Thursday, September 8, 2016

আপদা কেরানী

এক ছিল এক প্রাইমারি স্কুল। সেই স্কুলে নিয়োগ পরীক্ষা হলো। সেই পরীক্ষায় প্রধান শিক্ষকের পরিচিত এক লোক ছিল। সে পরীক্ষায় ফেল করল। আর আরেকজন এক মিনিটে পরীক্ষা দেয়া শেষ করে উঠে গেল। পাশ তো করলই, কিন্তু যে ভাল করেছে তাকেই নেয়া হলো না। প্রধান শিক্ষক তার পরিচিত লোককেই নিল। প্রথম দিন এক টিচার এসে তাকে বলল, "আমার এই নোটিশটা একটু টাইপ করে দেবেন?"- বলে কাগজটা দিল, আর চলে গেল। এবার সে কী করবে? কী-বোর্ডে ছিল না বাংলা অক্ষর। সে না দেখে কিছুতেই টাইপ করতে পারত না। তারপর সে নোটিশ কথাটি লেখবে। 'ন' খুঁজতে শুরু করল। বলল, দেখি তো, Q-তে কি হয়? দিয়ে দেখল, 'ঙ'। এমন একটা একটা করে দেখতে দেখতে তিন ঘন্টা লাগিয়ে ফেলল। শেষে টাইপ করতে পারল পাঁচ ঘন্টায়। এখন প্রিন্ট করবে কিভাবে, তাই জানে না। Shift+P দিল, Alt+P, Enter+P, Caps Lock+P ও Tab+P দিল। সে শুধু জানে, P দিলে প্রিন্ট হয়। কিন্তু P-এর আগে কোন্‌ কী-বোর্ডটা টিপ দেবে, তাই জানে না। শেষে Ctrl+P দিল। এবার দেখে, প্রিন্টারে আবার সমস্যা। আরেকজনকে যে বলবে, তাতেও লজ্জা করে। প্রধান শিক্ষক এসে বলল, "কি হয়েছে? প্রিন্টারে সমস্যা? এই প্রিন্টারটা একটু এমনই। দাড়াও, আমি ওকে বলছি।"- বলে পাশের জনকে বলল, "এই, তুমি ওঠ। ওকে প্রিন্ট করতে দাও।" তখন প্রধান শিক্ষকের পরিচিত লোকটি বলল, "আবার টাইপ করব?" তখন প্রধান শিক্ষক বলল, "কেন? পেন-ড্রাইভ নেই? পেন ড্রাইভ আছে তো! ঐ যে পেন ড্রাইভ।" তখন পরিচিত লোকটি বলল, "পেন ড্রাইভে কী করব? পেন ড্রাইভ ঢুকায় কিভাবে?" তখন প্রধান শিক্ষক বলল, "আরে! কানা নাকি, দেখনি? ঐ তো পেন ড্রাইভ ঢুকানোর জায়গা।" তারপর পরিচিত লোকটি বলল, "পেন ড্রাইভ ঢুকালে কী হবে?" তখন প্রধান শিক্ষক বলল, "উহ! তুমি যা সমস্যা চেয়েছে, তার সমাধান হবে।" "ওহ! তাহলে ঐ কম্পিউটারেও এই লেখাটা ম্যাজিক করে হয়ে যাবে? নাকি আমারই আবার লিখতে হবে?" প্রধান শিক্ষক রাগের মাথায় চিৎকার দিয়ে বলল, "কপি হবে, আর কী হবে, এটাও জানিস না?" "তার মানে ফুলকপি হবে? ফুলকপি প্রিন্ট করে খাব? কি মজা, ফুলকপি অনেক মজা লাগে! কিন্তু তাহলে আমার লেখাটা আসবে কি করে?" প্রধান শিক্ষক মহা মহা মহা জ্বালায় পড়ল। মনে মনে রাগ হয়ে বলল, "এই চেংড়িরে নিয়ে আর পারলাম না! অসহ্য! একেবারে গাধা! আমি ভেবেছিলাম, পরীক্ষায় যা আসছে, সেগুলো কঠিন, এগুলো নিশ্চয়ই অনেক সহজ লাগবে। তাই আমি নিয়োগ দিলাম। আর এখন! আমি যে কী করি! এই মেয়েটা একেবারে বিশ্রী। আমার মান-সম্মান সব জলে ডুবিয়ে দিল। সবাই এখন বলবে, প্রধান শিক্ষকের লোক এমন! উহ!" এবার সে মুখে বলল, "ফুলকপি না হে, কপি। ফুল না। কপি মানে হল একটা জিনিস আরেক জায়গায়ও চলে আসা। তোমায় বুঝাতে এত সময় লাগে!" ঐখানে আবার একটা মিটিং ছিল। সবাই তাড়াতাড়ি করে এসে পড়ল। এসে দেখল, প্রধান শিক্ষক একজনের সাথে কথা বলছে, সে কিছুই পারছে না। সবাই বলতে লাগল, "প্রধান শিক্ষক স্যার! আপনার পরিচিত লোক কোথায়? দেখি তো তাকে। আমি নিশ্চিত, সে খুবই ভাল কাজ পারে। তাই আপনি তাকে নিয়োগ দিয়েছেন।দেখি তো! আর যে বোকা বোকা কাজ করছে, তাকে নিশ্চয়ই সে ভাল করে দিতে পারবে। তাকে নিশ্চয়ই শিখাবে।" প্রধান শিক্ষক মনে মনে বলল, "এ কী জ্বালায় পড়লাম আমি! আমারই কেন সব জ্বালা? তার মেয়ে কত সুন্দর কম্পিউটার চালায়, ভিডিও দেখে, তাই আমি ভাবলাম, ও মায়ের কাছ থেকেই শিখেছে, ওর মা নিশ্চয়ই খুব ভাল পারে। এখন দেখি, একেবারেই কিছু পারে না।" এরপর প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রতিদিন একটা না একটা জিনিস চাওয়া শুরু করল। প্রথম দিন বলল, "আমার কী-বোর্ডে একটু বাংলা দরকার।" পরেরদিন বলল, "ফুলকপির কথা বলেছিলেন না? সেটা কিনে দিয়েন।" পরের দিন বলল, "আমাকে এত বেশি কাজ দিয়েন না।" শেষে দেখা গেল, একদিন ক্লাস টু-তে বাংলা, ইংরেজি ও অংক তিনজন টিচারই ছুটিতে গেল। সেই তিনটা ক্লাস ওনাকে করতে দেয়া হল। বাংলায় বাক্য রচনা- শিখিয়ে দিল ক, খ। অংকে ৮ এর ঘরের নামতা- শিখিয়ে দিল ১, ২। ইংরেজিতে প্যারাগ্রাফ- শিখিয়ে দিল A, B। শুধু অক্ষর শিখাতে লাগল। সবাই এক মিনিটে লেখা শেষ করে খেলতে লাগল আপন মনে। সে আবার খাতা চেক করেই বলল, "যাদের যাদের লেখা শেষ, ক্লাসে দৌড়াও, ইচ্ছামত ক্লাস নোংরা কর, ইচ্ছামত যা ইচ্ছা তাই কর, ক্লাস ধুলায় ভর্তি কর খেলে খেলে- এবার আমি যাই।" পরে ড্রইং ক্লাসের মিস এসে বলল, "কী অবস্থা তোমাদের? তোমরা সব নোংরা করেছ। কেন করেছ?" বাচ্চারা সবাই টিচারকে বলল, "বাংলা, ইংরেজি, অংক আজকে যে মিসটা নিল না, সেই মিসটা আমাদেরকে বলছে খেলতে, ক্লাস নোংরা করতে, ধুলা উড়াতে, আর ইচ্ছেমত ক্লাসে দৌড়াতে। আমরা খেলেছি। টিচার বললে আমরা তো একটা চান্স পাই, আর সেই চান্সটা আমরা হাতছাড়া করব কেন? টিচার বলেছে, তাহলে তো করতেই হবে। আর এটা তো অনেক মজা। নিচের ক্যান্টিন থেকে ক্রিমি কেক নিয়ে আসব, খাব, প্যাকেটের খোসাগুলো ক্লাসে ফেলে দিব, দৌড়াব।" টিচার বলল, "কী! তোমরা ক্লাস টু-য়ের। এখন আমি তোমাদেরকে ড্রইং করাব, আর ক্লাসে ঢুকতেই আমার নাক ধুলায় ভরে গেল। আমি এখনই বলব সেই টিচারকে? সেই টিচারটা কোন টিচার? তার নাম কি?" সবাই বলল, "নাম তো জানি না। তবে সেই মিসটাকে জীবনেও দেখিনি আমরা। অনেক অফিসে গিয়েছি। সব টিচারকে দেখেছি। এই টিচারটাকে কোনদিনও দেখিনি। এই টিচারটা মনে হয় নতুন। আমরা সব ক্লাস দেখেছি সবসময়। সব টিচার্স রুমও দেখেছি। অফিসেও আমরা গিয়েছি। এই মিসটাকে আগে কখনো দেখিনি।" লিনা দাড়িয়ে বলল, "মিস! কালকে আমি ছুটির সময় অফিসে গিয়েছিলাম। তখন দেখেছি ঐ মিসটা শুধু একটা অক্ষর লিখছে আর মুছছে। তখন আমি ঐ মিসটাকে দেখেছিলাম। তার মানে, একটা নিয়োগ ছিল, সেই নিয়োগেই মনে হয় এসেছে। আমার মা-বাবাকে পেপার পড়তে দেখেছিলাম। হঠাৎ করে সেই খবরটি আমরা দেখে  ফেলি। সেই খবরে একটা গল্প ছিল, সেই গল্পটা পড়তে পড়তে আমি এটা দেখে ফেলেছি।" টিচার বলল, "অ্যাঁ! সেদিন তো প্রধান শিক্ষক স্যারের একটা পরিচিত টিচার নিয়োগে এসেছিল। তাড়াতাড়ি দেখতে হচ্ছে তো!" এই বলে টিচার তাড়াতাড়ি অফিসে গেল। অফিসে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা্, আপনি কি আজকে ক্লাস টু-য়ে ক্লাস নিয়েছিলেন?" লোকটি বলল, "হ্যাঁ, নিয়েছিলাম। ওরা খেলতে মজা পায়, তাই আমি ওদেরকে খেলতে বলেছি, ধুলা উড়িয়ে মজা করতে বলেছি, ক্লাস নোংরা করে সেই নোংরা ক্লাসে নাচতে বলেছি। তারা মজা করেছে।" তখন ড্রইং টিচার বলল, "এটা আপনি কী করলেন? ক্লাসে ঢুকতে না ঢুকতেই নাক বন্ধ হয়ে গেছে। এত ধুলা উড়াতে বলেছেন কেন? বাচ্চাদের যদি কোন ক্ষতি হয়ে যেত?"
পরের দিন প্রধান শিক্ষক মাথায় হাত দিয়ে বলতে লাগল, "এ আমি কাকে আনলাম! এর চেয়ে ঐ ভাল যে পারে ঐ লোকটিকে নিলেই পারতাম। কেন যে একে নিলাম?"- বলে আফসোস করতে লাগল।

শিক্ষা: পরিচয় দেখো না, গুণ দেখ।

Wednesday, August 24, 2016

রাগী মিয়া

হ্যালো বন্ধুরা! তোমরা নিশ্চয়ই গরীব লোকের কত গল্প শুনেছ। কিন্তু সত গরীব লোকদের। তোমরা কি কখনো রাগী গরীবদের গল্প শুনেছ? যদি শুনতে চাও, তাহলে এই গল্পটি পড়। রাগী গরীব হলে কেমন হয়। তবে এখন শোন গল্পটি।

একদিন এক জায়গায় ছিল এক গরীব লোক। কিন্তু খুব রাগী। অনেক অনেক গরীব ছিল। একটা টাকা-পয়সাও নেই। কিন্তু খুবই রাগী ছিল। অনেক অন্য রকম। জোর করে কেউ টাকা-পয়সা চাইলে কেউ কি দেয়? তাকে ভাল করা দরকার। তার নাম ছিল রাগী মিয়া। সবাই তাকে রাগী মিয়া বলে ডাকত। তাই সে আরো রেগে যেত। গিয়ে গিয়ে মানুষের ঘরের ভিতর ঢুকে জোর করে পয়সা চাইত। বলত, "এই! দেখেন না, আমি গরীব মানুষ? গরীব মানুষকে দেখলে কিছু দিবেন না? টাকা-পয়সা দেন এক্ষণি। যেটুক দিতে পারেন ততটুকু দেন। টাকা-পয়সা দেন আমারে! যে কোন কিছু দেন। কিন্তু কিছু না নিয়ে আমি এইখান থেকে যামু না। কইয়া দিলাম, তাড়াতাড়ি দেন? কতবার কওয়া লাগে? বোঝেন না, কত কষ্ট কইরা গ্রাম থিকা ঢাকা আসছি টাকা ধার নিয়া। গ্রামে গিয়া আবার টাকা ফেরত দেওয়া লাগবে আনে। নাইলে আমায় বড়লোকের মেয়ে দেইখ্যা বিয়া দেন। নাইলে কিন্তু চোরের মতন সব লইয়া যামু।" যার কাছে চাইছে, সে বলল, "আপনি কেমন গরীব লোক? এইভাবে কেন কথা বলছেন? ও রাগী মিয়া!" রাগী মিয়া শুনে আবার রেগে গেল। বলল, "রাগী মিয়া কইয়া ডাকলে হাজার হাজার পয়সা লইয়া যামু। এর চেয়ে রাগী মিয়া না ডাইক্যা চল্লিশ-পঞ্চাশ টাকা দেন। নাইলে তিনটা জামা আর তিনটা লুঙ্গি কিন্যা দেন।" তারপর লোকটি (গৃহস্থ) গেল রেগে। ভড়াস করে দরজা লাগিয়ে দিল। এই তো শুরু হলো টাকাটাকি। বলল, "গরীব মানুষরে তাড়াইয়া দেন কেন? তারপর কিছু না কইয়া ভড়াস কইরা দরজা বন্ধ কইরা দেন? এই সময় আর ভাল লাগতাছে না। তাড়াতাড়ি পয়সা দেন। কিছু না দিলে কিন্তু ডাকাতের দলে চইলা গিয়ে ডাকাত হইয়া যামু। তাড়াতাড়ি কিছু দেন না!" বাড়ির লোক রেগে একেবারে আগুন হয়ে গেল। জোরে চিতকার দিয়ে বলল, "চলে যান এখান থেকে। নইলে পুলিশ ডাকব কিন্তু। তাড়াতাড়ি যান। এইভাবে কথা বললে কেউ কাউরে দেয়?"- এই বলে জানালা বন্ধ করে দিল। শুধু বন্ধই করে দিল না, ভিতর থেকে তালা মেরে দিল। রাগী মিয়া ভাবল, "এই লোকটার কাছে কিছু চাইয়া লাভ হইব না। যাইয়া দেহি অন্য কেউ দেয় নাহি। দেবেই দেবে। জোর কইরা চাইলেই দেবে।" রাগী মিয়া চলে গেল সেখান থেকে। আর সেই বাড়ির লোকটি মনে মনে বলল, "যাক, বাঁচা গেল। চলে গেছে। এতক্ষণে থামাতে পারলাম।"- এই ভেবে খুব খুশী হলো। রাগী মিয়া এখন যে কারো বাড়িতে কিছু চাইছে না। বড়লোক বাড়ির দিকে চাইছে, এবং নিজে সুন্দর করে সাজার চেষ্টা করছে। যাতে বড়লোক বাড়ির কোন মেয়েলোক তাকে দেখে বিয়ে করে। সে দেখল, কী যে করি! বড়লোক বাড়ি নিশ্চয়ই একটা আছে। কিন্তু কই যে যাই! কেউ তো কইবেও না। মাইনষেরে দেখলেই টাকার লোভে চাইতে শুরু করি। তহন বিয়ার কথা আবার মনে থাকবো নানে। দেখি, কত দূর যাইয়া পারি। সে আল্লাহর কাছে সবসময় ভালো থাকত। আল্লাহর সঙ্গে ভালভাবে কথা বলত। কিন্তু আল্লাহর অন্যান্য বান্দাদের কথা ভাবত না। তাই সে আল্লাহর কাছে বলল, "আল্লাহ! বলে দাও না, কোথায় একটা বড়লোক বাড়ি পাব?" তখন আল্লাহ তার মনের মধ্যে গিয়ে বললেন, "আমি কেন বলে দেব? তুমি আমার বান্দাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার কর! তোমায় আমি বলে দেব না। কিচ্ছু বলে দেব না। তুমি এখন কাজ করতে পার। সেই কাজও করছ না। শুধু আমার বান্দাদেরকে জ্বালাতন করছ। তুমি এখন নিজে কাজ খুঁজবে, নয়তো যা খুঁজছ তাই খোঁজ, কিন্তু আমরা তোমাকে সাহায্য করব না- এটাই তোমার শাস্তি।" তখন রাগী মিয়া মনে মনে বলল, "আল্লাহ, একটু বল না! আমি আর তোমার বান্দাদেরকে জ্বালাতন করব না। কিন্তু একটা বড়লোক বাড়ি দেইখ্যা আমারে একটু চিনাইয়া দাও না।" তখন আল্লাহ বললেন, "না! তুমি সত্যি করে বলছ? তোমার কথা এখন কে শুনবে? তুমি তো বিয়ে করে যার সঙ্গে বিয়ে করবে তাকেও তো নিশ্চয়ই তুমি জ্বালাবে।" তারপর রাগী মিয়া আর আল্লাহর সঙ্গে কথা বলল না। খুঁজতে গেল বউ। কত এক ঘন্টা ধরে হাঁটল। কিচ্ছু পেল না। দুই ঘন্টা ধরে হাঁটল। তাও পেল না। তিন ঘন্টা ধরে হাঁটতে হাঁটতে অবশেষে আধা ধনী লোক পেল। সেই বাড়িতে চলে গেল। কিন্তু সেই বাড়ির মেয়েটি ছিল খুব সত। রাগী মিয়া দেখল, এর সঙ্গে একবার ভাল কথা বলেই দেখি, কী হয়। ভুলানো না গেলে জোর করব। "বাড়িতে কেউ আছেন নি? একটু খোলেন! আমি গরীব মানুষ। একটু খোলেন!" দরজা খুলে দিল সেই মেয়েটি। সেই মেয়েটির নাম ছিল অমিতা। দরজা খুলে দিল। বলল, "কে আপনি? এভাবে কেন এসেছেন? আপনি কে? আপনার পরিচয় দিন।" রাগী মিয়ার রাগী মিয়া নাম পছন্দ ছিল না। তাই সে নিজের আরেকটা নাম বানালো। রাগী মিয়া বলল, "আমার নাম গনী মিয়া। আমি অনেক দূর থেকে এসেছি। আমি খুব গরীব।" তখন অমিতা বলল, "আপনার নাম গনী মিয়া। কিন্তু আপনি গরীব কেন?" তখন রাগী মিয়া বলল, "নাম আর আসল জিনিস কি এক হয়? আমি নিজেই আমার নাম রেখেছি। কারণ, আমার মা-বাবা আমাকে 'এই ছেলে' বলে ডাকত।" অমিতা বলল, "আমি আপনাকে আরেকটা নাম দিচ্ছি। আপনার নাম সনি মিয়া। আপনার নামে গনী মিয়া মানায় না। এবার ঘরে আসুন।" তখন সনি মিয়া মনে মনে বলল, "যাক, বাবা! এবার ঘরে ঢুকতে পেরেছি, যাই।" তখন দুইজনই ঘরে গেল। অমিতার মা বলল, "কে তুমি? তুমি কোথায় থাক?" তখন সনি মিয়া বলল, "আমার নাম ছিল গনী মিয়া। কিন্তু আপনার মেয়ে আমার নাম দিয়েছে সনি মিয়া। গনি মিয়া মানায় না তা দেখে। আমার নাম এখন সনি মিয়া। আমি অনেক দূরে থাকতাম। অনেকক্ষণ ধরে এখানে এসেছি।" অমিতার বাবা বলল, "তোমার নাম সনি মিয়া। তোমার নতুন নাম? অমিতা, তুমি ওর নাম রেখেছ কেন? গনী মিয়া নাম তো সুন্দর লাগছিল।" অমিতা বলল, "সনি মিয়াই তো ভাল।" তখন সনি মিয়া বলল, "আমি যে গরীব, তাই আমাকে গনী মিয়া নাম রাখেনি। সনি মিয়া নাম আমারও পছন্দ।" মা বলল, "সত্যি! নামটা ভাল না লাগলে আমাদের বলো। আমরা আবার পাল্টে দেব।" বাবা বলল, "হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিক। তুমি এত দূর থেকে এসেছ। কিছু খাও। ঘরে রুটি আছে। আমরা ভাত খেয়েছি, ভাত শেষ। রুটি খাবে তুমি? এক্ষুণি এনে দিচ্ছি।"- এই বলে রুটি ও সবজি নিয়ে এল। তখন সনি মিয়া মনে মনে বলল, "এই তো। এমনই তো চাই।" তারপর সে বসে বসে খেল। পানিও দিল। সব খাওয়া-দাওয়া শেষ হল। এবার আস্তে আস্তে এক মাসের মধ্যে বিয়ের আলোচনা শুরু হলো। তখন অমিতা বলল, "অসম্ভব! আপনার কোন বাড়িই নেই। আর বিয়ের পর আপনি আমাকে নিয়ে কই যাবেন? আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারব না।"- এই বলে সে মায়ের কাছে সব ঘটনা খুলে বলল। বলল, "মা! আমি সনি মিয়াকে বিয়ে করতে পারব না। ওর কোন বাড়ি নেই। ও আমাকে নিয়ে কই যাবে? আমি কী করব? ওকে বিয়ে করব না আমি! আমি যে অনেকদিন আগে একটি ছেলেকে দেখেছিলাম। ঐ ছেলেটাকে আমি বিয়ে করব।" তখন মা বলল, "না মা! তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। তুমি বরং সনি মিয়াকে বিয়ে কর। ওকে বিয়ে কর।" বাবা সনি মিয়াকে বলল, " শোন! আমার মেয়েকে নিয়ে তুমি কই যাবে?" তখন সনি মিয়া বলল, " কুটির বানাবো।" "আমার মেয়ে কুটিরে থাকবে না।" "বেশ! নিয়ম পালটাইয়া যাক। বর থাকবে শশুর বাড়ি, বউ থাকবে বাপের বাড়ি। ভালো হলো না?" ''হ্যা! কুটিরে থাকার চেয়ে ভালো" তারপর তাদের বিয়ে হয়ে গেল। বিয়ের আনন্দে সেই লোকটি ভাল হয়ে গেল। এই গল্পটি তোমরা শুনেছ কখনো? গরীব কিন্তু সত এর গল্প হয়তো অনেক অনেক শুনেছ। এমন গল্প তো একটাও শোননি। তাই আমি তোমাদেরকে এই গল্পটি বললাম। 

Monday, August 22, 2016

ঋতুর দেশ

এক ছিল একটি দেশ। সেই দেশের রাজা ছিল বসন্ত। সেই দেশের রানী ছিল বর্ষা। সেই দেশের সেনাপ্রতি ছিল শরত। সেই দেশের মন্ত্রী ছিল হেমন্ত। রাজপুত্র ছিল গ্রীষ্ম। রাজকণ্যা ছিল শীতমণি।রাজ্যের প্রজারা ছিল বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য ইত্যাদি।একদিন ফাল্গুন বলল, রাজপুত্র মশাই! গ্রীষ্ম কাল এসে যাচ্ছে। আপনি কি প্রস্তুত চারিপাশে ছড়িয়ে পড়ার জন্য? আজ আগুন পোহায়ে গা গরম করে নিন। গ্রীস্ম কাল এলে সেই গরম ছড়িয়ে দিবেন। রাজপুত্র বর্ষা রানীকে গিয়ে বলল, "মা আগুনের ব্যাবস্থা কর।" বর্ষা বলল, "কেন? আমি নিজের কাজে ব্যস্থ। এক ঋতু পর বর্ষা আসবে। তখন আমাকে মেঘ হতে হবে। তোর আবার আগুনের জেদ উঠলো কেন?" "মা এক ঋতু পর বর্ষা। কিন্তু আগের ঋতু কি তা তোমার মনে নেই।" "ওহহও......ভুলেই গিয়েছিলাম। নাও  আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছি।" এই বলে আগুন জ্বালিয়ে দিল। গ্রীস্ম ঋতু শেষ হলো। বর্ষা মেঘের রূপ ধরে বৃষ্টি হয়ে নামল। বর্ষা ঋতু গেল। শরত ঋতু আসলো। শরত সেনাপতির দশটি কপি হয়ে গেল। প্রথম জন নবান্ন উতসবের জন্য সবাইকে ডাক দিল।দ্বিতীয় জন রোস্ট হয়ে গেল।তৃতীয় জন পানি হয়ে গেল।চর্তুথ জন বোরহানি হয়ে গেল। পঞ্চম জন পিঠাপুলি পায়েস হয়ে গেল। ষষ্ঠজন পোলাও হয়ে গেল। সপ্তম জন ভাজা মাছ হয়ে গেল। অস্টম জন ডিম হয়ে গেল। নবম জন মশলা হয়ে গেল।দশম জন শিউলি ফুল হয়ে চার পাশে গন্ধ ছড়িয়ে  দিল। ঐ বছরে হেমন্তকালের নবান্ন উতসব শরতকালেই করে ফেলেছিল। উতসবের কথা শুনে লোভ সামলাতে পারেনি কেউ। এবার হেমন্তকাল এসে গেল। মন্ত্রী বাইরে বের হলো। ঘাসের ডগায় শিশির জমিয়ে দিল। মাঠে এক সেকেন্ডের মধ্যে সুন্দর ধানক্ষেত বানিয়ে দিল। সবার ঘরে পায়েস ও পিঠে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে দিল। শেষের দিকে একটু একটু ঠাণ্ডা পরিয়ে দিল। হেমন্তকাল চলে গেল। রাজকন্যা শীতমনি ভাবল, এর পরের ঋতুটা তো আমার ঋতু। মাকে বলতে হবে। এই বলেই মার কাছে চলে গেল। "মা, মা! শোন। এর পরের ঋতুটি না শীত ঋতু। শীত ঋতুর সব দায়িত্ব না আমার। তুমি আমার হাত-পা বরফ দিয়ে ডলে ঠাণ্ডা করে দাও না।" রাণী বর্ষা বলল, "ঠিক আছে। চল, আমি আমার মেঘ থেকে শিলার বরফ নিয়ে আসি।"- এই বলে শিলা নিয়ে আসল। শিলা দিয়েই আজকে রাজকন্যাকে স্নান করালো। শীতঋতু আসার পর রাজকন্যা ম্যাজিক করল। হাজার হাজার সোয়েটার আর উলের সব কাপড়-চোপড় নিয়ে আসল। ঘরে ঘরে সেগুলো পাঠিয়ে দিল। জানান দিল, শীত আসছে। এই দেশের রাজকন্যা আসছে। শীত আসল। সবাই উলের কাপড় পরল। সবার গলায় উলের রুমাল। ঘুমানোর সময় সবাই কাঁথা গায়ে দেয়। শীতে পিঠা-কুলি খাওয়ার ধূম পড়িয়ে দিল। পিঠা বানানোরও দরকার হয়নি। হাজার হাজার পাটিশাপটা, ভাপা পিঠা আরো নানা রকমের পিঠা হাজির হয়ে গেল। সবার ঘরে ৫টি ৫টি করে পিঠা দিয়ে দিল। শীতকালে অনেক ঠাণ্ডা দিয়ে দিল। সারা গাছ শিশিরে ভরে উঠল। শীতকাল গেল। বসন্তকালেই তো আসল সমস্যা। শ্রাবণ বলল, "মহারাজ! আপনার প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ার সময় এসেছে। এই সুন্দর ঋতুটির জন্যই আমরা অপেক্ষা করছিলাম। দয়া করে প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ুন। আমরা গাছে গাছে ফুল, শাখায় শাখায় পাখি, ফুল-ফল ভরা নদী ভরা পানি- এই সুন্দর প্রকৃতি দেখতে চাই। কী সুন্দর আবহাওয়া হবে। এই প্রকৃতিটা আমরা দেখতে চাই, দেখতে চাই, দেখতে চাই।"- বলে মিছিল করা শুরু করল। বসন্ত বলল, "থাম, থাম, থাম। আমি ছড়িয়ে পড়তে পারব না। রাজ্য শাসন করবে কে? রানীর হাতে আমি রাজ্য ছেড়ে দেব না। বর্ষা যদি রাজ্য ভিজিয়ে দেয় আমি না থাকলে।" বর্ষা বলল, "কী হয়েছে, মহারাজ? আমি নাকি রাজ্য ভিজিয়ে দেব। আপনি নিশ্চিন্তে যান। আমি ভিজাব কেন?" রাজামশাই ভাবল, বর্ষা রাজ্য ভিজিয়ে দেবে। তখন রাজা বলল, "তাহলে বর্ষাও আমার সাথে যাবে। কিন্তু বর্ষা, মনে রেখো, তুমি যদি বৃষ্টি বানিয়ে দাও, তাহলে আমি কিন্তু তোমার ঘরের ভেতর মজার গাছপালা ভরে দেব না।" বর্ষা বলল, "ঠিক আছে, আমি যাচ্ছি আপনার সাথে।" সারা প্রকৃতি নতুন রূপে সাজল। শুধু প্রকৃতিই নয়। মানুষও সাজল। এই ভাবে এই বছরটি কেটে গেল। ওই দেশে এই বছরটি অন্য বছরের চেয়ে সবচেয়ে সুন্দর বছর।

Thursday, August 18, 2016

রূপার বায়না

এক ছিল এক কন্যা। সে খুবই ছোট। মনে কর পাঁচ-ছয় বছর হতে পারে। সব মা-বাবারাই পাঁচ-ছয় বছর বয়সী বাচ্চাদের সব কথা শোনে, যা চায় তাই দেয়। এই মেয়েটির নাম রূপা। ভালো নাম হলো রুপোঝিলমিল। তার মা তাকে রূপা বলেই ডাকত। শুধু তার বাবা রূপো বলে ডাকত, তাও পুরো ভালো নাম বলত না। তার মা-বাবারা তার কথা প্রায়ই শোনে। কিন্তু একদিন তার মা-বাবা বিরক্ত হয়ে তার কোন কথা শুনছিল না। এক সপ্তাহ ধরে যা চায় তা-ই দিতে হলো। এইজন্য এক সপ্তাহ পর মা-বাবা ক্লান্ত হয়ে গেল, তাই রাগ হয়ে গেল। রবিবারে মেয়েটি চেয়েছিল, পাঁচটি লজেন্স। সোমবারে চেয়েছিল দুই সেট চুরি। মঙ্গলবারে চেয়েছিল কানের দুল আর লাল গলার মালা। বুধবারে চেয়েছিল সুন্দর পুতুল। বৃহস্পতিবার চেয়েছিল পায়ের নুপুর। শুক্রবার চেয়েছিল মাথার ক্লিপ আর আংটি। শনিবার চেয়েছিল লাল গোলাপী ফুটফুটে সুন্দর ব্যাগ। তাই তার মা-বাবার অনেক টাকা খরচ হয়ে গেল। প্রায় তিন হাজার খরচ হয়েছে। শুধু তাই নয়, শুক্রবার তো ছুটির দিন। তাই সে তার মা-বাবার কাছে মেকআপ বক্স, কাজল, লিপস্টিক, মাথার ব্যান্ড, পায়ের আলতা, হাতে নেলপালিশ- এ ধরনের নানা রকমের সাজার জিনিস চেয়েছিল। আরেকটি ফ্যাশন টুপি। এতকিছু যদি কিনতে হয়, তাহলে দুই হাজার টাকা তো খরচ হবেই, তাই না? এমনকি সবচেয়ে ভালো সোনার চুরি দিয়েছে। পাঁচ-ছয় বছরের মানুষ সোনার চুরি পরে? তারপর মা-বাবা তো রেগে শুয়ে পড়ল। তখন রূপা মাকে বলল, "মা, আজকে আমার একটা ফুল আর প্রজাপতি ডিজাইনের জামা লাগবে। আর আরেকটা গোলাপী ডিজাইনের খাতাও লাগবে।" মা তো আরো রেগে গেল। উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। আর বকাবকি শুরু করল এই বলে, "এমন মেয়ে আমি জীবনেও দেখিনি। তুমি আমার কাছে এত জিনিস চাচ্ছ কেন? তুমি আমার জন্য কিছু কিনেছ যে, আমি তোমার দশ হাজার জিনিস কিনে দেব? আর চাই না আমি তোমার গিফট। এখন তুমি আমার কাছে কিচ্ছু চাইবে না, সরে যাও তাড়াতাড়ি। কত কিছু কিনেছ, টাকার হিসাব তো তুমি একদম বোঝই না। তুমি শুধু জিনিসের দাম বোঝ। শুধু বোঝ, দুই একটা পয়সা দেয়, আর একটা জিনিস নিয়ে নেয়। তাড়াতাড়ি চলে যাও।" তখন রূপা বাবার কাছে গেল। বাবাকে বলল, "বাবা, মাকে গিয়ে একটু মার না। মা আমাকে বকা দিয়েছে। আর আমাকে একটা ফুল আর প্রজাপতি ডিজাইনের জামা কিনে দেবে? মা আমাকে দেয়নি। মা আমাকে গোলাপী ডিজাইনের খাতাও দেয়নি।" বাবা বকল না। কারণ, বাবা একটু আহলাদু। তাই বলল, "আরে রূপো, শোন না, একটু এসব বাদ দাও না, মা। পড়ালেখায় মন দাও। এত জিনিস কিনতে পারব না। আর খাতা তো তুমি ছবি আঁকার জন্য কিনবে, পড়ালেখার জন্য তো না। আর মাকে এত মারা, বকা, এসব একটু বাদ দাও না। আর মা তো ঠিকই বলেছে। তুমি সারা সপ্তাহ ধরে কত কিছু কিনেছ। আজকে তোমার খাতা আর জামাও লাগবে? এত কিছু কি কিনে দেয়া যায়, মা? আমাদের টাকা তো সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। ও রূপোমনি, আজ অন্তত আমাদের একটু শান্তিতে থাকতে দাও না! আর রূপো, তুমি কবে একটু থামবে, বল না। আজ অন্তত একটু থাম। এই একদিন টুকু থাম। আর আমি কালকে রাতে যা বলেছি, তা তোমার মনে আছে?" রূপা বলল, "হ্যাঁ, মনে আছে। তুমি যদি মাকে না বক, আর জামা ও খাতা না কিনে দাও, তাহলে কিন্তু আমি তোমার রাতের কথা একদম শুনব না। তুমি তো বলেছ, যে আজ বিকেলে তোমার অফিসে ডিউটি আছে। বাচ্চাদের ঢুকানো, সিট গোনা, আর বাচ্চাদের সিট চিনিয়ে দেয়া, আর বাচ্চাদেরকে পরীক্ষার খাতা দেয়া। তুমি বলেছ আমাকে সিট গুনতে, আর বাচ্চাদেরকে সিট চিনিয়ে দিতে। আমি ওসব করতে পারব না, যদি তুমি আমাকে ওগুলো কিনে না দাও।" বাবা মহাজ্বালায় পড়ে গেল। বলল, "থাক না, মা। তুমি আজ অন্তত একটু থাম। আমি তো অনেকবার বলেছি এ কথা। আজ একটু সাহায্য কর আমাকে। আমি তোমাকে কত কিছু কিনে দিয়েছি। আর তুমি এটুকু করতে পারবে না?" তখন বাবা জ্বালার চোটে মাকে গিয়ে বলল, "এই, তুমি কি আমার রূপোমনিকে বকেছ?" "হ্যাঁ, বকেছি। তো কী হয়েছে? বকলে কি ও রাগে থড়থড় করে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেবে? কী এমন হবে একটুখানি বকলে?" বাবা বলল, "একটুখানি বকলে কিছু হবে নাকি মানে? তো আমার রূপোমনি যে বলল, "মা আমাকে বেশি বকে, সেই কথা কি তুমি বোঝ না, নাকি?" "হ্যাঁ, বুঝি। অবশ্যই বুঝি। এখন ঝগড়া না করে চলে যাও তো।" "কী, ঝগড়া আমি করেছি? না তুমি করেছ? তুমি রূপোকে বকেছ, তাই তো এ ঝগড়াটা হলো।" "আমি সাধে বকেছি? সারাটা সপ্তাহ একটার পর একটা জিনিস চেয়েই যাচ্ছে, আর আমি ওকে বকব না? আর আজ দেখ, আজও চেয়েছে, জামা চেয়েছে, খাতা চেয়েছে, পরে আবার কত কী চাবে?" বাবা বলল, "তুমি sure যে, পরে ও আবার চাইবে?" "হ্যাঁ, আমি sure, খুব আমি sure, কারণ ও এতদিন একটার পর একটা জিনিস চেয়েছে, আবারও চাইবে, এটাই আমার বিশ্বাস। তোমার রাগ হয় না, বল? আমার মনে হয়, যেন ওকে ছেড়ে চলেই যাই। ওকে তুমি না থামিয়ে আমার বকা থামাতে এসেছ কেন?" "আমি থামাইনি? দশ হাজারবার বলেছি। তোমার মেয়ে এমন কেন, তা তুমিই জান। তুমিই ওকে জন্ম দিয়েছ, আর তুমি ওর কথা বোঝ না?" মা বলল, "আমার মাথাটা গরম করে দিও না। কখন থেকে বলছি চলে যাও। তুমি না ওকে বেশি আদর কর। তাহলে ও যা  চায়, তা কিনে দাও না কেন?" তখন বাবা রাগ হয়ে নিজের মেয়ের উপর একটু মাথা গরম করল। মেয়েকে গিয়ে বলল, "এই মেয়ে! তুই এমন করিস কেন? আজ কিচ্ছু কিনে দিতে পারব না। শুধু তুই আমার স্কুলের কাজটুকু করে দিবি, ব্যাস। শোন, তাড়াতাড়ি ঘুমাও। কাল দুপুর, বিকাল, রাত কিছুতেই নয়; সকালে যেতে হবে আমাদের।" রূপাই তখন রাগ হয়ে গেল। রূপা বলল, "কেন শুনব আমি তোমার কথা? আমি এখন ঘুমাব না। রাতের বেলায় লাইট নিয়ে গিয়ে মাঠে খেলব। আমি তোমার কাজ করে দেব কেন? রাতের বেলা মাঠে খেলতে খুব মজা লাগে। আমি সকালে উঠবও না, রাত্রে তাড়াতাড়ি ঘুমাবও না, আমি তোমার অফিসের কাজও করে দেব না; তোমরা আমাকে কিছু দাও না, তোমরা আমার কথা না শুনলে আমি কেন তোমাদের কথা শুনব, তোমরা আস্তে আস্তে পচা হয়ে যাচ্ছ।" বাবা বলল, "এই মেয়ে! তোমার কথা শুনি না কে বলে? এই রূপো! এক সপ্তাহ ধরে কত জিনিস কিনেছি তোর জন্যে! তুমি কেন এমন কর? তুমি আমার একটা কথা শুনলে আমি তোমাকে ফুল আর প্রজাপতি ডিজাইনের জামা ও গোলাপী ডিজাইনের খাতা কিনে দেব। বাসায় কত খাতা আছে। সবুজ খাতা আছে, নীল খাতা আছে, সাদা খাতা আছে, কালো খাতা আছে, কফি কালারের খাতা আছে, আরো কত কী আছে!" তখন রূপা বলল, "আমার ঐ সব রঙের খাতা পছন্দ না। আমার লাল আর গোলাপী পছন্দ। আমার গোলাপী রঙের খাতা নাই।" বাবা বলল, "ঝগড়া করো না। তুমি আজ এই রুমেই শোবে। আমি অন্য রুমে শোব। এটাই তোমার শাস্তি। দেখি তুমি কি কর। আমি চলে যাই।" এই বলে বাবা তাড়াতাড়ি রুম থেকে বের হয়ে গেল। অন্য একটি রুমে ঢুকে দরজা লক করে দিল।" মা রুপার রুমে দরজায় উঁকি দিয়ে বলল, "রূপা! তোমার জন্যেই আমরা কিন্তু অন্য রুমে ঘুমাচ্ছি। তুমি কিন্তু আজকে এ রুমে শোবে, আমি বলে দিয়েছি। বাবা একটি ভালো শাস্তি দিয়েছে। প্রতিদিন ঘুমানোর সময় ঝগড়া কর। একদিন বল, পরীর গল্পের বই কিনে এনে পড়ে শোনাও। আরেকদিন বল, রাজকন্যার গল্পের বই কিনে এনে পড়ে শোনাও। একবার বল, রাজপুত্রের গল্প; আরেকবার বল, মিকি মাউসের গল্প; আরেকবার বল, টম এন্ড জেরির গল্প; আরেকবার বল, বারবি আর ফ্রোজেনের গল্প; আরেকবার বল, মরুভূমির রাজকন্যার গল্প শোনাও। আর কিন্তু এসব করা যাবে না। এসব করলে আমি কিন্তু আর কিচ্ছুই কিনে দেব না। আর এমন করলে আমি এই বাসায়ই ঘুমাব না, বাইরে গিয়ে ঘুমাব। দেখি, তুমি কি কর। রাতে পানি পিপাসা লাগলে তোমার নিজেরই উঠে পানি খেতে হবে। তোমার তো আবার রাতেই মাথা চুলকায়, রাতেই শ্যাম্পু করতে হয় আবার। দেখি, তুমি একা একা কিভাবে কাজ কর। অন্ধকারের মধ্যে বের হয়ে লাইট জ্বালাও কি করে।" "আমি আসি"- এই বলে মাও বের হয়ে গেল। ওদিকে বাবা বলল, "আমি শুনেছি, তুমি রূপোকে এমন এমন কথা কেন বলেছ? ও তো ছোট। আমি শুধু শাস্তি দিয়েছি যে, পানি খেতে চাইলে, মাথা চুলকালে আমি এসে সব ঠিক করে দেব, কিন্তু তারপর আবার আমি অন্য রুমে চলে যাব। কিন্তু তুমি আবার আগ বাড়িয়ে এত অতিরিক্ত শাস্তি দিতে যাচ্ছ কেন? ও এতসব করতে পারে? আমি ওর নানুর কাছে শুনেছি, তুমি নাকি ছোটবেলায় ওর মতই সারারাত শুধু গল্প শুনতে, মা-বাবাকে ঘুমাতে দিতে না?" তখন মা গেল রেগে। বলল, "আমার ছোটবেলা নিয়ে তোমাকে কে গবেষণা করতে বলেছে? আমি কিন্তু মাকে ফোন দিব।" "ফোন দেয়ার সুযোগ নেই! অনেক রাত হয়ে গেছে! তোমার মা-বাবা এখন ঘুমোচ্ছে। ঘুমের মধ্যে ডিস্টার্ব করলে তোমারই দোষ হবে। আমি গেলাম আমার রুমে!" মা রাগ হয়ে বলল, "Disgusting! অসহ্য! আমি আর থাকবই না এখানে। চলে যাব আমি।" বাবা বলল, "তোমাকে চেতিয়েছি! এবার আমি গেলাম আমার রুমে। বাচ্চাকে এতো শাস্তি দিয়ো না।" এই বলে বাবা চলে গেল রুমে। অনেক রাত হল। সবাই ঘুমিয়ে পড়ল। বাবু মোবাইলে এর্লাম দিলো। ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠলো। বাবার পকেট থেকে গাড়ির জন্য টাকা নিলো। একটি গাড়িতে উঠে পড়ল। ব্যাংকে চলে গেল। হেটে যেতে বিশ মিনিট লাগত। গাড়িতে যেতে দশ মিনিট লাগত। দশ মিনিটে পৌঁছে গেল। একশত টাকা নিয়ে বাড়ি এল। বাবা দরজা লক করে রেখেছে। রূপা দরজায় টোকা দিল। বাবা দরজা খুলে দিলো। মা বলল, "দরজা খুলতে হবে না। খাকুক না বাইরে। ভাল করে একটু শিক্ষা দিতে হবে। দশ দিনে এক লক্ষ টাকা খরচ করেছে আমার।"কিন্তু বাবা দরজা খুলল। রূপা বলল,"বাবা দেখো তোমার জন্য একশত টাকা এনেছি ব্যাংক থেকে। বাবা বলল,"যাক বাবা যেতে হলো না ব্যাংকে।" রূপা বলল,"কিন্তু বাবা এই টাকা নিয়ে মার্কেটে যেতে হবে। খাতা আর জামা কিনে দাও।

Monday, August 1, 2016

না সাজার শাস্তি

ভোজে যাব মাদ্রাসাতে
ভুলেছে মিনা সেজে যেতে-
মিস ভেবেছে, দেবে ভালো সাজ,
মিস রেগেছে, ভাবছি দেবে কাজ।

মিস বলে, নেইকো ছুটি,
মিনা বলে, মাথায় ঝুটি।
মাথায় ঝুটি দিলেই কি আর সাজ হয়?
চোখে কাজল, হাতে মেন্দি দিলেই তো সাজ হয়।

চললাম আমি বাড়ি- বলে মিনা।
ভাবছে, মিস যেতে দেবে কিনা।
মিস বলল, বাসায় গিয়ে সাজতে-
মিস বলেছিল, দাঁতও মাজতে।

পরেছে নুপুর, পায়ে আলতা-
হাতে চুরি, মেন্দি মাখা।
গলায় মালা, কী যে সাজ!
আমরা খাব, মুড়ি ভাজ।

Friday, July 1, 2016

কচুপাতা

এক ছিল এক শহর। সেই শহরে বাস করত একটা ছোট্ট মেয়ে। তাদের বাগানে ছিল অনেক কচুপাতা। জানালা দিয়ে সেই কচুপাতা দেখা যেত। একদিন হঠাৎ অনেক জোরে বৃষ্টি নামল। মেয়েটি কচুপাতার দিকে তাকালো। সব পাতায় বৃষ্টির পানি পড়ছে, সব পাতা পানিতে ভিজে নরম হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু মেয়েটি দেখল, কচুপাতা একটুও ভিজছে না। মেয়েটি তার মাকে গিয়ে বলল, "মা, মা! কচুপাতায় ফোঁটা ফোঁটা ওগুলো কি?" মা বলল, "ওগুলো তো পানি। ভাবছো তো কচুপাতা ভেজেনি কেন? কচুপাতা ভেজে না। কচুপাতায় পানি পড়ার সাথে সাথেই চলে যায়। আর এগুলো যে ফোটা ফোটা সেগুলো পড়ে যেতে পারে না, কিছু রয়ে যায়।" মেয়েটি বলল, "তাহলে মা! কচুপাতা ভেজার সম্পের্কে আরো কিছু বল।" মা বলল, "উহ! তোমায় নিয়ে আর পারি না। তুমি প্রশ্ন না করলে আমি শুধু শুধু উত্তর দিয়ে দেব কি করে? একটা না একটা তো সবসময় প্রশ্ন বলতেই থাক। এখন আবার প্রশ্ন ছাড়াই উত্তর বলতে হবে?" 

Friday, June 17, 2016

খাবার খাওয়া


চা আরো দাও বেশি করে
কেন এত কম-
কাঠাল খাব কলা খাব
বানাও আলুর দম।

পেয়ারা পাড়ো আম কুড়াও
দই পেতে রাখ।
ভাত খাব সবজি দিয়ে
মাংস রান্না কর।

খাবার খাব মজা করে
সবকিছু রাঁধো-
কেউ যদি দই নিয়ে যায়
তাকে দড়ি দিয়ে বাঁধো।


দুধ দোয়াও গরুর থেকে

খাবারে কিন্তু ময়লা পড়বে
কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখ।

Tuesday, May 31, 2016

বুদ্ধিমতী মেয়ে

এক ছিল এক গ্রাম। সেই গ্রামে থাকত এক মহিলা। তার ছিল একটি মেয়ে। মেয়েটির মাথায় অনেক বুদ্ধি। তারা অনেক অনেক গরীব ছিল। এক পয়সাও ছিল না। একেবারেই গরীব। বাড়ি থাকবে কি করে? ছোট্ট কুটিরও নেই। এমনকি একটা গরুর ঘরের মত ছোট্ট বাড়িও নেই। থাকার কোন জায়গাই নেই। গরীব, কিন্তু তারা অনেক সৎ ছিল। তারা নিজেরা এত গরীব, কিন্তু একেবারে ধনী মানুষদের থেকে জিনিস নিতেও তারা ভাবত যে, তার একটু সম্পদ কমে যাবে বোধহয়। তাই ভেবে তারা ভিক্ষেও করত না। কত যে সৎ! কিন্তু এত সৎ হয়ে তো তারা না খেতে পেয়ে অনেক কষ্টে থাকছে। তার মেয়ের কাছে বারবার সেই মহিলাটি অনেক বুদ্ধি বের করতে বলেছে। কিন্তু তাতে তার মেয়েটি খুব রাগ হয়ে যেত। বলত, "ও মা! আমার কাছে কি তুমি শুধু বুদ্ধিই জিজ্ঞেস করতে থাকবে? আমার একটু বেশি বুদ্ধি আছে বলে কি দুনিয়ার সব বুদ্ধি আমার মাথায়? চিন্তা করতেও দাও না, শুধু বল, বুদ্ধি বের কর। একটু ভাবতে দাও না, মা!" মেয়েটি ভাবল। ভাবতে ভাবতে কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না। অবশেষে একটা উপায় খুঁজে পেল। যেখানে খাবারও পাওয়া যায়, পানিও পাওয়া যায়। মাকে বলল, "পেয়েছি, পেয়েছি, পেয়েছি। ওমা, আমি একটা জিনিস পেয়েছি!" "কী আবার পেলি রে?" "বুদ্ধি পেয়েছি রে, বুদ্ধি। কি বুদ্ধি জান? কিন্তু তা খুঁজে পেতে আমাদেরকে অনেক দূরে যেতে হবে। আমাদেরকে যেতে হবে কোন নদীর পাড়ে। তারপরে ওখান থেকে মাছ ধরতে হবে। আর নদীতে কি থাকে? পানি থাকে। আর কি থাকে? মাছ থাকে? ওখানে গেলে আমরা মাছও পাব, পানিও পাব। একদিন একটু ভাল করে খেতে পারব। কিন্তু খবরদার, মা! দয়া করে তুমি ভিক্ষে করো না, প্লীজ!" মা বলল, "রান্না করব কিভাবে?" মেয়েটি বলল, "পাথর আর লাকড়ি কুড়িয়ে খুঁজতে হবে। তারপর সেখান থেকে কুড়িয়ে খেতে হবে। আর সেই পানি জাল দেয়ার জন্য কি করতে হবে, জান? আশেপাশেই তো মাটি আছে। মাটি দিয়ে পাতিল বানিয়ে তাতে পানি রেখে তাতে করে জাল দিতে হবে। আর সেই হাড়িতেই মাছ রান্না করতে হবে। তারপর কি করবে জান? মাছ ধরে এনে মাটি দিয়ে আরো পাত্র বানিয়ে তাতে মাছ রাখতে হবে। তারপর সেই মাছ বিক্রি করতে হবে। তাহলে আমরা আরো ভালভাবে খেতে পারব। মাছ বিক্রি করে টাকা পাব, সেই টাকা দিয়ে আরো সবজি কিনতে পারব। শুধু মাছ খেলে কি সুস্থ থাকা যাবে? অন্য খাবারও খেতে হবে। তাই টাকা দরকার। সেই টাকা দিয়ে সবজি আর ভাত কিনব।" তারপর ওরা মাছের ব্যবসা করতে লাগল এবং সুখে শান্তিতে বাস করতে লাগল। আর টাকা দিয়ে একটি কুটিরও স্থাপন করল। 

শিক্ষা: বুদ্ধি থাকলে উপায় হয়। ঐ মহিলাটির যদি বুদ্ধিমতী মেয়েটি না থাকত, তাহলে কি সে বাঁচতে পারত?

Wednesday, May 25, 2016

My Pet Cat

My pet a kitten
It is white,
It look at left
and it look at right.

It play all day
Mouth is red,
She sleeps in the field
Don't in the bed.

Tuesday, May 24, 2016

কৃপণের ধন পিঁপড়ায় খায়

এক ছিল এক খুব ধনী লোক। কিন্তু সে সৎ ছিল না। তার অনেক সোনা-দানাও ছিল। কিন্তু সে কাউকে কিছু দিত না। এমনকি নিজের স্ত্রী-পুত্রকেও না। তার মেয়ের নাম ছিল সুমিত্রা। তার পুত্রের নাম ছিল সুজন। একদিন সুমিত্রা কিছুই পাচ্ছিল না খেতে। তার স্ত্রী বলল, "যা তো সুমিত্রা। তোমার বাবাকে বল না কিছু টাকা দিতে। আমার না তোমার বাবার কাছে যেতে খুব ভয় করে। তোমার বাবা আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে। তুমি তো ছোট তাই ভাল করে বলবে।" "সে কি মা, তুমি তো জান যে, সে সবার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। কিন্তু মা! তোমার কথা অমান্য করতে পারব না।এইতো! অামি যাচ্ছি। কিন্তু সে যদি কোন টাকা না দেয় তাহলে কিন্তু আমাকে বকবে না।" সুজন বলল, "ওহ মা! ভাল লাগছে না। আমার বাবার সোনা দানা আছে। কি সুন্দর রাজার মত পোশাক পরে। আর আমরা ছোট খাট গেঞ্জি ও আমার মায়ের আছে একটা বেগুনি শাড়ি। আজকে কিছু খেতে পারছি না।"  সুমিত্রা চলে গেল বাবার কাছে। সুমিত্রা বলল, " বাবা কিছু টাকা দাও না গো। আমরা কিছু কিনতে চাই। খাবার পাচ্ছি না তো্।" বাবা বলল, "সরে দাঁড়া, এখানে তোর কি চাই? টাকা অামি দিতে পারব না। যদি আমি টাকা দিই তাহলে, সকালে আমি রুটির সাথে হালুয়া, ডিম, মাংস এবং সবজি খাব কি করে? তার পর দুপরের স্নানের আগে আপেল, আঙ্গুর ও কমলা খাব কি করে? খাওয়ার পর দই আর মিষ্টি খাব কি করে? রাতে খাওয়ার সময় জদ্দা খাব কি করে? টাকা না থাকলে কোন খাবার পাব না। আর আমি সুন্দর টোপর কিনব কি করে?" সুমিত্রা ভাল করে উচিত কথা বলতে পারত। তাই সে বাবাকে বলল, "এই! তুমি এত সুন্দর জিনিস-পত্র, কাপড়-চোপড়, খাবার-দাবার সব কি সুন্দর সুন্দর করে খেতে পার! আর আমরা একটা চালের দানা খেয়ে থাকি, আর ছেঁড়া ছেঁড়া কাপড় পরে থাকি। তাই তো হবে না? পরে কিন্তু এর ফল ভাল হবে না। দিতেই হবে। তোমার টোপর কেনার দরকার নেই। আমরা দিনে একটা শসাও খেতে পারি না, আর তুমি পোলাউ, রোস্ট, তেহারি কত কিছু খাও! আজ আমাকে অন্তত ৫০ টাকা দাও। এই ভাল যে, ১০০ চাইনি।" বাবা আবার বলল, "এই মেয়ে! আমি তোকে শুধু ১০ টাকা দিতে পারি।" "না, তা হবে না। তোমার লক্ষ লক্ষ টাকা, লক্ষ লক্ষ সোনাদানা। তুমি আমাদের একটা সোনাও দাওনি। সোনা কি? এক পয়সাও দাওনি। আমরা নিজেরা নিজেরা অনেক কষ্টে খাবার যোগাড় করেছি। ৫০ টাকাই দিতে হবে। এর বেশি দিতে চাইলে দাও, কিন্তু এর কম দেয়াই যাবে না।" বাবা আর কী করবে? দেখল যে, সুমিত্রা খুব ভাল ভাল বুদ্ধিমান কথা জানে। দিয়ে দিল ৫০ টাকা। অনেকক্ষণ পরে এক বেলা না খেয়ে ছিল, দুপুর বেলা টাকা নিয়ে এল। কিনতে কিনতে বিকাল হয়ে গেল। বিকেল বেলা একটু অন্তত খেতে পারল। সুমিত্রা একটা শসা, সুজন একটা রুটি আর মা দুটো আপেল। এরপর যখন ধনী লোকটি বাজারে গেল তার সেই টোপর কিনতে, তখন সুজন তাড়াতাড়ি গিয়ে ২০ টাকার দুটি নোট নিয়ে এল। তারপর সেই টাকা ভাগাভাগি করে আবার খাবার কিনে নিয়ে এল। তারপর সেই খাবারগুলো খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়ল। বাবা এসে বলল, "ওঠ্‌, ওঠ্‌, সুমিত্রা। ওঠ্‌ সুজন। আমার দুইটা বিশ টাকার নোট দেখেছিস?" স্ত্রী বলল, "আমি ঘুমের মধ্যে পায়ের ধুমধাম শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম। কিন্তু আমার খুব গভীর ঘুম ছিল, তাই আমি উঠতেও পারিনি। নিশ্চয়ই কোন চোর-ডাকাতের কাজ। তুমি খুঁজে দেখ কোন চোর-ডাকাত আছে কিনা। আমরা আজ রাতে ভাল করে ঘুমাতে পারিনি। কাল রাতে তুমি আবার দায়িত্ব দিয়েছিলে যে, বাড়িটাকে পাহারা দিতে। আমিও শর্ত দিয়েছিলাম যে, কাল দুপুরে অনেক ঘুমোতে দিতে হবে। তুমি সেই শর্ততে রাজি হয়েছিলে। এখন ঘুমোতে দাও।" তারপর একদিন সত্যি সত্যিই ডাকাত এসে ঐ ধনী লোকের সব টাকা-পয়সা নিয়ে গেল। সোনা-দানাও নিয়ে গেল। মা আর দুই সন্তানদের তো খাবারের সন্ধান করার অভ্যাস আছে। কিন্তু ধনী লোক তো কিছুই বোঝে না। তাই সে কিছুই খেতে পারল না। আর অন্য বাকি তিনজন অভ্যাসমত আগের মতই কোনমতে খেয়েদেয়ে চলতে লাগল।

শিক্ষা: খারাপ কাজ করলে খারাপ ফলই পাওয়া যায়। যেমন কর্ম তেমনি ফল।

Thursday, May 19, 2016

Tajmahal

Once upon a time, there was a big country. The country's name is Achinpur. There is a tajmahal. The tajmahal is large. The Tajmahal's king's name is Ramlal. Ramlal is kind. There is a forest not far away. Tiger came to the tajmahal, because they know that, in the tajmahal, there live many many person. So the tiger go to tajmahal every time. All the persons are in trouble. They all go to the king. King told, "I know, what you will say to me. I know, now you are in trouble. Tiger has come to my tajmahal. I will help you. You have to do something in yourself. The half thing I will do and then left half thing you will do. Now we have to hold a meeting. We have to call all the persons in the palace. We have talk about the tigers. We have to make trap for the tigers. There a lot of tigers in the forest." One of the persons name is Tanjim. Tanjim said, "Oh! You are right. We have to call everyone in the palace. If we don't do that, the tigers will eat all of us. Let go to call everybody. Everybody going to call the person. Everybody come to the palace. There is a big room in the Tajmahal. The king tell to maid servant, "Hai! Prepare the chair in the big room. And the big chair for me." The maid-servant said, "Ok, maharaj!" All of the person came in the palace. King seats on the chair. Everybody seats on the chair. The king said, "Don't worry. I am telling the way of this danger. Please keep quite. Listen to me, please. Don't talk now. Listen to me very very carefully. If you don't listen to me, your danger will be not go. Please listen to me. Did you want to listen the way?" "Yes", said everyone. "Ok, listen carefully. We have to ready all day. When we will see the tigers, you have to ready with a trap. First, you have to make a trap. You have to make the trap very strong. You have to make the trap with window greel. You have to make the trap very big. Because, if there came many tigers, they all can enter in the trap. Then you have to shut the door quickly. You have to shut the door in that time, when the tiger cannot see you. You have to keep some meet in the trap. When the tiger will think, they can eat the meat, if they enter in the trap. And you have to hide around the trap. You have to live near. Hide in that place, in which place you can see the tiger but tiger can not see you. After shutting the door, you have to take the trap in a place, in a room, then you have to go outside of that room, in which room you will keep the trap. Then you will shut the door of that room. Don't keep the light in the room. If you do that, the tiger will die and in the forest, if any other tiger was have, they will also did not came in the palace. Because, they have see that, who have go in the palace, what have the person done. Listen to me carefully. Are you listen me?" "Yes, your idea is very good. We want to do this. We want to survive from the danger." Ranjana said, "Maharaj Ramlal! Ok, we will do that." Then everyone make a trap. They keep some meat on that. Everyone do the things what the king said. Then they survive the danger. Then in the palace, one person said, we survive from the danger. We have to enjoy tomorrow for this success." On next day, everybody came to enjoy. There are five children. Eluka, Tamim, Sara, Aditya and Mariam. Sara said, "See, there is a circus. There is a joker too. It looks very funny. Eluka said, "See. There is a toy shop. There are lot of toys. There is a toy car, there is a robot too. The real robot. I want to buy it. There is lagos too. Look Tamim. What you want to buy? I want to buy the robot." Tamim said, "I want to buy the toy car. There are some lorry too. I want the lorry. Because I like the lorry very very much." Then mariam said, "Sara! There are really a joker. It is circus. It is very nice." Tamim and Eluka! I want the red telephone. I want the toy yellow drum too." Eluca said again, "I want the lagos too." Aditya said, "Let go to the circus. If we go to the circus, we see some amazing thing. And I like the teddy bear. The color pencils too. Why you are talking with this? Not talk. Let go and do it. Without Aditya, everyone said, you are right, let go. In the circus line, everyone said, Did we have to give any ticket?" A person said, "Without ticket, you cannot enter in the circus. The circus is not in normal place. A circus have funny things. Take the ticket. The ticket is just 20 taka. Everyone said, "Oh! You need 20 taka too?" "Yes, without taka we cannot eat anything. You have to give." Children said, "Oh! Mother! Why we have to wait for a long time?" Mother said, "Wait, wait. After buying the ticket, you can enter in the circus. Wait for sometime. They buy the ticket. Then they enter in the circus. They see some amazing things. The joker was playing. The joker was driving a cycle by raising his hand without touch the handle.

Tuesday, May 10, 2016

রাজার গল্প

এক ছিল এক রাজা। তার রাজপ্রাসাদের নাম ছিল প্রজাপতি রাজপ্রাসাদ। রাজামশাই দাস-দাসীদেরকে খুবই খাটাতো, কিন্তু রাজা ভালো ছিল। একদিন রাজামশাই দাসী রঞ্জনাকে বললেন, "রঞ্জনা! তুমি খোঁজ নাও, আমাদের প্রাসাদে কোন্‌ কোন্‌ প্রজা না খেয়ে আছে। আর আমার প্রাসাদে ছোটখাটো পোকামাকড় বা অন্য কোন প্রাণীরাও যদি না খেয়ে থাকে, তাদেরকে যদি তোমরা খাবার না দাও, তাহলে তোমাদেরকে কিন্তু আমি রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে দেব। ছোট্ট একটি পিঁপড়েও যদি না খেয়ে থাকে, তাদের ছোট ছোট শস্যদানা দিতে হবে। আর এ রাজ্যের মশাগুলোকে যে করেই হোক বুঝাতে হবে, কারো গা থেকে রক্ত খেও না। প্রতিদিন কোন না কোন জায়গা থেকে রক্ত যোগাড় করে এনে মশাদেরকে খেতে দেবে। রক্ত কোথায় তা বলবে না, যেখান থেকেই পার আনবে- এইটা বলে দিচ্ছি। তোমাদেরকে নিজেদেরকেই খুঁজে নিতে হবে রক্ত। তাই বলে রক্ত যোগাড় করতে গিয়ে অন্যদেরকে না খাইয়ে রেখো না। রক্ত যোগাড় করেই যদি তোমার একদিন লাগে, তাহলে অন্য প্রাণীরা কি করে না খেয়ে থাকবে? আর আমার রাজ্যের পাশে যে জঙ্গলটি, সেই জঙ্গলের একটি হরিণও যদি না খেয়ে থাকে, তাকেও খেতে দিতে হবে। আর তোমরাও নিজেরা নিজেদের খাবার যোগাড় করে খেয়ে নেবে। রাজগরু তো আছেই। রাজগরু থেকে দুধ নিয়ে তোমরা খাবে। রাজফসলের ক্ষেতে অনেক ধান আছে। সেগুলো থেকে চালও তুলবে, পরে সব প্রজা, প্রাণী, মানব সবাইকে খেতে দিতে হবে, সবার যত্ন নিতে হবে। কারণ, আমি খুব ভাল একটি রাজা। সবাইকে যেন তুমি ঠিকমত ই কর। শুধু তোমার রক্ত নিতে যদি তোমার দুইদিন লেগে যায়, তাহলে তুমি অন্য দাসীদের সাহায্য নিতে পার, দাসদেরও সাহায্য নিতে পার। আর কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাড়াতাড়ি রাজবৈদ্যমশাইকে খবর দেবেই। এই রাজ্যের নিয়ম এটাই। রাজামশাই সবার যত্ন নেন, রাজপ্রাসাদ থেকে খাবার দেন। আর যারা অন্য রাজ্যে খুবই কষ্ট আছে, একদমই কষ্টে, তাদেরকে একদিন বড় একটি ভোজ করে তাদেরকেও ডেকে আনবে, ঠিক আছে? রাজপ্রাসাদ থেকে তাদেরকে খেতে দেবে। আমার বাগানে অনেক অনেক ফল ফুটে রয়েছে। সেই ফলগুলো সব বাড়ি বাড়িতে গিয়ে গিয়ে দিয়ে আসবে। সবজিও আছে। কী সুন্দর করল্লাও হয়েছে! একটা করল্লা আমার জন্য তুলে আনবে। করল্লার যে কী স্বাদ! বাহ! করল্লা বেশিজনকেই দিও। আর শসার তো প্রশ্নই আসে না খারাপ হওয়ার। আমার বাগানের সব জিনিসই খুব ভাল।" দাসী রঞ্জনা বলল, "রাজামশাই! যদি আমি দেখি যে, আপনার বাগানে একটি ছোট্ট বিড়াল না খেয়ে আছে, তাকেও খেতে দিতে হবে, মহারাজ? আপনি যদি বিড়ালকেও খেতে দিতে বলেন, তাহলেই আমি বিড়ালকে অনেক অনেক খেতে দেব।" রাজামশাই বললেন, "অবশ্যই। কিন্তু ইদুরও একটি প্রাণী, ইঁদুর দিবে না। দুধ বা মাছের কাটা দেবে। ইদুর দেবে না। ছোট একটি সাপও যদি না খেয়ে থাকে, তাকেও দিতে হবে। একেকটা প্রাণী একেকবার জিজ্ঞেস করছ কেন, রঞ্জনা? আমি বলেছি সব প্রাণীকেই দেবে।" তখন দাসী রঞ্জনা বললেন, "মহারাজ! আপনি যা বলবেন, তাই করব। কিন্তু মশার যে রক্ত, সেটা খোঁজার জন্য একটু বেশি সময় দিতে পারবেন?" "ঠিক আছে, একটু সময় দেব।" অমনি পাশ থেকে দাসী গোলাপী রাজামশাইকে বলল, "রাজামশাই! আমিও কি আমার বন্ধু রঞ্জনাকে একটু সাহায্য করতে পারি? সে যদি একা সব করে, তাহলে তো বেশি যত্ন নিতে পারবে না একা।" "নিশ্চয়ই! তোমরা দাস-দাসীরা মিলে সব করতে পার। কিন্তু আমার আদেশ যেন অমান্য না হয়।" ঐদিকে রাজ্যে এক ছিল একটি গরীব লোক। সেই গরীব লোকটি এক পয়সাও ছিল না। সে রাজামশাইকে বললেন, "রাজামশাই! আপনি কেমন আছেন? দয়া করে আমাকে একটি গরু দিতে পারলেই হবে। সেই গরু থেকে আমরা সবসময় দুধ খেতে পারি, মহারাজ। আমার একটি ছোট্ট সন্তান আছে, সে তো কিছু পায়ই না। আমি শুধু একটু একটু খুঁজে খুঁজে পাই। সেগুলো থেকে একটু দিতে পারি আমার সন্তানকে। এক দিনে একটি বিস্কুটের টুকরো খেতে পারি। ভালোই লাগে না। আর পানি তো খাই শুধু ছোট্ট একটা বাটিতে একটুখানি পানি থাকে, সেটুকু খেতে পারি।" মহারাজ বললেন, "দাস ইসলাম! তুমি কোথায়? তাড়াতাড়ি এসো। এই গরীব লোকদের তাড়াতাড়ি কিছু খেতে দাও। বহুদিন ধরে না খেয়ে আছে।" সবাই মিলে ঐ দেশে সব কিছু ঠিকঠাক মতো রাখলো। এবং ঐ দেশটিকে একটি সুন্দর দেশ করে তুলল। এমন দেশ, যেন সবথেকে সেরা। এই দেশে আকাশে আকাশে পাখি, নদীতে ভরে যায় পানি, সবাই খাবার পায়, যত্ন করে থাকতে পারে।

শিক্ষা: ভালো কাজ করলে ভালো ফলই পাওয়া যায়। যেমন, ঐ রাজা যে সবার যত্ন নিয়েছে, তাই সে এমন সুন্দর একটি দেশ পেয়েছে। নিজের জিনিস নিজে ভালো করে গড়ে তুলতে পারলেই ভালো।

Saturday, April 30, 2016

চোর ও কৃষক

এক ছিল একটি কৃষক। সে বেশি গরীব ছিল না। ঐদিকে একটি চোর একটি জিনিস চুরি করতে গিয়ে তার বাড়িটি হারিয়ে ফেলেছে। কিভাবে জান? চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে গিয়েছে, তারপর পুলিশেরা তার বাড়িটিকে ভেঙ্গে দিয়েছে। তখন সে কৃষকটির বাড়ির কাছে গিয়ে বলল, "ভাই, আমাকে একটু আশ্রয় দেবে?" লোকটি বলল, "হ্যাঁ, কিন্তু চুরি করবে না।" চোরটি ভাবল, "ইস! ভাল কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। আমি তো চুরি করার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। আজ আমি চুরি করব। দেখি, তার কত জিনিস আছে। চুরি করে রাতের বেলা আমি পালিয়ে যাব, হা-হা-হা!" পরের দিন লোকটি দেখল, তার দেখি অনেক কিছু আছে। সে তাড়াতাড়ি করে তার ধানক্ষেতের সব ধান নিয়ে পালিয়ে গেল। কৃষকটি উঠে দেখল, কিছুই নেই।

শিক্ষা: দুষ্ট লোক যদি দুষ্টের মত কাজ করতে ভুলে যায়, তাহলে বলতে হয় না যে, দুষ্টামি করো না। শুধু খেয়াল রাখতে হয়। তাহলে তাদের খারাপ কাজ করার কথা মনে পড়ে যায়, তখন তারা খারাপ কাজ করে।

রাক্ষসের গল্প

এক ছিল এক রাক্ষস। কিন্তু সে ছিল অলস। সবাই পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে পড়ত। কিন্তু দশটা বাজার পর উঠত সেই রাক্ষসটি। তাই সে ভাল খাবার খুঁজে পেত না। এমনকি তার পরিবারের সবাইও তাকে ডাকতও না। নিজেরা নিজেরা সব খেয়ে নিত। সবসময় ঐ রাক্ষসটির ভাগে পড়ত বুড়ো মানুষ। অন্য সবাই কচি কচি ছোট্ট বাচ্চাদের খেয়ে ফেলত। রাক্ষসটি পড়ল বেকায়দায়। সে সবাইকে বলল, "আমাকে তোমরা কেন কেউ ডাক না?" সবাই বলল, "আমরা কেন তোমাকে ডাকতে যাব গো? নিজের থেকে ঘুম থেকে উঠতে পার না, এই নাকি তুমি আমাদের মত রাক্ষস? তারপর নিজে উঠে নিজের জন্য খাবারও তৈরি করতে পার না। মানুষ না খাও, অন্য অনেক খাবারও তো আছে।" তারপর থেকে পরের দিন সবাই মিলে রাক্ষসটাকে বুঝিয়ে বুঝিয়ে বলল যে, তুমি সকালে ঘুম থেকে উঠবে। কিন্তু এবার অন্য রাক্ষসরা রাত ১২টা থাকতেই কচি কচি সব জিনিস নিয়ে তাদের কোন গুপ্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখত, সকাল হলে সেগুলো খাবে। শুধু মানুষই নয়, মানুষের বাগান থেকে ফলমূল সব চুরি করে এনে রাখল, কিন্তু কচি কচি। রাক্ষস গিয়ে দেখল, সব বুড়ো-বুড়ি। রাক্ষসের আবার দু:খিনী মানুষদেরকে পছন্দ না। তাই খেতেও ভাল লাগে না। এমনিতেই তো বুড়ো-বুড়ি, তারা আবার কান্না করছিল, কারণ অন্য রাক্ষসরা সব তাদের নাতি-পুতি নিয়ে গেছে। এখন সেই রাক্ষসটা চিন্তায় পড়ল। "সবাই কেন আমাকে এমন করে?" তখন রাক্ষস ভাবল, "না, না। এভাবে না খেয়ে থাকলে চলবে না। ফল-মূল পাকা খেলে একটু ভাল লাগতে পারে। কিন্তু মানুষ একদমই না। আমি বরং ক্ষেতের সব ফসল নিয়ে নেই। প্রতিদিনই খাব ফসল। কিন্তু প্রতিদিনই তো আর মানুষ আমার জন্য ফসল লাগাবে না। রাক্ষস হয়ে কী লাভ হলো আমার? কোন যাদুশক্তি নেই। খালি ১১০ তলা বিল্ডিংয়ের মত বড়। আর আমি খাবই বা কী? সব পিচ্চি পিচ্চি। পিচ্চি পিচ্চি মানুষ, পিচ্চি পিচ্চি ফল। খেতে ভাল লাগে? আমি যদি ছোট হতাম, তাহলে এগুলোই ভাল লাগত। মানুষ হলেই ভাল ছিল। মানুষরা কত ভালো? মানুষরা এত সকালে উঠতেই পারে না। সবার এত শক্তি আছে কেন অন্য রাক্ষসদের? আর আমারই বা কেন কম শক্তি? আমি কি কোন পাপ কাজ করেছি?" একটি পিচ্চি বুড়ো মানুষ রাক্ষসটিকে দেখে ফেলল। রাক্ষসের ভাব দেখে বুঝল যে, মনে মনে কী ভাবছে সে। সেই বুড়ো মানুষটি বুঝতে পারল যে, রাক্ষসটিকে আমি যাই বলি না কেন, রাক্ষসটি আমাকে খাবে না। কারণ, আমাকে খেয়ে ফেললে তার তো কোন মজাই লাগবে না। তাই সে রাক্ষসকে বলল, "রাজা! রাজামশাই!" রাজামশাই কেন বলল জান? কারণ, রাক্ষসটিকে যদি রাক্ষস ভাই বলে, তাহলে যদি তাকে খেয়ে ফেলে! একটু পরে আবার বলল, "মহারাজ! আপনি এমন করে বসে আছেন কেন? বলুন না মহারাজ! আমি আপনার বন্ধু হয়ে যাব। ও মহারাজ! চুপ করে থাকবেন না মহারাজ! ও রাজামশাই! বলতে বলেছি। কিছু শুনছেন, রাজামশাই?" আস্তে করে বলল বুড়োমানুষটি। আস্তে করে বলায় রাক্ষসটি শুনতে পেল না। বুড়ো মানুষটি আবার জোরে করে বলল। তারপর শুনতে পেল। রাক্ষসটি বলল, "কে তুই? পিচ্চি একখানা মানুষ। তুই নাকি আমার বন্ধু রে! কী বলছিস? তুই কিসের বন্ধুর মত কাজ করেছিস? আমাকে কিছু খেতে দিয়েছিস, না আমার গায়ে ছোঁয়া দিয়েছিস? আমাকে শুধু আপনি বলা, এইটাকে কি বন্ধু বলে নাকি?" "রাজামশাই! বন্ধু এখনো পুরোপুরি হইনি। আপনাকে খাবার খেতে দেব কচি দেখে।" বুড়ো মানুষটি কি করল জান? বুড়ো মানুষটি যা দেবে, সেটাও রাক্ষস সুন্দর মজা করে খাবে। রাক্ষসটিও বোকা ছিল। বেশি ক্ষুধার বেলায় জামাও সে চিবিয়ে খেতে পারত। বুড়ো মানুষটি মানুষের মত দেখতে একটি পুতুল তৈরি করে এনে দিল রাক্ষসটিকে। কিন্তু রাক্ষস তো সেটা বুঝতে পারল না। আর ক্ষুধার বেলায় যা খায় তাই তো ভাল লাগে। পুতুলটিই চিবিয়ে চিবিয়ে সুন্দর খেয়ে ফেল। আর বুড়ো মানুষটিকে বলল, "ধন্যবাদ। তুই দেখছি খুব ভালো। তবে আমাকে আরো কিছু এনে দিতে হবে। খালি এই মানুষখানা খেলে আমার পেট ভরে না। অনেকদিন তো খাইনি।" এবার কি করল জান বুড়ো মানুষটি? বুড়ো মানুষটি তার বাগান থেকে কিছু আলু নিয়ে আলু ছিলে সব আলুগুলো মাখিয়ে মাখিয়ে পানি দিয়ে জুসের মত করল। আর সেগুলো অনেক বড় বোতলে ভরে রাক্ষসকে বলল, "এটা খেয়ে নিন মহারাজ!" "এটা কী?" "এইটা মানুষের চামড়া আমি বেটে জুস বানিয়ে এনেছি।" "আচ্ছা। তবে মানুষের চামড়াটি এত শক্ত লাগছে কেন?" "হা হা! রাজামশাই! আপনি এটা খেয়ে দেখুন। এই মানুষটি খুব শক্তিশালী ছিল। তার গায়ের জোর অনেক বেশি ছিল তো, তাই চামড়াটাও শক্ত ছিল। সে যুদ্ধ করতে গিয়ে তলোয়ার দিয়ে আঘাত লেগে অনেক চামড়াখানি যুদ্ধের জায়গায় পড়েছিল। সেগুলো এনে আমি বেটে আপনাকে খেতে দিয়েছি। খেয়ে নিন মহারাজ।" "তুই আমায় মহারাজ বলছিস কেন গো!" "মহারাজ বলব না তো কি বলব? আপনি তো মহারাজই। রাজামশাইও বলছি। কারণ, আপনি যত শক্তিশালী, আপনাকে দেখে তো রাজামশাই বা মহারাজই মনে হচ্ছে। আপনি এখন কথা না বাড়িয়ে খেয়ে নিন। রাজামশাই! আপনার আরো কিছু প্রয়োজন হলে আমি আরো এনে দেব। আর আমি তো পুরোপুরি বন্ধু হইনি, তাই আমি বেশি দিতেও পারছি না। কারণ, আমি আর বেশি যোগাড় করতে পারছি না, রাজামশাই! দয়া করে এটুকু অন্তত খেয়ে নিন। কালকের দিনটা আমি এখানে থাকতে পারব না। কালকে আমার খুব জরুরী কাজ আছে বিদেশে। বিদেশে একদিন গিয়েছিলাম। একজন লোক বলেছে, একদিন পরপর যেতে হবে বিদেশে। তাহলে যেতে আসতে একদিন, আর থাকতে একদিন দরকার। তাহলে দুইদিন পরপর আমি এখানে থাকব। আপনাকেও খেতে দেব।" দুই দিন পর পর কেন দিল জান? যাতে সবসময় ক্ষুধা থাকে। যাতে সবসময় ধোঁকা দিতে পারে। কারণ, বুড়ো মানুষটি কখনো মানুষ মেরে পাপ কাজ করতে চায় না। রাক্ষসটি বলল, "ঠিক আছে, খেয়ে নিচ্ছি। বাহ! এ যে দেখছি খুব দারুন হয়েছে। খেয়ে নিন পুরোটা। বেশি মজা হয়েছে।" "বাহ! খাওয়া তো শেষ করেছি। কিন্তু তোকে এত সুন্দর খাবার দিল কে?" "মহারাজ! দিল আবার কে? আমি নিজেই তো নিলাম যুদ্ধের জায়গা থেকে। এবার আমি বিদেশে যাই, রাজামশাই! যদি আপনি অনুমতি দেন, আমার খুব জরুরী কাজ আছে।" "ঠিক আছে, যা।" বিদেশে যাওয়ার পর বিদেশ থেকে যখন ফিরে এল, সাথে সাথেই রাক্ষসটি বলল, "কী মজা, কী মজা! আমার বন্ধু এসে গেছে। এসে গেছিস তুই? দে না একটু খাবার আমায়। তোর কাছে এত খাবার থাকে কেমনে গো, যা আমার পছন্দ? তুই তো একটি মানুষ।" "ঠিক আছে, আজকে আপনাকে দুটো কচি বাচ্চা খেতে দেব।"- বলে সে আবার পুতুল বানিয়ে বানিয়ে খেতে দিল রাক্ষসটিকে। তবে রাক্ষসটির ক্ষুধা আছেই তো। কারণ দুই দিন না খেয়ে আছে না? রাক্ষসরা তো সারাদিন শুধু খেতেই থাকে। দুটো মানুষ পেয়েই সাথে সাথে গবগব করে খেয়ে ফেলল। বলল, "তুই খুব ভাল রে! আমায় কত ভাল ভাল খাবার দিস! কালকে তুই আবার যাবি?" "হ্যাঁ, কারণ আমার খুব জরুরী কাজ।" "কী এত জরুরী কাজ তোর, বল্‌ না।" "ইয়ে মানে, আমার বাড়িটি না শুধু এক মাস থাকার জন্যে। তার জন্য প্রতিদিন ওখানে গিয়ে একটি করে কাপড় দেয়া লাগছে। কাপড় দিলেই তারা থাকতে দেয় আমার বাড়িতে।" এখন থেকে নিয়মিত রাক্ষসটিকে খাবার দেয়, কিন্তু দুই দিন পর পর। আমার গল্পটি শেষ, কিন্তু এটা বাস্তব নয়। এটি রূপকথা।

Tuesday, April 19, 2016

ভাল ছেলে

এমন একটি দেশ যেখানে শুধু বিপদ আর বিপদ দিয়ে ভরা। সেই দেশের দু'জন লোক ছিল। একটি মেয়ে এবং একটি ছেলে। তাদের একটি বাচ্চা হবে। আর মায়ের মন বলছিল, তার বারবার মনে হচ্ছিল যে, তার সন্তান নবীরা ছাড়া অন্যদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল হবে। শুধু তার মায়ের মনে হচ্চিল, কিন্তু সে ভাবল যে, এটা হচ্ছে শুধু মনের ভাব, এটা সত্যি হতে পারে না। আমার সন্তান কী করে এমন হবে? না, না। আমার সন্তান নিশ্চয়ই সাধারণ সন্তান হবে। মায়ের নাম ছিল রুশতী। বাবা বলল, "রুশতী! তুমি কি ভাবছ? আমি তোমার মনের কথা বুঝতে পারছি। তুমি নিশ্চয়ই তোমার সন্তানকে নিয়ে চিন্তাই করছ। কিন্ত এটা বুঝতে পারছি না, সন্তানের ব্যাপারে তুমি কি ভাবছ? নিশ্চয়ই এটা ভাবছ যে, বাচ্চার জন্ম কখন হবে?" তখন রুশতী বলল, "না, আমি তা নিয়ে তো চিন্তা করছি, তার সাথে আমার আরো একটি চিন্তা হচ্ছে। কেন এ চিন্তাগুলো আমার মনের মধ্যে ঢুকছে, আমি বুঝতে পারছি না। কারণ, এটা সত্যি হওয়া সম্ভবনা থাকতে পারে। নাহলে আল্লাহ আমার মনের মধ্যে এমন ভাবনা দেবে কেন?" বাবা বলল, "আরে! কি ভাবছ তা তো আগে বল। সত্যি হবে কি না হবে তা আগেই ভেবো না।" রুশপী বলল, "কি ভাবনা জান? আমার মনে হচ্ছে, আমার সন্তান নবীদের ছাড়া অন্য সব মানুষের চেয়ে সবচেয়ে ভাল হবে।" বাবা বলল, "আরে, না। আমাদের সন্তান এমন কি করে হবে গো? তুমি কেমন যেন ভুল ভাবছ।" বাচ্চা হবে পরের দিন। তার পরের দিন আসতে শুরু করছে। মাঝরাত্রি। কিছুক্ষণ পরই বাচ্চা হবে। বাবা বলল, "রুশপী! তুমি শুয়ে থাক। পাতলা পাতলা খাবার খাও। আমি তোমার জন্য এনে দেই।" হয়ে গেল সেই দিন। সেই দিন হয়ে তার পরের দিন হয়ে গেল। বাচ্চা হয়ে গেল। এটি হচ্ছে পুত্র সন্তান। বাচ্চাটিকে নিয়ে তার মা-বাবা খুবই চিন্তিত। ঐ দেশটি তো বিপদের দেশ। তাই তারা খুবই চিন্তিত হলো। তারা ভাবছে, তাদের বাচ্চার যেন কোন ক্ষতি না হয়। তারা বাচ্চাকে বাড়িয়ে বাড়িয়ে তুলে বাচ্চার ৫ বছর করল। এমন সময় বিপদ আসবে। এবার শুরু হল বন্যা। ঘরের চাল ডুবে যায় ডুবে যায়। কেমন যেন তারা বাচ্চাকে নিয়ে জলদি চালের উপর উঠল। চালের উপর বসে বসে পানিতে পা ভিজিয়ে বাচ্চাকে আদর করতে লাগল। বাচ্চাটি বলল, "একটু পানি দেবে মা?" তারপর মা বলল, "ইস! এখন নিচে গেলে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে।" "বাবা, তুমি অন্তত আমাকে দাও পানি।" বাবা বলল, "এই! নিচে যাওয়ার দরকারটা কি, অ্যাঁ? এই বন্যায়ই তো পানি আছে। আর বাইরে কত পাথর ভাসছে না? পাথরগুলো দিয়ে তো পানি পরিস্কার করা যায়। কিন্তু তা করার জন্য তো মেশিন দরকার। ঠিক আছে, ওদিকটার পানিটা একটু পরিস্কার লাগছে। আমি একটু সাঁতার কেটে গিয়ে দেখি। হাতে একটু নিয়ে দেখি, পরিস্কার কিনা।" ছেলেটি বলল, "বাবা! আমিও সাঁতার কেটে যাব ওখানে।" বাবা বলে, "ধূর বাবা। না, ন, তুমি যেও না।" "ঠিক আছে, তাই হোক।" বাবা সাঁতার কেটে গিয়ে দেখল, সেখানকার পানিটা একটু ভাল আছে। সেখান থেকে হাতে করে একটু নিয়ে আসল। খেতে দিল। এইবার পরের মাস। এক সপ্তাহ পরে কি হলো জান? তখন ছিল ২০১৫ সাল। জানুয়ারী মাসেই এটা হয়েছে। কি জান? এক বড় রকমের ভূমিকম্প। বাড়ি সব ভেঙ্গে গেল। কিন্তু তারা খুবই অবাক হলো। কারণ দেখল, সব বাড়ি ভেঙ্গেছে, কিন্তু তাদের বাড়িটা ভাঙ্গেনি। একটু সিমেন্টও ভেঙ্গে পড়েনি। তাহলে মা বলল, আমি যা ভাবছিলাম তাই। কারণ, আমি ভাবছিলাম তো, আমার ছেলে নবীদের ছাড়া অন্য সবার চেয়ে খুব ভাল মানুষ হবে। নাহলে আল্লাহ কেন তাকে বাঁচিয়ে রাখবেন? অন্যদের সবার অনেকের মৃত্যু হয়েছে, একটা বাড়িও আস্ত নেই। গ্রামে কোন মানুষ নেই। তাহলে আমার ধারণাই ঠিক। এটা আমি কী দেখছি? এটা কি সত্যি হতে পারে? গরীব লোকের ছেলে কি আবার সবচেয়ে ভালো? না, না, ওকে সবসময় বাঁচিয়ে রাখতে হবে আমাদের। ওকে সবসময় নিরাপদে রাখতে হবে। কারণ, ওর যদি কোন ক্ষতি হয়, তাহলে তো সবাই আস্তে আস্তে খারাপ হতে চলবে। ও ছাড়া কে সব খারাপদেরকে ভালো করবে? আরেক বছর পর কি হলো জান? ভালো ছেলেটি জঙ্গলে গিয়ে দেখল, শিকারীরা একটি নিরীহ ময়ুরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ময়ুরটির মুখ শিকারীরা বেঁধে রেখেছে। যাতে সে কোন চিৎকার করতে না পারে, আর চিৎকার শুনে যেন সবাই উদ্ধার করতে না চলে আসে। শিকারী বলল, "সবাই শোন! এই ময়ুরটিকে বেচে আমাদের অনেক টাকা হবে। আর এই ময়ুরটি যারা পালবে, তারা তো অনেক কিছু পাবে। এই ময়ুরটি নিশ্চয়ই প্রতিদিন খুব মিষ্টি সুরে ডাকবে। সবাইকে আনন্দ দেবে। আর তাই সবাই আমাদেরকে আরো অনেক বেশি টাকা দেবে। এটা যে কিনবে তার মনে অনেক বেশি আনন্দ থাকবে। তাই সে অনেক অনেক টাকা দেবে। আমরা সবাই সেই টাকাগুলো ভাগ করে নেব। আমার ভাগেরটা অনেক বেশি থাকবে। সেই টাকা দিয়ে আমরা সবাই নানা রকম ফল ও নানা রকম সবজি কিনে খাব।" সবাই বলল, "না, না, না না, আপনি কেন বেশি খাবেন? আপনি দলের নেতা হলেই কি? আমাদেরকে একটু অন্তত বেশি দেন।" ভালো ছেলেটি ভাবল, "হায় হায়! একটি নিরীহ ময়ুরকে এভাবে কেউ বুঝি মারে? তাও আবার খুব ছোট্ট একটা শিশু ময়ুর। এই ময়ুরটি যদি তার জঙ্গলেই বাস করতে পারত, তাহলে তো ময়ুরটিরও কোন ক্ষতি হতো না। ময়ুরটি এবার এইদিকে আসলে ময়ুরটিকে যদি কেউ মারে? কেন এত খারাপ এই শিকারীরা? না, না। আমাকে সবকিছু ঠিক করে ফেলতেই হবে। ঐ ময়ুরটিকে আমাদের বাঁচাতেই হবে। কিন্তু আমার যে মাত্র ৮ বছর। বন্যার সময় তো আমার ৫ বছর ছিল। কিন্তু কিছুটা বড় হওয়াতেই কি আমি অনেক বড় হয়ে গেছি? কিন্তু এ কাজ আমি কিভাবে করব? বেচারা ময়ুর। আর এ ময়ুরটি খুবই ভালো নিশ্চয়ই। তার আচার-আচরণ তো আমি দেখিনি, কিন্তু তাকে দেখে আমি বুঝতে পারছি, সে নিশ্চয়ই খুবই ভালো হবে। কিন্তু শিকারীরা এত খারাপ কেন? আমাকে যে ঐ ময়ুরটাকে রক্ষা করতেই হবে। নাহলে বেচারা ময়ুরটি তো আর কোনদিনই তার মা-বাবাকে দেখতে পাবে না। তাকে যদি শিকারীরা বিক্রি করে দেয়। কিছু একটা আমাকে করতেই হবে। কিন্তু আমি কী করব? দেখি, শিকারীরা ময়ুরটাকে একা রেখে কোথাও যায় কিনা। তারপরে আমি ময়ুরটির বাঁধন খুলে দেব। শিকারীদের কাউকে মারার দরকার নেই। কারণ, আমি পৃথিবীর কারো কোন ক্ষতি হতে দিতে চাই না।" ভালো ছেলেটি বসে থাকল। শিকারী বলল, "সবাই শোন। এখন ময়ুরটিকে আরো শক্ত বাঁধন দিয়ে বেঁধে চল আমরা অন্য কোন প্রাণীকে খুঁজতে যাই। তাহলে আমরা নিশ্চয়ই আরো অনেক টাকা পাব।" সবাই অন্যদিকে চলে গেল। ভাল ছেলেটি ভাবল, ও বাবা! এরা দেখি চলে যাচ্ছে। এখনই যাই। বাঁধনমুক্ত করি ময়ুরটিকে। সে ময়ুরটির কাছে গেল। ময়ুরটি ভয় পেয়ে গেল। এ কি শিকারীদের মধ্যে একজন নাকি? তখন ভালো ছেলেটি বলল, "আমি বুঝতে পারছি, তুমি ভয় পেয়ে যাচ্ছ, তাই না ময়ুর?" সে বাঁধনটা খুলে দিল। কিন্তু পায়ের বাঁধনটা অনেক শক্ত ছিল। সে অনেক চেষ্টা করল। অনেক কঠিন ছিল সেই বাঁধনটি খোলা। তখন ময়ুরেরও তো মুখের বাঁধন খোলা হয়েছে। ময়ুরও ঠোঁট দিয়ে খোলার চেষ্টা করল। কিন্তু তারা খুলতে পারল না। আরো অনেক চেষ্টা করল। অবশেষে খুলতে পারল। কিন্তু ময়ুরটি তো মানুষের ভাষা জানে না। কিভাবে মানুষদেরকে ধন্যবাদ জানাবে? সে একটু তার ডানা দিয়ে ভালো ছেলেটিকে আদর করে দিল। তারপর তার মা-বাবার কাছে সে ছুটে চলে গেল। ভালো ছেলেটিও বাড়ি ফিরে গেল। মা বলল, "তুই কোথায় গিয়েছিলি? আমাকে বল। বলো না, চুপ করে আছ কেন? কোথাও দুষ্টামি করতে যাওনি তো?" ভালো ছেলে বলল, "দুষ্টামি আর কি? কি করেছি জান? জান, আমি জঙ্গলের দিকে গিয়েছিলাম।" মা বলল, "হায় হায়! তুই জঙ্গলের দিকে গিয়েছিস কেন? তুই ঠিক আছিস তো? জঙ্গলে গিয়ে কি ঘটেছিল সেটা বল তো?" "জান? সেখানে আমি দেখেছি, একটা ময়ুরকে শিকারীরা বন্দী করে রেখেছে। শিকারীরা ময়ুরটিকে বিক্রি করে দিতে চেয়েছিল। শিকারীরা যখন অন্য শিকারের খোঁজে গিয়েছিল, তখন ময়ুরটার পায়ে অনেক শক্ত বাঁধন দিয়ে ময়ুরটিকে একদম একা ফেলে রেখে তারা অন্য শিকারের খোজে গেল। আমি তখন ময়ুরটির গায়ের সব বাঁধন খুলে দিলাম। পায়েরটা তো অনেক শক্ত ছিল। পায়েরটা আমি অনেক কষ্ট করেও খুলতে পারলাম না। ময়ুর নিজেও আমাকে সাহায্য করল। অবশেষে আমি খুলতে পারলাম। তখন ময়ুরটি আমাকে ধন্যবাদ জানাতে পারছিল না। আমি বুঝতে পেরেছি, সে আমাকে ধন্যবাদ জানাতে চাচ্ছে। সে তার ডানা দিয়ে আমাকে আদর করে দেয়ার পরই আমি বুঝে গিয়েছি।" বাবা বলল, "কি বলছিস তুই? তোর কি মাথা খারাপ? তুই একা একা জঙ্গলে গিয়ে অন্যদের বাঁচাতে গিয়েছিস কেন?" ভালো ছেলেটি আবার বলল, "ও বাবা! তুমি কেন বুঝতে পারছ না? অন্যের উপকার করলে নেকী হয়। অন্যদের উপকার করলে তো তারাও মুক্তি পায়, আর আমারও একটি ভালো কাজ করা হয়। তুমি কেন এমন কথা বলছ? এমন কথা বলো না। আর ময়ুরটি আমায় ধন্যবাদও জানাতে চাচ্ছিল। আমি যদি ময়ুরটিকে না বাঁচাতাম, শিকারীরা তো ময়ুরটিকে বিক্রিই করে দিত। তখন জঙ্গলে ময়ুরের কান্না কি শুনতে পেতে চাও? ময়ুরের মা-বাবার কান্না? কেন তুমি বুঝতে পারছ না? আমি একটু আরেকজনের উপকার করেছি। তাতে তোমার কি গো?" মা বলল, "হ্যাঁ রে। খুবই ভালো কাজ করেছিস তুই। কিন্তু তুই না বুঝে শিকারীদের উপস্থিত সময়ে তুই যেন আবার যাস না।" মা বাবাকে চুপি চুপি করে বলল, "আমি যা ভাবছিলাম, তার প্রমাণ আরো একটা হয়ে গেছে। কারণ দেখেছ, ৮ বছর বয়সেই কত ভালো ভালো কাজ করছে। তাহলে আমার ভাবনাটাই কি সত্যি? আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। বিশ্বাস তো হবেই না। এটা কী করে সম্ভব? আমি বার বার ভাবছি এটা নিয়ে। দেখি, বড় হয়ে সে কী হয়। তাহলেই আমি বুঝব।" বাবা বলল, "আমারও তো তাই মনে হচ্ছে। প্রথমে তো আমি তোমার কথা শুনে একটুও বিশ্বাস করতে পারিনি। তারপরে একটা প্রমাণ আসল, একটু একটু মনের মধ্যে ঢুকল। আরও একটি ভালো কাজ করে আমার এটা সত্যিই মনে হয়ে যাচ্ছে। আমার মনের চিন্তা যে কত!" ভালো ছেলে বলল, "লুকিয়ে রেখো না মা, বাবা। কি কথা বলছ আমাকে বল না! আমি কোন রাগ করব না। কিসের কথা বল?" তখন মা বলল, "আমার যা মনে হচ্ছে, তুই শুনলে বলবি, এটা কেমন করে হয়? কি বলছি জান? আমার মনে হয়, তুমি সবচেয়ে ভালো লোক পৃথিবীর।" তখন ভালো ছেলে বলল, "ঠিক আছে। তোমার এমন চিন্তার কী আছে? এটা হবে কি করে? এটা হতে পারবে না। ধূর বাবা, এ নিয়ে কোন চিন্তা করো না তুমি।" একদিন ভালো ছেলেটি একটি পথ দিয়ে যাচ্ছিল। সেই পথের পাশে দেখল, একটি বুড়ো লোক তার ভর দিয়ে হাঁটার লাঠিটি খুঁজে পাচ্ছে না। সে বসে বসে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। দাঁড়াতেও পারে না। অনেক বৃদ্ধ তো।" তখন ভালো ছেলেটি বলল, "কে আপনি? আপনার বাড়ি কোথায়? আপনি কি কোন বিপদে পড়েছেন?" বৃদ্ধ লোকটি বলল, "তুমি কে বাবা? আমি ঐ গ্রামে বাস করি। বিপদে তো পড়েছি। কারণ, আমি আমার লাঠি ভর করে হাঁটার জন্য যে লাঠিটি ব্যবহার করতাম, সেটা হারিয়ে গেছে। আর লাঠি ছাড়া তো আমি দাঁড়াতেও পারি না। আমার লাঠিটা যে কই গেল?" ভালো ছেলেটি বলল, "আমার নাম রুহুল আমীন। আমি অনেক দূরের একটা জায়গায় বাস করি। এখানে একটু ঘুরতে এসেছি। আপনার লাঠিটা বুঝি আপনি খুজে পাচ্ছেন না? দাঁড়ান, আমি আপনার লাঠিটি খুঁজে দেখছি। আমি পথে হাঁটতে হাঁটতে একটা লাঠি পেয়েছিলাম। দেখতো এটা কি তোমার?" বৃদ্ধ লোকটি বললো, "না, না। এটা তো আমার নয়। তুমি দেখতো, আমার লাঠিটি লোহার। তাতে একটু রং করা আছে। রংটি হচ্ছে সবুজ। একটু খুঁজে দিবে? আর এই লাঠিটা তুমি যে পেয়েছ, এটা তুমি তোমার কাছে রেখে দিও।" রুহুল আমীন বলল, "খুঁজে দেব না কেন? আপনি একটু অপেক্ষা করুন। আমি তাড়াতাড়ি করে এনে দিচ্ছি। আপনার লাঠিটা কি লম্বা না খাটো?" "আমার লাঠিটি খুবই লম্বা। আর অনেক শক্ত।" "ঠিক আছে, আমি এনে দিচ্ছি।" সে ঠিকমতই লাঠিটি খুঁজে পেল। সে বৃদ্ধ লোকটিকে এটা দিয়ে বলল, "এটা কি তোমার?" "হ্যাঁ, হ্যাঁ। এটাই তো আমার। আমাকে একটু ধরে তুলবে? লাঠিটা হাতে ধরিয়ে দেয়ার জন্যেও তো একটু ধরা প্রয়োজন। দাঁড়িয়েই তো ধরতে হবে লাঠি।" "কেন তুলব না আপনাকে? এই যে আমার হাতটা ধরে উঠে পড়ুন। আস্তে আস্তে। এই নিন।" বৃদ্ধ লোকটি রুহুল আমীনের মাথায় হাত রেখে বলল, "বাবা! তুমি কত ভালো! তোমার উপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক। তুমি সুখে থেকো। তুমি আমার খুব উপকার করলে। আমি এই পথেই বেশির ভাগ চলাফেরা করি। তুমি এদিকে এসে একবার আমার খোঁজ নিও। ঐ গ্রামেই তো আমার বাড়ি। আমার বাড়িতে যেও, ঠিক আছে? এবার তুমি যাও। খুবই ভালো তুমি।" রুহুল আমীন বাড়ি ফিরে গেল। মাকে বলল, "জান মা? আমি কোথায় গিয়েছিলাম? আমি অনেক দূরে একটি পথ দিয়ে হাঁটছিলাম বেড়ানোর জন্য। পথে এক বৃদ্ধ লোক তার লাঠি হারিয়ে ফেলেছিলেন, যেটা দিয়ে তিনি ভর করে হাঁটেন। আমি সেই লাঠিটি তাকে খুঁজে দিয়েছি। তাকে আমার হাত ধরে দাঁড় করিয়ে তার হাতে সেই লাঠিটি তুলে দিয়েছি। তখন তিনি খুব খুশী হয়েছেন আমার উপর। আমাকে বলেছেন তাঁর বাড়িতে যেতে। আমিও যেতে চাই।" মা বলল, "তাই নাকি গো? খুবই ভালো কাজ করেছ তুমি।" বাবা বলল, "ও বাবা! এ তো অনেক ভালো কাজ করেছ তুমি। বেশ। তুমি এবার খাওয়া-দাওয়া কর।" মা আবার লুকিয়ে লুকিয়ে বাবাকে বলল, "তিনটি প্রমাণ পেলাম। আসলে কি যা ভাবছি তাই? বল না তুমি আমাকে। এটা কি সত্যি হতে পারে? আমার ছেলে কি করে এমন হবে?" বাবা বলল, "সত্য হতে পারে, কিন্তু আমারও তো তাই মনে হচ্ছে। তিন তিনটে প্রমাণ পেয়েছি। দুটো ভালো কাজ করেছে, আর একটি ঘটনায় আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।" সে বড় হয়ে কি হলো জান? সে হলো বাচ্চাদেরকে আরবী ও ধর্ম শিক্ষা শেখানোর এক শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম। আর সে সবসময় বাচ্চাদের নামায পড়তে শেখাতো। আর কেউ বিপদে পড়লে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করতো। তোমরাও কিন্তু এমন হওয়ার চেষ্টা করবে। ছোটবেলা থেকেই।

Wednesday, April 13, 2016

এলিয়েনের গল্প

তোমরা কি জান, এলিয়েন কাকে বলে? যারা পৃথিবীতে থাকে না, পৃথিবীরও বাইরে, অন্য গ্রহে বাস করে, তাদেরকে বলা হয় এলিয়েন। এলিয়েনের একটা পরিবার ছিল অন্য গ্রহে। তার মধ্যে তাদেরও একটি ধর্ম ছিল। তাদের প্রভুকে সবসময় দেখা যেত না, কিন্তু মাঝেমধ্যে দেখা যেত। তাদের সেই প্রভুটি কেমন দেখতে জান? তাতো বলা যায় না। অন্য গ্রহের মানুষ, আমরা কী করে বলব? সেই এলিয়েনদেরও স্কুল আছে। স্কুলে ছুটি দিল। সবাই ভাবল, কাল আমরা পৃথিবীতে  ঘুরতে যাব। এলিয়েনের মা বলল, "হ্যাঁ, আমাদের তো জাদুমন্ত্র আছে। আমরা তা দিয়ে যানবাহন তৈরি করতে পারব। আর বাবা তো উড়তে পারে। ছোট যানবাহন হলেই হবে। তুমি উড়ে উড়েই তো যেতে পারবে। নাহলে আমাদের পিঠে করে নিয়ে যাবে।" বাবা বলল, "উহ! আমি কেন তোমাদের নিয়ে যাব? আমি একা একা উড়ে যাব। তোমরা যানবাহন তৈরি কর।" বাবা আগে আগে চলে গেল। আর অন্যরা যানবাহনে করে পৃথিবীতে প্রবেশ করল। এলিয়েনদের গ্রহ ছিল খুব ছোট্ট। পৃথিবীতে এসে বলল, "হায়! এ তো আমাদের ১০০টি গ্রহের সমান। কোন জায়গায় আমরা থাকব গো?" মা হেসে বলল, "হা হা হা। তোমদের জন্মের আগে আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমিও পৃথিবীতে গিয়েছিলাম। বাচ্চারা তো এলিয়েন পছন্দ করবেই। বাচ্চারা ডেকে ডেকে তাদের ঘরে বসাবে। এখন আমরা নিরূপায়। কারণ, এক বাচ্চার ঘরে গেলে আরেক বাচ্চারা কাঁদবে। অথচ একেকজন একেকটাতে থাকতে পারবে। কিন্তু ছোট্ট এলিয়েন যার বাড়িতে থাকবে, তারা তো আরো বেশি মজা করবে। থাক, আমরাও ছোটদের সাথে মজা করব। তাহলেই হবে। এবার তারা একটি বাচ্চার বাড়িতে ছোট্ট এলিয়েন থাকল, আরেকটি বাচ্চার বাড়িতে মা এলিয়েন, আরেকটি বাচ্চার বাড়িতে বাবা এলিয়েন, আরেকটি বাচ্চার বাড়িতে দাদা এলিয়েন, আরেকটি বাচ্চার বাড়িতে দাদু এলিয়েন, আরেকটি বাচ্চার ঘরে নানা এলিয়েন, আরেকটি বাচ্চার ঘরে নানু এলিয়েন। এলিয়েন বাচ্চা কি করল জান? এলিয়েন বাচ্চা সূর্য দেখে বলল, "তোমাদের প্রভু হয়তো সব বানিয়েছে। কিন্তু সূর্যটা খুবই সুন্দর। সূর্যটা তোমাদের প্রভু বানায়নি নিশ্চয়ই। এমন সুন্দর বানাতেই পারবে না।" তখন আরেকটি মানুষ বাচ্চা বলল, "আহা! তুমি বুঝতে পারছ না। তোমরাও কি প্রভু চেন নাকি?" তখন বাচ্চা এলিয়েন বলল, "প্রভু থাকবে না কেন? আমাদেরও প্রভু আছে। তোমাদের প্রভুকে একবার দেখব।" সবাই বলল, "না, আমাদের প্রভুকে দেখবেই বা কিভাবে? আমাদের প্রভুকে দেখাই যায় না।" তখন এলিয়েন বলল, "তাহলে তোমার প্রভুর নাম কি বলতো?" সবাই বলল, "প্রভুর আর নাম কি হবে আমাদের, আল্লাহ।" তখন এলিয়েন আবার বলল, "আমাদের প্রভুর কোন নামই নেই।" এবার স্কুলের ছুটি আবার শেষ হয়ে গেল। তারা ফিরে যেতে নিল। আর বাচ্চারা ওদের ধরে রাখল, "না, না। আর যেতে পারবে না।" কিন্তু এলিয়েনরা যাদু দিয়ে বাচ্চাদেরকে সরিয়ে দিয়ে ফুরুত করে সরে গেল। কেউ বুঝতে পারল না। তারপর তাকিয়ে দেখল সবাই, এলিয়েন নেই। বাচ্চারা এবার সবকিছুতেই খুব অমনোযোগী। গল্প শেষ।

গরমের দিন

গরমের দিনে রিতার দাদা রিতার ভাইকে নিয়ে ঠাণ্ডা পানিতে সাঁতার কাটছে।

রিতা: দাদা! ভাই! তোমরা সাঁতার কাটছ কেন?
দাদা: গরমের দিনে ঠাণ্ডা পানির মধ্যে থাকতে খুবই আরাম লাগে। তুমি তো ছোট। তুমি সাঁতার কাটতে পারবে না।
রিতা: তাই নাকি? অনেক ঠাণ্ডা বুঝি? তাই তো। গরমের দিনে ঠাণ্ডা জিনিসই তো ভালো লাগে। আমি সাঁতার কাটব।
ভাই: না, রিতা। দাদা বলার পরেও কেন তুমি শুনছ না? তুমি গোসল করতে পারবে না। ঠিক আছে, তবে তুমি বালতি নিয়ে এসে পুকুর থেকে পানি উঠিয়ে উঠিয়ে গোসল কর।
দাদা: খুবই ভালো হবে। তুমি মাকে বল একটি বালতি এনে দেবে। মগ দিয়ে পানি উঠিয়ে উঠিয়ে গোসল কর। দেখ খুব আরাম লাগবে।
ভাই: দাঁড়িয়ে আছ কেন গো? জলদি করে নিয়ে আস।

রিতা মায়ের কাছ থেকে বালতি ও মগ নিয়ে এল। গোসল করা শুরু করে দিল। প্রথমে এক মগ দিয়েই ভাইকে বলল, "ভাই! তোমরা এতক্ষণ ধরে এত আরাম করলে? আমার মনে হচ্ছে আমি কেন বড় একটি বালতির মধ্যে এইরূপ পানি নিয়ে সেই পানির মধ্যে বসে যাই। তোমরা কত আরমা করছ! তোমরা সেই কখন থেকে এক সেকেন্ডও পানি ছাড়া থাকলে না। আর আমি এক মগ দিয়ে আবার পানি নিতে যতটুকু সময় লাগে তার মধ্যে আমি গায়ে পানি ঢালতে পারি না। আর দাদা ভাই তো শুধু পানির মধ্যে ডুবই দিতে থাকে। আমি যদি দাদা ভাই আর তোমার মত সাতার শিখতে পারতাম, তাহলে আমিও সারাক্ষণ ডুব দিয়ে থাকতাম।

দাদা: ওরে মেয়ে! অনেকক্ষণ কি? এক সেকেন্ডও তুই ডুব দিয়ে থাকতে পারবি না। তুই কি পারবি নাকি? শ্বাস নেয়া লাগে না? আমি তো তাও শ্বাস বন্ধ করে ডুব দিতে পারি। তুই তো তাও কত ছোট। ডুব দিতেই পারবি না।
রিতা: দাদা! তুমি আমায় তুই বলে কথা বলছ কেন? 'তুমি' বলতে পার না?
দাদা: একটু রাগ হয়েছে, তাই বললাম।
রিতা: এই দাদা! আমি যদি তুমি হতাম, তাহলে খুবই ভাল হতো। কাল আমি সাঁতার শিখে পানির মধ্যে খেলব।

তখন দাদা ও ভাই দু'জনেই: রিতা! তুমি সাঁতার শিখবে। সাঁতার শেখার কোর্স আছে না, তুমি শেখানে ভর্তি হয়ে যাবে। আজকেই কোর্স করে আসবে বিকালে। এখন তো খুব সকাল। ৯টা মাত্র বাজে। জলদি জলদি গোসল করে ফেলব। ভাটি আসার আগেই জোয়ার যখন আছে, তাড়াতাড়ি করে ফেলি।

রিতা: ঠিক আছে। আমি এখনই কোর্স করব।
দাদা: ভর্তি হয়ে নাও আগে। এই তো তোমার ভাই দিয়ে আসবে কোর্সে ভর্তি করে।
ভাই: উমঁ! তুমি নিজে কেন কাজ করছ না? আমাকে দিয়ে কেন কাজ করাচ্ছ? আমি করতে পারব না। আমার আরাম লাগছে। তুমি যাও।
দাদা: এই, আমাকে বকাবকি করছ কেন? আমি কিন্তু তোমার চেয়ে বড়, ভুলে যেও না। বড়র চেয়েও বড় তোমাদের। মানে তোমাদের বাবার বাবা। এবার বুঝেছ?
রিতা: ঝগড়া করো না। দু'জন মিলেই আমাকে ভর্তি করে দেবে এখনই।
ভাই, দাদা: তুমি চুপ কর। আমাদের গোসল শেষ হয়ে নিক, তারপরে। বকা দিচ্ছি বলে আবার কান্না শুরু করে দিও না। আমাদের খুব আরাম লাগছে। আমরা একটু পরে তোমাকে ভর্তি করে দিয়ে আসব। তুমি তাড়াতাড়ি গোসল শেষ কর।
রিতা রাগ হয়ে উল্টো বকে: এই! তোমরা আমায় বকছ কেন? এত আরাম দরকার নেই।

পরের দিন সাঁতার শিখে সে পানির মধ্যে খেলল বল। পানির মধ্যে বল খেলে। সেই বলটি পুকুরের গভীরে তলিয়ে যায়। দাদা আবার ডুব দিয়ে সেটা খুঁজে বের করে আনে।

(দু'দিন পর)
রিতার আবার মিষ্টি খাওয়া নিষেধ ছিল। সে দেখল, দাদা ও তার ভাই আইসক্রিম খাচ্ছে। 
রিতা: তোমরা লুকিয়ে লুকিয়ে কি খাচ্ছ?
দাদা: আইসক্রিম খাচ্ছি। তোমার খাওয়া নিষেধ। তুমি খাবে না। আইসক্রিম তো মিষ্টি।
রিতা: আইসক্রিম কি খুব মজা নাকি এমন হাউমাউ করে খাচ্ছ যে?
ভাই: খুবই মজা।
দাদা ভাইকে মাইর দিয়ে: তুমি বললে কেন, খুব মজা? ও তো এখন খেতে চাইবেই। ওর নিষেধ তুমি জান না? ভাই হয়েছ কেন তাহলে?
ভাই: আমাকে বকছ কেন? আমাকে মারছ কেন? আমি তোমাকে বলেছি যে, আমাকে মার? ওর তো খাওয়াই নিষেধ। ও তো খেতেই পারবে না। অযথা বলেছি তো কী হয়েছে? একটু কথা বলে মুখটা একটু চালু হয়। আরো বড় হয়ে মুখ দিয়ে পটর পটর কথা বলব।

তারপর রিতা একা একা বাবার পকেট থেকে টাকা নিয়ে ডাক্তারের কাছে চলে গেল। ওষুধ খেয়ে ফেলল। টাকা দিয়ে এল। তখন তার মিষ্টি খাওয়ার অনুমতি পেয়ে গেল। এখন সে মিষ্টি খেতে পারবে। সে এবার বাবা, মা, দাদা, ভাইকে রিপোর্ট দেখালো। আর বাবার পকেটটি খুলে বাবাকেও দেখাল যে, দেখ, তোমার পকেটের সব টাকা চুরি করেছে তোমার মেয়ে। চুরি করে সে ভালই করেছে। ডাক্তারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছে মিষ্টি খাওয়ার। দেখ তোমার মেয়ের রিপোর্ট।
এবার সে আইসক্রিম খাওয়া শুরু করল। তারপর ললিপপও ফ্রিজে রাখা ছিল। সেইটা বের করল। কোন গরম দেয়া নাই। বরফ হয়ে রয়েছিল, তাই একটু ধুয়ে ধুয়ে ছুটিয়ে ছুটিয়ে খেয়েছে। গরমের দিন শেষ। গল্পও শেষ।

Tuesday, April 12, 2016

মজার পিঠা

দাদীর হাতের মজার পিঠার স্বাদ,
মজার পিঠা খেতে খেতে হয়ে গেল রাত।

কী সুন্দর মজার পিঠা!
খাবে আমার মাতাপিতা।

এই পিঠাগুলো আমরা
ভাগ করে খাই।
কারণ হল মজার পিঠা
আমরা খাই তাই।

Monday, April 11, 2016

বোকা মা

এক ছিল এক মহিলা। তার শখ ছিল তার ভাইবোনদের বাচ্চাদের মধ্যে তার বাচ্চাই যেন সবার বড় বোন হয়। তাই সে ভাবল যে, ইস! এখনই যদি হাসপাতালে গিয়ে পেট কেটে একটি বাচ্চা বের করে নিতাম! বোকা না মা টা? পেটে বাচ্চাই আসেনি। অথচ শুধু শুধু হাসপাতালে গিয়ে পেট কেটে যন্ত্রণা ভোগ করল। এখন সে সেইটা ভাবতে শুরু করল। তার কিন্তু বিয়েই হয়নি। সে তাড়াতাড়ি বিয়ে করার ..

শিক্ষা: সবকিছুতে প্রতিযোগিতা ও তাড়াহুড়া করতে নেই।

Sunday, April 10, 2016

Shining Star

Shine shine star
In the sky.
I can't count all
Because it is high.

Its look very shining
Day and night.
We can see the stat
At the night.

Days are also
It can't seen.
You know that color is
Yellow or green.


Q/A.
1. What is the color? Yellow, or green?
2. What about this poem we read?

Write in another copy

Saturday, April 9, 2016

ভালো লোক

এক ছিল এক গরীব কিন্তু খুব ভালো লোক। সে আল্লাহর কথা খুব ভালো করে মানতো। এমনকি তার কাছে এক চিমটিও টাকা ছিল না। তার যা আছে তা দিয়েই সে টুপি আর দিক গণনা করার কম্পাস কিনল। যা দিয়ে সে বুঝতে পারবে নামায কোথায় পড়তে পারব আর নামায কোথায় পড়তে পারব না। আল্লাহ তার পরীক্ষা নিচ্ছিলেন যে, সে কি এতটাই সৎ লোক? কি দিয়ে জান? সে তো জায়নামাযও কিনেছিল তার যা আছে তা দিয়ে, ছো্ট্ট একটি জায়নামায। সে দেশে-বিদেশে হেঁটে হেঁটে বেড়াতো। দেখতো, তার মতো কোন সৎ লোক আছে কিনা, যে গরীব মানুষদেরকে তার কিছু অংশ দান করে। আর সে নামাযের সময় হলেই কোন না কোন জায়গা থেকে আযান শোনার চেষ্টা করে। আর জায়নামায, দিক গণনা করার কম্পাস আর টুপিটি সে সবসময় সঙ্গে রাখে; যাতে সে নামাযটা ভালো করে পড়তে পারে। খাবার-দাবার সেগুলো তার কাছে তেমন মূল্যবান নয়। তার কাছে আল্লাহকে মানা এবং আল্লাহর কথামতো চলা এগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন মোনাজাত করতো। প্রত্যেক নামাযের পর। এখন আল্লাহ তার পরীক্ষা নিচ্ছিলেন কিভাবে, সেটার বর্ণনা দিচ্ছি। যে দেশে অনেক ঝড় হয়, অনেক জোরে বৃষ্টি হয়, অনেক জোরে বাতাস ওঠে- এমন জায়গা গেল সৎ লোকের খোঁজে। আল্লাহ পরীক্ষা নিচ্ছিলেন, সে এখন নামায কি করে পড়ে। আল্লাহ অনেক জোরে ঝড় উঠিয়ে দিলেন। কম্পাস ও জায়নামায দুটিই উড়ে গেল। সে এখন আল্লাহর কাছে জিজ্ঞেস করল যে, "আল্লাহ জায়নামাযটা তো গেলই, জায়নামায না থাকলেও এমনি মাটিতে বসে পড়তে পারতাম, কিন্তু কম্পাসটা যে উড়ে গেল, আমি দিক কিভাবে বুঝব? নামায কোন দিকে ঘুরে পড়তে হবে, সেটাই তো বুঝতে পারছি না। আল্লাহ, তুমি আমাকে বুঝিয়ে দাও, কিভাবে আমি কোন্‌ দিকে নামায পড়ব।" এইটাই হচ্ছে তার এক নম্বর পরীক্ষা। সে পরীক্ষায় পাস করতে পারল। কারণ সে নামাযের জন্য আল্লাহর কাছে খুবই কাকুতি মিনতি করল। আল্লাহ খুশী হয়ে উল্টো দিকে ঝড় উঠিয়ে কম্পাস ও জায়নামায দুটিই ফিরিয়ে দিলেন। সৎ লোকটি খুব খুশী হলো। সে বলল, "আলহামদুলিল্লাহ।" সে জায়নামায ও কম্পাস পেয়েই নামায পড়া শুরু করে দিল। সে অন্য সময় তো সময় পায় না সব রাকাত পড়ার, শুধু ফরযটুকু পড়তে পারে। এখন সে সুন্নত, বেতের সব পড়ল। পড়ে সে আবার পথে চলতে লাগল। আল্লাহ তার দ্বিতীয় পরীক্ষাটা নিতে চাচ্ছিলেন। কি দিয়ে জান? তখন আল্লাহ সব নদীর পানি শুকিয়ে দিলেন। তখন বর্ষাকাল ছিল। তাও কোন বৃষ্টি আল্লাহ দিচ্ছিলেন না। এখন নামাযের সময় হয়ে এসেছে। নামাযের সময় সেই লোকটি ওযুর পানি পাচ্ছিল না। সে আল্লাহর কাছে জিজ্ঞেস করল যে, "আল্লাহ! তুমি কেন আমার সাথে এরকম করছ? আল্লাহ তুমি আমার আশেপাশের নদী কেন বন্ধ করে দিয়েছ, আল্লাহ? একটুখানি পানি তো আমাকে দাও।" এখন আল্লাহ তার মনের মধ্যে বুদ্ধি দিয়ে দিলেন যে, অনেক অনেক মাটি খুঁড়ে অনেক নিচে পাবে পানি। সেই পানি উঠিয়ে ওযু করতে হবে। এই বুদ্ধিটি দিলেন তাকে আল্লাহ। সে বুদ্ধি পেয়ে বলল, "আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ, তুমি আমাকে এই বুদ্ধিটা দিয়েছ। খুবই ভালো বুদ্ধি দিয়েছ।" এই বলে সে অতি কষ্টে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে খুঁড়তে খুঁড়তে তাও মাটির নিচে পানি পেল না। তখন তার মনে হলো যে, এমনি মাটি যেখানে ছিল সেটা খুঁড়লে তো পানি পাওয়া যাবে না। যেখানে নদী ছিল সেই জায়গাটা খুঁজে আমাকে বের করতে হবে। সে খুব কষ্টে হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে সে মনে করতে চাচ্ছিলো যে, কোন্‌ জায়গায় নদীটি ছিল। অনেক খুঁজে তার মনে হলো, যেদিকে নামায পড়েছি আজ, তার সামনেই তো একটা নদী ছিল। আমি তো এদিকে নামায পড়তাম। তাহলে তার সামনে একটু খুঁড়ে দেখি তো। অনেক কষ্টে সে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে শেষে একটু পানি পেলো। সেই পানিতে সে খুব কষ্টে হাত গর্তের ভিতর ঢুকিয়ে একটু একটু করে পানি বের করলো। সে দেখল, নামাযের সময় তো চলে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি করতে হবে আমাকে। সে তাড়াতাড়ি করে ওযু করে ফেলল। আল্লাহ দেখছিলেন যে, সে এইটা করে কিনা, আমি আবার পড়ে যাব নাতো গর্তের মধ্যে? মাটি বন্ধ করতে গিয়ে নামাযের সময় পার করে ফেলে কিনা। কিন্তু সে ভাবল যে, আমি অত ভয় পাব না। একটু পিছিয়ে পড়লেই তো হয়। সে ওযু করে নামাযে বসলো। নামায শেষ করে সে গর্ত ভরাট করে দিল। সে দ্বিতীয় পরীক্ষায় পাস করল। আল্লাহ চাচ্ছিলেন তাকে তিনটা পরীক্ষা নিতে। কি পরীক্ষা নিতে চাইছিলেন জান? একদিন সে নামাযে দাঁড়ালো। নামায শেষ করে পিছনে তাকিয়ে দেখল, এক ঝুড়ি পেয়ারা। সে ভাবল, ওমা! নামাযে দাঁড়ানোর আগে তো এই পেয়ারাগুলো ছিল না। আর আমি তো কোন মানুষের শব্দও পাইনি নামাযের সময়। আর আশেপাশে মানুষের কোন কিছু দেখতেও পাইনি। তবে এটা আসলো কোথা থেকে? আল্লাহ সব করতে পারেন। আল্লাহ নিশ্চয়ই এই ফলগুলো দিয়েছেন। একটু খেয়ে দেখি। আর ওখান থেকে হঠাৎ এক গরীব লোক এসে হাজির হলো। তার কিছুই নেই। শুধু একটি ছেড়া গেঞ্জি আর একটি লুঙ্গি। তার তেমন কিছুই ছিল না। সে অনেক দিন ধরে না খেয়ে কোন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিল। যেখানে পারে সেখানেই থেকেছিল। সে ঐ লোকটিকে বলল, "আমাকে কিছু পেয়ারা খেতে দেবে? আমি অনেক দিন ধরে কিছুই খাইনি। শুধু একটি পুকুরের থেকে একটু পানি খেয়েছি। কিছু পেয়ারা খেতে দাও না।" তখন ভালো লোকটি তার পেয়ারা থেকে বেশির ভাগ পেয়ারাই সেই লোকটিকে খেতে দিয়ে দিল। তখন ঐ লোকটি সেই পেয়ারাগুলো নিয়ে চলে গেল। আর এই ভালো লোকটি যতটুকু পেয়ারা তার কাছে এখন আছে সেটুকু খেয়েই চলল। আল্লাহ তা দেখে খুশী হলেন। আল্লাহ এবার তাকে কিছু পুরস্কার দেবেন। কী পুরস্কার জান? তাকে একটা বড় বাড়ি, দুইটি আম গাছ, একটি নদী ও একটি ধানের ক্ষেত তাকে উপহার দিলেন। আর বাড়ির পিছনেই দিলেন একটি মসজিদ। সে গভীর বনের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছিল। কিন্তু সে হাঁটতে হাঁটতে একটু সামনে আগানোর চেষ্টা করল। সে ভাবল, সামনে কি যেন দেখছি খুব সুন্দর। একটু গিয়ে দেখি তো। গিয়ে দেখলো, কী সুন্দর নদী, আম গাছ, বাড়ি, ধানের ক্ষেত। তারপর গিয়ে দেখল অনেক সুন্দর। সে বলল, "এ তো অনেক সুন্দর। এটা কার বাড়ি। নিশ্চয়ই অন্য কোন লোকের বাড়ি। কার বাড়ি তা নিয়ে ভাবতে হবে না। আমি দূরে কোথাও চলে যাই।" কিন্তু সে তো সেটা তার উপহারই বুঝল না। এখন কী হবে? তখন আল্লাহ তার মনের মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেন যে, এটা তারই বাড়ি। তার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। তখন তার মনের মধ্যে সেটি ঢুকে গেল। সে ভাবল, "একি! আমার বাড়ি নাকি? আমার মনের মধ্যে কেমন যেন মনে হচ্ছে। আমি এতগুলো ভালো কাজ করেছি আজ। তবে আল্লাহ তো আমাকে কোন পুরস্কার দিলেন না। এটা কি সেই পুরস্কার? আমি তো বুঝতে পারছি না। কিছুই তো বুঝতে পারছি না। সত্যিই কি তাই? এটা কি আমার বাড়ি। একদিন অপেক্ষা করে দেখতে হবে। এই বাড়ির ভিতরে কেউ আসে কিনা। আর জানালা দিয়েও উঁকি দিয়ে দেখতে হবে, ভিতরে এখন কেউ আছে কিনা। জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে সে দেখল, কেউ নেই। আর ভাবল, কিছুদিন আগে তো ঝড় হয়েছিল ঠিক এই জায়গাটাতেই। তবে তখন তো এটি ছিল না। আর যদি বাড়িটি ঝড়েও উড়ে যেত, তাহলে শুধু বাড়িটিই যেত, ফসল কি ঝড়ে উড়ে যেত। আর তখন ফসল-টসল কিছুই ছিল না। আর ফসল যদি থেকেও থাকে এবং নষ্ট হয়েও থাকে, তাহলে এত জলদি আবার তা ফিরে আসবে কি করে? আর ঘরও যদি উড়েও যায়, তাহলে সেটা ফিরে আসেই বা কি করে? আমাকে বুঝতে হবে। একদিন অপেক্ষা করি, এখানে কেউ আসে কিনা। তারপর সে দুই দিন অপেক্ষা করে দেখল, বাড়িতে কেউ নেই। তারপর দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করল দেখার জন্য। কিন্তু সে ভাবল যে, এতদিন তো কারো বেড়াতে যাওয়া সম্ভব নয়। এতদিন কেন বেড়াবে মানুষ? মানুষের কি কোন কাজই থাকে না, সব কাজ ছেড়ে এ কাজ করবে? অবশেষে সে বুঝতে পারল, এটাই তার উপহার। তখন সে বলল, "আলহামদুলিল্লাহ। সে তার জায়নামাজটি ও টুপিটি ও কম্পাসটি নিয়ে গেল ঘরের ভিতরে। দেখতে চাইল, ঘরের ভিতরটা কেমন সব? দেখল, ওমা! এটা আবার কেমন ঘর? ঘরের ভিতরেই বিছানা আছে, চেয়ার, টেবিল, তারপর খাবার-দাবার টেবিলের উপরে, আলমারি, আলমারির ভিতরে অনেক কোরআন, বই, তসবীহ, সুন্দর জায়নামাজ, সুন্দর সুন্দর টুপি, চিরুনি এমনকি বাথরুমের ভিতর বালতিও যে রাখা আছে। সে খুব খুশী হলো। তারপর সে দেখল যে, ওমা! এখানে আবার সিড়ি কিসের? বেয়ে দেখি তো। সিড়ি দিয়ে উঠে দেখল, ওমা! ছাদ। কী সুন্দর! ছাদের উপর পানির ট্যাংকও দেখি আছে। আবার ছাদে বসে বাতাস খাওয়ার জন্য বা কোন কাজ করার জন্য বসার টুল ও চেয়ারও রাখা আছে। একটি ছোট্ট টেবিলও রাখা আছে। মেহমানদের বাতাস খাওয়ানোর আর ভালো ভালো খাবার খাওয়ানোর জন্য সেই টেবিলগুলি। সে আরও খুশী হয়ে পড়ল। ২৪ ঘন্টা আলো, বাতাস সব ফ্রি। আর ইচ্ছে করলে বাতাস খাওয়ার জন্য সেই বাড়িটির ছাদের ভিতর ঘুমানোও যাবে। একটি ছোট্ট বিছানাও আছে। বসে বসে বাতাস খাব, আর ঘুমোবো। বাড়ির এখানে দেখছি একটি দোকানও আছে। আর এই মানুষটিকে তো আমি কোনদিনও দেখিনি। এ তো সেই দোকানদার। আর এইটার মধ্যে আরো অনেক কিছু আছে। খাবার, বই অনেক কিছু। আমার তো খুবই ভালো হয়েছে। আমার জীবনে এত বড় ভালো জিনিস থাকবে, আমি ভাবতেও পারিনি। আমি এ খুশীর কথায় একটা শব্দও মনে আনতে পারিনি। আল্লাহর শুকরিয়া। আল্লাহ যা চান তাই হয়। এটা কিসের উপহার? আল্লাহর কাছে সে জিজ্ঞাসা করল। তার মনের মধ্যে আল্লাহ বুঝিয়ে দিলেন, "আল্লাহ তোমার পরীক্ষা নিচ্ছিলেন তিনটি। এক নম্বর ঐ ঝড়ের ঘটনাটি, দুই নম্বর ওজুর পানির ঘটনা, তিন নম্বর গরীবকে তুমি পেয়ারা দান কর কিনা। নামায পড়ার জন্য নামাযের জিনিস হারিয়ে গেলে সেগুলো খোঁজা, তারপর ওযু করার পানি না পেলে সেটা কষ্ট করে খুঁজে বের করা, তারপর অনেক গরীব যারা কোন খাবার পায় না তাদেরকে খাবার দেয়া- এ সবগুলোই তো খুব ভালো কাজ। আমি এই ভালো কাজগুলো করেছি। তাই আল্লাহ খুশী হয়ে আমাকে এই উপহারগুলো দিয়েছেন।

লোভী কন্যা

এক দেশে বাস করত এক লোভী কন্যা। তার ছিল একটি ধনী বন্ধু। সে তার বন্ধুকে বলল, "বন্ধু! তুমি আমাকে অনেক টাকা দেবে। আমি তোমার বন্ধু না? আমাকে তো টাকা দেয়া দরকার। বন্ধু কি বন্ধুর উপকার করে না?" তখন বন্ধু বলল, "তবে তোমার কি উপকারে টাকা লাগবে।" তখন সেই লোভী কন্যাটি বলল, "ঐ তো টুকটাক সব কাজের জন্যই তো টাকা লাগে। অনেক সব কাজের জন্যই তো টাকা লাগে। দেশে-বিদেশে যেখানেই যাই।" সেই দেশের এক কোণায় বাস করত এক খুবই খারাপ হিজড়া। সবার কাছে যেত আর বলত, তোমার সব টাকাই আমাকে দিয়ে দাও। একটুখানি দিলে তো হতোই না। লোভী কন্যাটির কাছে কিন্তু খুব কম টাকা ছিল। কিন্তু তখন বন্ধু বলল যে, "ঠিক আছে, ক'দিন পরে তোমাকে দেব টাকা। দেব অনেক অনেক টাকা।" তখন লোভী কন্যাটি বলল, "না, বন্ধু। কালই আমাকে সব টাকা দেবে তুমি।" তখন বন্ধুটি বলল, "ঠিক আছে যা বল তুমি, তাই হবে।" তার বন্ধু তাকে তার পরেরদিন খুব সকালবেলা ভোরে উঠেই টাকা নিয়ে রওয়ানা দিল লোভী কন্যাটির বাড়ির দিকে। সকাল বেলা সকাল ১০ টায় সে গিয়ে পৌঁছুলো। গিয়ে দেখল, লোভী কন্যাটি এখনো ঘুমাচ্ছে। সে বলল, "এই বন্ধু! তুমি এখনো ঘুমাচ্ছো কেন? ওঠ, ওঠ, দেখ তোমার জন্য কি এনেছি।" তখন লোভী কন্যাটি উঠে বলল, "দাও দাও দাও দাও দাও, দাও না টাকা।" দেখেছ তার কেমন আচরণ? এভাবে মানুষ মানুষের কাছে তাড়াতাড়ি করে কাড়াকাড়ি করে চেয়ে নেয়? এমনিতেই তো তাকে দিত। লোভী কন্যাটি আবারো বলল, "দাও না কেন? জলদি দাও।" বন্ধু দেখল, "ইস! আমার বন্ধুর এমন আচরণ তো আমি দেখিনি। আমার বন্ধু এমন হয়ে গেল কেন? মানুষ একটা বাসায় আসলে বসতে দেয়, খেতে দেয়। এর তো তাও না। এ যে দেখছি আসার সাথে সাথেই চায়। কেমন আমার বন্ধু?" তখন বন্ধু বলল, "নাও, নাও, নাও। তোমার টাকা।" তখন লোভী কন্যাটি বলল, "হ্যাঁ, হ্যাঁ, বন্ধু, দাও।" লোভী কন্যাটি টাকা নিল। তারপরে বলল যে, "নাও, এবার তুমি চলে যাও। আর কি কাজে থাকবে? যাও, তোমার বাড়ি।" তখন বন্ধু ভাবল যে, "ইস! এত খারাপ আমার বন্ধু?" তারপর কি হলো জান? লোভী কন্যাটি বলল যে, "যাও এ সিড়ির কাছে। তুমি তো বাসায় অনেক এসেছ। তুমি তো চিনবেই, যাও। আমি বসে বসে টাকাগুলো গুনি। বাবা! কত টাকা! চলে যাও তুমি, বসে বসে কী দেখছ? পরে আবার আরেকদিন আসবে।" তখন বন্ধু ভাবল, "ছি ছি ছি ছি! এ আবার কেমন? মানুষ মেহমান আসলে একটু আগিয়ে দেয়, বলে, আবার এসো, বিদায়! কিন্তু এর তো দেখছি কিছুই নেই। এমন করছে কেন?"- বলে বন্ধু মনের দু:খে বাড়ি ফিরে গেল। আর ভাবল, আর কোনদিনও ওর বাড়িতে আমি যাবই না। দেখা হলে আমিও বলব যে, "টাকা দাও আমায়।" আমি তো সবসময়ই ওকে দাওয়াত দিই, ও আসে, ওকে আদর করে ঘরে নিয়ে যাই, বসতে দেই, নাস্তা সাজিয়ে দেই সামনে, বাতাস করি, তাড়াতাড়ি চলে যেতে দেই না। বসে বসে একসাথে কথা বলি। তারপর ফিরে যাওয়ার সময় "বিদায় বন্ধু, আবার আসবে আমার বাড়িতে" এসব বলি। কিন্তু আমার সাথে বন্ধু এমন করল কেন? এবারে ঐ হিজড়ার কথা। সেই হিজড়াটি এল ঐ লোভী কন্যাটির কাছে। বলল যে, "এই! আমায় টাকা দাও। আমি কিন্তু অমন সাধারণ নই। আমি কিন্তু একটুখানি ইচ্ছা করে দিলেই হয় না। তোমার কাছে যা টাকা আছে আমায় সব টাকা দাও। নইলে কিন্তু এমন গালাগালি করব।" তখন লোভী কন্যাটি কী আর করার! সব দিয়ে দিল ঐ লোভী হিজড়াটিকে। তখন সে ভাবতে লাগল, "ইস! আমি যদি আরেকটু পরে এই টাকাগুলো নিতাম, তাহলে আমার টাকাগুলো থেকে যেত। এখন তো আমায় আর কেউ টাকা দেবে না। আর আমি এত বোকা কেন? সবসময় ঘরের বাইরে বসে বাতাস খাই? তাও আবার যা টাকা আছে সব সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াই কেন? আর বাসায় রেখে আসলে তো লাভ নেই। (হিজড়াটা) বলবে, এত কম কোন মানুষের টাকা হয় না, আরো দাও।" আর ঐদিকে বন্ধু বলল, "তাও আবার আমার কাছে টাকা চায়, ছি! আর ঘরে ঢোকার সাথে সাথে একটু আদর করে বসাবে, তাই না? শুধু টাকা দাও টাকা দাও শুরু করেছে। আর একটু ধৈর্য্যও ধরে না। যা আছে আমার ঘরে সব দিয়ে দিয়েছি। আমার এখন আবার ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে হবে। আমার তো সময়ই থাকে না। ওর তবু অনেক সময় থাকে। কত কাজ আমার! একটি মহিলা মানুষ আমার পরিবারে। তাও আবার বুড়ি। আর অন্য সব ছেলে মানুষ। তারাও বুড়ো। আর আমার পরিবারে তো পাঁচজন আছে। একজন তো ঐ বুড়ি, মানে আমার মা, আরেকজন আমার বাবা, আর তার ভাই থাকে, আর বাকি থাকে কিছু বাচ্চা, মানে আমার ভাতিজা-ভাতিজী। তাদের সবার জন্য রান্না করতে হয়ও আমার। ছেলে মানুষ কি রান্না করে? আবার ঘরের বউমারা যেমন কাজ করে, আমাকে সেই সব কাজগুলো করতে হয়। বাচ্চারা সারাদিন খেলে, একটু সাহায্য করবে তা না। আর আমার ঐ বন্ধুর অবস্থা দেখে আমার একটুও ভাল লাগে না। খুবই অশান্তি লাগে। উহ! আর ভাল্লাগে না। ওর সাথে দেখাই করব না। দেখা করতে গেলেই কিছু না কিছু দায়িত্ব দিয়ে দেয়।" আর ঐদিকে লোভী কন্যাটি এখন থেকে গরীব হয়ে পড়ল।

পরের বার: 
কিছুক্ষণ আগে খারাপ কর্ম করলে খারাপ ফল হতো। আর এখন ভালো কর্ম করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। ভালো মানুষ তো বন্ধুটি। এবার বন্ধুর কথা বেশি থাকবে। পাঁচ বছর ধরে সেই বন্ধুটি তার পরিবারের জন্য অনেক রান্না করেছে। অনেক যত্ন করেছে। বাচ্চারা তো খেতে চায় না। বাচ্চাদের মন ভুলিয়ে রেখে খাইয়েছে। আর বাচ্চারা চেয়ার-টেবিলে শান্তশিস্টভাবে খায় না। তাদেরকে বলেছে, "যদি টেবিলে বস, তাহলে তোমাদেরকে আরো অনেক কিছু দেব।" আর তখন তার সেই কম টাকা দিয়েই বাচ্চাদের জন্য জিনিস কিনেছে। বাচ্চারাও মজা করত যে, মামার হাতে খাবার খাওয়া মজা। সে তো অনেক কষ্ট করেছে। একদিন সে বাজারে গেল। বাড়ি তালা দিয়ে। তার ভাগ্নিরা সব স্কুলে। আর বুড়ো-বুড়িরা আবার কি যেন কাজে গেছে। এখন সবাই বাড়ি ফিরে দেখল, তাদের বাড়িটি নেই। সবাই বলল, "আমাদের বাড়িটি কোথায় গেল?" সবাই মিলে অন্য দিকে খুঁজতে গেল। সবাই এসে দেখল যে, ওমা! একি? তাদের বাড়িটি নেই, তাদের ঐ আগের পুরানো বাড়িটা নেই আর। সেই বাড়িটি রেখে অন্য একটি দোতলা সুন্দর বাড়ি, প্রত্যেকটা রুমের সাথে বারান্দা, কী সুন্দর ছাদ, খোলামেলা জায়গা। তার মানে হচ্ছে, ভাল কাজ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়, খারাপ কাজ করলে খারাপ ফল পাওয়া যায়। শিক্ষাটি পড়ে দেখ।

শিক্ষা: যেমন কর্ম তেমনি ফল।