এক শহরে থাকত এক মহিলা। তার ছিল দুই যমজ মেয়ে। একজনের নাম রজনী ও আরেকজনের নাম রঞ্জনা ছিল। আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে রজনী ও রঞ্জনা দুইজনেরই বিয়ের পর একই দিনে দুইজনেরই দুইটি যমজ মেয়ে হয়। রজনী ছিল খুব মিশুক। সে মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করতে খুব ভালোবাসতো। কিন্তু সে তার বন্ধুদেরকে কোন না কোন কিছু দিয়ে বন্ধুত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করত। কিন্তু সে গরীব কারো সাথে বন্ধুত্ব সহজে করত না। এককথায় বলতে গেলে সে কিছুটা স্বার্থপর ছিল। আর রঞ্জনা ছিল বেশ ঝগড়ুটে। সবার সাথে সারাদিন ঝগড়া করে কাটিয়ে দিত। তবে তার একটা কারণ আছে। সে একটা চাকরি করে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত। সে সকাল বেলা গেলেই তার বস তার সাথে রাগী কণ্ঠে কেন যেন কথা বলে। এমনিতেই তার সাথে কেন যেন রাগ দেখায়। আর একদিন লেট হলে তো কান আর ঠিক থাকবে না। কথা শুনতে শুনতে হয়তো কানটাই ঝালাপালা হয়ে যাবে। আর সবচেয়ে দু:খজনক বিষয়, একদিন থাকে weekend, আর সেইদিনই তার বস তাকে বাসায় ডাকে। এবং বাসায় ডেকে extra কাজ করায়। আর এক্সট্রা কাজ করার সময়ও হুটহাট ঝগড়া করে। তার বসের উপর তো রঞ্জনা রাগ ঝাড়তে পারে না। সে কারণে তার সমান বা ছোট পদের মানুষদের উপর সে রাগ ঝাড়ে। রজনীর দুটি মেয়ের নাম আনিলা ও অন্বেষা। রঞ্জনার দুটি মেয়ের নাম সায়মা ও সামিয়া। তবে মায়ের থেকে মেয়েগুলো একেবারে উল্টো হয়েছে। রজনীর মেয়েগুলো খুব ঝগড়ুটে। তবে তারা এমনিতেই ঝগড়ুটে। রঞ্জনার মেয়েগুলো ছিল মিশুক। একদিন আনিলা, অন্বেষা, সায়মা এবং সামিয়া সবাই স্কুলে গেল। আনিলা আর অন্বেষা যখন বেঞ্চে বসতে যাবে, তখন তারা ব্যাগ বেঞ্চে না রেখেই খেলতে চলে গেল। তারা ব্যাগ কাঁধে নিয়েই খেলতে লাগল। খেলায় এতই মজে গিয়েছিল তারা। তারা কিন্তু অনেক আগে স্কুলে এসেছে। সবার আগে। তারা ফাস্ট বেঞ্চে হাত রেখেছিল। মানে তারা ঐ বেঞ্চেই বসবে। কিন্তু যদি তারা ব্যাগ দিয়ে জায়গাটা দখল না করে, তাহলে অন্য কেউ তো বসতেই পারে। অন্য দিকে সামিয়া আর সায়মা দু'জন মিলে তাড়াতাড়ি করে তাদের ব্যাগ ফার্স্ট বেঞ্চে রেখে দিল। আনিলা, অন্বেষা, সামিয়া এবং সায়মা সবাই অনেকক্ষণ ধরে খেলতে লাগল। এর মধ্যে অন্যান্য অনেক বাচ্চারা আসল। তারা সবাই সেকেন্ড বেঞ্চ, থার্ড বেঞ্চ করতে করতে দশম বেঞ্চ পার করে ফেলল। এগারো নম্বর বেঞ্চে একটা ফেল্টুস মারা ছেলে বসেছে। তার পাশে কেউ বসে না। একেবারে পিছনে আছে বারো নম্বর বেঞ্চ। সেটি সবচেয়ে পিছনের বেঞ্চ। সেই বেঞ্চে বাধ্যতামূলক না হলে কক্ষণো কেউ বসে না। একটু পর আনিলা অন্বেষা এবং সায়মা সামিয়ারা ক্লাসে ঢুকলো। সায়মা এবং সামিয়া তো নিজেদের ব্যাগের পাশে বসেছে। আর তক্ষনি শিক্ষিকা ক্লাসে ঢুকলো। আনিলা এবং অন্বেষা দাঁড়িয়ে রইলো। তারা গিয়ে শিক্ষিকার কাছে সায়মা ও সামিয়ার নামে নালিশ করলো। তারা বলল, "ম্যাম! দেখুন, আমরা এখানে আগে এসেছি। সবার আগে ক্লাসে ঢুকেছি। এখন আমরা ফার্স্ট বেঞ্চে বসেছিলাম। তারপর আমরা খেলতে যাই। কিন্তু সায়মা এবং সামিয়া ফার্স্ট বেঞ্চে বসে যায় আমাদের না বসতে দিয়ে। এখন ১১ নং বেঞ্চ পর্যন্ত বসা হয়ে গেছে। ১২ নং বেঞ্চে আমরা কেন বসব? যখন আমরা সবার আগে আসি, তখন কেন ১২ নং বেঞ্চে বসতে হবে?" কিন্তু তারা ব্যাগের কথা কিছুই উল্লেখ করল না। যার কারণে টিচারও তাদের দলে গেল। টিচার বলল, "এই সায়মা এবং সামিয়া! তোমরা কিন্তু বড় অন্যায় করেছ। ওরা আগে এসেছে, তোমরা কেন ফার্স্ট বেঞ্চে বসতে চাচ্ছ?" সায়মা এবং সামিয়া ম্যামকে বলল, "ম্যাম! শুনুন। ওরা ক্লাসে ব্যাগ নিয়ে এসেছিল। ওদের কি করার কথা? ব্যাগটা ফার্স্ট বেঞ্চে রেখে খেলতে যাবে না? ওরা ব্যাগ কাঁধে নিয়েই খেলতে গেছে। তাই আমরা আমাদের ব্যাগটা ফার্স্ট বেঞ্চে রেখে ফার্স্ট বেঞ্চ দখল করেছি। এখন ওদেরকে তো ১২ নং বেঞ্চেই বসতে হবে। যদি আপনি বলেন, ওরা হয়তো বা ব্যাগ এনে রেখেছিল, আমরা সরিয়েছি, তাহলে এটা পুরো মিথ্যে। তার প্রমাণ হলো ওদের কাঁধেই এখনো ব্যাগ আছে। এবার আপনিই বিচার করুন।" ম্যাম বলল, "দুই দলের কথাই আমি শুনেছি। কিন্তু বিচারের জন্য আমার একজন নিরপেক্ষ সাক্ষী চাই।" সে তার ক্যাপ্টেনকে দাঁড় করালো। ক্যাপ্টেন বলল, "ম্যাডাম! সায়মা এবং সামিয়ারাই ঠিক কথা বলেছে।" ম্যাম আরো কিছু স্টুডেন্টকে জিজ্ঞেস করল। সবাই বলল, "সায়মা এবং সামিয়ারাই ঠিক বলছে।" আগেই বলা হয়েছিল, সামিয়া এবং সায়মারা মিশুক। ওরা মানুষের সাথে মিশতে ভালোবাসে। তারা প্রায় পুরো ক্লাসের সাথেই বন্ধুত্ব করেছিল। কিন্তু ক্যাপ্টেনের সাথে ভালোভাবে বন্ধুত্ব করতে পারেনি। ক্যাপ্টেন এমনিতেই সত্যি বলেছে। আর অন্যরা বুঝুক বা না বুঝুক, তাদের বন্ধু সায়মা এবং সামিয়াদের কথাই বলেছে।
Sunday, February 17, 2019
Monday, January 28, 2019
রূপালী ও তার ভাইয়েরা
এক ছিল এক পরিবার। সেই পরিবারে ছিল মা, বাবা, বড় দুই যমজ ভাই এবং ছোট এক বোন। তারা কিন্তু ছোট ছিল না। মা-বাবা একটু বৃদ্ধ ছিল। মানে ৪০/৫০ বছর। ছেলেগুলোর ১৮ বছর। এবং মেয়েটির ১৫ বছর। বড় ভাইগুলো অলস ছিল। ছোট মেয়েটি কাজ করতে পছন্দ করত। বড় দুই ভাইয়ের নাম ছিল জসিম এবং করিম। মেয়েটির নাম ছিল রূপালী। তাদের মা-বাবার একদিন কোন কারণ নিয়ে অনেক ঝগড়া হলো। ঝগড়া দিনে দিনে বাড়তেই থাকল। শেষে মা বলল, "থাকব না আর এই সংসারে। তুমি থাক তোমার বাচ্চাদের নিয়ে। আমি বাপের বাড়ি গিয়ে মা-বাবার সাথে সময় কাটাবো।" এই বলে মা সত্যি সত্যি তার বাড়ি চলে গেল। আর আসছে না। শেষে বাবাও বুঝে নিল, ও আর আসবে না। এবার আদালতে বাচ্চাদের জিজ্ঞেস করা হলো, "তোমরা কার সাথে থাকবে?" বড় দুই ভাই বাপের দলে ছিল। তাই তারা বাপের সাথেই থাকবে। মেয়েটি দু'জনকেই একেবারে সমান পছন্দ করতো। কিন্তু সে দেখল, তার বাবা ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, উল্টোপাল্টা করে। মা তো সব ঠিকভাবেই করতে পারে। আর তার বড় দুই ভাই উল্টোপাল্টাও না, একেবারে কিছুই করতে পারে না। তাই সে বাবা এবং তার ভাইদের পরিবারেই গেল। এভাবে দু'জন আলাদা হয়ে গেল। বড় হয়ে তাদের বাবা মারা গেল। এখন বড় ভাইগুলো তো কোন কাজই করতে চায় না। ছোট বোন রূপালী একদিন জসিম ও করিমকে বলল, "এই! তোমরা এমন কেন? টাকাও তো আয় করতে পার কোনভাবে। এত অলস কেন তোমরা? পড়ালেখা ভালোমতো কর না কেন? পড়ালেখা না করলে আমাকে সাহায্য করার জন্য মেয়েদের মত বাড়ির কাজও তো শিখতে পারতে। কি করবে? বাড়িতে কাজ করবে, নাকি পড়ালেখা করে চাকরি করবে? যেকোন একটা করতেই হবে।" জসিম বলল, "এই, আমরা তোর বড় না? এমন করে কথা বলছিস কেন? আচ্ছা, যা। আমি ও করিম চাকরি করতে পারব না। আমি শুনেছি, চাকরি করা খুব কঠিন। ভাত একটু দেরিতে খাওয়া হলে তেমন কিছু হবে না। কিন্তু অফিসের কাজ করতে একটু দেরি হলে অনেক কিছু হতে পারে। তাই আমি আর করিম বাড়িতেই বাড়ির কাজ করব।" রূপালী বলল, "এ আবার কেমন কথা? উল্টা হয়ে গেল না? উপার্জন তাহলে আমি করব? ঠিক আছে! তোমরা যখন চেয়েছ, তাই হবে। এমনিতেও পড়াশোনা আমার ভালো লাগে। তাই আমি চাকুরি করব। কিন্তু তোমরা যদি ঠিকমতো খাবার না দিয়েছ না, খবর আছে! এমনিতে কিন্তু এই দায়িত্ব নিয়েছ। যাই হোক, এই কথাই রইল।" করিম বলল, "ঠিক আছে! কোন সমস্যা না, তুই চাকরি করিস। আমরা তোর খাবার রেডি করে দেব। এরপর থেকে রূপালী পড়াশোনায় সব বোর্ডের পরীক্ষায় বৃত্তি পেতে লাগল। কিন্তু সে যে বৃত্তি পেয়েছে, সেটা সে কাউকে জানালো না। বরং এক জায়গায় লুকিয়ে রাখল। এরপর সে খুব ভালো রেজাল্ট করল। এবার চাকরির পালা। রূপালী সব সার্টিফিকেট দেখিয়ে অনেক বেতনের চাকরি পেল। কিন্তু তার নিয়ম হলো সাড়ে সাতটার ভিতরে অফিসে গিয়ে গোছগাছ করে বসে থাকতে হবে। টানেমানে হলেও অনুপস্থিতি ধরা হবে। এবং অনুপস্থিতি মানে একদিনের বেতন কাটা যাবে। তার বাড়ি থেকে অফিসে আসতে ২০ মিনিট সময় লাগে। তার মানে ৭:০০ টার আগেই বাড়ি থেকে বের হতে হবে। ঠিকঠাক মতো গোছগাছ করতে পারার জন্য ১০ থেকে ১৫ মিনিট তো লাগবেই। আবার দুপুর বেলা বাড়ি আসতে হবে। এসে ঐ জিনিসপত্রগুলো রেখে অন্য জিনিস নিয়ে আসতে হবে। কি মনে হচ্ছে? সব জিনিস একবারে এনে হোটেলে খেলেই তো হয়। কিন্তু জিনিসগুলোর পরিমাণ এত বেশি, এক ধরনের জিনিস নিতেই হাত ব্যথা হয়ে যায়। আবার বিকাল বেলা বাড়ি আসতে হবে। এসে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ফ্রি। কিন্তু আবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার সময় অফিসে অতিরিক্ত সময় অর্থাৎ ওভারটাইম করার ব্যবস্থা আছে। তবে সেটা করলেই ভালো। সে তার ভাইদেরকে গিয়ে পুরোটা খুলে বলল। এবং বলল, "সাড়ে ছয়টার মধ্যে খাবার যেন রেডি হয়। নইলে চাকরির দায়িত্ব কিন্তু তোমাদের দেব।" ভাইয়েরা বলল, "ঠিক আছে।" এই বলে তারা একটা বুদ্ধি বের করল। যাতে তাদের আর অত সকালে উঠতে না হয়। তারা সন্ধ্যা বেলায় আরামে-বিরামে ভাত রান্না করল। তাও আবার একজনের। কারণ, তারা বাসি ভাত খেতে চায় না। তারা ঐ ভাত পাশের বাড়ির ভালো ফ্রিজে রেখে আসল। এবং ঠিক করল, পরের দিন সকালে ঐ খাবার তারা টেবিলের উপর বোনের জন্য রেখে দেবে, আর সকাল দশটার সময় নিজেরা টাটকা ভাত রান্না করে খাবে। বোন যখন একটু পরেই উঠবে, তখন ভাই দুটো গিয়ে ভাতটা নিয়ে এসে টেবিলের উপর রাখল। এবং ঘুমিয়ে পড়ল। বোন সকাল বেলা উঠলো। এবং ভাইদেরকে ডেকে জিজ্ঞেস করল, "কিরে, খাবার কি তৈরি করেছিস? নাকি এমনি এমনি ঘুমোচ্ছিস?" করিম বলল, "বড় ভাইকে কেউ তুই বলে? তুই এমন করিস কেন? যা, দেখ, তোর খাবার টেবিলের উপর রাখা আছে।" এই বলে করিম আবার ঘুমিয়ে পড়লো। রূপালী ভাতটুকু মুখে দিল। এবং মনে মনে বলল, "ছি! খাবারটা এমন লাগছে কেন? টাটকা ভাত তো এমন লাগে না! আরো সুস্বাদু হওয়ার কথা। দাঁড়া, দেখাচ্ছি মজা! আমি তো আজকে শুধু প্রাকটিসের জন্য অফিসের কথা বলেছি। আসলে অফিস তো আগামী কালকে থেকে। দেখাই মজা।" এই বলে বোনটি ভালোমতোন ভাত রান্না করল। এবং নিজে ভালো ভাতটা খেয়ে নিল। এবং বাসি ভাত ভাইদের জন্য রেখে দিল। সে একটা কাগজের ভিতর লিখল, "জসিম এবং করিম ভাইকে রূপালী। এই ভাতটুকু তোমাদের জন্য উপহার। সময় বেঁচে গিয়েছিল তো, তাই।" এই লিখে সে কাগজটা প্লেটের পাশে রেখে অফিসের ব্যাগ আলমারির ভেতর ঢুকিয়ে রাখল। এবং গল্প করার জন্য তার বন্ধুর বাসায় বেড়াতে গেল। এবার জসিম ও করিমের শিক্ষা হবার পালা। তারা বোনের উপহার দেখে দারুন খুশি হলো। কিন্তু তারা দেখল, গরম ভাতের মত ধোঁয়া উড়ছে না। তাও তারা খেয়ে দেখবে বলে ঠিক করল। তাই তারা একটা লোকমা মুখে দিল। এবং বলল, "থু! এ আবার কেমন খাবার?" রান্নাঘরে শুধু একদিনের খাবারই রাখা ছিল। তাদের অফিসে আবার প্রথম দিন ওয়েলকাম ফি দেয়া হতো। মানে এমনি এমনি স্বাগতম জানানোর জন্য টাকা। বোন ভাবল, এই টাকা দিয়ে কয়েকদিন খাওয়া যাবে। তাই রান্নাঘরে অল্প খাবার ছিল। সবটুকুই রান্না শেষ। বোন ভালোটুকু রেঁধে খেয়ে চলে গেছে। আর বাসি ভাতটুকু তারা আগেই রেঁধেছে। এবার তাদের বাসি ভাত খাওয়া ছাড়া আর কোন উপায়ই নেই। তারা আরেকটু বাসি ভাত খেল। এরপর ঠিক করল, তারা আর খাবেই না। এভাবে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো। তারা না খেয়ে আছে। তারা ভাবল, এর চেয়ে সকালে সবার জন্য টাটকা ভাত রাঁধলেই ভালো হতো। বিকেল বেলাই বোন চলে আসল। ভাইয়েরা বলল, "কিরে? তুই আমাদের জন্য ভুয়া উপহার রেখে গেছিস? এ আবার কেমন কথা? তোকে কিন্তু মেরে ভর্তা করে দেব। আমাদের সাথে মশকরা হচ্ছে, না?" মেয়েটি বলল, "তোমরা কেন আমার জন্য বাসি ভাত রেখে গিয়েছিলে? আমি আমার বন্ধুর বাড়ি গিয়েছিলাম আসলে। তোমাদেরকে শিক্ষা দেবার জন্য। আমি আমার বান্ধবীকে কিছু টাকা ধার দিয়েছিলাম। সে আজ ফেরত দিয়েছে টাকা। তা দিয়ে চাল কিনে এনেছি। শিক্ষা হয়েছে তোমাদের? কথা দাও, আর কোনদিন এমন স্বার্থপরের মত কাজ করবে না। নইলে আমি কিন্তু যেই চাল এনেছি, তা থেকে তোমাদের দেব না।" এই কথা শুনে ভাইয়েরা কথা দিল। এবং বোনও তার চাকরি ভালোভাবে চালিয়ে যেতে লাগল। এখানে গল্প শেষ।
Thursday, January 10, 2019
** গোলাপীর মায়ের স্বপ্ন **
এক ছিল দুইজনের একটি গরীব পরিবার। মা ও মেয়ে। তারা খুব বেশি গরীব ছিল না। কিন্তু এই জীবনও ৮০% মানুষের কাছেই খারাপ লাগে। মেয়েটির নাম ছিল গোলাপী। গোলাপীর মা একদিন স্বপ্নে দেখল, একটা পরীর ডানা ছিঁড়ে গেছে। আর সে ছিল অন্য রকম এক জগতে। আর সেখানে গোলাপীর মাও আছে। পরীটি বলছিল, "বাঁচাও, আমি তো ডানা ছাড়া ভালো করে দাঁড়াতেই পারি না। ডানার উপর ভর করেই আমি দাঁড়াই। আর উড়তে তো পারবই না।" তখন গোলাপীর মা কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল, "আমি সাহায্য করতে পারি। কিন্তু কিভাবে আমি তোমাকে সাহায্য করব?" পরী বলল, "আমার তো মনে হচ্ছে তুমি পৃথিবী থেকেই এসেছ। ঘুমের মাধ্যমেই পৃথিবীর মানুষেরা এই দেশে আসতে পারে। শুধুমাত্র পৃথিবীর সুপার গ্লু দিয়েই আমার ডানা লাগানো যাবে। তুমি কি আবার ঘুম ভেঙ্গে তোমার দেশে গিয়ে একটা সুপার গ্লু কিনতে পারবে? যদি তুমি সেটা তোমার পাশে রেখে দুইদিন ঘুমাও, যেকোন একদিন তুমি আবার আমার কাছে আসতে পারবে। তখন আমাকে সুপার গ্লু টা দিও। তাহলে তোমাকেও আমি পুরষ্কার দেব।" গোলাপীর মা "ঠিক আছে" বলে তার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। সকাল বেলা সে ঘুম থেকে উঠল। তার স্বপ্নের কথা মনেই আছে। সুপার গ্লু না কিনলে যেন তার অন্য কাজে মনই বসছে না। তার কাছে যা টাকা ছিল, তা দিয়ে সে ছোট এক বোতল সুপার গ্লু কিনতে পারল। এবং সে অন্য কাজে মন দিতে পারল। এবার সে যখন সেইদিন রাতে ঘুমালো, সেদিন সে কিছুই দেখতে পেল না। পরের দিন রাতে যখন সে ঘুমালো, সে আবার ঐ পরীর সাথে দেখা করতে পারল। সেই পরী বললো, "তোমার হাতেই তো সুপার গ্লু। আমাকে দাও, আমি আমার ডানায় লাগিয়ে আবার ঠিক হয়ে যেতে পারব। কালকে আমি আসতে পারিনি। আজ আমি এসেছি। এবার আমাকে সুপার গ্লুটা দাও।" গোলাপীর মা পরীকে সুপারগ্লুটা দিল। পরী সুপারগ্লু দিয়ে ডানা লাগাতেই পরীকে আরো বেশি ঝলমলে দেখাতে লাগলো। কারণ, সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। সে গোলাপীর মাকে বলল, "তোমাকে আমি পাঁচটা অপশন দেব। সেখান থেকে যেকোন একটা বেছে নেবে। এবং সেটাই হবে তোমার পুরস্কার। কিন্তু অনেকেই কিন্তু এটা ওটা প্রশ্ন করবে। তুমি যেটাই বেছে নাও না কেন, তোমার মেয়ে ছাড়া আর কাউকেই তুমি আমি যে এটা দিয়েছি সেটা বলতে পারবে না। যদি বল, তাহলে কিন্তু আমি উপহার ফিরিয়ে নেবো। আর তোমার মেয়েও যেন কাউকে কিছু না বলে। প্রথমটা হলো, তোমরা জমিদারের মত ধনী হবে, কিন্তু কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে এটা ওটা বলে সামলে নিতে হবে। দ্বিতীয়টা হলো, তোমাদের ঘর যেমন আছে তেমই থাকবে, কিন্তু তোমাদের ঘরের পাশে যেই বাগান আছে সেই বাগানে অনেক স্বর্ণমুদ্রা তুমি পাবে। এক কোটির মত স্বর্ণমুদ্রা পাবে, কিন্তু সবগুলো থাকবে মাটির নিচে। নিজে খুঁড়ে খুঁড়ে সেই মুদ্রা বের করতে হবে, কারো সাহায্য নেয়া যাবে না, এমনকি তোমার মেয়েরও না। তৃতীয় হলো, তোমরা যেমন আছ তেমনই থাকবে, কিন্তু সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে টেবিলের উপর অনেক খাবার ও সেই দিনের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা-পয়সা পাবে। কিন্তু এটার একটা শর্ত আছে যে, দিনের টাকা দিনেই খরচ করতে হবে। আর যদি কিছু বেঁচে যায়, সৎভাবে তুমি প্রয়োজনের বেশি টাকা খরচ না কর, তাহলে তা টেবিলের উপর রেখে দেবে। সেটা উধাও হয়ে গিয়ে পরের দিনেরটা আবার আসবে। তিন নম্বর অপশনটির কিন্তু একটু এদিক ওদিক হলেই হারিয়ে ফেলবে তুমি তোমার পুরস্কার। চতুর্থটি হলো, তুমি যে কাজ করতে চাও, তা হাত দিয়ে ইশারা করলেই হয়ে যাবে। কিন্তু কাজই শুধু করে দেয়া হবে। আর এই ক্ষমতা তুমি চুরি-ডাকাতি বা কোন অন্যায় কাজে ব্যবহার করতে পারবে না। আর কাজ করার জিনিস কিন্তু থাকতে হবে। শুধু বললেই হবে না যে, আমার বাড়িটা সোনার করে দাও, যত সোনা প্রয়োজন তত সোনা থাকতে হবে। এতে শুধু তোমার পরিশ্রমটা বাঁচবে। আর পঞ্চমটা হলো, তুমি এবং তোমার মেয়ের কখনো কোন অসুখ-বিসুখ হবে না। কিন্তু যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, কেন অসুখ হয় না, তাহলে যদি তুমি আমার কথা বল, তাহলে এই সময়টাতে যত রোগ-ব্যাধি হওয়ার কথা ছিল, সব একবারে হওয়া শুরু হবে। অতএব, সাবধান। এবার তুমি বল, তুমি কোনটা নেবে? যেটা নেবে, ভেবেচিন্তে নিও।" গোলাপীর মা বলল, "আমি তো চিন্তায় পড়ে গেলাম। প্রথমটা নিলে জমিদার হব, কিন্তু কেউ প্রশ্ন করলে তার উত্তর বানাবো কি করে? দ্বিতীয়টা নিলে পরিশ্রম করতে করতে অসুস্থই হয়ে যাব। তৃতীয়টা নিলে আমার মতে ভালো হবে। চতুর্থটা নিলে জিনিসপত্র যোগাড় করা কঠিন হবে। পঞ্চমটা নিলে যদি কেউ মুখ ফসকে কিছু বলে ফেলি, তো সর্বনাশ! আমি তৃতীয়টাই নেব।"
একটু পর গোলাপীর মায়ের ঘুম ভাঙলো। গোলাপীকে সে কানে কানে সব বললো। গোলাপী বলল, "ধূত্তুরি! স্বপ্ন সত্যি হবে নাকি? কিযে বলো!" গোলাপীর মা বলল, "তাহলে সুপার গ্লুটা গেল কোথায়?" এরপর গোলাপী কিছুটা বিশ্বাস করল। আর তারা দু'জন রাত্রেবেলা ঘুমাতে গেল। সকাল বেলা উঠে দেখল, টেবিলের উপর রেডিমেড খাবার এবং কিছু টাকা রাখা আছে। তাও আবার ২০ স্বর্ণমুদ্রা। তারা ১০ স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে যত ভালো জিনিস পারল, কিনল আর আনন্দ করল। কিন্তু যা বেঁচে গেল, গোলাপী লুকিয়ে লুকিয়ে তা নিজের কাছে রেখে দিল। সে ভাবল, হয়তো মা নিজেই কোনভাবে এসব জিনিস টেবিলে রেখে দিয়েছে, আর আমাকে বোকা বানাচ্ছে। এবার দেখি, মা কি বলে। পরী তো খুব রেগে গেল। সেদিন রাতে গোলাপীর মা স্বপ্নে দেখল, সেই পরী আবার এসেছে। সে বলল, "আমি দু:খিত। তুমি তোমার জিনিস সামলে রাখতে পারনি। তাই আমি উপহার ফিরিয়ে নিচ্ছি। তুমি তোমার মেয়েকে জিজ্ঞেস কর, কেন? বিদায়।" এই বলে পরী চলে গেল এবং স্বপ্নও শেষ হয়ে গেল। গোলাপীর মা উঠে দেখল, টেবিল খালি। এবং গোলাপী মুচকি মুচকি হাসছে। সে তো ভীষণ রেগে গেল। মেয়েকে বলল, "এই! সত্যি করে বল, তুই কি করেছিস? আর বাকি ১০টি মুদ্রা কোথায় গেল? এক্ষুণি বল।" গোলাপী বলল, "কী যে বল না মা, আমি কি করে জানব?" এই বলে গোলাপী ভুলে মুচকি হেসে ফেলল। মা তো ভীষণ রেগে গেল। রেগে গিয়ে বলল, "সত্যি করে বল্, নাহলে জীবনেও তোকে আর কোন কিছু জানাবো না। তুই কিছু চাইলেও কিছু দেব না। বল্ তাড়াতাড়ি!" গোলাপী মায়ের চোখ রাঙানো মুখ দেখে সত্যিটা বলে দিল। গোলাপীর মা তো গোলাপীর গালে ঠাস করে একটা চড় মারলো। আর তাকে অনেক বকাবকি করল। এবং রাগ হয়ে তার সাথে সেদিন আর কথাই বলল না। রাতে যখন গোলাপীর মা ঘুমোলো, সে বারবার চেষ্টা করছিল পরীর সাথে আলাপ করতে। শেষমেষ সে দেখা পেল পরীর। সে পরীকে বলল, "আমি খুবই দু:খিত। আমার এই মেয়ের দুষ্টুমি বুদ্ধির কারণেই আজ এতবড় ক্ষতি হলো। যাই হোক, আমি তো একটু বাড়িয়ে বলতে গেলে তোমার প্রাণই বাঁচিয়ে দিয়েছি। নাহলে তো তুমি আধামরা হয়েই পড়ে থাকতে। আমাকে কি আরেকটা সুযোগ দেয়া যাবে?" পরী বলল, "ঠিক আছে। এবার তুমি তৃতীয় অপশন বাদে বাকিগুলো থেকে যেকোন একটা বেছে নাও। এবং তোমার মেয়েকে আরো বেশি সাবধান হতে বল। আর তুমি নিজেও সাবধান থেকো।" গোলাপীর মা বলল, "এবার বরং আমি দ্বিতীয়টাই বেছে নেই। যাই হোক, পরিশ্রমের অভ্যাস তো তাহলে থাকবে। খারাপ কি? আমি এটাই বেছে নিলাম। আর পরী! তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।" সকাল বেলা উঠে গোলাপীর মা সোজা বাগানে গেল। এবং মাটি খুঁড়তে শুরু করল। তিন সেকেন্ডেই সে একটা মুদ্রা পেল। এবং সেটা সে একটা ঝুড়ির মধ্যে রাখল। খুঁড়তে খুঁড়তে ১০০টা সে খুঁড়ল। এবং খুঁড়ে ঝুড়িটা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মোহরগুলো রেখে আসল। সে আবার এসে ২০০টা পেল। এভাবে ৩০০ টা পেল। এবার সে এত হাঁপিয়ে গিয়েছে, সে ভুলে তার মেয়েকে ডেকে নিয়ে এসে বলল, "তুইও একটু খুঁড়ে দে না, মা! হাতটা ব্যথা হয়ে গেছে। একটু খুঁড়ে দাও।" মেয়েটা রাজি হয়ে খুঁড়তে থাকল। কিন্তু মেয়েটা যত খুঁড়ল, আর পেল না। সে রেগে গিয়ে কুড়ালটা হাত থেকে মাটিতে ফেলে দিল। সে মাকে বলল, "তুমি এমন কর কেন? পাগলামির মত কর! আমাকে আবার বোকা বানানো হচ্ছে! একেকদিন একেক গল্প শোনাও! রাখ তো।" এই বলে মেয়ে ঘরে চলে গেল। মায়ের এত ক্লান্তি লাগছিল, সে ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুমিয়ে স্বপ্নে দেখল, পরী এসে বলছে, "দু:খিত। তুমি আবার ভুল করেছ। এবং এবার তোমার নিজের ভুল। অতএব, আর তোমাকে সুযোগ দেয়া যাবে না। তুমি এত বড় ভুল কি করে করলে? ঠিক আছে, এবার তুমি তোমার শাস্তি ভোগ কর।" এই বলে পরী চলে গেল।
গোলাপীর মায়ের যখন ঘুম ভাঙলো, তখন সে নিজেকে দোষী ভাবতে লাগল। এবং আবার পরীর দেখা পেতে চাইল। এই আশায় সে আবার ঘুমালো, কিন্তু পরীর দেখা পেল না। সে রাত্রেবেলা যখন ঘুমালো, তখন সে ঝাপসা ঝাপসা পরীর মুখ দেখতে পেল। এবং পরী তার দিকে রাগের চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে। গোলাপীর মা বলল, "দয়া কর। আমাকে আরেকটা সুযোগ দাও। আর সুযোগ চাইব না। বাকি তিনটা থেকে কি আমি আর বেছে নিতে পারি? বল না!" পরী রাগ হয়ে বলল, "তোমার আচরণগুলো কিন্তু আমার অসহ্য লাগছে। স্বপ্নে যে তুমি আমার সাথে দেখা করতে পেরেছ এবং স্বপ্নের উপহার বাস্তবে পাচ্ছ, এটা তো কত বড় সৌভাগ্য! আর তুমি প্রথম সুযোগ হাতছাড়া করে দ্বিতীয় সুযোগও হাতছাড়া করলে? আমি জানি, এরপর তুমি যেটাই বাছবে, সেটাও হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। অতএব, আমি নিজেই তোমার জন্য একটা বেছে দিচ্ছি। তুমি জমিদার হওয়ারটাই বেছে নাও। আর তুমি গোলাপীকেও আসল কথাটা জানিও না। তুমি তাকে বলো, এবার তুমি স্বপ্নে দেখেছ যে, তুমি অনেক বড়লোক হয়েছো, কারণ, তোমার মেয়ে জীবনে অনেক ভালো কাজ করেছে। কী সুন্দর, কত সত্য কথা বলেছে! অনেক কিছু করেছে। তুমি আবার ব্যঙ্গ করার স্বরে এসব বলো না। নাহলে আরেকটু চাপা মারার চেষ্টা করো। তোমার মেয়ে যা আমি তো জানতাম না। এবার না বুঝেছি, তোমার মেয়ে কেমন। ঠিক আছে? আসি। এবার স্বপ্নে আমাকে ডাকলেও আমি আর সাড়া দেব না। কিন্তু যদি তুমি শুধু ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য ডাক, তাহলে আমি শুধু এসে দেখা করে চলে যাব, আর জীবনেও আসব না। কারণ, তোমাদের আচরণ আমার ভালো লাগেনি।" এবার মা পরীর কথা অনুযায়ী সব কাজ করল। এবার মেয়েও যদি কাউকে কিছু বলে দেয়, তাহলেও পরী আর এই উপহার ফিরিয়ে নেবে না। কারণ, সে তো মিথ্যা কথাই মানুষকে বলবে। এরপর থেকে তারা জমিদারের জীবন কাটিয়েই সুখে-শান্তিতে বাস করতে লাগল। তবে এটা কিন্তু কাল্পনিক।
একটু পর গোলাপীর মায়ের ঘুম ভাঙলো। গোলাপীকে সে কানে কানে সব বললো। গোলাপী বলল, "ধূত্তুরি! স্বপ্ন সত্যি হবে নাকি? কিযে বলো!" গোলাপীর মা বলল, "তাহলে সুপার গ্লুটা গেল কোথায়?" এরপর গোলাপী কিছুটা বিশ্বাস করল। আর তারা দু'জন রাত্রেবেলা ঘুমাতে গেল। সকাল বেলা উঠে দেখল, টেবিলের উপর রেডিমেড খাবার এবং কিছু টাকা রাখা আছে। তাও আবার ২০ স্বর্ণমুদ্রা। তারা ১০ স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে যত ভালো জিনিস পারল, কিনল আর আনন্দ করল। কিন্তু যা বেঁচে গেল, গোলাপী লুকিয়ে লুকিয়ে তা নিজের কাছে রেখে দিল। সে ভাবল, হয়তো মা নিজেই কোনভাবে এসব জিনিস টেবিলে রেখে দিয়েছে, আর আমাকে বোকা বানাচ্ছে। এবার দেখি, মা কি বলে। পরী তো খুব রেগে গেল। সেদিন রাতে গোলাপীর মা স্বপ্নে দেখল, সেই পরী আবার এসেছে। সে বলল, "আমি দু:খিত। তুমি তোমার জিনিস সামলে রাখতে পারনি। তাই আমি উপহার ফিরিয়ে নিচ্ছি। তুমি তোমার মেয়েকে জিজ্ঞেস কর, কেন? বিদায়।" এই বলে পরী চলে গেল এবং স্বপ্নও শেষ হয়ে গেল। গোলাপীর মা উঠে দেখল, টেবিল খালি। এবং গোলাপী মুচকি মুচকি হাসছে। সে তো ভীষণ রেগে গেল। মেয়েকে বলল, "এই! সত্যি করে বল, তুই কি করেছিস? আর বাকি ১০টি মুদ্রা কোথায় গেল? এক্ষুণি বল।" গোলাপী বলল, "কী যে বল না মা, আমি কি করে জানব?" এই বলে গোলাপী ভুলে মুচকি হেসে ফেলল। মা তো ভীষণ রেগে গেল। রেগে গিয়ে বলল, "সত্যি করে বল্, নাহলে জীবনেও তোকে আর কোন কিছু জানাবো না। তুই কিছু চাইলেও কিছু দেব না। বল্ তাড়াতাড়ি!" গোলাপী মায়ের চোখ রাঙানো মুখ দেখে সত্যিটা বলে দিল। গোলাপীর মা তো গোলাপীর গালে ঠাস করে একটা চড় মারলো। আর তাকে অনেক বকাবকি করল। এবং রাগ হয়ে তার সাথে সেদিন আর কথাই বলল না। রাতে যখন গোলাপীর মা ঘুমোলো, সে বারবার চেষ্টা করছিল পরীর সাথে আলাপ করতে। শেষমেষ সে দেখা পেল পরীর। সে পরীকে বলল, "আমি খুবই দু:খিত। আমার এই মেয়ের দুষ্টুমি বুদ্ধির কারণেই আজ এতবড় ক্ষতি হলো। যাই হোক, আমি তো একটু বাড়িয়ে বলতে গেলে তোমার প্রাণই বাঁচিয়ে দিয়েছি। নাহলে তো তুমি আধামরা হয়েই পড়ে থাকতে। আমাকে কি আরেকটা সুযোগ দেয়া যাবে?" পরী বলল, "ঠিক আছে। এবার তুমি তৃতীয় অপশন বাদে বাকিগুলো থেকে যেকোন একটা বেছে নাও। এবং তোমার মেয়েকে আরো বেশি সাবধান হতে বল। আর তুমি নিজেও সাবধান থেকো।" গোলাপীর মা বলল, "এবার বরং আমি দ্বিতীয়টাই বেছে নেই। যাই হোক, পরিশ্রমের অভ্যাস তো তাহলে থাকবে। খারাপ কি? আমি এটাই বেছে নিলাম। আর পরী! তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।" সকাল বেলা উঠে গোলাপীর মা সোজা বাগানে গেল। এবং মাটি খুঁড়তে শুরু করল। তিন সেকেন্ডেই সে একটা মুদ্রা পেল। এবং সেটা সে একটা ঝুড়ির মধ্যে রাখল। খুঁড়তে খুঁড়তে ১০০টা সে খুঁড়ল। এবং খুঁড়ে ঝুড়িটা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মোহরগুলো রেখে আসল। সে আবার এসে ২০০টা পেল। এভাবে ৩০০ টা পেল। এবার সে এত হাঁপিয়ে গিয়েছে, সে ভুলে তার মেয়েকে ডেকে নিয়ে এসে বলল, "তুইও একটু খুঁড়ে দে না, মা! হাতটা ব্যথা হয়ে গেছে। একটু খুঁড়ে দাও।" মেয়েটা রাজি হয়ে খুঁড়তে থাকল। কিন্তু মেয়েটা যত খুঁড়ল, আর পেল না। সে রেগে গিয়ে কুড়ালটা হাত থেকে মাটিতে ফেলে দিল। সে মাকে বলল, "তুমি এমন কর কেন? পাগলামির মত কর! আমাকে আবার বোকা বানানো হচ্ছে! একেকদিন একেক গল্প শোনাও! রাখ তো।" এই বলে মেয়ে ঘরে চলে গেল। মায়ের এত ক্লান্তি লাগছিল, সে ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুমিয়ে স্বপ্নে দেখল, পরী এসে বলছে, "দু:খিত। তুমি আবার ভুল করেছ। এবং এবার তোমার নিজের ভুল। অতএব, আর তোমাকে সুযোগ দেয়া যাবে না। তুমি এত বড় ভুল কি করে করলে? ঠিক আছে, এবার তুমি তোমার শাস্তি ভোগ কর।" এই বলে পরী চলে গেল।
গোলাপীর মায়ের যখন ঘুম ভাঙলো, তখন সে নিজেকে দোষী ভাবতে লাগল। এবং আবার পরীর দেখা পেতে চাইল। এই আশায় সে আবার ঘুমালো, কিন্তু পরীর দেখা পেল না। সে রাত্রেবেলা যখন ঘুমালো, তখন সে ঝাপসা ঝাপসা পরীর মুখ দেখতে পেল। এবং পরী তার দিকে রাগের চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে। গোলাপীর মা বলল, "দয়া কর। আমাকে আরেকটা সুযোগ দাও। আর সুযোগ চাইব না। বাকি তিনটা থেকে কি আমি আর বেছে নিতে পারি? বল না!" পরী রাগ হয়ে বলল, "তোমার আচরণগুলো কিন্তু আমার অসহ্য লাগছে। স্বপ্নে যে তুমি আমার সাথে দেখা করতে পেরেছ এবং স্বপ্নের উপহার বাস্তবে পাচ্ছ, এটা তো কত বড় সৌভাগ্য! আর তুমি প্রথম সুযোগ হাতছাড়া করে দ্বিতীয় সুযোগও হাতছাড়া করলে? আমি জানি, এরপর তুমি যেটাই বাছবে, সেটাও হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। অতএব, আমি নিজেই তোমার জন্য একটা বেছে দিচ্ছি। তুমি জমিদার হওয়ারটাই বেছে নাও। আর তুমি গোলাপীকেও আসল কথাটা জানিও না। তুমি তাকে বলো, এবার তুমি স্বপ্নে দেখেছ যে, তুমি অনেক বড়লোক হয়েছো, কারণ, তোমার মেয়ে জীবনে অনেক ভালো কাজ করেছে। কী সুন্দর, কত সত্য কথা বলেছে! অনেক কিছু করেছে। তুমি আবার ব্যঙ্গ করার স্বরে এসব বলো না। নাহলে আরেকটু চাপা মারার চেষ্টা করো। তোমার মেয়ে যা আমি তো জানতাম না। এবার না বুঝেছি, তোমার মেয়ে কেমন। ঠিক আছে? আসি। এবার স্বপ্নে আমাকে ডাকলেও আমি আর সাড়া দেব না। কিন্তু যদি তুমি শুধু ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য ডাক, তাহলে আমি শুধু এসে দেখা করে চলে যাব, আর জীবনেও আসব না। কারণ, তোমাদের আচরণ আমার ভালো লাগেনি।" এবার মা পরীর কথা অনুযায়ী সব কাজ করল। এবার মেয়েও যদি কাউকে কিছু বলে দেয়, তাহলেও পরী আর এই উপহার ফিরিয়ে নেবে না। কারণ, সে তো মিথ্যা কথাই মানুষকে বলবে। এরপর থেকে তারা জমিদারের জীবন কাটিয়েই সুখে-শান্তিতে বাস করতে লাগল। তবে এটা কিন্তু কাল্পনিক।
Wednesday, December 12, 2018
এক লোক ও কুমির
একদিন এক লোক নদীতে গোসল করছিল। হঠাৎ এক কুমির তাকে ধাওয়া করলো। সে বুঝতে পারছিল না যে, কী করবে। এরপর সে তার সামনে একটি লম্বা দড়ি দেখতে পেল। সে প্রায় নদীর তীরে পৌঁছে গিয়েছিল। সে ভালো ঘাট থেকে নেমেছিল। কিন্তু এখন কাছাকাছি কাদা মাখানো ঘাট ছাড়া কিছুই নেই। তাই সে সহজে উঠতে পারছিল না। নদীর তীরে এক মূর্তি বিক্রেতা বসে ছিল। সে খুব স্বার্থপর ছিল বলে সে নিজের প্রাণ হাতে নিয়ে কিছুতেই লোকটিকে কুমির থেকে বাঁচালো না। লোকটি সামনে থাকা দড়িটি মূর্তি বিক্রেতার সবচেয়ে বড় মূর্তির দিকে ছুঁড়ে মারল। ফলে ঐ মূর্তিটি এসে কুমিরের উপরে পড়ল। কুমিরটির উঠে যেতে অনেক সময় লাগবে। ততক্ষণে লোকটি উঠে যাবে। কিন্তু একা সেই কাজ করা কঠিন। সে মূর্তি বিক্রেতাকে সাহায্য করতে অনুরোধ করলো। কিন্তু ভয়ে মূর্তি বিক্রেতা সাহায্য করলো না। ভাগ্য ভালো সেখান দিয়ে এক ভালো মানুষ যাচ্ছিলেন। ভালো মানুষটি দৌড়ে গিয়ে সাহায্য করলেন। শেষে লোকটি উঠে আসলো। তারপর থেকে সবাই ঐ ভালো মানুষটিকে হিরো বলতো। আর ঐ মূর্তি বিক্রেতা আফসোস করতে লাগল যে, তখন যদি লোকটিকে বাঁচানোর জন্য যেতাম, তো হিরো হতে পারতাম! এখন আমার মূর্তিও নেই। মূর্তি যদি ফেরত চাই তো তারা বলবে, "তুমি লোকটিকে বাঁচাওনি, অথচ তুমি সবার আগে দেখেছ। দ্বিতীয় বার কিছুটা সুরক্ষিত হওয়ার পরেও তুমি সাহায্য করনি। এখন আবার মূর্তি চাও, ছি!"
Thursday, November 1, 2018
কাঠুরের ছেলে ও সাধুবাবা
এক ছিল এক কাঠুরে। তার ছিল এক ছেলে। কাঠুরে রোজ রোজ ভালোমতনই কাঠ পেত। তার ছেলেকে সে অনেকবার বলেছে কাঠ কাটা শিখতে, কিন্তু তার ছেলে কাঠ কাটতে কিছুতেই চায় না। একদিন ছেলেটি বাইরে খেলছিল। হঠাৎ বৃষ্টি নামল। তার বন্ধুদের বাড়ি মাঠ থেকে খুবই কাছে ছিল। তাই তার বন্ধুরা দৌড়ে বাড়ি চলে গেল। কিন্তু ঐ ছেলেটি দৌড় দিতে না দিতেই তার দেখা হলো এক সাধুবাবার সাথে। সে বলল, "এই! আমাকে তোমার বাড়িতে এই বৃষ্টি না যাওয়া পর্যন্ত কিছুক্ষণ আশ্রয় দিলে আমি তোমায় কিছু উপকারী উপদেশ দেব।" ছেলেটি সাধুবাবাকে ঘরে নিয়ে গেল। আর সাধুবাবা বলল, "শোন! আমি যেই কথাগুলো বলব, সেগুলো খুব উপকারী। সেগুলো মেনে চললে একদিন তুমি সুখী হবে। শোন তবে। তুমি বাবার সাথে কাঠ কাটা শেখ। নইলে তুমি পরে বিপদে পড়বে।" একটু পর বৃষ্টি থামল। সাধুবাবা চলে গেল। কিন্তু ছেলেটি সাধুবাবার কথায় দামই দিল না। বাবা যতই তাকে বলে, সে কাঠ কাটতে যায় না। হঠাৎ একদিন তার বাবা মারা গেল। তার মা তাকে খুব বকল। বলল, "এখন কে কাঠ এনে দেবে? কত করে বললাম, বাবার সাথে কাঠ কাটা শেখ্, তা তো শুনলিই না। এমন করে বলে উড়িয়ে দিস না যে, কাঠ কাঠতে কে না পারে! কাঠ কাটারও কৌশল আছে। কোনমতে কাঠ কাটলে কি আর সংসার ভালমত চলে?" এভাবে মা তাকে বকতেই থাকল। ছেলেটির কান ঝালাপালা হয়ে গেলে সে মাঠে খেলতে চলে গেল। আগের বারের মতই এবারও একই ঘটনা ঘটল। বৃষ্টি নামল, সাধুবাবার সাথে দেখা হলো, সাধুবাবা ঘরে আশ্র্রয় চাইল। ছেলেটি আগের মতই সাধুবাবাকে ঘরে নিয়ে এল। সাধুবাবাকে দেখে মায়ের পকপক করা কিছুটা থামল। সাধুবাবা ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করল, "তুমি কি আমার উপদেশ মেনেছ? এখন কিন্তু বিপদে পড়বে।" ছেলেটি বলল, "না। আমি তা করিনি। কারণ, আমার তা করতে ভালো লাগে না। এখন বুঝতে পারছি যে, ভুল করেছি। কিন্তু এখন কি করব?" সাধুবাবা বলল, "শোননি তো! তাহলে এখনকার উপদেশগুলো শোন, আর কথামত কাজ কর। তুমি যেমন পার, সেভাবে কাঠ কাটতেই থাক, কাটতেই থাক। একদিন না একদিন দেখবে, ভালো কিছু একটা ঘটবেই। ছোটখাটো ভালো জিনিস নয়, দারুন জিনিস ঘটবে। ঐ তো বৃষ্টি থেমে গেছে। উপদেশগুলো শুনো কিন্তু। আমি যাচ্ছি।" এই বলে সাধুবাবা চলে গেল। কিন্তু এবার আর ছেলেটি আগের ভুল করল না। সে কাঠ কাটতেই থাকল। এক বছর হয়ে গেল কাঠ কাটতে কাটতে, কিন্তু কিছুই হলো না। ছেলেটি অধৈর্য্য হয়ে গিয়ে বলল, "কাল আমি কাঠ কাটতে যাব না। ধুত, ছাই! আমি কাঠ কাটতেই পারি না, কোনমতে কাঠ কেটে পান্তাভাত খেয়ে দিন কাটাই, ভাল্লাগে না। ভালো জিনিসটা কবে হবে? কাল আমি যাবই না।" এই বলে সে পরের দিনটা গেল না। তার পরের দিন সে খবর পেল, আর একজন লোক গাছ কাটতে গিয়ে গাছের মধ্যে এক পুটলি সোনার মোহর অর্থাৎ একশ স্বর্ণমুদ্রার একটা পুটলি পেল। ছেলেটি বলল, "হায়রে কপাল! কেন যে সেদিন গেলাম না? এখন থেকে প্রত্যেকদিনই আমি গাছ কাটব।" পরের বছর সে ভাবল, "এবার আর আগের ভুল করা যাবে না। দেখি, কিছু পাই কিনা।" কিন্তু সে কিছুই পেল না। পরের বছর সে এইজন্য আবার আগের ভুলটাই করল। আর সে সময়ও একই ভাবে আরেকজন লোক মোহর পেল। তিন বার একই ঘটনা ঘটল। বৃষ্টি হলো, ছেলেটি আর দৌড়াদৌড়ি খেলতে মাঠে যায় না। তাই তাদের ঘরেই সাধুবাবা এল। এসে সে আশ্রয় চাইল। সাধুবাবাকে তারা আশ্রয় দিল। সাধুবাবা বলল, "তুমি অনেকবার মিস করেছ। কেন এমন কর? আমার নির্দেশ মান না জন্যই তো এরকম হয়। এবার থেকে বলছি, কোন বছরই একটা দিনের জন্যও তুমি কাঠ কাটা বাদ দেবে না। আর যদি মোহর পাও, তাহলে সাথে সাথেই তা খেয়ে উড়িয়ে দেবে না। ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে রাখবে। তারপর একদিন দেখবে, সেই টাকা দিয়ে তুমি অনেক কিছু করতে পারছ।" এবারও বৃষ্টি থামল উপদেশ দেয়ার পরপর। সাধুবাবা চলে গেল। এখন থেকে ছেলেটি প্রত্যেকদিন কাঠ কাটে। আর প্রতি বছর একশ মোহর পায়। জমিয়ে রাখতে রাখতে একদিন সে দেখল, অনেক টাকা হয়েছে। প্রায় পাঁচশত মোহর, যা বর্তমান বাংলাদেশী মুদ্রায় পাঁচ কোটি টাকার সমান। এবার তারা বড় একটা বাড়ি বানালো। আর ছেলেটি বড় চাকুরির পরীক্ষায় পাস করে চাকুরি পেল।যার মাসিক বেতনই ৩০ হাজার আর এক্সট্রা ডিউটির জন্য ৫ হাজার টাকা। যদিও ছেলেটি অনেক কিছু মিস করেছে, সাধুবাবার শেষ কথা মানার জন্য এখন সে সুখী।
Thursday, October 11, 2018
Re-Use
এক ছিল একটি মেয়ে। তার বাবা বিদেশে ব্যবসা করত। তার মা আর সে একটি ছোট বাড়িতে থাকত। বাবা বছরের শেষে অনেক টাকা নিয়ে আসত। কিন্তু পুরোটা দিত না। কারণ, একবার দিয়ে সে দেখেছে, পুরো টাকাই উধাও হয়ে গিয়েছে আজেবাজে খরচে। সেজন্য এখন আর পুরোটা দেয় না। এই বছরে বাবা ফিরে এল। টাকা দিয়ে খাবার-দাবার কিনে ভালমতই খাওয়া-দাওয়া করল। মেয়ের পড়াশুনার জন্য বাবা কিছু টাকা দিয়ে গেল। প্রতি মাসের বেতন আলাদা ভাগে আর বই-খাতা কেনার খরচ আরেক ভাগে করে দুই ভাগে টাকা ভাগ করল। আর সেগুলো ধরিয়ে দিয়ে গেল। তার সাথে খাওয়ার খরচও দিয়ে গেল। এবার বাবা তাদের বিদায় জানিয়ে বিদেশে আবার ব্যবসায় ফিরে গেল। কিন্তু বই-খাতা কেনার টাকা যথেষ্ট ছিল না। বাবাকে আরও টাকা দিতে বলায় সে খাতাগুলো reuse করতে বলল। মেয়েটি স্কুলে যাওয়া পরের বছর থেকে শুরু করল। ছয় মাস যাওয়ার পর সব খাতায় লেখা শেষ হয়ে গেল। কেউ ওর মত চিপিয়ে না লিখলে এক মাসেই সব খাতা শেষ হয়ে যেত। কিন্তু বছরের তো আরো ছয় মাস বাকি আছে। তাতে কিভাবে লেখা হবে? সে বুঝতেই পারছিল না। সে এক কাজ করল। সবথেকে পুরনো খাতার পৃষ্ঠাগুলো ছিঁড়ল। ছিঁড়ে কভার ছাড়া সেগুলো স্টাপলার করল। সেই যে কভার পেয়েছিল, অন্য বন্ধুর কাছ থেকে কিছু পৃষ্ঠা নিয়ে ঐ কভারের সাথে স্টাপলার করে দিল। এইভাবে আরো পাঁচ মাস চলে গেল। সব খাতাই এভাবে সে পুন:ব্যবহার করতে লাগল। কিন্তু সবথেকে শেষের মাসে পরীক্ষা। স্কুল থেকে খাতা দেবে না ছাই! স্কুল থেকে বলল, খাতা কিনে সেটাতে পরীক্ষা দিতে হবে। মেয়েটি তো মনে মনে শুধু বলে, "ধূত ছাই, আর ভাল লাগে না। শুধু নতুন নতুন খাতা কিনতে বলে।" সে এখন কি করবে? টিচার বলল, বাংলা লাইনের খাতায় পরীক্ষা দিতে হবে, কিন্তু দোকানে শুধু ইংলিশ লাইনের পরীক্ষার খাতাই পাওয়া যাচ্ছে। তার বন্ধুরা তাকে বলল, "তোমাকে আমরা অনেক পৃষ্ঠা দিয়েছি। এবার তুমি আমাদের খাতাগুলো বানিয়ে দাও। আমার অত পরিশ্রম করতে ভাল লাগে না বাপু! তোমার পাঁচ টাকা দিয়ে দেব। ইংলিশ পৃষ্ঠাগুলো ছিঁড়ে এই যে আমরা বাংলা পৃষ্ঠা দিচ্ছি, সেগুলো এটার সাথে স্টাপলার করে দিও। প্রত্যেকে পাঁচ টাকা করে দিয়ে দেব।" মেয়েটি পরিশ্রম করতে ভালই বাসত। সে সবার খাতা নিয়ে ভাল করে তৈরি করে দিল। ওরা সবাই খুশি হয়ে গেল। তার বন্ধুরা বলল, "কিন্তু এখান থেকে যে ইংরেজি পৃষ্ঠাগুলো ছিঁড়েছ, সেগুলো আর দিতে হবে না। অত পৃষ্ঠা দিয়ে আমি কি করব? আমার তো টাকার অভাব নই। বাবা প্রতি মাসে মাসেই বিদেশ থেকে আসে। আর তোমার তো বছরের শেষেই কেবল একবার আসে। তুমি ইংলিশ পৃষ্ঠাগুলো রেখে দাও। স্টাপলার করে কভার লাগিয়ে নিজের খাতা বানিও। আর পাঁচ টাকা নিয়ে নাও।" কিন্তু এখন তো বছরের শেষ। এখনো পৃষ্ঠা দিয়ে কি করবে? কিন্তু তাও সে পৃষ্ঠাগুলো কভার সহ স্টাপলার করে রাখল। পরের বছর বাবার টাকা দিয়ে চালানোর অপেক্ষায় থাকল না। পরের বছর যাতে ইংরেজি খাতা কেনার টাকা খরচ করতে না হয়, সেই বুদ্ধি বের করে সে আগে থেকেই খাতাগুলো বানিয়ে নিল। শেষে বাবা বিদেশ থেকে ফিরল। বাবা বলল, "মা ফোন দিয়ে বলেছে, তোমার পড়াশোনার খাতা নাকি তুমি বারবার রি-ইউজ করছ।" "হ্যাঁ, করছি।" "এটা ভাল বুদ্ধি, তবে এতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। তাই আজ থেকে ঠিক করেছি, প্রতি বছর বেশি করে টাকা তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে যাব, কিন্তু তোমরা সাবধানে ব্যবহার করো।" মেয়েটি বলল, "দেখ বাবা, আমার অনেক বন্ধু আছে। সবাই অলস। আমাকে দিয়ে ওদের খাতা বানিয়ে নিয়েছে। তার সাথে আমায় যে ৫ টাকা করে করে দিয়েছে, তাতে ১০০ টাকা আমি নিজেই আয় করে নিয়েছি, দেখো।" বাবা বলল, "বাহ! ভালোই করেছ। এই ১০০ টাকা তোমার যা ইচ্ছা তা কিনতে পার। তবে এখন থেকে আমি বেশি টাকাই দিয়ে যাব। যেগুলো রি-ইউজ করার জন্য তুমি বানিয়ে রেখেছ, সেগুলো শেষ হয়ে গেলে এই টাকাগুলো দিয়ে নতুন নতুন খাতাপত্র, কলম-টলম সব কিনবে।" এরপর থেকে মেয়েটির লেখাপড়ার পুরোপুরি ঝামেলা মিটে গেল। কিন্তু অনেকের এরকম ঝামেলা মেটে না। তাই তাদের উপায় হলো রি-ইউজ করা।
Thursday, September 20, 2018
গরীবের মেয়ের জেদ
এক ছিল গরীব মা ও মেয়ে। তারা খুবই গরীব ছিল। থাকত ছোট্ট একটি কুঁড়েঘরে। মা এতেই শুকরিয়া আদায় করত। কিন্তু তার মেয়ে এতে খুশি ছিল না। সে সবসময় ধনী হতে চাইতো। একদিন তার আশা পূর্ণ হয়ে গেল। সে ঘুমোচ্ছিল। সকালে উঠে দেখল, সে একটি সুন্দর বিছানায় শুয়ে আছে এবং তাদের বাড়িটি দোতলা সুন্দর জমিদারের বাড়ির মত হয়ে গেছে। মেয়েটি তো খুব খুশী। খুশীতে আর বাঁচেই না। কিন্তু এখন তার কাজ করে খেতে ভাল লাগে না। মা-ই তার জন্য খাবার যোগাড় করে, আর মেয়ে বসে বসে খায়। সবসময় বাড়ির ভিতর আরাম-আয়েশেই থাকে। এমন সময় বর্ষাকাল এল। মেয়েটি তখন সকাল বেলা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। হঠাৎ নামল বৃষ্টি। মেয়েটি একটি দোলনায় বসেছিল। সে দোলনা থামাতে থামাতেই মুষলধারে বৃষ্টি নেমে গেল। সে বৃষ্টিকে ধমক দিয়ে বলল, "কেমন বৃষ্টি তুই? দেখছিস, দোলনায় বসে আছি, একটু আরাম করছি; মধ্যে এসে নামলি মুষলধারে?" মেয়েটির বাড়ি পর্যন্ত ঢুকতে ঢুকতেই সে ভিজে জবজবা হয়ে গেল। মা তাকে বলল, "বৃষ্টিতে ভিজে গেছিস? আচ্ছা, ঠিক আছে। জামাকাপড় বদলে আয়।" মেয়ে বলল, "আশ্চর্য তো! আমরা এখন ধনী। ধনী মায়েরা কি বলে, তা জান না? বৃষ্টি হলো, আর তোমার মেয়ে তাতে ভিজে গেল। তুমি কোথায় বকে শেষ পাবে না, অথচ তুমি ঠিক আছে বলে উড়িয়ে দিচ্ছ। আমরা এখন ধনী এটা তুমি বুঝতেই পারছ না। ধুত!" এই বলে মেয়েটি কাপড় বদলে এল। দুপুরের খাবার পর মেয়েটির প্রচণ্ড জ্বর এল। মা এসে বলল, "কিরে, জ্বর হলো নাকি? বৃষ্টিতে ভিজলে তো তোর জ্বর হয় না।" জ্বরের মধ্যেও মেয়েটি মাকে ধমক দিয়ে বলল, "উহ, মা! আমরা এখন ধনী। বৃষ্টিতে ভিজলে তো জ্বর হবেই।" মা বলল, "ঠিক আছে, ঠিক আছে। এই নাও।" এই বলে মা একটা ভেজা মোজা ওর মেয়ের মাথার উপর দিয়ে দিল।" মেয়েটি রাগ হয়ে মোজাটি ছুঁড়ে ফেলে দিল। বলল, "উহ, মা! আমরা ধনী কয় হাজারবার বলতে হবে তোমাকে? কেমন মাথায় মোজা দিয়ে চলে যাচ্ছ? আমরা কি গরীব? যাও, ওষুধ, সাপোজিটরি, থার্মোমিটার সবকিছু কিনে নিয়ে আস।" মা বলল, "এ মা! তুমি মোজাটা ছুঁড়ে ফেলে দিলে? আচ্ছা, ঠিক আছে। এই নাও তোমার ডিক্টুরে জিনিসপত্র।" মেয়েটি ধমক দিয়ে বলল, "উহ, মা! আমরা গরীব নই। একটু ইংরেজিও তো জানতে হবে। তুমি কি বললে, ওটা তো আসলে ডাক্তারী। ওহ! আর পারি না।" এভাবে সাতদিন পর জ্বর থামল। এবার আবার শুরু হল খরা। মেয়েটি বাইরে বের হল। তার দামী খেলনা দিয়ে খেলতে। হঠাৎ এমন রোদ বের হল, যে তার মাথাই ফেটে যায়। সে রোদকে ধমক দিয়ে বলল, ইস! কেমন রোদ? একটু খেলতে বসেছি, এখন মাথা ফাটিয়ে দিচ্ছে। যা! কিন্তু রোদ গেল না। মেয়েটি ভীষণ রেগে গিয়ে খেলনা নিয়ে বাড়িতে চলে গেল। মাকে বলল, "শোন মা, রোদ না খুব বাজে। মাথাই পুড়িয়ে দিল।" এ বলে মেয়েটি দামী বাথটবের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আর কল ছেড়ে দিল। মা বলল, "করিস কি, করিস কি? ওভাবে ঘেমে এসে কেউ গোসল করতে যায়?" কিন্তু মেয়েটি কথা শুনল না। এরপর তার ঠাণ্ডা লাগল। সেটাও বেশ কিছুদিন পরে থামল। এরকমই আরো নানারকম অসুবিধা হতে লাগল। এরপর সে মাকে বলল, "উহ! মা! ধনী হয়েও শান্তি পাচ্ছি না। একটু খেলতে বেরোলেই রোদ আসে। বৃষ্টি নামে। একদম ভাল লাগে না।" মা মুচকি হেসে বলল, "কিরে, মা! এখন তুমিই বলছ যে, ধনী হলে সমস্যা? তাহলে কি আবার গরীব হতে চাও? রোদ-বৃষ্টি এগুলো তো আসবেই। ঋতু পরিবর্তন কি হবে না? সব কি তোমার কথা শুনবে? তুমি 'যা' বললে রোদ-বৃষ্টি যাবে, আর 'আয়' বললে আসবে; রোদ-বৃষ্টি কি তোমার চাকর নাকি? শুধু গরীব হলে এগুলোতে তোমার কষ্ট হয় না। ধনী হয়েছ, তাই এগুলোতে তোমার কষ্ট হচ্ছে।" মেয়ে মায়ের এত বকবকানি শুনে অস্থির হয়ে গেল। সে মাকে বলল, "উফ, মা! এত জ্ঞান দিও না তো! এত্থেকে গরীব হলেই বেশি ভাল।" এরপর থেকে মেয়েটি গরীব হতেই চায়। একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখল, তারা আবার গরীব হয়ে গেছে। প্রথমে তো মেয়েটি বলল, "বাহ! বাঁচা গেল।" এবার সে কয়েকদিন রোদ-বৃষ্টির মধ্যে খেলল, কিন্তু কিছু হলো না। কিন্তু তার আবার গরীবদের খাবার খেতে ভাল লাগে না। নোংরা কুঁড়েঘরে থাকতেও আর ভাল লাগে না। সে আবার ধনী হতে চাইল। ধনী হবার পর আবার গরীব হতে চাইল। এরকম করে কাহিল হয়ে গেল। তার মা বলল, "এমন করছ কেন? সবকিছুতেই কিছু না কিছু সমস্যা আছে। বারবার ধনী-গরীব করে আমাকে আর ক্লান্ত করো না। নিজে তো ক্লান্ত হচ্ছই, আমাকেও ক্লান্ত করছ। চুপচাপ ধনী হবে নাকি গরীব হবে বেছে নাও। নয়তো মানুষকে শুধু জ্বালাতনই করে যাও। যত্তসব!"
Sunday, September 9, 2018
লোভ ও অলসতার ফল
এক ছিল একটি মেয়ে। আর গল্পটি খুব আজব। মেয়েটি একটি বাড়িতে থাকত। তার বাড়ির কাছে একটি পরীর বাড়ি ছিল। পরীকে কিছু দিলে তার বিনিময়ে পরী কিছু একটা দেয়। সবসময় দেয় না। যদি প্রাণ বাঁচানোর মত বড় কোন উপকার কেউ করে, তবেই তাকে পরী সাহায্য করে। কিন্তু মেয়েটি তার বন্ধু হওয়ায় মেয়েটি তার জন্য অল্প উপকার করলেও সে মেয়েটিকে সাহায্য করে। মেয়েটির নাম ছিল নেলী। নেলী ছিল খুব গরীব। সবসময় পান্তা ভাতই তার কলাপাতার (প্লেট) মধ্যে থাকত। সে একদিন পরীর বাড়ি গেল। গিয়ে বলল, "আমার আর গরীব থাকতে ভালো লাগছে না। সবসময় পান্তা ভাতই জোটে। মাঝেমধ্যে কিছুই জোটে না। কেন গো? আচ্ছা, তোমার কি কোন সাহায্য লাগবে? তাহলে কিন্তু আমায় পান্তা ভাত খাইয়ে আর রাখা যাবে না।" পরী বলল, "ঠিক আছে। অনেকদিন হয়ে গেল আমি কোথাও বেড়াতে যাই না। ইচ্ছে করছে এক্ষণি অদৃশ্য হয়ে আধুনিক মানুষের শহরে চলে যাই। গিয়ে দেখি, অনেক দিন আগে গিয়ে যে দেখেছিলাম হাতে ধরা মোবাইল না কি জানি তৈরি করা হয়েছে। না জানি কত কি তৈরি হয়ে গেল। আমার এসব দেখতে খুবই ভালো লাগে। কিন্তু আমার যে একটা ছোট ছাগলের বাচ্চা আছে। ওকে তো নিয়মিত খাবার খাওয়াতে হয়। ওকে মাঠে ছেড়ে দিতে হয়, খাবার নিয়েও আসতে হয়। নদীতেও নিয়ে যেতে হয় গোসল করার জন্য। এসব করবে কে? তুমি যদি এসব কাজ করে দাও এক সপ্তাহের জন্য, তাহলে আমি তোমার ইচ্ছা পূরণ করব।" পরী এরপর শহরে গেল। গিয়ে ঘরে ঘরে কম্পিউটার, স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট দেখতে পেল। আনন্দের সাথেই ৭ দিন কেটে গেল। ওদিকে নেলীও ছাগলের বাচ্চার খেয়াল রাখল। পরী তার সুন্দর ছাগলের বাচ্চাকে দেখতে পেয়ে খুব খুশী হয়ে গেল। সে বলল, "অনেক ধন্যবাদ। আমার ছাগলের বাচ্চাটাকে তুমি অনেক্ষণ দেখে রেখেছ। এবার বলতো, তুমি কি চেয়েছিলে? আগে আগে বললে আমার শুনতে অসুবিধা হয়। এখন তুমি যা বলবে, তাই শুনব।" নেলী বলল, "শোন পরী, আমি খুব গরীব। প্রতিদিন পান্তা ভাত জোটে। সেটা বন্ধ করতে হবে। অন্তত একটু ভালো খাবার তো দাও।" পরী বলল, "শুধু খাবারই কি চাই? তুমি আমার বন্ধু। তাই গিয়ে দেখো, তুমি যা চাচ্ছ তা পেয়ে গেছ।" নেলী ঘরে গেল। গিয়ে দেখল, "তার ঘর ভাঙ্গা কুঁড়েঘর নেই। যত ভাঙ্গা ছিল, সব ঠিক হয়ে গেছে। ঘরের চাল টিনের চাল হয়ে গেছে। আর পুরনো জিনিসপত্র সব নতুন হয়ে গেছে। সে যে পান্তা ভাত রেখে এসেছিল, সেটা ভাত, মাছ-মাংস এবং ডিম হয়ে গেছে।" নেলী সেদিন খুব খুশী হলো। কিন্তু এক সপ্তাহ পেরোনোর পর সে আবার গেল পরীর কাছে। বলল, "আমার না এরকম ভালো লাগছে না। শুধু ভাত, মাছ, মাংস বোরিং হয়ে গেছে। আর তোমার মত ভালো পরীর বন্ধু আমি। আমি গরীব থাকলে কেমন দেখায়? দাও না আমায় আরেকটু ধনী করে।" পরী বলল, "ঠিক আছে, তাহলে আমাকে কিছু পিঠে ভেজে দাও। কারণ, খুব বেশী দূরে নয় সেখানে আমার এক অসুস্থ বন্ধু আছে। সুস্থদের কাছ থেকে আমি কোনকিছুর বিনিময়ে সাহায্য করি। কিন্তু অসুস্থদের তো এমনি এমনিই সাহায্য করতে হবে, তাই না? পিঠেগুলো আমি আমার অসুস্থ বন্ধুর কাছে নিয়ে যাব।" নেলী পিঠেগুলো ভেজে দিল। এবার বাড়ি গিয়ে সে দেখল, তার একটা দোতলা বিল্ডিং হয়েছে। টাইলস দিয়ে বানানো। অনেক সুন্দর বড় বড় বারান্দা। সুন্দর বেডরুম। বিছানাও আছে। আর খাবারের জায়গায় গিয়ে দেখল, রোস্ট আর পোলাও রাখা আছে। সাথে দুধও রাখা আছে। সে খুবই খুশী হয়ে গেল। এভাবে দু'সপ্তাহ কাটল। এবার নেলীর আবার এরকম থাকতে বোরিং লাগা শুরু হলো। সে আবার পরীর কাছে গেল। বলল, "আমার এমনি এমনি ভালো লাগছে না। আমার জন্য একটা কথা বলার টিয়ে পাখি দিতে পারবে? আরেকটা বাগানও দিয়ে দাও। তবেই আমার খুব ভালো লাগবে। জীবনটাই সুন্দর হয়ে যাবে। দাও না গো! কিন্তু তার বদলে কি চাও?" পরী বলল, "ঠিক আছে, আমার বেশি একটা ভালো লাগছে না। তুমি এক কাজ কর। আমার ছাগলটিকে একটু দুধ খাওয়াও। আর আমার বাগানে একটু পানি দিয়ে আস। দেখবে, তুমিও পোষা প্রাণী এবং বাগান পেয়েছ।" সব ঠিকমতই হলো। নেলী বাড়ি গিয়ে দেখল, সুন্দর একটা ফুলেরর বাগান এবং কথা বলা একটা টিয়া পাখি তার বাড়ির সামনেই আছে। কথা বলা টিয়ে পাখি বলল, "তুমি কি আমার নতুন মালিক? তোমার নাম কি নেলী? আমায় কোন শিখাতে হবে না, এমনিতেই সব পারি।" নেলী খুব খুশী হলো। বাগান এবং কথা বলা তোতাপাখি নিয়ে সে আনন্দেই চলল। কিন্তু একদিন তার তাও খারাপ লাগতে শুরু করল। সে আবার পরীর কাছে গেল। গিয়ে বলল, "আমার বাগানের ফুল দিয়ে দুটো মালা বানিয়ে এনেছি। একটা তুমি পর, একটা তোমার ছাগলকে পরাও। কিন্তু আমাকে আরো কিছু দাও, দয়া কর।" পরী বলল, "এতেও মন ভরল না? আচ্ছা ঠিক আছে, গিয়ে দেখ তুমি প্রাসাদ পেয়েছ।" সে প্রাসাদই পেল। অনেক রকম ফুল পেল। এটা তার খুবই ভালো লেগেছিল। তাও এক মাস পর তার এটা আর ভালো লাগে না। সে আবার গেল পরীর কাছে। বলল, "আমাকে আরো অনেক ধনী করে দাও, যাতে আমি বাড়ির মধ্যেও পালকিতে চড়ে ঘুরতে পারি। আমায় এত এত সুখী করে দাও, যাতে আর আমার কোন কাজই করার দরকার পড়ে না। অনেক অনেক সুখী করে দাও।" পরী বলল, "তোমার জেদ তো কম নয়। বন্ধু বলে এত জেদ তো রাখা যায় না। শোন না, তুমি আমার কাছে আর এসো না তো! এসে কেমন আছ, কি করছ- গল্প-টল্প না করে শুধু বলছ, ধনী করে দাও। এসব আর ভাল লাগছে না। আচ্ছা ঠিক আছে, শোন তবে। তুমি তো অনেক কঠিন কঠিন জিনিস চাচ্ছ। কিন্তু বিনিময়ে তো সহজ সহজ জিনিসই তুমি দিচ্ছ। এবার একটু কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। যদি তুমি আমার কথা শোন, আমি বিনিময়ে যা চাইব তা দিতে পার, তাহলে তোমাকে আমি তুমি যা চাও তা দেব। আর যদি তা না পার, তাহলে কি হবে তা পরেই দেখতে পাবে। শোন তবে। পরীক্ষাটা কি, সেটাই তো বললাম না। পরীক্ষাটা হলো, আমার ছাগলের দুটো পাখা গজিয়ে দাও, যাতে সেও আমার সাথে বেড়াতে পারে। আমার এই জেদটা তোমাকে পূরণ করতে হবে।" এরপর নেলী বলল, "আমি তো আর তোমার মত পরী নই। এটা তো আর আমি করতে পারব না। অন্য কিছু করতে বল।" এবার পরী বলল, "ঠিক আছে, তুমি তো ধনী হতে চাও। আমি তোমায় ধনী করে দেই। কিন্তু তুমি যে বললে, তোমার কোন কাজ করার দরকার হবে না এরকম ধনী করে দেই, তাহলে আমিও বলতে পারি, আমাকে এমন ধনী করে দাও, যাতে আমার পোশাকটুকু পর্যন্ত সোনার হয়। দাও ধনী করে। মানুষের পক্ষে তো কাজটা সম্ভব, কিন্তু টাকায় কুলাতে হবে।" তখন নেলী বলল, "না না না, এটাও যে পারব না। আমি করতে পারব এরকম কিছু দাও।" পরী বলল, "ঠিক আছে, আমি তোমায় আরেকটা কাজ দেব। কিন্তু কাজটা দেব তুমি যা চাইছ তা আমি দেয়ার এক মাস পরে।" তাই হলো। কাজ না করে করে নেলী খুবই অলস হয়ে পড়েছিল। কোন কাজই সে আর করতে চায় না। এবার পরী এসে হাজির হলো। বলল, "আমার কাজের কথা মনে আছে? কাজটা হলো, এই পুরো বাড়িটা একনাগাড়ে দৌড়ে আমাকে দেখাও। থামবে না কিন্তু। তুমি যখন আগে অনেক গরীব ছিলে, তখন এটা তো তোমার কাছে পানির মত সোজা লাগত। এখন দেখাও আমাকে এ কাজটা করে।" নেলী বলল, "ঠিক আছে, আগে তো এ আমার বাম হাতের কাজ ছিল। কিন্তু এখন কেন পারব না? এক্ষুণি দেখাচ্ছি।" সে তখন শুয়ে ছিল। সে দুই হাত জাগিয়ে আড়মোড়া দিয়ে উঠল। সে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়াতে দাঁড়াতেই সে বলল, "পরী! আমি যদি পালকিতে উঠি, আর দাসীরা যদি আমায় দৌড়ে পালকিটা চালিয়ে চক্কর দিয়ে আনে, তাহলে হবে তো?" পরী বলল, "সে কী! আমি যা বলছি, তা করতে হবে। এক-দুই-তিন বলার সাথে সাথে দৌড় দেয়া শুরু করতে হবে। খেয়ে খেয়ে মোটাও তো কম হওনি। এবার দৌড়াও- এক, দুই, তিন।" কিন্তু নেলী দৌড়ানো শুরু করতে পারছিল না। সে দৌড়ানোর জন্য এক ধাপ দিল, কিন্তু তার শরীর ঘুমে ঢলতে থাকল। চোখে শুধু ঘুম আর ঘুম। মোটা হওয়ার কারণে একটু বেশি চেষ্টা করাতে সে মাটিতে পড়ে গেল। তখন পরী বলল, "শোন নেলী! তোমার সব খাবার আমি বন্ধ করে দিলাম, যতক্ষণ না তুমি দৌড়ে দৌড়ে চিকন হয়ে যাচ্ছ। শুধু পানিটুকুই আমি দিয়ে যাচ্ছি।" এই বলে পরী উড়াল দিয়ে চলে গেল। নেলী বলল, "দাঁড়াও।" কিন্তু পরী দাঁড়ালো না। অমনি নেলীর খিদে পেয়ে গেল। সে দাসীকে ডাকল। "দাসী! যাও তো! এক বাটি ফল নিয়ে এসো।" দাসী বলল, "বাটিতে যা ফল ছিল, তা তো এক্ষণি দেখছিলাম। হঠাৎ দেখি ফলগুলো নেই। ফ্রিজও খালি। শুধু পানির বোতলগুলিই রয়ে গেছে।" নেলী বুঝতে পারল, সে কত ভুল করেছে। সে আবার পরীকে ডাকল। "পরী! আমি তোমার বন্ধু। একবার এসো। শুনে যাও। আর কিছু চাইব না। শুধু শুনে যাও।" পরী বুঝল যে, নেলী কি বলতে পারে। পরী উড়াল দিয়ে নেলীর ঘরে গেল। সে বলল, "কি হলো, নেলী? আমায় ডাকছ কেন? এখনো তো দৌড় শুরুই করলে না! তাড়াতাড়ি দৌড় শুরু কর।" নেলী বলল, "না গো না, আর এ অবস্থায় দৌড়াতে পারব না। তোমার বন্ধু হয়ে চাচ্ছি যে, আমাকে চিকন করে দাও।" পরী বলল, "উহ! আর কত কি চাইবে? ঠিক আছে।" পরী রেগে গিয়ে আগে যেরকম পান্তা ভাত খেয়ে কাটাতে হতো, চিকন ছিল, সেরকম নেলীকে করে দিল। সব দাস-দাসী উধাও হয়ে গেল। সে খুবই চিকন হয়ে গেছে। ঘর-বাড়িও ভাঙ্গা চোরা সেই আগের মত হয়ে গেছে। আর কলাপাতার উপর পান্তাভাতই রাখা আছে। নেলী এখন পরীকে বলল, "আমি তোমার কাছে আর কিছু চাইব না। তোমার প্রাসাদ তো তুমি নিয়েই নিলে। তোমার পাখি এবং বাগান- তাও তো নিয়ে নিলে। কিন্তু এবার আমাকে এরকমও করে দিলে। ভালোই করেছ! বন্ধু হয়েও এখন আমাকে আবার গরীব করে দিলে? কি করলে?" পরী বলল, "তোমার সাথে আমার আর কোন বন্ধুত্ব নেই এখন। তুমি দ্বিতীয়বার যেরকম বাড়িতে ছিলে, টিনের চাল আর ভাত-মাছ-মাংস, সেরকমই হয়ে যাও। আর বেশি চাইবে না। তোমার সাথে আমার বন্ধুত্বও শেষ, পুরোপুরি গরীব বা পুরোপুরি ধনী হওয়াও শেষ।" এই বলে পরী নেলীকে দ্বিতীয়বার যেরকম ছিল সেরকম করে দিল। আর পরী উড়াল দিয়ে চলে গেল। তবে এটা নেলীর জীবনে বড় একটা শিক্ষাও ছিল।
Friday, August 31, 2018
পঙ্ক্ষীরাজ গরু ও জোনাকির মালা
এক ছিল এক সুখী পরিবার। সেই পরিবারে থাকত মা, বাবা ও ভাই-বোন। কিন্তু একদিন একটা বড় ঝড় এল। এমন ঝড় এল, যে বাড়িও উড়াল না, মা-বাবাকেও উড়াল না। কিন্তু শুধু ভাই-বোনকে উড়িয়ে নিয়ে গেল। ভাইয়ের নাম ছিল রবি, আর বোনের নাম ছিল ছবি। রবি আর ছবি গিয়ে পড়ল এক আজব জায়গায়। তারা সবকিছু ভুলেও গেল, কিন্তু একে অপরকে চিনত। সেই জায়গায় শুধুমাত্র ছিল একটি কলাগাছ, একটি গরু ও একটি নদী। নদীর পানি ছিল খুব পরিস্কার। খাওয়ার উপযোগী। তাদের মাথায় বুদ্ধি ছিল খুব। তারা ঠিক করল, কলা, দুধ এবং পানি খাবে। এবার এসব খেতে খেতে এক মাস পেরিয়ে গেল। আরো এক মাস পেরিয়ে গেল। এরকম করতে করতে খাবারগুলো তাদের কাছে বোরিং (একঘেয়ে) হয়ে গেল। তাদের আর শুধু এরকম খেতে ভাল লাগে না। তারা কি খাবে? কিন্তু তাদের মাথায় বুদ্ধি ছিল আগেই বলেছি। তাই তারা লাকড়ি যোগাড় করল। মাটি দিয়ে একটি পাত্রও বানালো। পাথরের সাথে পাথর ঘষে এবার আগুন জ্বালালো। তারপর পাত্র আগুনের উপর বসালো। আর পাত্রের মধ্যে দিল কলার থোড়। তৈরি হল সুস্বাদু সবজি। আরো এক মাস এই সবজি খেয়েই কেটে গেল। তারপর তাদের মনে হলো, স্বাদটা ভালো লাগছে না। রবি ছবিকে বলল, "শোন! তোমার কি এটা খেতে ভাল লাগছে? আমার তো আর ভালই লাগছে না।" ছবি বলল, "নতুন একটা রেসিপি তৈরি করা যাক। দুধ আর কলার ভর্তা বানালে কেমন হয়?" রবি বলল, "তাহলে তো দারুনই হয়। খেয়ে দেখে যদি মজা লাগে, তাহলেই তো হয়।" এরপর তারা শুরু করল এবং কলা ও দুধের ভর্তা বানালো। কলা ও দুধের ভর্তা বানিয়ে তারা খেল। এভাবে বদল করে করে অনেকদিন কেটে গেল। একদিন তাদের মনে পড়ে গেল তাদের বাড়ির কথা। ছবি বলল, "এই রবি! তোমার মনে আছে, একটা ঝড় আসল, আর কি জানি একটা হলো? তারপর থেকেই দেখি আমরা এখানে।" তখন রবি বলল, "তাই তো? কি হবে এখন? ভুলেই তো গিয়েছিলাম। এতদিন কিছুই মনে পড়েনি। ভেবেছিলাম, এখানেই জন্ম আমাদের।" এরপর হঠাৎ আকাশ থেকে একটি সুতা পড়ল। আর সুতার সাথে একটা কাগজ বাঁধা। সেই কাগজে লেখা: "এই সুতো দিয়ে কলাপাতা গরুর গায়ে বেঁধে দাও। গরুটা তখন উড়তে পারবে, পঙ্ক্ষীরাজের মতই কাজ করবে। কিন্তু মনে রেখো, সেটা হলো, সেই গরু এমন পথ দিয়ে যাবে, যেই পথ মন্ত্রপুত এবং সেই পথে গেলেই খিদে পায়। সেজন্য খাবার নিয়ে যেতে হবে। আর তখন এমন কিছু নিয়ে যেতে হবে, যেটা কোনদিন খাওয়া হয়নি। সব পরিচিত খাবারই যদি কেউ খায়, তাহলে গরু ওড়া বন্ধ করে দেবে। গরুটা যদি নদীর উপর দিয়েও যেতে থাকে, তাহলেও গরুটা নদীর মধ্যে গিয়েই পড়বে। সবগুলো ধাপ ঠিকমত মেনে চললে তবেই তোমরা বাড়ি পৌঁছাতে পারবে এবং মা-বাবাকে দেখতে পাবে। যত তাড়াতাড়ি চাও, তত তাড়াতাড়ি গোছগাছ শুরু করে দাও।" রবি ও ছবি দুজনেই কাগজটা ভাল করে পড়ল। একে অপরের দিকে তাকালো। তারপর রবি বলল, "প্রথম কাজটা তো খুবই সহজ, সুতো দিয়ে কলাপাতা গরুর গায়ে বেঁধে দিতে হবে। কিন্তু নতুন খাবার আর কি আছে। আসলে আমরা খাবার বদলে বদলে ভুল করে ফেলেছি। এখন তাহলে কি করা যায়?" তখন ছবির মাথায় একটা বুদ্ধি আসল। সে বলল, "এত তাড়াতাড়ি হাল ছেড়ে দিচ্ছ কেন? নিশ্চয়ই আশেপাশে কিছু একটা আছে।" তারপর হাঁটতে হাঁটতে দেখল, দূরে অনেক মাছি ওড়াওড়ি করছে। ছবি দেখতে গেল। গিয়ে দেখল, একটা ছোট্ট গাছ। সেই গাছে আঙ্গুরের মত দেখতে কিন্তু বাদামের মত শক্ত একটা ফল। আর কয়েকটা নিচে পড়ে গেছে, আর গন্ধটাও খুব সুস্বাদু। আর ওগুলোর চারপাশ দিয়েই মাছি শুধু ঘোরাঘুরি করছে। ছবি কিছু কিছু ফল নিয়ে নিল। রবিকে সব ঘটনা বলল। রবিও গিয়ে কিছু ফল তুলে আনল। কলাপাতা বাঁধার পর দু'জনেই গরুর পিঠে উঠে বসল। আর গরুটি উড়তে শুরু করল। তারা উড়তে থাকল, কিন্তু তাদের খিদেই পাচ্ছিল না। এক জায়গায় এসে হুট করে অনেক খিদে পেয়ে গেল। তারা ফলগুলো খেতে শুরু করল। কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি তা শেষ হয়ে গেল। এখন তাদের তরল কিছু খেতে ইচ্ছে করছে। কি খাবে? ভেবেই পাচ্ছে না? এমন সময় তারা দেখতে পেল, একটা মৌচাক। মৌচাক থেকে টুপ টুপ মধু পড়ছে। অমনি তারা গরুটি নিচে নামিয়ে মৌচাকের কাছে হা করে বসল। আর কয়েকটা ফোঁটা তাদের মুখে পড়তে না পড়তেই গরুর কলাপাতাগুলো ছিড়ে গেল। এরপর তারা নিচেই বসে রইল। তাও ভাল, একটু নিচে এসে পড়ল। নাহলে তো মরেই যেত। এখন একে অপরকে বলাবলি করল, "ইস! কেন যে মধুটা খেতে গেলাম? তুমি আমাকে মনে করিয়ে দিলে না?" "আরে, আমি কি মনে করাব, তুমিই তো মনে করালে!" এরকম করে ঝগড়াই করতে লাগল। অবশেষে ঝগড়া থামল। এখন তারা কি করবে? ভেবেই পাচ্ছিল না। হঠাৎ তাদের মাথায় একটা বুদ্ধি এল। সামনেই এক নদী। আর নদী পেরোনো যাবে চারপাশের কাঠ দিয়ে নৌকা বানালে। তারা তাই করল। নদী পার হয়ে গেল। তারপর তারা আবার একটা গুহা দেখল। সেই গুহার মধ্যে তারা ঢোকার চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না। গুহা পুরো খোলা, তাও ঢুকতে পারছে না। বোধহয় কোন অদৃশ্য দরজা। হঠাৎ টাকাটাকি করতে করতে ভিতর থেকে আওয়াজ আসল। কে যেন বলে উঠল, "কে রে আমার গুহায় ঢুকতে চাচ্ছে? কে আমার গুহায় ঢুকতে চাচ্ছে, নামটা বল শুনি? ভয় পেয়ো না, কিছু বলব না। কিন্তু নামটা বল। টাকাটাকি করছ কেন? শুধু নামটা বল, টাকাটাকি করো না।" ওরা জবাব দিল, "আমরা দু'জন রবি আর ছবি। কিন্তু তুমি কে?" অদৃশ্য দরজা খুলে গেল। রাক্ষসের মত একজন মানুষ এসে দাঁড়ালো। সে বলল, "আমায় দেখে ভয় পেয়ো না কিন্তু। কি হয়েছে, আমাকে বল। আর দাসী, তুমি বাইরে চলে এসো। এরা কি করতে এসেছে, তা জিজ্ঞাসা কর।" একটু পর একটা পরী আসল। সে বলল, "কি গো? কিছু বুঝতে পারলে তোমরা দুজন রবি আর ছবি? আমার চুল দেখেও কিছু বুঝতে পারলে না? আসলে এই দৈত্যই তো আমাকে পাঠিয়েছিল তোমাদেরকে সাহায্য করার জন্য। কিন্তু তোমরা এটাও চিনতে পারলে না? যে রশিটা কাগজের সাধে বেঁধেছিলাম, সেটা আমারই চুল। কিন্তু তোমরা ভুল কাজ করেছ। মধুটা খেলে কেন? এবার আমি কি করব? চলে যাও এখান থেকে। বিরক্ত করো না। আর এদিকে এসো না। যেখানে খুশী যাও। সাহায্য করতে চেয়েছি, সবকিছূ তো মানলেও না।" এই বলে আর অদৃশ্য দরজা নয়, বরং দৃশ্যমান দরজাই পরী বন্ধ করে দিল। রবি আর ছবি কি করবে? এমন সময় একটা জোনাকি পোকা আসল। জোনাকি পোকা এই রূপকথার রাজ্য ছেড়ে মর্ডার্ন রাজ্যে গিয়েছিল। অর্থাৎ, আমাদের এই সমাজে। সেখানে গিয়ে সে বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে একটা Animal Talking Converter নিয়ে আসল। এরপর রবি ও ছবির সাথে কথা বলা শুরু করল। সে বলল, "শোন রবি ও ছবি! আমি তোমাদের সাহায্য করতে চাই। কি চাও তোমরা, বল? কিন্তু সেজন্য আমার একটা কাজ করে দিতে হবে। করবে নাকি আগে বল।" তখন রবি বলল, "ঠিক আছে! যদি আমরা কাজটা করতে পারি, আমাদের বাড়ির পথ দেখিয়ে দিও।" জোনাকি পোকা বলল, "শোন তবে। আমার অনেকদিনের শখ, গলায় একটা মালা পরব, কিন্তু আমার সাইজের মালা কোথাও নেই। তাই তা তোমাদের বানিয়ে দিতে হবে। তাহলে আমি তোমাদের বাড়ির পথ দেখাব।" রবি ও ছবি হেসে ফেলল। জোনাকি বলল, "হাসার কি হলো? আমার কি শখ-আহলাদ থাকতে নেই? এই তো ছবি একটা মালা পরে আছে। কী সুন্দর! আর আমার সাইজের মালা কেউ বানায় না! একদম হাসবে না। হাসলে কিন্তু পথই দেখাবো না। দাও, আমায় আমার সাইজের মালা দাও।" ছবি রবিকে বলল, "এ তো আমার বাম হাতের কাজ। আমি এক্ষণি বানিয়ে দিচ্ছি। তুমি দেখ, জোনাকি পোকা কোথাও হারিয়ে না যায়।" এই বলে ছবি একটা শিউলি ফুল নিল। পাঁপড়িগুলোকেও ছোট ছোট ভাগ করল। এরপর একটু একটু করে মালাটা গেঁথে শেষ করল। জোনাকি পোকাকে বলল, "এই নাও, তোমার মালা। তুমি এখন সেজেগুজে আমাদের পথ দেখিয়ে দাও। নাহলে কিন্তু আবার তোমার ঐ মালা ছিড়ে দেব, আর বানিয়ে দেব।" জোনাকি পোকা বলল, "আমি কি কথার খেলাপ করি নাকি? চল, আমার পিছ পিছ আস। কিন্তু অন্য কোথাও মনোযোগ দিও না। আমি কিন্তু খুব দ্রুত উড়ি। একটুতেই কিন্তু হারিয়ে যেতে পারি। না দৌড়ালে আমার সাথে তাল মেলাতে পারবে না। তাহলে দৌড় দাও।" এই বলে জোনাকি ওড়া শুরু করল। ছবি ও রবি পিছ পিছ দৌড়াতে শুরু করল। এরপর তারা খুবই সাবধান ছিল। আগে যেমন ঠিক ঠাক কাজ করেনি, এবার তা করলে চলবে না। অবশেষে তারা বাড়িতে পৌঁছালো। মা-বাবা তাদের পেয়ে বলল, "কোথায় ছিলি এতদিন? কোথায় গিয়েছিলি? কেন গিয়েছিলি? রাতে তো ঝড় এল। তার পরদিন থেকেই তোরা নিখোঁজ। তোদের পাওয়াই যায় না। কত খুঁজেছি তোদের? কোথায় গিয়েছিলি তোরা?" রবি ও ছবি একটু বিশ্রাম নিয়ে পুরো ঘটনাটা মা-বাবাকে বলল। এরপর মা-বাবা বলল, "ভাগ্য ভাল তোরা ফিরে আসতে পেরেছিস। তাও ভাল জোনাকির কথা মেনেছিস। কিন্তু জোনাকির মালার কথাটা কিন্তু খুব মজার ছিল। তোরা ফিরে এসেছিস, এটাই আমাদের সান্ত্বনা।"
Saturday, August 11, 2018
কলমি শাক আবিস্কার
এক ছিল এক গ্রাম। সেই গ্রামে জলাশয়ের কোন অভাব ছিল না। কিন্তু সেই দেশের লোকেরা একটা জিনিসে বিরক্ত হতো। কারণ বেশির ভাগ জলাশয়েই জঙ্গল হতো। আসলে সেগুলো কলমি শাক ছিল। সেই দেশের মানুষ তাকে খাদ্যই মনে করত না। এটা নিয়ে তারা কখনো ভাবেইনি। তারা ভেবেছে এসব হয়তো জঙ্গলী গাছ। পাশের দেশে আবার খাদ্যের খুব আভাব। অনেকে না খেয়ে মরে যাচ্ছে। তাদের খাবার খোঁজারও শক্তি ছিল না। না খেয়ে অনেক কাহিল ছিল। সবারই অসুখ খাবারের অভাবে।একজন ছিল খুব শক্তিশালী। সে ভাবল, আমার ভাই বোনদের আর মরতে দেয়া চলে না। এই ভেবে সে সবার বাড়ি গেল। বলল,"তোমাদের চার ভাগ খাবারের এক ভাগ কি আমায় দেয়া যায়।ভায়েরা, তোমাদেরই লাভ। আমার শক্তি হলে তোমাদের সবার জন্যই খাবার আনব। তখন পেট ভরে খেয়ো।চার দানা ভাতের এক দানা আমায় দাও।" সবাই তাকে চার ভাগের এক ভাগ খাবার দিল। কেউ খুশি হয়ে দুই ভাগও দিল। লোকটি সব খাবার খেয়ে একটু তরতাজা হলো। তারপর সে পাশের দেশে খবর নিতে গেল। সে এত্তো জলাশয় দেখে খুব খুশি হল। তবে আসল খুশি হলো কলমি শাক দেখে। কিন্তু সে ভাবতে লাগল, ইস! এরা কি এসব নেয়ার অনুমতি দেবে? টাকা ছাড়া? এটা ভাবতে ভাবতেই একজন লোক আসল। হয়ে গেল মেঘ না চাইতেই জল। সে বলল, "ভাই! দেখুন তো, আমার তিনটে জলাশয়। তিনটে জলাশয়ের মধ্যেই এসব জঙ্গল বেরিয়েছে। আপনি মেহেরবানি করে আমার এ জলাশয় তিনটি একটু পরিস্কার করে দিতে পারেন? আমি আপনাকে এর জন্য টাকাও দেব।" লোকটি খুশীর চোটে আত্মহারা হয়ে গেল। কিন্তু সে ভালো লোকও ছিল। তবে চালাকও ছিল। সে আগে বলল, "ঠিক আছে।" এই বলে সে সব জঙ্গল সাফ করল। সে তো খুশীই হলো যে, কলমি শাক খেয়ে না জানি কত্তো খুশি হবে সবাই! আর বাকি যে টাকা, তা দিয়ে চাল কিনব। ভাত দিয়ে কলমি শাক খাবে সবাই। বেশ মজা হবে।" সে জঙ্গল পরিস্কার করার পর টাকা নিয়ে মনের আনন্দে নিজের দেশে ফিরে গেল। সবাইকে খাবার খাওয়ালো। সবাই খুব খুশি হলো। কিন্তু লোকটি ভালো লোক হওয়াতে সে আবার ঐ দেশে গেল। সে বলল, "ভাইসব! তোমরা একটা কথা শুনবে? এমন কোন পুকুর কি তোমাদের কাছে আছে, যাতে সবসময় তোমরা যেটাকে জঙ্গল বল সেটা হয়?" তখন একজন বলল, "উত্তর দিকে অনেক এরকম জলাশয় আছে।" তখন লোকটি বলল, "ঠিক আছে। এর অর্ধেক সংখ্যক জলাশয় আমার কাছে বিক্রি করে দিতে হবে। তাহলে তোমাদেরকে আমি এক নতুন খাবারের সন্ধান দেব। এতে তোমাদের জলাশয়ও পরিস্কার থাকবে, আবার পেটও ভরবে। বুঝতে পেরেছ নিশ্চয়ই? নাকি আরো সহজ ভাষায় বলে দেব?" সবাই বুঝে গেল। সেই দেশের মানুষ আবার সৎ ছিল। সে অর্ধেক সংখ্যক জলাশয় তার কাছে বিক্রি করে দিল। আর বাকি জলাশয় থেকে শাক উঠিয়ে উঠিয়ে প্রথমবারের মত রান্না করে খেল। তারপর বলল, "ভাই! তুমি একটা বড় উপকার করলে। তোমাদের দেশের মতনই মাঝেমধ্যে আমাদের দেশেও খাবারের আকাল পড়ে। আমরা আসলে ভাবতাম, জঙ্গল না হয়ে যদি কোন খাদ্য হতো! আসলে এগুলোই দেখি খাদ্য। কেন যে আগে বললে না!" তারপর লোকটি অর্ধেক সংখ্যক জলাশয় কিনে নিয়ে মনের সুখে দেশে ফিরে গেল। আর সে ঐ জলাশয় থেকেই সবাইকে একটু একটু করে সবাইকে সবসময় শাক দেয়। কারো দরকার হলেই একটুখানি দিয়ে দেয়। আর যেই দেশের লোকেরা এটা খাওয়া জানত না, তারাও এখন এসব খেতে পারে, আর খাবারের আকাল পড়লেও কলমি শাক খেয়ে বাঁচে।
Friday, August 10, 2018
মোটকা ছেলে আর শুটকি ছেলে
এক ছিল এক লোক। তার ছিল দুই ছেলে। তবে দুইজন খুবই আলাদা। একজন সুইয়ের মতন শুটকি, আবার আরেকজন ঢোলের মতন মোটকা। মোটকার তো নড়তে চড়তে সময় লাগে, এটা হলো তার সমস্যা। আর সে শুটকির গায়ের উপর পড়লে শুটকি হেরে যায়, এটা শুটকির সমস্যা। তবে শুটকি হেরে গেলে সেটা আবার মোটকা পছন্দ করে। আবার শুটকি নিজেও শুটকি, তার নখও শুটকি আর ধারালো। মোটকার সাথে যখন সে পারে না, তখন নখ দিয়ে একটা খোঁচা দিয়ে দেয়। তখন মোটকা আবার হেরে যায়। এই নিয়ে লোকটির ভীষণ সমস্যা। তার ছেলেরা ২৪ ঘন্টা মারামারি করে। খেতে বসলেও একজন আরেকজনকে গুঁতা দেয়। মোটকা তো খাওয়ার সময় শুটকিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে চায়, আর শুটকি শুধু নখ দিয়ে মোটকাকে গুঁতাতে চায়। ঘুমাতে গেলেও শুটকি নখ দিয়ে মোটকাকে খোঁচায়, আর মোটকা শুধু শুটকিকে চেপে ধরতে চায়। সেইজন্য লোকটি সবসময় মাঝখানে শোয়। যাইহোক, ছেলেরা বাবার কাছে আবার ভদ্র। বাবার সাথে আর কিছুই করতে পারে না। তবে বাবার মাথার উপর দিয়ে মাঝেমধ্যে দু'জনেই মুখ উঠিয়ে চোখ রাঙিয়ে একে অপরের দিকে তাকায়। বাবার এই এক সমস্যা। স্কুলে পাঠালেও সবসময় স্কুল থেকে বের করে দেয়। দু'জন মিলে সবসময় গুঁতাগুঁতি করে, এটা টিচারের সহ্য হয় না। আবার মোটকা যখন শুটকির মত অন্য কাউকে দেখে, তখন সে ভুল করে তার দিকে হাত বাড়িয়ে চেপে ধরতে নেয়। আর শুটকিও মাঝে মাঝে মোটকার মত অন্যদের নখ দিয়ে অন্যদের খোঁচা দিতে নেয়। কিন্তু সত্যি সত্যি দেয় না। এজন্য টিচার শুধু তাদের বের করে দেয়। তাদের বাবা তো মহা সমস্যায় পড়ল। কী করবে? হঠাৎ সে একটা বুদ্ধি পেল। সে বলল, "যে করেই হোক, দু'জনকে সেইম সাইজের করতে হবে। কিন্তু কিভাবে করব?" এরপর সে একটা বই পেল। বইতে লেখা, "বেশি মোটা হওয়া ভাল নয়, এজন্য কেউ বেশি মোটা হয়ে গেলে খাওয়া কমাতে হবে আস্তে আস্তে। আর বেশি শুটকি হওয়াও ভাল নয়, সেজন্য বেশি বেশি খেতে হবে।" তাদের বাবা এই বইটা পেয়ে অনেক খুশি হলো। সে এক কাজ করল। দু'জনের থালা বদলে দিল। শুটকির কম খাবার দিয়ে দিল মোটকার পাতে, আর মোটকার বেশি খাবার দিয়ে দিল শুটকির পাতে। যাই হোক, তারা তাদের বাবার কথা অমান্য করতে পারবে না, কিন্তু "দু'জন ঝগড়া বা মারামারি করো না"- এই কথাটা সবসময় অমান্য করে, যেহেতু এটা তাদের অভ্যাস। তারপর মোটকা ছেলেটি বাবাকে জিজ্ঞেস করল, "এ কি? শুটকির থালা আমায় আর আমার থালা শুটকিকে, ব্যাপারটা কি? এত কম খাবার খেয়ে আমি থাকব কি করে, শুনি?" তখন তার বাবা যাতে তার ছেলেরা খায়, এজন্য একটি মিথ্যে কথা বলল। সে বলল, "কম খেলে নাকি বেশি মোটা হওয়া যায়। যাতে তুমি শুটকিকে আরো বেশি করে হারিয়ে দিতে পার। আর শুটকি যদি এখন থেকে বেশি খাবার খায়, তাহলে সে আরো বেশি শুটকি হয়ে যাবে, একেবারে মাইক্রোস্কোপ দিয়েও দেখতে পাবে না। আর অত যদি ছোট হয়, তাহলে ওর গুঁতা তুমি পাবে কি করে? খেয়ে নাও।" মোটকা ছেলেটি তো খুশি হয়ে বাবাকে বলল, "ঠিক আছে, আমার পাত থেকে আরো ক'টা খাবার নিয়ে শুটকিকে দিয়ে দাও।" বাবা খুশি হয়ে তাই করল। শুটকি আবার বলল, "এহ! কী বল? আমি নাকি মাইক্রোস্কোপ দিয়েও দেখার যোগ্য হব না, না? আমার পাত থেকে ওকে উঠিয়ে দাও।" তখন বাবা বলল, "আচ্ছা, ঠিক আছে।" এই বলে বাবা সবাইকে সমান দিল। তবে শুটকির থালায় ২% বেশি আর মোটকার থালায় ২% কম। তবে বাবা দুইজনের কানে কানে গিয়েই এখন থেকে বলে যে, "বেশি খেলে শক্তিশালী হবে, আবার কম খেলেও শক্তিশালী হবে।" দুইজনকে দুই রকম কথা বলে। এরকম করতে করতে তার ছেলেরা এক পর্যায়ে সমান হয়ে গেল। এখন তারা আর ঝগড়াঝাটি করতে পারে না। একজন আরেকজনকে গুঁতালে আরেকজন একই শক্তিতে গুঁতায়। কেউ চ্যাপ্টাও হয় না, আবার কেটেও যায় না।
Thursday, July 26, 2018
অহংকার ও ঢংয়ের ফল
এক ছিল একটি বালিকা বিদ্যালয়। সেই স্কুলে অনেক ছাত্রীই পড়ত। তার মধ্যে কয়েকজনের নাম হলো রেহেনা, তাশফিয়া, দিবানিশি এবং মাইশা। তাদের মধ্যে রেহেনাই ছিল বেশি ধনী। তার সাথে সে যেমন ধনী ছিল, তেমনই হিংসুটে ছিল। নিজের কিছু একটা থাকলে অন্যের সেটা না থাকলে অন্যকে সে চেতাতো (ক্ষেপাতো)। একদিন হলো কি, আজকে নতুন ক্লাসে সবার প্রথম ক্লাস। সবাই তৈরি হয়ে এসেছে। রেহেনা সবাইকে জিজ্ঞেস করল, "এই! তোরা সবাই টিফিনে কী এনেছিস? বল দেখি!" তাশফিয়া বলল, "আমার কি আর তোর মত সৌভাগ্য রে? আমরা তো গরীব। তাই কী আর আনব? তেমন কিছুই নয়। শুধু তিন টুকরো গাজর। যা পেড়েছিলাম আর কি।" এরপর দিবানিশি বলল, "তুই বুঝি খুব ভাল টিফিন এনছিস, রেহেনা? আমি তো কিছুই আনতে পারলাম না। দেখি, এখন কী করা যায়। তবে ছোট্ট একটা খেজুর আমার সাথেই আছে। এতেই আমার হয়ে যাবে।" শেষে মাইশা বলল, "আমি আর কী আনব? আমি তো কিছু আনতেই পারলাম না। শুধু একটা মাত্র মটরশুটি। যা আমাদের পাশের বাড়ির ফুপু দিয়ে গিয়েছে।" রেহেনা সবার কথা শুনে হাসতে লাগল আর তামাশা করতে লাগল। বলতে লাগল, "এ মা! তাশফিয়ার বুঝি তিন টুকরো গাজর খেয়েই পেট ভরে যাবে! ছি! তোরা আমার ধারেকাছেও নস। দিবানিশি! শোন্, তুই নাকি ঐ ছোট্ট একটা মাত্র খেজুর খেয়ে ৯ ঘন্টা থাকবি। আশ্চর্য তো? কিছু নেই, নাকি? এত গরীব জীবনে দেখিনি। আর মাইশা, তুই কী রে! পাশের বাড়ি থেকে ক'টা মটরশুটি দিল, তা থেকে মাত্র একটা কেন আনলি? আশ্চর্য তো! আমার তো ১০০ টা মটরশুটি খেলেও হবে না। ধূত! এত গরীবের বন্ধু কি করে হলাম?" তাশফিয়া বলল, "রেহেনা! এত অহংকার ভাল না। তুই কি এনেছিস, সেটা আগে শুনি দেখি। এত যখন কথা বলছিস! বল্ কি এনেছিস?" রেহেনা বলল, "কী রে বাবা! এটুক ধারণাও নেই? এনেছি তো ১০টা চিকেন রোল, ২ বাটি বিরিয়ানি, মাছের মাথা এবং মাছের ডিমসহ মাছের ভাল ভাল পিস, দুই টুকরো রোস্টও সাথে এনেছি। আরো একটা ডিম পোচ। ভাবছিস কি, মাত্র এইটুকু এনেছি? আরো কত যে বাকি রইল বলা। হোটেলের ভেজিটেবল এনেছি। তার সাথে এনেছি একটা বড় পিজা। আবার দুটো বার্গার, তিনটি হটডগ। আর এনেছি এক বোতল কোল্ড ড্রিংকস। তোদের কথা ভাবলেই আমার ঘৃণা করে। তোরা আমার সাথে পড়িস? কী একটা ছোট খেজুরের টুকরো, তা খেয়ে নাকি ৯ ঘন্টা থাকবে? আর হ্যাঁ, এক প্যাকেট মাশমেলোজও কিন্তু এনেছি।" দিবানিশি আবার গরীব হলেও একটু কথা জানত। সে বলল, "এই জন্যই তো বলি, ব্যাগ ভারি, এত বই-খাতা আনিস, তাও পরীক্ষায় বারবার ফেল করিস। ব্যাগ কেন এত ভারি, এখন বুঝলাম। তুই ব্যাগ ভরে শুধু টিফিন আনিস। আর বই-খাতা কোনরকম বটলি পাকিয়ে যত কম নেয়া যায়, তত চেষ্টা। দেখি তোর ব্যাগটা? এ মা, তোর ব্যাগে তো পাঁচটা পার্ট। চারটা পার্টই দেখি জমিয়ে খাবার ঢুকিয়েছিস। আর একটাতে কোল্ড ড্রিংস, আর পানির বোতল, আর ছোট্ট একটা খাতা, আর কুট্টি একটা পেন্সিল; আর কিছু তো না! তোর পেট সত্যি তোর পেট তো, নাকি কোন রাক্ষস এসে পেট বদলে দিয়ে গেছে?" রেহেনা রাগের চোটে বলল, "এখন আমি খাব, জ্বালাবি না। এনেছে কতটুক একটু টিফিন, আবার ঝগড়া বাধায়। বুঝিস না, আমার সাথে ঝগড়া করলে কি হতে পারে, জানিস? আমার বাবা কী, জানিস? আমার মা কি, তাও তো জানিস না। বাবা আদালতে কাজ করে, আর মাও আদালতে কাজ করে। আমার মা-বাবা কিন্তু টিপে ভর্তা করে দিতে পারে তোদের। এখন কথা বলিস না, যা, যা। আমি এখন সব টিফিন বের করব। আমার তিনটা বেঞ্চ লাগবে টিফিনগুলো রাখতে। তোরা উঠে তোদের সিট দিয়ে যা। গরীবের আবার বসে বসে খেতে হবে নাকি? এত যখন কষ্ট সহ্য করিস, এটুক করবি না? যত্তসব!" সবাই আর কী বলবে? তারাও জায়গা ছেড়ে দিল। তার খাবার ব্যাগ থেকে বের করে বেঞ্চে রাখতে রাখতেই তো আধা ঘণ্টার দশ মিনিট পেরিয়ে গেল। তো কি? সে দুই সেকেন্ডেই সব খাবার শেষ করে দিতে পারবে। তার যা চালু মুখ আর চালু পেট। সে সবার আগে মাশমেলোজের পুরো প্যাকেটটাই মুখের ভিতর ঢুকিয়ে দিল। দুই সেকেন্ড পর মুখ থেকে খালি প্যাকেট বের করে আনল। এরপর দু'মিনিটে গপাগপ করে মাছ, মাংস ও ডিম খেয়ে ফেলল। আর এক মিনিটে দুই বাটি বিরিয়ানিও শেষ করে ফেলল। তারপর গবগব করে সবগুলো চিকেন রোলই খেয়ে ফেলল। তারপর ভেজিটেবল খেল। তারপরও সে বলল, "খিদেটা তো কিছুতেই যাচ্ছে না। কি যে করি, এখনো তো অনেক খাবারই রয়ে গেছে, সে সবই খাই। সে কোল্ড ড্রিংস গবগব করে সবটা খেয়ে ফেলল। এরপর গোটা পিজাটা সে মুখের ভিতর ঢুকিয়ে দু' সেকেন্ডেই তাড়াতাড়ি চাবিয়ে গিলে ফেলল। এরপর সে আধা মিনিটে দুটো হটডগ খেয়ে ফেলল। সব খাবারই সে চেটেপুটে এরপর খেয়ে নিল। তারপর পানি খেয়ে রেখে তবেই উঠল। সে বলল, "ইস! কেন যে এত্ত কম খাবার দিল? ছিছিছিছি, মান-সম্মান আর কিছু থাকল না। আনার কথা ১০০ ভাগ। ১০০ ভাগের মাত্র দুই ভাগ দিয়েছে আজকে টিফিনে। আরো তো খেতে ইচ্ছে করছে, কী খাব? সে গেল। গিয়ে বলল, "তোদের প্রত্যেকের টিফিনের চার ভাগের তিন ভাগ আমায় দিয়ে দাও, দিয়ে দাও বলছি? নইলে আমার বাবা-মা কিন্তু আদালতে নিয়ে গিয়ে কঠিন শাস্তি দেবে। দাও, বলছি!" তখন সবাই বলল, "এহ! কি বলিস কি? তুই পেট ভরে খেতে থাকবি, আর আমরা বসে বসে দেখব? আমরা ততক্ষণে কবেও খাবার শেষ করেছি!" এরপর রেহেনা খুব রেগে গেল। বলল, "১০০ ভাগের ৫০ ভাগ অন্তত আমায় খেতে হবে। মা কত টিফিন আমায় দিতে হবে, তাও বোঝে না। কিনে তো দিয়েছে শুধু একটা লাগেজ ব্যাগ, সেই লাগেজ ব্যাগে করেই যতটুকু ভরে, ততটুকু টিফিন দেয়। উহ! এখন যে কী করি?" ভাবতে ভাবতে সে একটা বুদ্ধি পেল। টিচার তো একটা ব্যাগ তার হ্যান্ডব্যাগের সাথে পিনআপ করে রেখেছে। তার ব্যাগের মধ্যে ছিল অনেকগুলো টি-ব্যাগ। আর ছিল এক বড় প্যাকেট আইসিং সুগার। টিচার আবার একটু ঢঙ্গু ছিল। শুধু সুগার দিলে গলতে শুরু করে, এজন্য সে আইসিং সুগার ব্যবহার করে। রেহেনা গিয়ে চুপে চুপে তাড়াতাড়ি আইসিং সুগারের প্যাকেটটা নিয়ে নিল। সব আইসিং সুগার একবারে মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে নিল। তারপর বলল, "উহ, বাবা! ১০০% এর ২০% তো খাওয়া হলো। এবার বরং সিটে বই-খাতা নিয়ে বসি। অন্য বন্ধুরা তো খাওয়া শেষ করে লেখাও শেষ করে খাতা জমা দিয়ে দিয়েছে। আমি তো বোর্ডেরটাই শুরু করিনি, নিজে যেটা লিখতে হবে সেটা কখন লিখব? সে তাড়াতাড়ি করে খাতা বের করে লিখতে শুরু করল। ঘন্টা বাজল। কিন্তু লেখা শেষ হলো না রেহেনার। সে শুধু বারবার ঘুমিয়ে পড়ছিল। টিচার এসে এসে তাকে ডেকে দিচ্ছিল। সব বন্ধুরা তো রেহেনা যখন দেখছিল না, তখন তাকে দূর থেকে একটু ভেংচি কেটে চলে গিয়েছিল। রেহেনা তো লিখতেই পারছে না। অবশেষে এক ঘন্টা পর সে বোর্ডের লেখা শেষ করল। এখন নিজে বানিয়ে লেখার পালা। তখন সে টিচারকে বলল, "মিস! শোনেন, আপনি একটু দেখুন তো যে, পাশের ক্লাসে টিচার ঠিকমত ক্লাস নিচ্ছে কিনা! আমার তো মনে হচ্ছে না। কারণ, আগের ক্লাসে ছুটির পর আমি পাশের ক্লাসের বাচ্চাদের দেখেছিলাম। জিজ্ঞেস করেছিলাম পড়া, একটুকুও পারেনি। বোধহয় ঠিকমত পড়াচ্ছে না, গিয়ে দেখুন তো!" ক্লাসের মিস তা দেখতে চলে গেল। এই ফাকে রেহেনা টেবিলে গিয়ে অন্যদের রাখা খাতাগুলো দেখে নিল। সে একটা খাতা পট করে নিয়ে নিজের স্কার্টের ভিতর লুকিয়ে নিল। যখনই সে পারে না, তখনই সে স্কার্টটা একটু উঁচু করে দেখে আবার স্কার্টটা ঠিক করে দেয়। হঠাৎ তার লেখা শেষ হলো। সে নিজের খাতার নিচে আরেকজনের খাতাটা রেখে টিচার যখন খেয়াল করছিল না, তখন পট করে গিয়ে জমা দিল। টিচার তাকে ছুটি দিয়ে দিল। রেহেনা বাসায় ফিরে গেল। সেই যে সে পুরো এক প্যাকেট আইসিং সুগার খেয়েছিল, সেই জন্য হল তার ডায়াবেটিস। তার পুরো পরিবার ঢঙ্গু হবার কারণে সেই এলাকার সেরা ডাক্তার খোঁজা শুরু করল। তা খোঁজার জন্য লোক পাঠালো। সেইজন্য টাকা গেল। এই ক'টা দিনের জন্য তার মা-বাবাও কিছুটা সময় চাকরি ছেড়ে দিল বাচ্চার দেখাশুনা করার জন্য। সেরা ডাক্তার তো সাধারণ মানুষের ঘরে এসে রোগী দেখতে চাচ্ছে না। সেজন্য এক্সট্রা টাকা দিতে হলো। তার মা-বাবা ঢঙ্গু হবার কারণে অনেক টাকা খরচা গেল। মিষ্টি ওষুধ দিন, সুস্বাদু ওষুধ দিন যাতে খাওয়াতে কষ্ট না হয়, যাতে আগ্রহ করে খায়, আবার যাতে চুরি করেও না খেয়ে ফেলে। ইত্যাদি সুবিধা সব লাভ করতে গিয়ে বেশির ভাগ টাকাই গেল ফুরিয়ে। সেরা ডাক্তার যখন দেখল, মা-বাপ ঢঙ্গু, বেশি টাকা আদায় করা যাবে, তখন সেও আবার চালাকি শুরু করল। ২০০ টাকার কাজ ২০০০ টাকা চাইল। এখন সে তো একটাই ইস্যু দিতে পারব। সেটা হল সেরা ডাক্তারের সেরা চিকিৎসা দেবে, তাতে বেশি দাম দিতে হবে না? এই ইস্যু। এরপর অনেক অনেক টাকা খরচ গেল। এতদিন মা-বাবার আদর পেয়ে পেয়ে রেহেনা আবার খুব লাই পেয়ে গিয়েছিল। সে তখন খারাপ লাগার অভিনয় করতে লাগল, যদিও তার অসুখ সেরে গিয়েছিল, যাতে মা-বাবা চাকরি ছেড়ে তার কাছে সময় কাটায়। এইভাবে তারা গরীব হয়ে গেল। একই সাথে, অন্য বন্ধুরাও কাজ করে করে ধনী হয়ে গেল। আগে রেহানা ও তার বন্ধুদের সাথে যা ঘটেছে, তার পুরো উল্টোই হয়ে গেল। শুধুমাত্র এই ঢংয়ের জন্য আর রেহানার অহংকারের জন্য।
Thursday, July 19, 2018
আল্লাহর দয়া
এক ছিল একটি মেয়ে। তার নাম ছিল নিশি। নিশি তার মাকে জিজ্ঞেস করল, "মা! আল্লাহর উপর আমরা কিভাবে খাবারের জন্য ভরসা করি, বলতো?" মা তো প্রথমে ভাবল, এমনি পারে না তাই বলেছে। শেষের 'বলতো' কথাটি শুনে মা বলল, "তুমি কি আমি পারি কিনা সেটা দেখছ? নাকি জানতে চাইছ?" নিশি বলল, "মানে? বল না। বলতে বলেছি, বল।" মা বলল, "আল্লাহর উপর খাবারের ভরসা করব না তো কার উপর করব? খাবার খেয়ে যে বাঁচা যায়, এই সিস্টেমটাই তো আল্লাহ তৈরি করেছেন। একটা খাবার ভালো না লাগলে আমরা অন্য খাবার খেতে পারি। হাজার হাজার খাবার আল্লাহ বানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহর বানানো খাবার থেকে মানুষ আরো পাঁচমিশালী করে ভিন্ন জাতের খাবার তৈরি করছে। এমন কোন খাবার কি আছে, যা প্রাণী বা গাছ থেকে আসে না? ডিম, দুধ এসবই তো প্রাণী থেকে আসে। মাংস, মাছ এগুলোও প্রাণী থেকে আমরা পাই। গাছ থেকে আমরা ফসল, ফলমূল এসব পাই, সবজিও পাই। আর মানুষে পাঁচমিশালী করে তৈরি করেছে এরকম একটি খাবার বললাম কাস্টার্ড। কাস্টার্ড বানাতে ফলমূল লাগে, দুধও লাগে। ফলমূল গাছ থেকে আসে এবং দুধ প্রাণী থেকে আসে। প্রাণী আর গাছ কে তৈরি করেছে? এ তো খুবই সোজা। কারণ, আমাদেরকেই তো তৈরি করেছেন আল্লাহ। তাহলে আমাদের জন্য সবকিছু তো তিনিই সৃষ্টি করেছেন। এভাবেই তো আমরা খাবারের জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করি। তোমার কি মনে হয়? আল্লাহর কাছে শুধু খাবারের জন্যই ভরসা করি? বেঁচে থাকার জন্যও আল্লাহর উপরই ভরসা রাখতে হয়। কারণ, আল্লাহ চাইলে এক্ষনি সব মানুষকে ধ্বংস করে দিতে পারেন, কিন্তু আল্লাহ তা করছেন না। কারণ, তিনি পরম দয়ালু। তিনি চাইলে মৃতকেও জ্যান্ত করতে পারেন। হিংসুটে ধনীকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য তিনি তাকে ফকির করে দেন, আবার শিক্ষা পাওয়ার পর তাকে ভালো জায়গায় নিয়ে আসেন। দু:খী ফকিরকে ধনী করে দেন। এমনি এমনি ধনী করলে তো হিংসুটে হয়ে যাবে, খারাপ হয়ে যাবে। সেজন্য তিনি গরীবদের মাথায় বুদ্ধি দিয়ে দেন। উপার্জনের বুদ্ধি। মানুষ যে এত বড় বড় বিল্ডিং বানাচ্ছে। আল্লাহ তো চাইলেই অনেক জোরে ভূমিকম্প দিয়ে এসব ধ্বংস করে দিতে পারেন। কিন্তু করেন না। তিনি সবকিছুই ধ্বংস করে দিতে পারেন, কিন্তু করেন না। এটাই হচ্ছে গিয়ে আসল কথা। কারণ, তিনি পরম দয়ালু।" নিশি বলল, "আচ্ছা, আল্লাহ যতটা দয়ালু, ততটা দয়ালু কি কেউ হতে পারে? আমাদের সবার ক্লাসের টিচাররা তো একেবারেই উল্টা। সবগুলোতে A+ পেয়ে একটাতে A গ্রেড পেলে সবগুলোতেই A দিয়ে দেবে। আল্লাহ যদি এরকম করতেন, তাহলে শেষে ক'জন মানুষই বা টিকে থাকত? একজন মানুষ যদি অনেক ভালো কাজ করে একটু দোষ করে, তাহলে কি আল্লাহ তাকে জাহান্নামে দিয়ে দেন? বড় কোন দোষ হলে তিনি বাধ্য হলে তখনই একমাত্র তিনি তাকে জাহান্নামে দেন। তাহলে মানুষ একরম কেন? বুঝি না, বাপু।" মা এই প্রশ্নের কোন জবাবই দিতে পারল না। কারণ, এটাই সত্যি।
Tuesday, July 17, 2018
'দিও' এবং 'দাও' এর পার্থক্য
এক ছিল একটি মেয়ে। নাম তার সুমাত্রা। সে আবার বোকা ছিল। সে তার বন্ধু লায়লার বাড়িতে লায়লার জন্মদিনে গিয়েছিল। সে একটা গিফট নিয়ে গেল। লায়লা বলল, "ওয়াও! গিফটটা তো অনেক সুন্দর।" তখন সুমাত্রা বলল, "শোন, পরের বার তোমাকে কি গিফট দেব?" তখন লায়লা বলল, "একটা বাইসাইকেল দিও।" তারপর সুমাত্রা বাড়ি ফিরল। আরেকদিন সে এমনিতেই লায়লার বাড়িতে বেড়াতে গেল। সে বলল, "তুমি কি দিয়ে যেন তোমাকে সাহায্য করার কথা বলেছিলে? (ভুলে সাহায্য করার কথা বলেছে, আসলে বার্থডের গিফটের কথা।)" লায়লা বলল, "এখন তুমি আমাকে টিস্যু দাও।" অমনি সুমাত্রার বাবা ডাক দিল, "চলে এসো মা, আমাদের বাড়ি ফিরতে হবে। লায়লাকে বিদায় জানিয়ে চলে আস।" সুমাত্রা লায়লাকে বলল, "লায়লা, শোন! তুমি একটু আগে যা চাইলে, তোমার জন্মদিনে আমি তাই গিফট দিব। আমার মনে হয় না তুমি আগে এটা বলেছিলে। কিন্তু তাও আমি বুঝতে পারছি যে, তুমি তোমার মত বদলেছ। কারণ, তোমার যে জিনিস চাওয়ার কথা ছিল সেটা তুমি না চেয়ে বোধ হয় অন্য জিনিস চেয়েছ, কারণ তোমার সে জিনিস কম পছন্দ। ওকে, বাই, আমি আসি।" লায়লা কিছুই বুঝতে পারল না। পরে দেখা গেল, লায়লার জন্মদিনের দিন সুমাত্রা লায়লার গিফট হিসেবে একটা টিস্যু নিয়ে আসল। এরপর লায়লা বলল, "হায় হায়! তোমার না বাইসাইকেল আনার কথা ছিল। তুমি কি এনেছ? এটা কিছু গিফট দেয়ার জিনিস হলো? আর তুমি সেদিন কি বললে, আমি তো কিছু বুঝলাম না। আমি যে গিফট চাইব, সেটা বলার আগেই তুমি চলে গেলে।" তখন সুমাত্রা বলল, "ওমা! আমি জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি চাও? তুমি বললে, টিসু। আবার বললে, জিনিসটা না দিয়েই চলে যাচ্ছ কেন? বার্থডের জিনিস মানুষ সেদিন দেয়? আশ্চর্য তো। তুমিই তো গিফটটা আমার কাছে চেয়েছ। আবার বলছ যে তুমি বাইসাইকেল চেয়েছিলে? আমি তো ভাবলাম, তুমি মত বদলে টিসু চেয়েছ।" তখন আসল জিনিসটা ধরা পড়ল যে, সুমাত্রা আসলে 'দিও' কথার অর্থ আর 'দাও' কথার অর্থ গুলিয়ে ফেলেছে। যা এই গল্পের মধ্যে বোল্ড করে দেয়া আছে। তোমরা আবার এই দুটো গুলিয়ে ফেলো না।
Sunday, July 15, 2018
মায়ের চালাকি
এক ছিল একটি মেয়ে। তার নাম নুরাইদা। নুরাইদা একদিন মাকে জিজ্ঞেস করল, "মা! আমার টিচার বলেছে মায়ের কাছে ধর্ম পড়তে। ধর্মের মূল বিষয় কি?" মা বলল, "কি রে বাবা, এটাও জানিস না?" তখন মেয়েটি বলল, "তুমি আমাকে কবে শিখিয়েছ যে, আমার মনে থাকবে? তুমি কিছু জানই না, কিভাবে বাচ্চাদের পড়াতে হয়। তুমি বুঝতেই পার না। বাচ্চাকে শুধু তুই তুই করে বলে। তানিয়ার আম্মু কেমন ওকে তুমি বলে ডাকে। চকলেট দেয়। রং করতে দেয়। খেলার সময় দেয়। তুমি কিছুই দাও না। আর তুমি কেন বলছ যে, আমি প্রশ্ন করেছি কেন? তুমি জান না বুঝি? ধর্মের ক্লাস নতুন শুরু হল এ বছর। আমাকে এটুকু বলবেও না? ঠিক আছে, আমি পরীক্ষায় ফেল করব। এক সাবজেক্টে ফেল করলে আজকাল টিচাররা সব সাবজেক্টে ফেল দেয়। দিয়ে রেজাল্টটাই ফেল করে দেয়। আশ্চর্য ব্যাপার।" মা বলল, "এসব পাকা পাকা কথা তোমাকে কে শিখায়? তানিয়া তো ভাল করে দাঁত মাজে, তাই ওর মা চকলেট দেয়। পড়া শেষ করে রং করার পর নখ পরিষ্কার করে, তাই তাকে ওসব করতে দেয়। তুমি তো কিছুই কর না, তাই বললাম আর কি। তবে এখন আসল কথায় আসা যাক। নাও, ধর্মের মূল বিষয় হচ্ছে .......। কথা শেষ হতে না হতেই মেয়েটি বলল, "মা! তুমি তো বড্ড স্বার্থপর। সেলফিশ কোথাকার! কিচ্ছু বোঝ না, নাকি? এটা কোন পড়ার সময় হলো? নিজেই বলে, যখন যেই কাজের সময়, তখন সেই কাজ করতে হয়। এখন সে আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে আমি যাতে না ডিস্টার্ব করি সেজন্য আরাম করে খেয়ে নিয়েছে। খেয়েদেয়ে পেটটা ভরিয়ে ফেরেছে একেবারে। আমাকে খাবার দিয়েছ বুঝি? কেমন মা তুমি? একদম ভাল লাগে না। জ্ঞান-ট্যান কিছু নেই নাকি? খালি পেটে পড়াতে বসেছে। ঢং দেখে আর বাঁচি না।" মা বলল, "থাপ্পড় দিয়ে গালটা কিন্তু ফাটিয়ে দেব। ভাত দাও বললেই হয়, কততো কথা! শুধু শুধু তর্ক বাড়ায়। আশ্চর্য ব্যাপার, তুই কিছু বুঝিস না? দাঁড়া, আমি ভাত আনছি।" মেয়েটি বলল, "আমি দেখেছি, আজকে তুমি মুরগীর পা রান্না করেছ। কিন্তু তুমি একটাই কেন রান্না করলে? আবার তুমি গিলাও রান্না করেছ। আমি দেখেছি। তুমি আবার বড্ড স্বার্থপর। বোঝ না কিছু। আবার ঝালও দিয়েছ এক গাদি, যাতে তোমার মজা লাগে। আমি কি করব, শুনি? আমি কি মাংস খাব না? মাংসও কত অল্প রান্না করেছ।" মা মেয়ের কথা শুনে চুপ হয়ে গেল। কারণ, আসলে হয়েছে কি, সে গিলা, পা ও সবটুকু মাংস চেটেপুটে খেয়ে নিয়েছে। এখন সে কী করবে? সে বলল, "শোন্ বাবা! তুই এখন মাংস খাস না। তাহলে রাতে যখন তোর অপছন্দের পেপে ভর্তা দেব, তখন তুই তা খেতে পারবি না। রাতে তুই চেটেপুটে মাংস খাস। এখন তুই পেপে ভর্তা খা।" মেয়েটা আবার ভীষণ বুদ্ধিমতী ছিল। সে বলল, "মা, তোমার মুখটা চোরের মত লাগছে কেন? কিছু লুকাচ্ছ নাকি? এই সত্যি করে বলতো, তুমি আবার মাংস খেয়ে ফেলনি তো?" মা তো তো করে বলল, "না, বাবা! আমি তোর খাবার খেতে যাব কেন? আমি মা না? নে, তোকে আমি পেপে ভর্তা দিচ্ছি, ভালোর জন্যই বলছি। রাতে তোকে মাংস দেবনে।" তখন মা পেপেভর্তা দিয়ে ভাত মাখিয়ে আনল। বাবুটি খেয়ে ওয়াক দিল। "ছিছিছিছি, পেপেভর্তায় একটু লবণও দাওনি নাকি? কোন পেপেভর্তা হল? একদম মজা না। ছি, আমি এটা খাবই না। তুমি আমাকে মাংস দাও, নাহলে আমি পরীক্ষায় ফেল করব।" মা তো বড্ড মুশকিলে পড়ে গেল। সে এখন কী করবে? তার ইচ্ছে করছে, বমি করে সবটুকু উগড়ে দিয়ে বাচ্চাকে খাওয়াতে। কেন যে সে এই ভুলটা করল? সে তখন হোটেল থেকে কিনে নিয়ে আসল। এরপর সেইটা বাচ্চাকে খাওয়ালো। মেয়েটা বলল, "এ কি? কি বেস্বাদ! একটু নুন-মরিচ কিচ্ছু দেয়নি? তোমার রান্না কোনদিন এমন হয়? জীবনেও না। এ খাবার তো তুমি মুখেই তুলতে পার না। তাহলে তুমি এ খাবার রান্নাই করবে না। তুমি বুঝি মজা না দেখে নিজে না খেয়ে আমার উপর গচাচ্ছ? নাকি আরো কিছু! আর তুমি বাইরের পোশাক পড়লে কেন, অ্যাঁ? আমি দেখেছি, তুমি বাইরের পোশাক নিয়ে ড্রেসিং রুমে গেলে। যত্তসব।" মা তখন আবার তো তো করতে শুরু করল। বলল, "দাঁড়া, আমি একটু আসছি।" সে কটা গুড়ো মরিচের গুড়া ও সব মসলাপাতি হাতের মুঠোয় করে চুপটি করে সেটা মাখিয়ে দিল। ভাবল, এবার বুঝি মজা হবে। বাচ্চা বলল, "ঠিক আছে, আমি আরো একটু টেস্ট করে দেখি।" বাচ্চা তো এটা খেয়ে বমিই করে দিল। "ছিছিছিছি! কাঁচা সব মসলা দিয়ে এনেছে! কী সব রান্না করেছ তুমি, মা? ছি!, অখাদ্য। আমাদের যে টিচারটা মাঝেমাঝে তোমার রান্না খেতে আসে, তাকে তুমি কালকেই বলে দেব, তোমার রান্না কেমন বেস্বাদ। একটুখানি মাংস আমি কালকেই নিয়ে যাব।" এই বলে সে দৌড়ে একটা ছোট কৌটা এনে তার মধ্যে একটু মাংস ভরল। সেটা ব্যাগে ঢুকিয়ে দিল। যাতে মিস ওটা খেয়ে আর জীবনেও তার মায়ের রান্না খেতে না আসে। মা তো বড্ড ফ্যাসাদে পড়ে গেল। মেয়েটি বলল, "আমি এবার পরীক্ষায় ফেল করবই করব। তুমি তো সেটা হাড়ে হাড়েই চাও দেখছি।" মা বলল, "না, ফেল করিসনে মা! আমি তোকে চিপস, চকলেট সব এনে দেব। তুই এটাই খা। আজকে আমার মাথাটা ঘুরাচ্ছিল তো, তাই ভুলে এরকম করে রান্না করেছি।" তারপর মেয়েটি বলল, "তুমি তো এত কম রান্না কর না। বাকিটুক তুমিই খেয়েছ। আমি এটা আর খাব না। সবটুকুই তুমি খাও।" এই বলে মেয়েটি জোর করে সেটা তার মায়ের মুখে ঢুকিয়ে দিল। মা তো অজ্ঞান হয়ে গেল। এই হচ্ছে বুদ্ধিমান বাচ্চার সাথে মায়ের চালাকির ফল। তবে বাচ্চাটি কিন্তু সব বুঝেশুনেই করেছে। সে আগে সব জানত, কিন্তু সে মুখে কিছু বলছিল না। কারণ, তার কাছে কোন প্রমাণ নেই। তাই এইভাবে সে মাকে শিক্ষা দিল।
Friday, July 13, 2018
রাজকন্যার সুমতি
এক ছিল এক রাজার প্রাসাদ। সেই প্রাসাদে রাজা, রানী ও রাজকন্যা থাকত। একসময় ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেল তাদের প্রাসাদ। শুধু মানুষগুলোই রয়ে গেল। কারণ, মানুষগুলো জানালা দিয়ে আকাশটা দেখছিল এত মেঘলা হয়ে উঠেছে কেন। তাদের জানালা আবার নিচু ছিল। তাই যেই তারা ঝড়ের আভাস দেখছিল, অমনি জানালা দিয়ে লাফ দিল। মা-বাবা আবার স্বার্থপর ছিল। বিপদে পড়লে রাজা-রাণী সত্যিই খুব স্বার্থপর ছিল। তারা বাচ্চাকে ফেলে রেখে দৌড়ে পালিয়ে গেল। এখন রাজকন্যা তো একা। তবে রাজকন্যারও আবার বদভ্যাস ছিল। যা চাইত, তাই পেত। তাই সে জেদীও ছিল। যা চাবে, তা তো চাবেই। নাহলে আর কিছুই করবে না। খাবে না, ঘুমোবে না ইত্যাদি। আর দুষ্টুমি করবে। তখন সবাই জেদ পূরণ করতে বাধ্য হয়ে যাবে। এ সময়ও সে জেদ করতে শুরু করল। ঝড় থামার পর তাও মা-বাবা ভয়ে আর ফিরে এল না। অন্য কোথাও আশ্রয় নিল। রাজকন্যা দৌড়ে এদিক ওদিক কোন আশ্রয়ের খোঁজ করতে শুরু করল। সে এক বৃদ্ধ মহিলার বাড়িতে গিয়ে পৌঁছল। তবে সেই বৃদ্ধ মহিলা খুবই গরীব। সে গিয়ে বৃদ্ধ মহিলার দরজায় গিয়ে বলল, "বুড়ি মা! দরজাটা একটু খুলুন তো।" বৃদ্ধ মহিলা বলল, "কে তুমি? কি চাই?" এরপর মেয়েটি বলল, "আশ্রয় ও খাবার চাই একটু। দেয়া যাবে? আশ্রয় না হয় নাই দিলেন, একটু খাবার কি দেবেন? কারণ, আমি কুঁড়েঘরে থাকতে অভ্যস্ত নই। তাই আমি এখানে থাকতে পারব না। এর থেকে মাঝে মাঝে যেই অ্যাডভেঞ্চার করি, সেগুলোর মতই গাছের কোটরে থাকব। এখানে একটা অ্যাডভেঞ্চারের মত একটা ভাব আসে, কিন্তু কুঁড়েঘরে থাকলে সবসময়ই গরীব গরীব লাগে।" বৃদ্ধ মহিলাটি ভাবল, রাজপরিবারের মেয়েই হবে, আমি নিশ্চিত। নইলে কুঁড়েঘরে থাকার কথা উঠত না। কিন্তু যদি কুঁড়েঘরে না থাকতে পারে, তাহলে খাবার কি করে খাবে? বৃদ্ধ মহিলা দরজা খুলে বলল, "দাঁড়াও, আমার কাছে যা আছে, সেই সব খাবারই তোমাকে দেব। সবটুকুই দেব। তুমি খেলে খাও।" বৃদ্ধ মহিলা একটু তেনানো মুড়ি আর ক'টা বাসি ভাত এনে দিল। বলল, "আমার কাছে এই ছিল। খাবে নাকি? দেখে তো মনে হচ্ছে না, তুমি এগুলো খেতে পারবে। খাবে? খাও তো দেখি।" মেয়েটি বলল, "একদম নয়, এগুলো কি? পচা মুড়ি, পচা ভাত, এগুলো মানুষে খায়? এমনিতেই আমি মুড়ি আর ভাত পছন্দ করি না। তাও আবার বাসি? ছি-ছি-ছি! জীবনেও খাব না।" বুড়ি বলল, "তুমি যদি এটা না খাও, তোমার জীবন কি থাকবে? জীবনে আর খাবে কিভাবে?" তখন মেয়েটি বলল, "দরকার নেই। আমি উপোষ করেই থাকব, আর গাছের কোটরেই থাকব।" এই বলে মেয়েটি গাছের কোটরেই থাকতে শুরু করল। এরপর পরের দিন সে আবার বুড়ির কাছে এসে বলল, "বুড়ি মা, কিছু খাবার দেবে?" একই খাবার বুড়ি নিয়ে আসল। মেয়েটি নাক ঘুঁচিয়ে আবার কোটরে ফিরে গেল। দুই দিন এমন হওয়ার পর তৃতীয় দিন মেয়েটি গেল। গিয়ে কাতর কণ্ঠে বলল, "বুড়ি মা, কিছু খাবার দেবে?" বুড়ি বলল, "এই নাও। সেই তিন দিন আগের একই বাসি ভাত আর মুড়ি। তুমি কি এগুলো খাবে? খাওয়ার তো প্রয়োজন নেই। প্রশ্নই ওঠে না, তুমি নাকি এগুলো জীবনেও খাবে না। তাহলে আমি দরজাটা আটকে দেই, আর তুমি ঐ দু'দিনের মত একই কাজ কর।" মেয়েটি বলল, "না, না। আমি এগুলোই খাব। এইটাই আমি খাব। নাহলে তো আমি মরেই যাব।" এই বলে মেয়েটি মুখ বুজে ঐ খাবারই খেয়ে নিল। আর সেই খাবারই সে খেয়ে বলল, "কী মজা! কতদিন পর অনেক মজার খাবার খেলাম। বুড়ি মা, তুমি গরীব হলেও তোমার ভাগ্যটা খুবই ভাল, তুমি কী সুন্দর সুন্দর মজার খাবার খেতে পার। এইবার আমাকে একটু পানি দাও দেখি। রোদের খুব তাপ।" তখন বুড়ি মা নদীর পানি এনে দিল। এটা দেখে মেয়েটি বলল, "এটা কি ফুটানো? না না, ফুটানো হলেও হবে না। এটা কি ফিল্টার করা তো?" বুড়ি বলল, "গরীব মানুষ কি আর ফিল্টার করা পানি খেতে পারে? নদীর পানি খেয়েই জীবন কাটাই। তাই আমার কাছে যা ছিল, তাই দিয়েছি। খেতে হলে খাও, নাহলে যাও।" মেয়েটি নাক ঘুঁচিয়ে আবার চলে গেল। কিন্তু দু'তিন ঘন্টা পর আবার ফিরে এল। বলল, "বুড়ি মা, যাই হোক, তোমার ঐ পানিই আমাকে দাও।" তখন বুড়ি ঐ নদীর পানিই এনে দিল। আর সেটাই সে আপন মনে ঢক ঢক করে খেয়ে ফেলল। বলল, "বুড়ি মা, সত্যিই তোমার ভাগ্যটা ভাল। এমন মজার পানিও তুমি খাও। বাহ! অপূর্ব!" এরপর মেয়েটি আবার গাছের কোটরে গিয়ে ঢুকল। দুই সপ্তাহ পর মেয়েটি আবার অস্থির হয়ে পড়ল। সে বুড়ি মায়ের কাছে গিয়ে বলল, "বুড়ি মা, আমি আর গাছের কোটরে থাকতে পারব না। আমার ভাল লাগে না। সারাদিন শুধু গরম আর গরম। একদম ভাল লাগে না। আমি তোমার কুঁড়েঘরেই থাকব।" বুড়িমা বলল, "ঠিক আছে। পারলে এসো। মনে হয় না তো তুমি পারবে।" কিন্তু মেয়েটি বলল, "না, না, বুড়ি মা। আমি অবশ্যই পারব।" বুড়িমার বাড়িতে দুই মিনিট থাকার পর সে বলল, "বুড়ি মা, বাহ! তোমার ভাগ্যটা আসলেই দারুন। কী সুন্দর শীতল কুঁড়েঘরে তুমি থাক। কী সুন্দর ছায়া! মাটির হলে কি হবে? জানালা তো আছে। বন্ধ করাও যায়, খোলাও যায়। শীত লাগলে বন্ধ করে দেব, গরম লাগলে খুলে দেব। রোদ লাগলেও বন্ধ করে দেব। বাহ! অপূর্ব সিস্টেম। আমাদের রাজপ্রাসাদের এসি রুমের চেয়েও অপূর্ব। খুব সুন্দর।" একটু পর মেয়েটির গরম লাগতে শুরু করল। সে জানালা খুলে দিল, তাও বাতাস আসছে না। তখন বাতাস ছিল না। বুড়ি মাকে বলল, "বুড়ি মা! বলছি কি, আমার খুব গরম লাগছে। জানালা দিয়ে বাতাস আসছে না। এসি চালিয়ে দেবেন?" তখন বুড়ি মা বলল, "তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? কুড়েঘরে কোনদিন একটা পাখাই পাওয়া যায় না, আর তুমি বলছ এসি?" মেয়েটি বলল, "ঠিক আছে, কিন্তু বাতাস খাওয়ার অন্য কোন ব্যবস্থা কি নেই?" এরপর বুড়ি মা একটা কাগজের টুকরা এনে বলল, "এটা দিয়ে বাতাস কর। দেখবে, এটাতেই তোমার আরাম লাগবে।" মেয়েটি প্রথমে ভাবল, "ইস! পাখাও নয়, একেবারে কাগজের টুকরো। এতে আর কী আরাম লাগবে?" এই বলে সে বাতাস করতে শুরু করল। এরপর সে বলল, "আহ! কী সুন্দর বাতাস! এসি রুমের চেয়েও বেশি বাতাস। সুপার এসি রুমের চেয়েও বেশি বাতাস। এমনকি বরফের দেশের চেয়েও বেশি ঠাণ্ডা। বুড়িমা, তোমার ভাগ্যটা সত্যিই খুব ভাল। ধন্যবাদ।" এরপর থেকে এরকমই চলতে লাগল। মেয়েটি আর জেদ করত না। কারণ, প্রয়োজনের সময় সেই জিনিস তুচ্ছ হলেও তা ভাল লাগে।
Tuesday, July 10, 2018
ছোট্ট শিশুর উপার্জনের বুদ্ধি (Business Idea of a Kid)
এক ছিল এক গরীব পরিবার। এমন গরীব, এক পয়সাও ছিল না। কিচ্ছুই ছিল না। আর পরিবার বলতেও কিছু ছিল না। ছিল শুধু দুই ভাই-বোন। ভাইয়ের নাম নাসির, আর বোনের নাম নাফিসা। তারা তো একদিন একটু খাবার পেলে অর্ধেকের অর্ধেকও খায় না, জমিয়ে রাখে। অন্যদিন খাবার না পেলে সেদিন সেটা খায়। একসময় দেখা গেল, কোন খাবারও পাওয়া যায়নি, জমিয়ে রাখা খাবারও শেষ। তারা অবশ্য কখনো ধার করতো না। কারণ, ধার করলে যদি তা শোধ করতে না পারে, তখন কী হবে? সেই ভয়। একদিন নাফিসার একটা বুদ্ধি এল। সে তার ভাইকে বলল, "শোন, আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে। কিন্তু আমার মনে হয় তুমি এটা করতে চাইবে না। কারণ, এ বুদ্ধিটা হচ্ছে ধার করারই একটা বুদ্ধি, যা আমরা পরে শোধ করতে পারব।" নাসির বলল, "একদম না! কী বলছিস তুই? ধার? একদম ধার করা চলবে না। পরে যদি শোধ করতে না পারি!" বোন বলল, "তুমি সব সময়ই এমন কর। আগে তো শোন ব্যাপারটা। কিভাবে ধার করব আগে না জেনেই এমন বলছ কেন? আমরা একটা গ্লুয়ের মেশিন ধার করব। যাকে ইংরেজিতে বলে Glue Gun। কারণ, সেটা দিয়ে বন্দুকের মতই গ্লু বের হয়। সেটা আমি চাই। রঙিন গ্লু গান। আর একটা পেন্সিল চাই। আর কিছু চাই না। এতেই কাজ হয়ে যাবে।" নাসির বলল, "মানে, এগুলো দিয়ে কি হবে?" নাফিসা বলল, "ও তুমি বুঝবে না। তাও বলি, টেলিফোনের তার যেরকম আঁকাবাঁকা থাকে, সেইরকম করে গ্লু গুলো আমি পেন্সিলের উপর লাগিয়ে দেব। পুরো পেন্সিল এমন করা হয়ে গেলে শুকোতে রেখে দেব। শুকানো হয়ে গেলে পেন্সিলটা গ্লু য়ের ভিতর থেকে টান দেব। দেখব যে, গ্লুটা টেলিফোনের তারের মত হয়ে গেছে। এরপর সেটাকে গোল করে চুরির মতো করে গ্লু দিয়েই লাগিয়ে দেব। এরপর সেটা একটা রাবার ব্যান্ডের মত হবে। এরকম যদি আমরা অনেক বানাই, তাহলে সেগুলো বিক্রি করলে অনেক টাকা হবে। আজকে না খেলেও হবে। আজকে ধার টার করে নিয়ে আসি। কাল থেকে কাজ শুরু করব। আর যে কয়টা বিক্রি হবে, সে কয়টার টাকা দিয়ে খাবার কিনে খাব।" নাসির তাও বেশি কিছু বুঝল না। সে ভাবল, এইটুকু একটা মেয়ের বুদ্ধিতে কী-ই বা হবে? কিন্তু নাফিসার অনেক বুদ্ধি ছিল। পরের দিন নাফিসা খুব সকালে উঠেই একটা দোকানে গেল। আঠার দোকান। এখানে গিয়ে বলল, "ভাই, আমাকে একটা আঠার মেশিন দিন তো! ধার করতে চাই। এক সপ্তাহ পর ঠিক দাম পরিশোধ করে দেব। দুই-তিন দিন দেরি হলে কি খুব বেশি সমস্যা হবে? হবে না তো। তাহলে আমি কি ধার করতে পারি?" দোকানদারটা আবার ভাল ছিল। সে ভাবল, "ছোট্ট একটা গরীব মেয়ে। ধার করে শোধ করতে পারুক বা না পারুক, চেয়েছে যখন, দেই। শোধ করতে চাইলে ভাল, না পারলেও কোন সমস্যা নেই।" এরপর নাফিসা গ্লু গান নিয়ে একটা পেন্সিলের দোকানে গেল। দুই টাকার একটা পেন্সিলও ধার করল। সে ভাবল, "শুধু শোধ না করে পেন্সিলের দামটা তো আমি সুদে-আসলেও পরিশোধ করতে পারতে পারি। তাহলে এবার জিনিসগুলো নিয়ে আমি বাড়ি চলে যাই।" নাসির ওঠার আগেই সে সব কিনে নিয়ে আসল। সে প্রথমে একবার জিনিসটা ট্রাই করল। শুকানোর পর গ্লুটা বের করে দুই কোনা একসাথে আঠালো গ্লু দিয়ে লাগিয়ে দিল। এরপর সে দেখল, সত্যি চুলের রাবারের মত হয়েছে। এরপর সে আরো বানাতে লাগল। নাসির উঠে দেখল, তিনটা বানানো শেষ। সে জিজ্ঞেস করল, "তুই এগুলো কি করছিস? কোন কাজ হলো? এগুলো দিয়ে কি হবে?" নাফিসা বলল, "খাবার যোগাড় হবে। এগুলো বিক্রি করে আমি যা টাকা আয় করব, তা দিয়েই তো কিছু খাবার কেনা যাবে। খাবার না হয় কম দামেই খেলাম, বাকিটুকুর অর্ধেক দিয়ে এগুলোর মূল্য পরিশোধ করা যাবে, আর বাকি অর্ধেক যতটুকু থাকবে তা দিয়ে আবার কাঁচামাল কেনা যাবে।" এই ভেবে সে আরো বানাতে লাগল। বানাতে বানাতে বিকেল হয়ে গেল। তাও মেয়েটি বানানো থামাল না। ভাই তো তাও পাত্তা দিল না। বলল, "এগুলো দিয়ে আর কত টাকাই বা হবে?" কিন্তু আজকাল সবাই ঐ জিনিস পছন্দ করে কেনে। বিকেল পর্যন্ত নাফিসা শুধু এই কাজই করে গেল। ভাই তো বুঝতেই পারছিল না যে, এ দিয়ে আর কী টাকা হবে? নাফিসা বানানো শেষ করে নাসিরকে বলল, "তুমি এগুলো একটু বিক্রি করে আসবে?" নাসির বলল, "আমার আর কাজ নেই নাকি? এটা কোন কাজ হলো? আমি বাবা ওসব বিক্রি করতে পারব না।" নাফিসা ভাবল, "ভাবলাম, ভাইটা বানাতে সহায়তা না করুক, বিক্রিতে অন্তত সহায়তা করবে। কিন্তু তাও তো করল না! আমি ছোট মেয়ে হলেও আমিই বিক্রি করব এইগুলো।" সে একটা ঝুড়িতে করে সব রাবার ব্যান্ড নিয়ে নিউ মার্কেটে চলে গেল। দেখল, সব রাবার ব্যান্ডের দোকানেই খুব ভিড়। কিছু কিছু মানুষ ভিড়ের ঠেলায় রাবার ব্যান্ড কিনতেই পারছে না। সেও গিয়ে তার পাশে বসল। দুই সেকেন্ড না যেতেই তার দোকানেও হুড়মুড় করে মানুষ বাড়তে লাগল। একজন বলল, "আমাকে দুটো দিন তো।" আরেকজন বলল, "আমাকে তিনটি দিন তো।" আবার বলল, "একটু ছোট সাইজেরটা দেখান তো।" এই করে ভিড় বাড়তে লাগল। সে তো আর ভিড়ই সামলাতে পারছে না। মেয়ে মানুষ, তাও আবার কতটুক! এত ভিড় সামলাবে কি করে? নাসির আবার তাকে খুঁজতে বেরিয়ে গেল। নিউ মার্কেটে গিয়ে দেখল, সব দোকানেই অনেক ভিড়। হঠাৎ সে তার বোনকে দেখতে পেল। সে দৌড়ে তার বোনের কাছে গেল। বলল, "তুই এখানে কি করছিস? ওসব বিক্রি করছিস নাকি? ওসব বিক্রি করে কি হবে?" তখন নাফিসা বলল, "আমার থলেটার দিক তাকাও।" এত টাকা দেখে তার ভাই তো খুব অবাক হয়ে গেল। বলল, "এত ভিড় কিসের? তোর এই রাবার ব্যান্ড কেনার জন্য এত ভিড়? এত টাকা তুই এসব বেচে পেয়েছিস? অসম্ভব!" নাফিসা বলল, "অসম্ভবই যখন, তখন কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাক। দেখবে, ভিড়ের ঠেলায় তুমিই পড়ে যাবে।" একটু পর নাফিসার কথাই সত্যি হতে চলল। সবাই হুড়মুড় করে কিনছে আর কিনছে। "ওটা দিন, এটা দিন।" ভিড় বেড়েই চলেছে। টাকাও বাড়তেই চলেছে। ছোট একটু জিনিস, কেউ দরদামও করছে না। আবার এত ভিড়ের মধ্যে দরদাম করলে নিজেদেরই বিপদ। ভিড়ের ঠেলায় পড়েই যাওয়ার মত অবস্থা। তার ভাই দেখে তো খুব অবাক হয়ে গেল। তারপর সে নাফিসাকে বলল, "তোর বুদ্ধি তো সত্যিই খুব কাজের। তাহলে আমি ভিড় সামলাতে তোকে সাহায্য করি।" এবার ভাইও তার সাথে কাজে লেগে গেল। রাত হয়ে আসল, বিক্রি থামল না। সবাই এসেই চলেছে। কিনেই চলেছে, আর এক সময় দেখা গেল শেষই হয়ে গেল রাবার ব্যান্ড। তাও অনেক লোক নিতে না পেরে আফসোস করতে লাগল। নাফিসা ভাবল, এটা দিয়েই তাহলে আমরা ব্যবসা করব। এই থেকে শুরু হলো নাফিসা আর নাসিরের ব্যবসা। টাকা দিয়ে তারা ভাল ভাল খাবার খায়, দামও দিয়ে দিল। তার সাথে কাঁচামালও কিনতে লাগল, আবার একটা নতুন বাড়িও বানিয়ে ফেলল। ধীরে ধীরে ব্যবসা বাড়তে থাকল। একটা বড় রাবার ব্যান্ডের দোকানও বানানো হলো। আর এবার যেন তেন দোকান নয়, একেবারে দামি দামি শপিং মলের ভিতরে দোকান। সেখানে আরো ভিড়। এই করে করে তাদের জীবন চলতে লগাল। এক পর্যায়ে এসে তারা রাবার ব্যান্ডের ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে পোশাকের ব্যবসা শুরু করে দিল। তারা সুন্দর সুন্দর জামা কিনে এনে কোনটা কম সুন্দর হলে তা এডিটও করত। এভাবে তাদের ব্যবসা উঠতে উঠতে একেবারে সোনার ব্যবসায় চলে গেল। শেষ পর্যায়ে এসে তারা হীরার ব্যবসা করতে শুরু করল। এরপর থেকে তাদের তো আর সুখের শেষ নেই। তবে আমার গল্পের শেষ আছে। আর তা এখানে।
শিক্ষা: ছোট বলে কাউকে অবজ্ঞা করতে নেই।
শিক্ষা: ছোট বলে কাউকে অবজ্ঞা করতে নেই।
Sunday, July 1, 2018
সরলতার বিড়ম্বনা
এক ছিল একটি বাড়ি। সেই বাড়িতে একটি ছোট মেয়ে ছিল। ছোট বলতে দশ বছর বয়স। মেয়েটির নাম আয়েশা। কিন্তু সে ঐ ফ্যামিলির কেউ ছিল না। সেই বাড়িতে আবার একটি দয়ালু মহিলাও ছিল। কিন্তু এখন আর নেই। সে গরীব মেয়েটিকে দেখে বাড়িতে নিয়ে আসল। দয়ালু মহিলা ঐ ফ্যামিলির মেইন যে তার খুবই ভাল বন্ধু ছিল। সে ঐ মেয়েটিকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল, কিন্তু বাড়ির মালিক তাতে খুব বেশী খুশী ছিল না। কিন্তু ঐ মহিলা তার এত প্রিয় বন্ধু ছিল যে, সে তার কথা ফেলতে পারত না। আর তার কাজও নষ্ট করে দিতে পারত না। কিন্তু সেই মহিলা চলে যাওয়াতে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে না পারলেও তাকে কাজের মেয়ের মতই রাখতে শুরু করল বাড়ির মালিক। একদিন বাড়িতে অনেক মেহমান আসল। বাড়ির মালিক আয়েশাকে হুকুম করল, "যাও, তিনজন মেহমান আসছে। তিনটা ডিম রান্না কর। তার সাথে দু'জন ছোট ছোট ছেলে-মেয়েও আসছে। তাদের জন্যও দুটো ডিম রান্না কর। আর তুমি আমার জন্যও কিন্তু রান্না করবে। আর বাড়ির বাকি সদস্যদের জন্যও তুমিই রান্না করবে। এইটুকু হেল্প যদি না কর, তাহলে আর শুধু শুধু বসে বসে খেতে দেব কেন? তার সাথে পোলাওটাও তুমিই করো। আর যদি কেউ পোলাও না খায়, তাহলে তুমি ভাত রান্না করবে। আর যদি কারো ভাতেও সমস্যা থাকে, তাহলে তুমিই তাদের জন্য রুটি বানিয়ে দেবে। আর তখনকার জন্য না ফেলে রেখে এখনি কাজগুলো করে ফেল। আর কারো যদি ডিমে সমস্যা থাকে, সেজন্য একটু রোস্টও করে দাও। মেয়ে হলে কি হবে? তোমাকেই বাজার করে আনতে হবে। যাও, অনেকগুলো ডিম কিনে নিয়ে আস, আর মুরগীও কিনে নিয়ে আস। মসলাপাতি কিছু কম পড়লে সেটাও তুমি কিনে এনো, তবে টাকা আমার কাছ থেকে নিও। টাকা যেমন লাগবে, তা আমি দেব। কিন্তু কাজ কিন্তু সব তোমাকেই করতে হবে। তারা যদি বাইরের জামাকাপড় পরে থাকতে অস্বস্তি বোধ করে, সেজন্য তুমিই তাদের জন্য ঘরের পোশাক কিনে আনবে। তাদের জন্য জুতোও নিয়ে আসবে। যদিও তারা এক বেলা খেয়েই চলে যাবে। এরপর তাদের জন্য ফলমূল এনে সালাদটাও তুমিই করে দিও। আর তার সাথে কেউ যদি এমন তেল-টেল সব খাবার না খেতে চায়, সেজন্য তেল ছাড়া সবজিটাও তুমিই রান্না করো। সামান্য এটুকু হেল্প তো তোমাকেই করতে হবে। আর সব কাজ কিন্তু দশ মিনিটের মধ্যে হওয়া চাই।
মেয়েটি তো শুনতে শুনতেই কাহিল হয়ে গেল, করবে কখন? সে বলল, "দশ মিনিটে এ কাজ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ করতেই পারবে না। অন্তত আধা ঘন্টা তো দিন। আমি ঠিক সব করে নেব।" মেয়েটি মনে মনে ভাবল, "এ কী? ডিমের বেলায় তো সবার কথাই তো বলল। আমার কথাই তো বলল না। অথচ আমিই রান্না করব। আমার মাইন্ড করার কোন দরকার নেই। আমাকে কাজ করতে দেওয়া হয়েছে, আমি করি।" এরপর মেয়েটি একে একে কাজ করা শুরু করল। ৩০ মিনিটের বদলে ৩২ মিনিট লেগেছে বলে মালিক খুব রেগে গেল। মেয়েটিকে বলল, "এই আয়েশা! তোমার আক্কেলটা কি? মেহমান আসবে দুপুরে। তুমি দুই দুইটা মিনিট নষ্ট করলে? এত দেরি কর কেন কাজ করতে? দুই দুইটা মিনিট, কম কথা?" এরপর মেয়েটি বলল, "মেহমানরা তো এখনই এসে পড়বে। জামাগুলো কেমন হয়েছে, সেটা আপনি দেখুন। আমার পছন্দ তো আপনার পছন্দ নাও হতে পারে।" মহিলাটির আবার গাঢ় নীল খুবই পছন্দ ছিল। সে সবগুলো জামা গাঢ় নীল আনতে বলেছিল। একটা জামা একটু কম গাঢ় হবার কারণে মেয়েটিকে তাও কথা শুনালো। মেয়েটি তাও কিছু মনে করল না। মেহমান আসার পর সে কাপড়-চোপড়গুলো মেহমানদেরকে দিল। এরপর খাবার পরিবেশন করতে শুরু করল। কিন্তু মালিক তাকে বাধা দিল। "তুমি পরিবেশন করো না। আমরা কাকে কি দেব, সেটা তোমার ঠিক করার কথা নয়, তুমি বুঝবে না।" মেয়েটি মনে মনে বলল, "এত কিছুই যখন বুঝলাম, এটুকু আর বুঝব না? তাও যখন তার ইচ্ছা হচ্ছে, তখন সেই পরিবেশন করুক।" এই ভেবে মেয়েটি নিজের জায়গায় অর্থাৎ ছোট পাটিতে বসে পড়ল। সেই সবার প্লেট ধুয়ে টুয়ে গ্লাস ধুয়ে টুয়ে পানি পরিবেশন করেছিল। আর খাবারটুকু ঘরের মালিকই পরিবেশন করছিল। ঘরের মালিক বলল, "এই আয়শা, কিছু বোঝ না নাকি? আমি হলাম বাড়ির মালিক। তুমি নিজের খাবারটুকু নিলে না? ভাবো কি নিজেকে? আমি তোমার খাবারটাও কি বেড়ে দেব নাকি? তুমি এসে নিয়ে যাও। তবে আমিই বেড়ে দিচ্ছি, তুমি প্লেটটা নিয়ে এসো।" মেয়েটি বলল, "তার আবার কি দরকার?" মালিক রাগ হয়ে বলল, "আমার ইচ্ছে হয়েছে, তাই। তোমার খুব বেশি সমস্যা? আমার কথা অমান্য করছ কেন? প্লেটটা আগাও, ব্যস!" মেয়েটি প্লেট এগিয়ে দিল। আর মেয়েটিকে দেয়া হলো আধা চামচ ভাত। ভাত কিন্তু, পোলাও বা ভাতের সমস্যা হলে রুটি নয়। ভাত, তাও আবার আধা চামচ। আর এটুকু দিয়েই সে বলল, "তোমাকে তো খাবার দেয়া হয়ে গেছে। যাও, জায়গায় গিয়ে বস। আচ্ছা ঠিক আছে, যদি শুধু ভাত খেতে এতটাই সমস্যা হয়, তাহলে এক চা চামচ সবজি নাও।" এরপরও মেয়েটি মুখ বুজে এক চামচ সবজি নিয়েই জায়গায় গিয়ে বসল। অথচ সব খাবারই সে রান্না করেছে, সব কাজই সে করেছে। শুধু পরিবেশনটুকু মালিক করেছে। সবার পাতে সবার পছন্দমতো জিনিস দেওয়া হলো। মাংস দেওয়া হলো, যাদের মাংসে সমস্যা সবজি দেওয়া হলো, তার সাথে ডিম দেওয়া হলো। কিন্তু আয়েশা আবার ডিম খেতে এতটাই ভালোবাসতো যে, সে নিজের জন্য ভুলে একটা ডিম বেশি রেঁধে ফেলেছে। একটা ডিম বেশি দেখে মালিক একবার আয়েশার দিকে তাকালো, আবার চোখ সরিয়ে ওটা কেটে সবার জন্য আলাদা আলাদা ভাগ করে সবাইকে দিয়ে দিল। অথচ রান্নাই করেছে যে, তাকেই দেওয়া হলো না। এরপর সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করল। এরপর সবাই আবার ম্যাংগো জুস খেতে চাইল। কিন্তু তখন তো আমের সিজনই ছিল না। ছো্ট্ট ছেলেটি বলল, "বাবা! আমি ম্যাংগো জুস খেতে চাই।" তার সাথে যে মেয়েটি এসেছিল, সেও ঐ একই বায়না জুড়ে দিল। তাদের থেকে শুনে বড়রাও ভাবল, ইস! কতদিন আমের কিছু খাই না। তারাও আবার ঐ জেদই শুরু করল। এখন মালিক কি করবে বুঝতেই পারছ। সে আবার আয়েশাকে বলল, "যাও না, গিয়ে একটু জুস কিনে নিয়ে এসো। এখন অরিজিনাল পাবে না সিওর, তাও কিনে নিয়ে এসো। এবার তুমি নিজের জন্যেও আনতে পার (অরিজিনাল নেই দেখে, কারণ আমের সিজন নয়)।" তখন আয়েশা আবার হালকা চালাকি করে বলল, "তার কোন প্রয়োজন নেই। আমি আপনাদের জন্যই এনে দিচ্ছি।"- এই বলে আয়েশা জুসটাও কিনে এনে দিল। অথচ ভাল ভাল জিনিসের বেলায় আয়েশাকে কিছুই দেয়া হলো না। সহজ-সরল হওয়া ভালো হলেও জীবনে অনেক অসুবিধা আসে।
Monday, June 25, 2018
সঞ্চয়ী বউ
এক ছিল এক লোক। তার ছিল এক বউ। তার আবার একটি টাকার ড্রয়ার ছিল। ড্রয়ারে ছিল তিনটি তাক। একটাতে অনেক টাকা কিন্তু সে টাকা ব্যবহার করে না। দ্বিতীয় তাকটিতে ছিল ইমার্জেন্সির জন্য টাকা। আর সবথেকে নিচের তাকটিতে ছিল রেগুলারলি যে টাকা ইউজ করতে হয় সেই টাকা। তবে তার বর টাকা ইনকাম করত। তার অর্ধেক দিত বউকে, আর বাকি অর্ধেক লাগাতো নিজের কাজে। প্রথম ড্রয়ারে শুধু টাকা রেখেই দিয়েছে। কোনদিন ড্রয়ারটা খোলেও না, শুধু শুধু টাকা ভরে রেখেছে। আস্তে আস্তে তো অনেক দিন পার হচ্ছে। রেগুলার টাকা তো অনেকই শেষ হয়। আর ইমার্জেন্সি মানে সিরিয়াস জ্বর বা কোন অসুখ। আবার যখন রেগুলার টাকা শেষ হয়ে যায় আর মাসিক বেতনও তার বর পায় না, সেই সময় ইমার্জেন্সি ড্রয়ার থেকেই টাকা নেয়া হয়। দিন তো চলেই যাচ্ছে। একসময় দেখা গেল, তার বরের অফিসে খুব সমস্যা হয়েছে। তাই এক বছরের জন্য অফিস আর চালানো যাবে না। এই কথা শুনে লোকটি ভেঙ্গে পড়ল। এরপর সে তার বউকে বলল, "তোমার এমার্জেন্সি ড্রয়ার থেকে টাকা দাও তো!" তার বউ গিয়ে দেখল, বেশিরভাগ টাকাই খরচ হয়ে গেছে। ২০ টা ১০ টাকার নোট আছে, তার মানে ২০০ টাকা মাত্র। ২০০ টাকাই সে আপাতত বরকে দিল। তখন তার বর বলল, "আমাকে কি ৩০০ টাকা দেয়া যায়?" বউটি বলল, "কেন গো, তুমি কি করবে এত টাকা দিয়ে?" বরটা আমতা আমতা করে বলল, "আমার প্যান্টের পকেট ছিঁড়ে গেছে। আবার শার্টের বোতামও খুলে গেছে। সেগুলো আমি একটু মেরামত করব।" বউটি বলল, "তুমি কিভাবে মেরামত করবে?" বরটি রাগ হয়ে বলল, "ধূর! আমি মেরামত করব নাকি? মেরামত করাব।" এই বলে সে বারবার ৩০০ টাকা চাইতে লাগল। কিন্তু বউটি বলল, "আমার কাছে ৩০০ টাকা নেই। রেগুলার ড্রয়ার তো ফাঁকা। আর ইমার্জেন্সি ড্রয়ারে কেবল ২০০ টাকাই বেঁচে ছিল।" লোকটি বলল, "উপরের ড্রয়ার তো একদিনও খোল না। ঐ ড্রয়ারে টাকা আছে? অবশ্যই থাকবে। তোমাকে তো একদিনও দেখি না ঐ ড্রয়ার খুলতে। ঐ ড্রয়ার থেকে কি ১০০ টাকা আমাকে দেওয়া যায় না, নাকি?" বউ বলল, "আচ্ছা, তোমার কি আর শার্ট-প্যান্ট নেই? অন্যগুলো পর। হঠাৎ উপরের ড্রয়ার খুলতে যাব কেন? অনেকদিনই তো খুলি না। তাই এবারও না খুললেই হয়।" তারপর বরটি চলে গেল। এবার বউ উপরের ড্রয়ার থেকে কিছু টাকা দ্বিতীয় ড্রাজে রাখল। তারপর বর আসলে তাকে সেই দ্বিতীয় ড্রয়ার খুলেই প্রয়োজনীয় টাকা দিল। উপরের ড্রয়ারের সম্পদের হদিস বরের কাছ থেকে আড়ালেই রেখে দিল। কারণ, বর জানলে খরচ করে ফেলবে। এক সপ্তাহ পর একটি সুখবর হলো। বরের অফিস আবার চালু হয়েছে। কোনমতে সমস্যা মিটে গেছে। এরপর থেকে আগের মতই জীবন চলতে থাকল তাদের।
Friday, June 22, 2018
অন্যরকম দৈত্যের দেশ
এমন এক জায়গা আছে, যেখানে কোন মানুষ যেতে পারে না। কোন মানুষ সেই জায়গার কথা জানেও না। কিন্তু এটা আসলে কাল্পনিক। সেই জায়গায় একরকম দৈত্যরা বাস করে। তারা খুব বেশি হিংস্র নয়। তারা মূলত: মানুষের খাবারই খায়, তবে অনেক বেশি পরিমাণে। সেখানে আবার একদম উল্টো। সেটা হলো, ছেলেরা খাবার বানিয়ে বানিয়ে মেয়েদেরকে খাওয়ায়। আর মেয়েদেরই সেবা করে। একদিন একটা ছেলে দৈত্য মেয়ে দৈত্যকে খাওয়াচ্ছিল। সে প্রথমে বলল, "এই নাও তোমার দুধ-ভাতের থালা আর সবজি-ভাতের থালা। এরপর নাও তোমার মাংস-ভাতের থালা আর মাছ-ভাতের থালা।" তাদের আবার দিনে বেশি ডিম খেলেও শরীরের তাপমাত্রা ঠিকই থাকে। ছেলে দৈত্যটি বলল, "তার সাথে আছে তোমার এই তিন রকম ডিমের থালা- ভাজা, পোচ এবং সিদ্ধ। তার সাথে আছে মিষ্টান্নের থালা। এর ভিতরে পায়েস আছে, সেমাই আছে এবং কিছু ছোট ছোট মিষ্টি আছে। তুমি চাইলে দইও আনতে পারি। এবং এরপর তোমার জন্য আমি ফলের থালা নিয়ে এসেছি। দুইটা গোটা তরমুজ কেটেকুটে নিয়ে এসেছি। তার সাথে গোটা একটা কাঠালেরও ভাল ভাল গোল্লাগুলো নিয়ে এসেছি। এরপর ৫০০টা আঙ্গুর আর ৫০০টা কালো জামও আছে। তুমি তো আবার আম খেতে খুব একটা পছন্দ কর না। আর এখন আমি অদৃশ্য ও অস্পৃশ্য হয়ে মানুষের দেশে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোথাও আমি একটা পাকা আম পাইনি। তাই আর আজকে আম দিলাম না। তুমি আবার কাঁচা আম খেয়ে ছ্যাঁ ছ্যাঁ করবে। শোন, তারপর তোমাকে যে আমি কাঁঠাল দিয়েছি না, কাঁঠালের মধ্যে তো বীচি আছে। কাল আমি মানুষের দেশে অদৃশ্য ও অস্পৃশ্য হয়ে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি, ছোট্ট একটি বাচ্চা বইতে পড়ছে, "কাঁঠাল খাওয়া যায়, কাঁঠালের সাথে তার বীচিও রান্না করে খাওয়া যায়। তাই আমি বীচিও রান্না করে এনেছি। খেয়ে দেখ তো নতুন পদটা।" এক মিনিটের মধ্যেই গবগব করে সব খাবার শেষ করে ফেলল মেয়ে রাক্ষসটি। এরপর বলল, "আমার পানি কোথায়? পানি আননি? কেন আননি? আজ খুবই অল্প। মানুষ যতটুকু পানি খায়, ঠিক ততটুকু। আরো অতটুকু পানি তুমি আমাকে দেবে। আর সাথে শুনেছি, মানুষেরা নাকি জুস খায়। জুসের খোঁজ করো তো তুমি।" ছেলে দৈত্যটি বলল, "ঠিক আছে। কিন্তু জুস যে অনেক রকম হয়। কিসের জুস খাবে তুমি? দাঁড়াও, তুমি তো আবার কাঁঠাল খুব ভালবাস। তাহলে কাঁঠালের জুস কি ভালবাসবে? নিশ্চয়ই বাসবে। আমি বরং মানুষের রূপ নিয়ে মানুষের দেশে যাই। গিয়ে দোকান থেকে কাঁঠালের জুস কিনে আনব। আর আমি তো প্রয়োজন ছাড়া কিছু করি না। এখন তো শুনলাম, মানুষের দেশে আবার টোকা না কিসের বিনিময়ে জানি দোকান থেকে কিনতে হয়।" মেয়ে দৈত্যটি আবার টাকার ব্যাপারে জানত। সে বলল, "টাকা গো, টাকা। তবে সেটা এমন একটা জিনিস, যা উপার্জন করতে হয়। আর তা পাওয়া যায় ব্যাংকে। ব্যাংকে জমাও রাখা যায়। তুমি বরং সুন্দর কোন একটা ফল ফল বিক্রি কর। দেখবে, মানুষ তোমাকে টাকা দেবে। তারপর সেই টাকা দিয়ে তুমি আমার জন্য কাঁঠালের জুস কিনে আন। এক ঘন্টার মধ্যে আমার কিন্তু কাঁঠালের জুস চাই। ছেলে দৈত্যটি দৌড়ে গিয়ে মানুষ সাজল। এরপর মানুষের দেশে চলে গেল। কয়েকটা পেয়ারা নিয়ে এসে বিক্রি করতে বসল। মানুষেরা কিনল, আর টাকা দিয়ে গেল। আর সেই টাকা দিয়েই দৈত্যটি কাঁঠালের জুস কিনে নিয়ে মেয়ে দৈত্যটির কাছে গেল। আর ছেলে দৈত্যরা নিজেদের খাবার নিজেরা যোগাড় করে নিজেরাই খায়। আর অত রকম পদ নিজেরা খেতে চায় না। যা বেশি পায়, তাই খায়। নিজের জন্য আর অত কষ্ট করতে যাব কেন?
Tuesday, May 29, 2018
মজার ক্লাস
এক ছিল এক স্কুল। সে স্কুলে একদিন এক মজার শিক্ষিকা এলো। সে আবার বাচ্চাদের ৩০% পড়িয়ে ৬০% মজা দিত। আর ১০% তাদেরকে ইচ্ছামত কথা বলা ও খেলার সুযোগ দিত। এতে বাচ্চারা তার ভক্ত হয়ে যেত, আর পরীক্ষার আগে ৪০% পড়িয়ে ৬০% মজা দিত, আর ইচ্ছেমত কথা বলা ও খেলার সুযোগ টিফিন টাইমে উপভোগ করতে বলত। একদিন ক্লাসে সে পড়ানো শেষ করে বাচ্চাদের সাথে মজা করার পালা। আজকে একটু অন্যরকম হবে মজার জিনিসটা। শিক্ষিকাটি বলল, "বাচ্চারা! আজকে আমি তোমাদেরকে একটা ধাঁধা বলব। আমার নিজের বানানো ধাঁধা। বলতো, এমন কি জিনিস আছে, যা ধনী মানুষেরাও মজা দিয়ে খায় আবার গরীব মানুষদেরও পিপাসা মেটানো আর মজার খাবার খাওয়ার অসুবিধা মিটে যায়?" বাবুরা একেকজন একেক জিনিস বলতে থাকল। কারোটাই সঠিক হলো না। কারণ, সেদিন সবথেকে বুদ্ধিমান বাবুটি অনুপস্থিত ছিল। তবে তার বেস্ট ফ্রেন্ড তার কাছ থেকে বুদ্ধিমান হওয়ার চেষ্টা করেছিল। তার কাছে প্রত্যেকদিন বুদ্ধির ক্লাস করত। কিন্তু তাতে কি আর ১০০% বুদ্ধি পাওয়া যায়? ৩০%ই না হয় পাওয়া গেল। বুদ্ধিমান বাবুটির বেস্ট ফ্রেন্ড হাত জাগিয়ে বলল, "নারকেল হতে পারে?" শিক্ষিকা বললো, "কিছুটা হলেও পুরোটা হয়নি। কারণ, নারকেল তো শক্ত থাকে। শুধু পানিটাই খুব মজা দিয়ে খাওয়া যায়। বাকিটা তো সবার কাছে মজা নাও লাগতে পারে। আমার উত্তরের থেকে এটার দাম কিন্তু বেশি হয়ে যাচ্ছে।" স্কুলটির পাশের বিল্ডিংয়েই ছিল সবথেকে বুদ্ধিমান বাবুর বাড়ি। তাদের বারান্দা থেকে তার স্কুল দেখা যেত। বাবুটি তখন বারান্দায় বসে ছিল। সে বেখেয়াল হয়েছিল, কিন্তু হঠাৎ সে দেখল, সবাই খুব চেঁচামেচি করছে ক্লাসে। সে তার বেস্ট ফ্রেন্ডকে জোরে ডাক দিয়ে বলল, "তানিশা! শোন্ না। সকাল বেলা মাথাব্যথা করছিল, তাই আজ স্কুলে আসিনি। এত চিৎকার চেচামেচি করছিস কেন তোরা?" তানিশা বলল, "তোর মাথা ব্যথা ছিল? আমরা চেচামেচি করছি; কারণ মিস আমাদেরকে একটি ধাঁধা দিয়েছে। আমার উত্তরটা না সঠিক হয়নি।" বুদ্ধিমান বাবুটি বলল, "হ্যাঁ, হ্যাঁ! কি বললি? ধাঁধা? I Love ধাঁধা! বল্ না রে, কি ধাঁধা? আমিও তোদের সাথে একটু মজা করি। তুই তো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, হিংসা করবি না যে, আমরা পড়ার পর মজা করছি, আর তুই না পড়েই মজা করছিস।" তানিশা বলল, "শোন, ধাঁধাটা হচ্ছে, এমন কি জিনিস আছে, যা ধনী মানুষেরাও মজা দিয়ে খায় আবার গরীব মানুষদেরও পিপাসা মেটানো আর মজার খাবার খাওয়ার অসুবিধা মিটে যায়? এই ধাঁধাটির উত্তর আমি নারকেল বলেছিলাম, কিন্তু হয়নি; কারণ, দাম নাকি খুব বেশি, আর নারকেল নাকি খুব শক্ত। সবার পছন্দ নাও হতে পারে। তুই নিশ্চয়ই পারবি। বল্ না রে।" বুদ্ধিমান বাবুটি বলল, "এটাও এখনো পারলি না? এটা তো পানিতাল!" বুদ্ধিমান বাবুটি খুব জোরে চিৎকার দিয়ে ডাকল, "ম্যাম! আমি নিশা। উত্তরটা পানিতাল। ঠিক হলে পরের ক্লাসে জানিয়ে দিবেন। এখন আমার মা ডাকছে, বাই!" এই বলে সে দৌড়ে মা'র কাছে চলে গেল। শিক্ষিকা তানিশাকে বলল, "এ কি তানিশা? নিশাকে তো জ্বলজ্যান্ত দেখছি। ও আজকে আসল না কেন?" তানিশা বলল, "ম্যাম, ওর নাকি মাথাব্যথা। উত্তরটা কি ঠিক হয়েছে?" ম্যাম বলল, "১০০% ঠিক। ওকে আমি কালকে একটা লজেন্স দেব। মাথাব্যথা দিয়ে ধাঁধার উত্তর এত সহজেই দিয়ে দিল? ঠিক আছে। আমি যাচ্ছি। বাই, বাই, স্টুডেন্ট! তোমরা যা ইচ্ছা তাই কর। আমি একটু বেলুন নিয়ে আসছি। বেলুন নিয়ে এসে আজকে আমরা সবাই মিলে মজা করব। ফাটাবো, আজকে প্রত্যেকের জন্য দুটা দুটা করে বেলুন এনেছি। আসলে তিনটা করে দেব। কিন্তু দুটো ক্লাসে মজা করবে, আর একটা বাড়িতে নিয়ে যাবে। আর যাদের ভাই-বোন আছে, আর বেশি দরদী, তারা যাদের কোন ভাই-বোন নেই আর বাসায় খেলতেও চায় না, তাদের থেকে শেয়ার করতে পারবে। চল, আমরা মজা করি।" তারা অনেক মজা করল। পাশে যে একটা বিল্ডিং আছে, আর অসংখ্য বুড়ো-বুড়ি আছে, তা তারা মনেই রাখল না। এমন সময় প্রিন্সিপাল মিস ক্লাস ভিজিট করার জন্য আসলেন। ক্লাসে এসে তো তিনি রেগে গেলেন। কারণ, একজন দরজার দিকে একটা বেলুন ছুঁড়ে মারছিল, আর সেই মুহুর্তে প্রিন্সিপাল মিস এসে প্রিন্সিপালের মাথায় বেলুনটা লাগল। প্রিন্সিপাল তো রেগে গড়গড় করা শুরু করল। বলল, "সেলিনা! এইসব কি? এসবের জন্য কি তোমাকে নিয়োগ দিয়েছি? এটা কি ক্লাস পার্টি নাকি? কি হচ্ছে এইসব? আরেকদিন ক্লাস ভিজিট করতে এসেছিলাম, তখন দেখেছি সবাই মিলে দাবা খেলছে। যাদের দাবা পছন্দ নয়, লুডু খেলছে। আর যাদের কোনটাই পছন্দ নয়, তারা প্লেন উড়াচ্ছে। সেদিনও একটা প্লেন এসে আমার মাথায় পড়েছিল, আর এখন আবার একটা বেলুন এসে পড়ল। তোমায় আমি আজকেই বরখাস্ত করব।" শিক্ষিকা বলল, "আরে আর আপা! কি সব বলছেন? কিসের সাথে কি, পান্তা ভাতে ঘি! আজকে সব স্টুডেন্টরা আমার দেয়া ছোট্ট টেস্টে সক্কলে এমনকি বোকা স্টুডেন্টরাও ১০০ তে ১০০ পেয়েছে, আর যারা একদম ভাল করেছে, ১০০-এর ও ভাল, তাদেরকে আমি আর কিছু করতে পারিনি, ১০১ দিতে বাধ্য হলাম।" তখন আবার বুদ্ধিমান বাবুটি এসব শুনছিল। তার আবার তিন সেকেন্ডে পাঁচ পৃষ্ঠা লিখে ফেলার অভ্যাস ছিল। সে তাড়াতাড়ি একই প্রশ্ন বারবার অনেক ভালোমত সাজিয়ে ঝটপট করে এক মিনিটের মধ্যে ৬০টি কাগজ বানিয়ে ফেলল। সাথে ১০০ তে ১০০ নম্বরও লিখে দিল। আর একজনেরটা খুব ভালো দিল। আরো দু'জন বন্ধুকেও খুব ভালো করে লিখে দিল। আর তাদের ১০০ তে ১০০ না দিয়ে ১০০ তে ১০১ দিয়ে দিল। এরপর তাড়াতাড়ি পৃষ্ঠাগুলো ভাঁজ করে তানিশার দিকে নিক্ষেপ করল। দু'জনই আবার ভালো thrower ও catcher ছিল। নিশা আস্তে আস্তে তানিশাকে বলল, "শোন! আমি তো জানি যে, তোরা খুব তাড়াতাড়ি অনেক কিছু মুখস্থ করে ফেলতে পারিস। এমনকি ১০ সেকেন্ডের মধ্যেও করে পারিস আশপাশে ঢাকঢোলের শব্দ থাকলেও। তাড়াতাড়ি এগুলো সবাইকে একজন একজন করে পাস করে দে। তাড়াতাড়ি কর। খুউব তাড়াতাড়ি। এই নে তাড়াতাড়ি।" তানিশা বলল, "ধন্যবাদ, নিশা। অনেক ধন্যবাদ।" এই বলে তানিশা খুব তাড়াতাড়ি সবাইকে পাস করে দিল, আর কিছু করতে হবে না, শুধু মুখস্থ কর। আর প্রিন্সিপাল মিস খাতা দেখতে চাইলে এই কাগজটা উপরে জাগিয়ে তুলবে। আর আমি খুব তাড়াতাড়ি চোখ টিপ মারতে পারি। আমি মিসকে চোখ টিপ মারব। তুই এটা তাড়াতাড়ি তোর সামনের জনকে পাস করে দে, আর তাকেও বল সামনের জনকে পাস করে দিতে। এমন করতে করতে চলতে থাক, আর একদম সামনের বেঞ্চে চলে গেলে খুব জলদি করে পাশের বেঞ্চে পাস করে দিবি। এরকম করতে করতে এক মিনিটের মধ্যে যেন খুব তাড়াতড়ি সব ঠিকমত হয়। আর এই এক মিনিট কি করতে হবে, তা আমার জানাই আছে।" এই বলে তানিশা হাত তুলল। তানিশা প্রিন্সিপাল মিসকে বলল, "ম্যাম! আপনার তো সোনালী রং খুব পছন্দ। ঐ দেখুন, সোনালী গ্লিটারস সহ এই বেলুনটা আপনার জন্য। ঐ হার্ড বেলুনগুলোও আপনার জন্য। দেখুন, আমরা তো আপনার স্কুলের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্যই ক্লাসরুমটাকে কততো সুন্দর করে সাজিয়েছি! আরো সাজাবো ভেবে বেলুন নিয়ে এসেছি। বেলুনগুলো দিয়ে প্রথমে না হয় বাচ্চারা একটু খেলতেই পারে। একটু পর এসে আপনি দেখবেন, আপনার ক্লাসটা একদম রাজপ্রাসাদ হয়ে গেছে। আপনার স্কুলের নাম হোক, এটা কি আপনি চান না? তাহলে এই বেলুনটা নিয়ে গিয়ে বাইরে জাগিয়ে তুলে বলুন, আমার স্কুলের মত সুন্দর স্কুল আর হয় না, দেখুন বাচ্চাগুলোও কি ভালো, নিজেদের বেলুনও আমার জন্য উৎসর্গ করছে! এই কথা বলুন আপনি, আর দেখুন আপনার স্কুলের খুব নামও হতে পারে। এ কাজটা আপনি করে দেখুন না! আপনার কি মনে হয়, এটা একটা ফালতু আইডিয়া? তাই যদি মনে হয়, তাহলে আপনার স্কুলের নাম তো জীবনেও হবে না। আপনি এক্ষুণি ওদিকে গিয়ে কাজটা সেরে ফেলুন।" এই বলে তানিশা চুপ করে বসে পড়ল। প্রিন্সিপাল বলল, "ওহ! Brilliant Student! তুমি খুব বুদ্ধিমতী। শোন, তুমি এখন চুপটি করে বসে থাক, আমি এক্ষুণি এটা জাগিয়ে তুলে কাজটা সেরে আসছি।" এই বলে প্রিন্সিপাল মিস চলে গেল গ্লিটারের বেলুনটা নিয়ে। তারপর তানিশা দৌড়ে গিয়ে মিসের কাছে গেল। "ম্যাম! বুদ্ধিটা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন! আর চলবে না। প্রিন্সিপাল মিস নিশ্চয়ই অনেক সময় ধরে এ কাজ করবেন। তিনি চান, তার স্কুলের নাম হোক। আপনি এই ফাঁকে আপনার signature গুলো করে ফেলুন। তবে আপনার সিগনেচার যা সহজ, আপনি একজনকে করে দিন, আমরা ঝটপট করে কপি করে ফেলি। শুধু আরিয়ান আর সামিয়াকে রিয়ালটা দিতে হবে। তারা আবার কপি করায় খুব একটা পারদর্শী নয়।" মিস বলল, "আরে পাগল নাকি? দাও, তাড়াতাড়ি করে ফেলি।" Signature করা শেষ হতে না হতেই প্রিন্সিপাল মিস এসে হাজির। বলল, "তা তো আমি করেছি। এখন দেখি স্কুলের নাম হয় কিনা। তোমরা যে বলছ, তোমাদের টেস্ট হয়েছে, তার প্রমাণ কি?" সবাই তাদের শিট জাগিয়ে তুলল। কারোটাই ৯৯.৯৯ ই পেল না। সবাই ১০০। কেউ কেউ ১০১। প্রিন্সিপাল বলল, "বাহ! কিন্তু ১০১ যে কি করে তোমরা পেয়েছ, তা তো দেখতে হবে। আর নকল করেছ নাকি, তা তো দেখতেই হবে।" সে বেশির ভাগ স্টুডেন্টেরই পড়া নিল। সবাই খুব জলদি উত্তর দিয়ে দিল। এরপর প্রিন্সিপাল মিস চলে গেল। এরপর মিস 'নিশা' বলে জোরে ডাক দিল জানালার কাছে। "নিশা! এদিক এসো। তুমি আমাকে বাঁচালে। তোমার এত বুদ্ধি আমি আগে ভাবতে পারিনি। তবে এখন বুদ্ধি নয়, গুণও লেগেছে। আর শুধু তোমার বুদ্ধি আর গুণই নয়, তোমাদের সবার গুণ। আর তানিশার বুদ্ধি। সবাই খুব ভালো কাজ করেছ। নিশা, তোমাকে আগামীকাল আমি পাঁচটা লজেন্স এনে দেব। আর তোমার এক মাসের বেতন আমিই দিয়ে দেব। তুমি শুধু Fees Book টা আমার কাছে দিয়ে দিও। আর তোমাদের সবাইকে একটা করে ছোট চকলেট দেব। কিছু মনে করো না, যে নিশা absent থেকেই এত কিছু করে ফেলল। তবে শুধু নিশা থাকলে কিন্তু কিছুতেই আমায় উদ্ধার করতে পারত না। আর নিশা যদি present থাকত, তাহলেও তো হতো না। ঘটনাটা কি সুন্দর একের পর এক সিরিয়ালি ঘটে গেল!" এইভাবেই তারা বুদ্ধির জোরে মিসকে বাঁচিয়ে দিল।
পচা মেয়ে
এক ছিল এক মেয়ে। সে খুবই দুষ্টু ও পচা ছিল। তার দাদু তাকে বলেছিল, 'বিসমিল্লাহ' না বলে খেলে নাকি খাবারটা শয়তান খেয়ে ফেলে। সে (মেয়েটির দাদু) আবার বাড়িয়েও কিছু কথা বলত। সে বলেছিল, 'বিসমিল্লাহ' প্রথমে না বলে পরে যদি কেউ বলে, তাহলে শয়তান আবার বমি করে তা প্লেটের মধ্যে ফেলে দেয়। আসল কথাটা হলো, মাঝখানেও বলা যায়, তবে প্রথমেই বলা উচিত। আর কেউ যদি নাই বলে, তাহলে তো পুরো খাবারটাই শয়তান চেটেপুটে খেয়ে নেয়। বাবুটি আবার খুব জেদী আর পচা ছিল। একদিন তার মা একটা সুন্দর জেলির কেক তৈরি করেছিল। দেখেই সে দৌড়ে এসে সবার আগে গবগব করে অর্ধেকটা খেয়ে নিল। তখন তার বাবা আবার অফিস থেকে কাচা আম নিয়ে আসল। বাবুটি কিন্তু জেলির কেক খাওয়ার সময় 'বিসমিল্লাহ' বলেছিল। আর বলেছিল, এত সুস্বাদু জেলি কেক আমি শয়তানকে দেব নাকি? বাবা যেই এসে বলল, "মামুনি, দেখ তোমার জন্য কাঁচা আম নিয়ে এসেছি। টক হলেও খুব ভালো।" বাবুটি আবার টক খুব ঘৃণা করত। এক ফোঁটা টক কিছু দিলেই সে 'ওয়াক' বলে ফেলে দিত। দাদু আবার এমন ভাবে বলল, যাতে সে না খাওয়ার কোন চান্সই না পায়। আর যাতে না খাওয়ার কথা বললে সে খারাপ প্রমাণিত হয়। দাদু বলল, "আরে, আরে! টক আম এনেছ? আমার দাদুমনিটা তো অনেক সুন্দর করে টক আমটা খেয়ে নেবে! কোন কথা বলবে না। লক্ষ্মী হয়ে গেছে না? আর যদি না খায়, তাহলে তো আমার সোনা দাদুটা আবার পচা হয়ে যাবে। খুব পচা হয়ে যাবে। আর সেটা কি আর আমার দাদুমনি কখনো করবে নাকি? আমার দাদুমনিটা তো খুব লক্ষ্মী!" মেয়েটা বেকায়দায় পড়ে গেল। সে আবার বেশ পাকাও ছিল। তাই সে বলল, "ঠিক আছে, আমি না হয় খেয়েই নেব।" এই বলে সে নাক ভেঁচকিয়ে বিরক্তির মত শব্দ করল। এরপর আমটা খাওয়ার সময় তার 'বিসমিল্লাহ' এর কথা একদম ভালোমত মনে থাকলেও সে মনে মনে বলল, "ইস! টক আম? একদম বাজে লাগে আমার খেতে। এই টক আম আমি খেতে যাব কোন্ দু:খে শয়তান থাকতে? আমি বিসমিল্লাহ বলবই না। যাতে আমার আর বেস্বাদ খাবার না খেতে হয়। শয়তানই আমার কাজটা করে দেবে। মাও আমায় বকবে না, আমার খাওয়াও লাগবে না। আর দাদুও আমাকে পচা বলে প্রমাণিত করতে পারবে না।" তার বিসমিল্লাহর কথা একদম মনে থাকলেও সে 'বিসমিল্লাহ' বলল না। কাজটা কি সে ঠিক করল? যতই বুদ্ধি কাজে লাগাক না কেন, বিসমিল্লাহর কথা মনে না থাকলেও একটা কথা, তার জলজ্ব্যান্ত বিসমিল্লাহর কথা মনে থাকলেও সে একটুও বলল না; সে আরো ভাবল, শয়তানই বুঝি তারটা খেয়ে নেবে।" আসলে তো শয়তান আর তার বদলে আমটা পুরো খেয়ে নেবে না। বরং ভাগ বসাবে, আর মেয়েটারও খাওয়া থেকে অব্যাহতি মিলবে না, বরং তাকে যে প্রকারান্তরে শয়তানের লালাই খেতে হলো! এভাবে অতি চালাকি করতে গিয়ে সে লাভবান হবার পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্তই হলো।
Friday, May 25, 2018
মেলার ছড়া
সেই যে বসেছে মেলা
আজকে দুপুর বেলা-
দুই বোনের এক নীলা
আরেকজন শীলা।
চল্ না গিয়ে দেখে আসি মেলা,
নইলে তুই মিস করবি খেলা।
দাঁড়াও ভাই আসছি আমি
শেষ করে নেই কলা।
আজকে দুপুর বেলা-
দুই বোনের এক নীলা
আরেকজন শীলা।
চল্ না গিয়ে দেখে আসি মেলা,
নইলে তুই মিস করবি খেলা।
দাঁড়াও ভাই আসছি আমি
শেষ করে নেই কলা।
Tuesday, May 22, 2018
গরীবদের স্কুল
এক ছিল এক ধনী লোক। সে সবাইকে সমানভাবে দেখত। নিজে যা খেত, নিজের পরিবার থেকে শুরু করে ভিক্ষুককেও তাই খাওয়াতো। একদিন সে দেখল, একটি গরীব ছেলে তার মাকে বলছে, "মা! আমিও স্কুলে যেতে চাই।"
আর মা কষ্ট পাচ্ছে। পরদিন সে দেখল, একটি গরীব মেয়ে ধনী বাচ্চাদের স্কুলে যেতে দেখে কান্না করছে। লোকটি ভাবল, 'ওই বাচ্চারাও তো বাচ্চা। ওদের জন্যও তো কিছু করা উচিত। তাদেরও শিক্ষার অধিকার আছে। আমার চোখে ২জন ধরা পরলেও এমন বাচ্চা আছে অনেক। কেউ ওদের কথা না ভাবলেও আমি ভাবব। তাই প্রথমে ওই ২জন বাচ্চাকে ডাকতে হবে।' এই ভেবে সে ওই ২জন বাচ্চাদের কাছে গিয়ে বলল, "তোরা কি লেখাপড়া করতে চাস? স্কুলে যেতে চাস? তবে ওই মাঠে আমার ছোট ঘর যাতে কেউ থাকে না সেখানে তোদের বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে আয়।" গরীব বাচ্চারা এক কথায় রাজি হয়ে গেল। ওই মাঠে লোকটির যে ছোট ঘর ছিল সেটি স্কুল হিসেবে ধরা হল। সব গরীব ছেলেমেয়েরা এসে হাজির হলো ঐ ঘরে। তারপর লোকটি বলল, "আমি এখন জরুরী কিছু কথা বলল। আর এগুলো শোনার পর তোমরা এখানে পড়াশুনা করতে পারবে। তবে আমার বলা নিয়মগুলো মেনে চলবে। ভেবো না যে, খুব কঠিন। তবে শুরু করছি। প্রথম তিন মাস আমি তোমাদের ফ্রি পড়াবো। এরপর মাসের বেতন হবে ৩০ টাকা। আর বেতন দেয়ার উপায়ও বলে দিচ্ছি। তিন মাস তোমাদের এমনভাবে পড়াব, যাতে নিজেরা তো বুঝবেই, অন্যদেরকেও ভালভাবে বুঝাতে পারবে। এরপর তোমরা তোমাদের মা-বাবাকে শেখাবে, আর তাদের বলবে অন্য কোন জায়গায় টিচিং করে টাকা আয় করে আনতে।" একজন বাচ্চা হাত তুলে বলল, "টিচিং মানে কি? এরকম কথা বলছেন কেন? পাঠশালায় তো একদিনও পড়িনি। ইংরেজি শব্দ জানব কিভাবে?" লোকটি বলল, "ঠিক আছে, ঠিক আছে। টিচিং করা মানে শেখানো। তোমাদের মা-বাবা টিচিং করে যে টাকা পাবে, সেই টাকা থেকেই প্রতি মাসে ৩০ টাকা আমাকে দেবে। আর তোমরা তো লেখাপড়া করে টায়ার্ড হয়ে যাবে। সরি, টায়ার্ড নয়, ক্লান্ত। সেজন্য খাবারও দেয়া হবে। তোমাদের নিশ্চয়ই খাবারের অভাব। তবে একটু কষ্ট করে তোমাদের মা-বাবাদেরকে তাদের নিজেদের খাবার যোগাড় করতে হবে। তবে তোমাদের খাবার যোগাড় করতে হবে না। আমি তোমাদের খাবার দেব। খাবারেরও আবার মান আছে। এখানে এখন মানুষ হয়েছে ৩০ জন। ৫ টা ডিম আনা হবে একদিনে। তিনটা আম আনা হবে। আর ৩০টা স্ট্রবেরী আনা হবে। একেক দিন একেক জনের ভাগে একেক খাবার পড়বে। কেউ ঝগড়াঝাটি করবে না, আর এমনও করবে না আমি ভাল খাবার পেয়েছি, তুই পাসনি! আর কারো যদি পাঠশালায় এসে ক্লান্তি ক্লান্তি বা অস্বস্তির ভাব লাগে, তাহলে তাকে ভাল খাবার দেয়া হবে। আর তোমাদের মধ্যে যাদের যাদের খারাপ স্বভাব আছে, তাদের স্বভাব এমনিতেই ভাল হয়ে যাবে। কারণ, প্রথম এক মাস আমি সবার থেকে বেশি স্পেশাল করে তোমাদের পড়াব। সবাই নিয়মগুলো বুঝেছ? কাল থেকে তোমাদের আমি পড়াব। আর পানির ফিল্টারও থাকবে। আর একটি গ্লাস থাকবে। প্রত্যেকে একটু একটু করে ধুয়ে পানি খেয়ে তারপর বাড়ি যাবে। কেউ ডিম পেলে অর্ধেক ডিম পাবে। আমগুলোকে অনেক ভাগ করা হবে, যাতে ১০ জন পায়। আর স্ট্রবেরী পেলে তিনটা তিনটা করে পাবে। সবাই নিয়মগুলো বুঝেছ তো? দুষ্টুমি করলে কিন্তু আর পড়তে দেব না। দেখবে, আস্তে আস্তে এখানে পড়তে পড়তে তোমরা অনেক বড় হয়ে যাবে এবং তোমাদের জীবনও ধনীদের জীবনের মত হয়ে উঠতে পারে। আমি সবাইকে কিন্তু একইভাবে দেখব। কাউকে বেশি পছন্দ, কাউকে কম পছন্দ- এরকম করবো না। কিংবা কারো দিকে একটু বেশি নজর দেব না। কোন ভিক্ষুক এসে যদি একটু খাবার চায়, তাহলে নিজেদের টিফিন থেকে ছয় ভাগের এক ভাগ তাকে দিয়ে দিতে হবে কিন্তু। নইলে কিন্তু হবে না। আর যদি কোন ধনী ব্যক্তি এসে বলে, আজকে আমার ফ্রিজের খাবার শেষ হয়ে গেছে, কিনতে যেতে পারব না, তাহলে তাকেও কিছু দিতে হবে, তবে তাকে বলে দিতে হবে, বেশি অলসতা কখনো করবেন না। অলসতা করলে কোন না কোন দিন খারাপ ফলই হবে। এবার সবাই বাড়ি যাও, আর খুশীর খবরটা মা-বাবাকে জানিয়ে দাও যে, তোমরাও স্কুলে পড়তে পারবে। আর যদি তোমাদের পোশাকের দরকার হয়, তাহলে মাসে ৩০ টাকার সাথে ৫ টাকা যোগ করে ৩৫ টাকা দিতে হবে। একটা ড্রেস দিয়ে দেব। আর তোমার মা-বাবাকে পড়াতে ভুলো না। এরপর নতুন স্কুলটিতে ছাত্র-ছাত্রী বাড়তে থাকল। এরপর গরীব বাচ্চারাও একদিন খুব জ্ঞানী হয়ে উঠল। এভাবেই লোকটি অনেক বছর স্কুল চালিয়ে যাচ্ছিল। এরপর দেখা গেল, তার দেখাদেখি অন্য কিছু মানুষেরাও এরকম স্কুল খুলছে। এরপর সে স্কুলগুলো দেখেও তার কাজ বন্ধ করল না। সেও তার কাজ চালিয়ে গেল, আর অন্য স্কুলগুলোও তাদের কাজ চালিয়ে গেল। আর এখন থেকে গরীব বাচ্চাদেরও পড়াশুনার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো।
Tuesday, May 15, 2018
সবচেয়ে ধনী ও ভালো রাজা
এক ছিল এক রাজা। সে ছিল খুবই ধনী এবং ভালো। তোমরা নিশ্চয়ই ভাবছ যে, ধনী মানে অনেক হীরা-জহরত এবং সোনাদানা আছে। কিন্তু সে কতটা ধনী, গল্পটা পুরোপুরি পড়লেই বুঝতে পারবে। একদিন এক ভিক্ষুক রাজার কাছে গিয়ে বলল, "মহারাজ! আমি এখানে নতুন এসেছি। রাজ্য কেমন, রাজা কেমন, কিচ্ছু জানি না। তবে আমাকে কি একটা সাহায্য করা যাবে? আমার এখন কিচ্ছু নেই, আশ্রয়, খাবার, পানি কিচ্ছু না। আপনি কি সাহায্য করবেন?" রাজা বলল, "অবশ্যই! আমি কেমন রাজা, এক্ষুণি বুঝতে পারবে। প্রহরী! রাজ্যের পশ্চিম দিকের ঐ ছোট্ট ঘরটাতে এই ভিক্ষুককে থাকতে দাও। এক মাসের খাবার ঐ ছোট্ট ফ্রিজটাতে ভরে ফ্রিজটা তাকে দিয়ে দাও। ছ্টে একটা ওভেনও দিয়ে দাও। আর পড়ার জন্য মজার কোন বইও দিয়ে দাও। তাকে ভালো ভালো পোশাকও দাও। আর তার সাথে কয়েকদিনের মধ্যে যদি অন্য কোন ভিখারী আসে, তাহলে তাকেও ঐ ঘরেই থাকতে দেবে। এবং তাকে যে পরিমাণ জিনিস দিয়েছ, তার দ্বিগুণ জিনিস দিয়ে দেবে। তাহলে সে আরো একজন সঙ্গী পাবে। যাও, যা যা বললাম, তা তা কর।" তোমরা ভাবছ, শুধু ভিখারীর প্রতিই রাজা দয়া দেখিয়েছেন। প্রহরী যে রাজার এত কথা শুনবে, তার জন্য প্রহরীকে কিছু দেবে না, এটা ভাবছ? একদমই না। রাজা বলল, "আর প্রহরী! তুমি কাজগুলো করে আসার পর তুমি আমার ফ্রিজ থেকে তিনটা রসগোল্লা খেতে পার।" প্রহরীটা আবার মিষ্টি জিনিস খুব পছন্দ করত। সে তো শুনে ৫ মিনিটের মধ্যেই সব কাজ শেষ করে ভিখেরীকে ঐ বাড়িতে বসিয়ে দিয়ে চলে আসল। তারপর বলল, "আমার রসগোল্লাটা কি এখন নিতে পারি?" মহারাজ বলল, "এত তাড়াতাড়ি করলে যে! সব কাজ ঠিকমত করেছ তো? ও আচ্ছা, তাকে কি তুমি পানি দিয়েছ?" তখন প্রহরী "আ---!" বলল। রাজা বলল, "মিষ্টির লোভে কাজ ঠিকমত করছই না। যাও, তিন বোতল পানি দিয়ে এসো।" সে এক মিনিটের মধ্যে দৌড়ে এক চোটেই ছয় লিটারের তিনটা বড় বড় বোতল কাঁধে করে চলে গেল। আর ঐ ভিখারীকে দিয়ে এক দৌড়ে চলে আসল। এরপর বলল, "মহারাজ, আমার রসগোল্লা!" মহারাজ বলল, "মিষ্টি খাওয়ার জন্য এত তাড়াহুড়োর কি আছে? তাকে তুমি কয়েকটা ছোট ছোট পাখি দাও। আর এমন পাখি দিতে হবে, যেগুলো কথা বলতে পারে আর সবকিছু বোঝে। আর পাখিগুলোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার মত করবে না। এমন ভাব দেখাতে হবে যে, আরেকটা নতুন বন্ধুর কাছে নিয়ে যাচ্ছ, তার কাছে থাকতে পারবে। যাও, ওরকম পাখি দিয়ে আস। যাতে ভিখারীটা্ একা বোধ না করে। প্রহরী এক দৌড়ে গিয়ে তাড়াতাড়ি ওরকম পাখি খুঁজে নিয়ে ভিখারীকে দিয়ে তাড়াতাড়ি এক দৌড়ে আবার ফিরে এল। রাজাকে বলল, "মহারাজ! এবার তো আমায় রসগোল্লাগুলো দিন!" রাজা বলল, "তার বাড়ির সামনে এক ঘন্টার মধ্যে একটা টিউবওয়েল বসিয়ে দাও।" তোমরা হয়তো ভাবছ, রাজা ওয়াদা ভঙ্গ করল। কিন্তু এটা প্রহরীর ভালোর জন্যই করল। কারণ, প্রহরী তাড়াতাড়ি কাজ করতেই পারত না। একদমই করত না। এক মিনিটের কাজ এক ঘন্টায়ই করত। আর এখন তার অভ্যাসও হচ্ছে। আর তাড়াতাড়ি যদি সে সব কাজ করে, তাহলে মাসের শেষে তার টাকাটাও সে অনেক বেশি পাবে। তাই রাজা এমন করছে। অবশেষে সব কাজ করার পর রাজা খুশি হয়ে প্রহরীকে চারটা রসগোল্লা দিয়ে দিল। প্রহরী খুব খুশী হলো। তারপরে চারটা রসগোল্লা একবারেই মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল। আর একবারেই তা শেষ করে ফেলল। এরপর রাজা একদিন ভিক্ষুকের সাথে দেখা করতে গেল। সে বলল, "কেমন আছ? তোমাকে তো এক মাসের খাবার দেয়া হয়েছে। তো বিশ দিন তো চলেই গেল। দেখি তো, তুমি কতটুকু খাবার শেষ করেছ?" ভিক্ষুক রাজাকে ছোট ফ্রিজটা হাতে করে এনে দেখালো। রাজা বলল, "এ কি, তুমি তো অর্ধেকও শেষ করনি। এত কম খাও কেন?" ভিক্ষুকটি বলল, "আমার অভ্যাস নেই। তাও আমি অভ্যাসের অনেক বেশিই খেয়েছি।" রাজা তো খুব অবাক হয়ে গেল। একেই বলে অভ্যাসের বেশি? আর রাজাটি ছিল এই রকমই ধনী এবং এইরকমই ভালো। তবে এটা কাল্পনিক।
Subscribe to:
Posts (Atom)