Thursday, May 28, 2015

সোনার ঘর

এক ছিল এক রাজা। রাজার বাড়ির দু'পাশে দুটি ঘর। একটি হল তাঁবু। আরেকটি ছিল সোনার ঘর। মন্ত্রী ছিল খুব লোভী। চাইত মহারাজকে বেশি ভালটা দিতে। সে চাইত যে, তাঁবুটাকে সরিয়ে সোনাটাকেই শুধু পাশে রাখবে। কিন্তু না। কিভাবে হল জান? একদিন রাজা কাপড় নিয়ে রানীদেরকে বাচ্চাকে পড়ানোর জন্য দিতে যাচ্ছিল। এমন সময় মন্ত্রী এসে বলল, "রাজা মশাই! কাপড়? আপনিই আজকে আবার প্রতিদিনের মত বাচ্চার জন্য আপনিই কাপড় নিয়ে যাচ্ছেন? রানীদের কাছে দেবেন কি করে? রানী তো বাগানের মধ্যে গাছের ফল খাওয়ার জন্য নিয়ে আসতে গেছে। আর বাচ্চা তো বাগানের মধ্যে প্রজাপতি দেখে খেলতে গেছে। কাপড় না পরে কততো বরফ পড়ছিল। সোয়েটার গা দিতে হয়। কিন্তু সে তার গেঞ্জি পরেই গিয়েছিল।" মন্ত্রীর কথা শুনে তো রাজা ভয়ে ঘাবড়িয়ে গেলেন। বললেন, "মন্ত্রী, এ কি বলছ তুমি! তুই বলছিস টা কি? আমার মেয়ে গেঞ্জি পরে বাহিরে গেছে? সকালেই তো বরফ পড়েছিল। বরফ গলে গিয়েছিল। তাতে সেটা অনেক ঠাণ্ডা পানি ছিল। তার উপর দিয়ে খালি পায়ে গেলে তো সর্বনাশ! শত্রুরা বাচ্চার চিতকার শুনেই তো ভাববে যে, ও একা। ভেবেই তো ওরা ওকে নিয়ে যাবে। তাড়াতাড়ি ওকে উদ্ধার করে নিয়ে এসো। দেখ, বাগানের কোথায় গেছে। আরেকটা সোয়েটার নিয়ে যেও। পেলে ওকে পরিয়ে দিও।" বাচ্চাটা ভারি বুদ্ধিমান ছিল। তাই সে স্যান্ডেল পরেই গিয়েছিল। রাজপ্রাসাদে সবাই রাজার কথা শুনে আর মন্ত্রীর কথা শুনে জলদি করে সকলে মিলে গেল। আর ওদিকে রাজা তো একা হয়ে পড়ছিলেন। আর পিছন দিক দিয়ে আসছিল শত্রুরা। রাজামশাই নিজে মরতে ভয় পেত না। কিন্তু তার বাচ্চাকে নিয়েই তার মহাচিন্তা। এমন সময় শত্রুদের কথা আগে যুদ্ধ হয়েছিল যে, সেই কথা তার মনে হল। তখন যে সে আমার দু' রাণী ছিল, এক রাণীকে হত্যা করেছিল। তা থেকেই আমার এক রাণী। এখন তার মনে বড় ভয় হল। আর শত্রুরা আসছে পায়ের শব্দ শুনেই রাজামশাই ভয়ে চিন্তায় পড়ল। এখনই যদি বাচ্চা এখানে এসে পড়ে কাজের লোকদের সাথে, তবে তো তারা আমাকে পরে নিয়ে আগে আমার বাচ্চাটাকেই হত্যা করে ফেলবে। এখন কি করি! এই ভেবে তো রাজা বড় চিন্তায় পড়ে আছে। এবার শত্রুদেরকে ভয় দেখানোর জন্য রাজা খেলনা সাপ জানালার বাইরে এরকম একটু বের করে সাপের মত ছি ছি করে আওয়াজ করল, আর শত্রুরা তো সাপের ভয়ে পালিয়ে গেল। তারপরই এল তার ছোট্ট বাচ্চা। বাচ্চাটাকে পেয়ে তো খুশী হলেন এবং কোলে নিলেন। কিন্তু বাচ্চাটা খুশী ছিল না। বাচ্চাটা বলছিল, "মা, মা, মা!" তার মা তো ছিল বাগানের মধ্যে গাছের ফল ছিঁড়তে। ফল ছিড়ে ফিরে আসছে না দেখে সে কান্না শুরু করে দিল। রাজ্যের সবাই বলে, "তোমার মা এসে পড়বেই। তোমার মা তো এসে পড়বে। তুমি তো রাজকন্যা। রাজকন্যারা অমনভাবে কাঁদলে কি হয়? আধা বয়সের বাচ্চারা না কাদে, তোমার তো আধা বছর পার হয়েছে, দেড় বছর তো হয়েছে। এক হলে না এক কথা, তাও আবার দেড় বছর হয়ে গেছে। তুমি এমন কাঁদলে হবে?" আর ওগুলো বলতে বলতেই মা ফলের ঝুড়িতে ফল নিয়ে এসে পড়ল। রাজার কোল থেকে বাচ্চা নেমে এসে মায়ের কোলে এসে পড়ল। আর মাও খুশী হয়ে বলল, "এত ভালবাসা লাগবে না। শেষে এত ভালবাসা দিতে দিতে দেখবি নিজেই বিপদে পড়ে গিয়েছিস। এই দেখ, কত রকমের ফল এনেছি। এনেছি আম, আর এনেছি আপেল, আর কমলা। তোর তো একদম পছন্দের ফল এগুলো। খাবি না? তাড়াতাড়ি চল বেসিনে হাত ধুতে।" বাচ্চাকে নিয়ে হাত ধুইয়ে নিয়ে এল, ছোলা ছিলিয়ে দিল মা। বাচ্চাটি খেতে লাগল। এই ঘটনা নিয়ে নিয়েই মন্ত্রীর ভাবনা গেল সোনার ঘর। সেই সোনার ঘরে থাকার লোভ আর মেটাতে পারছিল না। সেই ঘরটা ছিল গরীবদের জন্য, তবুও সে ভোর বেলা কোথায় গেল জান? সেই সোনার ঘরে। কিছুক্ষণ থাকার পর তার সাধ মিটছিল না। সাধ মেটাতে গিয়ে মন্ত্রী একটা খবর দেওয়ার কথা ছিল, সরাই খানায় খাবার দেওয়া এবং সেখানে লোক আসবে- এই লোক আসার কথাটি রাজাকে দেয়া আর খাবার দিতে হবে এই কথাটা দেয়া; কিন্তু তার সাধ মেটাতে গিয়ে সেগুলো আর বলা হলো না, লোক এসে বসে থাকল। কিন্তু কোন কোন খাবার পাচ্ছিল না খাওয়ার জন্য। প্রহরীরা খবর দিতে এল, তবু মন্ত্রী এল না। একদিন এক গরীব লোক এল, তাকে ঐ সোনার ঘরে থাকতে দিল। কিন্তু সে গিয়ে দেখে মন্ত্রী মশাই বসে আছে। "মন্ত্রী মশাই! আপনি এখানে কি করছেন?" "আমি মানে, আমি মানে, আমি.. এখানে একটু রাজা মশাই বলেছিল যে, পরিষ্কার করে রাখতে, এখানে লোক আসছে, তাই এখানে বসে একটু পরিস্কার করছিলাম।" "ঠিক আছে, আর দরকার নেই, আমাকে থাকতে দিয়েছি। এখন আমি ঢুকি?" "উঠাবে না কেন, ঢোক"- এই বলে সে আবার রাজপ্রাসাদে গেল। রাজা মন্ত্রীকে দেখে বলল, "মন্ত্রী! তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে?" মন্ত্রী বলে, "এই মানে, আমি একটু ছোট বাচ্চার কাপড় পরিস্কার করে এলাম।" তখন রাজা বলে, "এখন দেখি তো, কেমন পরিস্কার করেছ?" তখন বলে, "আমি নিজেই ভুলে গিয়েছি, কোথায় রেখেছি। একটু খুঁজে আনি। খুঁজে আনতে একটু সময় লাগবে।"- এই বলে সে কাপড় ধুতে গেল। ধরা না খাওয়ার জন্য এমন করল। রাজা মশাই ভাল ছিলেন। মন্ত্রী যদি বলত যে, সোনার ঘরে একটু থাকি, তাহলে রাজা মশাই থাকতে দিত। কিন্তু সেই লোভ গোপনে গোপনে করছিল। মন্ত্রী এবার কাপড় খোঁজার নাম দিয়ে বাসায় গেল এবং ধুয়ে টুয়ে নিয়ে এল। সোনার ঘরে আবার গেল। তারপর গরীব লোকটি গোসলের জন্য পুকুরের পাড়ে গেল। আর অমনি সোনার ঘরে ঢুকে পড়ল। তখন আবার লোকটি এসে বলে, "আবার কি করছ মন্ত্রী?" বলে, "রাজা আমায় প্রতিদিনের কাজ/দায়িত্ব দিয়েছে এই ঘর পরিস্কার করার। আপনি চলে গেলে আর ঘর পরিস্কার করব না।" বলে, "ঠিক আছে, এখন যাও।"- বলে সে সোনার ঘরে ঢুকল। আর ওদিকে তাঁবুর কথা তো বলাই হচ্ছে না। ওদিকে তাঁবুতে এক ধনী জ্ঞানী মানুষ রাজাকে দাওয়াত দিতে এসেছিল। বলে, "কবে দাওয়াত দিবে?" বলে, "আর বইলেন না, এই তো। ৫ দিন পরে। এই বিয়ের কার্ডটা দেখুন। বুঝতে পারবেন সব। নাখালপাড়ার কুলফি গার্ডেন সেন্টারেই বিয়েটা হচ্ছে। আর সেই বিয়েতেই আপনার দাওয়াত।" এখন বলে, "ঠিক আছে, তবে তুমি তাঁবুতে থাক।" আর মন্ত্রী এমন করে করেই সোনার ঘরে থাকছে। কিন্তু সাধ মিটছিল না। কারণ, খুব কম সময়।

Wednesday, May 20, 2015

মুনতারার বই

একদিন একটি মেয়ে নাম মুনতারা, সে তার ছোট বোন আলিয়াকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাচ্ছিল। সিঁড়ি দিয়ে যাচ্ছিল এক মুরুব্বী মানুষ। তাকে জিজ্ঞেস করে, "আচ্ছা, আন্টি! আপনি কি জানেন, ঐ যে একটা ছোট্ট মেয়ে ব্যান্ড পড়া ঝুটিওয়ালা, হাতে নখ বড় বড়, হাতে মেহেন্দি পড়া, হাতে চুড়ি পড়ে বাইরে খেলে সেই মেয়েটির নাম কি?" "কোন্‌ মেয়ে? প্রতিদিন যে লাল কাপড় পড়ে আসে সেই মেয়েটি?" "হ্যা, সেই মেয়েটি।" "ওর নাম কি, ও তোমার কি হয় বন্ধু?" "হ্যা, বন্ধু। কিন্তু নিজের নামটাই বলে দিতে পারে না।" "সেটাই তুমি জান না? তার নাম রূপালী। কিন্তু তুমি জানতে চাচ্ছ কেন, কি কারণে?" সে কি আর গোপন কথা বলা যাবে? "কেন, গোপন কথা আমাকে বল। আমি সবচেয়ে বেশি মুরুব্বী এই ৫ তলার। তোমরা দোতলায় থাক। আমার সাথে যখন দেখা হল, বল।" "না, না না না। গোপন কথা আমি কাউকে কখখোনো বলবো না। এটা মায়ের গোপন কথা।" "মায়ের কোন্‌ গোপন কথা? মায়ের কথা মা এটা গোপন রাখতে বলেছে, নাকি মায়ের বিরুদ্ধে কথা?" "কেন, এটা জেনে তোমার লাভ কি?" "না, না, না। কিন্তু আমার যে জানা দরকারি। তুমি বল, গোপন কথাটা তো আর জানতে চাইনি।" "আচ্ছা, এটা না জানলে তুমি আমার কাছ থেকে জেনে নিতে পার। কিন্তু তুমি আগে তোমার  আগে তুমি বল, তুমি কোথায় যাচ্ছ? এটা যদি না বলতে পার, তবে আমি কি করে বলব মায়ের গোপন কথা?" "ঠিক আছে, আমার জানার দরকার নেই। তোমরা যাও। তবু আমি আমার গোপন কথা তোমাকে বলব না। আমারও একটা তোমার মত গোপন কথা আছে। সেটা আমার বাবার কথা। তোমার যেরকম মায়ের কথা, এটা আমার বাবা সবাইকে বলতে নিষেধ করেছে। তুমি যাও। এখন আর এরকম করে লাভ নেই।" এখন দু'জন দুজনের পথে চলে গেল। বলতে বলতে সিড়ি শেষ হয়ে গেল, তারা নিচে নেমে গেল। রূপালীকে দেখে বলে, "রূপালী, রূপালী, তুমি সেদিন তোমার নাম বলরিন কেন?" "নাম তো বলিনি, কিন্তু তোমি না বলা অবস্থাতেই জানলে কেমনে, আমার নাম রুপালী?" "সেটা তোমার জেনে লাভ কি? বল, তোমার বাসা কোনটা?" "ওমা, আমাকে দেখনি বুঝি কোন বাড়িতে যেতে? আজকে রাতেই আমি আমার বাড়িতে যাব।" আসলে আসল কথাটা কি আর বোঝ? দেখ এবার রূপালী কি করে। রূপালী তাকে ধোকা দিতে চেয়েছিল। অন্য বাড়িতে ঢোকার ভান করতে চেয়েছিল। সে এবার অন্য বাড়িতেই ঢুকতে যাবে। তার আগে দেখ খেলার খবরটা কি? খেলতে খেলতে একটা খেলনা সাপ ব্যাটারী দিয়ে চলে আকাবাকা আকাবাকা করে ডোরাকাটা রং মাখা। সেটা এক মেয়ে কিনেছিল। সেটা চালাতে চালাতে সেটা খেলার মাঠে এসে পড়ল। সিড়ি দিয়ে চালাতে চালাতে। সেটার রিমোট ছিল সেই মেয়েটির হাতে। এখন অলিয়া, রূপালী আর মুনতারা সেই সাপটি দেখে ভয় পেল। কিন্তু অলিয়া তো বেশি ছোট। তাই সে বেশি ভয় পেল। কিন্তু এবার দেখ। সে একটুও ভয় পায়নি। তা দেখে তো রূপালী অবাকের মাথায় কি বলে। রূপালী বলে, "এই মেয়ে এরকম ভয় পেল কি করে। আমরা তো ভয়ে ঘাবড়িয়ে যাচ্ছি।" একদিন মুনতারা বই পড়ছে। জাতীয় পতাকা উড়ছে। পড়ছিল যে, জাতীয় পতাকার রং লাল ও সবুজ, হাতলের রং হলুদ। আর পড়ছিল, জাতীয় ফুল শাপলা। এই অনুচ্ছেদগুলো পড়ছিল। অলিয়া তো এসে বলে, তুমি কি পড়ছ? আমি নাসরারীতে পড়ি, আর তুমি ওয়ানে পড়। এখন আমার বই কোথায়? আর তার সেই খেলার পর কোন্‌ বাসায় গেল সেটা তো  তোমরা আগে থেকেই জান। এখন ছোট বোন বলে, আমার বই কোথায়, আমার বই কোথায়? তখন মা এসে বলল, "চুপ কর তো, অলিয়া। তোমার বোন বই পড়ছে। কেন ডিস্টার্ব খরছ? এদিকে আস। নয়তো বকা দেব। আস।" "কেন মা, আমি আমা রবই নিয়ে পড়ব। আমার বই দাও। আমি এখন বাক্য লিখতে পারি না তো কি? আমি এখন শব্দ লেখা শিখেছি তো। এখন আমার খাতাটা দাও। হোম ওয়ার্কটা করব। আমি পড়ব বোনের সাথে। আমি মুনতারার সাথে পড়ব।" "না, না। এদিকে এসো।" বলে মা জোর করে নিয়ে গেল। মুনতারা বলল, "না, মা। ও যখন পড়তে চাচ্ছে, ওর হোমওয়ার্ক খাতাটা দিয়ে ওকে শান্ত কর না। তুমি যদি ওকে শান্ত না কর হোম ওয়ার্ক খাতা না দিলে, আমি অনুচ্ছেদও পড়ব কি করে?" "না না না, ওকে আমি শান্ত করব। কিন্তু বই-খাতা দিয়ে নয়। গল্প শুনিয়ে, ছড়া শুনিয়ে।" "আস, অলিয়া। মুনতারা, তুমি অনুচ্ছেদ পড়। এই অলিয়া, ডিস্টার্ব করো না, আস।" অলিয়াকে আবার জোর করে টেনে নিয়ে গেল। বলেঃ এক দেশে ছিল একটা সিংহ। একটা মানুষ সিংহের কাছে গেল। মানুষটা বলে, আমি তোমাকে মারব। ধরে একেবারে মারব। সিংহটা বলে, "জানিস আমি কে? আমি এই বনের রাজা। সব কথা আমার কথা শুনবে। আর না হলে আমিই তোর ঘাড় মটকাব। আমি তোর মাংস খাব।" বাঘ এসে বলে, না না সিংহ। ওকে মেরো না। ঐ নদীর কাছে গিয়ে পানি খেতে বল। পানি খেলেই ও চলে যাবে। সিংহ বলে, "না বন্ধু। ও আমাকে কি বলে জান? ও আমাকে বলে নাকি আমাকে মারবে।" "কেন, ওকে ছেড়ে দাও।"- বাঘ বলে। আর সেই একটু গল্প শুনাতে শুনাতেও বাচ্চাটার কান্না থামল না। সিংহ বলল, "না বন্ধু, তুমি জান না, তোমাকে যদি বলা হতো যে, আমি তোমায় মারব, তবে কি তোমার ভাল লাগত, যদি আমি বলতাম ওকে ছেড়ে দাও? সেরকম ওকে ছেড়ে দিতে বলো না আমাকে।" এবার সিংহ বলল, "কি, বাঘ মামা? তোমাকে যদি একথা বলা হতো তোমার তো খারাপ লাগতো তাই না?" এখন বাঘ বলে, "শোন বন্ধু! ওকে ছেড়ে দাও। যা বলেছি তাই কর।" এমন সময় সিংহ মাথা খারাপ করে তাকে সত্যি সত্যি ছেড়ে দিল। বাঘ বলে, "আমি তো শুধু মশকরা করতেছিলাম। সত্যি সত্যি ছাড়তে বলেছি নাকি?" বলে, "চুপ কর বাঘ! তুমি তো বললে, ছেড়ে দিতে। এখন কেন আবার আমাকে বলছ, ছেড়ে দিয়েছ কেন।" এখন সিংহ আরেকটি মানুষকে ধরে তার দলে নিল। বলল, "তুমি বাঘ মশাইর কাছে গিয়ে বলবে, আমি তোমায় মেরে ফেলব।" মানুষটা ভেবেছিল আগে সিংহের কথামত কাজ করে তারপর সিংহটাকে মারব। এখন সেই লোকটিকে পাঠালো বাঘের কাছে। লোকটি বলল, "কি বাঘ মশাই! তোমাকে আমি মেরে ফেলব।" তখন বাঘটি বলে, "এততো বড় সাহস! আমি কে জানিস? আমি হলাম এই বনের রাজার বন্ধু।" এখন সিংহ এসে বলল, "ওকে তুমি মেরো না। তুমি ওকে ছেড়ে দাও। ও নদীর জলে গিয়ে পানি খাক।" এখন বাঘ বলে, "না না না না, ওকে  ছাড়াই যাবে না।" এখন বাঘ সিংহের মত মাথা খারাপ করে সিংহের মতনই সত্যি সত্যি ছেড়ে দিল না। ভাবল, আমি যখন সিংহের সাথে মশকরা করেছিলাম, ও নিশ্চয়ই মশকরা করছে। সিংহও বুঝে গেল, মশকরা করছি বলে ভাবছে বুঝি বাঘ। সিংহ বলল, "আমি মোটেও মশকরা করিনি। আমি একটা হরিণ এনেছিলাম। হরিণটা তোমাকে খেতে দেব না, তোমাকে ফেলে রেখে খাব। তখন বুঝবে মজা। বনের রাজার বন্ধু বনের রাজাকে কি করে বকা দেয়। বনের রাজা তো সিংহ। বনের রাজার শাস্তি না মানলে কেমন হয়।" হরিণের মাংস সে একাই খেল। তারপর বাঘকে বলল, "ভালই তো মশকরা করছি না বলে বলেছিলাম। এখন তোমারই দোষ। তুমিই খেতে পারছ না। এখন বোঝ।"
এই গল্পটা শুনে অলিয়া কান্না থামাল। তারপর অলিয়া কান্না থামাল দেখে মা বলল, এই তো কি সুন্দর কান্না থামাতে পারে। কান্না যখন থামিয়েছ, তুমি মুনতারার সাথে পড়। কিন্তু মুনতারার কাছে গিয়ে নয়। হোমওয়ার্ক খাতা এখানে নিয়ে এসে তারপর লেখ। অনুচ্ছেদ তো পড়ার পর দুজনেই খেলতে চাইল। হোমওয়ার্ক করা বাদ দিয়ে অলিয়া মুনতারার সাথে খেলতে গেল। যাওয়ার আগেই মা বলল, "এই মুনতারার সাথে খেলতে যাচ্ছ কেন? বলেছিলে না, হোমওয়ার্ক পুরোটা শেষ কর। কেবলমাত্র শুরু করেছ হোমওয়ার্ক করা।" অলিয়া বলল, "না, হোমওয়ার্ক করব না।" "এত কষ্ট করে গল্প শোনালাম, আর তুমি যে এখন লেখাপড়া করবেই না।" এখন জোর করে মুনতারাকে লুকাতে বলল। অনেক ভাল একটা জায়গায় লুকাতে বলল মুনতারাকে। মুনতারা লুকিয়ে গেল সোফার নিচে। তাও আবার পায়ের উপর, মুখের উপর, গায়ের উপর কাল কাপড় দিয়ে। আর তখনই অলিয়া মুনতারা বলে ডাকে। খাটের তলায় খোজে, লুকানোর জায়গায় খোজে। দরজার কোনায় খোজে। টেবিলের নিচে খোজে। রান্না ঘরে খোজে, বারান্দায় খোজে। পর্দার নিচে খোজে, কোনাকুনিতে খোজে৭। পায় না অলিয়া। মুনতারা লুকিয়েই থাকে। এখন মুনতারাকে না নিয়ে মুনতারার শব্দ না শুনে মুনতারাকে না পেয়ে অলিয়া মুনতারার কথাই ভুলে যায়। তখন আবার সে হোমওয়ার্ক করতে বসে। এমন সময় রুপালী এসে হাজির। বলে, "মুনতারা! চিতকার করে ওঠে। অলিয়া, মুনতারা কোথায়? ও মুনতারা, তুমি কোথায়?" এখন মুনতারাও কানের উপর যে দিয়েছে কাপড়, তাতে আর অলিয়ার কোন সাড়া শব্দ শুনতে পায়নি। তাই মুনতারা আবার বের হয়ে আসল। এসে নাচতে নাচতে মায়ের ঘরে এসে দেখে, রূপালি ও অলিয়া বসে আছে। মুনতারাকে পেয়ে দুজনেই ছুটল। অলিয়ার হোমওয়ার্ক করা দুটো রয়ে গেল। দুটো হোমওয়ার্ক করেই দিয়েছিল দৌড় অলিয়া। তারপর অলিয়া, রুপালী, মুনতারা তিনজন একসাথে হয়ে বসল। আবার কলিং বেল দিয়ে দেখে, ফুপাতো ভাই এসে গেছে। এখন চার জন একসাতে হল। তারা হল- তামীম, মুনতারা, অলিয়া ও রুপালী। চারজন হয়েছে। একটু পর দরজায় কে যেন টাকাচ্ছিল। এসে দেখে, তার চাচাতো বোন এসে গেছে। এখন দেখ, পাঁচজন হয়েছে। মাইশা, তামীম, মুনতারা, অলিয়া ও রুপালী। এরকম করতে করতে ছয়জন হয়ে েগছ। তখন তারা একসাথে খেলল। রুপালীও চলে গেল। মুনতারা আবার কি করতে যেন গেল। তখন অলিয়া হোমওয়ার্ক করে আবার আসল। তখন ওরা মাত্র দুজন আবার হয়ে গেলো। 

Monday, May 18, 2015

বোকা লোকের ভালো দাঁত

এক ছিল এক লোক। লোকটির বড়ই শখ ছিল অনেক সুন্দর দাঁত নিজের মুখে আনার। তাহলে ও বেশি সুন্দর মেয়েকে এবং ভাল মেয়েকে বিয়ে করতে পারবে। আর তার দাঁত মাজতে মোটেই পছন্দ না। রাত্রেবেলা ঘুমের চোখ নিয়ে দাঁত মেজে তারপর ঘুমোতে যেতে হয়। আর সে লোকটি বড্ড বোকা ছিল। তার যে অনেক আগে দাঁত পড়েছে এটা তার মনেই নেই। আর তার বয়স কত বেশি। এত কয় বছরের কথা মনে থাকে বল? ৮/৯/৭ এই বছরগুলোতে না দাঁত পড়েছে। সেই কথা কি আর মনে থাকে বল? তার বয়স কত হয়েছে? তাই সে আর মনে ছিল না। সে ভাবল, আচ্ছা, দাঁত না মেজে যদি এটা পরিস্কার রাখতে চাই, তবে এই দাঁতগুলো ফেলে দেই, তবে আরো নতুন সুন্দর দাঁত গজাবে। আর বড্ড বোকা ছিল। আর তার এতটুকুও মাথায় ছিল না যে, নতুন দাঁত গজালেও সেটাও মাজতে হবে। আর তার একটা খরগোশ বন্ধু ছিল। খরগোশ বন্ধু তাকে অনেকবার বোকা বুদ্ধি সরিয়ে ভাল বুদ্ধি কিছু শেখাতে চেয়েছিল কিন্তু সে শোনে না। সে শুধু নিজের ইচ্ছামত কাজ করত। তাই খরগোশ বন্ধু রাগ করে তাকে আর কোনদিনই বুদ্ধি দেয় না। সমস্যায় পড়লেও দেয় না। এখন সে তো দাঁত না নড়তে নতুন দাঁত, তবুও সে আরেকটা নতুন দাঁত গজাবে- সেটা সে চায়। এখন সে দাঁত নাড়াতে শুরু করে। একদিন ওদিকের দাঁত, আরেকদিন ওপাশের দাঁত, আরেকদিন এপাশের দাঁত নাড়ায়। দাঁত পড়ার পর আর কোন নতুন দাঁত গজায় না। তারপর একদিন তার খরগোশ বন্ধুটির কাছে গিয়ে বলল, "বাড়িতে আছ? নতুন দাঁত গজিয়ে দাও না।" এমন সময় খরগোশ বেরিয়ে এসে বলে, "তুমি তো আমার একটুও বুদ্ধির কথা শুনছিলে না। এখন দেখ কি হল।" লোকটি বলে, "আমি তোমায় পারলে ৭০টা গাজর মূলা দিতে পারি, আর অনেক ধরনের সবজি দিতে পারি, তুমি নতুন দাঁত গজিয়ে দাও।" "না, না, না। আমি গজিয়ে দিতে পারব না। আমার আগে আমার বোধশক্তি, কথা, বুদ্ধির কথা তুমি জেনে নিলে ভাল হতো। আর নাহলে তোমার এ অবস্থা হতো না। তুমি কেন আমার কথা শুনছিলে না? এখন দেখ, তুমি আমাকে যতই সবজি, গাজর এগুলো দাও না কেন, আমি পারব না। পারলে তুমি নকল দাঁত লাগিয়ে নাও। নকল দাঁত লাগালে দাঁত অনেক ময়লা হয়ে থাকবে। তোমার আগের দাঁত না মাজলেও যতটুকু ময়লা থাকত তার থেকেও অনেক বেশি ময়লা থাকবে। আর দাঁত বেশি মাজতে গেলে নকল দাঁতও পড়ে যেতে পারে। তুমি কেন আমার কথা শুনলে না? বোঝ এবার ঠেলা। তুমি যাও।" এখন সে কি আর করে। দাঁত ময়লা করে, আর একদম অনেক একটি খারাপ বউকে বিয়ে করে। চোর বউ। চুরি করে। একদিন সে লোকটি তো দাঁত সুন্দর নেই। তাই সে ঘরে অনেক পয়সা ছিল, পয়সা দিয়ে নকল সোনা বানিয়ে রাখল। আর সেই নকল সোনা দেখে সবাই মনে করবে যে, আসল সোনা। ভেবে তারা তাকে ঐ সোনা দেখে তাকে বুদ্ধিমান বলবে। আর সেই নকল সোনায় হলুদ রং একটু গাঢ় হালকা বেড়ে কমে গেল। সোনার রং যেটুকু হল সেটুকু হলুদ পেল না। সোনালী রঙের টা পেল না। এমনি কমে-বেড়ে গেল হলুদ রং। অতএব মানুষেরা বলে, "ছি ছি ছি। লজ্জা শরম কিচ্ছু নেই। নকল সোনা বানিয়ে ঘরে রাখে। আবার দাঁত নোংরা করে বসে আছে। এ তো দেখি পরিস্কার খাবারও খায় না, নাকি? এ মনে হচ্ছে একদম ভুতুড়ে কালো কাকের মাংস কাঁচা খায়। তাও আবার রান্না না করে।" এরকম বলে মানুষেরা তো লজ্জায় মরে, "ছি! আমরা একে কতো দেখেছি। এনার সাথে অনেক বন্ধু হয়েছিলাম। সে দাঁত মাজতে কষ্ট হতো, তাই আমরা তাকে ব্রাশ কিনে দিয়েছিলাম। অনেক উপহার দিয়েছিলাম। এখন তো দেখছি, এর কি হল।" এই বলে তো লজ্জায় মরে, আর সেই বেটা তো সবার থেকে, যেরকম লেংটু হলে যেরকম লজ্জা লাগে, তার থেকেও অনেক বেশি লজ্জায় মরে। আর একদিন সে একটা আসল সোনার গলার হার কিনল। আর পায়ের নুপুর। আর একটি রুপোর কানের দুল আর রুপোর হাতের চুরি। সেগুলো সে মেয়ে সাজবে বলে ভাবল। মেয়ে সেজে থাকবে আর মানুষেরা ভাববে, সেই লোকটি নিশ্চয়ই লজ্জায় বিদেশে চলে গেছে। আর ভাববে, নিশ্চয়ই এমন কোন বিদেশে গেছে জায়গা নেই। আর এই মেয়েটি বিদেশ থেকে এসেছে। এটা ভাববে, তাই এগুলো কিনে রেখেছে। আর এই ফাকে বউটা তো চোর ছিল, সেই গয়না সব চুরি করে নিল। আর সেই লোকটির একটি দাঁত ঢাকার কাপড়ও চুরি করে নিল। সেইগুলো নিয়ে সেগুলো অনেক পরিস্কার করে সেই গয়নাগুলো নিজের গায়ে দিল আর সেই কাপড় অনেক ঘষে ঘষে বেশি পরিস্কার করে সেইগুলো দিয়ে নিজের গা মুছল। সেই লোকটি এখন তো মাথা খারাপ! বলে, "হায় হায় রে, কেন যে খরগোশের কথা শুনলাম না রে? খরগোশ উপায় বলে দিল না কেন? আমি তো তাকে অনেক সবজি আর গাজর আর মূলা দিতাম। ইস, কেন যে শুনিনি!" এখন সেই লোকটি যেই জিনিস কিনে ঐ দাঁতের আটকানোর চেষ্টা করে, সেই সব জিনিসই ঐ বউ চুরি করে পরিস্কার করে রাখে নিজের ব্যবহারের জন্য। আর ঐ খরগোশ বলে, "ব্যাটা আমার কথা শোনেনি, এখন বোঝে ঠেলা।" এখন ঐ লোকটি ঘরে লুকোতেও পারে না। বেশি মোটা। লুকোলেও দেখা যায়। এখন কী আর করে? খরগোশের কাছে গিয়ে মাফ চায়। খরগোশ রোজ রাতে ঘুমায়। আর লোকটা তখন টেবিলে অনেক রকমের সবজি রেখে যায়। তারপরও খামাখা তার সবজি নষ্ট হয়, কিন্তু তার সুন্দর দাঁত কোনদিনও আসে না।

শিক্ষা: বেশি ভাল করতে গেলে এই লোকটির মতই অবস্থা হয়। অর্থাত, বেশি খারাপ হয়ে যায়।

Sunday, May 3, 2015

সেই ভালো মেয়ে

আমাদের ঢাকা শহর থেকে অনেক দূরে একটি জেলা। সেই জেলার সবচেয়ে কিনারে উত্তর দিকটায় সব ঘরের থেকে একটু ছোট ঘর। সেই ঘরে একটি মেয়ে থাকত। পরিবারে যারা যারা আছে তারা হল মা, বাবা, মেয়ে, ভাই, দাদা, দাদী ও এক কাজের মহিলা; কিন্তু সে পরিবারে বাস করে না। তার আগে যা আছে তারাই শুধু বাস করে। একদিন কাজের মহিলা শসা কাটতে গিয়ে শসা কাটতে কাটতে ভাল শসাটুকু ময়লার ভাণ্ডে রেখে দিল। সকলে মিলে কাজের মহিলাকে বলে, "কিগো! ছোলা কুড়ালে শসার মধ্যে এতটুকু কেন কাটা? তুমি নিজেই খেয়েছ নাকি?" "না, না। আমি খাব কেন আপনাদের খাবার? যা হয়েছে হয়েছে। আপনি আমাকে অন্য কাজের দায়িত্ব দিন। যা কেটেছি তা খান। আমি খাব কেন আপনাদের খাবারটা?" "কি গো মেয়ে, খাসনি তো? আমরা কিন্তু বুদ্ধি বের করে প্রমাণ একটা করবই। আসলে ঘটনাটা কি হয়েছে। আচ্ছা, আমরা কিছু বলব নাতো। ফ্রিজ থেকে এই শসাটুকু নিজে খাও না। অন্য শসা বের করে আমাদেরকে দাও। কারণটা তো আমাদেরকে বলবে।" তখন কাজের মহিলা বলে, "আপনারা রাগ করবেন না তো? খাবারের প্রতি মায়া রাখতে গিয়ে আমাকে ধ্বংস করবেন না তো? ঐ খাবারের মায়া রাখলে হবে না। আমি কারণটা বলতে পারছি না। নিজেই ভুলে গিয়েছি। এখন আমি আপনাদের কথামত এই শসা খাব, আপনাদের অন্য শসা দেব। তবু কারণ আমি কোনদিনও বলব না।" "কিন্তু কেন, শসী (মহিলাটির নাম)! তুমি আরেকটু চুপ কর। কেন তুমি বলছ না? বললে কিছু হবে না, তুমি বল।" "আচ্ছা আমি বলব, কিন্তু যে কাজ করেছি ভুলই করেছি। ভুলের জন্য কোন সাজা দিতে দেবেন না তো? এটা আমি নিজের ভুল নিজেই মেনে নিচ্ছি, এটা ভুল। তবুও আমি বলব না। আমি শুধু এতটুকু বলব যে, আমার কাজটা খুব ভুলে হয়েছে। আমি তবু আসল কথাটা খুলে বলব না।" "কেন, শসী! একটাও কথা বলবি না। এখন আমার কথামত কাজ কর দেখি। কাজ করলে তোকে সব দিনের খাবারের থেকে একটু বেশি দেব। তাড়াতাড়ি আমার কথামত কাজ করে আন। আর আমাদের শসা ছিলিয়ে দেবার পর তেলের শিশুগলো আর ঐ মধুর শিশিগুলো ধুয়ে বাইরে শুকো দিয়ে আসবি। এখন যা, ফ্রিস থেকে শেসা বের কর।"- এই বলে গেল ঘরের মালিক। "ঠিক আছে, আমি যাই"- বলে সে রওয়ানা দিল। ফ্রিজের কাছে গিয়ে বের করে ভাবল, ইস! বেচে গিয়েছি। আরেকটু হলে আমাকে ধরত। আমাকে একেবারে ঝগড়া করে আমার থেকে কারণটা কেড়ে নিত (বের করে আনত)। কারণ কেড়ে নিয়ে কারণের কথা বুঝে কি যে করত আমি জানি না। ভাগ্যিস, বেচে গিয়েছি। এখন শসা বের করে কেটে নেই।"- বলে সে শসা কেটে নিল। কেটে তেলের শিশি আর মধুর শিশি সাবান দিয়ে কাচতে গেল। ধুয়ে মেজে পরিস্কার করে সেগুলো শুকোতে বাইরে দিয়ে এল। নতুন পাটির উপর করে। যেতে যেতে একজন নতুন মানুষের সাথে দেখা  হল কাজের মহিলার। সে বলল, "কি গো! কাউকেই তো চিনতে পারছি না তোমাদের। আমিও তো সবাইকে চিনি, তোমায় চিনতে পারছি না।" কাজের মহিলা বলচে এগুলো। কিন্তু আগের বাক্যটি বলেনি। এই বার সেই ছোট্ট মেয়ের কাহিনী শুরু হল। ছোট্ট মেয়েটির কাহিনী হল- সেই মেয়েটি খুব ভাল ছিল। তবুও সে ছোট। তার বয়স চার বছর। সে নিজে বিল্ডিং থেকে ওঠানামা করত। বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে বন্ধুর বাড়ির বিছানায় শুতো, বন্ধুর বাড়িতে ঢুকে খেলত, মাঠে এসে খেলত, কিন্তু সে একা একা। বের হয়ে কোন বন্ধুই দেখা করত না, সে সোজহা বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে দেখা করত। খুব সাহস, খুব বুদ্ধিমান, কুকুর দেখলে হাত নিচে ছোয়। প্রতিদিন একটা লাঠি পকেটে করে নিয়ে আসে। হাসনাহেনার পাশ দিয়ে রাত্রেবেলা ঘরে যায় তো, তাই। আর সে এটুকুও জানে যে, তিনবার চলে যেতে বলতে হয় সাপকে মারার সময়। মেয়েটির এত বুদ্ধি কেউই  জানত না। সেই মেয়ের মাত্র চার বছর। কি করে এত কিছু জানে? এগুলো কি সম্ভব হয়? সব ছেলেপেলেরা দুষ্টু। এমনকি একদিন নাচতে নাচতে ঘুরতে গেল। সেদিন সেই মেয়েটি লাঠি নিতে যে ভুলে গেল। সেদিন হাসনাহেনা ফুলের একটু ঘ্রাণ নাকে গিয়েই মনে পড়ল, লাঠি কোথায়। সে আবার দৌড়ে তাড়াহুড়ো করে লাঠি নিয়ে এল। লাঠি নিয়ে সে মারামারি বিদ্যালয়ে পড়ে। আবার এমনি লেখাপড়ার বিদ্যালয়ে পড়ে। সে বিদ্যালয় তার কাছে খুব ভাল লাগত। এমনকি সে সাপ মারাও  জানত। মেয়েটির এত বুদ্ধি। তবুও কত ছোট মেয়ে বল দেখি চার বছরের মেয়ের এরকম বুদ্ধি হয় না। এখন তবে মেয়েটির আসল গল্পটা শুরু করি। সেই মেয়ের কথা জান তো? মেয়েটি কোরআন  শরীফ পারে ভাল, আল্লাহর কথা পারে ভাল, নবীর কথা জানে ভাল। কোন কাজকর্মে সাহায্য করে, সেটাও জানে সে। কিভাবে কি করতে হবে, সব জানে। সেই মেয়েটির বছর কত চার বয়স। মেয়েটি লাঠি নিয়ে এসে দেখল, "হায়! আমার কষ্ট করে উপরে যাওয়াটাই ফাও (বৃথা) গেল। কোন একটা সাপের বিষও তো দেখছি না। যাই, বন্ধু অপেক্ষা করছে। লঠি পকেটে ভরে যাই।" এ বলে সে গেল। বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে দেখে, বন্ধু ঘুমুচ্ছে। সে এটাও জানত, ঘুমের মানুষকে ডাকা উচিত নয়। সে তার মাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা, সে কি গভীর ঘুমে?" "তুমি কে? তুমি আমার মেয়ের কথা কি করে জানলে?" "আমি তোমার মেয়ের বন্ধু। এমনি তো তুমি জান না, কিভাবে বন্ধুদের পরিচয় জানে। এমনিতেই তুমি পরিচয় জান না। তাই তুমি আমায় চিনতে পারছ না। আমার নাম পলাশী।" "আচ্ছা পলাশী, তুমি কোন ক্লাসে পড়? মানে কোন শ্রেণীতে?" "আমি পড়ি ক্লাস প্লেতে। এই তো প্লের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। দু'দিন পর নার্সারীতে উঠব।" "ও, তার মানে তুমি নার্সারীতে পড়ছ?" "হ্যা, তবে নার্সারীর ক্লাস করছি না। এমনিতে আমাকে ছুটি দিয়েছে আট দিন। এখন ঘুমের কথা বল, সে কি গভীর ঘুমে?" "না, না, না। বেশি গভীর ঘুমে নয়।" "কেন, সে অসুস্থ কি নয়? সে ভাল? তাকে কি ডাকা যাবে?" "ও, ডাকা তো যেতে পারে, কিন্তু ১৫ সেকেন্ড অপেক্ষা কর। তাতে যেই মিনিট হয়, সেই মিনিটই তুমি অপেক্ষা করো, কিন্তু তুমি এখন এলে কিভাবে? আমাদের বাসা চেন? আমি বিকালেও ঘুমিয়ে থাকি।" "সেই তো, সেজন্যই তো তুমি আমাকে দেখ না। আমি বিকালে এসে আমার বন্ধুকে নিয়ে যাই। আর তুমি দেখ, তোমার মেয়ে আফসানা বাড়িতে নেই?" "হ্যাঁ, আমি তাই দেখি।" "আচ্ছা, ওর জন্য অপেক্ষা যে করতে হবে।" "আমি তো ড্রইং রুম চিনি না। শুধু  আফসানার ঘর চিনি। আমি ওকে দিয়ে খেলতে যাব। আমি সোফায় অপেক্ষা করব। কিন্তু কিছু একটা কাজ দাও।" "আচ্ছা, কাজ দিচ্ছি। তুমি বই পড় বাসায়?" "না, ছুটি পড়েছে। ক্লাস ওয়ার্ক তিন দিন আগে থেকে পড়া শুরু করব। এখন ছুটিতে হুড়োহুড়ি করি।" "কেন, ও তো তোমার ক্লাসে পড়ে। ওর বই আর তোমার বই এক না?" "আমার অংক বইয়ের নাম এসো সবাই অংক শিখি।" "ও, এই বইয়ের নাম তোমাদের? আমারও তো বইয়ের নাম সেই। এখানে ৩৪ পেজে লেখতে হবে বলেছিল মিস। তুমি দেখেছ?" "হ্যা, আমি তো সেটাই দেখিছি।" "তাহলে এই বই পড়। ১ম পৃষ্ঠার লেখা জান?" "হ্যা, জানি। ১ থেকে ২০ পর্যন্ত অনুশীলনী আছে।" "ও, তুমি তো জানি দেখি, এই বইটা একই। তাহলে তুমি এটাই পড়।" বই হাতে নিতে নিতেই ১৫ সেকেন্ড শেষ হয়ে গেল। তবুও তার কথা মনে নই। সে পড়তে থাকল। পড়ার শব্দে সে উঠে গেল সেই আফসানা। "কি বন্ধু! তুমি এসে গেছ? চল খেলতে যাই। দেরী হয়ে যাচ্ছে। যাই ঘড়িটা দেখি।" "ওমা, ৫টা ২০ বেজে গেছে। চল তাড়াতাড়ি খেলা শেষ করি। মা মারবে। বলবে এত দেরি কেন? এত খেলছ কেন? নিশ্চয়ই তুমি ঐ ছুটির তিনদিন আগেও পড়বে না। এরকম খেলবে। তাই মা মারবে। তুমি এখন জলদি একটা রিংগা রিংগা রোজেস খেলে আসি।" দুজনই দৌড় দিল। আরেকজন মানুষ আফসানার বই ফেলে রাখে নিচে। আফসানার মায়ের তো রাগ মনে উঠেই আছে। এই পলাশী মেয়েটা তো খুব পাজি। বই গুছিয়ে রাখে না। তাও আমার অন্য মানুষের । নিজের বংশের না্। এ বই কেন ফেলে রেখে গেল। আমি ওর বন্ধুকে দিয়ে আসতে যখন আসবে, তখনই আমি ওকে অর্ধেক পিটিয়ে দেব। তখন আবার আল্লাহ বুদ্ধি দিল তাকে, "না, সে চার বছরের মানুষ। তুমি যখনই বাথরুমে যাবে, তখনই সে এসে বইটি গুছিয়ে রেখে দিয়ে যাবে।" এই কথাটা মনের মধ্যে দিল আল্লাহ। তখনই সে চুপ হয়ে গেল, মারার কথা মন থেকে দূর হয়ে গেল। তখন সে চুপ হয়ে এক জায়গায় বসে রইল। মাথায় ঠাণ্ডা জল মানে পানি ঢালল। মাথা ভিজে গেল। মাথা মুছল। ক্লিপ লাগালো। ব্যান্ড বাধল। সুন্দর শাড়ি পড়ল। কানে ফুল দিল। কানের গয়নাও দিল। নাকে দুল দিল। হাতে চুড়ি দিল। মাথায় টিপ দিল। পায়ে নুপুর দিল। সেন্ট দিল। মেকাপ দিল। মালা দিল। সে ফ্যানের আশেপাশে একধরনের গ্যাসবেলুন ফুলের মত ডিজাইন সেটা ফ্যান বন্ধ করে চারপাশে দিল। ফ্যান তার স্বামীকে ফ্যান ছাড়তে বলল আর ফ্যানের চারপাশে ফুলের মত দিল। সে ফ্যানের নিচে দাড়াল। ফ্যান ছাড়ার পরই ফটাফট ফেটে গেল। সেগুলো হাত দিয়ে আকাবাকা এদিক ওদিক দূরে ছুড়ল। নিজের গায়ে। এরকম ফুলের । ফেটে ফেটে পড়ল। ঠিক যেরকম বিয়ের সময়। যেরকম সাজে, যেরকম নাচে। যেন কোন অনুষ্ঠান। তখন মায়ের রাগ থামল। তখনই এসে দিয়ে গিয়ে বইটা গুছিয়ে সব জায়গা পরিস্কার হয়ে গেল। সে একটা ছোট বাচ্চা চার বছরের, তবুও সে কত ভাল, দেখলে! আর এদিকে কাজের মহিলা তো বোতল শুকো দিয়ে আসল। আর ঐ অচেনা মেয়েটার কথা শুনে বলল, "এই বোকা! সন্ধ্যা গড়িয়ে এল। বোতলগুলো উঠিয়ে আনবে না? এতক্ষণে শুকিয়ে গেছে। মানুষেরা এখন বেশি শুকো দেয় এই দিন। বুঝতে পারবি না কোনটা কার। মানুষেরটা তুই নিবি, মানুষেরা তোরটা নেবে। শেষে অন্য মানুষের লালাওয়ালা বোতল দিয়ে আমাদের পানি খেতে হবে। যা মেয়ে যা, হাসিস না।" এরকম বলে কেন আমাকে? একথা কাজের মহিলা বলল। "কেন আমাকে এরকম বলে। আমি তো ওদের কথামতই কাজ করি। তবু কেন তুই করে বলে? আমি আর থাকবই না"-বলে সে রওনা দিল। সকলে তাকে ধরে টনে রশি দিয়ে বলল, "এক্ষুণি তোকে আমি বেধে রাখব তাড়াতাড়ি পালানোর কথা মাথা থেকে দূর কর। ন্য় কিন্তু দিলাম বেধে। হাতপা বেধে কেমন কষ্ট বুঝবি। তাড়াতাড়ি ওগুলো মাথা থেকে বের কর।" তখন সে জ্বালায় মাথা থেকে বের কর। আর বলল, "আমাকে আর তুই তুই করে বলা চলল না, মালিক মশাই।" দাদা-দাদাী নানা নানী সকেল বল, বাবাও বলল, "কেন, কেন আমরা বলি তোকে? তুই আমাদের বলতে পারিস না, আমাদের পরিবারে কাজ করতে চাস না তুই? তাহলে এখনই তুই বাধনের মধ্যে আটকা পড়। এখন তাড়াতাড়ি তুই মাছ রান্না করে আমার ছেলের বউ আসছে, তার জন্য ইলিশ মাছ রান্না কর। তারা এটা খেতে খুব ভালবাসে। পায়েস খাইয়ে দে। আর বিশুদ্ধ জল ফিল্টার থেকে এনে দে। যেন ঠাণ্ডা হয়, গরম না হয়।" "আবার আপনি আমায় তুই, দিবি, যাবি এরকম বলছেন। আমি তো আপনাকে বলতেছ, যাইতেছ এরকম ভাষায়ও বলি না, আপনি আপনি বলি। তো আপনারা তো আমাকে তোমার, তুমি এরকম করেও বলেন না। দেখেছেন মশাই! আমি আপনাকে এখন থেকে তুই করেই বলব। এখন আর আপনি আপনার বলবই না। একবার যদি মুখে তুলেছি, আমার নামটা আর এই নামে থাকবে না। আমার নামেটা পাল্টে আরো সুন্দর নাম দতে হবে, যেন বোঝা যায় না, যেন মনে করবে এক রাজ্যের রাজকনস্যার নাম। নাম দিতে হবে সুমকন্যা। যুদি একদিনও বলেছি।" "আর বলতে হবে না, এখনই তোমার নাম সুমকন্যা হয়ে যাবে। এখন খুশি? সোনার গয়নাও দিয়ে দেব। সেজন্য তুই, দিলি কেন এসব বলবই বলব। এখন আমি তোমাকে স্বর্ণমুদ্রা দিচ্ছি, স্বর্ণমুদ্রা জামা দেব, একটুও ছেড়াছাড়া জকামা দেব না, সুন্দর কোরআন শরীফ দেব, সুন্দর আলমারি দেব, সুন্দর চশমা দেব ও সুন্দর টুল দেব বসার টুল। এবার আমি তোমাকে তুই, দিবি বলব। এখন তুই যা। এখন তুই গিয়ে সব ঝাড়ু দিয়ে ঐ ইলিশ মাছ পায়েস রান্না কর গিয়ে। আর একদম পরিস্কার থালায়/বাটিতি দিবি খেতে। পোলাও, রোস্ট রান্না করবি। একদম টেস্টিং সল্ট আর সস দিয়ে। একটুও যেন মশলা না পাই সেটা না দেখি। মশলা কিন্তু অনেক বেশি করে দিবি।" শেষ মেষ সে বলল, "মরিচ, আদা এগুলোও তো মশলার মধ্যেই পড়ে।" সে সেটা বুঝে* বেশি ঝাল দিয়ে দিল। ইলিশ মাছ, রোস্‌টঠ। মেহমান এসে সেগুলে াখেয়ে খুক্কুর খুক্কুর কাশি শুরু করল। "কি  গো মশাই, আপনি কি এই বাড়ির মালিক? নাকি আপনি একটা গাধা? কাজের মহিলাকে এত কড়া ঝাল দিতে বলেছেন কেন রে? তাড়াতাড়ি কোরমা দে, মিষ্টি ভাত খেতে দে। আর এইসবঝাল খাবার খেতে পারি না। খুক্কুর খুক্কুর কাশি বানিয়েছে মেহমানের। আমরা কি তোদের অতিথি নাকি? আমরা তোদের শত্রুপক্ষের সৈন্য। কেন আপনি আমাদেরকে এমন খাওয়ালেন? এখন কিন্তু দাঁত ফুটো করে দিব। এখনই কোরমা রান্না করে দে।" কাজের মহিলাকে বলল, "এই দেখছিস না কি হচ্ছে? কাজের মহিলাকে বলল সেই মালিক। দেখিছিস না কিচ্ছু? এখন তাড়াতাড়ি কোরমা নিয়ে আয়। ফ্রিজে রেখেছি, গরম করে দে তাড়াতাড়ি।" সে খাবার গরম খেতে ভালবাসে, কিন্তু পানি ঠাণ্ডা খেতে ভালবাসে। আর এখন কিন্তু কোরমা রান্না কর তে হবে, নয় ফ্রিজ থেকে বের করে গরম করতে হবে। থখন ফ্রিস থেকে বের করে খেতে দিল। তখন প্রাণটা মিষিট হয়ে গেল। তারপর সারাদিন শুধু মিষ্টি কথাই ভাবে। এখন মেহমানের গেছে মাথা খারাপ হয়ে। শুধু মিষ্টি কথাই মনে আষে। মিষ্টি, মিষ্টি আর মিষ্টি। সারা মনেই এই সব কথা থকে। ধুত, আমি আর আসবই না। বলে সে চলে গেল। আর বুদ্ধিমথী মেয়ে সারাক্ষণ শুধু খুশী হয়ে থাকল।

Friday, April 24, 2015

King Daughter and King Son

One day one king saying and saying, "Give me a king son." Everyone say, "I have not king son." The king is not happy. The next day one king son coming on night. He is sitting on a horse. He see the palace. King son says, "There is a palace?" The king is coming near to the palace and say, "Who are you? Why you coming in my palace?" The kingson say, "I am a king son. My name is Ravim." "But why do you come?" "Pronam. Can you give me a king daughter?" "Yes! I have a nice daughter. I can give you my daughter." "Why you are standing? Give me your daughter." The king say, "Take your wife." And Ravim says, "Ok! Ok! Ok!" Sukonna (King Daughter) says to the king, "Father, where is my husband?" "Your husband is this king son. His name is Ravim." "This is my husband, father?" "Yes, This is your husband." Tomorrow they are marriage ceremony." 

Monday, April 20, 2015

এসো হে বৈশাখ

এক বাড়িতে একটি ছোট্ট মেয়ে বাস করত। সেই মেয়ের স্কুলে যেতে মোটেই পছন্দ না। সে মেয়েটির নাম হলো তারা। একদিন তারার মা তাকে জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা,তুই পড়ালেখায় মন দিস না কেন?" ''না মা, কি আর বলব? আমার যে এই কাজ করতে পছন্দ না।" "না, তোকে পড়তে হবেই। পড়তে হবেই হবে। এখন চল। পড়তে যাবি।" বাচ্চা বলল, "না, আমি পড়ব না। পারলে একটি অক্ষর পড়েই আমি যাচ্ছি। তবু আমি শব্দ বাক্য পড়ব না। শব্দ ও বাক্য বেশি কঠিন। পারলে একটি অক্ষরই আমি পড়ে দেব। এসো, অক্ষর দিয়ে দাও আমাকে।" "এসো, এগুলো পড়ে যাও। নাহলে এ থেকে জেড পর্যন্ত তোমার শেখা হয়নি। তুমি শুধু পড়ায় ফাকি মেরে চলে যাও। সেজন্য এখন তোমাকে পড়তে হবে।" তখন সেই মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল, "না, হবে না। আমাকে দুটি অক্ষর পড়তে পারব। তারপর আমি আবার যাব খেলতে।"- এ বলে মেয়েটি কাঁদতে থাকল। কাঁদতে কাঁদতে এমন সময় সেই মেয়ের একটি বুদ্ধি এল। ভাবল, মা তো সারাদিন বোকা হয়ে থাকছে। আমি ফাকি মারছি পড়ায়, এটা বুঝতে পারে না মা। তাহলে এ বুদ্ধিটাই আমি কাজে লাগাই। "মা, শোন। আমার বন্ধু অপেক্ষা করছে। আমি তাকে বলে আসি যে, আমি এখন পড়তে যাই।"-বলে সে ফাকি মেরে আবার খেলায় চলে গেল। বলল, "বন্ধু, চামেলী! শোন। আজ আমি কিচ্ছু পড়িনি। এখন তবে খেলি। পরে আমি পড়ে নেব সব। এসো, আমরা খেলি। এখন তাহলে খেলতে চলি চল।"- বলে সে বন্ধুর সাথে খেলতে গেল। আর মা তো হয়রান হয়ে গেল ঘরের ভিতর খুঁজতে খুজতে। সে ভেবেছে, বলে এসে পড়েছে নিশ্চয়ই। সে নিশ্চয়ই ঘরের ভিতরে লুকিয়ে আছে। আসলে তো সেই মেয়ে গেল মাঠের মধ্যে। মা বোকার মত ঘরের ভিতরে খুজতে থাকে আর চিতকার করতে থাকে।" সেই চিতকার তারার কানে যায়। সেই তারা বলে ওঠে, "কি মা! আমি তো আগেই এ বি সি ডির বই নিয়ে বারান্দায় পড়তে বসেছি।" সেই মেয়ের কথা বাইরে থেকে মায়ের কানে গেল। মা ভাবল, "ইস, কি লক্ষী! সুন্দর পড়িস তো। আমি তো বারান্দায় খুঁজিনি। সন্ধ্যার পর পড়া থেকে উঠে আসবি।" সেই তারা আবার ভাবল, "যদি মা দেখতে চলে আসে। অতএব আমি আমাদের বিল্ডিংয়ের বারান্দার জানালার কাছে গিয়ে ফিসফিস করার মতো করে কিছু একটা এ বি সি এ শব্দগুলো বলে ফেলি। তাহলে মা ভাববে, বারান্দার কাছে বসে ও পড়ছে, আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। সেই ভেবে মেয়েটি বি সি মুখে আনল। তার আগে তাদের বিল্ডিংয়ের বারান্দার কাছে ছিল এবিসির শব্দ। মা বুঝতে পারল, সে পড়ছে। তার আগে মা বারান্দার কাছেই ছিল। সে ভাবতে লাগল, ইস! আমার মেয়েটা কতই যে লক্ষ্মী। বলে সে বলল, "আজ তোকে আমি একটা মজার জিনিস খাওয়াব। খাবারটার নাম লাচ্ছি। তুই কোনদিন খাসনি। খেতে খুব মজা আছে। পায়েসের মত। তোকে আমি তা খেতে দেব। তুই পড়ে আসবি। পুরোটা পড়তে হবে না। অর্ধেক পড়েই চলে আসবি।"-এটি বলল মা। বাচ্চাতো হাসতে লাগল। অনেক আস্তে বলতে লাগল, যাতে মায়ের কানে না যায়। "মা, তুমি কি বোকা? আমি কি আর পড়ছি, যে বলছ, পুরোটুকু পড়তে হবে না? হা-হা-হা! কী মজা! কি যে তুমি বোকা!"-চুপি চুপি বলতে লাগল মনে মনে। একবার মনে মনে বলছিল, আরেকবার জোরে বলছিল, কিন্তু যেন মায়ের কানে না যায় সেজন্য। বন্ধুরা বুঝে ফেলল, তোমাকে মা পড়তে দিয়েছিল, তাই না? এ শুনে তো তারা বলতে থাকে, "কি বন্ধু! এসো খেলি। মা যা বলুক বলবে। আমরাও কান পেতে শুনব। যেগুলো শোনার দরকার নেই, শুনলেও মনে রাখব না। আর মনে রেখো বন্ধুরা। বেশি মজার খেলা খেলতে হবে কিন্তু। যে আমার মাথায় এত খাসা বুদ্ধি এসেছে।" এখন রূপা বলল, "দেখ তো চামেলী! আমার তারা বন্ধুটা কি বলছে? আস, আমরা মিলে তারার জন্য স্পেশাল একটা খেলা বানাই। চল।"- এমন করে তারা ভেবে টেবে একটি গামলা তার মায়ের কাছ থেকে চুরি করে নিয়ে এল। আর চুপ চুপ করে কল থেকে পানি ভরে আনল। আর কিছু কাগজ। কাগজ দিয়ে সেই পাঁচ-ছয়জনই নৌকা বানালো। সেই গামলায় ভাসিয়ে দিল। বলতে লাগল, "কি বন্ধু! আর তুমিও একটা কাগজের নৌকা বানিয়ে ভাসাও তো দেখি। তারপর দেখি, কারটা ডোবে।" সে তো তারা খুশীতে বলল, "কি গো! এ তো আমার ঐ লুকোচুরি খেলার থেকেও অনেক মূল্যবান খেলা। এই খেলা যে আমার কত ভাল লাগল। দাও দাও দাও, আরেকটি কাগজ দাও।" বলে কাগজ দিয়ে নৌকা বানিয়ে ভাসালো। প্রথমে ডুবল সোনালীরটা, তারপরে ডুবল রুপোরটা, তারপরে চামেলীরটা ডুবল। তারপর ডুবল রুপালীরটা। তারপরে কারোটা ডুবল না। তারারটা ডুবেনি, সবারটা ডুবে গিয়েছে। অতএব, তারা জিতে গেল। তারা বলল, "বিকেল হয়ে আসছে। আর একটি বেলাই আছে। তাড়াতাড়ি খেলা শেষ করি চল।" বলে আবার কাগজ দিয়ে নৌকা বানালো, কিন্তু তারারটা ডোবেনি। তাই তার সেই আগেরটা দিয়েই আবার নতুন খেলা খেলল। প্রথমে ডুবল রূপালীরটা, তারপর ডুবল রুপারটা, তারপর ডুবল চামেলীরটা। তারপর ডুবল সোনালীরটা। এবারও জিতল সেই তারা। তারা আবার সেই আগের নৌকাটা দিয়েই আবার খেলা খেলল। দেখি তো আমি দ্বিতীয়  চান্সেও পেরে গিয়েছি। হুররে হুররে, কি মজা! আর অন্যরা তো মুখটা কেমন নোংরা বানিয়ে বসে থাকল। কি মেয়ে! কি জিতে যাচ্ছিস কেন? আমি তোকে চকলেট দেব না কিন্তু। বলল, "না গো। আমার কাছে আমি একটা পেপার বিক্রি করে দিয়েছিলাম চুপ চুপ করে। বিক্রি করেছিলাম নাতো, অন্য কোন লোককে দিয়ে দশ টাকা নিয়েছিলাম। সেই দশ টাকা দিয়ে আমি নিজেই চুপ চুপ করে নিয়ে আসব চকলেট। তবু আমি এই খেলায় জিতব।" বলে তারা তো হাসতে থাকল। আর অন্যরা সবাই মুখ নোংরা করে বসে থাকল। এবার দেখি আগের নৌকাটাই তারা থাকে কিনা। এইবারও সেই তারাই জিতল। তখন চামেলী বলে উঠল, "এই, তোদের মুখ নোংরা করে বসে থাকার কি দরকার আছে? আমরা এখন তারার উপরই জয় করি। পরে তারা আমাদের বেশি করে ভালবাসবে। এসো।" বলে তারাও নাচতে লাগল, লাফাতে লাগল। এই করতে করতে সন্ধ্যা গড়িয়ে এল। তখন সে বারান্দার জানালা দিয়ে ঢুকে পড়ল। দরজা দিয়ে ঢুকে দরজার সামনে তো ভো ভো করে মানুষ ছুটাছুটি করে। সেইজন্য জানালা দিয়ে ঢুকে পড়ল তারা। এরপর চুপচুপ করে এবিসিডির বইটা নিয়ে এবিসিডির পৃষ্ঠা বের করে না পড়ে বসে উঠল। যেই না মা আসল অমনি বলে উঠল এবিসি। তারপরই মা টের পেল, সে পড়ছে। মা বলল, মা, আয়। তোর জন্য লাচ্ছি বানিয়েছি, নে খাবি। তারা বলল, "এসো মা, কেমন লাচ্ছি বানিয়েছ দেখি।" তখন সেটি খেয়ে তারা পহেলা বৈশাখে ছুটল। মাও তাদের যেতে দিল। বন্ধুদের নিয়ে সে রওনা দিল। একসময় সে একটি পতাকা কিনে বলল, এটা কার? এটা কে নেবে? সবাই বলা শুরু করল, আমি, আমি, আমি। তখন চামেলী বলল, "আমার কাছে কাগজ আছে, সাদা কাগজ। আমার কাছে পেন্সিলও আছে। আমি সবার নামই লিখব, তারপর কয়েকটা টুকরা করব, এক টুকরায় এক নাম, আরেক টুকরায় আরেক নাম। আমার দুই হাতের উপর সেটা উল্টিয়ে থাকবে। তারপর তারা তুমি সেটা উঠিয়ে নিবে। যেকোন একটা। যার নাম উঠবে, সেই পতাকা নেবে। এবার তাহলে পেন্সিল কাগজ বের করি, তাইতো?" "হ্যাঁ, তুমি বের কর।" বলল সবাই। এখন নাম লিখল। তারা হাত তুলল। বলল, "আমি লটারী করব।" সেই চামেলী বলল, "ঠিক আছে, তুমি সবথেকে ছোট। তাই তুমি লটারীটা কর।" "আচ্ছা, আমি করছি লটারী। দাও দেখি।" তারা তার নিজের নামই উঠিয়ে ফেলল। তারা নিজেরটা নিজের কাছেই রাখল। বলল, "এ, কি মজা, কি মজা! মা আমাকে অনেক টাকা দিয়েছে জিনিস কেনার জন্য। সেই টাকাটা আমার কাজেই লেগে গেল, কি মজা, কি মজা। তাই তাই তাই।" বন্ধুরা আবার মুখ নোংরা করে বসল। এক বেটা খেলনা বিক্রি করছিল। এমন খেলনা, একটা কাগজ বা কার্ডের মতো। সেখানে অনেকগুলো ছবি আঁকবে। যেটাতে আঙ্গুল দেবে, তারই অনেকগুলো বিপরীত ছবি এসে পড়বে। এমন সেই খেলনাগুলো। চামেলী বলল, "এবার আমি আমার কাগজ হতে সেই পুরান কাগজেই আবার লটারীটা করি।" বলে সেই আবার রাখল কাগজ। এবার রূপালী লটারী করবে বলে এল। এবার নাম উঠল রূপার। রূপা বলে, "ইয়ে। তারার টাকাটা আবার কাজে লেগে গেল আমার জন্য।" বলে সে ঐ খেলনাটি নিল। তারপর তারা আর রূপা ছাড়া সবাই আবার মুখ নোংরা করে বসল। এবার দেখে, এক ছোট্ট মেয়ে ফুল বিক্রি করছে। এমন ফুল, যে কখনো দেখেনি কেউ। তার নাম ব্যাকোলি ফুল। সোনালী বলল, "চামেলী! তুমি আবার লটারী কর।" এবার সোনালী এল। এবার সে চামেলীর নাম তুলল। যে লটারী করে। চামেলী বলল, "ইয়ে, ঐ ফুল আমি নিতে পেরেছি। কি মজা! আবারও ঐ টাকা কেমন কাজে লেগে গেল। কি মজা, কি মজা!" চামেলী ব্যাকোলি ফুলটি নিল। নিয়ে নিজের কাছে রেখে দিল। এখন বলল, দেখি এবার। কার নেওয়া বাদ আছে কিছু। এবার তারাই লটারী করতে এল। এবার রূপালীর নাম উঠল। রূপালী উঠে দাঁড়ালো। বলল, এবার আমার নাম তো উঠল। কিন্তু কোন দোকানদারদের তো দেখছি না। সোনালী বলে, আরে বোকা! চোখের সামনে বেটা বই নিয়ে যাচ্ছে, চোখে দেখছিস না? তোরা শোন, বই খুকু কিনে নে। আমারো কাজে লাগবে। বলে নিল। এর পরের বার চামেলী লটারী করতে এল। তারা হাতের উপর কাগজ দিল। এবার উঠল সোনালীর নাম। তারপর মায়ের জন্য একটি কম্বল কিনে নিল। তারপর বাসায় ফিরল। তারপর পহেলা বৈশাখের ফূর্তি আনন্দ করল। বলতে থাকল, "এসো হে বৈশাখ।" এবার মা খুশী হল। এবার আর ফাকি মারতে পারল না পড়ায়। এবার আবার পড়তে শুরু করল। তারা এবার কি করল জান? তারা বলল, "মা! শোন তো। দেখ দেখি, জান, এদিকে না ঘটে যাচ্ছে। জান মা? আমি তোমাকে নিয়ে শিশুপার্কে তুমিও ঘোড়ায় চড়বে, আমিও ঘোড়ায় চড়ব।" মা তো হাসতে হাসতে বলল, "কি যে দুষ্টু তুই। আমি কি আর উঠতে পারি অত ছোট ঘোড়ায়?" তারা তো বলল, "মা, তাহলে স্প্রিংয়েও তো তুমি আমার সাথে চড়তে পারবে নিশ্চয়ই।" মা হাসতে হাসতে বলল, "ওরে দুষ্টুরে তুই। এবার বলিস না যে, আমাকে নিয়ে স্লিপারে উঠব। এটা আবার বলিস না তুই। এটা বললে কিন্তু মাথাটাই হা্সতে হাসতে একেবারে কি হয়ে যাবে জান?" তখন তারা তো হাসতে হাসতে বলল, "কি যে বল মা? কিছুতেই উঠতে পারবে না। তবে কি তুমি কিছুতেই উঠতে পারবে না?" মা আবার হেসে বলল, "কি যে বলছ তুমি আবার। শোন, আমি সবকিছুতেই যে উঠতে পারব না তা নয়। মাত্র দুটি জিনিসে উঠতে পারব। একটি হল দোলনায়, আর একটি হল এক ধরনের নৌকা এনেছে দোলে সেটায়। আর পারব ট্রেনে। হা হা হা, তারা।" তারা তো আবার বলল, "মা, যেতেই হবে। ঘোড়ায় চড়তেই হবে। আমি যে বললাম তার মধ্যে একটাতে তোমাকে রাজি হতেই হবে।" মা তো বলল, "না রে। আচ্ছা, চল। কোনটায় উঠাবি?" তারা বলল, "শোন মা। ঐ ঘোড়া যায় না, ঘোড়া। ঐ ঘোড়াতে আমি উঠব না। ঘোড়ারে মাঝে মধ্যে সিট থাকে না, সেই সিটের মধ্যে বসব। তাহলেই তুমি উঠতে পারবে। সেই সিটে বসলেই হবে।" মায়ের তো মাথা খারাপ হয়ে গেল। মা বলল, "ইস! শিশুপার্কে যেতেই হচ্ছে। কি আর করব। আর নাহলে তো আবার আমার কাছে চকলেট চাইবে। আর কি করার! যাই তারার সাথে।" এ ভেবে মা বলল, "তারা, ভাল হবে না কিন্তু। এসো তাহলে। তাহলে কিন্তু ফুল যে ঘোরে না, মাথা ঘুরায়, ওখানে কিন্তু একা একা উঠতে হবে।" তারা বলে, "না, না। ওখানে আমি উঠব না।" তখন তার ক'দিন পরই তারার মায়ের একটি ছোট বাচ্চা হল। বড় হয়ে বলল, "মা, মা!" তখন তারা বলল, "এই যে। সুপোলা, তুই আর মাকে বিরক্ত করিস না। আমি তো আর যেতে পারলাম না ঘোড়ায় চড়তে। তুই তো আর আগের কথা জানিস না।" তখন সুপোলা বলল, "না রে বোন, আমায় তুই বিরক্ত করিস না। আমি মাকে যা বলার এক্ষনি বলব।" "আচ্ছা মা, শোন তো। এই আমিও যেতে চাই বোনের সাথে। এখন তুমি নিয়ে যাও শিশুপার্কে। তখন নিয়ে গেল।" এবার তারাকে বলল, "এবার তুই উঠতে পারবি?" বলে, "না, পারব না। আমি ওটাতে উঠতে পারব না। তবে দোলনা নৌকাতে উঠতে পারব।" তখন মা বলল, "একা একা পারবি তো। আমি শুধু উঠিয়ে দিয়ে নেমে যাব। একা দোল খেতে পারবি।" "হ্যাঁ, মা। পারব, নিশ্চয়ই পারব।" তারপর যেই উঠাতে গেল, অমনি ভয় পেয়ে গেল। বলল, "মা, সত্যিই উঠতে হবে নাকি?" "হ্যা, সত্যিই উঠতে হবে। দেখিতো কেমন পারিস। এই সুপোলা, তুই ওঠ তোর বোনের সাথে।" তখন তো সুপোলা বোনের সাথে উঠে পড়ল। মা হ্যান্ডেল ধরিয়ে দিয়ে সিট দেখিয়ে দিয়ে চলে গেল, নিচে দাড়ালো। তখনই তো দুজনে বলতে লাগল, "মা, দেখবে আমি ভিতু নাকি ভিতু না। দেখ তাহলে।" তখন শুরু হল সেই নৌকা দোলা। ছোট বোন তো শুধু ভয় পায়। তাই দেখে তারা বলল, "ওরে বোন, তুই এত ভয় পাচ্ছিস কেন? তুই এত ভীতু জানতাম না তো। চড়ে থাক।" তখন ওরা দোলনা নৌকা থেকে নামল, আর মা ভাবল, হায় আল্লাহ! কি করি। এরা ঠিকই পারল। এখন তো আমার আর ঐ ঘোড়ায় না চড়লে কত জ্বালা যে দেবে, চিন্তা করতে পারছি না। যাই, কি আর করার। উঠি গিয়ে। মা বলল, "আয় তবে, উঠি। কে আমার সাথে উঠবে?" তারা আর সুপোলাকে বলল, "মা, কে কে উঠবি আমার সাথে?" দুজনই বলল, "আমরা দুজন।" তখনই মা বলল, "এই যে, দুজনই দেখ জেদ ধরছে। আয় তবে। ঐ সিটটাতে উঠতে হবে। এখন গিয়ে লাইন ধর।" তখন ওরা বলল, "মা গো, লাইন করতে হবে নাকি?" বলল, "ইস! কি, লাইন করতে হবে না মনে হচ্ছে? লাইন কর।" তখন ওরা লাইন করে উঠল। মা তো সিট করেই বসে পড়ল। এখন ছাড়ার পর দুইজনই খুব মজা করল। আর মা তো বলতে থাকল, কি যে করব? মাথাটা তো নষ্ট হয়ে গেল। ঐ ফুলে উঠতে দেয়াই উচিত ছিল ওদের। ঐ ফুলে উঠতে না পেরে ওরা চলে আসত, তবেই ভাল হতো। এই বলতে বলতে মা তো কাঁদতে লাগল। তখনই সব বাচ্চারা সামনে পিছনে হাসতে লাগল, বড় মানুষ চলছে, তারপরও কাঁদছে কেন- তা দেখে হাসছে। তা দেখে মায়ের আরো লজ্জা বেড়ে গেল। মা কান্না থামাতে পারছিল না। তখনই সবাই আরো হাসল। কেমন মা যে, এই মা তো কান্না থামাতেও পারছে না। বলে আরো লজ্জা দিল। মায়ের তো আরো লজ্জা বেড়ে গেল। মা তো কষ্ট মষ্ট করে আরো কান্না থামাল। তাতে আরো লজ্জা দিল। মায়ের তো মন ভরা লজ্জা। মা আর কান্না থামাল না। এটুকুই রাখল বুদ্ধি করে। আরো থামালে নিশ্চয়ই আরো লজ্জা পাব। তখন আরো লজ্জা দিল। যাই করে মা, সবাই আরো লজ্জা দিতে থাকে। থামার পর সবাই লজ্জা দিতে থাকে, ঐ দেখ, ঐ মাটা কাঁদে। তারপর আবার থামাতে গিয়ে থামাতেও পারছে না। থামার পর সবাই লাফাতে এবং বলতে লাগল। মা একটু দেখে বাচ্চাদের মত মুখ নোংরা করল। তার মেয়ে দুটোও হাসল। তখন মা তো এসে বাসায় এসে দুজনকেই ধাওয়া করল। "তোদের জন্য আমি আজ রুটিটুকুও বেলতে পারলাম না।"-বলে ধাওয়া করল। এখন ছোট ঐ দুটি বাচ্চারা আরো হাসল। তখন মায়ের হাসা দেখেই লজ্জা এসে গেল। তাতেই মায়ের বারবার আরো লজ্জা লাগছে।

Wednesday, April 1, 2015

ছোট বাবুরা কেমন যে দুষ্টুর দুষ্টু

একদিন এক বড় বাড়িতে থাকার জন্য ঠিক করল সেখানে যাবে। সেখানে বাসা বেঁধে থাকবে। রাইমাম হোসেন একটি ছেলে। সে তার ছিল এক ছোট বোন। সে ছোট বোনকে পাত্তা দিত না। বোন যা বলত শুনত না। যেমন- বোন বলত, এই ভাই, ওই কলমটা একটু নিয়ে আসবি? অমনি সে বলত, না, আমি আনতে পারব না। আমার অনেক কাজ আছে। আমি আমার কাজে যাই। 

Wednesday, March 25, 2015

Beautiful Day

[This story was lost from computer due to windows failure. Only last portion of the story has been recovered. The topic of the story was visiting Shaheed Meenar.]

.............. ok, there is very tasty Chinese food." And the uncle was running away. Uncle says, "Hei, give me one Chinese noodles. And he said, "I will give you Chinese noodles. Come, come." The father has come. And he (the hawker) has given Chinese noodles and said, "Give me a twenty taka." And the father has give him twenty taka. And he receive it. And said, "Anika! Eat the Chinese noodles." Anika said, "Thank you. Give me." Anika, mother and father eat the Chinese noodles. "It is very yummy, uncle", said Anika. The uncle said, "Ok, we are going to see the red circle." They said, "Ok." They are going to see. "These are very beautiful and colourful." mother said, "Sweet, Anika. This is really colourful and beautiful." Uncle said, "Yes, yes. It is like a sun." And mother says, "Look, come, come. Go to walking sleeper." They are going to walking sleeper. The are walk, and walk and walk in the sleeper. Anika said, "I will go to walk sleeper, don't go uncle and aunty." Anika is very naughty. Anika say, "I will walking", but she is running in walking sleeper. One man is riding bicycle. Bicycle is come to walk in slipper. And Anika see the bicycle. Anika is not run of walking slipper, she is running to uncle and aunty. Father and mother says, "Anika, come here. I will say, not go." "Come down here, I will saying, you are not go to walking slipper, ok? Come down. Anika, Come down. If you not come you to your father and mother, said me you are a very bad. You are not see my child. Why you are not see my child? You are very very very bad." said mother and father. Anika will shouting. Bicycle is coming. Bicycle man said, "Hey, child. Go, go, go. Hei child, go go." Anika will running away and running away. Anika come to her uncle and aunty. Anika's friend go to school and she reading with meaning of garden. Garden's meaning is near to one jungle. There have fruits and vegetables can be ground, they are called garden. And Anika's friend lovely is come back house. She said, "Where are you Anika and my friend? Where are my mother and father?" "Aunty, Aunty, you are seeing my parents and friends, Anika." The works woman name is Lacksimi. Lacksimi said, "Father, mother and friends Anika going to Shaheed Minar. I don't know to she will come down afternoon, or noon or night." "But aunty, where is my mobile?" "I don't know, kid." "Ok, aunty. I will find my mobile." And Anika's friend name is Amrisha. And Amirisha find the mobile. Amrisha write mother's number in the mobile and she diled two call her mother. Mother's mobile says, "Ring, Ring, Ring, Ring, Cring, Cring." Mother take the mobile and receive the call. Mother says, "Hello!" The Amrisha says, "I am Amrisha, mother. I say to you come back my house." The mother says, "You are also come to your grandparents." And Amrisha said, "Yes mother, I will also go to Shaheed Minar." The mother said, "How you know, I will come to Shaheed Meenar?" "Yes, mother. I have know. The worked woman said to me. And I will go to Shaheed Meenar with grandparents." "Ok, my baby. And to not said. My mobile is not charged. Ok? Good bye, my child." "Yes mother, good bye, good bye." And the mother not say. Mother will charge the mobile. And mother said to father, "Hey father, my mobile is not has charged. Give me my mobile has thirty charge." "Ok, mother. I will give you charge. Give the mobile on my hand. Father will give a charge in the mobile." Mother said, "Thank you, father." And the Amrisha reach to Shaheed Meenar with their grandparents." The mother and father said, "Where are you, Amrisha? Where are you, Amrisha's grandparents, and Amrisha where are you?" Father says, "Mother, look there. There is Amrisha and AMrisha's grandparents. Motehr and fatehr running away and said, "Grandmother, grandfatehr! Look the back side. Grandparents and amrisha listening to this." AMrisha and grandpartents look in the backside." said. "Oh! you are there?" And amrisha said, "Motehr, father, how are you? And anika, my fridn, how are you?" Mother, father  and Anika said, "I am fine. And Amrisha or grasndparentsw also look to the shaheed meenars red circle. And today is the beautiful day. And everybody done singing, laughing and very happy. Ok? So this story's name is "Beautiful Day."

Thursday, March 19, 2015

উল্টো কথা

এক গাছে মাছের বাসা
পানির নিচে পাখির বাসা-
পানিতে নামে ছেলের দল,
ডাঙায় ওঠে ব্যাঙের দল।
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ
ডাকে ব্যাঙ।

দোকানে গিয়ে মেয়েরা খেলে- 
তাদের বাসাও পানির জলে;
নৌকা ভাসে ডাঙায়,
গাড়ি চলে নদীর জলে।
নদীর তীরে রান্নাঘর
যেতে যেতে বড় পাহাড়;
বড় পাহাড় পেরিয়ে,
হাটতে হাটতে বড় নদীর ঝিল
তারে পাশে আছে নদীর কূলে
বড় এক চিল।

চিল ওড়ে পানির নিচে
পুরো গভীর জলে;
মাছ লাফাতে লাফাতে
ডাঙায় উঠে নাচে।

যেতে যেতে যেতে যেতে
রান্নাঘরে পৌঁছুতে-
একশ দিন তো লাগবেই লাগবে
কত কিছু পেরোতে।

একদিনে সব ঘটনা খুলে
বলতেও যদি সম্ভব হতো,
তাহলে তো সব চলেই যেত।

Saturday, March 14, 2015

kitten and her friend

One day is very sunny. It is very hot day. Today is also very hot day. The story is today's story. And the story is: A man has a pet little kitten. The kitten says, "Miao, Miao. Listen. I will playing. I have playing to whose kitten?" Master said, "Wait, wait, my dear kitten. You are playing to my friend Fazlul Hasan's kitten." "Wao! You are very good, my master. But where are they?" "Don't worry my kitten. You are running to right side and there has one very little house. And the house name is Fazlul Hasan and it is written in a nameplate at the house. Ok? my kitten." "Yes, my master! I will go to right side, ok master?" "Ok, bye bye, my kitten." The kitten was running and said, "Miao, Miao, Miao." And the their houses kitten said, "Hi kitten! You are playing?" "Yes, I want to play with you." "Ok, this is very good news. So you are my friend, kitten. So your name is Maha." "Ha, Ha, Ha!" The kitten is laughing and she said, "My name is Maha? Ok, my name is Maha. And your name is Musu." "Ha, Ha, Ha! My name is Musu? What you are saying to ok? My name is Musu." Maha says, "Ok, to come for play." "Yes, yes! I will come. Go to the play." Maha and Musu going to play and playing. Maha says to give your hand me to I will give you one thing. Musu could not understand. She say, "Ok, take my hands." Maha says, "Take your pen and this is my pen. This is my and this is  your. And writing the name of two curry." Maha writing two curry. This is cauliflower and cabbage. And Musu write pumpkin and cauliflower. And Maha says, "Show me your copy." And Maha says, "Oh no! I write cauliflower. And you also write cauliflower? So my marks is only one and your marks is also only one. I knew that, I have two marks. And you will also get two marks. This is only one marks! Oh, no, what is this? Not writing my writing. Don't look my handwriting. To writing your copy two fruits." "Ok, Musu!" "Ok, Maha. I will write two fruit's name." And the Musu is very naughty. She look and look and look to Maha's copy. Maha writing mango and lichy. And Musu also write mango and lichy. Maha said, "Show me  your copy." Musu thinking, "What should I do?" Maha take the Musu's copy and see, "Oh, no! Why did you looking to my copy? You are very naughty, Musu! To this is Zero. My marks is zero and your marks is also zero. So I will not play with you." Musu said, "No, Maha! I playing. Listen." Maha said, "Ok, ok. We shall not play now handwriting play. But I will playing general game." Maha and Musu playing with a little ball. Maha throw the football in right side and Musu throw the football in left side. Maha will running to left side and Musu will running to right side. But Musu will be not catch her ball and the Maha catch her ball. Maha said, "Ye...! I will first, I will first. And  you are last, you are last; Ye, Ya, Ya...!" Musu said, "Oh! no, this is not fair. I will last. I will not catch my ball. My ball is going to rose bush." The Maha said, "Not cry my friend! Go and catch your ball. And no, no, no. To I will playing running competition. And who will take the ball and she is first." Musu is running very much. And Maha will not can running. Maha's leg is very weak. The leg is not fast. Musu is catch the ball and Musu is first. Musu says, "Ye..! You are last, I am first. Ye, Ye, Ye...!" Maha is crying and go to his master. Master said, "Why you are crying, my kitten? And I will give you a name. Your name is Tara." The kitten says, "No, my name is Maha." And the master said, "What? Your name is not Maha, your name is Tara. I have given you Tara name." Maha said, "Listen, master. Miao, Miao, Miao. I went to play and get the name 'Maha' and my friend is Fazlul Hasan's kitten and I have given her name is 'Musu' and she have given me the name 'Maha'. I play with her running competition, football, write with name two curry and fruits, and my marks is zero and one and Musu's marks is also zero and one." Master said, "Ok, my kitten. Now you are eat fish, ok?" "Ok, master. I will eat fish and drink water." And the kitten eat fish and the fish's name is Hilsha. 

Thursday, March 12, 2015

Lion and the Kids

One lion have very hungry. He said to his children, "Children! I was very hungry. You will find a food. I will not can eat the food." One of the children says, "Father! Don't cry. I will find food. Ok?" "Yes, ok my child. So you are not cry, father." "Ok, child! I will don't cry." "Ok father, bye bye." "Bye bye children", says father. And the mother come into here. She said, "Where do you saying? Show me." The children said, "Mother! Father is hungry. He says me to find food." "No, children! I will give your father one food." The children said, "No, mother. I will give my father one food." The mother said, "No, I will give the father food." The children said, "No, I will give." Mother said, "No, I will give." The father says, "No, don't say to this. My head is very hot. Not say to this." The mother and the children not listen father's dictation. Mother and children said and said, "I will give father." The father will cry. Father said, "Stop! I will find my food. Not you are find my food. I will says to this, don't say I will give. I will find my food. Not say this. I will say this. Listen, listen, children and mother." Mother and children not listen. They said and said, I will give. Father say, "I will say my head is hot, not say this. But they not listen. He will saying and saying, "I will find my food. Listen to me, mother and children." But they did not listen. Father was shouting in high volume to the mother and children to listen it. The children and mother said, "I will do my work." Mother will go to do her work. And the children will not listen to father's dictation. The children will help mother's work. And father said, "I will what to do?" He will go to sleep with nakdaka. And the deer has  come. She say, "The lion is sleeping. If the lion is wake up, my danger will coming and coming. So what I do?" And the deer's sister has come. And the deer's sister say, "Sister, sister! What you will do to lion's house?" "I will see lion is what to do." Deer's sister said, "No sister, come out. The lion will wake up to danger and danger." The Deer says, "I also know that, the lion will wake up to danger and danger." And the deer's sister said, "To why you are standing to lion's house to come out?" The deer was listen sister's dictation. And she said, "Ok, sister. I will come now." The deer was go to sister. And the deer's sister says, "Come sister come. And the deer will run and run. And then they go to their house. And the lion is wake up. And the mother lion has come. Mother says, "Wake up, wake up. Come, come, come. Listen, listen. I was listening deer's voice." The lion says, "Why you not said me?" The mother said, "You were sleeping. So I was not able to call you." And the father says, "I am hungry. I will say I am hungry. I will go to find food." The lion is running. He will go and go. He cannot see deer. But there was two deer was sitting. There is very dark. And the sun was go to the sky. And there was very hot and light. The lion can see to deer. The deer was running and the lion is also running. The deer will see one pond. The deer was swimming and swimming. And the lion cannot swim. The lion is singing and singing. And the lion was very hungry. The lion said, "Noooooo! Oh, no, what I can't see. No, no and no. The deer is swimming. I will not see to them." The lion is very hungry. He says, "No, no, no and no." The lion get an idea. The idea is, he will eat the pond's water and the hunger will go. The lion is eating the water. And he said, and mother and the children what eat? And he get another idea. The idea is:- get a basket and put water in the basket. The lion says, "Basket is not available here." The lion is running. He go to another place from this forest. He see one basket. And he will run away. And the man and woman, girls and boys see to the lion. The man, woman, girls and boy take the basket from the lion. The lion is crying. Then he go to steal the basket. He was steal the basket. The lion is running and running. And he was come back to their forest. And put water in the basket. The children and the mother drink the water. The mother and children says, "No, father. It is not Yeammy." The children was not drink the water. The father was said, "No, children. I was not find any food. I only found water." The children said, "Ok father. I will find food." And the children was go and find leaf and grass. The lion and children's mother said, "No, This is not my food. It is goat and cow and deer and sheep's food." And children said, "No, I was not find of my food. Today we will eat leaf and grass." Father, mother and children eat the grass and leaf. And mother, father and children said, "Grasses and leaves are more tasty than deer." And lion's family will eat leaves and grass. And they was not eat deer.

Saturday, February 21, 2015

বুদ্ধি

এক ছিল এক রাজকন্যা। তার নাম রুপালী। আর তার একটি ছোট বোন ছিল। তার নাম সোনালী। সোনালী ছিল খুব বুদ্ধিমতী। আর রুপালী ছিল আরো কম বুদ্ধিমতী। একদিন রুপালী বাহিরে বের হয়ে তার ঘরের বাইরে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকল। একটু পরেই সে ডাকল: সোনালী! সোনালী! একটু আয় তো বোন। তুই আস আমার কাছে। একটু বাইরে বাগানে ঘুরতে যাব। সোনালী এসে পড়ল। আর রুপালীর মতলব ছিল যে, সোনালী তো আমার থেকে একটু বেশি চালাক। একে একটু শাস্তি দিতে হবে। আর কি করে তাকে শাস্তি দেয়া যায় তা ভাবছিল সে। তখনই এসে পড়ল সোনালী। "কি গো রুপালী, আমায় ডাকছিলে বুঝি? তো চল, বাগানে যাই।" তখন সে বলল, "আরে আরে, চল।" "হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি আসছি। কোন আবার মতলব-টতলব নেই তো?" বলে, "না না না না, তোকে মতলব আটলে আমি মারার মতলব আটব। কিন্তু আমি কি তোমাকে মারতে পারি? তুমি না আমার বোন।" "আরে ঠিক বলেছ রুপালী, তুমি একটা কিছু একটা মতলব করতে।" "না না, আমি মতলব করব না, মতলবের কথা ভাবছিও না, শুধু চুপটি করে বসে আছি।" "আমি জানি, তুমি চুপটি করে বসে থাকনি। কি ভাবছিলে সেটি বল।" "আমি ভাবছিলাম, আমরা দু'জন বেশি বেশি মায়ের কথা শুনে পরীক্ষায় সবার আগে লেখা শেষ করে ফেলব, মিস আমাদের বেশি আদর করবে, সে কথা ভাবছিঝলাম।" "ঠিক আছে, ঠিক আছে, এখন এত হুড়োহুড়ির কি আছে? চল যাই বাগানে।" আসলে সেই বুদ্ধিমথী মেয়েটি জানত, সে তাকে মারারই কিছু মতলব আঁটছে। তাই সে এখন মনে করল, আর একবারও ঐ রূপালীর কিছু কিথা বললে শোনা যাবে না। আর আমাকে না জানিয়ে কিছু দিয়ে দিলে সেটা নেব না। নিলে আমি ঘুষ খাব। এই ভাবতে ভাবতে সে চলল। রুপালী বলল, "কি গো, মাঝখানে আবার একটু দাড়িয়ে রয়েছিলে কেন?" "হ্যা মানে আমি ভাবছিলাম কিছুই না। ভাবলেও আমি তোমাকে আদরের কন্যার মত আদর করার কথা ভাবছি।" "এটা আবার কেমন কথা গো! প্রথমে বলছিলে ভাবছি না, এখন আবার বলছ আদরের কথা ভাবছি। এ কোমন কথা বোন? তাহলে তুমি শুরুতে বললে কিন যে, আমি কিছু ভাবছি না?" "এই যে, বোকা, এখন পা চালা। নাহলে বাগানে ঘুরে বেড়ানো হবে না।" হঠাত সেই মেয়ে রুপালী একটা ফন্দি আটল। তাকে কিছু খেতে দিবে। তারপর বলবে ঘুষ খেয়েছ। এরপর সে নিশ্চয়ই ঘুষ খাওয়ার খতা শুনে আমার মত কাজ করবে। এটা ভাবল সে। সে একটা ফল নিল বাগান থেকে। ও একটি সুন্দর গোলাপ দিয়ে বলল, "নাও সোনালী, তুমি যে আমার বোন। সেজন্য এটা দিলাম তোমায়। তুমি যখনই এইগুলোর উপর ছোয়া লাগিয়ে বলবে যে, তুমি আস বোন রুপালী, তখনই আমি দেখা দেব।" তখন সে বুঝে গেল। রুপালী মানুষ, সে কিছুই বুঝতে পারবে না আমি ডাকলে। আর তাছাড়া ও তো সাধারণত ঘর থেকে বাইরে বের হয় তো না। তখন তার পরের দিন যা ঘটার ঘটল। এই নাকি হয়। সে সেই রুপালী আবার দৌড়ে বাগান ছেড়ে বাইরে মানুষের ঘরে খুঁজতে লাগল, কোথায় গিয়ে আশ্রয় নিলে আমার বোন কোথায় গেলে খুজে না পায়, যাতে ও কষ্ট পাবে। সেই রুপালী একটি ঘর খুঁজতে খুঁজতে তার মাথা আউলিয়ে পথ হারিয়ে অন্য দিকে চলে গেল। দেখল ঘন বন। একি, আমি তো পথের মধ্যে একটি নদী দেখলাম। তবে কি আমি সুরমা নদী পদ্মা নদী পেরিয়ে সমুদ্রের কাছে এসে ঘন বনে ঢুকে গেলাম? তাকে আমি শাস্তি দিতে কেন গেলাম? না এ হতে পারে না। আমি কেন ওকে শাস্তি দিলাম? হায় সর্বনাশ! এখন আমি পথ না চিনে কোন্‌ দিকে যাই? এখানে তো দশটি রাস্তার পথ। কোন দিকে যাব? পথ হারিয়ে পথ খুজতে খুজতে তো আরো দশ দিন গড়িয়ে যাবে। আর ততদিনে পেটে কিছু না পড়লে আমি বাঁচব কি করে। আমি তো ছোট। মাত্র ছয়/সাত বছর। রাস্তায়ই হাটতে পারি না। আমি এখন কেন এখানে আসলাম? বুঝতে পারছি না। কেউ আছ, কেউ আছ, আমাকে সাহায্য কর। বলে সে চেচাতে লাগল। আর ঐ দিকে সোনালী তো আরামেই থাকছিল যে, আমাকে ঠকাতে চায় আমার বোন। এবার দেখবে মজা। নিশ্চয়ই পথ হারিয়েছে। কিন্তু আমার বাবা এসে গেলে রূপালী রূপালী করে খুজে আমার ঘাড়টাই চমকে দেবে। যাই, বোনের খোজে বের হয়ে যাই। সে বোনের কাছে যাবার জন্য দশটি নদী পার হল। আসলে সে তোর বোনকে দেখতে পায়নি পথের মাঝে। আসলে সে বোন যেখানে আছে সে জায়গা ছেড়ে অন্য দিকে চলে গেল। তারপর সে আবার উল্টো দিক ঘুরল। তখন বলল, "রুপালী, বোন। তুমি কি আমার কাছে এসে আমাকেই ঠকাতে চাচ্ছিলে? কেন বোন? আমি না তোমার বড় বোন, সোনালী। আমি এখনই বাবার কাছে বলে দেব, রুপালী আমাকে ঠকাতে যায়। আর যেসব অঘটনের কথা বাবাকে বলা যাবে না সেগুলোও আমি বাবাকে বলে দেব।" "না, এটা তুমি বলো না। বললে বাবা আমার হাত চমকে দেবে। সে তো এক চাষী। কিন্তু তুমি একবারও বলবে না বাবার কাছে এ কথা।" তখন সে তার কাছে অনেক মাফ চাইল। বলল, "না বোন, তুমি আস। ঘরে চল। বাবা এসে আমাদের না দেখতে পেলে সে না কতই পাগল হয়ে যাবে। আর তখন তার পর আমাদের দেখলে আমাদের সে ঘাড় মটকে দেবে। বলবে, কেন তোরা গিয়েছিস ঐ ঘরে? এখন তো মাইর তোদের খেতেই হবে। এটা বলবে। চল যাই।" এ বলে তারা চলে গেল ঘরে। তার বাবা এসে লক্ষ্মী মেয়ে বলে আদর করে দিল। সব ঘটনা বলার পর সে বলল, "আর কখখোনো করবে না, রুপালী। আর এরকম কক্ষেণো করবে না সোনালী। সোনালী! তুই কেন রুপালীকে বাচ৭াতে গিয়েছিলে? রূপালী তো শুধু দুষ্টুমি করে। সবাইকে ঠকাতে চায়। যাই এখন আমি রুপালীকে একটু বকাঝকা করে আসি। তারপর সব কথা শুনব।" এ বলে বাবা রুপালীকে গিয়ে বকাঝকা করল।

শিক্ষা: কখনো কোন চালাক মানুষকে বুদ্ধিওয়ালা মানুষকে লোভ করলে তাকে ঠকাতে চাইলে নিজেরই শাস্তি পেতে হয়। আর তোমরা কখনোই এরকম কাজ করো না। আর রুপালীর মতো কোন কাজও করো না। লক্ষ্মী মেয়ের মত স্থির হয়ে থাকবে। কখনো রুপালীর গল্পটি পড়ে সেই মত কাজ করা শিখে ফেলবে না।

Thursday, February 12, 2015

লোভের ফল

একদিন একটি বাড়িতে একটা খারাপ লোকের জন্ম হয়েছিল। একদিন তার ৪২ বছর হয়ে গেল। সে টাকা-পয়সার লোভের জন্য রোজ বাইরে বের হতো। একদিন এক কৃষকের বাড়িতে কৃষক অনেক কিছু বিক্রি করে অনেক ধন-সম্পদ পেয়েছিল। একদিন সেই খারাপ লোক সেইগুলো দেখতে পেল। তখন সে তার ব্যাগটা খুলল। খুলে সে পাহারা বসালো, যাতে কৃষকের কোন বন্ধু এসে এই খবরটা তাকে না দিতে পারে। আর সে নিজেও পালিয়ে যেতে না পারে। এখন ঐ খারাপ লোকটি  ব্যাগ খুলে তো বসেই আছে। একদিন রাত্রেবেলা সে (সেই কৃষক) গভীর ঘুমে ছিল। কারণ সে বাসায় অনেক বোরহানি, কোরমা, পোলাও বেশি করে খেয়েছিল আর কোক, চকলেট বেশি বেশি খেয়েছিল। তাই তার ঘুম পেল এবং সে অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। চোর তখন ব্যাগটার ভিতর ঐ সম্পত্তি ভরে ফেলল। সেটা নিয়ে এবং তার পাহারাদারদের নিয়ে সে মনের সুখে সেগুলো তার একেবারে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় লুকিয়ে রাখল। আর সেই সবকিছু চোখে পড়ল দূর থেকে এক টিয়াপাখির। টিয়া পাখি এবং ময়না পাখি কৃষকের বন্ধু। তারপর সে যখন চলে গেল, তখন সেই টিয়াপাখি বন্ধুর বাসায় গেল। সে পরিমাণ মত ওষুধ-বিসুধ, ভাল খাবার-দাবার এনে তাকে খেতে দিল এবং তার হাত-পা ভাল করে মুছে-টুসে পরিস্কার করে দিল (সব পাখিরা মিলে)। সে সুস্থ হল। সে তার বন্ধু টিয়াপাখিকে ধন্যবাদ জানালো। আর বলল, "তোমার আসল কথাটা কি ছিল? তুমি তো রোজ খবর আন।" সে বলল, "আপনি এখন সবকিছু ভুলে গিয়েছেন। কয়েকদিন আগে বাইরের কেনা খাবার খেয়েছিলেন। তাই আপনার অসুখ হয়েছিল। আর তার মাঝে একটি খারাপ লোক মানে একটি চোর যে পাহারা বসিয়েছিল যাতে তোমার বন্ধু আমি এসে তোমাকে খবরও না দিতে পারি এবং তুমিও এখান থেকে পালিয়ে না যেতে পার। কিন্তু পালিয়ে গেলে চোরদের ধন-সম্পদ নেয়া হবে না। কারণ তুমি বুঝে যাবে পালালে। তখন তুমি তোমার সম্পত্তিও সাথে করে নিয়ে যাবে। এখন সে আর কি বলে। বলে, "তাই নাকি? এসব তো আমার জানা ছিল না। তার মানে তুমি সত্যি বলছ? আমি সব ভুলে গিয়েছি?" "হ্যাঁ, আপনি সব ভুলেই গিয়েছেন।" "ঠিক আছে, তবে তুমি আমায় বুদ্ধি দাও। কিভাবে ঐ চোরকে শায়েস্তা করা যায়।" "শুনুন, আপনি একটি কুকুর পোষেন। তারপর একটি গর্ত করবেন। তার উপরে পাতা-টাতা দিয়ে ঢেকে রাখবেন। আর আসেব করবেন আপনার বাড়ির সামনে। আর আপনি শোনেন, তারপর আপনি সেটা এমনভাবে করবেন, যাতে কুকুরের পিছনে ঐ গর্তটা থাকে, আর এমন কুকুর কিনবেন, যাতে কুকুরটি আপনাকে, আমাকে আর আপনার অন্যান্য বন্ধুদেরকে লাথি না দিয়ে অন্য চোরদেরকে লাথি দেয়। আর কুকুরের লাথিতে চোর ঐ পাতার উপর গিয়ে পড়বে আর ঐ গর্তের ভিতরে পড়ে যাবে। আর তখন আপনি সে পাতাগুলো সরিয়ে তাকে বলবেন যে, আপনি কি এখান থেকে বাঁচতে চান? এটা জিজ্ঞেস করবেন। আর আপনি করবেন কি জানেন? আপনি মন দিয়ে শুনবেন আর বলবেন, যদি তুমি চাও তবে এ আমি ছাড়ব না। এবার শোন, কি করলে আজ ছাড়া পাবে। অন্য কারো ধন-সম্পদ এভাবে চুরি করবে না। আর আমার ধন-সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে। আর এখণই তুমি তোমার প্রহরীদেরকে আমার সম্পত্তি ফিরিয়ে দিতে বলবে। আর নাহলে আমি তোমায় মাটিতে পুঁতে দেব। তখন সে প্রহরীদের বলবে যে, ওর ধন-সম্পদ ফিরিয়ে দাও। শুনলেন আপনি? এ বুদ্ধিটাই আমি আপনাকে দিলাম।" "আশাকরি বন্ধু ভালমত আর কোন খবর পেলে আমাকে জানিও। তোমাকে আরও একটি ধন্যবাদ দিলাম। সেজন্য তোমাকে দুইটি ধন্যবাদ জানালাম। একটি ধণ্যবাদ হল যে তুমি আমাকে অসুস্থতার শরীর থেকে বাঁচিয়েছ। আর আরেকটা হল তুমি আমাকে বুদ্ধি দিয়েছ। সেজন্য আমি তোমাকে একটি সোনার থালা দিচ্ছি। আর সেই সোনার থালাটি তুমি টুকরো টুকরোও করতে পারবে। সেগুলো টুকরো করে তুমি সোনাদানা পাবে। এখন তুমি চলে যাও। এই নাও তোমার সোনার থালা। এখন সে টিয়াপাখির কথামতই কাজ করল। এখন চোরটি ঠিকই গর্তের ভিতর আটকা পড়ল। আর কুকুরটি দিয়ে দুটি কাজ হল। এখন থেকে আর কোন চোরও চুরি করতে পারবে না। আর আমি নিজে আমার সম্পত্তিও ফিরে পাব। এই বলে লোকটি ভাবতে লাগল যে, কি মজা হবে। চোরটি সম্পত্তি তাকে দিয়ে দিল। তখন সে চোরকে বলল যে, এরকম করলে সাজাই পেতে হয়।

শিক্ষা: কখনো লোভ করতে নেই। লোভ করলে নিজেরই বিপদ হয়।

Tuesday, February 10, 2015

বাঘ ও হরিণের বাচ্চা

এক ছিল এক হরিণ। তার একটি বাচ্চা হয়েছিল। একদিন সে নদীর ঘাটে খেলতে গিয়েছিল। খেলতে খেলতে একসময় এক বাঘ এসে তাকে মারতে গেল। সে বাঘকে বলল যে, "তুমি যে আমাকে মারছ, তাতে তোমারই পাপ হবে। আমার পাপ হবে না। তাতে তোমারই ক্ষতি।" এই বলল হরিণের বাচ্চা। তখন বাঘ বাচ্চা হরিণটিকে ফেলে রেখে মা হরিণটির বাসার দিকে যাত্রা করল। হরিণের বাচ্চাটি বাঘের মতলব বুঝতে পারল। সে মতলব করেছিল যে, এখন তার মাকেই খাবে। এখন সেই নদীতে কয়েকটি কুমির খাবার না খেয়ে হা করে ছিল। ওরা মূর্তির মতো দাড়িয়েছিল। এখন হরিণের বাচ্চাটি ঐ বাঘটাকে বলে যে, "ঐ দেখ ছেলেরা কি সুন্দর মূর্তি বানিয়েছে। তুমি বরং এই মাংসটুকু খেয়ে নাও ঐখানে বসে।" তখন সেটা নিয়ে ঐ কুমিরের পিঠে গিয়ে বসল। যেই না বসল, কুমির তাকে লেজ দিয়ে তার মুখের সামনে এনে ধরে খেয়ে ফেলল।

শিক্ষাঃ বুদ্ধি থাকলে তার মা-বাবা এবং তাকে এবং তার বংশকে কেউ মারতে পারে না।

Wednesday, January 21, 2015

দুষ্টু মেয়ে

এক ছিল দুষ্টু মেয়ে। তার নাম মুনসাবিনী। ও রোজ স্কুলে যায়। স্কুলে গিয়ে একদিন দেখা গেল, তার একজন বন্ধু দুষ্টু বুদ্ধি করছে। তার দেখাদেখি সেও দুষ্টু মেয়ে হয়ে গেল। এইভাবে সেও দুষ্টু মেয়ে হল। তারপর থেকে সে শুধু খেলাধুলা করে লেখাপড়া বাদ দিয়ে। সে এখন তার মা-বাবার কাজে ডিস্টার্ব করে। সে সারাক্ষণ শুধু মাঠে গিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে, খেলে। আর সারাক্ষণ শুধু বসে বসে দুষ্টামির মধ্যে থেকে কোন দুষ্টামিটা করবে সেটা ভাবে। একদিন তার মাথায় একটা দুষ্টামির ভাবনা এল। সে ভাবল, আর দুষ্টামি করতে হলে আমাকে আরো বুদ্ধিমান হতে হবে। তখন সে দৌড়ে গিয়ে কিছু বইতে কিছু একটু চোখ দিয়ে না দেখতেই বুদ্ধি পেয়ে গেল। গিয়ে সোফার গদি কেবল গুছিয়ে গেছে তার দাদা, সেটা এলোমেলো নোংরা করে চলে গেল। তারপর আরো একটু দুষ্টুমি বুদ্ধি করল। সে গিয়ে যে পর্দা রাত্রেবেলা পর্দাটা টানিয়ে ক্লিপ দিয়ে তার মা যে জানালা বন্ধ করে গেছে, সে ক্লিপটা খুলে পর্দা সরিয়ে জানালা খুলে দিয়ে চলে গেল। আর তাদের রুমের মধ্যে বিছানার মশারি টানাতে ভিতরে যখন তার মা ঢুকল ঘুমানোর জন্য বালিশ ঠিক করে দেয়ার জন্য, তখন সে মশারির এক কোণা খুলে মশারিটা খুলে দিয়ে দৌড়ে পালাল। তার মা ছোট্ট একটি বেত নিয়ে পিটানোর জন্য তার পিছে পিছে আসল তাকে মারার জন্য। এবং তার হাতে একটা পিটানি দিয়ে তাকে কান মলে দিল। আর তাকে জোর করে পড়তে বসতে দিবেই বা কেমনে? সেটা ভেবে তাকে পিটিয়ে সোজা করল। মেয়েটি তবুও তার শিক্ষা হল না। সে আবার দুষ্টামি করল। সে তার ছোট বোনটা তার বাসায় একদিন এল যখন, তখনই তাকে যখন দুধ খাওয়াতে দিল তার মাকে, যখন সে পানি খাবে, তখন দৌড়ে গিয়ে তাকে ভয় দেখাল। ছোট বোন তো ভয় পেয়ে কাঁদল। তখন সে আবার দৌড়ে পালাল। আর যখন ছোট বোন বিছানায় বসে খেলছিল, তখন কাঁথাটা দিয়ে ওকে পুরোদমে ঢেকে দিল। ঢেকে দিয়ে দৌড় দিয়ে আবার পালাল। সবকিছু করার পর সে পালাবে। এখন সে আবার একটা দুষ্টামি করবে। একজন কিছু ইট গাড়িতে উঠিয়ে দেবে ঘর বানানোর জন্য, তাতে গিয়ে সে ইটগুলো যে কষ্ট করে জাগাচ্ছিল সেগুলো থাবা দিয়ে ফেলে দিল। এরকম করতে করতে একদিন সে একটা কাণ্ড হল। সে শুধু দুষ্টামি করতে থাকে, স্কুলে যাচ্ছে না। সকাল বেলা খালি ঘুমায়। স্কুলের টাইম নয়টায়। সে ঘুম তেকে ওঠে দশটায়। এক ঘন্টা পার হয়ে যায়। একদিন তার মা তাকে সাজা দিতে হবে। যখন সে বড় হল, তারপরও সে দুষ্টামি করল। বড় মানে সাত বছর হল যখন তার পাচ বছর তেকে। যখন সে অন্য বিছানায় ঘুমাতে শুরু করল মা-বাবার থেকে, তখন তার মা তাকে সাজা দেয়ানোর জন্য তার রুমের মশারি খুলে দিল আর তাদের ড্রাজটা সুন্দর বন্ধ রেখেগিয়েছিল তসেটা খুলে দিল। বালিশগুলো এলোমেলো করে একটা কাপড় দিয়ে পরিস্কার একটা জায়গায় লাগিয়ে দিল। আর তার ঘরে সমস্ত নোংরা ফেলে নোংরা করে দিল। আর তখন সে (মা) হাটতে হাটতে তার রুমে গিয়ে নিজের বিছানায় ঘুমাল। তখন মেয়েটি গিয়ে সে তার বিছানায় গিয়ে  দেখল এই এই কান্ড। সে ঘর পরিস্কার করার জন্য ঝাড়ু দিয়ে ঘর যেই পরিস্কার করছে অমনি সে একটা কাপড় দেখতে পেল। কাপড় নিয়ে উঠানোর জন্য চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না। মা সেটা লাগিয়ে দিয়েছিল, সে টেনেটুনে ছুটাতে পারে না। তখন সে তার বন্ধুদের নিয়ে কিছু টাকা-পয়সা নিল। টাকা-পয়সা নিয়ে একটা দুষ্টামির বই কিনল। তার মা সাজা দেবার জন্য সেই বইয়ের মধ্যে যা লেখা ছিল তা মুছে ভাল হওয়ার লেখা লিখে দিল। তারপর তার ঘরের সে সোফা-টোফায় কিছু নষ্ট না ধোয়া মোজা গন্ধ সে মোজাটা রেখে গেল (তার মা)। তখন সে দুষ্টু মেয়েটি সেই বইটা যখন পড়তে বসল তখন সেখানে লেখা দেখল, দুষ্টামি যেসব কাজ করা হয় যেমন নষ্ট করা ইত্যাদি এগুলো করবে না। আর লেখা ছিল যে, ঘর নোংরা করবে না। আর নিজের ঘর সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবে। আর কারো কোন কাজে ডিস্টার্ব করবে না। আর কারো কোন কাজে ক্ষতি করবে না। আর সবাইকে ভালভাবে চলতে দেবে। আর নিজের কাজ নিজে করতে শিখবে। এবং যে কাজ তুমি করতে চাও সেগুলো করবে না। আর যেগুলো করতে বলিনি সেগুলো একদম করবে না। আর তুমি অন্য যেটা করতে চাও সেগুলো করবে। আর কিগুলো করা ভাল সেগুলো আমি বলছি। সেগুলো হল গিয়ে, সবসময় সত্য কথা বলবে। সন্ধ্যা বেলা পড়ালেখা করবে। মায়ের কাজে সাহায্য করবে। তোমাদের পরিবারের সবাইকেই সাহায্য করবে। আর নিজের বইখাতা নিজে গুছাবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঘরে সবাইকে থাকতে বলবে, নিজেও থাকবে। আর আস্তে আস্তে কোরআন শরীফ পড়ে আরবী শিখবে। আলিফ বা তা ছা শিখবে। এবং বড়রা ঘর বানাতে গেলে তাদের ইট-টিট এনে সাহায্য করবে। আর ঘরের ছাদে যদি কোন পোয়াল টোয়াল (খড়/ধান) যেগুলো গরুতে খায়, সেগুলো নিয়ে তাদের দিবে, তাতে সাহায্য হবে। এবং নিজের ছোট বোনকে আদর করবে। নিজের পোষা ঘোড়াকে ঘাস এনে দেবে আর পুকুর থেকে পানি এনে দেবে। আর নিজে ঘর ময়লা করবে না। আবর্জনা, ময়লা এগুলো ফেলবে ডাস্টবিনে। এগুলোই বইয়ে লেখা ছিল। তখন সেটা দেখে তার বিশ্বাস হল না। কিন্তু সে ভাবল, আচ্ছা, কেউ কি আবার বদলে দেয়নি তো? না, তা হতে পারে না। সবকিছু তো নির্ভুল না, তাহলে নিশ্চয়ই কেউ আসেনি। এটাই মেনে নেয়া দরকার। আর সোফার উপর একটা মোজা, মোজা তো গন্ধওয়ালা। আমার তো মোজা পরলে মোজা ময়লা হয়ে গন্ধ হয়ে যায়। নিশ্চয়ই আমার মোজা। এই মনে করে মেয়েটি সেটাকে গুছিয়ে সেটাকে পানিতে দিয়ে কিছু কাপড় দিয়ে সেটাকে ঘষে মেজে সাবান দিয়ে ডলে টলে ধুয়ে ফেলল। এবার সেটা পরিষ্কার করে রেখে দিল। আর সে ভাল কাজ করতে শিখল। 
একদিন একটা ব্যাপার দেখা গেল। সেই দুষ্টু ছেলে দুষ্টু মেয়েটাকে বলল, আচ্ছা, তোমাকে না স্কুল থেকে আমি শিখিয়ে দিয়েছিলাম যে, এরকম কাজ করবে। এরকম দুষ্টুমি করবে! এটা বলেছিলাম, তুমি এরকম করছ কেন। মেয়েটি বলল, "সে কি বলছ, দোস্ত?" তখন সে বলল যে, এই যে একটা তুমি দুষ্টু বই দিয়েছিলে না, সেইটা দেখে আমি এরকম শিখেছি। এবার তুমিও আস, ওটা শেখ। তাহলে আরো ভাল করে দুষ্টুমি শিখবে। তারপর সে ওই বইটা পড়ে সেও ভাল হয়ে গেল। তখন তারা হাত মিলিয়ে সবাইকে ঐ বইটি দেখাল সবাইকে ক্লাসের। তখন সবাই শিখে দুষ্টামি বাদ দিয়ে লেখাপড়ায় মন দিল এবং ভাল কাজে মনোযোগ দিল। এখন তারা মিলে অন্য ক্লাসে তার পাশের সেকশন হল গিয়ে মধু সেকশনের নাম। সেই মধুতে সবাই দুষ্টামি করে। এখন সেই ক্লাসে যদি এই বইটা পড়তে দেই, তখন তো খুব ভাল হবে। তখন সেই টিচারের কাছে দিয়ে বলল, ম্যাডাম! এই বইটা দেখলে আপনার ক্লাসের সব বাচ্চা ভাল হয়ে যাবে। আপনি এই বইটা মেলায় সবাইকে একজন একজন করে পড়তে দেবেন। তখন ওরা ভাল হয়ে যাবে। এখন আপনারা কাগজে সবার কাছে লিখে দেন, কালকে মেলা হবে ক্লাসে। সেই মেলায় এটা কাগজে লিখে দেবেন বাচ্চাদের মা-বাবার কাছে। তখন দেখবেন কি হয় এগুলো পড়ে। তখন সেই ক্লাসে সবাই ঐ রকমই হয়ে গেল। সবাই মিলে হাত মিলালো। হুররে বলে হাত মুঠ করে জাগিয়ে তুলে নিজেদেরকে ওয়েলকাম করল। এখন তাদের মধ্য থেকে কয়েকটা বাচ্চা ভাল মত পরীক্ষা দিয়ে ফার্স্ট-সেকেন্ড হয়েছে, তাদেরকে রং পেন্সিল বক্স দেয়া হবে। তখন সবাই স্কুলটা ভাল করল, পাশের স্কুলের ম্যাডামরা দেখল, এ কি! আমরা দুষ্টামির থেকে ওদের ছাড়াতে পারি না দুষ্টামি, আর ওরা এই হয়ে গেল এরকম? এখন ঐ বইটা এবার ফটোকপি করে এক হাজারটা বই বানিয়ে সবাই সেগুলো স্কুলের বাবুদের বিক্রি করল। এখন দোকানের উপরে একটা কাগজ টানিয়ে রাখল। আর দোকানে ঐ বইগুলো বিক্রি করল। আর ঐ কাগজে লিখে দিল যে, "স্কুলের বই।" লিখে এগুলো বিক্রি করল। যেই বাচ্চারা কিনেছে, পড়েছে, তারা অনেক বুদ্ধিমান হয়েছে; দুষ্টামি ছেড়ে লেখাপড়ায় মন দিয়েছে এবং সবাইকে সাহায্য করতে শুরু করেছে। এবার তারা যারা স্কুলে যায় সবাই ফূর্তি করে বড় হয়ে তারা লক্ষ্মী মেয়ের মত কাজ করে। এবার তারা সবাই মিলে ঐ দেশে যতগুলো ছেলেমেয়ে সবাইকে বই কিনে ভাল হয়ে গেল। এবার ওরা বসে যখনই মেলা দেয় ঐ বইটা পড়ে। এবারে ওরা গল্পের ঝুলি থেকে চলে গেল।

Monday, December 8, 2014

রিতা, মিতা ও সিতা

মিতা একদিন রিতা ও সিতাকে দাওয়াত দিল। তারা খুব কাজে ব্যস্ত। তার মানে রিতা ও সিতা ব্যস্ত। তাকে তারা দাওয়াত দেবার পর তারা ভাবল যে, আচ্ছা, এত কাজ রেখে আমরা যাব কি করে দাওয়াত খেতে? তখন তাদের একটি মেয়ে ছিল। মানে তাদের একটা বান্ধবী। সে খুব ছোট। রিতা ও সিতা সেই ছোট মেয়েটাকে অনেক আদর করে। মেয়েটার পাচ বছর। রিতা ও সিতার ছয় বছর। সেই মেয়েটা শসা ছিলতে পারে, আলু ছিলতে পারে, আদা ছিলতে পারে ও কাপড় ভাজ দিতে পারে। এবং মেয়েটি কিছু এনে দিতে বললে এনে দিতে পারে, রেখে দিতে বললে রেখে দিয়ে আসে। মেয়েটি খুব কাজ করতে পারে। অনেক কাজ। বিছানা গুছাতে পারে মেয়েটি। আর বালিশের কভারও ভরতে পারে। মিয়েটি খুব কাজ পারে। মেয়েটি খুব সুন্দর্ এমনকি গাজরও সে ছিলে। এবার সবাই বলে, এই মেয়টি সব কাজ করতে পারবে। আমাদের বড়দের শুধু রান্নাবাড়ি আর বটি দিয়ে কোটাকুটির জিনিস করতে হয়। এগুলো করলেই হবে। বাবুটা বাকি সব পারে। আমরা নিজে চোখে দেখলাম, মেয়েটি এত চালাক। সব কাজ ও করে দিলে আমরা তাড়াতাড়ি দাওয়াত খেতে যেতে পারব। মেয়েটি আলু ছিলতে পারে। সেজন্য সে আলু ছিলল। সে আদা ছিলল। এমনকি সবকিছু সে ছোটদের মধ্যে যেটা পারে বড়দের কাজ ছোটরা যেটা করে দিতে পারে সেই সব কাজ সে পারে। সে সব করে দিচ্ছে। এবার মিতা ঙেয দাওয়াত দিয়ে বসে আছে তার দিকে খেয়াল নেই তাদের। তারা ঐ মেয়েটাকে নিয়ে রান্নাবাড়ি করছে। মিতা বসে বসে তবে মিতার বয়স একটু বেশি ছিল। মিতার বয়স ৮/৯ বছরের কাছাকাছি। সে প্লেট ধুইল। খাবার রাধল। আলু রাধল। লাউ রাধল। ঢেড়শ ভাজি করল। ভাত রান্না করল। আর সে ক্লাস টেনে পড়ত। সে অনেক আপেল, কমলা তার বাবা কে দিয়ে কিনে আনালো। তারপর সে এগুলো কোটাকাটি করল, রাঁধল, মজা করে সুন্দর করে রাধল। চামচ-টামচ ধুয়ে ফল-টল কেটে বাটিচতে ভরে রাখল। ভাল করে পরিস্কার করে খাবার রেখে দিল। এবং ঢাকনা দিয়ে সব ঢেকে রাখল। আর সুন্দর একটা ডাক্তারী বই এবং একটা সুন্দর ব্যাগ একটা বক্সের  মধ্যে রেখেই দড়ি দিয়ে বেধে গিফটের মত পেচিয়ে সুন্দর করে রাখল। ঘর-টর সাজালো। বেলুন ফুলিযে রেখে দিল। তবুও দেখল কি, তবুও আসল না। রিতা ও সিতা ছোট মেয়েটির সঙ্গে সব কাজ করে চলে আসল। এসে দেখল, এত সুন্দর ঘরগুলো! তারপর তারা খাবার-দাবার খেয়ে খুব খুশী হয়েছে। এবার বলল, "তোমরা কি আমাদের জন্য কোন সারপ্রাইজ, খবর এগুলো কি আছে আমাদের জন্য?" বলে, "হ্যাঁ, আছে। তোমাদের জন্য উপহার।" বলে, "দাও তো উপহারটি।" তারপর বলল যে, "এর ভিতর দুটি জিনিস আছে। জিনিসের ভিতর আমি একটা সঙ্গীত লিখেছি সীতা আর একটির সঙ্গে লিখেছি রিতা।" এবার তারা গিফটটা নিয়েং ব্যাগে ভরল। খাবার দাবার খেয়ে বেলুন টেলুন নিয়ে খেলতে লাগল। কেউ কেউ বেলুন ফুটাতে লাগল। আর বেলুন ঠাস ঠাস করে ফুটল। মজা করল। নাচল। গান গাইল: 
"নদীর পাড়ে হাটতে হাটতে চললাম মোদের বাড়ি
বাড়িতে গিয়ে দেখি সব ভাল হয়নি কোটি।
আমি একদিন বেড়াতে গেলাম আমার মামীর ঘরে-
মামী দিল কলা খেতে খাইলাম পেট ভরে।
লাল লা লা লা লা-
একদিন মোগো বাড়িতে আইল আমার ফুপুর গিন্নী
খাইতে দিলাম রোস্ট পোলাউ পেট ভইরা খানি-
সে বলল ধন্যবাদ, আমরা বললাম, বলতে হবে না ধন্যবাদ। শুধু খাও।
বলতে হবে না ধন্যবাদ, শুধু খেতে খেতে প্রাণটা ভইরা ফেল।
একদিন দেখলাম ঘড়ির মধ্যে আটটা বাইজ্যা রইল আজ,
বাজল ছয়টার সময়।
এইকথা কবে হইল।
দুই ঘন্টা বাড়াইছে কে মোগো ঘড়িটায়?"

এই গান গেয়ে ঘরে চলে গেল। তারপর মাঠে গিয়ে খেলল। এবার তাদের মজা শেষ হল। ছোট মেয়েটিকে তারা সব কাজ করল। গল্পটা শেষ হয়ে গেল। তবে গল্পটি মনে রেখো।


Friday, November 28, 2014

রুশপিয়া ও মারিয়া

এক গ্রামে এক ছোট্ট মেয়ে ছিল। মেয়েটার নাম খুব সুন্দর। মেয়েটার নাম ছিল রুশপিয়া সাজিনা। ওকে সবাই রুশপিয়া বলে ডাকে। ওর গায়ের রং খুব সুন্দর দুধের মত। আর সে খুব ছোট। মেয়েটার বয়স ৩ বছর। বাবুটার জন্য তার মা সুন্দর একবারে অনেক সুন্দর একটা খেলা গাড়ি কিনে দিয়েছিল। সেটায় ও চড়ে মামাবাড়ি যাওয়া যাওয়া খেলে। তার একটি ছোট্ট বোন ছিল। ওর নাম রাইসা মারিয়া। ওকে সবাই মারিয়া বলে ডাকে। ওর বয়স এক বছর। খুব ছোট গুল্লু মেয়ে। তার চেহারা একেবারে তার বড় বোনের মত সুন্দর। তার আপন ভাই ছিল। সে তার বাসায় এসেছিল। তার সঙ্গে মিলে সবাই মজা করেছিল। সে যাওয়ার পর থেকে তারা আর খাবার খেতে চাইত না। তারপর অনেক বড় বড় কয়টা গল্প শুনিয়ে তাকে খাওয়ায় তার মা-বাবা। তার ভাইটার জন্য। একদিন তার ভাই আবার আসল। আবার সবাই মিলে গল্প ছাড়াই খাওয়া শুরু করল। মারিয়া, রুশপিয়া ওরা দু'জন মিলে খুব ভাল মেয়ে ছিল। তারপর মজা-টজা করল। তারপর তারা চলে গেল। এরপর একদিন মারিয়ার জ্বর হল। তারপর থেকে তার গায়ের রংটা আর সুন্দর থাকল না। কারণ, সে অনেক কান্নাকাটিতে ঠাণ্ডা হয়ে গিয়ে গায়ে জ্বর দুধের মত থেকে আরেকটু কাল হয়ে গেল। রুশপিয়ার গায়ের মত দুধের মত গায়ের রং যে রুশপিয়ার এবার ছোট বোনটির লোভ হল যে, ওর গায়ের রং এত সুন্দর আমার কি এত সুন্দর হতে পারে না? আমারও নিশ্চয়ই হতে পারে। এবার একদিন সে কোন বুদ্ধি পায় না পায় না, এবার একদিন পেয়ে গেল। বুদ্ধিটা হল, নিজে ভাল করে দুধের মত হতে চায় তবে সে দুধ খাবে, তাহলেই সে দুধের মতই হবে। সেই রুশপিয়া দুধ খেত জন্য দুধের মত গায়ের রং খুব সুন্দর। তাই সে রোজ রোজ দুই গ্লাস দুধ খায়। খেতে খেতে একদিন ঘরের দুধ শেষ হয়ে গেল। তাদের সংসারের সব মানুষ ফর্সা ছিল। কাল হয়ে গেল। দুধ খেতে পারত না। কাল হয়ে গেল দুধ না পেয়ে। তারপর একদিন বুঝতে পারল ছোট বোনটির লোভের কথা। এবার তারা ভাবল, এবার ওর শাস্তিটা দিতে হবে। নাহলে তার লোভটা ছাড়বে না। বিপদজনক যদি হয়, তাহলে তার কোন অসুবিধা হতে পারে। তাই শাস্তির জন্য ব্যবস্থা করল যে, আরেকটু দুধ কিনতে হবে। আরেকটু দুধ কিনে ছোট মেয়েটিকে না দিয়ে নিজেরা অনেক খায়। তারপর নিজেরা ফর্সা হয়ে গেল, দুধের মত গায়ের রং হয়ে গেল। আর সেই ছোট মেয়েটা কাল থাকল। এবার ছোট মেয়েটার দু:খ আরো বেড়ে গেল। সে আর বাড়িতে থাকল না। দৌড়ে চলে গেল। তার মা-বাবা ভাবল, শাস্তি দিয়ে আরো কি করলাম? আচ্ছা, ছোট বোনটি কি এমন রাগ করে? সে একেবারে একটু শাস্তি পেল দেখেই ঘর ছেড়ে চলে গেল! তখন তার বড় মামা বলে, "ঠিক আছে, এবার দেখা যাক, ছোট বোনটা আবার ফিরে আসতে পারে। কারণ, বাইরে যদি কোন মানুষ ঢুকতে না দেয়, তাহলে সে আর অন্য ঘরে যেতে পারবে না, আমাদের ঘরেই চলে য্সবে। নিশ্চয়ই তা হয়।" তারপর বাবুটির ঘুরতে ঘুরতে যখনই ক্ষুধা লাগে, একটু আপেল নিয়ে গিয়েছিল, সেগুলি থেতেছিল। আর তার বিচিটি যখন দেখল, তখন সেগুলো নিয়ে এক জায়গায় রেখে দিল মাঠের কোণায়। আর কোন বড় মানুষের কাছে গেল। সেই বড় মানুষটাটা তাবু টানিয়ে দিল, সেখানে থাকল। আর সেই বীচি থেকে আপেলের একটা গাছ হল। গাছটা নাড়াল, আপেল পড়ল। সেগুলো খেয়ে চলতে লাগল। আর পানি হল গিয়ে বাইরে একটু আগুন ধরিয়ে পুকুর থেকে একটু পানি এনে পাতিলে করে আগুনের উপর বসিয়ে দেয়, তখনই  পানিটা জ্বাল দেয়া হয়, তখন সেই পানিটা খাওয়ার উপযোগী হয়। তখনই সে সেগুলো দিয়েই কাজ করে। আর খেলা ধুলা করে হল গিয়ে একটা বুদ্ধি করল খেলাধুলা করার জন্য। রাত্রিবেলা সে তাবু টানিয়ে ঘুমালো না। তাবু টানিয়ে বাসায় আবার ফিরে এল। বাসায় গিয়ে ব্যাডমিন্টনের ব্যাট ও কর্ক নিয়ে এল এবং তারপর তাবু টানিয়ে ঘুমালো। আর তাবুর ভিতর সেগুলা রেখে দিল। তারপর সকাল হল পর সেটা নিয়ে তাবু থেকে বের হল। বের হয়ে সে সব বন্ধু-বান্ধবীদের বাড়ি গেল। তারপর সব বন্ধু-বান্ধবীদের ডাকল এবং যে কয়টা র‍্যাকেট আনল মাত্র তিনজনকে সে ডাকল। তার মধ্যে থেকে শুধু একজনকে বলল, তোমার ব্যাডমিন্টন নিয়ে এস। আমি দুইটা এনেছি তুমিও তোমার দুইটা ব্যাডমিন্টনের ব্যাট নিয়ে এসো। তারপর আমরা তো চারজন। তিনের সঙ্গে এক যোগ করলে তো চার হয়। তোমাদের তিনজনকে তো ডাকলাম আর আমাকে নিয়ে চারজন। এরপর তার বান্ধবীটা সব নিয়ে এল। যে আনল, তাকে বলল, সাদিনার সঙ্গে খেল। আমি মানজিরার সঙ্গে খেলি। এরকম করে দিনের পর দিন যায়। একদিন ভাবল, এভাবে বাইরে থাকা তো তত ভাল নয়। ঘরে থাকাই ভাল। তবে গেলে যদি মা বকা দেয়। আমি বরঞ্চ এ কয়টা দিন তাবু টানিয়েই থাকি। রাত হলে পরে মায়ের পাশে গিয়ে ঘুমিয়ে থাকব। এরকম করে তাবু টানিয়ে থাকছে, এমন সময় রাত হল। তারপর মারিয়া রুশপিয়াদের বাসায় আবার ফিরে এল। এসে তার মায়ের পাশে ঘুমিয়ে থাকল। সকাল বেলা রুশপিয়াই সবার আগে উঠল। মারিয়াকে ঘুমাতে দেখে সে অবাক হল। বলল, "মারিয়া!" মারিয়া বলল, "কি হয়েছে?" বলে, "শোন! তুমি এলে কেমনে আমাদের বাসায়? আমরা তো দেখলাম না তোমাকে। আমি এক্ষুনি মাকে বলব, মারিয়াকে পাওয়া গেছে।" তারপর মাকে বলল, দেখ মারিয়াকে দেখ। মারিয়াকে নিয়ে পেরেশান হয়েছ। দেখ মারিয়া কোথায়? এরপর তার মা তার রুমে গিয়েই দেখল, মারিয়া বসে আছে। এরপর তার মা তাকে কোলে নিয়ে আদর করল। বলল যে, তুমি কেন গিয়েছিলে, মা! আর বাড়ি থেকে যাবে না কোথাও। এখন গল্পের রুম থেকে আমাদের ঘরে যেতে হবে। চল মা। তখন তারা গল্পের রুম থেকে আবার তাদের বাড়িতে গেল। এখন বাড়িতে কি করছে, আমরা বলতে পারব না।

Thursday, October 30, 2014

রামিশাকে নিয়ে অনেক ঝামেলা

এক দেশে ছিল একটা বাবু। বাবুটার নাম রামিশা মালিয়ান। বাবুকে সবাই রামিশা বলে ডাকে। একদিন রামিশা বাইরে খেলছিল। কিন্তু সেদিন সে স্কুলে যায়নি। আর তার মা-বাবাকে দরখাস্তও লিখতে দেয়নি। তার পরের দিন সকালেও সে স্কুলে যায়নি। কারণ সে স্কুলে না যাওয়ার জন্য জ্বর হওয়ার জন্য ধুলাবালির কাছে যেত আর ধুলাবালি ছানত। তাই তার জ্বর হয়েছে, সে স্কুলে যায়নি। এমনকি তার জ্বরটা ভাল হবার পরও দুইদিন স্কুল করেনি। কিন্তু তার মা-বাবা মেয়ের জ্বালায় দরখাস্তটা একটু লিখতেও পারছে না। বাপ-বা করল কি, মেয়েটিকে নিয়ে আদিলার বাড়িতে নিয়ে গেল। আদিলার বাড়িতে আদিলাকে দেখে তার মনটা একেবারে চকচক করতে লাগল। আদিলার সাথে সে খেলতে লাগল। আদিলার পুরা নাম আদিলা কারনা। তখন আদিলার সঙ্গে আবার খেলতে ছিল। এই সুযোগে তার বাবা-মা দশ মিনিটে দরখাস্তটা লিখে ফেলল। লিখে তার মায়ের ব্যাগে ঢুকালো, তার বাচ্চার ব্যাগে ঢোকালো না, কারণ বাচ্চা কালকেও স্কুলে যেতে চাইবে না, তার মা-বাবা জানত। আর তার পরের দিনই ছিল parents meeting। তার পরের দিনও রামিশাকে আদিলার বাড়িতে নিয়ে গেল। বাড়িতে আদিলাকে দিয়ে চুপ চুপ করে আদিলার বাড়ি থেকে বের হয়ে দরখাস্তটা মিসদের কাছে দিয়ে মিসদের কাছে বলল, "রামিশা স্কুলে যেতে চায় না।" তারপর মিসেরা বলল, "তাহলে রামিশাকে আর স্কুলেই পাঠাবেন না। শুধু একদিন নিয়ে আসবেন, সেদিন আমি খুব সাজুগুজু করে আসব। তখন মেয়েটি আমাকে পছন্দ করবে আমার সাজুগুজু দেখে। তারপর থেকেই সে স্কুলে আসবে। আর সেজন্য যদি সে না আসে, তাহলে তো আর স্কুল করা লাগবে না। অন্য স্কুলে ভর্তি করে দিবেন। সেখানে পড়ার চাপটা অনেক বেশি। সেখানে এর আগের ক্লাসে অনেক পড়ালিখা করতে হয়। সেখানে পড়ালেখা কিছু শেখায় না, শুধু খালি পরীক্ষা নেয়। May I coming miss, may I go to washroom, I have done my work- এগুলে াকিছু শিখিয়ে দেয় না। সব নিজে নিজেই পড়তে হয়। নিজে নিজে সে আগের ক্লাসে পড়েছিল। সেভাবে লিখবে। কিছুই শিখাবে না, শুধু স্কুল ড্রেসটা কিরকম থাকবে সেটা শুধু শিখিয়ে দেবে।" এইসব মিসেরা বলল। এরপর মাত্র একদিন নিয়ে আসল বাবুটাকে। সেদিন মিস সাজুগুজু করে আসল। আর মিস আরেকটা কথ াবলেছিল যে, এরপর সে এই ক্লাসে পড়েনি। এখন ঐ ক্লাসে গিয়ে লাড্ডু মারলে তার হাউসটা মিটবে, তখন থেকে এই স্কুলে আসবে। তখন সেই স্কুলের মিসদের বলবে, এই মেয়েটি আর এরই স্কুলে পড়বে না। বলে মিয়েটিকে এখানে আনবেন। এরেপর মিস সাজুগুজু করে আসার পর বাবুটির তবুও পছন্দ হল না। কারণ মিসটি তিনটি জিনিস ভুলে গিয়েছিল। মালা পড়তে ভুলে গিয়েছিল, কানের দুল ও সুন্দর জামা পড়তে ভুলে গিয়েছিল। শুধু কাজল, পায়ের নুপুর ও হাতের চুড়ি আর হাতে সুন্দর করে মেহেদী দিয়ে আসল। আর মাথাটা সুন্দর করে আচড়ালো। মাত্র এই তিনটি জিনিসই সে ভুলে গিয়েছিল। এখন মেয়েটির মিসকে দেখে তার পছন্দ হল না। সেজন্য সে সেই স্কুলে পড়ল না। তার মা-বাবা তাকে পড়ার চাপ বেশি সেই স্কুলে ভর্তি করল। সেই ক্লাসের পরীক্ষায় সে সবচেয়ে লাড্ডু হল। সবগুলোতে বি বি বি পেয়েছি। ৪৯ নম্বরে মাত্র ১ পেয়েছি। সবকিছুতেই ১ পেয়েছে এবং মন্তব্যে লিখেছে, বাসায় এবং তার আগের স্কুলে বেশি বেশি পড়নি কেন? এটা মন্তব্যে লিখে দিয়েছে।  আর রেজাল্টে অনেক খারাপ করেছে। তার মা তাকে অনেক বকা দিয়েছে। বলে, "কেন, এত রেজাল্ট খারাপ হয়েছে কেন, অ্যা? রেজাল্ট খারাপ হয়েছে কেন, বল। নাহলে কিন্তু তোমাকে সকাল বেলা দুধ খেতে দিব না। তুমি দুধ খেতে পছন্দ কর, তা দিব না। বল, নাহলে তোমাকে আগের স্কুলে পড়তে হবে।" মেয়েটি তবুও বলল না। তখন মেয়েটির হাউস (শখ) মিটল। ব্যাপারটা সে বুঝল। তখন থেকে সে স্কুলে যায়। এরপর আবার একটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছিল। আবার সে স্কুলে যায় না যায় না হচ্ছিল। কিন্তু রামিশা স্কুলে যেতেই চায় না, যেতেই চায় না, যেতেই চায় না। মিস ভুলেই গিয়েছিল। কথাটা হল, ঐ স্কুলে সব বিষয়ে জিরো (০) দেয়ায় সে ভেবেছিল, এখানে আসলেও ওকে জিরো দেবে। এই ভয়ে আর আসছে না। এখন যেই মিস এ কথা বলেছিল ঐ স্কুলে যাওয়ার, সেই মিস মেয়েটির জন্য কাঁদতে লাগল। এখন বাবুটি কাঁদতে লাগল যে, এর আগের স্কুলে যেই স্কুলে ভর্তি হয়েছি সেই স্কুলে জিরো পেয়েছি কেন? কেন জিরো পেয়েছি আমি? এই ভেবে মেয়েটি অনেক কাঁদল। তারপর আবার আদিলার বাড়িতে গেল। খালি মেয়েটি আদিলার বাড়িতে যায়, ক্লাসে যায় না। তার বাবা-মা মিসদেরকে বলল যে, আমরা এইবার একটা পরীক্ষায় ওকে জোর করে আনাব, তারপর ও খারাপ করলেও ওকে এ+ দিয়ে দেবেন এবং মন্তব্যে লিখে দেবেন, ধন্যবাদ ভাল রেজাল্ট করার জন্য। এবার মেয়েটিকে জোর করে নিয়ে গেল। মেয়েটি পরীক্ষা দিল এবং রেজাল্ট কার্ডে দেখল, সব এ প্লাস, একটাও বি নেই। তখন মেয়েটি খুশী হল। তখন থেকে মেয়েটি রোজদিন স্কুলে যায়। এদিকে আদিলা কারনা জিরো পেয়ে গেল। কারণ, সে বাসায় কোন পড়ালেখা করত না। কিন্তু রামিশা রোজ রোজ পরীক্ষা খুব ভাল করে দেয়। আবার একই ঘটনা বাঁধল। আগে যা ঘটল, তা আবার যেকোন একটা উপায় দিয়ে ঠিক হয়ে গেল।

Tuesday, October 28, 2014

তালহা

এক বাড়িতে থাকত এক ছেলে। ছেলেটির নাম তালহা। তালহার একটি ছোট বোন ছিল। তালহা একদিন মায়ের কাছে বলল, "মা! আমার ছোট বোনটা কবে বড় হবে, মা?" এমন সময় তার বাবা মায়ের কাছে বলল, "জান, বাচ্চাদের একটা গুড়া গুড়া খাবার থাকে। সেই গুড়াটা পানির মধ্যে দিয়ে নাড়লে সেটা দুধের মত পাতলা হয়ে যায়। তারপর সেটা ফিডারে ভরে বাচ্চাকে খাওয়ালে বাচ্চার খুব মজা লাগে, সেটা খুব মিষ্টি। এটা খেলে বাচ্চার শরীর ভাল থাকবে, খেতে খেতে বড় হয়ে যাবে, তখন আর তালহা আমাদেরকে চেতাবে না। আমাদেরকে খালি সবসময় বলবে না যে, আমার বোনটি কবে বড় হবে। আমি সেটা এনেছি। কিন্তু ডেট এক্সপায়ার হয়ে গেলে আর খাওয়া যাবে না। ফেলে দিতে হবে। ফেলে দিয়ে আরেকটা প্যাকেট কিনে এনে সেটা খেতে হবে।" এটা বলে বাবা প্যাকেটটা দিয়ে গেল মায়ের কাছে। আর বলে গেল, "পানির মধ্যে তিন চামচ দিয়ে নাড়লেই খাওয়া যাবে। কিন্তু এক চামচ চিনি দিতে হবে।" তারপর একদিন তালহা একদিন ওর মাকে বলল, "মা, এ খাবারটা আমি ওকে খাইয়ে দেই।" তারপর তার মা বলল, "না বাবা, তুমি খাইয়ে দিতে পারবে না। তার একটা সিস্টেম আছে। এটা বেশি গরম করে খেতে হবে। কিন্তু সেটা এমন জিনিস, যেটা বেশি গরম হলে গলা পুড়ে যায় না, পেটের নাড়ি-ভুড়িও পুড়ে যায় না। এবং সেটা বেশি গরম করে খেতে হয়। নাহলে সেটির স্বাদটা মজা লাগে না। কিন্তু তুমি করলে বানাতেও তোমাকে হবে। কিন্তু তুমি এটা ওভানে দিতে পারবে না, বাবা। ওভেনে দিলে তোমার হাতটাও গরম হয়ে যেতে পারে। তুমি যদি ওটা ওভেন ছাড়ার সময় আগে ওভেনটা ছেড়ে তারপর ওটা ঢুকিয়ে দাও, তাহলে তোমার হাতটাও গরম হয়ে যেতে পারে। সেজন্য তুমি দিতে পারবে না, বাবা।" এ বলে বোনটি খেতে খেতে খেতে খেতে বড় হয়ে গেল। এবং সে ওটা খেয়ে অনেক মজা পেল। এবং বড় হয়েও সেটা খেতে চায়। এখন তার মা-বাবা তো বেকায়দায় পড়ে গেছে। এটা ছোটদের খাবার। এখন বড়রা খেলে কেমন দেখায়। এটা তো দুই বছর, এক বছর, আধা বছরের বাচ্চারা খায়। এখন ওর বয়স ৫ বছর, ছোটবেলায় খেতে মজা লেগেছে, এখন খাবে কি করে? তখন তারা চিন্তায় পড়ে গেল। তখন তার বাবা বলল, "তোমরা চিন্তায় পড়ো না। পাঁচ বছরের জন্য আরেকটা আছে ওরকম। কিন্তু সেটা দুধের মত পাতলা নয়, আইসক্রিমের ক্রিমের মত পাতলা। সেটা আঙ্গুলে ভরিয়ে ভরিয়ে চেটে চেটে খেতে হয়। সেটা ফিডারে ভরে খাওয়া যাবে না।" এটা তার বাবা বলল। তখন তার মা তো একবারে খুশী হয়ে গেল। তার মা বলল, "ঠিক আছে, তাহলে তুমি সেটা কিনে আন।" তখন তার বাবা দৌড়ে একটা পয়সা নিয়ে দোকান থেকে কিনে আনল। তখন তার মা দানাগুলো পানির মধ্যে দিল। তখন থেকে আইসক্রিমের ক্রিমের মত গলে গেল। আর সেটা বার বছর পর্যন্ত খাওয়া যাবে। বার বছরের পর থেকে এমন একটা থাকবে, যেটা দাঁত দিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে খেতে হয়। শুধু সবগুলোই বেশি গরম করে খেতে হবে। তখন তার মা সেটা সেই মেয়েটিকে খেতে দিল। মেয়েটি মজা করে খেতে লাগল। এদিকে তালহা কাঁদতে লাগল। "কেন যে এরা শুধু ঐটা খাওয়ায়? আর খেলতেই পারে না আমার সাথে। আমার দিকে খেয়ালই দেয় না, শুধু ঐটা খায়।"-বলে তালহা কাঁদতে কাঁদতে চোখের সব পানি শেষ করে দিল। তখন কিন্তু তালহা আর কাঁদতে পারে না। চোখের সব পানি তখনই শেষ হয়ে গেছে। তারপর তালহা কক্সবাজারে যেতে চাইল। তবুও সেই মেয়েটি বাসে চড়ে সেই খাবারটা খেতে লাগল। তালহা কক্সবাজারে গেল। তারপর তালহা একদিন চুপে চুপে হোটেল থেকে বাইরে এসে সমুদ্রের কাছে গেল। সমুদ্র থেকে একটু পানি নিয়ে চোখটা খোলা রেখে চোখটার ভিতরে সমুদ্রের পানি দিয়ে কিছুক্ষণ চোখ দুটো বুজে থাকল। তারপর খুলে কাঁদতে পারে। চোখের পানি আবার ফিরে পেল। তার পর চুপে চুপে আবার হোটেলে ফিরে এল। তারপর হোটেলের খাবার দাবার খুব মজা। কিন্তু বাচ্চাটি সেগুলো খেতে চাইল না। আসলে বাচ্চাটা ওটা খেলে ওটাই চিরদিন খেতে চাইত। তাই পাঁচ বছরের মেয়টিকে ওই মিষ্টি খাবারটাই খেতে দিল। তারপর যখন বার বছর হল, তখন তো আর সেইটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তখন আরেকটা কিনে আনল, সেটা পনির ভিতরে দিতে হয় না, সেটা কোন গুড়াই না, বড় বড় দানা, পানি তে ভিজিয়ে ভিজিয়ে কুচ কুচ করে ছোট ছোট দানা করে দুধে ভিজিয়ে একটা পাউরুটির সমান বানিয়ে কামড়িয়ে কামড়িয়ে খেতে হয়। মেয়েটি খেল। এখন মেয়েটির কথাই শুধু লেখা হচ্ছে। তালহার কথা আর লেখা হচ্ছে না। মেয়েটি সুখে-শান্তিতে থাকল। আর তালহা মেয়েটির সঙ্গে খেলতে পারল। কারণ, বার বছর থেকে পনের বছর পর্যন্ত সেটি খাওয়া যায়। ১৫ বছর পর্যন্ত খেতে খেতে খাওয়ার স্বাদটিই নষ্ট হয়ে গেল। তার আর ওই খাবারটাই ভাল লগল না, সবসময় খেত বলে আর ভাল লাগে না। তাই তালহার সাথে খেলতে পারল। কিন্তু সেই মেয়েটির নামটা লিখতে পারিনি। সেটা এখন লিখছি। মেয়েটির নাম হচ্ছে আদিবা। তবে এখন গল্পটা শেষ করে ফেললাম। 

Wednesday, October 22, 2014

মিরার মন খারাপ

এক দেশে ছিল একটা বাবু। সেই বাবুটার নাম মিরা। বাবুটি রোজ রোজ শুধু ভিডিও দেখত। তার মা তাকে কিছুতেই জোর করে পড়াতে বসতে পারত না। তার মা একবারে অনেক চিন্তায় পড়ে যেত যে, সামনে ওর পরীক্ষা। কি করে যে ওকে ফার্স্ট বানাতে পারি! লেখাপড়া না করলে ফার্স্ট হবে কেমনে আমার মেয়েটা? সারাদিন ভরে শুধু ভিডিও দেখে। মনটাই কেমন লাগে বল! একদিন মিরা বলল, "মা! আমি লেখাপড়া কোনদিন করব না। তুমি একদিনও পড়াতে বসাবে না, মা। কিন্তু আমাকে পরীক্ষায় ফার্স্ট হতেই হবে।" তখন তার মা বলল, "ঠিক আছে, ফার্স্ট হতে পারলে তোমাকে পুরস্কার দিব, আর ফার্স্ট না হতে পারলে তোমাকে পুরস্কার দিব না।" তখন তার মেয়ে বলল, "তবে কি পুরস্কার দিবে, মা?" তার মা বলল, "না, সেটা বলব না। সেটা বললে তুমি এখনই চাইবে। এর চেয়ে তোমার তখনই পুরস্কারটা নেওয়া দরকার। তুমি এখন শুন না।" সেই মেয়েটি তাড়াতাড়ি গিয়ে ভিডিও দেখল। সে একটা গল্প দেখল। দেখল, ঠাকুরমার ঝুলি গল্প। একদিন এক বানর গাছের উপর বসে লাফাচ্ছিল। একদিন একটা মেয়ে এসে বানরকে বলল, "বানর ভাই, বানর ভাই, গাছে বসে আছ। আমাকে একটু ফল দিবে? তুমি নিজে বসে বসে সব ফল খেয়ে ফেল। কেন খেয়ে ফেলছ, বানর মশাই? শোন, বানরটাই শেষে হারবে।" তারপর মেয়েটি বলল, "ও বানর ভাই, একটু ফল দেবে আমাকে?" বানরটি ভাবল, ওকে এখন ফল দিলে ও রোজ ফল চাইবে আমার কাছে। সে বুদ্ধি করে ভাবল, এইবার মেয়েটি আমার খাবার খেতে চায়, না। এবার দেখাচ্ছি মজা। তার মাথার উপর একটি শক্ত ফল ফেলল। মেয়েটির মাথায় সেটি পড়ল না। সেটা গিয়ে বানরেরই এক ভাইয়ের মাথায় পড়ল। তখন সেই বানরের ভাইটি বানরকে ধরে বলল, "কি, তুই আমার মাথায় ফল ফেলেছিস কেন? তোর সঙ্গে আমি অনেক গল্প করেছি না? তুই আমার মাথায় মারছস কেন? এবার বল কি কারণে মারছস? আমি কি তোমারে কি কোন ক্ষতি করেছি?" বানরটি বলল, "সব ঘটনা পরে বলব। আসলে ওই মেয়েটিকে শায়েস্তা করছি। আমার খাবার খেতে চেয়েছে ও। তুমি যাও, বাইর থেকে ঘরে গিয়ে থাক। এবার আমাকে সেই মেয়েটিকে মারতেই হবে।" তখন সেই মেয়েটির মাথায় আরেকটি শক্ত ফল ফেলল। সেটি গিয়ে মেয়েটির মাথায় পড়ল। কিন্তু মেয়েটির মাথায় কি যেন একা পরা ছিল, সেটায় কোন কিছু পড়লে মাথায় ব্যথা পায় না। এবং মাথা ফাটেও না। সেটি পরে মেয়েটি একটুও ব্যথা পেল না। তখন বানরটি বলল, "হায়! মেয়েটিকে একটুও শায়েস্তা করতে পারছি না।" এ বলে তাড়াতাড়ি করে লাফ দিয়ে মেয়েটির মাথায় পড়ে মাথার ওটি খুলে নিয়ে গেল বাড়িতে। সেটি বানরটির বাড়িতে রেখে আসল। তারপর সে এসে এবার মেয়েটির মাথায় ফল ফেলতেই মেয়েটি দৌড়িয়ে তার বাড়িতে চলে গেল।
এই গল্পটি সেই বাবুটি দেখল। কম্পিউটারে দেখে মেয়েটি খুব খুশি হল। কিন্তু তার খুশীর মনটা খারাপ হয়ে যাবে। কারণ সে একটুও পড়ালেখা করেনি, নিশ্চয়ই সে পরীক্ষায় জিতবে না। মেয়েটি ভিডিওটি দেখে খুশীতে নাচতে নাচতে পরীক্ষার সময় হয়ে গেল। মেয়েটি নাচতে নাচতে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে চলে গেল। স্কুলে গিয়ে পরীক্ষা শেষেই দেখল যে, একটুও পারেনি। এটা শুনে মেয়েটি ক্লাস থেকে বের হয়ে ক্লাসের বাইরে গিয়ে বসল। আর এ কাগজটি মিসের লেখা সব ফ্লুইড দিয়ে মুছে ফেলল। তারপর নিজে রং পেন্সিলের লাল কালি দিয়ে রাইট দিয়ে দিল সব। তারপর আবার মে আই কামিং মিস বলে আবার ক্লাসে ঢুকে পড়ল। বেঞ্চে বসে পড়ল। তারপর মিস বলল যে, "এবার সবাই খাতাটা বের করে আমার কাছে আবার জমা দাও, এবার দেখব কে কত পেয়েছ।" এটা মিস বলার সাথে সাথে তাড়াতাড়ি ফ্লুইড বের করে টিক চিহ্নগুলো মুছে ফেলতে ফেলতেই টিচার আসতে নিল। এসে দেখল যে, সে লাল কালি দিয়ে ক্রস দিচ্ছে। ওটা সে করেছিল মিস ওটা দেখে পরীক্ষার রেজাল্ট  ভাল করে দেবে সেজন্য। কিন্তু মিস এসে তাকে ধরে বলল, "এই মেয়ে, আমার টিক চিহ্নগুলো মুছেছো না, আবার ক্রস দিচ্ছ। এবার দাও। তোমার ব্যাগ থেকে সব ফ্লুইল-টুলুড আমাকে বের করে দাও, তোমার রং পেন্সিলের লাল কালিও দিয়ে দাও্।" তখন মেয়েটি মন খারাপ করে দিয়ে দিল। তবে এখন মেয়েটির ঘটনাটা হবে এই যে, মেয়েটি তার মায়ের কাছে অনেক বকা খাবে। এরপর মেয়েটি ক্লাসে কাঁদতে লাগল। মিস বলল, "এই মেয়ে, কাঁদছ কেন, অ্যাঁ? কাঁদা বন্ধ কর, নাহলে ক্লাসের বাইর কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখব। কাঁদা বন্ধ কর তাড়াতাড়ি।" তবুও মেয়েটি কান্না বন্ধ করল না। তখন মিস বলল, "ঠিক আছে, তোমাকে ক্লাসের বাইরে দাড় করিয়ে রাখব না। তুমি বরঞ্চ সামনে এসে পিটি কর। তাহলেই তোমার শাস্তিটা হয়ে যাবে।" মেয়েটি একবারে মন খারাপ করে গিয়ে পিটি করল। কিন্তু তার মনটা খুব খারাপ হবে এ গল্পে। এটাই গল্প। তারপর অনেক অনেকক্ষণ পর মেয়েটিকে যেতে দিল। তখন মেয়েটি বেঞ্চে গিয়ে মন খারাপ করে বসে থাকল। এখন মেয়েটি বাসায় গিয়ে ব্যাগটা রেখে বিছানায় গিয়ে বসল। মা এসে ব্যাগ থেকে বই-খাতা বের করে দেখল যে, তার পেন্সিল রঙের লাল কালারও নেই, তার সব ফ্লুইডও নেই। তখন তার মা বলল, "এই মেয়ে, ফ্লুড-টুলুড সব কোথায় গেছে? তুমি আমার কাছে ফ্লুইডগুলো দাও। নাহলে কিন্তু আমি তোমাকে অনেক শাস্তি দিব। ফ্লুডগুলো এনে দিতে হবে তোমাকে।  কোথায় গেছে তোমার ফ্লুড গুলো? এনে দাও সেগুলি।" তখন মেয়েটি বলল, "পরীক্ষার শিট পরে দিবে। কিন্তু লাল কালিরও খবর নেই, আর আমার ফ্লুইডেরও খবর নেই।" তখন তার মা বলল, "এই যাও, কোথায় থেকে নিয়ে এসেছো, যাও। নাহলে তোমার শাস্তিটা দিয়ে দিব। তুমি তাড়াতাড়ি বাবাকে নিয়ে কোথায় গিয়েছ সেটা দেখিয়ে দাও। নিয়ে এসো, আর নাহলে ভাত খেতে দিব না।" তারপর মেয়েটি গিয়ে তার বাবার কাছে বলল, "আমার আম্মু কি বলে তুমি একটু শুনে আস না।" তখন তার বাবা দৌড়ে তার মায়ের কাছে গিয়ে বলল, কি বলেছ তোমার মেয়েকে?" তার মা সব কথা খুলে বলল। তারপর তার বাবা তার মেযেকে নিয়ে বলল, "কোথায় রেখে এসেছো সেটি, মা? তোমার মা তোমাকে অনেক বকা দেয় কেন, বলতো একটু।" তখন বাবুটি সব কথা খুলে বলল। আর বলল যে, "সেটি আমার মিস নিয়ে গেছে।" এরপর তো সব ঘটনাই বোঝা গেল। তারপর তার বাবা দৌড়ে গিয়ে মিসের কাছে বলল, "আপনি আমার মেয়ের জিনিস নিয়েছেন কেন? আপনাকে আমি কিন্তু শাস্তি দিব। তাড়াতাড়ি বলেন, কিজন্য নিয়েছেন আর কোথায় রেখেছেন?" কিন্তু বাবুটি বলেনি যে, এটা দিয়ে খাতায় কি করেছিলাম। তখন মিস বলে দিল যে, আমার সাইন নষ্ট করেছে। তখন তার বাবা বলল, "এই দুষ্টু মেয়ে! তুমি তোমার মিসের সাইন নষ্ট করেছ কেন? এটা করতে হয় না। এটা করলে এরকমই হয়। এগুলো নিয়ে যায় মিস। এখন আবার আমার কষ্ট করে মিসের কাছ থেকে নেয়া লাগতেছে। তুমি তাড়াতাড়ি মিসকে সরি বলে ওগুলো নিয়ে আস।" তখন বাবুটি সবকিছু বলে ওর রং পেন্সিল ও লাল কালি নিয়ে এল। ফ্লুড নিয়ে এল। এরপর মেয়েটির মা বলল, কি হয়েছে অ্যাঁ! পরীক্ষার শিট কোথায়? বলে, "এই যে মা, আমার ব্যাগেই আছে। এবার গিয়েছিলাম না, তখন ওগুলোর সঙ্গে খাতাও দিয়ে দিয়েছে।" তখন মা বলল, "দুষ্টু! কি করেছ খাতায়?" তখন তার বাবা বলল, "মিসের সাইন নষ্ট করেছে।" এসব কথা বলল বাবা তার মাকে। মা শুনে খুব রাগ হয়ে গেল। মা বলল, "তুমি এই জিনিসগুলো না করলে তো তুমি ১ নম্বর পেতে। কিন্তু তুমি ঐটা করার জন্য তোমাকে এক নম্বরের বদলে জিরো (০) দিয়ে দিয়েছে। এ প্লাসও পাবে না। রেজাল্টে দেখবে, এ প্লাসের জায়গায় থাকবে বি। তুমি কেন এইগুলো করলে?" তখন মেয়েটি খুব বকা খেযে মেয়েটির মনটা অনেক অনেক অনেক খারাপ হয়ে গেল। মেয়েটি একেবারে কাঁদতে লাগল। মেয়েটি দৌড়ে গিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে তার বন্ধুদের নিয়ে মিরা খেলতে লাগল। আর বাড়ি এল না। বাড়ি এলে তার মা বকা দিবে, সেজন্য। তারপর রাত্রিবেলা তো মেয়েটির ক্ষুধা লেগেছে। মিরা ভাত না খেয়ে শুধু গাছের ফল খেল। সেটা খেয়েই মিরার রাতের খাবার মিলল। তখন মেয়েটি দেখল যে, একটি মেয়ে কাপড় শুকা দিয়েছে, কিন্তু তার পাটিটি নিতে ভুলে গেছে। তখন মেয়েটি সেই পাটিটা নিয়ে মাঠের মধ্যে ঘুমানোর জন্য উপস্থিত হল। কিন্তু এখন বালিশ কোথায় পাবে? যেতে যেতে তার পকেটে দুটি পয়সা ছিল, সেই পয়সা দিয়ে বালিশের কভার পেয়ে তুলা নিয়ে- কোথা থেকে জানি একটু তুলা পেয়েছিল, কভারের মধ্যে ভরে সেই পাটির উপরে ঘুমাতে লাগল। তার পরের দিন সেই মেয়েটি দৌড়ে দৌড়ে খুব ভোরে যখন তার বাবা-মা ঘুম থেকে ওঠে না তখন নিজের বিছানায় গিয়ে শুইল। যাবার আগে পাটিটা ভাজ করে রেখে আসল আর সেই বালিশটা গরীবদের বাসায় দিয়ে আসল। মিরা নিজ বাড়িতে গিয়ে ঘুমানোর পর মা-বাবা উঠে দেখল, মিরা এখানে ঘুমানো আছে। তখন মা-বাবা চোখ ডলে তারপর বলল, আমরা আবার স্বপ্ন দেখিনি তো যে, মিরা বাইরে গিয়ে আর আসল না? তারা কোন কিছু জানল না। কিন্তু অন্য এক বাসা থেকে একটি ছেলে দেখেছিল সেগুলো। সেই ছেলেটি তাদের বাসায় এসে বলল, "আন্টি, আন্টি!" এরকম বলে বলে সব ঘটনা বলল। এসব শুনে মা মেয়েটিকে আদর করে বলল, "তুমি এখন থেকে এরকম দুষ্টুমি আর কখনো করবে না। তবে এখন তোমাকে আম্মু বলে ডাকা হলো। তবু আমাদেরকে নিয়ে এ গল্পগুলো শেষ হল।"

Saturday, October 18, 2014

মালতী

এক দেশে ছিল একটা বাবু। তার নাম মালতী। সে খুবই ভাল একটা মেয়ে। মাকে সাহায্য করত। ভাল করে লেখাপড়া করত। বাহিরে বেড়াতে যাওয়ার জন্য চেতত না। সে মেয়েটি খুব ভাল। সে একদিন একটি বই পড়ল। বইটা পড়ে সে বুঝতে পারল না। তার মায়ের কাছে গিয়ে বলল, "মা, আমি এই লেখাটা বুঝছি না। এটার অর্থটা কি?" তার মা বলল, "না, আম্মু। এটার অর্থ তো আমিও জানি না। তুমি তোমার স্কুলে এ বইটি নিয়ে যেও। ক্লাসের মিস বলতে পারে, কিন্তু ক্লাসের মিসেরা জানলে তো তুমি কি করবে মা? এর চেয়ে তুমি ক্লাসের মিসকে আগে জিজ্ঞেস করে দেখো মা। যদি মিস বলে তাহলে তুমি বলবে।" তখন সেই বাবুটি বলল, "মা! মিস তো এগুলো পড়ায়নি। মিস মনে হয় জানেই না। মাগো, ও আমার মা। মিস জানে না, তাহলে আমি কি করে মিসের কাছ থেকে বুঝবো গো মা।" তখন তার মা বলল, না, মালতী। তা হয় না। মালতী, আমি তোমাকে কোলে নিয়ে কোথাও যেতে পারি মা। সোনার মালতী! আমি যাচ্ছি তোমাকে নিয়ে কোলে চড়ে। তখন তারা একসময় অনেক দূরে গেল। অনেক দূরে গিয়ে পৌঁছলো সেদিন। তারা সেটা বুঝতে পারল। সেই বইযের সেই অর্থটা বুঝে মেয়েটি একবারে খুশীতে নাচল। বইয়ের অর্থটি তারা কিভাবে জানল জান? তারা একদিন যাচ্ছিল। তাদের সাথে একজনের দেখা হল। মানুষটি বলে দিল। এভাবেই তারা জানতে পেরেছে। খুশীতে নাচতে নাচতে মেয়েটি একবারে মনটা অনেক ভাল হয়ে গেল।

Sunday, October 12, 2014

বাবুরা

একদিন একটা বাবু ছিল। বাবুটির নাম ছিল সুমকন্যা। সেই সুমকন্যা একদিন তার ছোট বোনকে বলে, "বন্ধু! খেলবে?" তার ছোট বোনটি বলল, "আপু! তুমি আমার কথাটা বুঝলে? আমি বলছি যে, তুমি স্কুলে যাও। তুমি তোমার স্কুলের বন্ধুর নাম বলতো একটু আমায়।" তখন সে বলল, "না, স্কুলের কথা যখন বললে, তখন আমার স্কুলে যাওয়ার কথা মনে পড়ল। আমি এখন বলতে পারব না। আমি রেডি হতে যাব স্কুলের জন্য।" তখন সে বলল, "না, বন্ধু। একটু বল না, তোমার বন্ধুর নাম কি।" "ঠিক আছে, এখন না হয় ডাক নামটি বলি। পুরো নাম না হয় পরে বলব। বন্ধুর নাম মধুসমি। এখন না হয় আমি রেডি হতে যাই। তবে বন্ধু তুমি স্কুলে যাবে না? আমি নাহয় ওয়ানে পড়ি। তুমি যে প্লেতে পড় তা মনে নেই?" তখন দুজন একসঙ্গে মিলে স্কুলে গেল। তখন তার মা ছোট বন্ধুকে নিয়ে প্লেতে ওকে দিয়ে এসে বড় বোনটাকে ভিকারুন্নেসার ওয়ানে দিয়ে আসল। তখন তারা স্কুলে পড়তে পড়তে এমন সময় প্লের একটা টিচার তার ছোট বোনকে বলল, "এই, তুমি একটু স্লিপারে উঠ না। একটু যাও, ওখানে গিয়ে একটু পড়।" ওখানে মিস বলছে, সবাই সাথে সাথে অন্য বাবুরাও পড়ছে। মিস বলছে কোলবালিশ, আর সবাই সাথে সাথে বলছে কোলবালিশ। মিস .. মানুষ, সবাই .... মানুষ। তুমি যাও, মিসের সাথে পড়, প্লিজ। শুধু স্লিপারে উঠলে পুরান/একঘেয়ে হয়ে যাবে। একটা ছোট মেয়ে তোমার জন্য স্লিপারে উঠতে পারছে না। তোমার সঙ্গে সেই মেয়েটির কাট্টি, তাই  স তোমার সঙ্গে ওখানে উঠতে পারছে না। সেই লক্ষ্মী মেয়েটা একটু উঠুক স্লিপারে। তুমি গিয়ে ওদের সাথে পড়। তখন মেয়েটা ওদের সাথে গিয়ে পড়তে বসল। এই সুযোগে মেয়েটি পটপট করে স্লিপারে উঠল। তখন ওরা এসে সে বলল যে, এখন আমি তোমাকে মধুসমির পুরা নামটা বলি। ওর পুরা নামটা হচ্ছে সীমা মনি মধুসমি। বুঝলে তো? হ্যা, বুঝেছি। এবং শোন, তার ছোট বোনটির নাম সিমালতি। এখন তো সুমকন্যার পুরো নামটা বলতে হয়। সুমকন্যার পুরা নাম হচ্ছে মধু ত্রিনমিশি চৌধুরী সুমকন্যা। আর তার ছোট বোনটির পুরো নাম হচ্ছে নিশামনি সাদিয়া আক্তার সিমালতি।

Thursday, October 2, 2014

বাবুরা মজা করে

এক দেশে ছিল এক বাবু। বাবুটা তার বন্ধুদের নিয়ে খেলতেছিল। এমন সময় তার মা-বাবা এসে দেখল যে, অনেক মজা করে বালিশ দিয়ে মারামারি খেলা খেলছে। তারা আসলে মাঠে গিয়ে খেলছিল, যাতে মা না দেখে। পাটি নিয়ে মাঠে বিছিয়ে সাথে কয়টা বালিশ নিয়ে খেলছিল। তারপর তার বাবা-মা এসে বলে, "সবাই থাম। এগুলো কি হচ্ছে? ব্যথা পাবে এই খেলাগুলো খেললে। এই খেলাগুলো খেললে ব্যথা পাওয়া যায়। তোমরা জান? এরকম খেলা খেলতেছ? খেলাগুলা খুব মজার না। একটু খেললেই ব্যথা পাওয়া যায়। তোমরা ব্যথা পেলে আমাদের কষ্ট হয়। আমরা খুব কষ্ট করে তোমাদের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয়। আমাদের টাকা খরচ হয়ে যায়। গাড়িতে করে যাব, আবার এখন ডাক্তারের কাছে গেলে আবার টাকা দিতে হয়। টাকা দিতে তো হয়ই, কিন্তু আগে তো ২০ টাকা ছিল, এখন দুই হাজার টাকা হয়ে গেছে। আমাদের টাকা খরচ গেলে আমরা তো তোমার জন্য অনেক খেলনা কিনে দেব সেটা ভাবছিলাম, তাহলে ডাক্তারের কাছে গেলে কত টাকা খরচ হয় না? তাতে তোমাদের খেলনা কিনতে পারলাম না, ঈদের জামাকাপড়ও কিনতে পারলাম না। তবে আমাদের এইগুলো চিন্তা করতে হবে, যদি তোমরা ব্যথা পাও খেলতে গিয়ে। তোমাদের কি দশা হবে? তোমরা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদবে। আর বলবে যে, আমাদের জন্য কিচ্ছু কিনে এনে দেয় না- এগুলো বলবে। তোমরা এই খেলাগুলো খেলো না তো। অন্য খেলাগুলো খেল। অন্য খেলা খেললেও কোন বিপজ্জনক খেলা খেলবে না। বেশি ব্যথা পাওয়া যায় সেগুলো তে খেলবে না।" তখন তারা রিঙ্গা রিঙ্গা রোজেস খেলতে লাগল। তখন একজন আরেকজনের হাত ধরে ঘুরতে লাগল আর বলতে লাগল, রিঙ্গা রিঙ্গা রোজেস ............ উইশ্যা ....। খেলা শেষে যখন ডাউন বলে খেলাটা শেষ করে, তখন ঠুস করে বসে পড়ে যাওয়ার ভান করতে হয়। আর পড়ে যেতে হয়। আর বসে পড়তে হয়। এরকম করে পড়ে যাওয়ার এরকম ভান করতে হয়। তারপরে একজন বসে পড়তে গিয়ে পাটির বাইরে পড়ে গেল মাঠের ঘাস-টাসের মধ্যে। আর ব্যথাও পেল। গায়ে ময়লাও ভরল। তার মা রিঙ্গা রিঙ্গা রোজেস খেলতেও মানা করেছিল। তাও ওরা খেলাটা খেলেই বেশ বিপদে পড়ল। এখন তারা সেই বন্ধুকেও সবাই একে একে বলতে লাগল, "এখন কি হবে? এখন ওকে মায়ের কাছে গিয়ে না বললে মা-বাবা চুপ চুপ করে এসে যায় নাকি। মা জানলে তো মা আবার বকা দেবে।" এই বলাবলি করতে লাগল। একসময় তাদের মা এসে পড়ল। বলল, "কি হয়েছে? ব্যথা পেল কেমনে আবার ময়লা লাগল কেমনে? বল দেখি?" সবাই চুপ করে থাকল। তখন তার মা আরো জোরে বকা দিল। বলল, "তোমরা মায়ের কাছে মিথ্যে কথা বললে তোমাদের পাপ হবে। আর তোমাদের আম্মুর কাছে তোমরা কি করেছ সেটা না বললে তোমাদের পাপ হবে। এটা করলেও তোমাদের পাপ হবে। বল, বল বলছি?" তবুও তারা বলল না। তখন বলল যে, "আস, সবাই দাড়াও্। কান ধর। ওঠ, বস। ওঠ, বস। ওঠ, বস। বারবার ওঠাবসা করতে থাক কান ধরে।" তখন বাবুরা শুধু ওঠাবসা করল। তারপর মা একটু পর বলল, "এবার থামাও। দেখেছ? এবার বল। নাহলে আরো কান ধরে ওঠাবসা করাব।" তখন তারা ঘটনাটা বলল। তখন মা বলল, "ও, এই কথা? তাহলে তোমাদেরকে আর ঘর থেকে বের হতে দেব না। তোমরা শুধু একটা রুমেই থাকবে। তোমরা বারান্দায় সব কাজ করবে। বাথরুম করতে হলে শুধু আসবে। বাথরুম ছাড়া অন্য কোন কাজে আর আসবে না। সব কাজ বারান্দায় করবে। আর যখন মাঠে খেলতে যেতে ইচ্ছা করবে অনেক বেশি, তখন আমাকে বলবে। তখন তোমরা খেলতে যাবে, ক্নিতু আমি সাথে থাকব। তখন আমিও দেখব, তোমরা কি কর। ঠিক আছে? এখন যাও বারান্দায়।" এরপর তারা বারান্দায় গিয়ে কাঁদতে লাগল। এবং তাদের মধ্যে থেকে একটি মেয়ে ছিল। মেয়েটি ছিল খুবই দুষ্ট। লেখাপড়ায়ও ভাল না। ক্লাসে গোল্লা পায়। সেই মেয়েটি বলল, "এই শোন, কাঁদলে হবে না। তবে আমার কথা মনোযোগ দাও তাড়াতাড়ি। তোমরা আম্মুর কাছে গিয়ে বলবে, "মা, বাথরুম করব। এ বলে বাথরুমের নাম দিয়ে খেলতে যাবে। আর রিঙ্গা রিঙ্গা রোজেস খেলবে।" তখন তারা বলল, "আমরা রিঙ্গা রিঙ্গা রোজেস খেলব না। কারণ, কোন ঘটনা ঘটে গেলে আমাদের আম্মু যে কি করবে! কোন ঘটনা বা বিপদও তো হতে পারে। এখন যদি কেউ ব্যথা পায়, তাহলে তো আমাদের আম্মু আমাদের আরও অনেক শাস্তি দেবে। আমরা আর এই রিঙ্গা রিঙ্গা রোজেস খেলব না। আমরা বাথরুমে যাওয়ার নাম দিয়ে চুপ চুপ করে খেলনা নিয়ে এসে এখানে খেলব। তারপর মা যখন মার্কেটে যাবে তখন আমরা খেলনাগুলো আবার রেখে যাব। মার্কেটে বেশি সময় থাকলে মাঠে গিয়ে খেলব। দৌড়াদৌড়ি করব। কিন্তু দোয়া করব যে, যেন কোন অঘটন না ঘটে। যেন কোন ব্যথা-ট্যাথা না পাই। এটা দোয়া করব আর ইনশাআল্লাহ বলব। তাহলে কোন বিপদ হবে না। তখন আমরা বাসায় এসে পড়ব। যখন দেখব যে, মা রিকশায় চড়ে আসছে। ঠিক আছে? এই কথাগুলো যেন মনে থাকে।" তখন সেই মেয়েটির মত সবাই কাজ করল। তারপর আর সেই তারা কি করল জান? তারা মনের সুখে খেলল। ক্নিতু তাদের মা যখন দেখল, তখন তারা দেখল না যে, তাদের মা আসল। কিন্তু মা ঠিকই দেখল যে, ওরা খেলছে। তারপর মা ভাবল যে, এবার ওদেরকে সবসময় শুধু কান ধরে ওঠাবসা করাতে হবে। ওদেরকে পাঁচদিন ধরে শুধু কান ধরে ওঠাবসা করতেই হবে, ঘুমানো যাবে না। এটা তার মা ভাবল। এখন বাবুরা বাসায় এসে দেখল, মা এসে গেছে। মা যেগুলো চিন্তা করছিল, সেগুলো বলল। তখন তারা তো কান ধরে ওঠাবসা করতে করতে হাত ব্যথা হয়ে গেল। তবুও তারা করল। তখন তারা পাঁচদিন হয়ে গেল, তখন তারা কান ধরে ওঠাবসা করা থামাল। থামানোর সাথে সাথেই ঘুমাতে গেল। তখন তার মা বলে, "এই বোকা, এখন আবার ঘুমাতে এলে কেন? দিন হয়ে গেছে না।" "না, মা, রাতে ঘুমাইনি। ৫দিন শুধু না ঘুমিয়ে কানধরে ওঠাবাসা করেছি। এখন ৫ দিন শুধু ঘুমাবো।" তখন তারা ঘুমাতে গেল। ঘুম থেকে উঠে তারা আর কোনদিন মায়ের কথা অমান্য করে না। মায়ের কথা তখন থেকে তারা মান্য করত। তার পর থেকে তাদের আর শাস্তি পেতে হয়নি। এবার তুমি পাবলিশ দাও।