Saturday, December 9, 2017

গরীব লোক

এক ছিল এক গরীব লোক। তার প্রথম থেকে এক পয়সাও ছিল না, টাকা তো দূরের কথা। সে এখন কী করবে? কিন্তু সে বুদ্ধিতে খুব পাকা ছিল। সে শহরে এল। সে দেখল, একটা দোকানে অনেক কাঠাল। সে জায়গায় খুব কম দামেই বিক্রি হতো। কিন্তু ঐ কাঠাল কিনতে যতটুকু টাকা লাগবে, সেটুকুই তো তার ছিল না। সে দেখল, কিছু দোকানে খুব নোংরা জমেছে। সে একটা দোকানের দোকানদারকে বলল, "ভাই! তোমার দোকানটা খুব নোংরা হয়ে গেছে। আমি যদি পরিস্কার করে দেই, তাহলে কি কিছু টাকা পাওয়া যাবে?" দোকানদার বলল, "ঠিক আছে। দেখি, কেমন পরিস্কার করতে পার। যত গ্রাম ময়লা বের হবে, ততটা ৫ টাকার নোট দেব। রাজি তো? আর যদি একটাও ময়লা না বের হয়, তাহলে এখনই আমাকে ১০ টাকা দেবে।" তখন গরীব লোকটি ভাবল, কী রে! আমি কি এত বোকা নাকি? ময়লা না দেখে কি আর এসব প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি? সে বলে দিল, "আমি রাজি। আমি এক্ষণি পরিস্কার করে দিচ্ছি।" পরিস্কার করার পর এক কেজি ময়লা বের হলো। দোকানদার তো হা হয়ে গেল। সে ভাবল, সকাল বেলা ৫ হাজার টাকা দিয়ে দিতে হবে এই গরীব লোকটাকে? হায়রে কপাল! কেন যে এমন করে বলতে গেলাম! আগে দেখে নেয়া উচিত ছিল, কতটা ময়লা জমেছে। ধুত, এখন টাকাগুলো ঢালতে হচ্ছে। সে ৫ হাজার টাকা মুখ গোমরা করে গরীব লোকটাকে দিয়ে দিল। গরীব লোকটা ১০০ টাকা দিয়ে একটা বড় কাঠাল কিনল। ধনী লোক হলে এক বেলায় শেষ করে দিত। কিন্তু সে ঐ একটা কাঠাল এক সপ্তাহ ধরে খেয়ে ফেলল। আর বিচিগুলো জমিয়ে রাখতে লাগল। তারপর সে ঐ টাকা থেকে কিছু টাকা সঙ্গে নিয়ে এল। সে একটা খালি মাঠ দেখতে পেল। সে একজনকে জিজ্ঞেস করল, "এই মাঠটা কার, ভাই?" লোকটা বলল, "কি যে বল না, এই মাঠটা তো আমারই। বিক্রি হবে। ১,০০০ টাকা পড়বে। নেবে নাকি?'' সেই লোকটি আসলে তর্ক করে বলেছিল।  ভেবেছিল, অত টাকা দেয়া তো দূরের কথা, নাম শুনেই পালিয়ে যাবে। কিন্তু গরীব লোকটি এক কথায় 'হ্যাঁ' বলে দিল। সে এক হাজার টাকা সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দিল, আর সঙ্গে সঙ্গে যার মাঠ সেই নামওয়ালা সাইনবোর্ডটি তুলে ফেলল। আর নিজের নাম লেখা একটি সাইনবোর্ড গড়ে তুলে ওখানে লাগিয়ে দিল। একটু পর সে ঐ বীচিগুলো নিয়ে এল। সে একজনের কাছ থেকে একটা কুঠার কিনে ফেলল। পাশেই একটি কল ছিল। সেটা যে কেউ ব্যবহার করতে পারে। সে একটি পানির পটও কিনেছিল। এরপর সে কুঠার দিয়ে মাটি খুঁড়ে তাতে কাঁঠালের বীজগুলো পুতে দিল। আর ঐ পানির পটে পানি ভরে রোজ ওখানে পানি দিতে লাগল। একটা কাঠালের অনেক বীচি। সে তিনটি গাছ পুতেছিল। গাছগুলো বড় হতে না হতেই দেখা গেল, কাঠাল ফলতে শুরু করেছে। এ কয়দিন সে তার রয়ে যাওয়া টাকাগুলো দিয়েই খাওয়া-দাওয়া ও সবকিছু সেরেছে। তার টাকাও প্রায় শেষ। কিন্তু গাছে কাঠাল এখনো একটুও পাকেনি। এই কাঠাল কেউ কিনবেও না। তাই সে আবার আরেকটা দোকানে গিয়ে ময়লা পরিস্কার করে কিছু টাকা নিয়ে এল। তা দিয়ে আরো দুই সপ্তাহ চালালো। আস্তে আস্তে দেখা গেল, কাঠাল পেকে যাচ্ছে। সে একটা ঝুড়ি নিয়ে তাতে অনেক কাঠাল পেড়ে ভরে ফেলল। তারপর সেই ঝুড়িটা মাথায় নিয়ে বাজারে গেল। সে বাজারে এমন একটা জায়গায় গেল, যেখানে মানুষ অনেক বেশি হাঁটাচলা করে। একদিনের মধ্যে প্রায় ১৫টা কাঠাল বিক্রি হল। সে একেকটার দাম ১০০ টাকা করে রাখল। ছোটগুলো ৭০ টাকা। সে আয় করল একদিনেই ১৪০০ টাকা। এমন করেই তার দিন চলতে লাগল এবং সে একটি বাড়িও কিনে ফেলল আর ভাল পোশাক-আশাকসহ বিয়েও করে ফেলল। এবং এভাবেই তাদের সুখে-শান্তিতে দিন কাটতে লাগল।

Thursday, November 30, 2017

ঠগবাজ দোকানদার

এক ছিল অনেক পর্দাশালী একটি মহিলা, কিন্তু সে ছিল বোকা। একদিন সে বোরখা কিনতে একটা দোকানে গেল। দোকানদার তাকে একটা ক্যাটালগের বই দিল। বলল, পছন্দমত একটা বোরখা চয়েস করুন, যেটা চাইবেন সেটাই দেব। পর্দাশালী মহিলাটি এমন একটা বোরখা পছন্দ করল, যেটা এত সুন্দর যে, সবাই কিনে কিনে শেষ করে ফেলেছে। দোকানদার তো মুশকিলে পড়ে গেল। সে ভাবল, প্রথমে এত আদর করে বললাম যে, পছন্দমত যে কোনটা চয়েস করলে দিয়ে দেব। কষ্ট করে দোকানে তো ঢোকালাম। কিন্তু এখন কী করব? এখন বললে তো মহিলাটি খুব রাগ হয়ে যাবে। সে ঐ same কালারেরই আরেকটা বোরখা বের করল। মহিলাটি ঐ বোরখাটি চেয়েছিল, কারণ ঐ বোরখাটির সঙ্গে একটি হিজাব ফ্রি। কিন্তু দোকানদারও ছিল ঠগবাজ। সে same কালারের আরেকটি বোরখা শুধু প্যাকেটটাই দেখাল, একটুুও খুলে দেখালো না। আর বোরখার রঙেরই আরেকটা হিজাবও দিয়ে দিল, কিন্তু খুলে একটাও দেখায়নি। আর এমন ভাব আর এমন পটানো কথা বলতে লাগল যে, মহিলাটি কথার ছলে ভুলেই গেল। সে আর খুলেও দেখতে চাইল না, আর ভাবল যদি খুলে দেখাতে বলি, তাহলে বেচারী ভাববে, আমি তাকে সন্দেহ করেছি, তাই দেখতে চেয়েছি। সে খুলে না দেখেই প্যাকেট করে দিতে বলল ভাল করে। তারপর সে ঐ বোরখা নিয়ে বাড়ি ফিরল। এত মিষ্টি ব্যবহারে দোকানদার যে ঠকাতে পারে কাউকে, সেটা ঐ মহিলা বুঝতেই পারল না। সে বাড়ি গিয়ে বোরখাটি খুলে দেখবে এখন। যেই না সে প্যাকেটটি খুলল; সে দেখল, উপরের ডিজাইনটা একটু অন্যরকম। এরপর সে পুরো ভাঁজটা খুলে হা হয়ে গেল। সেই বোরখার হাতা মশারীর। আর বোরখার নিচের পার্টে এমন কাপড় দেয়া, যে কাপড়ে নিচ দিয়ে সব দেখা যায়। কিন্তু মাঝখানেরটুক ছিল গর্জিয়াস। এরপর হিজাবটি খুলে দেখার পালা। দেখল, হিজাবটির ডিজাইনগুলো শুধু সুতির। হিজাবটা এমন কাপড়ের, যে কাপড়ের নিচ দিয়ে সব দেখা যায়। আর মাঝখানে মাঝখানে একটু মশারীর ফুল। মহিলাটি একদম রাগ হয়ে গেল। এটা কি বোরখা, নাকি বিদেশী ফ্যাশনিস্ট মেয়েদের ড্রেস? বুঝেছি, ঐ দোকানদার আসলে মিষ্টি কথা দিয়েই লোক পটায়। আর এমন এমন বোরখা-হিজাব দিয়ে লোক ঠকায়। তাই তো বলি, তাও একেবারে নরমাল বোরখার দাম। সে কিনুক বা বানাক, সে নিশ্চয়ই দামের দশগুণ কম খরচ করেছে। যাদের যাদের এমন বোরখা ও এমন হিজাব দিয়েছে, তারা ঠিক করল, পরের দিন ঐ দোকানে যাবে। আর ঐ মহিলাটিও তাই সিদ্ধান্ত নিল। তখন ঐ মার্কেটে সবাই জিনিসের সঙ্গে দোকানের অবশ্যই সিল মেরে দিত, কিন্তু ঐ দোকানদার দেয়নি। আর কোন চিহ্নও দেয়নি। এমনকি প্যাকেটেও না। সবাই ঐ জামা নিয়ে পরের দিন ঐ দোকানে গেল। সেই দোকানের সামনে এত ভিড় হয়ে গেল যে, সব লোকজন কৌতুহলী হয়ে অন্য দোকান ছেড়ে ঐ দোকানেই দেখতে যাচ্ছে। অন্য দোকানের সবাই তো রাগ করছে। এখন দোকানদাররাও ঐ দোকানে ভিড় দেখে উৎসুক হয়ে গেল। তারপর গিয়ে একজন ক্রেতা চিৎকার করছে, "এই আপনার বোরখা? আর এই আপনার হিজাব? মনে হচ্ছে just ফ্যাশন। এগুলো কি পর্দা করার জিনিস? ইচ্ছা করে আপনাকে পড়িয়ে দেই। এ তো ছোট বাচ্চাদের পার্টি ড্রেসের থেকেও লেংটু-পেংটু পোশাক। এটা কোন বোরখা হলো? ঠগবাজ কোথাকার! বলতে দ্বিধা করি না।" এরপর দোকানদার বলল, "কোন্‌ দোকান থেকে কিনেছেন, তার ঠিক আছে? এসে আমাকে ঝাড়ি মারছেন! কোথায়, আমার কোন চিহ্ন আছে এখানে? আমার দোকানেরও তো কোন চিহ্ন নেই।" একজনকে দোকানদার কার্ড দিয়েছিল। সে বলল, "এই যে আপনার কার্ড!" দোকানদার বলল, "কার্ড মানেই কি এই জামা কিনেছেন? আপনি হয়তো অন্য কিছু কিনেছেন। বললেই হলো?" তখন সবাই বলতে লাগল, "এই ঠগবাজ দোকানদার! আপনি নিজেই তো কোন চিহ্ন দেননি। প্রমাণ কি যে, আপনি এটা দেননি?" তখন দোকানদার আবার উঁচু গলায় বলল, "আর প্রমাণ কি যে, আমি এটা দিয়েছি?" সবাই পড়ল ভারি মুশকিলে। এরপর অমুক অমুক গালি দিয়ে দোকানদারকে বলল, "কই, খুঁজে দেখা যাক তাহলে, আপনার দোকানে আর এরকম কোন বোরখা আছে কিনা।" তখন দোকানদার বলল, "সব জায়গায় খুঁজে দেখুন, পাবেন না। কিন্তু এই ড্রয়ারে আমি টাকা জমিয়ে রেখেছি, এই ড্রয়ার খুলবেন না। বলা তো যায় না, কার মনে কি আছে! কে আমার টাকা নেবে, তার ঠিক আছে?" তখন একজন সাহসী মহিলা বলল, "তাহলে আপনি যে জমিয়েছেন, সেগুলো গেলেই আপনার এত সমস্যা! আর বাকিগুলোতে আপনার কত জামা আছে, সেগুলো নিয়ে গেলে তো আর জমাতেই পারবেন না। এতে কোন সমস্যা নেই? সবার আগে আমরা ঐ ড্রয়ারটাই খুলব।" দোকানদার আর সামলাতে পারল না। অনেক মহিলা ঠেলে ঠেলে ঐ ড্রয়ার খুলে সব প্যাকেট বের করল। একজন বলল, "টাকা বুঝি এরকম পোশাকের প্যাকেটে থাকে? আর আপনার দোকানের উপরেই তো লেখা আছে, দু' বছর আগে দোকান খুলেছেন। আর এই দু'বছরে সবকিছুর খরচ করে আর কত টাকা জমিয়েছেন? এত বড় বড় প্যাকেটে টাকা থাকে? ডাকাত জানলে এক্ষণি চলে আসবে।" তখন আরেকজন বলল, "কথা না বাড়িয়ে একটু খুলে দেখুন তো। টাকা আছে না কি আছে? আমি নিশ্চিত, এর মধ্যেই ওসব বোরখা আছে। আর নাহলে দোকানদার এত ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এরকম কথা বলে?" দোকানদারের মুখ হা হয়ে গেল। সবাই খুলে দেখল, সবাই যে বোরখা আর হিজাব নিয়েছে, সেরকম লেংটু-পেংটু পোশাকই ঐ প্যাকেটগুলোতে রাখা। বাকি দোকানদাররা বলল, "এই ভাই, তোমার লজ্জা করে না নাকি? প্রথমে বোঝনি, ধরা পড়ে গেলে কি হবে? এসব তো তুমি বাচ্চাদের পোশাক বলে চালিয়ে দিলেই হতো। আবার বোরখা বলার কি দরকার? আর হিজাবটা বাচ্চাদের ফ্যাশনিস্ট ওড়না বলে দিয়ে দিলেই তো হতো। পর্দার হিজাব কেন?'' এরপর একজন মহিলা আরেকজন মহিলাকে বলল, "চলুন তো, পুলিশ ডেকে আনি। এত বড় ঠগবাজকে পুলিশকে না ধরিয়ে এত কথা বলার দরকারটা কি? আর পুলিশকে প্রমাণ দেব এই দোকানের পোশাকগুলো আর আমাদের হাতের পোশাকগুলো দেখিয়ে।" এরপর দু'জন মিলে পুলিশ ডেকে আনল। তারপর পুলিশ সব প্রমাণ-ট্রমান দেখে অন্য দোকানদাররা যে কথা বলেছে, সে কথাই বলল। পুলিশ বলল, "এই অপরাধের একটাই উপযুক্ত শাস্তি হবে। আর যে দুই মহিলা আমাকে ডেকে এনেছে, তারাই এই শাস্তির কথা বলেছে। শাস্তিটা হলো, তুমি যেই পোশাককে বোরখার নামে চালিয়েছ, আর যেই হিজাব চালিয়েছ, সেইটা তোমাকে নিজেই পরতে হবে। ছেলে হলেও মেয়েদের এই পোশাকটাই পরতে হবে। ্তারপর সারা মার্কেট ঘুরতে হবে। আর তার পিঠে "আমি ঠগবাজ" লেখা একটি কাগজ টানিয়ে দিতে হবে।" তাই করা হলো। এরপর দোকানদার সব নকল বোরখা ও হিজাবগুলো পুলিশের কাছে দিয়ে দিল। পুলিশ ওগুলো বস্তির মানুষদের দান করে দিল। এরপর দোকানদারের উচিত শিক্ষা হলো। আর কখনো এসব করার চিন্তাও তার মাথায় ঢুকল না। আর সব মহিলারা তাদের ঘরে ফিরে গেল।

Friday, November 17, 2017

সোনা ও রূপা

এক ছিল এক কৃষক। তার ছিল দুই মেয়ে। বড় বোনের বয়স ১৫ ও ছোট বোনের বয়স ১০। বড় বোনের নাম রূপা, আর ছোট বোনের নাম সোনা। বড় বোন ছিল অলস। সে ছোট বোনকে দিয়েই কাজ করাত। ছোট বোনও কাজ করত। বড় বোন রান্না ভাল করতে পারত না। সে সবসময় নিজেকে একটু বড় দেখাতে চাইত। এবং সবার কাছ থেকে প্রশংসা পেতে চাইত। একদিন সেই দেশের রাজা ঠিক করল, এক মাস সব প্রজার বাড়ি গিয়ে সব মেয়েদের হাতের রান্না খাবে। একেক বেলায় একেক জনেরটা। যেই মেয়ের রান্না তার ভাল লাগবে, সে তার আরো কিছু রকম পরীক্ষা নেবে। তারপর যদি সে সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, তাহলে রাজপুত্রের সাথে রাজা তার বিয়ে দেবে। সেই খবর ঘোষণা করে দেয়া হল। বড় বোন ভাবল, রাজাকে জোড়াতালি দিয়ে রোস্ট-পোলাও খাওয়াবে। কিন্তু ছোট বোন ঠিক করল, জোড়াতালি দিয়ে রোস্ট-পোলাও বানানোর থেকে সুস্বাদু ইলিশ মাছ ও খিচুড়ি অনেক ভাল। এরপর প্রথম পনের দিন রাজা অনেক মেয়ের বাড়িতে গেলেন ও প্রত্যেক বেলায় একেক জনের বানানো খাবার খেলেন। কিন্তু রাজার কোনটাই বেশি একটা ভাল লাগল না। ১৬তম দিনে রাজা এলেন সোনা-রূপার বাড়িতে। তিনি বললেন, "দুপুরে খাব রূপার হাতের রান্না, আর রাতে খাব সোনার হাতের রান্না।" রূপার কাছে বেশি টাকা ছিল না। সে একটু চাল কিনল ও একটা ছোট মুরগী কিনল। তখন কাচা টমেটোর সিজন। সে বেশি করে মরিচ দিলো টমেটোটাকে লাল রং করার জন্য। আর চালগুলো সে অনেক আগেই কিনেছিল ও প্রত্যেকদিন চাল পোলাওয়ের চালের shape করে কাটতে লাগল। এরপর সে তৈরি করল জোড়াতালি দিয়ে বানানো রোস্ট-পোলাও। আর ছোট বোন ঠিকমত নূন-মরিচ দিয়ে মজা করে খিচুড়ি এবং ইলিশ মাছ রান্না করল। রূপা একটা কাঠের টেবিল রঙ করিয়ে সুন্দর প্লাস্টিকের মত দেখতে হয় এরকম তৈরি করল। আর সোনা সাধারণ একটা কার্পেট মেঝেতে বিছিয়ে দিল। এরপর পাটিতে খাবার সাজালো। আর রূপা চেয়ার হিসেবে কাঠের টুকরোর উপরে পর্দা বিছিয়ে দিল (মঞ্চের মত)। এরপর রাজা এলেন ওদের বাড়িতে খাওয়ার জন্য। প্রথমে রূপারটা খাবে। সে ঢুকলো রূপার ঘরে। রূপা বললো, "মহারাজ! দেখুন, কী সুন্দর রান্না করেছি! আপনি বসে খাবেন বলে কথা। দেখুন, একদম বিয়েবাড়ির টেবিল-চেয়ারের মতন বানিয়েছি। বসুন একটাতে।" এরপর রাজা ওখানে বসলেন। রাজার অভ্যাস ছিল পা দুলিয়ে দুলিয়ে খাওয়া। এরপর রাজা তার অভ্যাস মত পা দোলাতে শুরু করলেন। এবং হঠাৎ এক সময় চেয়ার ভেঙ্গে রাজা মাটিতে পড়ে গেলেন। রাজা চিৎকার দিয়ে বললেন, "অপদার্থ মেয়ে! এই তোমার বিয়েবাড়ির চেয়ার? এর থেকে ছেড়া পাটিতে বসে খাওয়া ভাল।" রাজা উঠলেন। এরপর আরেকটা সাধারণ চেয়ার পাশের দোকান থেকে কিনে নিয়ে এলেন। তারপর সেই কাঠের চেয়ারে বসেই তিনি রোস্ট আর পোলাও খেতে বসলেন। তিনি পোলাওটা মুখে দিয়ে বললেন, "এ কী! এ তো দেখছি একদম ভাতের মতন। এ কি পোলাওয়ের চাল দিয়ে ভাত রেঁধেছ? পোলাওয়ের তো একটুও চিহ্ন নেই । শুধু পোলাউয়ের shape টাই একটু।" তখন রূপা বলল, "এটাও খেতে ভালই লাগে। এটাও তো পোলাওই। এটা হলো একধরনের বিদেশী পোলাও। এবার রোস্টটুকু তো নিন।" রাজা রোস্টটুকু প্লেটে নিলেন। খাওয়ার আগে এসে বললেন, "মরিচের খুব কড়া গন্ধ আসছে। হয়তো মরিচ ভাজছে এ বাড়িতে। ও কিছু না।" সে রোস্টটুকু মুখে দিলেন। চিৎকার দিয়ে বললেন, "এটা কি রোস্ট রান্না, না মরিচ রান্না? একটা অপদার্থ মেয়ে! এটা রোস্ট হলো? রোস্টের থেকে দশগুণ বেশি মরিচ। আর টমেটোর যে স্বাদ, একেবারে টক! বিচ্ছিরি হয়েছে, বলতে দ্বিধা করছি না। মুখটাই একেবারে নষ্ট করে দিল। প্রথম দিকে তো মাজাটাই ভেঙ্গে বসছিলাম। এখন ঝালের চোটে কান ধেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। রোস্ট তো একদম মিষ্টি হয়। আর একটু অন্যরকম খাবার দেবে না? রাজ্যে তো প্রায়ই এসব খাবার খাই। বুঝেছি, এ হলো জোড়াতালি দিয়ে করানো। আর থাকব না।"- এই বলে রাজা রূপার বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলেন। এরপর রাত্রেবেলা সোনার হাতের রান্না খাওয়ার জন্য আসলেন। সোনা বলল, "স্বাগতম, মহারাজ! দয়া করে এ গরীবখানায় আসন গ্রহণ করুন। রাজা মনে মনে বললেন, "আগেরজন তো একেবারেই অপদার্থ ছিল। প্রথমে একটু আদর করে বসতে দেবে না? তা নয়, প্রথমে নিজের প্রশংসা নিজে করা শুরু করেছে। শুরুতেই একেবারে বলেছে, দেখুন, কত সুন্দর রান্না করেছি! এখন এরটা খেয়ে দেখি কেমন।" রাজা কার্পেটটাতেই বসলেন। রাজা পাতে খাবার নিতে গেলেন। সোনা রাজাকে নিজে নিজে খাবার নিতে দিলেন না। সে খুব সুন্দর করে রাজার পাতে খাবার বেড়ে দিল। রাজা প্রথমে খিচুড়ি একটু মুখে দিয়ে দেখল। বলল, "বাহ! এ তো খুব অপূর্ব খিচুড়ি। এত সুন্দর খিচুড়ি কোনদিন খাইনি। তাছাড়া একটু অন্যরকম তো খেতেই হয়। আর এই মেয়ে তাই খেতে দিয়েছে।" সোনা বলল, "এবার এই অধমের রান্না করা মাছটি একটু চেখে দেখুন।"- এই বলে সে রাজার প্লেটে মাছ দিল। রাজা মাছটি মুখে দিয়ে বললেন, "বাহ! অপূর্ব ইলিশ মাছ। দোকানে যতই মাছ কিনি, খাই; এত ভাল লাগে না। তুমি কোন দোকান থেকে ইলিশ মাছটি কিনলে?" সে বলল, "বাজারের শেষ মাথায় অমুক দোকান থেকে কিনেছি।" রাজা বলল, "ঐ দোকানে তো একেবারে সাধারণ মাছ পাওয়া যায়। তুমি এমন মাছ পেলে কি করে? আর এমন মাছের দাম তো নিশ্চয়ই অনেক হবে। তুমি অত টাকা পেলে কোথায়?" মেয়েটা বলল, "আমি তো সাধারণটাই কিনেছি। শুধু রান্নাটাই একটু ভালো হয়েছে। মহারাজ! চেখে তো দেখলেন। এবার খেয়ে নিন।" রাজা পেট ভরে খেলেন। এরপর মেয়েটাকে বললেন, "সোনা! তুমি খুব ভাল রেঁধেছ। সকালে তোমার আরো একটু ইন্টারভিউ নিব।" রাজাকে সোনা বলল, "অবশ্যই। আপনি আমাকে যেকোন কিছু জিজ্ঞাসা করতে পারেন।" 
সকাল বেলা রাজা সোনার ঘরের কাছে এলেন। তিনি ভেবেছিলেন, সোনা হয়তো ঘুমোচ্ছে। কিন্তু তিনি দেখলেন, সোনা ঐ ঘরে নেই। সোনা রান্নাঘরে রান্না করছে। মহারাজকে দেখে সোনা উঠে দাঁড়ালো। বলল, "স্বাগতম, মহারাজ! আপনি বসে ধীরে সুস্থে আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন।" রাজা চকিতে বসলেন। রাজা বললেন, "আমি প্রশ্ন শুরু করছি। ধরে নাও, একটা রাক্ষস এসে তোমাকে নিয়ে গেল। সে বলল, আমার তিনটা ছেলে আছে। তারা ঝগড়া করছে। তাদের একজন একটা জিনিসকে বলছে 'গাছ', আরেকজন বলছে 'পাছ', আরেকজন বলছে 'ডাছ'। ওরা ঝগড়া করছে, কোন্‌টা সঠিক? তুমি ওদের কাছে গিয়ে কথা বলে দেখ, আর ওদের ঝগড়া মেটাও। আর নাহলে আমি তোমায় খেয়ে ফেলব। তখন তুমি কি করবে?" মেয়েটা বলল, "আমি সবগুলো রাক্ষসের ছেলেকে বলব, তোমরা সকলেই সঠিক। একজন বলছ ফরাসি ভাষায়, একজন বাংলা ভাষায়, একজন ইংরেজি ভাষায়। তখন কোন রাক্ষসই আর আমাকে মারবে না।" তখন রাজা বলল, "তোমার তো অনেক বুদ্ধি! তোমাকে আমি আমার প্রাসাদে নিয়ে যেতে চাই। এসো আমার সঙ্গে। তুমি একটা ভালো পোশাক পরে আমার সাথে চল।" তখন মেয়েটা বলল, "ঠিক আছে। কিন্তু আপনার কাছে কোন্‌টা ভাল লাগবে, সেটা আমি বুঝব কি করে?" তখন রাজা বলল, "ঠিক আছে, আমি পছন্দ করে দিচ্ছি।" রাজা দেখল, "সবগুলোই গরীবের পোশাক।" রাজা বললেন, "তুমি একটু দাঁড়াও, আমি আসছি।" রাজা পাশে একটা পোশাকের দোকানে গেলেন। সেখানেও সব গরীবেরই পোশাক। রাজা দোকানদারকে বললেন, "সবথেকে সুন্দর আর দামি পোশাকগুলো দেখাও তো!" দোকানদার দামি পোশাকগুলো দেখালো। রাজা একটা রাজকন্যাদের মত পোশাক কিনল। আরেকটা পার্টি ড্রেসের মতন সুন্দর পোশাক (বিয়ের পোশাক) কিনল। এরপর মেয়েটিকে রাজকন্যাদের মত ঐ পোশাকটি দিল। মেয়েটা বলল, "এই অধম এই পোশাক নিয়ে কি করবে, মহারাজ!" তখন রাজা বলল, "এটা আমার পছন্দের একটি পোশাক। তুমি এটা পরে নাও।" মেয়েটা বলল, "অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি এটাই পরে নিচ্ছি।" পরে রাজা এই মেয়েকে নিয়ে প্রাসাদে গেলেন। রাজপুত্রকে এই মেয়েকে দেখিয়ে বললেন, "এই মেয়েটা কেমন লাগে তোমার কাছে?" রাজপুত্র বলল, "এ তো অনেক সুন্দরী। আমার বানানো ঐ কঠিন ধাঁধার উত্তর কি কেউ দিতে পেরেছে? আর তোমার কি কারো রান্না ভাল লেগেছে?" তখন রাজা বলল, "এই মেয়েই আমাকে অসাধারণ রান্না খাইয়েছে এবং খুব ভাল যত্ন করেছে। সে ঐ অসম্ভব কঠিন ধাঁধার উত্তরও দিয়ে দিয়েছে। এই মেয়েটাকে কি তোমার পছন্দ হয়?" তখন রাজপুত্র এক কথায় বলে দিল, "হ্যাঁ, একেই আমার সাথে তুমি বিয়ে দিয়ে দাও।" এরপর ওদের ধূমধামের সাথে বিয়ে হয়ে গেল। আর রূপা মনে মনে খুব হিংসা করতে লাগল। আর ভাবল, কেন যে জোড়াতালি দিয়ে বড়লোকদের খাবার বানাতে গেলাম!

শিক্ষা: জোড়াতালি দিয়ে অসাধারণ কিছু করতে চাওয়ার চেয়ে সাধ্যের মধ্যে সাধারণ জিনিস করাই ভালো।

Thursday, October 12, 2017

গোঁফখেজুরে মহিলা

এক ছিল এক লোক। সে খুব ভালো ছিল। কিন্তু তার বউ খুব অলস ছিল। অলস হলেও কোন কিছুর লোভ ছিল না। এমনকি টাকার লোভও না। সে চাকরী নিতেই চাইছিল না। কিন্তু তার স্বামী তাকে বারবার বলছিল, "চাকরী না নিলে আমার চাকরীর টাকা দিয়ে তোমাকে খেতেই দেব না। এত অলসতা ভালো নয়। ঝগড়া করে বলছি না। অলসতা তো ভালো নয়, তাই তোমার ভালোর জন্যই বলছি। যদি চাকরী না নাও, আমি কিন্তু সত্যি রাগ করে আমার টাকা দিয়ে তোমাকে খাওয়াব না।" বউ বাধ্য হয়ে চাকরী নিল। সে এমন চাকরী নিল, যেখানে শুধু বসে থাকতে হয়, আর কিছু গল্প-বক্তৃতা শুনতে হয়। যে বক্তৃতা দেয়, সে শেষে গিয়ে সবাইকে একটাই প্রশ্ন করে, কি বিষয়ে আমি কথা বললাম। বউটি শুধু প্রথম দিকের গল্পের নামটা শোনে, আর কিছুই শোনে না। আর শেষে গিয়ে নামটা বলে। কিন্তু সে এতই অলস ছিল যে, চাকরীর টাকা নিয়ে একটু চাল কিনে যে রেঁধে খাবে, তাও চাইত না। তার বাসার নিচেই ছিল এক হোটেল, যেই হোটেল থেকে খাবার উপরে উঠিয়ে দেয়া হতো। সে যে ফোনে একটু কল দেবে, তাও সে চাইত না। সে তার ঘরের কাজের বুয়াকে বলল যে, ঐ জায়গাটাতে চাপ দিয়ে আমার কানে ধরিয়ে দাও। কাজের লোক তা কানে ধরিয়ে দিল। বউটা ফোন করল। ফোন ধরল একজন বাবুর্চি। সে বউ বলল, "শোন! আমি তোমাকে আমার পুরো বেতনের টাকাটা দেব। তুমি শুধু খাবারটা রেঁধে উপরে নিয়ে এসে আমার মুখে তুলে খাইয়ে দেবে।" বাবুর্চি তো রেগেমেগে অস্থির! উপরে গিয়ে আবার নিজের হাতে খাইয়ে দিতে হবে! কিন্তু বাবুর্চির আবার টাকার লোভ ছিল। সে ভাবল, "তার নিজের পুরো বেতনটাই দিয়ে দেবে বলছে। প্রত্যেকদিন না হয় ঘন্টা খানেক সময় একটু নিয়ে গিয়ে খাইয়ে দিয়ে আসব। কিন্তু হোটেলের মাস্টারকে কি বলব? সত্যি কথাটাই বরং বলে দেই। মাস্টার তো আমাকে সবসময় পছন্দ করে। সে নিশ্চয়ই আমাকে যেতে দেবে।"- এই ভেবে সে হোটেলের মাস্টারকে গিয়ে বলল, "ওস্তাদ! ভালো একটা অর্ডার পেয়েছি। একেবারে তার পুরো বেতনটাই দিয়ে দেবে, যদি আমি সেই মহিলাটির বাড়ি গিয়ে তাকে খাইয়ে দিয়ে আসি।" মাস্টার তখন একটা বড় হাড়িতে অনেক বড় একটা ডাল ঘুটনি দিয়ে ডাল রাঁধছিল। মাস্টার রেগে গিয়ে বাবুর্চিকে ডাল ঘুটনি দিয়ে পাছায় বাড়ি দিল। বাবুর্চি বলল, "এ কী ওস্তাদ! মারছেন কেন? আমি না হয় কিছু টাকা আপনাকে দেব। একটু অনুমতি দিন না!" তখন মাস্টার বলল, "ঠিক আছে, কিন্তু আমাকে এর অর্ধেকটা দিতে হবে। আর তোকে আমি এ মাসের বেতনটা দিতে পারব না। আর যদি রাজি না হোস, তো তোকে আমি ঐ বাড়িতে যেতেই দেব না।" বাবুর্চি ভাবল, "হায়রে আমার কপাল! একে তো উপরে গিয়ে তাও আবার মহিলা মানুষকে খাইয়ে দিতে হবে। তার উপর আবার বেতন কেটে নেবে, অর্ধেক টাকা নিয়েও নেবে। আমার কপালটা কি খারাপ? তাও তো আমার কাছে একটু বেশি টাকা থাকবে।" সে তার ওস্তাদকে বলল, "ঠিক আছে, ওস্তাদ! আমি রাজি।" মাস্টার তো খুবই খুশী। সে তাকে যেতে দিল। বউয়ের স্বামী তখন ঘরে ছিল না। সে তার বেতনের অর্ধেক প্রত্যেক মাসে গরীবদের দিয়ে দিত। সে সেই কাজেই ব্যস্ত ছিল। বাবুর্চি তখন কলিং বেল দিল খাবার নিয়ে এসে। কাজের লোক দরজা খুলল। সে বাবুর্চিকে ভেতরে আসতে বলল। আর বউয়ের ঘরে যেতে বলল। বউ তখন পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছিল। বাবুর্চি তাকে ডাক দিল। মহিলাটি ঘুমের মধ্যে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে বলল, "যা খাবার এনেছ; পাশেই ব্লেন্ডার আছে, ব্লেন্ড করে ফিডারে ভর। তারপর আমাকে ঘুমের মধ্যে খাইয়ে দাও। আমার ব্যাগের ভিতরে ডেস্কের চাবি আছে। বেতনটা নিজেই নিয়ে নাও। পরে প্রতিদিন খাইয়ে দিও। পরের মাসে আবার বেতন দেব। আর এর পরের দিন থেকে হোটেলের ফিডারে করেই সবজির জুস এনে আমাকে ঘুমের মধ্যে খাইয়ে দেবে। ব্যস, সমস্যা মিটে গেল! আমার এত কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। যা যা বললাম, তাড়াতাড়ি কর তো! আমি ঘুমিয়ে যাই, ঘুমের মধ্যে খাইয়ে দিও।" তারপর বাবুর্চি বলল, "ঠিক আছে।" আর মনে মনে বাবুর্চি বলল, "ঠিক আছে, বাবু!" তারপর সে জুস বানিয়ে ফিডারে ভরল। তার আবার ফিডারে কাউকে খাওয়ানোর অভ্যাস ছিল না। তার বোনের বাচ্চা হওয়ার সময় কিছুদিন তাকে ফিডারে খাইয়েছিল, সেই অভ্যাসমতই মহিলাটিকে 'আয় ঘুম আয়' গান গাইয়ে গাইয়ে ফিডার খাইয়ে দিল। তারপর সে তার মাস্টারের কাছে গেল। এমনই চলতে থাকল।
তখন শীতকাল ছিল। সেই সময় বাংলাদেশেও হালকা বরফ পড়তে লাগল। বাংলাদেশে তখন গরীব মানুষের সংখ্যা একটু বেশি ছিল। শীতে যারা ধনী ছিল, তাদের ধনও একটু কমে গিয়েছিল শীতের কাপড়, শীতের খাবার এসব কিনতে গিয়ে। তাই তারা কাউকে ভিক্ষে দিতেই চাইত না। অনেক মানুষই গরীব। বাচ্চারা ব্রিজের নিচে আশ্রয় নিচ্ছিল, কিন্তু ব্রিজের সামনের পাহারাদাররা তাদের তাড়িয়ে দিচ্ছিল। মহিলার স্বামী ভাবল, এ অবস্থায় নিশ্চয়ই সাহায্য করা দরকার। আমি তো অনেকদিন আগে একটা ফাঁকা জায়গা কিনেছিলাম। তখন তো ভেবেছিলাম যে, কত বলদের মত কাজই না করেছি। কিন্তু এখন জায়গাটা কাজে লাগবে। সবাই শুনেছে এতিমখানা। কিন্তু এবার আমি বানাবো সবরকম গরীবরা থাকবে এমন গরীবখানা। সে অনেক বড় একটা বাড়ি বানালো। সে অনেক কার্পেট কিনল। একটা বড় ঘরে সেইসব কার্পেট বিছিয়ে দিল। মানে সেটা বানালো গরীবদের শোবার ঘর। একটা বড় ঘরে অনেক বড় একটা পাটি আর ছোট ছোট মাদুর সাজিয়ে রাখল চেয়ার-টেবিলের মত। সেটা হলো গরীবদের খাবার ঘর। আর আরেকটা ঘর পুরো ফাকা রাখল। সেখানে সে অনেক চাল, ডাল আর আলু এনে রাখল। আরেকটা ছিল ঘর। সেই ঘরে সে উনুন বসালো। আর বড় হাড়ি কিনল। আর চারপাশে অনেক কলাগাছ লাগালো। সে একজন লোক রাখল গরীবদের দেখাশোনা করার জন্য আর গরীবদের সবরকম প্রয়োজনে সাহায্য করার জন্য। আর পাশে একটা পুকুর ছিল, সেখানে সবাই স্নান করতে পারবে। কলাগাছ লাগালো, কারণ কলাপাতা কেটে কেটে প্লেটের মত করে গরীবদের দেয়ার জন্য। পরের দিনই সে মাইকে করে এই খবর সবাইকে জানিয়ে দিল। যাদের যাদের খুব খারাপ অবস্থা, তারা তারা সেই লোকটির কাছে এল। তারা বলল, "দয়া করে আমরা কি আপনার এই গরীবখানায় থাকতে পারব?" তখন লোকটা বলল, "তোমাদের জন্যই তো বানিয়েছি। তোমরা থাকবে না তো কারা থাকবে? নিশ্চয়ই যাও। ঐদিকে শোবার ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নাও। আর আমার এই লোকটি তোমাদের দেখাশোনা করবে। এই লোকটি যখন তোমাদের ডাক দেবে, তখন তোমরা ঐ খাবার ঘরে চলে যাবে। লোকটি তখন ভাত আর ডাল রান্না করল। তারপর সেইগুলো পাটিতে সাজিয়ে দিল। গরীবরা পেট ভরে খেল। ওখানেই গরীবরা থাকতে লাগল। 

Friday, September 1, 2017

নেক লোকের স্বপ্ন পূরণ

এক ছিল এক গরীব লোক। সে সৎ ছিল। তার জীবনের শখ ছিল মসজিদের মুয়াজ্জিন হওয়া। কিন্তু সে তো গরীব। এক পয়সাও ছিল না হয়তো। কিন্তু সে জানে, ভিক্ষে করতে হয় না। তাই সে ভিক্ষে করল না। ভাবল কী আর করবে! কিছু কাজের সন্ধান করবে। কিন্তু সেখানে কোন মানুষের বাড়ি ছিল না। আর ২/৩টা থাকলেও খুব রাগী মানুষের বাড়ি। একটু যে বলবে, যাও না, একটা ভাতটা রান্না কর না— তা নয়। বলবে যে, সকাল বেলা কী করতে হয়? বোঝ না কিছু? ভাত রান্নাই করে না! এমন বাড়িতে কী আর এমন কাজ করবে? কাজ করার কি উপায় আছে, বল? একটা ভালো বাড়ি তো দরকার। কিন্তু সে আল্লাহকে ডাকতে শুরু করল। আর জিজ্ঞেস করার জায়গাও ছিল না। মনে মনে আল্লাহকে বলতে লাগল, আমি কী করি? আমার তো কোন উপায় নেই, কি করব আমি এখন? মনে মনে বলার সঙ্গে সঙ্গেই গাছ থেকে একটা ছোট ফল পড়ল। সেই গাছে একটাই মাত্র ফল ছিল। অর্ধেক অংশ খেয়ে দেখল, ভিতরে অনেক বীচি। তার মাথায় একটা বুদ্ধি এল। সে আস্তে আস্তে হাত দিয়েই মাটি খুঁড়তে লাগল। সেখানে একটি ছোট্ট পুকুর ছিল, কিন্তু ছিল না কোন মাছ। সেই পুকুরের পানি খেয়েই কটা দিন সে বেঁচে ছিল। সেই পুকরে থেকেই কিছু পানি নিয়ে মাটিতে ঢালল। এক সপ্তাহ পর সে দেখল, একটি ছোট্ট গাছ সেই বিচির জায়গা থেকে বেরিয়ে আসছে। সে খুবই খুশি হল এই দৃশ্য দেখে। সে মনে মনে আল্লাহকে বলতে লাগল, "আল্লাহ! তোমার জন্যেই আমি এই গাছটি পেয়েছি। তোমার কাছেই আমি কৃতজ্ঞ।" এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে গাছটির কী অদ্ভুত দৃশ্য হলো! গাছটি এক দিনেই খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠল। পরের দিন লোকটি ঘুম থেকে উঠল। দেখল, ছোট্ট ছোট্ট কাঁচা পেয়ারা। সে খুব খুশি হলো। সেখানে আর একটা ওষুধ আবিস্কার হয়েছিল ক'দিন আগে। পেয়ারা গাছের পাতা দিয়ে ওষুধ বানালে নাকি ক্যান্সার সারে। (কাল্পনিক) তাই সে সেদিন একটু সেই ওষুধ বানানোর চেষ্টা করল। ডাক্তারের কাছে সে পাতাই বিক্রি করল। ডাক্তাররা হয়তো নিজেরাই ওষুধ বানাতে জানে। আর সেটা তো সত্যি, নাহলে ডাক্তার হয়? সে পেয়ারা পাতা বিক্রি করে টাকা পেল। সেই টাকা দিয়ে সে সামান্য কিছু ডাল কিনল। সে লাকড়ি, পাথর এসব দিয়ে সেই ডাল জ্বাল দিল। তারপর সেই ডাল খেল। পরের দিন সে দেখল, পেয়ারা একটু বড় হচ্ছে। কিন্তু কাঁচা। এর পরের দিনও সে পেয়ারা পাতা বিক্রি করে একই কাজ করল। তার পরের দিন আবার পেয়ারা পাতা পাড়তে লাগল। দেখল, পেয়ারা কিছু পাকতে শুরু করেছে। আর কিছু পেকেই গেছে। পাকা পেয়ারার দিকে তার নজর পড়ায় সে তা পেড়ে নিল। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করতে লাগল। বলল, "আলহামদুলিল্লাহ!" সে এগুলো বিক্রি করতে নিয়ে গেল বাজারে। শত শত মানুষের ভিড় পড়ে গেল। কারণ, সেই পেয়ারা দোকানের অন্য সব পেয়ারার মদ্যে সবচেয়ে ভালো ও মিষ্টি। অদ্ভুত না? তারপর সে প্রতিদিন এমন কাজই করে। আর টাকা পেয়ে পেয়ে ভাত আর ডাল জোগাড় করে। লাকড়ি দিয়ে তা রান্না করে খায়। কিছু কিছু দিন পেয়ারাই খায়। আস্তে আস্তে সে বেশি গরীব রইল না। তারপরে সে একটু কম গরীব। কিছুদিন পর সে গরীবই রইল না। সে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন হতে চাইল। একটা নতুন মসজিদ তৈরি করতে চাইছিল সে নিজেই। কি করে তৈরি করবে? এই ভাবতে ভাবতে সে অন্য একটা জায়গায় গেল। দেখল একটা মরা গাছ। মরা গাছের কাঠ কি ভালো হয়? সে হাত দিয়ে দেখল, কাঠটা ভালোই আছে। সে কাঠ নিয়ে গেল। একটা ভালো জায়গা খুঁজে বের করল। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইল। বলল, "আল্লাহ! আমি শুধু পেয়ারা বিক্রি করে কি করে মসজিদ তৈরি করব? তুমি আমাকে শক্তি দাও, কোন উপায় বলে দাও।" দেখল একটি আপেল গাছ তৈরি হয়ে গেল এক সেকেন্ডের মধ্যে। পিছনে ঘুরে দেখল একটি আপেল গাছ। সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করল। সে গাছে আবার already অনেকগুলো আপেল। পাকা আপেল, কাঁচা আপেল, ছোট আপেল, বড় আপেল, মাঝারি আপেল। আপেলগুলো সে বিক্রি করতে নিয়ে গেল। অনেক অনেক টাকা জমল। তা দিয়ে সে লোহা, হাতুড়ি এসব কিনল। সে এক সপ্তাহের মধ্যেই মসজিদ বানিয়ে ফেলল। তারপর রঙ করল। হয়ে গেল একটি সুন্দর মসজিদ। সে একটি কার্পেট কিনল। কিছু সাদা কাপড় কিনল।  বিছিয়ে দিল সেগুলো সুন্দর করে। অনেক অনেক মানুষ সেখানে আসল নামায পড়তে। সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে লাগল। এতে আরো মানুষ সেখানে এসে হাজির হল। সে মুয়াজ্জিন হয়ে গেল। একজন ভালো মানুষ দেখে ইমাম বানালো, তার জীবনের লক্ষ্য পূরণ হলো। সে অনেক বার আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করল। অনেক করে বলল, "আলহামদুলিল্লাহ!"

শিক্ষা: আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোন কিছুই হয় না। আর আন্তরিকতা ও শোকর থাকলে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যায়।

Wednesday, August 16, 2017

উপকারের প্রতিদান

তোমরা নিশ্চই ইঁদুর সিংহকে মুক্ত করার গল্পটি শুনেছ। তাহলে একই শিক্ষার আরেকটি গল্প শোন।

এক ছিল দুই বন্ধু। ধনী বন্ধু আর গরীব বন্ধু। একদিন তারা ঠিক করল যে, তারা এক বড় জঙ্গল ঘুরে দেখবে। তাই তারা সেইজন্য রওয়ানা হলো। ঐ জঙ্গলের ভিতর অবশ্য দোকানপাটও ছিল। তবে বেশি কিছু ছিল না দোকানে, শুধু একটু খাবার আর পানি ছিল। ধনী বন্ধু তো পিজা আর বার্গার খেয়ে এসেছিল। সঙ্গে কোল্ড ড্রিংস আর পানীয় খেয়ে এসেছিল। কিন্তু গরীব বন্ধু তো কিছুই খেয়ে আসেনি। কারণ, তার বাড়িতেই কিছু বাকি ছিল না। পথের মধ্যে গরীব বন্ধু তার অন্য বন্ধুকে বলল, "একটু পানি দাও না!" তখন বন্ধু বলল, "আমার বোতলে তো আর কোন পানি অবশিষ্ট নেই। তবে আমার কাছে কিছু টাকা আছে।"- এই বলে সে একটি ঠান্ডা পানি কিনে আনল ছোট্ট দোকান থেকে। গরীব বন্ধুকে একদম নীরব লাগছিল। পানি খেয়ে সে তার বন্ধুকে বলল, "ধন্যবাদ।"- এই বলে তারা আবার হাঁটতে লাগল। তারা খুব মুগ্ধ হয়ে সুন্দর জঙ্গলটা দেখছিল। কোন হিংস্র পশুও ছিল না। শুধু পাখি আর জলাশয়ে মাছ ছিল। পথের মধ্যে গরীব বন্ধু বলে উঠল, "আমাকে একটু খাবার দাও না!" তখন বন্ধু বলল যে, "আমার দইয়ের হাঁড়িটাও তো ফাঁকা হয়ে গেছে। মানে পথে খেয়ে ফেলেছি। আর কোন খাবার অবশিষ্ট নেই। তবে আমার কাছে অনেক টাকা অবশিষ্ট আছে। দাঁড়াও।"- বলে সে দোকানে গেল। ছোট্ট দোকান থেকে একটা ছানার মিষ্টি কিনে এনে দিল। গরীব বন্ধুটি খেল। তারপর অবশিষ্ট পানির অর্ধেক সে পান করল। তারপর তারা আবার হাঁটতে লাগল। তারা খুব ঘুরফিরে জঙ্গল দেখে হাসিমুখেই ধনী বন্ধুটি তার বড় ভবনে ফিরল আর গরীব বন্ধুটি তার কুটিরে ফিরল। একদিন দুই বন্ধু মিলে ঠিক করল, অনেক দূরে এক ধরনের ফুল আছে। ঐ ফুল খুব দামী। শুধু ঐ জায়গায়ই পাওয়া যায়। ওরা চাইল, দুটো ফুল নিয়ে সে বিক্রি করবে আর কিছু টাকা পাবে। আর তা ভাগ করে নেবে। সেইদিন গরীব বন্ধুটির জালে অনেক অনেক মাছ উঠল। সেই মাছ বিক্রি করে সেদিন সে খুব ভালমত পেট ভরে খেল আর আরাম করে একটু ঠাণ্ডা পানি খেয়ে নিল। সেইদিন আবার ধনী বন্ধুটির ভবনে এক বড় অনুষ্ঠান হচ্ছিল। সেই অনুষ্ঠানে দাওয়াতের বাইরেও ২০০ জন লোক এসেছিল। তাই খাবারই প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। খুব টানাটানি পড়ে গেল খাবার নিয়ে। সেটা ছিল দূর দূরান্তের গরীব লোকদের জন্য। দেখা গেল, অনেক ধনী লোকও এসেছে। অনেক কষ্টে ধনী লোকদের ফিরিয়ে দেয়ার পর হালকা খাবার রয়ে গেল। এ দিয়ে যারা দাওয়াত করেছে তারা একটু করে খেতে পারল। কিন্তু ধনী বন্ধুটি মাত্র এক লোকমা খাবার খেল। তার বেশি কেউই ভাগে পেল না। আর অনুষ্ঠানের অতিথিরা পেট ভরে খেয়ে চলে গেল। তারপর দুই বন্ধু পরের দিন বের হল ফুল আনতে। যেইদিন তারা জঙ্গলে গিয়েছিল, তখন গরীব বন্ধু বলেছিল, "আমিও তোমার একদিন উপকার করব। আর ধনী বন্ধু বলেছিল যে, তুমি আর কি করবে? তুমি তো খুবই গরীব।"- এই বলেছিল। সেইদিন গরীব বন্ধুর ঘরে এত এত খাবার হয়েছিল যে, এক বাটি ভরে সে সেই খাবার তার সঙ্গে নিল। আর এক বড় বোতলে পানিও নিল। তারপর তারা হাঁটতে শুরু করল। ধনী বন্ধুটি তো কোনমতে একটু খেয়ে এসেছে, আর সাথে নেবে কি? সাথে নিতে গেলে সবাই চিল্লাপাল্লা করবে আর বলবে, "আমাদের ভাগের খাবার এত এত কম কেন?" তাই সে কিছুই আনতে পারল না। পথে একটা বড় জলাশয় ছিল। যাওয়ার পথ ছিল খুব কাদা। ধনী বন্ধুর এমন কিছুর অভ্যাস নেই। তাই সে জলাশয় দেখতে পেয়ে বলল, "আমি গিয়ে ওখানে পা-টা ধুয়ে আসি।" তারপর সে পা ধুতে গিয়ে জলাশয়ের ভিতরে পড়ে গেল। তখন সে চিৎকার করতে লাগল। আর বলতে লাগল, "বন্ধু, তুমি কোথায়? এসে আমাকে বাঁচাও! আমি এই জলাশয়ের ভিতরে পড়েই গিয়েছি।" তখন গরীব বন্ধু শুনতে পেয়ে বলল, "কি করে পড়লে? দাঁড়াও, আমি আসছি।" সে একটা সুতার গাছ দেখতে পেল। সে ওখান থেকে কিছু সুতা নিল। সে আবার দর্জির কাজ করতে খুব ভাল পারত। আর সে তো মাছ ধরত। তাই সে জালও খুব ভাল বানাতে পারত। সে সেই সুতা দিয়ে একটা জাল বানাল। তারপর সেই জালটা সে জলাশয়ের ভিতর ফেলল। ধনী বন্ধু সেই জালটিতে আটকিয়ে উঠে এল। তখন গরীব বন্ধুটি বলল, "তুমি খুবই ক্লান্ত। ঐ ইটটার উপর বসে নাও।"- বলে সে তার সঙ্গে আনা খাবার ধনী বন্ধুকে দিয়ে দিল। তখন ধনী বন্ধুটি বলল, "আসলে আমি ভুলই ভেবেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, তুমি তো খুবই গরীব। আমি ভেবেছিলাম, শুধু ধনীরাই বুঝি সাহায্য করে, আর কেউ বুঝি সাহায্য করতেই পারে না। এখন দেখলাম, তুমি সাহায্য করতে পার। ধন্যবাদ।"- বলে তারা আবার যার যার ঘরে ফিরে গেল।

শিক্ষা: উপকার করলে উপকার পাওয়া যায়। আর দৃশ্যত ক্ষুদ্র বা দরিদ্র হলেও মনটা বড় হলে সাহায্য করার নসীব হয়।

Monday, August 14, 2017

তিন বোন ও ভিক্ষুক

এক শহরে বাস করত এক পরিবার। সেখানে ৩ বোন ও তাদের বাবা বাস করত। বড় বোন সোমা ছিল খুব নিষ্ঠুর, ঝগড়াটে ও সবাইকে মারধর করত ছোট কারণেই। মেঝ বোন লিলি ছিল খুব ঝগড়াটে, তর্ক করত, কিন্তু মারধর বেশি করত না। আর ছোট বোন মনি চিল খুব মিষ্টি ও সাহায্যকারী। একদিন তাদের বাবা তাদের ডেকে বললেন, "শোন, এই বাড়িতে তোমরা থাকলে ঝগড়া বাঁধে। আমি তোমাদের ছোট ছোট আলাদা ঘর বানিয়ে দিতে চাই। করব না, করেই ফেলেছি। বাইরে তাকিয়ে দেখ ছোট তিনটি ঘর।" এরপর ওরা আলাদা থাকতে লাগল। একদিন এক ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক ঐ বাড়িগুলোর দিকে গেল। সে প্রথমে সোমার দরজায় ডাকল, "মা, দুটি অন্ন দাও না!" সোমা বেরিয়ে এল। বলল, "এই! তুই কে? নিশ্চয়ই বুঝেছিস, আমার বাড়িতে আজ রোস্ট-পোলাও রান্না হচ্ছে! তাই ভালো-মন্দ খেতে এসেছিস। দূর হ!"— বলে সে তাকে ধাক্কা দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। ভিক্ষুক মনে মনে বলল, এমন নিষ্ঠুর আর নেই। সে গেল লিলির বাড়ি। বলল, "এই গরিবকে দুটি খাবার দাও, মা।" লিলি দোর খুলে বলল, "টের পেয়েছিস নাকি, আমার বাড়ি কোরমা হচ্ছে? এখান থেকে যা!"— এই বলে দরজা বন্ধ করে দিল। মনে মনে ভিক্ষুক ভাবল, এমন ঝগড়ুটে আর নেই। শেষে সে গেল মনির বাড়ি খাবারের জন্য। বলল, "মা, দুটি অন্ন দাও না।" মনি এসে বলল, "নিশ্চয়ই! ঘরের ভিতরে এসো।" মনি তাকে সোফায় বসতে দিল। সে বলল, "আজ আমার বাড়িতে খিচুরি-আচার আছে।"— বলে খাবার নিয়ে এলো। ভিক্ষুকটি খেল। মনি তাকে টাকা ও পোশাকও দিল। ভিক্ষুক বলল, "ধন্যবাদ। তুমি খুব ভালো, মা!" তারপর সে চলে গেল। একদিন প্রত্যেকে স্বপ্ন দেখল। সোমা স্বপ্বে দেখল, কেউ তাকে ধরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিচ্ছে, আবার খুব ধমক দিচ্ছে। তার ওপর ছিল তার তীব্র ক্ষুধা। এরপর লিলি স্বপ্নে দেখল, তার খুব খিদে পেয়েছে। কেউ তাকে খাবার দিচ্ছে না, খুব বকছে। আর মনি স্বপ্নে দেখল— তার প্রিয় ভিক্ষুক এসে তাকে আদর করে বুকে জড়াচ্ছে। এতে সে শান্তিতে মিশে যাচ্ছে। সবাই স্বপ্ন দেখল। বড় দুই বোন স্বপ্নে ভিক্ষুকের অনুভূতিটা বুঝতে পারল। তারপর থেকে ওরা আর ঝগড়া করল না। ওরা বাবাকে বলল, "আমরা আর ঝগড়াঝাটি করব না, একসাথে মিলেমিশে থাকব।" এরপর ওরা মিলেমিশে সুখে থাকল।

Thursday, July 6, 2017

রাজার খাওয়া

অনেক অনেক দিন আগে ছিল খুব ধনী এক রাজা। তবে তার স্বাস্থ্য সবসময় ভাল থাকত। কারণ, সে সবসময় অতি সাধারণ শাক-সবজি ও ফলমূল খেত। সে কখনো রোস্ট-পোলাও খেত না। তবে সে একথা কাউকে বলতও না। একদিন এক লোক রাজাকে নেমন্তন্ন করল। এক বিবাহ উতসবে। যে দাওয়াত করেছিল, সে রাজার খুব কাছের বন্ধু ছিল। তাই সে যেতে বাধ্য হল। সে তাড়াতাড়ি করে উপহার নিয়ে রওয়ানা হল। ওখানে গেল সে। উপস্থিত হওয়ার পর তার বন্ধু তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, "কেমন আছ, বন্ধু? দুপুরে আবার খেয়ে আসনি তো?" রাজা বলল, "আরে, না। দুপুরে বিবাহ, আর আমি দুপুরের খাবার বাড়িতে খেয়ে আসব কেন?" তার বন্ধু আবার বলল, "তাহলে তাড়াতাড়ি আগে খেয়ে নাও।"- বলে বিরিয়ানি আর রোস্ট খেতে দিল। রাজা ভাবল, প্রত্যেকদিন শাক-সবজি খাই। আজ একটুখানি ভাল-মন্দ খেলে কি হবে! তখন সে এটাই ভাবল না যে, তার বন্ধু তাকে বেশি করে খাইয়ে দেবে। কারণ, তার বন্ধুর অনেকদিনের শখ ছিল, নিজের কাছের বন্ধুকে কাছে টেনে এনে অনেক আদর করে অনেক কিছু খাওয়ানো। রাজা খেতে বসল। খেয়েদেয়ে সে ওঠার পাঁচ মিনিট পরই তার শুরু হল পেট ব্যথা। সে কিন্তু খুব বেশি করেই খেয়ে ফেলেছিল। বন্ধু বলল, "কি হয়েছে রে? আবার পেটে ব্যথা কোত্থেকে আসল?" তখন রাজা বলল, "তোমার জন্যই তো। তুমি আমাকে এত বেশি করে খাইয়ে দিলে কেন? এত খাবার কেউ খায়? আমাকে তুমি দুই প্লেট ভর্তি করে খাইয়ে দিয়েছ। আর তুমি নিজে তো আধা প্লেটই অল্প করে নিয়ে খেয়েছ। এখন আর কি করব, বলতো? তাড়াতাড়ি বাড়ি যাই। তোমার বর-বউ দেখা আর হলোই না। তুমি পরে ছবি তুলে নিয়ে এসো, আমি যাই।" সে বাড়ি ফিরে গেল। সে কি কি খেত, তার শুধুমাত্র রাণীই জানত। কারণ, সে এতই ধনী ছিল যে, তার সাধারণ শাকসবজি খাওয়া মানায় না। তাই সে কাউকে বলেনি। সে বাড়িতে গিয়ে রাণীকে সব বলল। সে বলল, ভেবেছিলাম একটু ভাল-মন্দ খাব বিয়েতে গিয়ে। কিন্তু এ কী? আমার বন্ধু আমাকে এততো দু' প্লেট ভর্তি করে খাইয়ে দিয়েছে যে, আমার পেটেই ব্যথা শুরু হয়ে গেল। আবার অপুষ্টিকর খাবার। যত্তসব! রাণী বলল, "সে কী মহারাজ? আমি তো মানা করেছিলাম আপনাকে। আপনি বলেছিলেন, খুব কাছের বন্ধু, না গিয়ে কি করা যায়? তাই আমি ভাবলাম, আপনার যখন এত ইচ্ছে, তাহলে যান। এবার দেখুন, কি হয়। এখন বৈদ্যকে ডাকতে যেতেও নিশ্চয়ই হবে আমাকে। যাই, বাবা।"- বলে রাণী বৈদ্যকে ডেকে আনল। রাজবৈদ্য বলল, "কেন, কি হয়েছে? কিভাবে হল? সেটা আমাকে একটু বলুন। পেটে ব্যথা দুপুর সময়, ব্যাপারটা কি? দুপুরে কি বিশেষ কোন কিছু করেছে, যা অন্যান্য দিন করেনি?" রাণী লজ্জায় বলতেই পারছিল না। কিন্তু রাজা ইশারা করে বলল যে, বলেই দাও। সে বলল, "চিকিতসকের কাছে কিছু লুকিয়ে কি আর চিকিতসা পাওয়া যায়?" তখন রাণী বলল, "হ্যাঁ, বৈদ্যমশাই। একটু আলাদা কাজ করেছে বটে। প্রতিদিন যা খায়, তার ব্যতিক্রম করেছে।" "মানে? কি বলছেন? আজকে শুনেছিলাম, একটা বিবাহ অনুষ্ঠানে যাবেন মহারাজ। তো প্রত্যেকদিনের খাবারই তো নিশ্চয়ই খেয়েছেন।" তখন রাণী বলল, "আর বলবেন না। মহারাজ প্রত্যেকদিন কোন রোস্ট-পোলাও বা বিরিয়ানি খানই না। তিনি সাধারণ ফলমূল ও শাকসবজি খেয়ে থাকেন।" তখন রাজবৈদ্য বলল, "ঠিক কথা। এবার বুঝেছি যে, কেন বেশির ভাগ রাজারই অসুখ হয়। আর তার বেশিরভাগেরই পেটে ব্যথা। এত ঘন ঘন কি কারো রোগ হয়? আর আমাদের রাজামশাই কখখনো অসুস্থ হন না, আর কোন বিবাহ উতসবেই যান না। আজ হয়তো কাছের বন্ধু বলে গিয়েছে। কিন্তু তাই বলে এত অপুষ্টিকর খাবার খেয়েছে, তা তো বুঝিনি। এইজন্যই আমাদের মহারাজ সবসময় সুস্থ। এই তো চাই! সুস্থ হয়ে খুব সুন্দরভাবে জীবনযাপন করেন। এবার অন্য রাজাদের চিকিতসার সময় বলে দেব, যেন সাধারণ শাকসবজি খান।" এই বলে রাজবৈদ্য পেটে ব্যথার একটি ওষুধ দিল, আর বলল, "যেই খাবার প্রত্যেকদিন খান, সেই খাবারই ঘন ঘন খাবেন, আর সঙ্গে শুধু এইটুকু ওষুধ। এই মিলে হল দুটো ওষুধ। এতেই কাজ হবে। আমি আসি।"- বলে রাজবৈদ্য চলে গেল। রাণী বলল, "দেখলেন তো, মহারাজ? আপনাকে কত প্রশংসা করে গেল। এবার আপনি ওষুধটা খান। আর আমি এক্ষণি কটা ফলমূল আর শাকসবজি নিয়ে আসছি।" রাজা ওষুধ আর শাকসবজি খেয়ে আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল। এখন থেকে অন্যান্য রাজাও রাজবৈদ্যের কাছ থেকে উপায় জেনে নিল। এখন আর কোন রাজারই অসুখ হয় না।

Thursday, April 20, 2017

Kind Young Prince

Once upon a time there was a king. He was very bad. But his son was kind. The king has a bad dream. That is - to kill all human, animals, birds and be the king of whole world.One day he got a perfume as a gift. He was making his beauty. A horse was very hungry like dying. The king has some grass.  he want to put the grass on his head and do a fashion. The horse ate the grass when the king is away. The real thing is, it is not horse. It was a fairy which has came from god. Quickly, the king come and see the horse. He tell,"How can you enter my room, bad horse. I will punish you." Horse said,"Oh my lord! Forgive me please. I'm sorry!" The king said,"I will kill you right now. Someone catch the horse kill it as a best punishment." Horse said,"(Angry voice) Bad king of the world. You are like hunters." King said, "How dare you to tell me hunter, bad horse!" The fairy change the face(real-fairy face) and show it to the king. The king began to cry. He said, ''Forgive me, fairy mom." Fairy tell,''No, because you did not forgive me." The fairy made the king to an ant. The king ant die in the leg of people when they walk. The prince cry very much and said, ''I miss you, daddy. Where have you gone?Ah! Ah!Ah! My dear daddy, I love you. I don't want this golden palace, golden things and boxes full of money. I don't want the kingdom. I only want you.'' The prince think, if I cannot help daddy, then I will help other animals. He went to a forest. He saw a boy wearing leaf on his body. He was hungry and crying. Prince said, ''Oh friend brother! Can we be friends? Why are you crying?" Boy said,'' I am hungry.'' Prince said,"Wait here! I will climb plum tree and bring plum for you. Then you can eat plum.'' He bring plum for the needy boy. Boy say,''Thanks.'' Then the prince saw a bird lying. He put water and leaves in injured wings of the bird. He feed water to the bird. The bird feels better and flies away. But did not forget to say thanks. Then the prince went to a farm. He saw a hungry cow and a thirsty cat. He feed the cow grass and take milk. Then he give the milk to the cat. Then he build a small home for the cow and cat. The fairy become happy and make the prince rich very much. But he was unhappy. The fairy was really very pleased so she give kind heart to the bad king and said,''Here is you father darling." Prince said, ''Thank you.'' The prince give the nice necklace of the world to the fairy. Then they lived happily.

Moral: Prize for helping and punishment for evil deeds.

Friday, April 7, 2017

গাধার থেকেও বোকার পচা গল্প

এক ছিল চার বোন। ৩জনের সন্তান হয়েছে। ৪ নম্বর বাকি। তবে সে খুব হিংসুটে ছিল। সে সবসময়ে চাইতো তার বাচ্চার যেন অন্যদের থেকে সুন্দর সাজুগুজু করে জন্ম হয়। তাই যখন তার সন্তান  সম্ভবা হল, সে খুব বোকার মত কাজ করল। সে মেকাপবাক্স গুড়ো করে খেয়ে ফেলল। সুন্দর পার্টি ড্রেস, জুতা, ক্লিপ-ব্যান্ড ও গয়না গিলে ফেলল। যেন এতো ছোট বাচ্চা পেটের ভিতরে বসে সাজতে পারবে। তারপর বাচ্চা এসবের ভার সহ্য করতে পারল না। শেষে বাচ্চা হবার সময় দেখা গেল যে, বাচ্চাও বাঁচল না আর মাও বাঁচল না। এইসব খেলে কেউ বুঝি বাঁচে!

শিক্ষা: হিংসাই পতনের মূল।

Behave Girl

Once upon a time there was a girl named behave girl. Because, one day she behave badly, next day goodly, and next day no behave. So she is called behave girl. One day she was behaving goodly. She want an umbrella. She told her mother nicely that, "Mother! Please buy an umbrella for me with pink design. Please nice, not ugly. The mother said, "Sure darling! I will bring a beautiful pink umbrella for you." Then mother go to super market and buy a beautiful nice design pink color umbrella. Then behave girl said, "Thank you. Let me show you how to dance in a rain with umbrella. This is your gift for bringing this for me." Then mother said, "Is this a gift? This is a time passing thing. You want to make late for making the soup. Naughty girl!" Then behaved girl was angry. Then she throws the umbrella in a pond. The pond is very deep. So no one can bath or go down the water. Then mother scolded her and said, "You foolish girl. You have got angry and put a beautiful umbrella in that dark water? Foolish girl you are. I lost my three thousand money because of you. The umbrella is no used. I have lot of umbrella in the home. But those are not nice. So you told me to bring nice umbrella. Because of you my money has lost, and three thousand money umbrella you put it in the pond, the pond is very very deep. Now you can not tell me that, please bring the umbrella back. This is your duty to put it back from the pond. This is your own duty. Very much foolish girl you are. Because your performance you have got a mistake. Then you have to do it as your work. I have given you a duty. If you don't listen to me, this type of thing will happen. I have given a duty to you to give back my three thousand taka back. This is your duty to work and make three thousand taka and give it to me. Because of you, my three thousand fresh taka not has go to the shopkeeper. I will don't talk with you, until you give my money back." Then behave girl said, "Don't scold me. I will not give your money back. Give me my umbrella back. Why are you scolding me? Don't do like that. I will not give your money back." Then mother was very very angry and said, "You are foolish girl. Don't tell me that thing what I don't like. I will give your umbrella back. But you must work from any people and earn money and give it, otherwise I will not give your umbrella." Then Behave girl thinking, "Oh! What will I do now? Mother will not give my beautiful umbrella back, if I not give money. I can do everything for my beautiful nice umbrella. Why I have put it in the pond? This is my mother's mistake, but I have also done a mistake. If I am angry, I should put another little thing in the pond. But why I have put in the pond my beautiful umbrella? This is my mistake. So I must give my mother the money." Then she thinking and thinking what she do for the money. Then father come quickly and knocked on the door. He said, "Where is my dear behave girl? Open the door, please. Let me change my dress and take you lap." Then behave girl said, "Come, come! But fast can you listen my mother's story? What I want I have to give it. I am opening the door. Take me lap and after then I will tell you what to do." Then father change his dress and take lap his child. Then behave girl tell all the things what happen. Then father said let me think what to do." My dear baby I must help you. I will give you two thousand taka and give idea to make one thousand taka. Then they go to outside. Mother come to the room and there are no people. Then mother think, "I think that, father and the child was making the money. Father was also helping her. Oh! This idea? What a clever girl! What this performance of her father thus my behave girl changed like this. For my husband, I lost my behave girl's good performance. He very much take lap and very much affection. Because of that, behave girl want many things from her parents. I have done a mistake by buying this umbrella from her. Then mother look in the window. Father and behave girl was looking for rickshaws. Then they found a rickshaw and told that to the rickshaw man, "Can you take us to the Islamic Bank?" Then rickshaw man said, "Off course! Seat, seat. 30 taka only." Then they go to the bank. Mother was looking in the window. Then mother said, "Father is helping her too much. Let me scold when he come home. I want my money from behave girl, not from her father. Because, father did not do any mistake. My behave girl lost my money. Ok, I will not scold father when he come home. I will also go to see." Mother took her bag and she also went behind father and Behave girl. She follow where they are going. She saw that, they were collecting two thousand and five hundred taka. Father said, "My dear behaved girl! Take this money." Behave girl said, "Only two thousand and five hundred taka? Who will collect more five hundred taka? I want more five hundred taka I told you." Father said, "I am so sorry dear! You must make this five hundred taka of your own. I don't have enough for you. I have given you all the money I have." Mother become angry and thinking, "Oh! I am feeling very much angry. I don't like helping. Now I will not hide from them. I will get out of here and I will stand in front of them. Let me told that, I will not take helping money. Then mother come out from there and go in front of them." Behave girl said, "Mother! You are here? Look, I am bringing your money." Mother tell with a angry voice, "Stupid girl you are! Naughty girl you are! and fooling girl you are! I am not take helping money. If anybody help you, I will not take this. You have to collect this money by yourself, not by your father. Hey behave girl's father! Don't help her. Otherwise I will not take the money." Father said, "Yes! I want that, you will not take money. This is your loss. Your money is lost. I will not give your money. We don't have to work, if you don't need money." Mother said, "Foolish father and foolish behave girl! Those are foolish and naughty." Mother began to cry. Behave girl now behave very affectiony.  Behave girl said, "Don't cry, mom! Don't cry, please! I will give your money." Then mother tell with a loud voice, "But when? But how? I told you, not your father. You will give my money. And father, you don't help. I will be very much angry. Then I will do serious things. Really, really, very much really! I am telling you by promising." Then father said, "Our child is very much young. How will she do this?" Mother said, "Young or old? She read in class two." Father said, "Only two." Behave girl said, "Father! Listen to me. Don't help me now. Mother! I will bring your money, mom! Please don't be angry. You go to your home. Have you make the launch? Today we have your favourite pumpkin. Go and cook it quickly. Go to your home, go to your home, please. Faster, faster, go, go, go with a rickshaw. Mother has pleased to her speech. Mother quickly take a rickshaw and go to home. Because, she like pumpkin like all the best of the world. Behave girl said, "Oh! I have relived. Father! Now you can help me, but when I need you very much." Father said, "But it is very hard for you. I want to help you." Behave girl said, "Father! My mother is angry. In any way, I have to done this without your help." Then father said, "I will only give you the idea. I shall not work with you. Let me take you in a train station. You will carry the bag of the customers. They will give you taka. Then behave girl said, "Not a bad idea. Take me to the train station. If we can not earn enough money, we will also go to the bus station." Then they go to a train station. Train has come. A customer has five bags. Behave girl said, "Aunty! I will carry minimum five bags for you." The lady said, "Ha ha ha! You are girl, isn't it? Girls did not do this type of works." Then father and behave girl found a little boy who are very much poor. Then they said, "What is your name, dear?" He said, "Uncle, I am too poor. I am shortage of food. Please give me some foods. I will do that thing what you told. My name is Apu." "Ok, dear Apu. I will give you two corns. You can carry the bags of the train station customers. Bring the taka to us and we will give you food. Did you need something without corns?" The little boy said, "This is enough. But if you want, you can give me tomatoes or other fruits." The little boy go to train station and carry 12 customers bag. He earn 1,000/- taka. He got three tomatoes and two corn. Now they need to earn more 2,000/- taka. Now let us see what they do. Behave girl have an idea. Behave girl said, "Father! I have got a great idea. I have many chocolates in my pocket. It means I have 66 chocolate's box. If I sell these box, I can earn some money. But if I make a cake with it, I can earn much money. This is a real thing. Father, you have 15 taka. You can buy strawberry cream." Then they do that. Now they have make a two floors cake with the strawberry cream. If they sell the box, it will be 300/- taka. But if they sell cake, it can be 1000/- taka also. They sell the cake. They got 1,000/- taka. Now they need to earn more 1000/- taka. How can they earn more 1000/- taka? They began to think, Behave girl got an idea. She said, "I can earn 1000/- taka by selling my golden ring." Her father said, "Very good, my dear behave girl! I don't know, you have a golden ring." Then they sell the golden ring to a rich people. The rich people give them 2000/- taka, because the rich people like the ring very much and be happy. They were so happy. Father remember mother's talk. Father go away. Then behave girl alone go to home. Then mother saw the money. Then said, "Thanks for bringing my money." Then behave girl did not give the extra 1000/- money. She gave taka what her mother expend for umbrella. Mother becomes happy. And mother angry was gone. Behave girl buy a beautiful ring for mother. Then the family was so happy and the story has finished.

Monday, March 6, 2017

কাঠুরে ও ভুত

এক গ্রামে বাস করত এক কাঠুরে। সে একদিন গাছ কাটছিল। হঠাৎ সে দেখল একটি সুন্দর ডাল। সেই ডালটি খুবই গরম। হাত ছোয়ানো যাচ্ছে না। সে কুঠারটি দিয়ে অনেক কষ্টে ডালের কোণায় কোপ দিল। ডালটি ভেঙ্গে পড়ল। ডালটি দুই টুকরো হয়ে গেল। তারপর কাঠুরে গাছ থেকে নেমে এল। সে ঐ ডালটি ছুঁতে গেল। সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে একটি আলো বের হয়ে এল। হঠাৎ সেই আলোটি একটি ভুতে পরিণত হলো। কাঠুরে ভয়ে হাত কাঁপতে কাঁপতে বলল, "আমাকে মারবেন না, ক্ষমা করে দিন। আমি এক্ষুনি চলে যাচ্ছি।" ভুত বলল, "না না, আমি তোমায় মারব কেন? তোমায় পুরস্কৃত করার জন্য আমি বেরিয়ে এলাম, আর তুমি বলছ আমি মারব। আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ।" মানুষটি বলল, "কেন, আমি তোমায় কি করেছি? আমি বরং তোমার বাস করার মত সুন্দর ডালটি ভেঙ্গে ফেলেছি। একটি দোষ করেছি। আর তুমি বলছ পুরস্কৃত করবে? নাকি রাগের মাথায় ব্যাঙ্গ করছ?" "না, না। ব্যাঙ্গ করতে যাব কেন? তুমি যে আমায় মুক্ত করেছ। ভুতের রাজাকে আমি প্রত্যেকদিন মাছ এনে দিতাম। সে প্রত্যেকদিন ঐ মাছগুলোকে দাসী বানাতো আর তার রূপচর্চার জন্য তাদের দিয়ে কাজ করাতো। আর কাজে ভুল হলে তাদের খেয়ে ফেলত। আর বা- বা- কী মজা, এমন করত। রাজাটি ছিল রূপের কাতর।" ভুতেরা যা খায় তা আমাদের কাছে ঘৃণা লাগে। ভুতেরা কি খায় জান? আরেকটু পড়ে দেখ। ভুত বলল, "কেউ যদি বড় কোন ভুল করে, তাহলে তার রক্ত দিয়ে ভুতেরা স্নান করে। তারপর সেই রক্ত দিয়ে ফুলের পাপড়ি ভিজিয়ে তা গায়ে ছিটায়, আরো কত কিছুই না করে।" ভুতেদের সব কিছুই আমাদের ঘৃণা লাগে। তারপর খায় কি জান? খায় তো কী সব কাঁচা মাংস গিলে গিলে খায়, চাবাতেও হয় না। ভূতেরা তো দুই হাত নাড়ায়, যাদু-মন্ত্র পড়ে, আর দাসীরা সঙ্গে সঙ্গে রোস্ট হয়ে যায়। এখন এই ঘৃণাযুক্ত কথা বাদ দাও। এবার আসল গল্পটির কথা শোন। কাঠুরেটি বলল, "আচ্ছা ঠিক আছে। কি দেবে বল?" "যা চাও তাই দেব।" "আমি শুধু সুখে থাকতে চাই। আমি কুটিরে কাঠের ব্যবসা করতে চাই না। বড় কোন ব্যবসা করে সুখী হতে চাই।" তখন ভুতটি বলল, "এ কি আবার অসম্ভব নাকি? এ তো খুবই সহজ কাজ। কাল তোমার বউকে নিয়ে এসো। আমি এবার গাছের কোটরের ভিতর লুকিয়ে থাকি। আমায় দেখতে পেলে লোকেরা কাঁচা কঞ্চি দিয়ে আমাকে পিটাবে।" তারপর কাঠুরে বাড়ি ফিরল। রাতে সে বউকে সব বলল। বউ বলল, "কী সব আজেবাজে কথা বলছ! ভুত, আগুনের মত গরম ডাল, ভুতের রাজারা মাছদেরকে দাসী বানিয়ে রাখে, আবার কোন্‌ ভূত নাকি তোমাকে পুরস্কৃত করবে, ভুতেরা কিসব খায়! কী সব আজেবাজে কথা বল না তুমি! কাল আমি প্রমাণ করেই দেব, তুমি যা দেখেছ সব মিথ্যা। কাল আমি সকালে তোমার সঙ্গে যেতে রাজি।" কাঠুরে বলল, "ভয় পাবে নাতো?" বউ বলল, "কিছু থাকলে না ভয় পাব। তুমি যে কী বল না, তুমি একটু বেশিই বল। প্রমাণ না করলে আমার নামটি বদলে দিও।" তখন কাঠুরে বলল, "ঠিক আছে, নামটি পাল্টে দেব। তোমার নামটি করে দেব ভুতুরাইল্লা" তখন বউ বলল, "আজেবাজে কথা না বলে ঘুমিয়ে পড়।" সকাল হলো। সকাল হয়ে বউকে নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেল কাঠুরে বনের দিকে। ভাঙ্গা ডালটির কাছে গিয়ে ডাকতে লাগল, "ভুত বন্ধু, ভুত বন্ধু! একবারটি দেখা দাও তো।" ভুত এমনভাবে কথা বলল, যে সেটা শুধু কাঠুরের বউ ও কাঠুরেই শুনতে পাবে। সে বলল, "আগে আশেপাশের সব মানুষ তাড়িয়ে নাও, তারপর আমি বের হব।" সেখানে ৫ জন মানুষ ছিল। দু'জন গল্প করছিল, দু'জন গাছে পানি দিচ্ছিল, আর একজন বই পড়ছিল। তারা (কাঠুরে ও তার বউ) কৌশল ভাবতে লাগল। যে পড়ছে তাকে গিয়ে বলল, "ভাই! তুমি যে কলম আননি দেখছি।" "কলম না আনলেও চলবে, পড়ছি তো, লিখছি তো না। এ বইতে কোন অনুশীলনী নেই।" কাঠুরে মনে মনে ভুতকে বলল বইতে একটি অনুশীলনী বানিয়ে দিতে। বই পড়ার লোকটি বলছিল, "টিচার বলেছে, সারা বইতে যদি অনুশীলনী থেকে থাকে, তাহলে তা পূরণ করবে। আর যা যা আছে, তা পড়ে শেষ করবে। তারপর বই জমা দিতে হবে। ক্লাস eleven-এ পড়ি তো।" তখন ভুত বন্ধু সাহায্য করল। সে একটি অনুশীলনী বানিয়ে দিল। তার বাড়িতে একটি কলম ছিল, সেটি নষ্ট করে দিল। কালই বই জমা নেবে। এবার কাঠুরে বলল, "এই দেখ বের করে দিচ্ছি অনুশীলনী। এই যে, তুমি এগুলো পূরণ না করলে তোমার টিচার যে তোমাকে কি করবে, আমি জানিই না। যাও, বাসায় গিয়ে কলম নিয়ে এসো, না থাকলে কিনে নিয়ে এসো।"- এই বলে তাকে কাজে লাগিয়ে দিল। গল্প করছিল যে দু'জন, তাদের কাছে গেল। তারা আলোচনা করছিল, একটি পার্টি করবে। তারা বলছিল যে, পার্টিটা এই পুকুরের ধারে করবে। পুকুরটা ছিল সেই গাছের পাশেই। তারা বলছিল যে, বাড়িতে তো বেলুন আছে, নিয়ে আসি। তারপর ভুতকে ইশারায় কাঠুরে বলল, "বেলুনগুলি ফুটিয়ে দাও।" ভুত গাছের কোটরের মধ্য থেকে সব বুঝল। সে বেলুনগুলি ফুটানোর জন্য হালকা-পাতলা এমন অদৃশ্য সুই দিল, যাতে মানুষের কোন ক্ষতি হয় না। তারপর বেলুন ক'টা ফুটে গেল। বেলুনগুলো ছিল অসংখ্য। তখন কাঠুরেটি বলল, "ও ভাই! তোমার বাড়ি দূরের ঐ হলুদটি নয়, তিনতলা নয়, ডানপাশের বাড়িটি তো। ওখানে দেখছি, কিছু বেলুন ফুটে আছে। ঐগুলি তুমি ফেলে দিয়ে অন্যগুলি কিনে যা কাজে লাগে সে কাজটি কর। খেয়াল করিয়ে দিলাম বলে ধন্যবাদ বলার প্রয়োজন নেই; যাও ভাই, যাও।" তাদেরকেও কাজে লাগিয়ে দিল। এবার যে দু'জন গাছে পানি দিচ্ছিল, তাদের কাছে গেল। বউটি বলল, "ভাই! আপনার পানির পটে কি পুরো ভর্তি আছে?" তারপর ভুতকে কাঠুরে ইশারায় বলল কলের পানি, পুকুরের পানি ও টবের পানি শুষে নিতে। ভুত তাই করল অদৃশ্যভাবে। তখন কাঠুরে লোক দুটোকে বলল, "ভাই, তোমরা যে গাছে পানি দিচ্ছ, পানি শেষ হয়ে গেলে কি করবে?" লোক দুটোর একজন বলল, "কেন গো, ভাই? আমাদের বাড়িতে তো কল আছে।" তখন ঐ বউ বলল, "ভাই, আপনাদের তো কল আছে। এই সময়টুক যে আজকে পানি বন্ধ করে দিয়েছে, জানেন? আপনারা যে এই সময় ঘুমিয়ে ছিলেন গতকাল, তাই যখন মাইকে বলেছিল শুনতে পাননি। আর এমন গরম পড়েছে, পুকুরের পানিও শুকিয়ে গেছে। পানি কোত্থেকে পাবে, গাছগুলো যদি মরে যায়? ভাই, একটি কাজ করুন। যে রাস্তায় আধ ঘন্টা লাগে যেতে দূরে একটি নদী আছে, অত পানি শুকিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ওখানে গিয়ে বরঞ্চ পানি নিয়ে আসুন।" এ দু'জনকেও কাজে লাগিয়ে দিল। এবার আর কিচ্ছু নয়। বউকে দেখা করাবে বলে কাঠুরে ভুতকে ডাকতে শুরু করল। তারপর ভুত এসে হাজির হযে বলল, "বউ মা! তুমি আমার বউমা! জান তো, তোমার জামাই আমার কত্ত বড় একটা উপকার করেছে? তুমি বোধহয় সব শুনেছ, এটুকু বলে দিচ্ছি, আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না, কারণ তোমার জামাই আমাকে মুক্ত করে দিয়েছে এই বন্দীদশা থেকে। এবার বরঞ্চ একটি কাজ করা যাক। তোমাদের কুটির আমার খুব পছন্দ হয়েছে। নতুন জায়গায় থাকতে খুব ভালোই লাগে। আমি তোমাদের কুটিরে থাকি বরঞ্চ। আমি তোমাদের একটি বড় বিল্ডিং বানিয়ে দিচ্ছি, তোমরা সেখানে বাস কর। কাঠের ব্যবসা ছেড়ে দাও দেখি। তাড়াতাড়ি কথা বলা শেষ কর। লোকেরা কিন্তু এসে পড়বে, যাদেরকে তোমরা সরিয়ে দিয়েছ। এবার শোন দেখি। প্রত্যেক রাতে যখন গভীর হবে, তখন তোমরা গাছের কোটরের সামনে দাড়িয়ে এসে বলবে, 'ভুত ভাই, ভুত ভাই। এসো তুমি ভাই ভাই। বন্ধু ডাকছে তোমায় রে। ডাকে এবার সাড়া দে।'- এই মন্ত্রটি পড়বে। ঠিক আছে? এই মন্ত্রটি পড়লে আমার দেখা পাবে।" তাদের বুদ্ধির জোরে তারা সফল হয়েছে। তারপর তারা সুখে থাকল।
এরপর শোন। সেই ভুতের রাজার গল্প। সেই ভুতের রাজা দাসী বানাতো মাছ থেকে। ভুত শুধু একটা জিনিসই করতে পারে না। পারে না ওষুধ বানাতে, শুধু বৈদ্য ভুত ছাড়া। 

Sunday, October 2, 2016

The Golden Fish

There is a golden fish in glass pot. Rita keep it in her room table. But one day when Rita was in school, the golden fish jumped and trying to come out. The golden fish jumped high and then come out. The golden fish run and gone into the swimming pool. Everyone saw that and then take it. When Rita come, she saw there are no golden fish. Rita search in her dress. No. Rita search in the fish bowl. But not found in any place. Who take the golden fish, he was Rita's friend Geeta. One day she go to Geeta's home. She eat so many things. They talk about their house. But one time Rita saw the golden fish. Rita said, "Geeta! Where have you find that golden fish?" Geeta said, "Oh! That is the big story. I go to the swimming pool for swimming. But I was swimming, a golden fish come here. Then I take this golden fish. This golden fish can understand everything and talk with me and everyone. Then I start to make her my pet. I give food, water and I love it." Rita surprised and said, "No, that is my golden fish. My golden fish can talk. I lost my golden fish in 9/10/16. That was sunday. Your swimming class is also in sunday. That is my golden fish. Give that back to me." Geeta was very good boy. He give it back to Rita and said, "I take it. I thought I will show it to every home and give it back to the original proprietor. But now we have come and take this. It was a good thing." Then Rita said, "You are the real friend."

Thursday, September 8, 2016

আপদা কেরানী

এক ছিল এক প্রাইমারি স্কুল। সেই স্কুলে নিয়োগ পরীক্ষা হলো। সেই পরীক্ষায় প্রধান শিক্ষকের পরিচিত এক লোক ছিল। সে পরীক্ষায় ফেল করল। আর আরেকজন এক মিনিটে পরীক্ষা দেয়া শেষ করে উঠে গেল। পাশ তো করলই, কিন্তু যে ভাল করেছে তাকেই নেয়া হলো না। প্রধান শিক্ষক তার পরিচিত লোককেই নিল। প্রথম দিন এক টিচার এসে তাকে বলল, "আমার এই নোটিশটা একটু টাইপ করে দেবেন?"- বলে কাগজটা দিল, আর চলে গেল। এবার সে কী করবে? কী-বোর্ডে ছিল না বাংলা অক্ষর। সে না দেখে কিছুতেই টাইপ করতে পারত না। তারপর সে নোটিশ কথাটি লেখবে। 'ন' খুঁজতে শুরু করল। বলল, দেখি তো, Q-তে কি হয়? দিয়ে দেখল, 'ঙ'। এমন একটা একটা করে দেখতে দেখতে তিন ঘন্টা লাগিয়ে ফেলল। শেষে টাইপ করতে পারল পাঁচ ঘন্টায়। এখন প্রিন্ট করবে কিভাবে, তাই জানে না। Shift+P দিল, Alt+P, Enter+P, Caps Lock+P ও Tab+P দিল। সে শুধু জানে, P দিলে প্রিন্ট হয়। কিন্তু P-এর আগে কোন্‌ কী-বোর্ডটা টিপ দেবে, তাই জানে না। শেষে Ctrl+P দিল। এবার দেখে, প্রিন্টারে আবার সমস্যা। আরেকজনকে যে বলবে, তাতেও লজ্জা করে। প্রধান শিক্ষক এসে বলল, "কি হয়েছে? প্রিন্টারে সমস্যা? এই প্রিন্টারটা একটু এমনই। দাড়াও, আমি ওকে বলছি।"- বলে পাশের জনকে বলল, "এই, তুমি ওঠ। ওকে প্রিন্ট করতে দাও।" তখন প্রধান শিক্ষকের পরিচিত লোকটি বলল, "আবার টাইপ করব?" তখন প্রধান শিক্ষক বলল, "কেন? পেন-ড্রাইভ নেই? পেন ড্রাইভ আছে তো! ঐ যে পেন ড্রাইভ।" তখন পরিচিত লোকটি বলল, "পেন ড্রাইভে কী করব? পেন ড্রাইভ ঢুকায় কিভাবে?" তখন প্রধান শিক্ষক বলল, "আরে! কানা নাকি, দেখনি? ঐ তো পেন ড্রাইভ ঢুকানোর জায়গা।" তারপর পরিচিত লোকটি বলল, "পেন ড্রাইভ ঢুকালে কী হবে?" তখন প্রধান শিক্ষক বলল, "উহ! তুমি যা সমস্যা চেয়েছে, তার সমাধান হবে।" "ওহ! তাহলে ঐ কম্পিউটারেও এই লেখাটা ম্যাজিক করে হয়ে যাবে? নাকি আমারই আবার লিখতে হবে?" প্রধান শিক্ষক রাগের মাথায় চিৎকার দিয়ে বলল, "কপি হবে, আর কী হবে, এটাও জানিস না?" "তার মানে ফুলকপি হবে? ফুলকপি প্রিন্ট করে খাব? কি মজা, ফুলকপি অনেক মজা লাগে! কিন্তু তাহলে আমার লেখাটা আসবে কি করে?" প্রধান শিক্ষক মহা মহা মহা জ্বালায় পড়ল। মনে মনে রাগ হয়ে বলল, "এই চেংড়িরে নিয়ে আর পারলাম না! অসহ্য! একেবারে গাধা! আমি ভেবেছিলাম, পরীক্ষায় যা আসছে, সেগুলো কঠিন, এগুলো নিশ্চয়ই অনেক সহজ লাগবে। তাই আমি নিয়োগ দিলাম। আর এখন! আমি যে কী করি! এই মেয়েটা একেবারে বিশ্রী। আমার মান-সম্মান সব জলে ডুবিয়ে দিল। সবাই এখন বলবে, প্রধান শিক্ষকের লোক এমন! উহ!" এবার সে মুখে বলল, "ফুলকপি না হে, কপি। ফুল না। কপি মানে হল একটা জিনিস আরেক জায়গায়ও চলে আসা। তোমায় বুঝাতে এত সময় লাগে!" ঐখানে আবার একটা মিটিং ছিল। সবাই তাড়াতাড়ি করে এসে পড়ল। এসে দেখল, প্রধান শিক্ষক একজনের সাথে কথা বলছে, সে কিছুই পারছে না। সবাই বলতে লাগল, "প্রধান শিক্ষক স্যার! আপনার পরিচিত লোক কোথায়? দেখি তো তাকে। আমি নিশ্চিত, সে খুবই ভাল কাজ পারে। তাই আপনি তাকে নিয়োগ দিয়েছেন।দেখি তো! আর যে বোকা বোকা কাজ করছে, তাকে নিশ্চয়ই সে ভাল করে দিতে পারবে। তাকে নিশ্চয়ই শিখাবে।" প্রধান শিক্ষক মনে মনে বলল, "এ কী জ্বালায় পড়লাম আমি! আমারই কেন সব জ্বালা? তার মেয়ে কত সুন্দর কম্পিউটার চালায়, ভিডিও দেখে, তাই আমি ভাবলাম, ও মায়ের কাছ থেকেই শিখেছে, ওর মা নিশ্চয়ই খুব ভাল পারে। এখন দেখি, একেবারেই কিছু পারে না।" এরপর প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রতিদিন একটা না একটা জিনিস চাওয়া শুরু করল। প্রথম দিন বলল, "আমার কী-বোর্ডে একটু বাংলা দরকার।" পরেরদিন বলল, "ফুলকপির কথা বলেছিলেন না? সেটা কিনে দিয়েন।" পরের দিন বলল, "আমাকে এত বেশি কাজ দিয়েন না।" শেষে দেখা গেল, একদিন ক্লাস টু-তে বাংলা, ইংরেজি ও অংক তিনজন টিচারই ছুটিতে গেল। সেই তিনটা ক্লাস ওনাকে করতে দেয়া হল। বাংলায় বাক্য রচনা- শিখিয়ে দিল ক, খ। অংকে ৮ এর ঘরের নামতা- শিখিয়ে দিল ১, ২। ইংরেজিতে প্যারাগ্রাফ- শিখিয়ে দিল A, B। শুধু অক্ষর শিখাতে লাগল। সবাই এক মিনিটে লেখা শেষ করে খেলতে লাগল আপন মনে। সে আবার খাতা চেক করেই বলল, "যাদের যাদের লেখা শেষ, ক্লাসে দৌড়াও, ইচ্ছামত ক্লাস নোংরা কর, ইচ্ছামত যা ইচ্ছা তাই কর, ক্লাস ধুলায় ভর্তি কর খেলে খেলে- এবার আমি যাই।" পরে ড্রইং ক্লাসের মিস এসে বলল, "কী অবস্থা তোমাদের? তোমরা সব নোংরা করেছ। কেন করেছ?" বাচ্চারা সবাই টিচারকে বলল, "বাংলা, ইংরেজি, অংক আজকে যে মিসটা নিল না, সেই মিসটা আমাদেরকে বলছে খেলতে, ক্লাস নোংরা করতে, ধুলা উড়াতে, আর ইচ্ছেমত ক্লাসে দৌড়াতে। আমরা খেলেছি। টিচার বললে আমরা তো একটা চান্স পাই, আর সেই চান্সটা আমরা হাতছাড়া করব কেন? টিচার বলেছে, তাহলে তো করতেই হবে। আর এটা তো অনেক মজা। নিচের ক্যান্টিন থেকে ক্রিমি কেক নিয়ে আসব, খাব, প্যাকেটের খোসাগুলো ক্লাসে ফেলে দিব, দৌড়াব।" টিচার বলল, "কী! তোমরা ক্লাস টু-য়ের। এখন আমি তোমাদেরকে ড্রইং করাব, আর ক্লাসে ঢুকতেই আমার নাক ধুলায় ভরে গেল। আমি এখনই বলব সেই টিচারকে? সেই টিচারটা কোন টিচার? তার নাম কি?" সবাই বলল, "নাম তো জানি না। তবে সেই মিসটাকে জীবনেও দেখিনি আমরা। অনেক অফিসে গিয়েছি। সব টিচারকে দেখেছি। এই টিচারটাকে কোনদিনও দেখিনি। এই টিচারটা মনে হয় নতুন। আমরা সব ক্লাস দেখেছি সবসময়। সব টিচার্স রুমও দেখেছি। অফিসেও আমরা গিয়েছি। এই মিসটাকে আগে কখনো দেখিনি।" লিনা দাড়িয়ে বলল, "মিস! কালকে আমি ছুটির সময় অফিসে গিয়েছিলাম। তখন দেখেছি ঐ মিসটা শুধু একটা অক্ষর লিখছে আর মুছছে। তখন আমি ঐ মিসটাকে দেখেছিলাম। তার মানে, একটা নিয়োগ ছিল, সেই নিয়োগেই মনে হয় এসেছে। আমার মা-বাবাকে পেপার পড়তে দেখেছিলাম। হঠাৎ করে সেই খবরটি আমরা দেখে  ফেলি। সেই খবরে একটা গল্প ছিল, সেই গল্পটা পড়তে পড়তে আমি এটা দেখে ফেলেছি।" টিচার বলল, "অ্যাঁ! সেদিন তো প্রধান শিক্ষক স্যারের একটা পরিচিত টিচার নিয়োগে এসেছিল। তাড়াতাড়ি দেখতে হচ্ছে তো!" এই বলে টিচার তাড়াতাড়ি অফিসে গেল। অফিসে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা্, আপনি কি আজকে ক্লাস টু-য়ে ক্লাস নিয়েছিলেন?" লোকটি বলল, "হ্যাঁ, নিয়েছিলাম। ওরা খেলতে মজা পায়, তাই আমি ওদেরকে খেলতে বলেছি, ধুলা উড়িয়ে মজা করতে বলেছি, ক্লাস নোংরা করে সেই নোংরা ক্লাসে নাচতে বলেছি। তারা মজা করেছে।" তখন ড্রইং টিচার বলল, "এটা আপনি কী করলেন? ক্লাসে ঢুকতে না ঢুকতেই নাক বন্ধ হয়ে গেছে। এত ধুলা উড়াতে বলেছেন কেন? বাচ্চাদের যদি কোন ক্ষতি হয়ে যেত?"
পরের দিন প্রধান শিক্ষক মাথায় হাত দিয়ে বলতে লাগল, "এ আমি কাকে আনলাম! এর চেয়ে ঐ ভাল যে পারে ঐ লোকটিকে নিলেই পারতাম। কেন যে একে নিলাম?"- বলে আফসোস করতে লাগল।

শিক্ষা: পরিচয় দেখো না, গুণ দেখ।

Wednesday, August 24, 2016

রাগী মিয়া

হ্যালো বন্ধুরা! তোমরা নিশ্চয়ই গরীব লোকের কত গল্প শুনেছ। কিন্তু সত গরীব লোকদের। তোমরা কি কখনো রাগী গরীবদের গল্প শুনেছ? যদি শুনতে চাও, তাহলে এই গল্পটি পড়। রাগী গরীব হলে কেমন হয়। তবে এখন শোন গল্পটি।

একদিন এক জায়গায় ছিল এক গরীব লোক। কিন্তু খুব রাগী। অনেক অনেক গরীব ছিল। একটা টাকা-পয়সাও নেই। কিন্তু খুবই রাগী ছিল। অনেক অন্য রকম। জোর করে কেউ টাকা-পয়সা চাইলে কেউ কি দেয়? তাকে ভাল করা দরকার। তার নাম ছিল রাগী মিয়া। সবাই তাকে রাগী মিয়া বলে ডাকত। তাই সে আরো রেগে যেত। গিয়ে গিয়ে মানুষের ঘরের ভিতর ঢুকে জোর করে পয়সা চাইত। বলত, "এই! দেখেন না, আমি গরীব মানুষ? গরীব মানুষকে দেখলে কিছু দিবেন না? টাকা-পয়সা দেন এক্ষণি। যেটুক দিতে পারেন ততটুকু দেন। টাকা-পয়সা দেন আমারে! যে কোন কিছু দেন। কিন্তু কিছু না নিয়ে আমি এইখান থেকে যামু না। কইয়া দিলাম, তাড়াতাড়ি দেন? কতবার কওয়া লাগে? বোঝেন না, কত কষ্ট কইরা গ্রাম থিকা ঢাকা আসছি টাকা ধার নিয়া। গ্রামে গিয়া আবার টাকা ফেরত দেওয়া লাগবে আনে। নাইলে আমায় বড়লোকের মেয়ে দেইখ্যা বিয়া দেন। নাইলে কিন্তু চোরের মতন সব লইয়া যামু।" যার কাছে চাইছে, সে বলল, "আপনি কেমন গরীব লোক? এইভাবে কেন কথা বলছেন? ও রাগী মিয়া!" রাগী মিয়া শুনে আবার রেগে গেল। বলল, "রাগী মিয়া কইয়া ডাকলে হাজার হাজার পয়সা লইয়া যামু। এর চেয়ে রাগী মিয়া না ডাইক্যা চল্লিশ-পঞ্চাশ টাকা দেন। নাইলে তিনটা জামা আর তিনটা লুঙ্গি কিন্যা দেন।" তারপর লোকটি (গৃহস্থ) গেল রেগে। ভড়াস করে দরজা লাগিয়ে দিল। এই তো শুরু হলো টাকাটাকি। বলল, "গরীব মানুষরে তাড়াইয়া দেন কেন? তারপর কিছু না কইয়া ভড়াস কইরা দরজা বন্ধ কইরা দেন? এই সময় আর ভাল লাগতাছে না। তাড়াতাড়ি পয়সা দেন। কিছু না দিলে কিন্তু ডাকাতের দলে চইলা গিয়ে ডাকাত হইয়া যামু। তাড়াতাড়ি কিছু দেন না!" বাড়ির লোক রেগে একেবারে আগুন হয়ে গেল। জোরে চিতকার দিয়ে বলল, "চলে যান এখান থেকে। নইলে পুলিশ ডাকব কিন্তু। তাড়াতাড়ি যান। এইভাবে কথা বললে কেউ কাউরে দেয়?"- এই বলে জানালা বন্ধ করে দিল। শুধু বন্ধই করে দিল না, ভিতর থেকে তালা মেরে দিল। রাগী মিয়া ভাবল, "এই লোকটার কাছে কিছু চাইয়া লাভ হইব না। যাইয়া দেহি অন্য কেউ দেয় নাহি। দেবেই দেবে। জোর কইরা চাইলেই দেবে।" রাগী মিয়া চলে গেল সেখান থেকে। আর সেই বাড়ির লোকটি মনে মনে বলল, "যাক, বাঁচা গেল। চলে গেছে। এতক্ষণে থামাতে পারলাম।"- এই ভেবে খুব খুশী হলো। রাগী মিয়া এখন যে কারো বাড়িতে কিছু চাইছে না। বড়লোক বাড়ির দিকে চাইছে, এবং নিজে সুন্দর করে সাজার চেষ্টা করছে। যাতে বড়লোক বাড়ির কোন মেয়েলোক তাকে দেখে বিয়ে করে। সে দেখল, কী যে করি! বড়লোক বাড়ি নিশ্চয়ই একটা আছে। কিন্তু কই যে যাই! কেউ তো কইবেও না। মাইনষেরে দেখলেই টাকার লোভে চাইতে শুরু করি। তহন বিয়ার কথা আবার মনে থাকবো নানে। দেখি, কত দূর যাইয়া পারি। সে আল্লাহর কাছে সবসময় ভালো থাকত। আল্লাহর সঙ্গে ভালভাবে কথা বলত। কিন্তু আল্লাহর অন্যান্য বান্দাদের কথা ভাবত না। তাই সে আল্লাহর কাছে বলল, "আল্লাহ! বলে দাও না, কোথায় একটা বড়লোক বাড়ি পাব?" তখন আল্লাহ তার মনের মধ্যে গিয়ে বললেন, "আমি কেন বলে দেব? তুমি আমার বান্দাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার কর! তোমায় আমি বলে দেব না। কিচ্ছু বলে দেব না। তুমি এখন কাজ করতে পার। সেই কাজও করছ না। শুধু আমার বান্দাদেরকে জ্বালাতন করছ। তুমি এখন নিজে কাজ খুঁজবে, নয়তো যা খুঁজছ তাই খোঁজ, কিন্তু আমরা তোমাকে সাহায্য করব না- এটাই তোমার শাস্তি।" তখন রাগী মিয়া মনে মনে বলল, "আল্লাহ, একটু বল না! আমি আর তোমার বান্দাদেরকে জ্বালাতন করব না। কিন্তু একটা বড়লোক বাড়ি দেইখ্যা আমারে একটু চিনাইয়া দাও না।" তখন আল্লাহ বললেন, "না! তুমি সত্যি করে বলছ? তোমার কথা এখন কে শুনবে? তুমি তো বিয়ে করে যার সঙ্গে বিয়ে করবে তাকেও তো নিশ্চয়ই তুমি জ্বালাবে।" তারপর রাগী মিয়া আর আল্লাহর সঙ্গে কথা বলল না। খুঁজতে গেল বউ। কত এক ঘন্টা ধরে হাঁটল। কিচ্ছু পেল না। দুই ঘন্টা ধরে হাঁটল। তাও পেল না। তিন ঘন্টা ধরে হাঁটতে হাঁটতে অবশেষে আধা ধনী লোক পেল। সেই বাড়িতে চলে গেল। কিন্তু সেই বাড়ির মেয়েটি ছিল খুব সত। রাগী মিয়া দেখল, এর সঙ্গে একবার ভাল কথা বলেই দেখি, কী হয়। ভুলানো না গেলে জোর করব। "বাড়িতে কেউ আছেন নি? একটু খোলেন! আমি গরীব মানুষ। একটু খোলেন!" দরজা খুলে দিল সেই মেয়েটি। সেই মেয়েটির নাম ছিল অমিতা। দরজা খুলে দিল। বলল, "কে আপনি? এভাবে কেন এসেছেন? আপনি কে? আপনার পরিচয় দিন।" রাগী মিয়ার রাগী মিয়া নাম পছন্দ ছিল না। তাই সে নিজের আরেকটা নাম বানালো। রাগী মিয়া বলল, "আমার নাম গনী মিয়া। আমি অনেক দূর থেকে এসেছি। আমি খুব গরীব।" তখন অমিতা বলল, "আপনার নাম গনী মিয়া। কিন্তু আপনি গরীব কেন?" তখন রাগী মিয়া বলল, "নাম আর আসল জিনিস কি এক হয়? আমি নিজেই আমার নাম রেখেছি। কারণ, আমার মা-বাবা আমাকে 'এই ছেলে' বলে ডাকত।" অমিতা বলল, "আমি আপনাকে আরেকটা নাম দিচ্ছি। আপনার নাম সনি মিয়া। আপনার নামে গনী মিয়া মানায় না। এবার ঘরে আসুন।" তখন সনি মিয়া মনে মনে বলল, "যাক, বাবা! এবার ঘরে ঢুকতে পেরেছি, যাই।" তখন দুইজনই ঘরে গেল। অমিতার মা বলল, "কে তুমি? তুমি কোথায় থাক?" তখন সনি মিয়া বলল, "আমার নাম ছিল গনী মিয়া। কিন্তু আপনার মেয়ে আমার নাম দিয়েছে সনি মিয়া। গনি মিয়া মানায় না তা দেখে। আমার নাম এখন সনি মিয়া। আমি অনেক দূরে থাকতাম। অনেকক্ষণ ধরে এখানে এসেছি।" অমিতার বাবা বলল, "তোমার নাম সনি মিয়া। তোমার নতুন নাম? অমিতা, তুমি ওর নাম রেখেছ কেন? গনী মিয়া নাম তো সুন্দর লাগছিল।" অমিতা বলল, "সনি মিয়াই তো ভাল।" তখন সনি মিয়া বলল, "আমি যে গরীব, তাই আমাকে গনী মিয়া নাম রাখেনি। সনি মিয়া নাম আমারও পছন্দ।" মা বলল, "সত্যি! নামটা ভাল না লাগলে আমাদের বলো। আমরা আবার পাল্টে দেব।" বাবা বলল, "হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিক। তুমি এত দূর থেকে এসেছ। কিছু খাও। ঘরে রুটি আছে। আমরা ভাত খেয়েছি, ভাত শেষ। রুটি খাবে তুমি? এক্ষুণি এনে দিচ্ছি।"- এই বলে রুটি ও সবজি নিয়ে এল। তখন সনি মিয়া মনে মনে বলল, "এই তো। এমনই তো চাই।" তারপর সে বসে বসে খেল। পানিও দিল। সব খাওয়া-দাওয়া শেষ হল। এবার আস্তে আস্তে এক মাসের মধ্যে বিয়ের আলোচনা শুরু হলো। তখন অমিতা বলল, "অসম্ভব! আপনার কোন বাড়িই নেই। আর বিয়ের পর আপনি আমাকে নিয়ে কই যাবেন? আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারব না।"- এই বলে সে মায়ের কাছে সব ঘটনা খুলে বলল। বলল, "মা! আমি সনি মিয়াকে বিয়ে করতে পারব না। ওর কোন বাড়ি নেই। ও আমাকে নিয়ে কই যাবে? আমি কী করব? ওকে বিয়ে করব না আমি! আমি যে অনেকদিন আগে একটি ছেলেকে দেখেছিলাম। ঐ ছেলেটাকে আমি বিয়ে করব।" তখন মা বলল, "না মা! তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। তুমি বরং সনি মিয়াকে বিয়ে কর। ওকে বিয়ে কর।" বাবা সনি মিয়াকে বলল, " শোন! আমার মেয়েকে নিয়ে তুমি কই যাবে?" তখন সনি মিয়া বলল, " কুটির বানাবো।" "আমার মেয়ে কুটিরে থাকবে না।" "বেশ! নিয়ম পালটাইয়া যাক। বর থাকবে শশুর বাড়ি, বউ থাকবে বাপের বাড়ি। ভালো হলো না?" ''হ্যা! কুটিরে থাকার চেয়ে ভালো" তারপর তাদের বিয়ে হয়ে গেল। বিয়ের আনন্দে সেই লোকটি ভাল হয়ে গেল। এই গল্পটি তোমরা শুনেছ কখনো? গরীব কিন্তু সত এর গল্প হয়তো অনেক অনেক শুনেছ। এমন গল্প তো একটাও শোননি। তাই আমি তোমাদেরকে এই গল্পটি বললাম। 

Monday, August 22, 2016

ঋতুর দেশ

এক ছিল একটি দেশ। সেই দেশের রাজা ছিল বসন্ত। সেই দেশের রানী ছিল বর্ষা। সেই দেশের সেনাপ্রতি ছিল শরত। সেই দেশের মন্ত্রী ছিল হেমন্ত। রাজপুত্র ছিল গ্রীষ্ম। রাজকণ্যা ছিল শীতমণি।রাজ্যের প্রজারা ছিল বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য ইত্যাদি।একদিন ফাল্গুন বলল, রাজপুত্র মশাই! গ্রীষ্ম কাল এসে যাচ্ছে। আপনি কি প্রস্তুত চারিপাশে ছড়িয়ে পড়ার জন্য? আজ আগুন পোহায়ে গা গরম করে নিন। গ্রীস্ম কাল এলে সেই গরম ছড়িয়ে দিবেন। রাজপুত্র বর্ষা রানীকে গিয়ে বলল, "মা আগুনের ব্যাবস্থা কর।" বর্ষা বলল, "কেন? আমি নিজের কাজে ব্যস্থ। এক ঋতু পর বর্ষা আসবে। তখন আমাকে মেঘ হতে হবে। তোর আবার আগুনের জেদ উঠলো কেন?" "মা এক ঋতু পর বর্ষা। কিন্তু আগের ঋতু কি তা তোমার মনে নেই।" "ওহহও......ভুলেই গিয়েছিলাম। নাও  আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছি।" এই বলে আগুন জ্বালিয়ে দিল। গ্রীস্ম ঋতু শেষ হলো। বর্ষা মেঘের রূপ ধরে বৃষ্টি হয়ে নামল। বর্ষা ঋতু গেল। শরত ঋতু আসলো। শরত সেনাপতির দশটি কপি হয়ে গেল। প্রথম জন নবান্ন উতসবের জন্য সবাইকে ডাক দিল।দ্বিতীয় জন রোস্ট হয়ে গেল।তৃতীয় জন পানি হয়ে গেল।চর্তুথ জন বোরহানি হয়ে গেল। পঞ্চম জন পিঠাপুলি পায়েস হয়ে গেল। ষষ্ঠজন পোলাও হয়ে গেল। সপ্তম জন ভাজা মাছ হয়ে গেল। অস্টম জন ডিম হয়ে গেল। নবম জন মশলা হয়ে গেল।দশম জন শিউলি ফুল হয়ে চার পাশে গন্ধ ছড়িয়ে  দিল। ঐ বছরে হেমন্তকালের নবান্ন উতসব শরতকালেই করে ফেলেছিল। উতসবের কথা শুনে লোভ সামলাতে পারেনি কেউ। এবার হেমন্তকাল এসে গেল। মন্ত্রী বাইরে বের হলো। ঘাসের ডগায় শিশির জমিয়ে দিল। মাঠে এক সেকেন্ডের মধ্যে সুন্দর ধানক্ষেত বানিয়ে দিল। সবার ঘরে পায়েস ও পিঠে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে দিল। শেষের দিকে একটু একটু ঠাণ্ডা পরিয়ে দিল। হেমন্তকাল চলে গেল। রাজকন্যা শীতমনি ভাবল, এর পরের ঋতুটা তো আমার ঋতু। মাকে বলতে হবে। এই বলেই মার কাছে চলে গেল। "মা, মা! শোন। এর পরের ঋতুটি না শীত ঋতু। শীত ঋতুর সব দায়িত্ব না আমার। তুমি আমার হাত-পা বরফ দিয়ে ডলে ঠাণ্ডা করে দাও না।" রাণী বর্ষা বলল, "ঠিক আছে। চল, আমি আমার মেঘ থেকে শিলার বরফ নিয়ে আসি।"- এই বলে শিলা নিয়ে আসল। শিলা দিয়েই আজকে রাজকন্যাকে স্নান করালো। শীতঋতু আসার পর রাজকন্যা ম্যাজিক করল। হাজার হাজার সোয়েটার আর উলের সব কাপড়-চোপড় নিয়ে আসল। ঘরে ঘরে সেগুলো পাঠিয়ে দিল। জানান দিল, শীত আসছে। এই দেশের রাজকন্যা আসছে। শীত আসল। সবাই উলের কাপড় পরল। সবার গলায় উলের রুমাল। ঘুমানোর সময় সবাই কাঁথা গায়ে দেয়। শীতে পিঠা-কুলি খাওয়ার ধূম পড়িয়ে দিল। পিঠা বানানোরও দরকার হয়নি। হাজার হাজার পাটিশাপটা, ভাপা পিঠা আরো নানা রকমের পিঠা হাজির হয়ে গেল। সবার ঘরে ৫টি ৫টি করে পিঠা দিয়ে দিল। শীতকালে অনেক ঠাণ্ডা দিয়ে দিল। সারা গাছ শিশিরে ভরে উঠল। শীতকাল গেল। বসন্তকালেই তো আসল সমস্যা। শ্রাবণ বলল, "মহারাজ! আপনার প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ার সময় এসেছে। এই সুন্দর ঋতুটির জন্যই আমরা অপেক্ষা করছিলাম। দয়া করে প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ুন। আমরা গাছে গাছে ফুল, শাখায় শাখায় পাখি, ফুল-ফল ভরা নদী ভরা পানি- এই সুন্দর প্রকৃতি দেখতে চাই। কী সুন্দর আবহাওয়া হবে। এই প্রকৃতিটা আমরা দেখতে চাই, দেখতে চাই, দেখতে চাই।"- বলে মিছিল করা শুরু করল। বসন্ত বলল, "থাম, থাম, থাম। আমি ছড়িয়ে পড়তে পারব না। রাজ্য শাসন করবে কে? রানীর হাতে আমি রাজ্য ছেড়ে দেব না। বর্ষা যদি রাজ্য ভিজিয়ে দেয় আমি না থাকলে।" বর্ষা বলল, "কী হয়েছে, মহারাজ? আমি নাকি রাজ্য ভিজিয়ে দেব। আপনি নিশ্চিন্তে যান। আমি ভিজাব কেন?" রাজামশাই ভাবল, বর্ষা রাজ্য ভিজিয়ে দেবে। তখন রাজা বলল, "তাহলে বর্ষাও আমার সাথে যাবে। কিন্তু বর্ষা, মনে রেখো, তুমি যদি বৃষ্টি বানিয়ে দাও, তাহলে আমি কিন্তু তোমার ঘরের ভেতর মজার গাছপালা ভরে দেব না।" বর্ষা বলল, "ঠিক আছে, আমি যাচ্ছি আপনার সাথে।" সারা প্রকৃতি নতুন রূপে সাজল। শুধু প্রকৃতিই নয়। মানুষও সাজল। এই ভাবে এই বছরটি কেটে গেল। ওই দেশে এই বছরটি অন্য বছরের চেয়ে সবচেয়ে সুন্দর বছর।

Thursday, August 18, 2016

রূপার বায়না

এক ছিল এক কন্যা। সে খুবই ছোট। মনে কর পাঁচ-ছয় বছর হতে পারে। সব মা-বাবারাই পাঁচ-ছয় বছর বয়সী বাচ্চাদের সব কথা শোনে, যা চায় তাই দেয়। এই মেয়েটির নাম রূপা। ভালো নাম হলো রুপোঝিলমিল। তার মা তাকে রূপা বলেই ডাকত। শুধু তার বাবা রূপো বলে ডাকত, তাও পুরো ভালো নাম বলত না। তার মা-বাবারা তার কথা প্রায়ই শোনে। কিন্তু একদিন তার মা-বাবা বিরক্ত হয়ে তার কোন কথা শুনছিল না। এক সপ্তাহ ধরে যা চায় তা-ই দিতে হলো। এইজন্য এক সপ্তাহ পর মা-বাবা ক্লান্ত হয়ে গেল, তাই রাগ হয়ে গেল। রবিবারে মেয়েটি চেয়েছিল, পাঁচটি লজেন্স। সোমবারে চেয়েছিল দুই সেট চুরি। মঙ্গলবারে চেয়েছিল কানের দুল আর লাল গলার মালা। বুধবারে চেয়েছিল সুন্দর পুতুল। বৃহস্পতিবার চেয়েছিল পায়ের নুপুর। শুক্রবার চেয়েছিল মাথার ক্লিপ আর আংটি। শনিবার চেয়েছিল লাল গোলাপী ফুটফুটে সুন্দর ব্যাগ। তাই তার মা-বাবার অনেক টাকা খরচ হয়ে গেল। প্রায় তিন হাজার খরচ হয়েছে। শুধু তাই নয়, শুক্রবার তো ছুটির দিন। তাই সে তার মা-বাবার কাছে মেকআপ বক্স, কাজল, লিপস্টিক, মাথার ব্যান্ড, পায়ের আলতা, হাতে নেলপালিশ- এ ধরনের নানা রকমের সাজার জিনিস চেয়েছিল। আরেকটি ফ্যাশন টুপি। এতকিছু যদি কিনতে হয়, তাহলে দুই হাজার টাকা তো খরচ হবেই, তাই না? এমনকি সবচেয়ে ভালো সোনার চুরি দিয়েছে। পাঁচ-ছয় বছরের মানুষ সোনার চুরি পরে? তারপর মা-বাবা তো রেগে শুয়ে পড়ল। তখন রূপা মাকে বলল, "মা, আজকে আমার একটা ফুল আর প্রজাপতি ডিজাইনের জামা লাগবে। আর আরেকটা গোলাপী ডিজাইনের খাতাও লাগবে।" মা তো আরো রেগে গেল। উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। আর বকাবকি শুরু করল এই বলে, "এমন মেয়ে আমি জীবনেও দেখিনি। তুমি আমার কাছে এত জিনিস চাচ্ছ কেন? তুমি আমার জন্য কিছু কিনেছ যে, আমি তোমার দশ হাজার জিনিস কিনে দেব? আর চাই না আমি তোমার গিফট। এখন তুমি আমার কাছে কিচ্ছু চাইবে না, সরে যাও তাড়াতাড়ি। কত কিছু কিনেছ, টাকার হিসাব তো তুমি একদম বোঝই না। তুমি শুধু জিনিসের দাম বোঝ। শুধু বোঝ, দুই একটা পয়সা দেয়, আর একটা জিনিস নিয়ে নেয়। তাড়াতাড়ি চলে যাও।" তখন রূপা বাবার কাছে গেল। বাবাকে বলল, "বাবা, মাকে গিয়ে একটু মার না। মা আমাকে বকা দিয়েছে। আর আমাকে একটা ফুল আর প্রজাপতি ডিজাইনের জামা কিনে দেবে? মা আমাকে দেয়নি। মা আমাকে গোলাপী ডিজাইনের খাতাও দেয়নি।" বাবা বকল না। কারণ, বাবা একটু আহলাদু। তাই বলল, "আরে রূপো, শোন না, একটু এসব বাদ দাও না, মা। পড়ালেখায় মন দাও। এত জিনিস কিনতে পারব না। আর খাতা তো তুমি ছবি আঁকার জন্য কিনবে, পড়ালেখার জন্য তো না। আর মাকে এত মারা, বকা, এসব একটু বাদ দাও না। আর মা তো ঠিকই বলেছে। তুমি সারা সপ্তাহ ধরে কত কিছু কিনেছ। আজকে তোমার খাতা আর জামাও লাগবে? এত কিছু কি কিনে দেয়া যায়, মা? আমাদের টাকা তো সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। ও রূপোমনি, আজ অন্তত আমাদের একটু শান্তিতে থাকতে দাও না! আর রূপো, তুমি কবে একটু থামবে, বল না। আজ অন্তত একটু থাম। এই একদিন টুকু থাম। আর আমি কালকে রাতে যা বলেছি, তা তোমার মনে আছে?" রূপা বলল, "হ্যাঁ, মনে আছে। তুমি যদি মাকে না বক, আর জামা ও খাতা না কিনে দাও, তাহলে কিন্তু আমি তোমার রাতের কথা একদম শুনব না। তুমি তো বলেছ, যে আজ বিকেলে তোমার অফিসে ডিউটি আছে। বাচ্চাদের ঢুকানো, সিট গোনা, আর বাচ্চাদের সিট চিনিয়ে দেয়া, আর বাচ্চাদেরকে পরীক্ষার খাতা দেয়া। তুমি বলেছ আমাকে সিট গুনতে, আর বাচ্চাদেরকে সিট চিনিয়ে দিতে। আমি ওসব করতে পারব না, যদি তুমি আমাকে ওগুলো কিনে না দাও।" বাবা মহাজ্বালায় পড়ে গেল। বলল, "থাক না, মা। তুমি আজ অন্তত একটু থাম। আমি তো অনেকবার বলেছি এ কথা। আজ একটু সাহায্য কর আমাকে। আমি তোমাকে কত কিছু কিনে দিয়েছি। আর তুমি এটুকু করতে পারবে না?" তখন বাবা জ্বালার চোটে মাকে গিয়ে বলল, "এই, তুমি কি আমার রূপোমনিকে বকেছ?" "হ্যাঁ, বকেছি। তো কী হয়েছে? বকলে কি ও রাগে থড়থড় করে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেবে? কী এমন হবে একটুখানি বকলে?" বাবা বলল, "একটুখানি বকলে কিছু হবে নাকি মানে? তো আমার রূপোমনি যে বলল, "মা আমাকে বেশি বকে, সেই কথা কি তুমি বোঝ না, নাকি?" "হ্যাঁ, বুঝি। অবশ্যই বুঝি। এখন ঝগড়া না করে চলে যাও তো।" "কী, ঝগড়া আমি করেছি? না তুমি করেছ? তুমি রূপোকে বকেছ, তাই তো এ ঝগড়াটা হলো।" "আমি সাধে বকেছি? সারাটা সপ্তাহ একটার পর একটা জিনিস চেয়েই যাচ্ছে, আর আমি ওকে বকব না? আর আজ দেখ, আজও চেয়েছে, জামা চেয়েছে, খাতা চেয়েছে, পরে আবার কত কী চাবে?" বাবা বলল, "তুমি sure যে, পরে ও আবার চাইবে?" "হ্যাঁ, আমি sure, খুব আমি sure, কারণ ও এতদিন একটার পর একটা জিনিস চেয়েছে, আবারও চাইবে, এটাই আমার বিশ্বাস। তোমার রাগ হয় না, বল? আমার মনে হয়, যেন ওকে ছেড়ে চলেই যাই। ওকে তুমি না থামিয়ে আমার বকা থামাতে এসেছ কেন?" "আমি থামাইনি? দশ হাজারবার বলেছি। তোমার মেয়ে এমন কেন, তা তুমিই জান। তুমিই ওকে জন্ম দিয়েছ, আর তুমি ওর কথা বোঝ না?" মা বলল, "আমার মাথাটা গরম করে দিও না। কখন থেকে বলছি চলে যাও। তুমি না ওকে বেশি আদর কর। তাহলে ও যা  চায়, তা কিনে দাও না কেন?" তখন বাবা রাগ হয়ে নিজের মেয়ের উপর একটু মাথা গরম করল। মেয়েকে গিয়ে বলল, "এই মেয়ে! তুই এমন করিস কেন? আজ কিচ্ছু কিনে দিতে পারব না। শুধু তুই আমার স্কুলের কাজটুকু করে দিবি, ব্যাস। শোন, তাড়াতাড়ি ঘুমাও। কাল দুপুর, বিকাল, রাত কিছুতেই নয়; সকালে যেতে হবে আমাদের।" রূপাই তখন রাগ হয়ে গেল। রূপা বলল, "কেন শুনব আমি তোমার কথা? আমি এখন ঘুমাব না। রাতের বেলায় লাইট নিয়ে গিয়ে মাঠে খেলব। আমি তোমার কাজ করে দেব কেন? রাতের বেলা মাঠে খেলতে খুব মজা লাগে। আমি সকালে উঠবও না, রাত্রে তাড়াতাড়ি ঘুমাবও না, আমি তোমার অফিসের কাজও করে দেব না; তোমরা আমাকে কিছু দাও না, তোমরা আমার কথা না শুনলে আমি কেন তোমাদের কথা শুনব, তোমরা আস্তে আস্তে পচা হয়ে যাচ্ছ।" বাবা বলল, "এই মেয়ে! তোমার কথা শুনি না কে বলে? এই রূপো! এক সপ্তাহ ধরে কত জিনিস কিনেছি তোর জন্যে! তুমি কেন এমন কর? তুমি আমার একটা কথা শুনলে আমি তোমাকে ফুল আর প্রজাপতি ডিজাইনের জামা ও গোলাপী ডিজাইনের খাতা কিনে দেব। বাসায় কত খাতা আছে। সবুজ খাতা আছে, নীল খাতা আছে, সাদা খাতা আছে, কালো খাতা আছে, কফি কালারের খাতা আছে, আরো কত কী আছে!" তখন রূপা বলল, "আমার ঐ সব রঙের খাতা পছন্দ না। আমার লাল আর গোলাপী পছন্দ। আমার গোলাপী রঙের খাতা নাই।" বাবা বলল, "ঝগড়া করো না। তুমি আজ এই রুমেই শোবে। আমি অন্য রুমে শোব। এটাই তোমার শাস্তি। দেখি তুমি কি কর। আমি চলে যাই।" এই বলে বাবা তাড়াতাড়ি রুম থেকে বের হয়ে গেল। অন্য একটি রুমে ঢুকে দরজা লক করে দিল।" মা রুপার রুমে দরজায় উঁকি দিয়ে বলল, "রূপা! তোমার জন্যেই আমরা কিন্তু অন্য রুমে ঘুমাচ্ছি। তুমি কিন্তু আজকে এ রুমে শোবে, আমি বলে দিয়েছি। বাবা একটি ভালো শাস্তি দিয়েছে। প্রতিদিন ঘুমানোর সময় ঝগড়া কর। একদিন বল, পরীর গল্পের বই কিনে এনে পড়ে শোনাও। আরেকদিন বল, রাজকন্যার গল্পের বই কিনে এনে পড়ে শোনাও। একবার বল, রাজপুত্রের গল্প; আরেকবার বল, মিকি মাউসের গল্প; আরেকবার বল, টম এন্ড জেরির গল্প; আরেকবার বল, বারবি আর ফ্রোজেনের গল্প; আরেকবার বল, মরুভূমির রাজকন্যার গল্প শোনাও। আর কিন্তু এসব করা যাবে না। এসব করলে আমি কিন্তু আর কিচ্ছুই কিনে দেব না। আর এমন করলে আমি এই বাসায়ই ঘুমাব না, বাইরে গিয়ে ঘুমাব। দেখি, তুমি কি কর। রাতে পানি পিপাসা লাগলে তোমার নিজেরই উঠে পানি খেতে হবে। তোমার তো আবার রাতেই মাথা চুলকায়, রাতেই শ্যাম্পু করতে হয় আবার। দেখি, তুমি একা একা কিভাবে কাজ কর। অন্ধকারের মধ্যে বের হয়ে লাইট জ্বালাও কি করে।" "আমি আসি"- এই বলে মাও বের হয়ে গেল। ওদিকে বাবা বলল, "আমি শুনেছি, তুমি রূপোকে এমন এমন কথা কেন বলেছ? ও তো ছোট। আমি শুধু শাস্তি দিয়েছি যে, পানি খেতে চাইলে, মাথা চুলকালে আমি এসে সব ঠিক করে দেব, কিন্তু তারপর আবার আমি অন্য রুমে চলে যাব। কিন্তু তুমি আবার আগ বাড়িয়ে এত অতিরিক্ত শাস্তি দিতে যাচ্ছ কেন? ও এতসব করতে পারে? আমি ওর নানুর কাছে শুনেছি, তুমি নাকি ছোটবেলায় ওর মতই সারারাত শুধু গল্প শুনতে, মা-বাবাকে ঘুমাতে দিতে না?" তখন মা গেল রেগে। বলল, "আমার ছোটবেলা নিয়ে তোমাকে কে গবেষণা করতে বলেছে? আমি কিন্তু মাকে ফোন দিব।" "ফোন দেয়ার সুযোগ নেই! অনেক রাত হয়ে গেছে! তোমার মা-বাবা এখন ঘুমোচ্ছে। ঘুমের মধ্যে ডিস্টার্ব করলে তোমারই দোষ হবে। আমি গেলাম আমার রুমে!" মা রাগ হয়ে বলল, "Disgusting! অসহ্য! আমি আর থাকবই না এখানে। চলে যাব আমি।" বাবা বলল, "তোমাকে চেতিয়েছি! এবার আমি গেলাম আমার রুমে। বাচ্চাকে এতো শাস্তি দিয়ো না।" এই বলে বাবা চলে গেল রুমে। অনেক রাত হল। সবাই ঘুমিয়ে পড়ল। বাবু মোবাইলে এর্লাম দিলো। ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠলো। বাবার পকেট থেকে গাড়ির জন্য টাকা নিলো। একটি গাড়িতে উঠে পড়ল। ব্যাংকে চলে গেল। হেটে যেতে বিশ মিনিট লাগত। গাড়িতে যেতে দশ মিনিট লাগত। দশ মিনিটে পৌঁছে গেল। একশত টাকা নিয়ে বাড়ি এল। বাবা দরজা লক করে রেখেছে। রূপা দরজায় টোকা দিল। বাবা দরজা খুলে দিলো। মা বলল, "দরজা খুলতে হবে না। খাকুক না বাইরে। ভাল করে একটু শিক্ষা দিতে হবে। দশ দিনে এক লক্ষ টাকা খরচ করেছে আমার।"কিন্তু বাবা দরজা খুলল। রূপা বলল,"বাবা দেখো তোমার জন্য একশত টাকা এনেছি ব্যাংক থেকে। বাবা বলল,"যাক বাবা যেতে হলো না ব্যাংকে।" রূপা বলল,"কিন্তু বাবা এই টাকা নিয়ে মার্কেটে যেতে হবে। খাতা আর জামা কিনে দাও।

Monday, August 1, 2016

না সাজার শাস্তি

ভোজে যাব মাদ্রাসাতে
ভুলেছে মিনা সেজে যেতে-
মিস ভেবেছে, দেবে ভালো সাজ,
মিস রেগেছে, ভাবছি দেবে কাজ।

মিস বলে, নেইকো ছুটি,
মিনা বলে, মাথায় ঝুটি।
মাথায় ঝুটি দিলেই কি আর সাজ হয়?
চোখে কাজল, হাতে মেন্দি দিলেই তো সাজ হয়।

চললাম আমি বাড়ি- বলে মিনা।
ভাবছে, মিস যেতে দেবে কিনা।
মিস বলল, বাসায় গিয়ে সাজতে-
মিস বলেছিল, দাঁতও মাজতে।

পরেছে নুপুর, পায়ে আলতা-
হাতে চুরি, মেন্দি মাখা।
গলায় মালা, কী যে সাজ!
আমরা খাব, মুড়ি ভাজ।

Friday, July 1, 2016

কচুপাতা

এক ছিল এক শহর। সেই শহরে বাস করত একটা ছোট্ট মেয়ে। তাদের বাগানে ছিল অনেক কচুপাতা। জানালা দিয়ে সেই কচুপাতা দেখা যেত। একদিন হঠাৎ অনেক জোরে বৃষ্টি নামল। মেয়েটি কচুপাতার দিকে তাকালো। সব পাতায় বৃষ্টির পানি পড়ছে, সব পাতা পানিতে ভিজে নরম হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু মেয়েটি দেখল, কচুপাতা একটুও ভিজছে না। মেয়েটি তার মাকে গিয়ে বলল, "মা, মা! কচুপাতায় ফোঁটা ফোঁটা ওগুলো কি?" মা বলল, "ওগুলো তো পানি। ভাবছো তো কচুপাতা ভেজেনি কেন? কচুপাতা ভেজে না। কচুপাতায় পানি পড়ার সাথে সাথেই চলে যায়। আর এগুলো যে ফোটা ফোটা সেগুলো পড়ে যেতে পারে না, কিছু রয়ে যায়।" মেয়েটি বলল, "তাহলে মা! কচুপাতা ভেজার সম্পের্কে আরো কিছু বল।" মা বলল, "উহ! তোমায় নিয়ে আর পারি না। তুমি প্রশ্ন না করলে আমি শুধু শুধু উত্তর দিয়ে দেব কি করে? একটা না একটা তো সবসময় প্রশ্ন বলতেই থাক। এখন আবার প্রশ্ন ছাড়াই উত্তর বলতে হবে?" 

Friday, June 17, 2016

খাবার খাওয়া


চা আরো দাও বেশি করে
কেন এত কম-
কাঠাল খাব কলা খাব
বানাও আলুর দম।

পেয়ারা পাড়ো আম কুড়াও
দই পেতে রাখ।
ভাত খাব সবজি দিয়ে
মাংস রান্না কর।

খাবার খাব মজা করে
সবকিছু রাঁধো-
কেউ যদি দই নিয়ে যায়
তাকে দড়ি দিয়ে বাঁধো।


দুধ দোয়াও গরুর থেকে

খাবারে কিন্তু ময়লা পড়বে
কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখ।