছি। কিন্তু এমনি এমনি তো আর জমাইনি। জমিয়েছি ভালো কিছু করার জন্য। এক কাজ করি। এই বিল্ডিংয়ের সব বাসাই তো অনেক অনেক ছোট। আমি তো দুটো বাসা একসাথে কিনে মাঝখানের দেয়াল ভেঙ্গে দিয়েছি। যারা এরকম ছোট ঘরে থাকে তাদের নিশ্চয়ই অনেক কষ্ট। তারা নিশ্চয়ই সুখী নয়। একটা ভালো দিন দেখে তাদের জন্য একটা ভোজের আয়োজন করলে কেমন হয়? তার অনেক লোক ছিল। রাঁধুনি, দাস-দাসী সব ছিল। আর তার আলাদা একটি হোটেলও ছিল। কিন্তু সেই হোটেল কেবলমাত্র ধনী লোকদেরই জন্য। তাই সেই হোটেলে সেই লোকদের খাওয়ানো যাবে না। সেই হোটেলেই তার দাস-দাসী এবং রাঁধুনিরা ছিল। এই খবর সে তার বাড়ির সবাইকে এবং তার হোটেলের সব কর্মচারীদের জানিয়ে দিল। সবাই একমতই হলো। ধনী লোকটি একটি ভালো দিন ঠিক করে ফেলল। তার সাথে একটি বড় মাঠও ঠিক করে ফেলল। আর বলল, কয়েকজন লোক লাগবে জায়গাটিকে সাজিয়ে তুলতে। বড় বড় পাটি কেনা হলো, বিছিয়ে দেয়া হলো। সে ভাবতে লাগলো, বিল্ডিংটিতে ৬০ থেকে ৭০ এর মধ্যে বাসা আছে। অনেক খাবার দরকার। সেই অনুযায়ী সে অনেক বড় বড় হাড়ি কিনল। আর তার সংখ্যাও অনেক। অনেক চালের বস্তা কেনা হলো। আর পাশে তো কলাবাগান আছেই। কলাপাতায় দিলেই হয়। ঠিক করল খিচুরি রান্না হবে। কিন্তু শুধু খিচুরি কিভাবে খাওয়াবে? এ কেমন কথা? তাই ১০০টি মুরগী আনা হলো। যদিও বাসা ৭০টি, তাও যদি টান পড়ে। কয়েকদিন পরেই সেই দিন আসল। সবাই রান্নাবাড়ি শুরু করে দিল। তার আগের দিনই সব রান্না শেষ হয়ে গেল। সেই বিল্ডিংয়ে বাসা যতই ছোট হোক, প্রত্যেক বাসার সঙ্গে একটা বড় ফ্রিজ লাগানো আছে। এবং সেটা কিনে লাগানো হয়নি। বাসা বানানোর সময় এমনিই লাগানো ছিল। এতক্ষণ ধরে যদি খাবার পচে যায়! সেজন্য সবার বাসায় বাসায় একটা করে পুটলী দিয়ে আসা হলো এবং বলা হলো, ফ্রিজে এটা রেখে একটু হেল্প করতে। ভোরবেলায় সবাই সবার বাসায় গিয়ে পুটলীগুলো কালেক্ট করে আনল। আর বের করে রাখা হলো। সব রেডি। এখন লোক পাঠানো হলো সব বাসায় খবর দিতে এবং এমন লোকজনদের নিয়ে আসতে, যাতে কেউ ভিড় না বাড়ায়। কয়েকজন কয়েকজন করে খাওয়ানো হচ্ছে। বেশি ভিড় লেগে গেলে ঝামেলা হবে। বসার জায়গা পাবে না। এমন করে দুপুর তিনটা বেজে গেল। সবার খাওয়া-দাওয়াই শেষ হয়ে এসেছে। আর সবার শেষে ধনী লোক খেতে বসল। সে ধনী হয়েও আগে গরীবদেরকে খাইয়েছে। এরপর দেখা গেল, ইয়া বড় বড় দুই হাড়ি খাবার আর ইয়া মোটা একটা হাড়িতে অনেক মাংস বেঁচে গিয়েছে। সেগুলো কী করা যায়? ঐ বিল্ডিংয়ের আশেপাশেই অনেক বেশি গরীবদের বাড়ি ছিল। তারা একদম গরীব। কিন্তু এই কথাটা ধনী লোকের মাথায়ই আসছে না। সে শুধু ভাবছে, খাবারগুলো কী করা যায়? কিছু লোক বলল, খাবারগুলো ফেলে দিতে। কিছু লোক বলল এই খাবারগুলো ফ্রিজে রেখে দিতে। আর কিছু লোক বলল বিক্রি করে দিতে। কিন্তু ধনী লোকের একটা কথাও পছন্দ হলো না। অবশেষে একটা ছো্ট্ট শিশু এসে বলল, "ঐ যে রাস্তার ঐ পাড়ে একটা বস্তিও আছে। সেই বস্তিতে অনেক মানুষ আছে। সেই মানুষেরা খুব গরীব। তারা মাঝেমাঝে খাবার পায় না। তাদের মধ্যে এগুলে দিয়ে দিলে কেমন হয়?" অন্য কারো প্রস্তাব পছন্দ না হলেও এই শিশুটির প্রস্তাব ধনী লোকটির পছন্দ হলো। তাই সেই ধনী লোক বাচ্চাটিকে আরো অতিরিক্ত খাবার দিল। বাচ্চাটিও খুশীমনে তার বাড়ি ফিরে গেল। এরপর সেই খাবারগুলো বস্তির লোকদের মধ্যে বিতরণ করে দেয়া হলো। বস্তির লোকেরা খুব খুশী। তারা কোন কোন দিন পোড়া রুটি পেত, আর কোন কোন দিন কিছুই পেত না। আর এখন তারা কত ভালো খাবার পাচ্ছে! সবাই খুব খুশী। আর সবাইকে খাওয়াতে পেরে ধনী লোকটিও খুব খুশী।

Friday, March 2, 2018

দুষ্টু ছেলে

নাম তার শেখর, সে ভারী দুষ্টু ছেলে
খারাপ ছেলেদের সাথে কতই না সে মেলে।
দুষ্টুমি করতে যায় নিয়ে দলবল,
শেখর সবাইকে বলে হাড়ি ভাঙবি চল।

সবাই মিলে ভেঙে ফেলে দাদীর দুটি হাড়ি
সবাই বলে দৌড়াই যত জোরে পারি।
পাড়ার সবাই অতিষ্ঠ এদের অত্যাচারে,
দুষ্টামি করে সদা যত তারা পারে।

জবল্যান্ড

এক শহরে ছিল এক বিল্ডিং। সেই বিল্ডিং অনেক উঁচু ছিল, অনেক তলা। সেই বিল্ডিংটির নাম ছিল জবল্যান্ড। কারণ, সেই বিল্ডিংটি একটি প্রতিষ্ঠান ছিল, আর সেই প্রতিষ্ঠানে সব রকম চাকুরি করারই লোক ছিল। সবচেয়ে উপরের দু' তলায় শপিং মল ছিল। তার নিচের দুটি তলায় কলেজ ছিল। তার নিচের তিনটি তলায় স্কুল ছিল। তার নিচে বিজ্ঞানীদের রুম ছিল। তার নিচে কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান ছিল। তার নিচে ওষুধের ফার্মেসি ছিল। তার নিচে ছাপাখানা ছিল। তার নিচে ছিল সবথেকে নিচের তলা। আর সেখানে গরীবদের জন্য এক ব্যবস্থা ছিল। একটি রুম ছিল, সেই রুমে প্রথমে দুই জন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেই দুইজন ছিল দারোয়ান। সেই রুমের দুই পাশে সেই দুই জন লোক ছিল। এবং রুমটির ভিতরে অনেক বড় বড় ড্রাম রাখা ছিল। আর সেই ড্রাম ছিল ময়লা ফেলার ড্রাম। অনেক মাস্ক ছিল এবং অনেক মাছি মারার র‍্যাকেট ছিল। দুটি লোক বাদে আরো কয়েকজন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ঐ ড্রামের কাছে যে সব মাছি আসবে সেগুলো মারতে। দারোয়ানদের ডিউটি ছিল যারা ময়লা ফেলতে আসবে তাদেরকে একটা করে মাস্ক পরিয়ে দেওয়া আর ভিতরে ঢুকতে দেওয়া। ভিতরের লোকদের যারা ময়লা ফেলতে আসে তাদের মাছিওয়ালা পরিবেশ দেখানো নিষেধ ছিল। এই চাকুরিটি অনেকেই নিতে চেয়েছিল। কিন্তু এই চাকুরিরও পরীক্ষা আছে। এবং পরীক্ষাটিও আবার এক সপ্তাহ ধরে হয়। একেকদিন কয়েকজন কয়েকজন করে পরীক্ষা হয়। এক ঘন্টা ধরে একজনের পরীক্ষা হয়। একটা মাছিভর্তি রুমে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটা র‍্যাকেট হাতে দেওয়া হয়। আর বলা হয়, ১০০টার মধ্যে ৯৫টা মারতে হবে। ৮০ এর উপরে উঠলেই পাশ, কিন্তু ৯৫ এর উপরে হলে নিশ্চিত নিয়োগ। আর ৮০ এর নিচে যারা মাছি মারতে পারবে, তাদের কোন নিয়োগই দেওয়া হবে না। আর আরেকটি কাজ। সেটি হলো, কয়টি মাছি মারল তা গুনে রাখতে হবে। আর নাহলে বিচারকদের সমস্যা হবে। আর যদি সে ভুল গণনা করে, সেজন্য তার সাথে একজন করে লোকও দেওয়া হয়। সে মাছি মারার কাজে কোন হেল্প করতে পারবে না, কিন্তু গণনার কাজে হেল্প করতে পারবে। আর সেই লোক কাছের এবং চেনাজানা হয়। ৯৫ এর উপরে খুব কম মানুষই মারতে পারে মাছি। এবং যারা এই কাজে অভিজ্ঞ, তাদেরকেই নিয়োগ দেওয়া হয়। জবল্যান্ড নামটা আগে থেকে দেওয়া ছিল না, কিন্তু আশেপাশের মানুষরা বানিয়ে দিয়েছে। আর তাদের বেতন কিভাবে দেওয়া হয় শোন। যারা ময়লা ফেলতে আসবে, তারা ময়লা ফেলে এসে বলবে যে, ১০ এর মধ্যে তাদের কতটা পছন্দ হলো সেই অনুযায়ী তারা নম্বর দেবে, আর নম্বর অনুযায়ী কর্মচারীরা বেতন পাবে। এই নিয়ম-কানুন কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এবং স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এমনকি বাচ্চা যারা মা-বাবার সাথে উপরের তলায় কিছু না কিছু করতে যায় যেমন- ডাক্তারের কাছে বা বিজ্ঞানীদের জিনিস দেখতে, এরকম কাজ যে বাচ্চারা করতে যায় মা-বাবার সাথে তারাও ময়লা ফেলতে খুব আগ্রহী হয়। তাই তারা প্রত্যেকেই চকলেট নয়তো বিস্কুট নয়তো কেক সঙ্গে করে নিয়ে আসে আর খোসাটা ফেলে ঐ রুমে। সবাই খুব মজা পায়। আর ঐ ময়লা ফেলার কর্মচারীদের মনে হয় ময়লাওয়ালী হয়েও কত বেতন! এর থেকে তো বিজ্ঞানী আর বড় বড় প্রভাষক ও শিক্ষকদের থেকেও বেশি বেতন পায় তারা।

Tuesday, February 27, 2018

The student of different classes and their quarrel

Once upon a time there lived a little girl named Tara. She was 6 years old. She read in class KG. She has an elder brother. Her elder brother's name was Shihab. Shihab read in class four. One day Shihab was reading his book. Tara is also reading. Tara is reading numbers 20 to 30. And Shihab is doing divisions and multiplications. He is also writing subtraction. Tara looked into Shihab's notebook. He said, "Hey, What are you reading? Are you doing subtractions? I also do subtraction. But you are giving 6 digit number." Shihab said, "Hey little girl! I am in class four, not in KG like you. You do 3 - 1 = 2 and I do 49876 - 30000 = 19876. I don't read A B C like you. Don't come in my reading. Then they start doing quarrel. Mother come from the kitchen began to scold them, "Hey stupid boys and girls! I will not give you anything in your birthday. I will not give you anything any time. I told you to study quietly. But  you are quarreling. How surprising!" Then Shihab said, "Oh! My mother always do like my class teacher. She is more bad than my class teacher. Always scolding and scolding. I don't like this." Mother heard Shihab's speech. Mother got very very angry. She said, "You don't have to read. I will throw your notebook outside the window. I am like your class teacher? What? I will tell your father and your father will be angry than me." Then they stop quarreling and again attend to study.  

Thursday, February 15, 2018

Kind Fatima

Once upon a time, there lived a girl named Fatima. Fatima was kind even to a little ant. She loved all the creatures. She has no parents. She lived in a small hut near a forest. But the forest has no wild animals. If there is so, they will not hurt Fatima. Because, she is kind to everybody. There are birds, cats and other little creatures. There is also a rabbit. The rabbit's name was Bunny. Bunny lived with Fatima. Fatima takes Bunny and go to collect fruits in the forest. But she do not tear fruits from trees thinking trees will get hurt. She only collect the fallen fruits from the ground. One day she was doing morning walk in the forest. She saw a little house. She knocks on the house door by using her little finger. A hundred of bees (flies) came out. She can understand the animals are hungry or not. This is her one of the power. Then she saw that, the flies were hungry. She was even kind to the bees. She ran to her home and she fill up a little bowl with cherry juice and take the bowl to the bee. The hundreds of bees go in the bowl and after sometime the bowl is empty. Now Fatima saw they are not hungry. The hundred of bees tell to Fatima, "Thank you for giving this food." Fatima said, "Ok, now I have to go back my home." And she saw a radish in the ground. She take up the radish and go home. She gave the radish to her rabbit. Like this, Fatima has done many good things with other creatures. She loved them and pet them.

এলোমেলো ছড়া

হাত-পা, মুখমণ্ডল
সবই দেহের অংশ,
ঐ দেখা যায় নদীর পারে
হলুদ রঙের হংস।

নৌকা চালায় মাঝি ভাই
নদীর মাঝখানে,
নৌকা চালাতে মাঝি ভাই
তাকায় ডানে-বামে।

Saturday, February 10, 2018

মাখন-রুটি

এক ছিল এক গরীব পরিবার। তারা এক গ্রামে থাকত। পরিবারে ছিল মা-বাবা আর দুটি সন্তান। একটি মেয়ে ও একটি ছেলে। মেয়েটির নাম মিতা এবং ছেলেটির নাম ফারহান। তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর তাদের মাকেই সব কাজ করতে হতো। তারা অনেক গরীব ছিল। তাদের বাড়ির আশেপাশে অনেক গোলাপ গাছ ছিল। তার মা গোলাপ দিয়ে মালা গেঁথে সেগুলো বিক্রি করত। তা দিয়ে যা টাকা পেত, তা দিয়ে এক বেলা কোনমতে চালিয়ে নিত। একদিন ফারহান ও মিতা দু'জনেই জেদ ধরল, মাখন-রুটি খাবে। মাকে তারা একথা বলল। মা শুনে ভীষণ রেগে গেল। মা বলল, "এক বেলা দু' মুঠো ভাত জোটে না, আর সে খাবে মাখন রুটি! কাণ্ড দেখ। এমনি পোড়া ছেঁড়া রুটি পাই না, তা আবার মাখন সহ রুটি। এখন যা তো তোরা। বড়লোকি আবদার আর করিস না। যা, পারলে তোরাও মালা বানাতে বস আমার সাথে। সাহায্য করবে না, শুধু জেদ করবে।" মিতা ও ফারহান রাগ হয়ে গেল। কিন্তু মার সাথে তো আর তারা অমন করে বলতে পারে না। কারণ, তারা ছিল নরম মনের। তাই তারা আর মাখন-রুটি খাওয়ার জেদ করল না। আর মাকে মালা গাঁথতে সাহায্য করল। কিন্তু বারবার তাদের মনে মাখন-রুটি খাওয়ার ইচ্ছেই তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। একদিন ফারহান মিতাকে বলল যে, "এই মিতা! মাখন-রুটি খাব।" মিতা বলল, "আমি কি করে মাখন-রুটি দেব? তুমি আমার থেকে বড় না? তুমি আমাকে মাখন-রুটি দাও। তুমি উল্টোটা বলছ কেন?" ফারহান বলল, "আমি কি করে মাখন-রুটি দেব? বড়দের কথাও তো একটু ভাবতে হয়।" তখন দু'জনে তর্ক করা শুরু করল। আর মা এসে বলল, "এত ঝগড়া করছিস কেন? বলেছিলাম না, এত বড়লোকি আবদার নিয়ে আর একটা কথাও হবে না? এই কথা যদি আর একবার মুখে এনেছিস! টাকা একটু বেশি পেলে পেট ভরে ভাত খাওয়ার আয়োজন করি। আর একদিন ফারহান এসে বলে কিনা, টাকা বেশি হলে নাকি মাখন-রুটি কিনে খাওয়াতে হবে। মাখন-রুটি এমন কি জিনিস! আর যদি এর কথা বলেছিস, তো আর খাবারই দেব না। আয়, আমাকে সাহায্য কর।" তারা দু'জন আবারও রাগ হয়ে গেল। এরপর মিতা একদিন ফারহানকে বলল, "মাখন-রুটি খেতে হলে মার কাছে চাইলে হবে না। আমাদের টাকা বেশি করার চেষ্টা করতে হবে।" ফারহান বলল, "পাগল হয়ে গেছিস? সেদিন মা কি বলল, শুনলে না? মা বলল, বেশি টাকা হলেও মাখন-রুটি দেবে না।" তখন মিতা বলল, "একটুখানি বেশি হলে তো দেবে না। কিন্তু যদি অনেক অনেক বেশি টাকা হয়, তাহলে তো একটু আধটু মাখন-রুটি কিনে দিতেই পারে।" ফারহান বলল, "আমি তোর সাথে কাজ করতে চাই না। কারণ, কোন আকাম ঘটলে মা আমাকেই আগে বকবে, কারণ আমি বড়। আমি দেখি, মাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে মাখন-রুটি আনাতে পারি কিনা। তোর যা ইচ্ছা তাই কর।" মিতা আর ফারহানের কথায় কান দিল না। সে নিজেই টাকা উপার্জনের চেষ্টায় নেমে পড়ল। সে এখন ভাবতে বসল, কি করে বেশি টাকা আয় করা যায়। মা তো দুটো ফুল দিয়ে একটা মালা গাঁথে, আর তাতে কতই বা টাকা পাওয়া যায়? দশ, বিশ এমনই তো পাওয়া যায়। এ দিয়ে কোনমতে দু'মুঠো চাল পাই। এর থেকে বেশি করলেও হবে না, অনেক বেশি করতে হবে। কি করা যায়? মিতা আবার পাঠশালার বাইরে বসে বসে অন্য ছাত্র-ছাত্রীদের পড়া শুনত, আর তার সাথে সাথে সেও পড়া শিখে গিয়েছিল। ছাত্র-ছাত্রীরা কি লেখে, তা দেখে লেখাও পড়তে শিখে গিয়েছিল। কারণ, সে পড়ালেখায় আগ্রহী ছিল। সে একটা সাইনবোর্ডে লেখা দেখল, কাজের লোক চাই। ছুটা হোক, বা বান্দা হোক। বেশি কাজ করলে বেশি টাকা পাবে। এক কাজের জন্য এক হাজার টাকা। এই শুনে মিতা খুশি হলো। কারণ, সে কাজও ভাল করতে পারত। সে ঐ সাইনবোর্ডের পাশ দিয়ে ঘুরতেই থাকল। সে ভাবল, যদি কোন মানুষের দেখা পাওয়া যায়, তাহলে তাকে জিজ্ঞেস করবে। হঠাৎ এক লোক ঐ সাইনবোর্ডটার কাছে আসল। সেই লোকই ছিল সে, যার কাজের লোক দরকার। মিতা তাকে নিজের কাজ করার ইচ্ছার কথা জানালো। এ শুনে সেই লোকটাও খুব খুশি। সে বলল, "ছুটা, নাকি বান্দা হয়ে কাজ করবে?" মিতা বলল, "সপ্তাহে কোনদিনই আমার ছুটি চাই না। আমি তিনদিন ছুটা কাজ করব, আর বাকি চারদিন বান্দা কাজ করব। কোন্‌ দিন, সেটা আপনার ইচ্ছায়ই হবে।" লোকটা খুবই খুশি। অন্তত চারদিন তো বান্দা হয়ে কাজ করবে! এরপর মিতা ৫ হাজার টাকার কথা বলল। বলল, সে পাঁচটি কাজ করবে। ঘর ঝাড়ু দেওয়া, ফ্যান মোছা, ঘর মোছা, রান্না করা এবং কাপড় ধোয়া। এক মাস কাজ করার পর সে পাঁচ হাজার টাকা পেয়ে গেল। এরপর সে একটা দিন ছুটি চাইল। ওদিকে তার ভাই ও মা তো খুব অস্থির। মেয়েটা কোন্‌ ফাঁক দিয়ে কোনখানে চলে গেল, তার ঠিক আছে? মা বলল, "এই ফারহান, মিতাকে ভালো করে খুঁজে দেখেছিস তো? তা তো দেখেছিস। কিন্তু মিতাকে যখন পাওয়া যাচ্ছিল না, তার আগে মিতা কি সম্পর্কে তোকে শেষ কথা বলেছিল? মাখন রুটির কথা নাকি? তাহলে নিশ্চয়ই মাখন-রুটি খুঁজতে গিয়েছে।" ফারহান বুঝতে পারল যে, সে টাকা আয় করতে গিয়েছে। কিন্তু সে মাকে জানালো না। সে বলল, "তাই হবে। মিতা নিশ্চয়ই মাখন-রুটি খুঁজতে গিয়েছে। কিন্তু এক মাস ধরে কেন?" এক মাস পর একদিন ছুটি চাইল মিতা। এরপর সে দৌড়ে তার বাড়ি গেল। মা তাকে দেখে তাড়াতাড়ি মিতার কাছে গেল। সে জিজ্ঞেস করল, কোথায় ছিলি তুই? তোকে আমি মাখন-রুটি সব কিনে দেব। তুই আর কোথাও যাবি না।" ফারহান বলল, "দেখ কাণ্ড! মিতা বাইরে গিয়েছিল আর ফিরে এসেছে বলেই তাকে মাখন-রুটি দিতে হবে? তাহলে আমিও একবার বাইরে গিয়ে এক মাস পর আবার চলে আসব।" মা একথা শুনে বলল, "আবার লোভ করছিস নাকি? তুই তো সেদিন একটা ধনী লোককে দেখেছিস, মোবাইলে দেখছে। আর তাতেই তো দেখলি, একটা কার্টুনে দেখাচ্ছে, সুখু আর দুখুর গল্প। সেখানে কি হয়েছিল, মনে নেই? লোভ করলে কি হয়, জানিস না?" তখন ফারহান বলল, "ধূর বোকা, এমনি বলেছি। তাহলে আমাকে মাখন-রুটি দেবে তো?" মা বলল, "ঠিক আছে, সবাইকে দেব। কিন্তু টাকা পাব কোথায়? আজ যা টাকা এনেছি, তা দিয়ে তো একটুও হবে না।" মিতা বলল, "কে বলেছে? তুমি না হয় দশ টাকা আয় করেছ। কিন্তু আমি যে পাঁচ হাজার টাকা আয় করেছি।" মা খুব অবাক হয়ে গেল। সে বলল, "মানে? কী বলছিস তুই? পাগল হয়ে গেছিস নাকি?" মিতা তারপর পাঁচ হাজার টাকা দেখালো মাকে। মা বলল, "এই, তুই আবার চুরি করেছিস নাকি? অসৎ পথে টাকা উপার্জন করলে আমি কিন্তু এ টাকা ছুঁড়ে ফেলে দেব।" মিতা বলল, "পাগল হয়ে গেছ? আমি চুরি করতে যাব কি করতে? তুমি তো জানই, আমি কেমন মানুষ। জান না বুঝি?" এরপর সে পুরো ঘটনাটা মাকে বলল। মা বলল, "আমাকেও ঐ মালিকের কাছে নিয়ে চল। আমিও কাজ করব। আর ফারহানকে ড্রাইভার বানানোর চেষ্টা করব। ঐ বাড়িতে যদি কোন গাড়ি না থেকে থাকে, তাহলে ....." বলতে না বলতেই মিতা বলল, "আমি দেখেছি, কোন গাড়ি নেই ওখানে। গাড়ি না থাকলে কি করবে, সেটা বল।" মা বলল, "তাহলে ফারহানকে ঐ ড্রাইভার বানাবো। আর একটা গাড়ি কিনতে বলব।" মিতা বলল, "ঠিকই বলেছ। তাদের ড্রাইভারের অভাব দেখেই গাড়ি কেনেনি।" মা বলল, "তাহলে তো ভাল উপার্জন হবে।" এরপর তারা সবাই মিলে তাদের সব আবেদন মালিকের কাছে বলল। মালিকও খুশিমনে রাজি হয়ে গেল। আর মালিকই ওদের অনেক মাখন-রুটি কিনে দিয়ে দিল। এরপর তারা অনেক কাজ করল এবং অনেক টাকা আয় করল। এবং তা দিয়ে শেষে তারা কাজ করা বন্ধ করে দিল এবং তারা নিজেরা একটি মাখন-রুটির কারখানা দিল। আর তাদের উপার্জন আরো ভালো হতে লাগল এবং সুখে-শান্তিতে তাদের জীবন কাটতে লাগল।

Friday, January 19, 2018

Golden Girl (Goldina)

Once upon a time, there lived a poor wood-cutter. He has a wife but they had no child. He always pray for a child. One day a fairy came near the wife. The wife was crying. The fairy asked, "Why you are crying? Tell me, I can help you." The wife replied in crying voice, "I have no child. So I'm crying." The fairy said, "Don't worry, I can help you. Then you have to teach your child to only behave good with others. Don't let her meet with the bad children. If your child be bad, then your child will be lost for forever. If you follow my words, then you can live happily with your child." The wife said, "Sure, I will obey your words. Thank you." Saying this, the fairy disappeared. Then when the wood-cutter come back, the wife explained the fairy's stories. The wood-cutter was very surprised. After a few week, they had a little baby girl. Her hair was very beautiful and golden in color. And her body was also shining like gold. So, they give the name 'Golden Girl' to their baby. And everybody used to call her 'Goldina'. She grow bigger and more beautiful. One day, Goldina's parents are not at home. They gone to outside works. Goldina was collecting flowers in a jungle. That time the age was to get married. But there was no handsome people who match with Goldina. When she was collecting flowers, she heard someone is crying. Being curious, she go more deep in the jungle. To her surprise, she saw a handsome prince crying in the forest. And the prince heard Goldina's foot's sound. So the prince stand up and start to run, but mistakenly he left his sword in the jungle. It was written his name and his palace name in the sword. This sword was made with heavy metal, which was too hard to broken by anybody's sword and this sword was capable to break anybody's sword. Then Goldina ran to her home quickly and saw her parents have came back. She take the sword with her hand and go to her bed to sleep. It was night. When her parents slept, she take the sword and saw the prince's name and his palace's name. Her mother always teach her not to hide anything from parents. So in the morning, she explained the whole story to her mother. After some time, there was a sound from the loudhailer. It was saying the prince of Silverland's sword was lost. If any girl either rich or poor can found and hand over this sword to it's owner, prince will marry her. Listening to this, Goldina ran quickly to Silverland's palace. She quickly hand over the sword to the prince. Then prince was become very happy and pleased to her. Then Goldina is married with the prince of Silverland and leaved happily ever after.

Saturday, December 16, 2017

পুষ্পিতার গুণের কাহিনী!

এক ছিল একটি ছোট্ট মেয়ে। তার নাম ছিল পুষ্পিতা। তার ছিল এক ছোট্ট বোন। তার বোনের নাম লুজাইমা। পুষ্পিতা একদিন তার বাবাকে জিজ্ঞেস করল, "আমার কয়টি দোষ এবং কয়টি গুণ আছে?" বাবা ভাবল, ওর দোষগুলো ওর সামনে বললে কেমন দেখাবে? গুণগুলোই বলি। বাবা বলল, "তোমার কোন দোষ নেই। তোমার শুধু অনেক গুণ আছে। এত গুণ আছে যে, তোমাকে আমি বলে বোঝাতে পারব না। এখন আমার কাজ আছে, অত গুণ বলার সময় নেই।" পুষ্পিতা তো খুবই খুশি। এরপর তার বাবার কথা ঠিক কিনা সেটা জানতে সে তার মাকে জিজ্ঞেস করল, "মা, আমার কয়টি গুণ আছে এবং কয়টি দোষ আছে?" মা বলল, "তোমার কোন গুণই নেই। তোমার শুধু দোষই আছে। এত দোষ আছে যে, বলেও বোঝাতে পারব না।" পুষ্পিতা বলল, "বলে যখন বোঝাবে না, তখন খাতায় লিখেই না বোঝাও।" মা বলল, "ধুর! ভাল্লাগে না। লেখার থেকে বলাই তো অনেক সহজ। যেমন ধর, তুমি দিনে এক বেলা কফি খাও। একদিন পরপরই চা খাও। তোমার বোনকে তুমি মাঝে মাঝে বকা দাও। আর বলতে পারব না।" পুষ্পিতা বলল, "এক বেলা কফি খেলে কি হয়? পাশের বাসার লিলিকে দেখেছ? প্রত্যেক বেলায় খাওয়ার আগে এবং পরে এক কাপ কফি খায়। আর আমি এক বেলা কফি খাই বলেই দোষ? পাশের বাড়ির লিলির ছোট বোন রুমাকে দেখেছ? সে তো প্রত্যেক বেলায় বেলায় চা খায়। আর আমার স্কুলের নিমা আপু আছে। সে তার বোনকে ক'দিন আছাড়ও দিয়েছে। আর তুমি যে আমাকে কত বকা দাও! তার বেলা কি, বল?" মা বলল, "ছোটদের অত কথা বুঝতে নেই। জিজ্ঞেস করেছ, উত্তর দিয়েছি। যাও তো এখন। আরো অনেক দোষ আছে তোমার। সেগুলো পরে বলব।" এই বলে মা তার কাজে চলে গেল। হঠাৎ লুজাইমা এসে পুষ্পিতাকে বলল, "কী পুষ্পিতা আপু! মার সাথে কি বলছিলে? আর মা তোমাকে কি যেন দোষ বলল! আরেকটু আগে বাবা তো তোমাকে অনেক গুণের কথা বলল। দোষ মানে কি, আর গুণ মানে কি? বল না!" পুষ্পিতা বলল, "বড়দের কথা শুনতে নেই।" তখন লুজাইমা বলল, "তুমি কি বড় নাকি? ক্লাস টুতে পড়, আমি প্লেতে পড়ি বলেই এত ছোট হয়ে গেলাম? আমি যদি লেদু হই, তাহলে তুমি তো বাবু। বল না, রে! এটুক বোঝালে কি হয়?" পুষ্পিতা বলল, "কী রে লুজাইমা, তুমি থাম তো! আচ্ছা বোঝাচ্ছি। দোষ মানে খারাপ কোন বৈশিষ্ট্য এবং গুণ মানে হচ্ছে ভাল বৈশিষ্ট্য। এবার বুঝলে?" তখন লুজাইমা বলল, "আরে পুষ্পিতা আপু! বৈশিষ্ট্য মানে কি?" পুষ্পিতা বলল, "উফ! তোকে নিয়ে আর পারলাম না রে।" তখন লুজাইমা চিৎকার করতে লাগল যে, "আম্মু! পুষ্পিতা আপু আমাকে ধমক দিয়েছে। একটা কথা জিজ্ঞেস করেছি, তাতে আরো কঠিন ভাষা দিয়ে বুঝিয়েছে। সেটার অর্থ জানতে চেয়েছি, আর রেগে গেছে। ভাল লাগে না। মা! তুমি পুষ্পিতা আপুকে বকে দাও। তাহলে আমি লক্ষ্মী হয়ে ভাত খাব।" তখন মা বলল, "সত্যি বলছিস তো? আচ্ছা শোন, তুমি যদি ভাল করে ভাত খেয়ে নাও, তাহলে আমি এক্ষনি বকে দিচ্ছি। এই পুষ্পিতা! শোন না কেন? একটা কথার অর্থ বোঝাতে পার না? বড় বোন হয়েছ কি করতে? আজকে তোমার আর খাওয়াই লাগবে না।" পুষ্পিতা তো আরো খুশি। সে বলল, "Thank You. তুমি একটা ঠিক কথা বলেছ। খেতে আর ভাল লাগে না। কি মজা! আজকে আর আমার খাওয়া লাগবে না।" মা তো আরো রেগে গেল। ধমক দিয়ে পুষ্পিতাকে বলল, "আজকে তোমাকে পাঁচ প্লেট খাইয়ে দেব। Sorry, খাইয়ে দেব না, বরং খেতে দেব।" তখন লুজাইমা হেসে বলল, "এবার বোঝ মজা!" পুষ্পিতা বলল, "ঠিক আছে, পাঁচ প্লেট আর খাব না। দেখি, আমার বইতে 'বৈশিষ্ট্য' শব্দের অর্থ আছে কিনা। বোঝাতেই তো পারব না।" অবশেষে সে খুঁজে পেল। এরপর সে লুজাইমাকে বলল, "বৈশিষ্ট্য শব্দের অর্থ চরিত্র, স্বভাব বা প্রকৃতি, যা দিয়ে কারো আচরণ বা মানসিকতা প্রকাশ পায়।" লুজাইমা বলল, "মানে? প্রকৃতি মানে তো চারিদিকের সব গাছপালা এবং নদী!" এরপর পুষ্পিতা বলল, "আচ্ছা! ঠিক আছে, শোন বাবু। একটা অর্থ না বুঝলে অন্য সবগুলো দিয়েই বৈশিষ্ট্য শব্দের অর্থটা বোঝ। আমি আর বোঝাতে পারব না, sorry।" এরপর লুজাইমা বলল, "ঠিক আছে। কিন্তু আমি শুনেছি, মা তোমাকে কিসের কথা বলেছে। কিন্তু বাবা তো উদাহরণ দেয়নি। যাও, উদাহরণ শুনে এসো।" বাবার কাছে উদাহরণ জানতে চাইল পুষ্পিতা। বাবা বলল, "তোমার অনেক গুণ আছে। যেমন ধর, না খেয়ে আমাদের খাবার বাঁচিয়ে দাও। এরপরেরটা কানে কানে বলি। তুমি বিছানায় রং করে রং লাগাও আর মা ক'দিনের মধ্যেই বিছানাটা ধুতে দেয়। এতে আমার প্রত্যেকদিনই পরিস্কার বিছানায় শোয়া হয়।" পুষ্পিতা বলল, "কই, মার উপকার করি এরকম কোন গুণ তো বললে না।" বাবা বলল, "আরে বলছি বলছি। যেমন- তুমি কোন বিশেষ খাবার পছন্দ কর না বলে মার আর অতিরিক্ত কষ্ট করতে হয় না। আরেকটা গুণ আছে, তবে এরপর আর বলতে পারব না। গুণটি হলো, তুমি প্রত্যেকদিন যে চা-কফি খাও, এতে তুমি রাতে ঘুমাও না। তারপর তুমি বসে বসে খেল। এতে বিছানায় জায়গা বেড়ে যায়, একদম তোমার মা ও আমি দুজনেই বিছানায় আরাম করে শুতে পারি।" পুষ্পিতা বলল, "কই! লুজাইমা খাটে শুলে তোমাদের অসুবিধা হয় না, আর আমি শুলেই অসুবিধা হয়?" বাবা একটুখানি ভেবে বলল, "তুমি তো চা-কফি খাওয়ার সময় মজার চোটে ওকেও এক ঢোক খাইয়ে দাও। আর খেলার সময় তো ওকে ঠিকই ডাক। এতে জায়গা কমে যায় না?" পুষ্পিতা বলল, "উহ! ওকে মাত্র দুইদিন একটু টেস্ট করিয়েছি বলে তুমি এমন বানিয়ে দিলে? এত গুণই তো আর ভাল লাগে না। এর থেকে মায়ের বলা দোষগুলোই ভাল।"

Saturday, December 9, 2017

গরীব লোক

এক ছিল এক গরীব লোক। তার প্রথম থেকে এক পয়সাও ছিল না, টাকা তো দূরের কথা। সে এখন কী করবে? কিন্তু সে বুদ্ধিতে খুব পাকা ছিল। সে শহরে এল। সে দেখল, একটা দোকানে অনেক কাঠাল। সে জায়গায় খুব কম দামেই বিক্রি হতো। কিন্তু ঐ কাঠাল কিনতে যতটুকু টাকা লাগবে, সেটুকুই তো তার ছিল না। সে দেখল, কিছু দোকানে খুব নোংরা জমেছে। সে একটা দোকানের দোকানদারকে বলল, "ভাই! তোমার দোকানটা খুব নোংরা হয়ে গেছে। আমি যদি পরিস্কার করে দেই, তাহলে কি কিছু টাকা পাওয়া যাবে?" দোকানদার বলল, "ঠিক আছে। দেখি, কেমন পরিস্কার করতে পার। যত গ্রাম ময়লা বের হবে, ততটা ৫ টাকার নোট দেব। রাজি তো? আর যদি একটাও ময়লা না বের হয়, তাহলে এখনই আমাকে ১০ টাকা দেবে।" তখন গরীব লোকটি ভাবল, কী রে! আমি কি এত বোকা নাকি? ময়লা না দেখে কি আর এসব প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি? সে বলে দিল, "আমি রাজি। আমি এক্ষণি পরিস্কার করে দিচ্ছি।" পরিস্কার করার পর এক কেজি ময়লা বের হলো। দোকানদার তো হা হয়ে গেল। সে ভাবল, সকাল বেলা ৫ হাজার টাকা দিয়ে দিতে হবে এই গরীব লোকটাকে? হায়রে কপাল! কেন যে এমন করে বলতে গেলাম! আগে দেখে নেয়া উচিত ছিল, কতটা ময়লা জমেছে। ধুত, এখন টাকাগুলো ঢালতে হচ্ছে। সে ৫ হাজার টাকা মুখ গোমরা করে গরীব লোকটাকে দিয়ে দিল। গরীব লোকটা ১০০ টাকা দিয়ে একটা বড় কাঠাল কিনল। ধনী লোক হলে এক বেলায় শেষ করে দিত। কিন্তু সে ঐ একটা কাঠাল এক সপ্তাহ ধরে খেয়ে ফেলল। আর বিচিগুলো জমিয়ে রাখতে লাগল। তারপর সে ঐ টাকা থেকে কিছু টাকা সঙ্গে নিয়ে এল। সে একটা খালি মাঠ দেখতে পেল। সে একজনকে জিজ্ঞেস করল, "এই মাঠটা কার, ভাই?" লোকটা বলল, "কি যে বল না, এই মাঠটা তো আমারই। বিক্রি হবে। ১,০০০ টাকা পড়বে। নেবে নাকি?'' সেই লোকটি আসলে তর্ক করে বলেছিল।  ভেবেছিল, অত টাকা দেয়া তো দূরের কথা, নাম শুনেই পালিয়ে যাবে। কিন্তু গরীব লোকটি এক কথায় 'হ্যাঁ' বলে দিল। সে এক হাজার টাকা সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দিল, আর সঙ্গে সঙ্গে যার মাঠ সেই নামওয়ালা সাইনবোর্ডটি তুলে ফেলল। আর নিজের নাম লেখা একটি সাইনবোর্ড গড়ে তুলে ওখানে লাগিয়ে দিল। একটু পর সে ঐ বীচিগুলো নিয়ে এল। সে একজনের কাছ থেকে একটা কুঠার কিনে ফেলল। পাশেই একটি কল ছিল। সেটা যে কেউ ব্যবহার করতে পারে। সে একটি পানির পটও কিনেছিল। এরপর সে কুঠার দিয়ে মাটি খুঁড়ে তাতে কাঁঠালের বীজগুলো পুতে দিল। আর ঐ পানির পটে পানি ভরে রোজ ওখানে পানি দিতে লাগল। একটা কাঠালের অনেক বীচি। সে তিনটি গাছ পুতেছিল। গাছগুলো বড় হতে না হতেই দেখা গেল, কাঠাল ফলতে শুরু করেছে। এ কয়দিন সে তার রয়ে যাওয়া টাকাগুলো দিয়েই খাওয়া-দাওয়া ও সবকিছু সেরেছে। তার টাকাও প্রায় শেষ। কিন্তু গাছে কাঠাল এখনো একটুও পাকেনি। এই কাঠাল কেউ কিনবেও না। তাই সে আবার আরেকটা দোকানে গিয়ে ময়লা পরিস্কার করে কিছু টাকা নিয়ে এল। তা দিয়ে আরো দুই সপ্তাহ চালালো। আস্তে আস্তে দেখা গেল, কাঠাল পেকে যাচ্ছে। সে একটা ঝুড়ি নিয়ে তাতে অনেক কাঠাল পেড়ে ভরে ফেলল। তারপর সেই ঝুড়িটা মাথায় নিয়ে বাজারে গেল। সে বাজারে এমন একটা জায়গায় গেল, যেখানে মানুষ অনেক বেশি হাঁটাচলা করে। একদিনের মধ্যে প্রায় ১৫টা কাঠাল বিক্রি হল। সে একেকটার দাম ১০০ টাকা করে রাখল। ছোটগুলো ৭০ টাকা। সে আয় করল একদিনেই ১৪০০ টাকা। এমন করেই তার দিন চলতে লাগল এবং সে একটি বাড়িও কিনে ফেলল আর ভাল পোশাক-আশাকসহ বিয়েও করে ফেলল। এবং এভাবেই তাদের সুখে-শান্তিতে দিন কাটতে লাগল।

Thursday, November 30, 2017

ঠগবাজ দোকানদার

এক ছিল অনেক পর্দাশালী একটি মহিলা, কিন্তু সে ছিল বোকা। একদিন সে বোরখা কিনতে একটা দোকানে গেল। দোকানদার তাকে একটা ক্যাটালগের বই দিল। বলল, পছন্দমত একটা বোরখা চয়েস করুন, যেটা চাইবেন সেটাই দেব। পর্দাশালী মহিলাটি এমন একটা বোরখা পছন্দ করল, যেটা এত সুন্দর যে, সবাই কিনে কিনে শেষ করে ফেলেছে। দোকানদার তো মুশকিলে পড়ে গেল। সে ভাবল, প্রথমে এত আদর করে বললাম যে, পছন্দমত যে কোনটা চয়েস করলে দিয়ে দেব। কষ্ট করে দোকানে তো ঢোকালাম। কিন্তু এখন কী করব? এখন বললে তো মহিলাটি খুব রাগ হয়ে যাবে। সে ঐ same কালারেরই আরেকটা বোরখা বের করল। মহিলাটি ঐ বোরখাটি চেয়েছিল, কারণ ঐ বোরখাটির সঙ্গে একটি হিজাব ফ্রি। কিন্তু দোকানদারও ছিল ঠগবাজ। সে same কালারের আরেকটি বোরখা শুধু প্যাকেটটাই দেখাল, একটুুও খুলে দেখালো না। আর বোরখার রঙেরই আরেকটা হিজাবও দিয়ে দিল, কিন্তু খুলে একটাও দেখায়নি। আর এমন ভাব আর এমন পটানো কথা বলতে লাগল যে, মহিলাটি কথার ছলে ভুলেই গেল। সে আর খুলেও দেখতে চাইল না, আর ভাবল যদি খুলে দেখাতে বলি, তাহলে বেচারী ভাববে, আমি তাকে সন্দেহ করেছি, তাই দেখতে চেয়েছি। সে খুলে না দেখেই প্যাকেট করে দিতে বলল ভাল করে। তারপর সে ঐ বোরখা নিয়ে বাড়ি ফিরল। এত মিষ্টি ব্যবহারে দোকানদার যে ঠকাতে পারে কাউকে, সেটা ঐ মহিলা বুঝতেই পারল না। সে বাড়ি গিয়ে বোরখাটি খুলে দেখবে এখন। যেই না সে প্যাকেটটি খুলল; সে দেখল, উপরের ডিজাইনটা একটু অন্যরকম। এরপর সে পুরো ভাঁজটা খুলে হা হয়ে গেল। সেই বোরখার হাতা মশারীর। আর বোরখার নিচের পার্টে এমন কাপড় দেয়া, যে কাপড়ে নিচ দিয়ে সব দেখা যায়। কিন্তু মাঝখানেরটুক ছিল গর্জিয়াস। এরপর হিজাবটি খুলে দেখার পালা। দেখল, হিজাবটির ডিজাইনগুলো শুধু সুতির। হিজাবটা এমন কাপড়ের, যে কাপড়ের নিচ দিয়ে সব দেখা যায়। আর মাঝখানে মাঝখানে একটু মশারীর ফুল। মহিলাটি একদম রাগ হয়ে গেল। এটা কি বোরখা, নাকি বিদেশী ফ্যাশনিস্ট মেয়েদের ড্রেস? বুঝেছি, ঐ দোকানদার আসলে মিষ্টি কথা দিয়েই লোক পটায়। আর এমন এমন বোরখা-হিজাব দিয়ে লোক ঠকায়। তাই তো বলি, তাও একেবারে নরমাল বোরখার দাম। সে কিনুক বা বানাক, সে নিশ্চয়ই দামের দশগুণ কম খরচ করেছে। যাদের যাদের এমন বোরখা ও এমন হিজাব দিয়েছে, তারা ঠিক করল, পরের দিন ঐ দোকানে যাবে। আর ঐ মহিলাটিও তাই সিদ্ধান্ত নিল। তখন ঐ মার্কেটে সবাই জিনিসের সঙ্গে দোকানের অবশ্যই সিল মেরে দিত, কিন্তু ঐ দোকানদার দেয়নি। আর কোন চিহ্নও দেয়নি। এমনকি প্যাকেটেও না। সবাই ঐ জামা নিয়ে পরের দিন ঐ দোকানে গেল। সেই দোকানের সামনে এত ভিড় হয়ে গেল যে, সব লোকজন কৌতুহলী হয়ে অন্য দোকান ছেড়ে ঐ দোকানেই দেখতে যাচ্ছে। অন্য দোকানের সবাই তো রাগ করছে। এখন দোকানদাররাও ঐ দোকানে ভিড় দেখে উৎসুক হয়ে গেল। তারপর গিয়ে একজন ক্রেতা চিৎকার করছে, "এই আপনার বোরখা? আর এই আপনার হিজাব? মনে হচ্ছে just ফ্যাশন। এগুলো কি পর্দা করার জিনিস? ইচ্ছা করে আপনাকে পড়িয়ে দেই। এ তো ছোট বাচ্চাদের পার্টি ড্রেসের থেকেও লেংটু-পেংটু পোশাক। এটা কোন বোরখা হলো? ঠগবাজ কোথাকার! বলতে দ্বিধা করি না।" এরপর দোকানদার বলল, "কোন্‌ দোকান থেকে কিনেছেন, তার ঠিক আছে? এসে আমাকে ঝাড়ি মারছেন! কোথায়, আমার কোন চিহ্ন আছে এখানে? আমার দোকানেরও তো কোন চিহ্ন নেই।" একজনকে দোকানদার কার্ড দিয়েছিল। সে বলল, "এই যে আপনার কার্ড!" দোকানদার বলল, "কার্ড মানেই কি এই জামা কিনেছেন? আপনি হয়তো অন্য কিছু কিনেছেন। বললেই হলো?" তখন সবাই বলতে লাগল, "এই ঠগবাজ দোকানদার! আপনি নিজেই তো কোন চিহ্ন দেননি। প্রমাণ কি যে, আপনি এটা দেননি?" তখন দোকানদার আবার উঁচু গলায় বলল, "আর প্রমাণ কি যে, আমি এটা দিয়েছি?" সবাই পড়ল ভারি মুশকিলে। এরপর অমুক অমুক গালি দিয়ে দোকানদারকে বলল, "কই, খুঁজে দেখা যাক তাহলে, আপনার দোকানে আর এরকম কোন বোরখা আছে কিনা।" তখন দোকানদার বলল, "সব জায়গায় খুঁজে দেখুন, পাবেন না। কিন্তু এই ড্রয়ারে আমি টাকা জমিয়ে রেখেছি, এই ড্রয়ার খুলবেন না। বলা তো যায় না, কার মনে কি আছে! কে আমার টাকা নেবে, তার ঠিক আছে?" তখন একজন সাহসী মহিলা বলল, "তাহলে আপনি যে জমিয়েছেন, সেগুলো গেলেই আপনার এত সমস্যা! আর বাকিগুলোতে আপনার কত জামা আছে, সেগুলো নিয়ে গেলে তো আর জমাতেই পারবেন না। এতে কোন সমস্যা নেই? সবার আগে আমরা ঐ ড্রয়ারটাই খুলব।" দোকানদার আর সামলাতে পারল না। অনেক মহিলা ঠেলে ঠেলে ঐ ড্রয়ার খুলে সব প্যাকেট বের করল। একজন বলল, "টাকা বুঝি এরকম পোশাকের প্যাকেটে থাকে? আর আপনার দোকানের উপরেই তো লেখা আছে, দু' বছর আগে দোকান খুলেছেন। আর এই দু'বছরে সবকিছুর খরচ করে আর কত টাকা জমিয়েছেন? এত বড় বড় প্যাকেটে টাকা থাকে? ডাকাত জানলে এক্ষণি চলে আসবে।" তখন আরেকজন বলল, "কথা না বাড়িয়ে একটু খুলে দেখুন তো। টাকা আছে না কি আছে? আমি নিশ্চিত, এর মধ্যেই ওসব বোরখা আছে। আর নাহলে দোকানদার এত ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এরকম কথা বলে?" দোকানদারের মুখ হা হয়ে গেল। সবাই খুলে দেখল, সবাই যে বোরখা আর হিজাব নিয়েছে, সেরকম লেংটু-পেংটু পোশাকই ঐ প্যাকেটগুলোতে রাখা। বাকি দোকানদাররা বলল, "এই ভাই, তোমার লজ্জা করে না নাকি? প্রথমে বোঝনি, ধরা পড়ে গেলে কি হবে? এসব তো তুমি বাচ্চাদের পোশাক বলে চালিয়ে দিলেই হতো। আবার বোরখা বলার কি দরকার? আর হিজাবটা বাচ্চাদের ফ্যাশনিস্ট ওড়না বলে দিয়ে দিলেই তো হতো। পর্দার হিজাব কেন?'' এরপর একজন মহিলা আরেকজন মহিলাকে বলল, "চলুন তো, পুলিশ ডেকে আনি। এত বড় ঠগবাজকে পুলিশকে না ধরিয়ে এত কথা বলার দরকারটা কি? আর পুলিশকে প্রমাণ দেব এই দোকানের পোশাকগুলো আর আমাদের হাতের পোশাকগুলো দেখিয়ে।" এরপর দু'জন মিলে পুলিশ ডেকে আনল। তারপর পুলিশ সব প্রমাণ-ট্রমান দেখে অন্য দোকানদাররা যে কথা বলেছে, সে কথাই বলল। পুলিশ বলল, "এই অপরাধের একটাই উপযুক্ত শাস্তি হবে। আর যে দুই মহিলা আমাকে ডেকে এনেছে, তারাই এই শাস্তির কথা বলেছে। শাস্তিটা হলো, তুমি যেই পোশাককে বোরখার নামে চালিয়েছ, আর যেই হিজাব চালিয়েছ, সেইটা তোমাকে নিজেই পরতে হবে। ছেলে হলেও মেয়েদের এই পোশাকটাই পরতে হবে। ্তারপর সারা মার্কেট ঘুরতে হবে। আর তার পিঠে "আমি ঠগবাজ" লেখা একটি কাগজ টানিয়ে দিতে হবে।" তাই করা হলো। এরপর দোকানদার সব নকল বোরখা ও হিজাবগুলো পুলিশের কাছে দিয়ে দিল। পুলিশ ওগুলো বস্তির মানুষদের দান করে দিল। এরপর দোকানদারের উচিত শিক্ষা হলো। আর কখনো এসব করার চিন্তাও তার মাথায় ঢুকল না। আর সব মহিলারা তাদের ঘরে ফিরে গেল।

Friday, November 17, 2017

সোনা ও রূপা

এক ছিল এক কৃষক। তার ছিল দুই মেয়ে। বড় বোনের বয়স ১৫ ও ছোট বোনের বয়স ১০। বড় বোনের নাম রূপা, আর ছোট বোনের নাম সোনা। বড় বোন ছিল অলস। সে ছোট বোনকে দিয়েই কাজ করাত। ছোট বোনও কাজ করত। বড় বোন রান্না ভাল করতে পারত না। সে সবসময় নিজেকে একটু বড় দেখাতে চাইত। এবং সবার কাছ থেকে প্রশংসা পেতে চাইত। একদিন সেই দেশের রাজা ঠিক করল, এক মাস সব প্রজার বাড়ি গিয়ে সব মেয়েদের হাতের রান্না খাবে। একেক বেলায় একেক জনেরটা। যেই মেয়ের রান্না তার ভাল লাগবে, সে তার আরো কিছু রকম পরীক্ষা নেবে। তারপর যদি সে সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, তাহলে রাজপুত্রের সাথে রাজা তার বিয়ে দেবে। সেই খবর ঘোষণা করে দেয়া হল। বড় বোন ভাবল, রাজাকে জোড়াতালি দিয়ে রোস্ট-পোলাও খাওয়াবে। কিন্তু ছোট বোন ঠিক করল, জোড়াতালি দিয়ে রোস্ট-পোলাও বানানোর থেকে সুস্বাদু ইলিশ মাছ ও খিচুড়ি অনেক ভাল। এরপর প্রথম পনের দিন রাজা অনেক মেয়ের বাড়িতে গেলেন ও প্রত্যেক বেলায় একেক জনের বানানো খাবার খেলেন। কিন্তু রাজার কোনটাই বেশি একটা ভাল লাগল না। ১৬তম দিনে রাজা এলেন সোনা-রূপার বাড়িতে। তিনি বললেন, "দুপুরে খাব রূপার হাতের রান্না, আর রাতে খাব সোনার হাতের রান্না।" রূপার কাছে বেশি টাকা ছিল না। সে একটু চাল কিনল ও একটা ছোট মুরগী কিনল। তখন কাচা টমেটোর সিজন। সে বেশি করে মরিচ দিলো টমেটোটাকে লাল রং করার জন্য। আর চালগুলো সে অনেক আগেই কিনেছিল ও প্রত্যেকদিন চাল পোলাওয়ের চালের shape করে কাটতে লাগল। এরপর সে তৈরি করল জোড়াতালি দিয়ে বানানো রোস্ট-পোলাও। আর ছোট বোন ঠিকমত নূন-মরিচ দিয়ে মজা করে খিচুড়ি এবং ইলিশ মাছ রান্না করল। রূপা একটা কাঠের টেবিল রঙ করিয়ে সুন্দর প্লাস্টিকের মত দেখতে হয় এরকম তৈরি করল। আর সোনা সাধারণ একটা কার্পেট মেঝেতে বিছিয়ে দিল। এরপর পাটিতে খাবার সাজালো। আর রূপা চেয়ার হিসেবে কাঠের টুকরোর উপরে পর্দা বিছিয়ে দিল (মঞ্চের মত)। এরপর রাজা এলেন ওদের বাড়িতে খাওয়ার জন্য। প্রথমে রূপারটা খাবে। সে ঢুকলো রূপার ঘরে। রূপা বললো, "মহারাজ! দেখুন, কী সুন্দর রান্না করেছি! আপনি বসে খাবেন বলে কথা। দেখুন, একদম বিয়েবাড়ির টেবিল-চেয়ারের মতন বানিয়েছি। বসুন একটাতে।" এরপর রাজা ওখানে বসলেন। রাজার অভ্যাস ছিল পা দুলিয়ে দুলিয়ে খাওয়া। এরপর রাজা তার অভ্যাস মত পা দোলাতে শুরু করলেন। এবং হঠাৎ এক সময় চেয়ার ভেঙ্গে রাজা মাটিতে পড়ে গেলেন। রাজা চিৎকার দিয়ে বললেন, "অপদার্থ মেয়ে! এই তোমার বিয়েবাড়ির চেয়ার? এর থেকে ছেড়া পাটিতে বসে খাওয়া ভাল।" রাজা উঠলেন। এরপর আরেকটা সাধারণ চেয়ার পাশের দোকান থেকে কিনে নিয়ে এলেন। তারপর সেই কাঠের চেয়ারে বসেই তিনি রোস্ট আর পোলাও খেতে বসলেন। তিনি পোলাওটা মুখে দিয়ে বললেন, "এ কী! এ তো দেখছি একদম ভাতের মতন। এ কি পোলাওয়ের চাল দিয়ে ভাত রেঁধেছ? পোলাওয়ের তো একটুও চিহ্ন নেই । শুধু পোলাউয়ের shape টাই একটু।" তখন রূপা বলল, "এটাও খেতে ভালই লাগে। এটাও তো পোলাওই। এটা হলো একধরনের বিদেশী পোলাও। এবার রোস্টটুকু তো নিন।" রাজা রোস্টটুকু প্লেটে নিলেন। খাওয়ার আগে এসে বললেন, "মরিচের খুব কড়া গন্ধ আসছে। হয়তো মরিচ ভাজছে এ বাড়িতে। ও কিছু না।" সে রোস্টটুকু মুখে দিলেন। চিৎকার দিয়ে বললেন, "এটা কি রোস্ট রান্না, না মরিচ রান্না? একটা অপদার্থ মেয়ে! এটা রোস্ট হলো? রোস্টের থেকে দশগুণ বেশি মরিচ। আর টমেটোর যে স্বাদ, একেবারে টক! বিচ্ছিরি হয়েছে, বলতে দ্বিধা করছি না। মুখটাই একেবারে নষ্ট করে দিল। প্রথম দিকে তো মাজাটাই ভেঙ্গে বসছিলাম। এখন ঝালের চোটে কান ধেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। রোস্ট তো একদম মিষ্টি হয়। আর একটু অন্যরকম খাবার দেবে না? রাজ্যে তো প্রায়ই এসব খাবার খাই। বুঝেছি, এ হলো জোড়াতালি দিয়ে করানো। আর থাকব না।"- এই বলে রাজা রূপার বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলেন। এরপর রাত্রেবেলা সোনার হাতের রান্না খাওয়ার জন্য আসলেন। সোনা বলল, "স্বাগতম, মহারাজ! দয়া করে এ গরীবখানায় আসন গ্রহণ করুন। রাজা মনে মনে বললেন, "আগেরজন তো একেবারেই অপদার্থ ছিল। প্রথমে একটু আদর করে বসতে দেবে না? তা নয়, প্রথমে নিজের প্রশংসা নিজে করা শুরু করেছে। শুরুতেই একেবারে বলেছে, দেখুন, কত সুন্দর রান্না করেছি! এখন এরটা খেয়ে দেখি কেমন।" রাজা কার্পেটটাতেই বসলেন। রাজা পাতে খাবার নিতে গেলেন। সোনা রাজাকে নিজে নিজে খাবার নিতে দিলেন না। সে খুব সুন্দর করে রাজার পাতে খাবার বেড়ে দিল। রাজা প্রথমে খিচুড়ি একটু মুখে দিয়ে দেখল। বলল, "বাহ! এ তো খুব অপূর্ব খিচুড়ি। এত সুন্দর খিচুড়ি কোনদিন খাইনি। তাছাড়া একটু অন্যরকম তো খেতেই হয়। আর এই মেয়ে তাই খেতে দিয়েছে।" সোনা বলল, "এবার এই অধমের রান্না করা মাছটি একটু চেখে দেখুন।"- এই বলে সে রাজার প্লেটে মাছ দিল। রাজা মাছটি মুখে দিয়ে বললেন, "বাহ! অপূর্ব ইলিশ মাছ। দোকানে যতই মাছ কিনি, খাই; এত ভাল লাগে না। তুমি কোন দোকান থেকে ইলিশ মাছটি কিনলে?" সে বলল, "বাজারের শেষ মাথায় অমুক দোকান থেকে কিনেছি।" রাজা বলল, "ঐ দোকানে তো একেবারে সাধারণ মাছ পাওয়া যায়। তুমি এমন মাছ পেলে কি করে? আর এমন মাছের দাম তো নিশ্চয়ই অনেক হবে। তুমি অত টাকা পেলে কোথায়?" মেয়েটা বলল, "আমি তো সাধারণটাই কিনেছি। শুধু রান্নাটাই একটু ভালো হয়েছে। মহারাজ! চেখে তো দেখলেন। এবার খেয়ে নিন।" রাজা পেট ভরে খেলেন। এরপর মেয়েটাকে বললেন, "সোনা! তুমি খুব ভাল রেঁধেছ। সকালে তোমার আরো একটু ইন্টারভিউ নিব।" রাজাকে সোনা বলল, "অবশ্যই। আপনি আমাকে যেকোন কিছু জিজ্ঞাসা করতে পারেন।" 
সকাল বেলা রাজা সোনার ঘরের কাছে এলেন। তিনি ভেবেছিলেন, সোনা হয়তো ঘুমোচ্ছে। কিন্তু তিনি দেখলেন, সোনা ঐ ঘরে নেই। সোনা রান্নাঘরে রান্না করছে। মহারাজকে দেখে সোনা উঠে দাঁড়ালো। বলল, "স্বাগতম, মহারাজ! আপনি বসে ধীরে সুস্থে আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন।" রাজা চকিতে বসলেন। রাজা বললেন, "আমি প্রশ্ন শুরু করছি। ধরে নাও, একটা রাক্ষস এসে তোমাকে নিয়ে গেল। সে বলল, আমার তিনটা ছেলে আছে। তারা ঝগড়া করছে। তাদের একজন একটা জিনিসকে বলছে 'গাছ', আরেকজন বলছে 'পাছ', আরেকজন বলছে 'ডাছ'। ওরা ঝগড়া করছে, কোন্‌টা সঠিক? তুমি ওদের কাছে গিয়ে কথা বলে দেখ, আর ওদের ঝগড়া মেটাও। আর নাহলে আমি তোমায় খেয়ে ফেলব। তখন তুমি কি করবে?" মেয়েটা বলল, "আমি সবগুলো রাক্ষসের ছেলেকে বলব, তোমরা সকলেই সঠিক। একজন বলছ ফরাসি ভাষায়, একজন বাংলা ভাষায়, একজন ইংরেজি ভাষায়। তখন কোন রাক্ষসই আর আমাকে মারবে না।" তখন রাজা বলল, "তোমার তো অনেক বুদ্ধি! তোমাকে আমি আমার প্রাসাদে নিয়ে যেতে চাই। এসো আমার সঙ্গে। তুমি একটা ভালো পোশাক পরে আমার সাথে চল।" তখন মেয়েটা বলল, "ঠিক আছে। কিন্তু আপনার কাছে কোন্‌টা ভাল লাগবে, সেটা আমি বুঝব কি করে?" তখন রাজা বলল, "ঠিক আছে, আমি পছন্দ করে দিচ্ছি।" রাজা দেখল, "সবগুলোই গরীবের পোশাক।" রাজা বললেন, "তুমি একটু দাঁড়াও, আমি আসছি।" রাজা পাশে একটা পোশাকের দোকানে গেলেন। সেখানেও সব গরীবেরই পোশাক। রাজা দোকানদারকে বললেন, "সবথেকে সুন্দর আর দামি পোশাকগুলো দেখাও তো!" দোকানদার দামি পোশাকগুলো দেখালো। রাজা একটা রাজকন্যাদের মত পোশাক কিনল। আরেকটা পার্টি ড্রেসের মতন সুন্দর পোশাক (বিয়ের পোশাক) কিনল। এরপর মেয়েটিকে রাজকন্যাদের মত ঐ পোশাকটি দিল। মেয়েটা বলল, "এই অধম এই পোশাক নিয়ে কি করবে, মহারাজ!" তখন রাজা বলল, "এটা আমার পছন্দের একটি পোশাক। তুমি এটা পরে নাও।" মেয়েটা বলল, "অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি এটাই পরে নিচ্ছি।" পরে রাজা এই মেয়েকে নিয়ে প্রাসাদে গেলেন। রাজপুত্রকে এই মেয়েকে দেখিয়ে বললেন, "এই মেয়েটা কেমন লাগে তোমার কাছে?" রাজপুত্র বলল, "এ তো অনেক সুন্দরী। আমার বানানো ঐ কঠিন ধাঁধার উত্তর কি কেউ দিতে পেরেছে? আর তোমার কি কারো রান্না ভাল লেগেছে?" তখন রাজা বলল, "এই মেয়েই আমাকে অসাধারণ রান্না খাইয়েছে এবং খুব ভাল যত্ন করেছে। সে ঐ অসম্ভব কঠিন ধাঁধার উত্তরও দিয়ে দিয়েছে। এই মেয়েটাকে কি তোমার পছন্দ হয়?" তখন রাজপুত্র এক কথায় বলে দিল, "হ্যাঁ, একেই আমার সাথে তুমি বিয়ে দিয়ে দাও।" এরপর ওদের ধূমধামের সাথে বিয়ে হয়ে গেল। আর রূপা মনে মনে খুব হিংসা করতে লাগল। আর ভাবল, কেন যে জোড়াতালি দিয়ে বড়লোকদের খাবার বানাতে গেলাম!

শিক্ষা: জোড়াতালি দিয়ে অসাধারণ কিছু করতে চাওয়ার চেয়ে সাধ্যের মধ্যে সাধারণ জিনিস করাই ভালো।

Thursday, October 12, 2017

গোঁফখেজুরে মহিলা

এক ছিল এক লোক। সে খুব ভালো ছিল। কিন্তু তার বউ খুব অলস ছিল। অলস হলেও কোন কিছুর লোভ ছিল না। এমনকি টাকার লোভও না। সে চাকরী নিতেই চাইছিল না। কিন্তু তার স্বামী তাকে বারবার বলছিল, "চাকরী না নিলে আমার চাকরীর টাকা দিয়ে তোমাকে খেতেই দেব না। এত অলসতা ভালো নয়। ঝগড়া করে বলছি না। অলসতা তো ভালো নয়, তাই তোমার ভালোর জন্যই বলছি। যদি চাকরী না নাও, আমি কিন্তু সত্যি রাগ করে আমার টাকা দিয়ে তোমাকে খাওয়াব না।" বউ বাধ্য হয়ে চাকরী নিল। সে এমন চাকরী নিল, যেখানে শুধু বসে থাকতে হয়, আর কিছু গল্প-বক্তৃতা শুনতে হয়। যে বক্তৃতা দেয়, সে শেষে গিয়ে সবাইকে একটাই প্রশ্ন করে, কি বিষয়ে আমি কথা বললাম। বউটি শুধু প্রথম দিকের গল্পের নামটা শোনে, আর কিছুই শোনে না। আর শেষে গিয়ে নামটা বলে। কিন্তু সে এতই অলস ছিল যে, চাকরীর টাকা নিয়ে একটু চাল কিনে যে রেঁধে খাবে, তাও চাইত না। তার বাসার নিচেই ছিল এক হোটেল, যেই হোটেল থেকে খাবার উপরে উঠিয়ে দেয়া হতো। সে যে ফোনে একটু কল দেবে, তাও সে চাইত না। সে তার ঘরের কাজের বুয়াকে বলল যে, ঐ জায়গাটাতে চাপ দিয়ে আমার কানে ধরিয়ে দাও। কাজের লোক তা কানে ধরিয়ে দিল। বউটা ফোন করল। ফোন ধরল একজন বাবুর্চি। সে বউ বলল, "শোন! আমি তোমাকে আমার পুরো বেতনের টাকাটা দেব। তুমি শুধু খাবারটা রেঁধে উপরে নিয়ে এসে আমার মুখে তুলে খাইয়ে দেবে।" বাবুর্চি তো রেগেমেগে অস্থির! উপরে গিয়ে আবার নিজের হাতে খাইয়ে দিতে হবে! কিন্তু বাবুর্চির আবার টাকার লোভ ছিল। সে ভাবল, "তার নিজের পুরো বেতনটাই দিয়ে দেবে বলছে। প্রত্যেকদিন না হয় ঘন্টা খানেক সময় একটু নিয়ে গিয়ে খাইয়ে দিয়ে আসব। কিন্তু হোটেলের মাস্টারকে কি বলব? সত্যি কথাটাই বরং বলে দেই। মাস্টার তো আমাকে সবসময় পছন্দ করে। সে নিশ্চয়ই আমাকে যেতে দেবে।"- এই ভেবে সে হোটেলের মাস্টারকে গিয়ে বলল, "ওস্তাদ! ভালো একটা অর্ডার পেয়েছি। একেবারে তার পুরো বেতনটাই দিয়ে দেবে, যদি আমি সেই মহিলাটির বাড়ি গিয়ে তাকে খাইয়ে দিয়ে আসি।" মাস্টার তখন একটা বড় হাড়িতে অনেক বড় একটা ডাল ঘুটনি দিয়ে ডাল রাঁধছিল। মাস্টার রেগে গিয়ে বাবুর্চিকে ডাল ঘুটনি দিয়ে পাছায় বাড়ি দিল। বাবুর্চি বলল, "এ কী ওস্তাদ! মারছেন কেন? আমি না হয় কিছু টাকা আপনাকে দেব। একটু অনুমতি দিন না!" তখন মাস্টার বলল, "ঠিক আছে, কিন্তু আমাকে এর অর্ধেকটা দিতে হবে। আর তোকে আমি এ মাসের বেতনটা দিতে পারব না। আর যদি রাজি না হোস, তো তোকে আমি ঐ বাড়িতে যেতেই দেব না।" বাবুর্চি ভাবল, "হায়রে আমার কপাল! একে তো উপরে গিয়ে তাও আবার মহিলা মানুষকে খাইয়ে দিতে হবে। তার উপর আবার বেতন কেটে নেবে, অর্ধেক টাকা নিয়েও নেবে। আমার কপালটা কি খারাপ? তাও তো আমার কাছে একটু বেশি টাকা থাকবে।" সে তার ওস্তাদকে বলল, "ঠিক আছে, ওস্তাদ! আমি রাজি।" মাস্টার তো খুবই খুশী। সে তাকে যেতে দিল। বউয়ের স্বামী তখন ঘরে ছিল না। সে তার বেতনের অর্ধেক প্রত্যেক মাসে গরীবদের দিয়ে দিত। সে সেই কাজেই ব্যস্ত ছিল। বাবুর্চি তখন কলিং বেল দিল খাবার নিয়ে এসে। কাজের লোক দরজা খুলল। সে বাবুর্চিকে ভেতরে আসতে বলল। আর বউয়ের ঘরে যেতে বলল। বউ তখন পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছিল। বাবুর্চি তাকে ডাক দিল। মহিলাটি ঘুমের মধ্যে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে বলল, "যা খাবার এনেছ; পাশেই ব্লেন্ডার আছে, ব্লেন্ড করে ফিডারে ভর। তারপর আমাকে ঘুমের মধ্যে খাইয়ে দাও। আমার ব্যাগের ভিতরে ডেস্কের চাবি আছে। বেতনটা নিজেই নিয়ে নাও। পরে প্রতিদিন খাইয়ে দিও। পরের মাসে আবার বেতন দেব। আর এর পরের দিন থেকে হোটেলের ফিডারে করেই সবজির জুস এনে আমাকে ঘুমের মধ্যে খাইয়ে দেবে। ব্যস, সমস্যা মিটে গেল! আমার এত কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। যা যা বললাম, তাড়াতাড়ি কর তো! আমি ঘুমিয়ে যাই, ঘুমের মধ্যে খাইয়ে দিও।" তারপর বাবুর্চি বলল, "ঠিক আছে।" আর মনে মনে বাবুর্চি বলল, "ঠিক আছে, বাবু!" তারপর সে জুস বানিয়ে ফিডারে ভরল। তার আবার ফিডারে কাউকে খাওয়ানোর অভ্যাস ছিল না। তার বোনের বাচ্চা হওয়ার সময় কিছুদিন তাকে ফিডারে খাইয়েছিল, সেই অভ্যাসমতই মহিলাটিকে 'আয় ঘুম আয়' গান গাইয়ে গাইয়ে ফিডার খাইয়ে দিল। তারপর সে তার মাস্টারের কাছে গেল। এমনই চলতে থাকল।
তখন শীতকাল ছিল। সেই সময় বাংলাদেশেও হালকা বরফ পড়তে লাগল। বাংলাদেশে তখন গরীব মানুষের সংখ্যা একটু বেশি ছিল। শীতে যারা ধনী ছিল, তাদের ধনও একটু কমে গিয়েছিল শীতের কাপড়, শীতের খাবার এসব কিনতে গিয়ে। তাই তারা কাউকে ভিক্ষে দিতেই চাইত না। অনেক মানুষই গরীব। বাচ্চারা ব্রিজের নিচে আশ্রয় নিচ্ছিল, কিন্তু ব্রিজের সামনের পাহারাদাররা তাদের তাড়িয়ে দিচ্ছিল। মহিলার স্বামী ভাবল, এ অবস্থায় নিশ্চয়ই সাহায্য করা দরকার। আমি তো অনেকদিন আগে একটা ফাঁকা জায়গা কিনেছিলাম। তখন তো ভেবেছিলাম যে, কত বলদের মত কাজই না করেছি। কিন্তু এখন জায়গাটা কাজে লাগবে। সবাই শুনেছে এতিমখানা। কিন্তু এবার আমি বানাবো সবরকম গরীবরা থাকবে এমন গরীবখানা। সে অনেক বড় একটা বাড়ি বানালো। সে অনেক কার্পেট কিনল। একটা বড় ঘরে সেইসব কার্পেট বিছিয়ে দিল। মানে সেটা বানালো গরীবদের শোবার ঘর। একটা বড় ঘরে অনেক বড় একটা পাটি আর ছোট ছোট মাদুর সাজিয়ে রাখল চেয়ার-টেবিলের মত। সেটা হলো গরীবদের খাবার ঘর। আর আরেকটা ঘর পুরো ফাকা রাখল। সেখানে সে অনেক চাল, ডাল আর আলু এনে রাখল। আরেকটা ছিল ঘর। সেই ঘরে সে উনুন বসালো। আর বড় হাড়ি কিনল। আর চারপাশে অনেক কলাগাছ লাগালো। সে একজন লোক রাখল গরীবদের দেখাশোনা করার জন্য আর গরীবদের সবরকম প্রয়োজনে সাহায্য করার জন্য। আর পাশে একটা পুকুর ছিল, সেখানে সবাই স্নান করতে পারবে। কলাগাছ লাগালো, কারণ কলাপাতা কেটে কেটে প্লেটের মত করে গরীবদের দেয়ার জন্য। পরের দিনই সে মাইকে করে এই খবর সবাইকে জানিয়ে দিল। যাদের যাদের খুব খারাপ অবস্থা, তারা তারা সেই লোকটির কাছে এল। তারা বলল, "দয়া করে আমরা কি আপনার এই গরীবখানায় থাকতে পারব?" তখন লোকটা বলল, "তোমাদের জন্যই তো বানিয়েছি। তোমরা থাকবে না তো কারা থাকবে? নিশ্চয়ই যাও। ঐদিকে শোবার ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নাও। আর আমার এই লোকটি তোমাদের দেখাশোনা করবে। এই লোকটি যখন তোমাদের ডাক দেবে, তখন তোমরা ঐ খাবার ঘরে চলে যাবে। লোকটি তখন ভাত আর ডাল রান্না করল। তারপর সেইগুলো পাটিতে সাজিয়ে দিল। গরীবরা পেট ভরে খেল। ওখানেই গরীবরা থাকতে লাগল। 

Friday, September 1, 2017

নেক লোকের স্বপ্ন পূরণ

এক ছিল এক গরীব লোক। সে সৎ ছিল। তার জীবনের শখ ছিল মসজিদের মুয়াজ্জিন হওয়া। কিন্তু সে তো গরীব। এক পয়সাও ছিল না হয়তো। কিন্তু সে জানে, ভিক্ষে করতে হয় না। তাই সে ভিক্ষে করল না। ভাবল কী আর করবে! কিছু কাজের সন্ধান করবে। কিন্তু সেখানে কোন মানুষের বাড়ি ছিল না। আর ২/৩টা থাকলেও খুব রাগী মানুষের বাড়ি। একটু যে বলবে, যাও না, একটা ভাতটা রান্না কর না— তা নয়। বলবে যে, সকাল বেলা কী করতে হয়? বোঝ না কিছু? ভাত রান্নাই করে না! এমন বাড়িতে কী আর এমন কাজ করবে? কাজ করার কি উপায় আছে, বল? একটা ভালো বাড়ি তো দরকার। কিন্তু সে আল্লাহকে ডাকতে শুরু করল। আর জিজ্ঞেস করার জায়গাও ছিল না। মনে মনে আল্লাহকে বলতে লাগল, আমি কী করি? আমার তো কোন উপায় নেই, কি করব আমি এখন? মনে মনে বলার সঙ্গে সঙ্গেই গাছ থেকে একটা ছোট ফল পড়ল। সেই গাছে একটাই মাত্র ফল ছিল। অর্ধেক অংশ খেয়ে দেখল, ভিতরে অনেক বীচি। তার মাথায় একটা বুদ্ধি এল। সে আস্তে আস্তে হাত দিয়েই মাটি খুঁড়তে লাগল। সেখানে একটি ছোট্ট পুকুর ছিল, কিন্তু ছিল না কোন মাছ। সেই পুকুরের পানি খেয়েই কটা দিন সে বেঁচে ছিল। সেই পুকরে থেকেই কিছু পানি নিয়ে মাটিতে ঢালল। এক সপ্তাহ পর সে দেখল, একটি ছোট্ট গাছ সেই বিচির জায়গা থেকে বেরিয়ে আসছে। সে খুবই খুশি হল এই দৃশ্য দেখে। সে মনে মনে আল্লাহকে বলতে লাগল, "আল্লাহ! তোমার জন্যেই আমি এই গাছটি পেয়েছি। তোমার কাছেই আমি কৃতজ্ঞ।" এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে গাছটির কী অদ্ভুত দৃশ্য হলো! গাছটি এক দিনেই খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠল। পরের দিন লোকটি ঘুম থেকে উঠল। দেখল, ছোট্ট ছোট্ট কাঁচা পেয়ারা। সে খুব খুশি হলো। সেখানে আর একটা ওষুধ আবিস্কার হয়েছিল ক'দিন আগে। পেয়ারা গাছের পাতা দিয়ে ওষুধ বানালে নাকি ক্যান্সার সারে। (কাল্পনিক) তাই সে সেদিন একটু সেই ওষুধ বানানোর চেষ্টা করল। ডাক্তারের কাছে সে পাতাই বিক্রি করল। ডাক্তাররা হয়তো নিজেরাই ওষুধ বানাতে জানে। আর সেটা তো সত্যি, নাহলে ডাক্তার হয়? সে পেয়ারা পাতা বিক্রি করে টাকা পেল। সেই টাকা দিয়ে সে সামান্য কিছু ডাল কিনল। সে লাকড়ি, পাথর এসব দিয়ে সেই ডাল জ্বাল দিল। তারপর সেই ডাল খেল। পরের দিন সে দেখল, পেয়ারা একটু বড় হচ্ছে। কিন্তু কাঁচা। এর পরের দিনও সে পেয়ারা পাতা বিক্রি করে একই কাজ করল। তার পরের দিন আবার পেয়ারা পাতা পাড়তে লাগল। দেখল, পেয়ারা কিছু পাকতে শুরু করেছে। আর কিছু পেকেই গেছে। পাকা পেয়ারার দিকে তার নজর পড়ায় সে তা পেড়ে নিল। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করতে লাগল। বলল, "আলহামদুলিল্লাহ!" সে এগুলো বিক্রি করতে নিয়ে গেল বাজারে। শত শত মানুষের ভিড় পড়ে গেল। কারণ, সেই পেয়ারা দোকানের অন্য সব পেয়ারার মদ্যে সবচেয়ে ভালো ও মিষ্টি। অদ্ভুত না? তারপর সে প্রতিদিন এমন কাজই করে। আর টাকা পেয়ে পেয়ে ভাত আর ডাল জোগাড় করে। লাকড়ি দিয়ে তা রান্না করে খায়। কিছু কিছু দিন পেয়ারাই খায়। আস্তে আস্তে সে বেশি গরীব রইল না। তারপরে সে একটু কম গরীব। কিছুদিন পর সে গরীবই রইল না। সে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন হতে চাইল। একটা নতুন মসজিদ তৈরি করতে চাইছিল সে নিজেই। কি করে তৈরি করবে? এই ভাবতে ভাবতে সে অন্য একটা জায়গায় গেল। দেখল একটা মরা গাছ। মরা গাছের কাঠ কি ভালো হয়? সে হাত দিয়ে দেখল, কাঠটা ভালোই আছে। সে কাঠ নিয়ে গেল। একটা ভালো জায়গা খুঁজে বের করল। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইল। বলল, "আল্লাহ! আমি শুধু পেয়ারা বিক্রি করে কি করে মসজিদ তৈরি করব? তুমি আমাকে শক্তি দাও, কোন উপায় বলে দাও।" দেখল একটি আপেল গাছ তৈরি হয়ে গেল এক সেকেন্ডের মধ্যে। পিছনে ঘুরে দেখল একটি আপেল গাছ। সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করল। সে গাছে আবার already অনেকগুলো আপেল। পাকা আপেল, কাঁচা আপেল, ছোট আপেল, বড় আপেল, মাঝারি আপেল। আপেলগুলো সে বিক্রি করতে নিয়ে গেল। অনেক অনেক টাকা জমল। তা দিয়ে সে লোহা, হাতুড়ি এসব কিনল। সে এক সপ্তাহের মধ্যেই মসজিদ বানিয়ে ফেলল। তারপর রঙ করল। হয়ে গেল একটি সুন্দর মসজিদ। সে একটি কার্পেট কিনল। কিছু সাদা কাপড় কিনল।  বিছিয়ে দিল সেগুলো সুন্দর করে। অনেক অনেক মানুষ সেখানে আসল নামায পড়তে। সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে লাগল। এতে আরো মানুষ সেখানে এসে হাজির হল। সে মুয়াজ্জিন হয়ে গেল। একজন ভালো মানুষ দেখে ইমাম বানালো, তার জীবনের লক্ষ্য পূরণ হলো। সে অনেক বার আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করল। অনেক করে বলল, "আলহামদুলিল্লাহ!"

শিক্ষা: আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোন কিছুই হয় না। আর আন্তরিকতা ও শোকর থাকলে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যায়।

Wednesday, August 16, 2017

উপকারের প্রতিদান

তোমরা নিশ্চই ইঁদুর সিংহকে মুক্ত করার গল্পটি শুনেছ। তাহলে একই শিক্ষার আরেকটি গল্প শোন।

এক ছিল দুই বন্ধু। ধনী বন্ধু আর গরীব বন্ধু। একদিন তারা ঠিক করল যে, তারা এক বড় জঙ্গল ঘুরে দেখবে। তাই তারা সেইজন্য রওয়ানা হলো। ঐ জঙ্গলের ভিতর অবশ্য দোকানপাটও ছিল। তবে বেশি কিছু ছিল না দোকানে, শুধু একটু খাবার আর পানি ছিল। ধনী বন্ধু তো পিজা আর বার্গার খেয়ে এসেছিল। সঙ্গে কোল্ড ড্রিংস আর পানীয় খেয়ে এসেছিল। কিন্তু গরীব বন্ধু তো কিছুই খেয়ে আসেনি। কারণ, তার বাড়িতেই কিছু বাকি ছিল না। পথের মধ্যে গরীব বন্ধু তার অন্য বন্ধুকে বলল, "একটু পানি দাও না!" তখন বন্ধু বলল, "আমার বোতলে তো আর কোন পানি অবশিষ্ট নেই। তবে আমার কাছে কিছু টাকা আছে।"- এই বলে সে একটি ঠান্ডা পানি কিনে আনল ছোট্ট দোকান থেকে। গরীব বন্ধুকে একদম নীরব লাগছিল। পানি খেয়ে সে তার বন্ধুকে বলল, "ধন্যবাদ।"- এই বলে তারা আবার হাঁটতে লাগল। তারা খুব মুগ্ধ হয়ে সুন্দর জঙ্গলটা দেখছিল। কোন হিংস্র পশুও ছিল না। শুধু পাখি আর জলাশয়ে মাছ ছিল। পথের মধ্যে গরীব বন্ধু বলে উঠল, "আমাকে একটু খাবার দাও না!" তখন বন্ধু বলল যে, "আমার দইয়ের হাঁড়িটাও তো ফাঁকা হয়ে গেছে। মানে পথে খেয়ে ফেলেছি। আর কোন খাবার অবশিষ্ট নেই। তবে আমার কাছে অনেক টাকা অবশিষ্ট আছে। দাঁড়াও।"- বলে সে দোকানে গেল। ছোট্ট দোকান থেকে একটা ছানার মিষ্টি কিনে এনে দিল। গরীব বন্ধুটি খেল। তারপর অবশিষ্ট পানির অর্ধেক সে পান করল। তারপর তারা আবার হাঁটতে লাগল। তারা খুব ঘুরফিরে জঙ্গল দেখে হাসিমুখেই ধনী বন্ধুটি তার বড় ভবনে ফিরল আর গরীব বন্ধুটি তার কুটিরে ফিরল। একদিন দুই বন্ধু মিলে ঠিক করল, অনেক দূরে এক ধরনের ফুল আছে। ঐ ফুল খুব দামী। শুধু ঐ জায়গায়ই পাওয়া যায়। ওরা চাইল, দুটো ফুল নিয়ে সে বিক্রি করবে আর কিছু টাকা পাবে। আর তা ভাগ করে নেবে। সেইদিন গরীব বন্ধুটির জালে অনেক অনেক মাছ উঠল। সেই মাছ বিক্রি করে সেদিন সে খুব ভালমত পেট ভরে খেল আর আরাম করে একটু ঠাণ্ডা পানি খেয়ে নিল। সেইদিন আবার ধনী বন্ধুটির ভবনে এক বড় অনুষ্ঠান হচ্ছিল। সেই অনুষ্ঠানে দাওয়াতের বাইরেও ২০০ জন লোক এসেছিল। তাই খাবারই প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। খুব টানাটানি পড়ে গেল খাবার নিয়ে। সেটা ছিল দূর দূরান্তের গরীব লোকদের জন্য। দেখা গেল, অনেক ধনী লোকও এসেছে। অনেক কষ্টে ধনী লোকদের ফিরিয়ে দেয়ার পর হালকা খাবার রয়ে গেল। এ দিয়ে যারা দাওয়াত করেছে তারা একটু করে খেতে পারল। কিন্তু ধনী বন্ধুটি মাত্র এক লোকমা খাবার খেল। তার বেশি কেউই ভাগে পেল না। আর অনুষ্ঠানের অতিথিরা পেট ভরে খেয়ে চলে গেল। তারপর দুই বন্ধু পরের দিন বের হল ফুল আনতে। যেইদিন তারা জঙ্গলে গিয়েছিল, তখন গরীব বন্ধু বলেছিল, "আমিও তোমার একদিন উপকার করব। আর ধনী বন্ধু বলেছিল যে, তুমি আর কি করবে? তুমি তো খুবই গরীব।"- এই বলেছিল। সেইদিন গরীব বন্ধুর ঘরে এত এত খাবার হয়েছিল যে, এক বাটি ভরে সে সেই খাবার তার সঙ্গে নিল। আর এক বড় বোতলে পানিও নিল। তারপর তারা হাঁটতে শুরু করল। ধনী বন্ধুটি তো কোনমতে একটু খেয়ে এসেছে, আর সাথে নেবে কি? সাথে নিতে গেলে সবাই চিল্লাপাল্লা করবে আর বলবে, "আমাদের ভাগের খাবার এত এত কম কেন?" তাই সে কিছুই আনতে পারল না। পথে একটা বড় জলাশয় ছিল। যাওয়ার পথ ছিল খুব কাদা। ধনী বন্ধুর এমন কিছুর অভ্যাস নেই। তাই সে জলাশয় দেখতে পেয়ে বলল, "আমি গিয়ে ওখানে পা-টা ধুয়ে আসি।" তারপর সে পা ধুতে গিয়ে জলাশয়ের ভিতরে পড়ে গেল। তখন সে চিৎকার করতে লাগল। আর বলতে লাগল, "বন্ধু, তুমি কোথায়? এসে আমাকে বাঁচাও! আমি এই জলাশয়ের ভিতরে পড়েই গিয়েছি।" তখন গরীব বন্ধু শুনতে পেয়ে বলল, "কি করে পড়লে? দাঁড়াও, আমি আসছি।" সে একটা সুতার গাছ দেখতে পেল। সে ওখান থেকে কিছু সুতা নিল। সে আবার দর্জির কাজ করতে খুব ভাল পারত। আর সে তো মাছ ধরত। তাই সে জালও খুব ভাল বানাতে পারত। সে সেই সুতা দিয়ে একটা জাল বানাল। তারপর সেই জালটা সে জলাশয়ের ভিতর ফেলল। ধনী বন্ধু সেই জালটিতে আটকিয়ে উঠে এল। তখন গরীব বন্ধুটি বলল, "তুমি খুবই ক্লান্ত। ঐ ইটটার উপর বসে নাও।"- বলে সে তার সঙ্গে আনা খাবার ধনী বন্ধুকে দিয়ে দিল। তখন ধনী বন্ধুটি বলল, "আসলে আমি ভুলই ভেবেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, তুমি তো খুবই গরীব। আমি ভেবেছিলাম, শুধু ধনীরাই বুঝি সাহায্য করে, আর কেউ বুঝি সাহায্য করতেই পারে না। এখন দেখলাম, তুমি সাহায্য করতে পার। ধন্যবাদ।"- বলে তারা আবার যার যার ঘরে ফিরে গেল।

শিক্ষা: উপকার করলে উপকার পাওয়া যায়। আর দৃশ্যত ক্ষুদ্র বা দরিদ্র হলেও মনটা বড় হলে সাহায্য করার নসীব হয়।

Monday, August 14, 2017

তিন বোন ও ভিক্ষুক

এক শহরে বাস করত এক পরিবার। সেখানে ৩ বোন ও তাদের বাবা বাস করত। বড় বোন সোমা ছিল খুব নিষ্ঠুর, ঝগড়াটে ও সবাইকে মারধর করত ছোট কারণেই। মেঝ বোন লিলি ছিল খুব ঝগড়াটে, তর্ক করত, কিন্তু মারধর বেশি করত না। আর ছোট বোন মনি চিল খুব মিষ্টি ও সাহায্যকারী। একদিন তাদের বাবা তাদের ডেকে বললেন, "শোন, এই বাড়িতে তোমরা থাকলে ঝগড়া বাঁধে। আমি তোমাদের ছোট ছোট আলাদা ঘর বানিয়ে দিতে চাই। করব না, করেই ফেলেছি। বাইরে তাকিয়ে দেখ ছোট তিনটি ঘর।" এরপর ওরা আলাদা থাকতে লাগল। একদিন এক ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক ঐ বাড়িগুলোর দিকে গেল। সে প্রথমে সোমার দরজায় ডাকল, "মা, দুটি অন্ন দাও না!" সোমা বেরিয়ে এল। বলল, "এই! তুই কে? নিশ্চয়ই বুঝেছিস, আমার বাড়িতে আজ রোস্ট-পোলাও রান্না হচ্ছে! তাই ভালো-মন্দ খেতে এসেছিস। দূর হ!"— বলে সে তাকে ধাক্কা দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। ভিক্ষুক মনে মনে বলল, এমন নিষ্ঠুর আর নেই। সে গেল লিলির বাড়ি। বলল, "এই গরিবকে দুটি খাবার দাও, মা।" লিলি দোর খুলে বলল, "টের পেয়েছিস নাকি, আমার বাড়ি কোরমা হচ্ছে? এখান থেকে যা!"— এই বলে দরজা বন্ধ করে দিল। মনে মনে ভিক্ষুক ভাবল, এমন ঝগড়ুটে আর নেই। শেষে সে গেল মনির বাড়ি খাবারের জন্য। বলল, "মা, দুটি অন্ন দাও না।" মনি এসে বলল, "নিশ্চয়ই! ঘরের ভিতরে এসো।" মনি তাকে সোফায় বসতে দিল। সে বলল, "আজ আমার বাড়িতে খিচুরি-আচার আছে।"— বলে খাবার নিয়ে এলো। ভিক্ষুকটি খেল। মনি তাকে টাকা ও পোশাকও দিল। ভিক্ষুক বলল, "ধন্যবাদ। তুমি খুব ভালো, মা!" তারপর সে চলে গেল। একদিন প্রত্যেকে স্বপ্ন দেখল। সোমা স্বপ্বে দেখল, কেউ তাকে ধরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিচ্ছে, আবার খুব ধমক দিচ্ছে। তার ওপর ছিল তার তীব্র ক্ষুধা। এরপর লিলি স্বপ্নে দেখল, তার খুব খিদে পেয়েছে। কেউ তাকে খাবার দিচ্ছে না, খুব বকছে। আর মনি স্বপ্নে দেখল— তার প্রিয় ভিক্ষুক এসে তাকে আদর করে বুকে জড়াচ্ছে। এতে সে শান্তিতে মিশে যাচ্ছে। সবাই স্বপ্ন দেখল। বড় দুই বোন স্বপ্নে ভিক্ষুকের অনুভূতিটা বুঝতে পারল। তারপর থেকে ওরা আর ঝগড়া করল না। ওরা বাবাকে বলল, "আমরা আর ঝগড়াঝাটি করব না, একসাথে মিলেমিশে থাকব।" এরপর ওরা মিলেমিশে সুখে থাকল।

Thursday, July 6, 2017

রাজার খাওয়া

অনেক অনেক দিন আগে ছিল খুব ধনী এক রাজা। তবে তার স্বাস্থ্য সবসময় ভাল থাকত। কারণ, সে সবসময় অতি সাধারণ শাক-সবজি ও ফলমূল খেত। সে কখনো রোস্ট-পোলাও খেত না। তবে সে একথা কাউকে বলতও না। একদিন এক লোক রাজাকে নেমন্তন্ন করল। এক বিবাহ উতসবে। যে দাওয়াত করেছিল, সে রাজার খুব কাছের বন্ধু ছিল। তাই সে যেতে বাধ্য হল। সে তাড়াতাড়ি করে উপহার নিয়ে রওয়ানা হল। ওখানে গেল সে। উপস্থিত হওয়ার পর তার বন্ধু তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, "কেমন আছ, বন্ধু? দুপুরে আবার খেয়ে আসনি তো?" রাজা বলল, "আরে, না। দুপুরে বিবাহ, আর আমি দুপুরের খাবার বাড়িতে খেয়ে আসব কেন?" তার বন্ধু আবার বলল, "তাহলে তাড়াতাড়ি আগে খেয়ে নাও।"- বলে বিরিয়ানি আর রোস্ট খেতে দিল। রাজা ভাবল, প্রত্যেকদিন শাক-সবজি খাই। আজ একটুখানি ভাল-মন্দ খেলে কি হবে! তখন সে এটাই ভাবল না যে, তার বন্ধু তাকে বেশি করে খাইয়ে দেবে। কারণ, তার বন্ধুর অনেকদিনের শখ ছিল, নিজের কাছের বন্ধুকে কাছে টেনে এনে অনেক আদর করে অনেক কিছু খাওয়ানো। রাজা খেতে বসল। খেয়েদেয়ে সে ওঠার পাঁচ মিনিট পরই তার শুরু হল পেট ব্যথা। সে কিন্তু খুব বেশি করেই খেয়ে ফেলেছিল। বন্ধু বলল, "কি হয়েছে রে? আবার পেটে ব্যথা কোত্থেকে আসল?" তখন রাজা বলল, "তোমার জন্যই তো। তুমি আমাকে এত বেশি করে খাইয়ে দিলে কেন? এত খাবার কেউ খায়? আমাকে তুমি দুই প্লেট ভর্তি করে খাইয়ে দিয়েছ। আর তুমি নিজে তো আধা প্লেটই অল্প করে নিয়ে খেয়েছ। এখন আর কি করব, বলতো? তাড়াতাড়ি বাড়ি যাই। তোমার বর-বউ দেখা আর হলোই না। তুমি পরে ছবি তুলে নিয়ে এসো, আমি যাই।" সে বাড়ি ফিরে গেল। সে কি কি খেত, তার শুধুমাত্র রাণীই জানত। কারণ, সে এতই ধনী ছিল যে, তার সাধারণ শাকসবজি খাওয়া মানায় না। তাই সে কাউকে বলেনি। সে বাড়িতে গিয়ে রাণীকে সব বলল। সে বলল, ভেবেছিলাম একটু ভাল-মন্দ খাব বিয়েতে গিয়ে। কিন্তু এ কী? আমার বন্ধু আমাকে এততো দু' প্লেট ভর্তি করে খাইয়ে দিয়েছে যে, আমার পেটেই ব্যথা শুরু হয়ে গেল। আবার অপুষ্টিকর খাবার। যত্তসব! রাণী বলল, "সে কী মহারাজ? আমি তো মানা করেছিলাম আপনাকে। আপনি বলেছিলেন, খুব কাছের বন্ধু, না গিয়ে কি করা যায়? তাই আমি ভাবলাম, আপনার যখন এত ইচ্ছে, তাহলে যান। এবার দেখুন, কি হয়। এখন বৈদ্যকে ডাকতে যেতেও নিশ্চয়ই হবে আমাকে। যাই, বাবা।"- বলে রাণী বৈদ্যকে ডেকে আনল। রাজবৈদ্য বলল, "কেন, কি হয়েছে? কিভাবে হল? সেটা আমাকে একটু বলুন। পেটে ব্যথা দুপুর সময়, ব্যাপারটা কি? দুপুরে কি বিশেষ কোন কিছু করেছে, যা অন্যান্য দিন করেনি?" রাণী লজ্জায় বলতেই পারছিল না। কিন্তু রাজা ইশারা করে বলল যে, বলেই দাও। সে বলল, "চিকিতসকের কাছে কিছু লুকিয়ে কি আর চিকিতসা পাওয়া যায়?" তখন রাণী বলল, "হ্যাঁ, বৈদ্যমশাই। একটু আলাদা কাজ করেছে বটে। প্রতিদিন যা খায়, তার ব্যতিক্রম করেছে।" "মানে? কি বলছেন? আজকে শুনেছিলাম, একটা বিবাহ অনুষ্ঠানে যাবেন মহারাজ। তো প্রত্যেকদিনের খাবারই তো নিশ্চয়ই খেয়েছেন।" তখন রাণী বলল, "আর বলবেন না। মহারাজ প্রত্যেকদিন কোন রোস্ট-পোলাও বা বিরিয়ানি খানই না। তিনি সাধারণ ফলমূল ও শাকসবজি খেয়ে থাকেন।" তখন রাজবৈদ্য বলল, "ঠিক কথা। এবার বুঝেছি যে, কেন বেশির ভাগ রাজারই অসুখ হয়। আর তার বেশিরভাগেরই পেটে ব্যথা। এত ঘন ঘন কি কারো রোগ হয়? আর আমাদের রাজামশাই কখখনো অসুস্থ হন না, আর কোন বিবাহ উতসবেই যান না। আজ হয়তো কাছের বন্ধু বলে গিয়েছে। কিন্তু তাই বলে এত অপুষ্টিকর খাবার খেয়েছে, তা তো বুঝিনি। এইজন্যই আমাদের মহারাজ সবসময় সুস্থ। এই তো চাই! সুস্থ হয়ে খুব সুন্দরভাবে জীবনযাপন করেন। এবার অন্য রাজাদের চিকিতসার সময় বলে দেব, যেন সাধারণ শাকসবজি খান।" এই বলে রাজবৈদ্য পেটে ব্যথার একটি ওষুধ দিল, আর বলল, "যেই খাবার প্রত্যেকদিন খান, সেই খাবারই ঘন ঘন খাবেন, আর সঙ্গে শুধু এইটুকু ওষুধ। এই মিলে হল দুটো ওষুধ। এতেই কাজ হবে। আমি আসি।"- বলে রাজবৈদ্য চলে গেল। রাণী বলল, "দেখলেন তো, মহারাজ? আপনাকে কত প্রশংসা করে গেল। এবার আপনি ওষুধটা খান। আর আমি এক্ষণি কটা ফলমূল আর শাকসবজি নিয়ে আসছি।" রাজা ওষুধ আর শাকসবজি খেয়ে আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল। এখন থেকে অন্যান্য রাজাও রাজবৈদ্যের কাছ থেকে উপায় জেনে নিল। এখন আর কোন রাজারই অসুখ হয় না।

Thursday, April 20, 2017

Kind Young Prince

Once upon a time there was a king. He was very bad. But his son was kind. The king has a bad dream. That is - to kill all human, animals, birds and be the king of whole world.One day he got a perfume as a gift. He was making his beauty. A horse was very hungry like dying. The king has some grass.  he want to put the grass on his head and do a fashion. The horse ate the grass when the king is away. The real thing is, it is not horse. It was a fairy which has came from god. Quickly, the king come and see the horse. He tell,"How can you enter my room, bad horse. I will punish you." Horse said,"Oh my lord! Forgive me please. I'm sorry!" The king said,"I will kill you right now. Someone catch the horse kill it as a best punishment." Horse said,"(Angry voice) Bad king of the world. You are like hunters." King said, "How dare you to tell me hunter, bad horse!" The fairy change the face(real-fairy face) and show it to the king. The king began to cry. He said, ''Forgive me, fairy mom." Fairy tell,''No, because you did not forgive me." The fairy made the king to an ant. The king ant die in the leg of people when they walk. The prince cry very much and said, ''I miss you, daddy. Where have you gone?Ah! Ah!Ah! My dear daddy, I love you. I don't want this golden palace, golden things and boxes full of money. I don't want the kingdom. I only want you.'' The prince think, if I cannot help daddy, then I will help other animals. He went to a forest. He saw a boy wearing leaf on his body. He was hungry and crying. Prince said, ''Oh friend brother! Can we be friends? Why are you crying?" Boy said,'' I am hungry.'' Prince said,"Wait here! I will climb plum tree and bring plum for you. Then you can eat plum.'' He bring plum for the needy boy. Boy say,''Thanks.'' Then the prince saw a bird lying. He put water and leaves in injured wings of the bird. He feed water to the bird. The bird feels better and flies away. But did not forget to say thanks. Then the prince went to a farm. He saw a hungry cow and a thirsty cat. He feed the cow grass and take milk. Then he give the milk to the cat. Then he build a small home for the cow and cat. The fairy become happy and make the prince rich very much. But he was unhappy. The fairy was really very pleased so she give kind heart to the bad king and said,''Here is you father darling." Prince said, ''Thank you.'' The prince give the nice necklace of the world to the fairy. Then they lived happily.

Moral: Prize for helping and punishment for evil deeds.

Friday, April 7, 2017

গাধার থেকেও বোকার পচা গল্প

এক ছিল চার বোন। ৩জনের সন্তান হয়েছে। ৪ নম্বর বাকি। তবে সে খুব হিংসুটে ছিল। সে সবসময়ে চাইতো তার বাচ্চার যেন অন্যদের থেকে সুন্দর সাজুগুজু করে জন্ম হয়। তাই যখন তার সন্তান  সম্ভবা হল, সে খুব বোকার মত কাজ করল। সে মেকাপবাক্স গুড়ো করে খেয়ে ফেলল। সুন্দর পার্টি ড্রেস, জুতা, ক্লিপ-ব্যান্ড ও গয়না গিলে ফেলল। যেন এতো ছোট বাচ্চা পেটের ভিতরে বসে সাজতে পারবে। তারপর বাচ্চা এসবের ভার সহ্য করতে পারল না। শেষে বাচ্চা হবার সময় দেখা গেল যে, বাচ্চাও বাঁচল না আর মাও বাঁচল না। এইসব খেলে কেউ বুঝি বাঁচে!

শিক্ষা: হিংসাই পতনের মূল।

Behave Girl

Once upon a time there was a girl named behave girl. Because, one day she behave badly, next day goodly, and next day no behave. So she is called behave girl. One day she was behaving goodly. She want an umbrella. She told her mother nicely that, "Mother! Please buy an umbrella for me with pink design. Please nice, not ugly. The mother said, "Sure darling! I will bring a beautiful pink umbrella for you." Then mother go to super market and buy a beautiful nice design pink color umbrella. Then behave girl said, "Thank you. Let me show you how to dance in a rain with umbrella. This is your gift for bringing this for me." Then mother said, "Is this a gift? This is a time passing thing. You want to make late for making the soup. Naughty girl!" Then behaved girl was angry. Then she throws the umbrella in a pond. The pond is very deep. So no one can bath or go down the water. Then mother scolded her and said, "You foolish girl. You have got angry and put a beautiful umbrella in that dark water? Foolish girl you are. I lost my three thousand money because of you. The umbrella is no used. I have lot of umbrella in the home. But those are not nice. So you told me to bring nice umbrella. Because of you my money has lost, and three thousand money umbrella you put it in the pond, the pond is very very deep. Now you can not tell me that, please bring the umbrella back. This is your duty to put it back from the pond. This is your own duty. Very much foolish girl you are. Because your performance you have got a mistake. Then you have to do it as your work. I have given you a duty. If you don't listen to me, this type of thing will happen. I have given a duty to you to give back my three thousand taka back. This is your duty to work and make three thousand taka and give it to me. Because of you, my three thousand fresh taka not has go to the shopkeeper. I will don't talk with you, until you give my money back." Then behave girl said, "Don't scold me. I will not give your money back. Give me my umbrella back. Why are you scolding me? Don't do like that. I will not give your money back." Then mother was very very angry and said, "You are foolish girl. Don't tell me that thing what I don't like. I will give your umbrella back. But you must work from any people and earn money and give it, otherwise I will not give your umbrella." Then Behave girl thinking, "Oh! What will I do now? Mother will not give my beautiful umbrella back, if I not give money. I can do everything for my beautiful nice umbrella. Why I have put it in the pond? This is my mother's mistake, but I have also done a mistake. If I am angry, I should put another little thing in the pond. But why I have put in the pond my beautiful umbrella? This is my mistake. So I must give my mother the money." Then she thinking and thinking what she do for the money. Then father come quickly and knocked on the door. He said, "Where is my dear behave girl? Open the door, please. Let me change my dress and take you lap." Then behave girl said, "Come, come! But fast can you listen my mother's story? What I want I have to give it. I am opening the door. Take me lap and after then I will tell you what to do." Then father change his dress and take lap his child. Then behave girl tell all the things what happen. Then father said let me think what to do." My dear baby I must help you. I will give you two thousand taka and give idea to make one thousand taka. Then they go to outside. Mother come to the room and there are no people. Then mother think, "I think that, father and the child was making the money. Father was also helping her. Oh! This idea? What a clever girl! What this performance of her father thus my behave girl changed like this. For my husband, I lost my behave girl's good performance. He very much take lap and very much affection. Because of that, behave girl want many things from her parents. I have done a mistake by buying this umbrella from her. Then mother look in the window. Father and behave girl was looking for rickshaws. Then they found a rickshaw and told that to the rickshaw man, "Can you take us to the Islamic Bank?" Then rickshaw man said, "Off course! Seat, seat. 30 taka only." Then they go to the bank. Mother was looking in the window. Then mother said, "Father is helping her too much. Let me scold when he come home. I want my money from behave girl, not from her father. Because, father did not do any mistake. My behave girl lost my money. Ok, I will not scold father when he come home. I will also go to see." Mother took her bag and she also went behind father and Behave girl. She follow where they are going. She saw that, they were collecting two thousand and five hundred taka. Father said, "My dear behaved girl! Take this money." Behave girl said, "Only two thousand and five hundred taka? Who will collect more five hundred taka? I want more five hundred taka I told you." Father said, "I am so sorry dear! You must make this five hundred taka of your own. I don't have enough for you. I have given you all the money I have." Mother become angry and thinking, "Oh! I am feeling very much angry. I don't like helping. Now I will not hide from them. I will get out of here and I will stand in front of them. Let me told that, I will not take helping money. Then mother come out from there and go in front of them." Behave girl said, "Mother! You are here? Look, I am bringing your money." Mother tell with a angry voice, "Stupid girl you are! Naughty girl you are! and fooling girl you are! I am not take helping money. If anybody help you, I will not take this. You have to collect this money by yourself, not by your father. Hey behave girl's father! Don't help her. Otherwise I will not take the money." Father said, "Yes! I want that, you will not take money. This is your loss. Your money is lost. I will not give your money. We don't have to work, if you don't need money." Mother said, "Foolish father and foolish behave girl! Those are foolish and naughty." Mother began to cry. Behave girl now behave very affectiony.  Behave girl said, "Don't cry, mom! Don't cry, please! I will give your money." Then mother tell with a loud voice, "But when? But how? I told you, not your father. You will give my money. And father, you don't help. I will be very much angry. Then I will do serious things. Really, really, very much really! I am telling you by promising." Then father said, "Our child is very much young. How will she do this?" Mother said, "Young or old? She read in class two." Father said, "Only two." Behave girl said, "Father! Listen to me. Don't help me now. Mother! I will bring your money, mom! Please don't be angry. You go to your home. Have you make the launch? Today we have your favourite pumpkin. Go and cook it quickly. Go to your home, go to your home, please. Faster, faster, go, go, go with a rickshaw. Mother has pleased to her speech. Mother quickly take a rickshaw and go to home. Because, she like pumpkin like all the best of the world. Behave girl said, "Oh! I have relived. Father! Now you can help me, but when I need you very much." Father said, "But it is very hard for you. I want to help you." Behave girl said, "Father! My mother is angry. In any way, I have to done this without your help." Then father said, "I will only give you the idea. I shall not work with you. Let me take you in a train station. You will carry the bag of the customers. They will give you taka. Then behave girl said, "Not a bad idea. Take me to the train station. If we can not earn enough money, we will also go to the bus station." Then they go to a train station. Train has come. A customer has five bags. Behave girl said, "Aunty! I will carry minimum five bags for you." The lady said, "Ha ha ha! You are girl, isn't it? Girls did not do this type of works." Then father and behave girl found a little boy who are very much poor. Then they said, "What is your name, dear?" He said, "Uncle, I am too poor. I am shortage of food. Please give me some foods. I will do that thing what you told. My name is Apu." "Ok, dear Apu. I will give you two corns. You can carry the bags of the train station customers. Bring the taka to us and we will give you food. Did you need something without corns?" The little boy said, "This is enough. But if you want, you can give me tomatoes or other fruits." The little boy go to train station and carry 12 customers bag. He earn 1,000/- taka. He got three tomatoes and two corn. Now they need to earn more 2,000/- taka. Now let us see what they do. Behave girl have an idea. Behave girl said, "Father! I have got a great idea. I have many chocolates in my pocket. It means I have 66 chocolate's box. If I sell these box, I can earn some money. But if I make a cake with it, I can earn much money. This is a real thing. Father, you have 15 taka. You can buy strawberry cream." Then they do that. Now they have make a two floors cake with the strawberry cream. If they sell the box, it will be 300/- taka. But if they sell cake, it can be 1000/- taka also. They sell the cake. They got 1,000/- taka. Now they need to earn more 1000/- taka. How can they earn more 1000/- taka? They began to think, Behave girl got an idea. She said, "I can earn 1000/- taka by selling my golden ring." Her father said, "Very good, my dear behave girl! I don't know, you have a golden ring." Then they sell the golden ring to a rich people. The rich people give them 2000/- taka, because the rich people like the ring very much and be happy. They were so happy. Father remember mother's talk. Father go away. Then behave girl alone go to home. Then mother saw the money. Then said, "Thanks for bringing my money." Then behave girl did not give the extra 1000/- money. She gave taka what her mother expend for umbrella. Mother becomes happy. And mother angry was gone. Behave girl buy a beautiful ring for mother. Then the family was so happy and the story has finished.

Monday, March 6, 2017

কাঠুরে ও ভুত

এক গ্রামে বাস করত এক কাঠুরে। সে একদিন গাছ কাটছিল। হঠাৎ সে দেখল একটি সুন্দর ডাল। সেই ডালটি খুবই গরম। হাত ছোয়ানো যাচ্ছে না। সে কুঠারটি দিয়ে অনেক কষ্টে ডালের কোণায় কোপ দিল। ডালটি ভেঙ্গে পড়ল। ডালটি দুই টুকরো হয়ে গেল। তারপর কাঠুরে গাছ থেকে নেমে এল। সে ঐ ডালটি ছুঁতে গেল। সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে একটি আলো বের হয়ে এল। হঠাৎ সেই আলোটি একটি ভুতে পরিণত হলো। কাঠুরে ভয়ে হাত কাঁপতে কাঁপতে বলল, "আমাকে মারবেন না, ক্ষমা করে দিন। আমি এক্ষুনি চলে যাচ্ছি।" ভুত বলল, "না না, আমি তোমায় মারব কেন? তোমায় পুরস্কৃত করার জন্য আমি বেরিয়ে এলাম, আর তুমি বলছ আমি মারব। আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ।" মানুষটি বলল, "কেন, আমি তোমায় কি করেছি? আমি বরং তোমার বাস করার মত সুন্দর ডালটি ভেঙ্গে ফেলেছি। একটি দোষ করেছি। আর তুমি বলছ পুরস্কৃত করবে? নাকি রাগের মাথায় ব্যাঙ্গ করছ?" "না, না। ব্যাঙ্গ করতে যাব কেন? তুমি যে আমায় মুক্ত করেছ। ভুতের রাজাকে আমি প্রত্যেকদিন মাছ এনে দিতাম। সে প্রত্যেকদিন ঐ মাছগুলোকে দাসী বানাতো আর তার রূপচর্চার জন্য তাদের দিয়ে কাজ করাতো। আর কাজে ভুল হলে তাদের খেয়ে ফেলত। আর বা- বা- কী মজা, এমন করত। রাজাটি ছিল রূপের কাতর।" ভুতেরা যা খায় তা আমাদের কাছে ঘৃণা লাগে। ভুতেরা কি খায় জান? আরেকটু পড়ে দেখ। ভুত বলল, "কেউ যদি বড় কোন ভুল করে, তাহলে তার রক্ত দিয়ে ভুতেরা স্নান করে। তারপর সেই রক্ত দিয়ে ফুলের পাপড়ি ভিজিয়ে তা গায়ে ছিটায়, আরো কত কিছুই না করে।" ভুতেদের সব কিছুই আমাদের ঘৃণা লাগে। তারপর খায় কি জান? খায় তো কী সব কাঁচা মাংস গিলে গিলে খায়, চাবাতেও হয় না। ভূতেরা তো দুই হাত নাড়ায়, যাদু-মন্ত্র পড়ে, আর দাসীরা সঙ্গে সঙ্গে রোস্ট হয়ে যায়। এখন এই ঘৃণাযুক্ত কথা বাদ দাও। এবার আসল গল্পটির কথা শোন। কাঠুরেটি বলল, "আচ্ছা ঠিক আছে। কি দেবে বল?" "যা চাও তাই দেব।" "আমি শুধু সুখে থাকতে চাই। আমি কুটিরে কাঠের ব্যবসা করতে চাই না। বড় কোন ব্যবসা করে সুখী হতে চাই।" তখন ভুতটি বলল, "এ কি আবার অসম্ভব নাকি? এ তো খুবই সহজ কাজ। কাল তোমার বউকে নিয়ে এসো। আমি এবার গাছের কোটরের ভিতর লুকিয়ে থাকি। আমায় দেখতে পেলে লোকেরা কাঁচা কঞ্চি দিয়ে আমাকে পিটাবে।" তারপর কাঠুরে বাড়ি ফিরল। রাতে সে বউকে সব বলল। বউ বলল, "কী সব আজেবাজে কথা বলছ! ভুত, আগুনের মত গরম ডাল, ভুতের রাজারা মাছদেরকে দাসী বানিয়ে রাখে, আবার কোন্‌ ভূত নাকি তোমাকে পুরস্কৃত করবে, ভুতেরা কিসব খায়! কী সব আজেবাজে কথা বল না তুমি! কাল আমি প্রমাণ করেই দেব, তুমি যা দেখেছ সব মিথ্যা। কাল আমি সকালে তোমার সঙ্গে যেতে রাজি।" কাঠুরে বলল, "ভয় পাবে নাতো?" বউ বলল, "কিছু থাকলে না ভয় পাব। তুমি যে কী বল না, তুমি একটু বেশিই বল। প্রমাণ না করলে আমার নামটি বদলে দিও।" তখন কাঠুরে বলল, "ঠিক আছে, নামটি পাল্টে দেব। তোমার নামটি করে দেব ভুতুরাইল্লা" তখন বউ বলল, "আজেবাজে কথা না বলে ঘুমিয়ে পড়।" সকাল হলো। সকাল হয়ে বউকে নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেল কাঠুরে বনের দিকে। ভাঙ্গা ডালটির কাছে গিয়ে ডাকতে লাগল, "ভুত বন্ধু, ভুত বন্ধু! একবারটি দেখা দাও তো।" ভুত এমনভাবে কথা বলল, যে সেটা শুধু কাঠুরের বউ ও কাঠুরেই শুনতে পাবে। সে বলল, "আগে আশেপাশের সব মানুষ তাড়িয়ে নাও, তারপর আমি বের হব।" সেখানে ৫ জন মানুষ ছিল। দু'জন গল্প করছিল, দু'জন গাছে পানি দিচ্ছিল, আর একজন বই পড়ছিল। তারা (কাঠুরে ও তার বউ) কৌশল ভাবতে লাগল। যে পড়ছে তাকে গিয়ে বলল, "ভাই! তুমি যে কলম আননি দেখছি।" "কলম না আনলেও চলবে, পড়ছি তো, লিখছি তো না। এ বইতে কোন অনুশীলনী নেই।" কাঠুরে মনে মনে ভুতকে বলল বইতে একটি অনুশীলনী বানিয়ে দিতে। বই পড়ার লোকটি বলছিল, "টিচার বলেছে, সারা বইতে যদি অনুশীলনী থেকে থাকে, তাহলে তা পূরণ করবে। আর যা যা আছে, তা পড়ে শেষ করবে। তারপর বই জমা দিতে হবে। ক্লাস eleven-এ পড়ি তো।" তখন ভুত বন্ধু সাহায্য করল। সে একটি অনুশীলনী বানিয়ে দিল। তার বাড়িতে একটি কলম ছিল, সেটি নষ্ট করে দিল। কালই বই জমা নেবে। এবার কাঠুরে বলল, "এই দেখ বের করে দিচ্ছি অনুশীলনী। এই যে, তুমি এগুলো পূরণ না করলে তোমার টিচার যে তোমাকে কি করবে, আমি জানিই না। যাও, বাসায় গিয়ে কলম নিয়ে এসো, না থাকলে কিনে নিয়ে এসো।"- এই বলে তাকে কাজে লাগিয়ে দিল। গল্প করছিল যে দু'জন, তাদের কাছে গেল। তারা আলোচনা করছিল, একটি পার্টি করবে। তারা বলছিল যে, পার্টিটা এই পুকুরের ধারে করবে। পুকুরটা ছিল সেই গাছের পাশেই। তারা বলছিল যে, বাড়িতে তো বেলুন আছে, নিয়ে আসি। তারপর ভুতকে ইশারায় কাঠুরে বলল, "বেলুনগুলি ফুটিয়ে দাও।" ভুত গাছের কোটরের মধ্য থেকে সব বুঝল। সে বেলুনগুলি ফুটানোর জন্য হালকা-পাতলা এমন অদৃশ্য সুই দিল, যাতে মানুষের কোন ক্ষতি হয় না। তারপর বেলুন ক'টা ফুটে গেল। বেলুনগুলো ছিল অসংখ্য। তখন কাঠুরেটি বলল, "ও ভাই! তোমার বাড়ি দূরের ঐ হলুদটি নয়, তিনতলা নয়, ডানপাশের বাড়িটি তো। ওখানে দেখছি, কিছু বেলুন ফুটে আছে। ঐগুলি তুমি ফেলে দিয়ে অন্যগুলি কিনে যা কাজে লাগে সে কাজটি কর। খেয়াল করিয়ে দিলাম বলে ধন্যবাদ বলার প্রয়োজন নেই; যাও ভাই, যাও।" তাদেরকেও কাজে লাগিয়ে দিল। এবার যে দু'জন গাছে পানি দিচ্ছিল, তাদের কাছে গেল। বউটি বলল, "ভাই! আপনার পানির পটে কি পুরো ভর্তি আছে?" তারপর ভুতকে কাঠুরে ইশারায় বলল কলের পানি, পুকুরের পানি ও টবের পানি শুষে নিতে। ভুত তাই করল অদৃশ্যভাবে। তখন কাঠুরে লোক দুটোকে বলল, "ভাই, তোমরা যে গাছে পানি দিচ্ছ, পানি শেষ হয়ে গেলে কি করবে?" লোক দুটোর একজন বলল, "কেন গো, ভাই? আমাদের বাড়িতে তো কল আছে।" তখন ঐ বউ বলল, "ভাই, আপনাদের তো কল আছে। এই সময়টুক যে আজকে পানি বন্ধ করে দিয়েছে, জানেন? আপনারা যে এই সময় ঘুমিয়ে ছিলেন গতকাল, তাই যখন মাইকে বলেছিল শুনতে পাননি। আর এমন গরম পড়েছে, পুকুরের পানিও শুকিয়ে গেছে। পানি কোত্থেকে পাবে, গাছগুলো যদি মরে যায়? ভাই, একটি কাজ করুন। যে রাস্তায় আধ ঘন্টা লাগে যেতে দূরে একটি নদী আছে, অত পানি শুকিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ওখানে গিয়ে বরঞ্চ পানি নিয়ে আসুন।" এ দু'জনকেও কাজে লাগিয়ে দিল। এবার আর কিচ্ছু নয়। বউকে দেখা করাবে বলে কাঠুরে ভুতকে ডাকতে শুরু করল। তারপর ভুত এসে হাজির হযে বলল, "বউ মা! তুমি আমার বউমা! জান তো, তোমার জামাই আমার কত্ত বড় একটা উপকার করেছে? তুমি বোধহয় সব শুনেছ, এটুকু বলে দিচ্ছি, আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না, কারণ তোমার জামাই আমাকে মুক্ত করে দিয়েছে এই বন্দীদশা থেকে। এবার বরঞ্চ একটি কাজ করা যাক। তোমাদের কুটির আমার খুব পছন্দ হয়েছে। নতুন জায়গায় থাকতে খুব ভালোই লাগে। আমি তোমাদের কুটিরে থাকি বরঞ্চ। আমি তোমাদের একটি বড় বিল্ডিং বানিয়ে দিচ্ছি, তোমরা সেখানে বাস কর। কাঠের ব্যবসা ছেড়ে দাও দেখি। তাড়াতাড়ি কথা বলা শেষ কর। লোকেরা কিন্তু এসে পড়বে, যাদেরকে তোমরা সরিয়ে দিয়েছ। এবার শোন দেখি। প্রত্যেক রাতে যখন গভীর হবে, তখন তোমরা গাছের কোটরের সামনে দাড়িয়ে এসে বলবে, 'ভুত ভাই, ভুত ভাই। এসো তুমি ভাই ভাই। বন্ধু ডাকছে তোমায় রে। ডাকে এবার সাড়া দে।'- এই মন্ত্রটি পড়বে। ঠিক আছে? এই মন্ত্রটি পড়লে আমার দেখা পাবে।" তাদের বুদ্ধির জোরে তারা সফল হয়েছে। তারপর তারা সুখে থাকল।
এরপর শোন। সেই ভুতের রাজার গল্প। সেই ভুতের রাজা দাসী বানাতো মাছ থেকে। ভুত শুধু একটা জিনিসই করতে পারে না। পারে না ওষুধ বানাতে, শুধু বৈদ্য ভুত ছাড়া। 

Sunday, October 2, 2016

The Golden Fish

There is a golden fish in glass pot. Rita keep it in her room table. But one day when Rita was in school, the golden fish jumped and trying to come out. The golden fish jumped high and then come out. The golden fish run and gone into the swimming pool. Everyone saw that and then take it. When Rita come, she saw there are no golden fish. Rita search in her dress. No. Rita search in the fish bowl. But not found in any place. Who take the golden fish, he was Rita's friend Geeta. One day she go to Geeta's home. She eat so many things. They talk about their house. But one time Rita saw the golden fish. Rita said, "Geeta! Where have you find that golden fish?" Geeta said, "Oh! That is the big story. I go to the swimming pool for swimming. But I was swimming, a golden fish come here. Then I take this golden fish. This golden fish can understand everything and talk with me and everyone. Then I start to make her my pet. I give food, water and I love it." Rita surprised and said, "No, that is my golden fish. My golden fish can talk. I lost my golden fish in 9/10/16. That was sunday. Your swimming class is also in sunday. That is my golden fish. Give that back to me." Geeta was very good boy. He give it back to Rita and said, "I take it. I thought I will show it to every home and give it back to the original proprietor. But now we have come and take this. It was a good thing." Then Rita said, "You are the real friend."