এক ছিল এক রাক্ষস। কিন্তু সে ছিল অলস। সবাই পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে পড়ত। কিন্তু দশটা বাজার পর উঠত সেই রাক্ষসটি। তাই সে ভাল খাবার খুঁজে পেত না। এমনকি তার পরিবারের সবাইও তাকে ডাকতও না। নিজেরা নিজেরা সব খেয়ে নিত। সবসময় ঐ রাক্ষসটির ভাগে পড়ত বুড়ো মানুষ। অন্য সবাই কচি কচি ছোট্ট বাচ্চাদের খেয়ে ফেলত। রাক্ষসটি পড়ল বেকায়দায়। সে সবাইকে বলল, "আমাকে তোমরা কেন কেউ ডাক না?" সবাই বলল, "আমরা কেন তোমাকে ডাকতে যাব গো? নিজের থেকে ঘুম থেকে উঠতে পার না, এই নাকি তুমি আমাদের মত রাক্ষস? তারপর নিজে উঠে নিজের জন্য খাবারও তৈরি করতে পার না। মানুষ না খাও, অন্য অনেক খাবারও তো আছে।" তারপর থেকে পরের দিন সবাই মিলে রাক্ষসটাকে বুঝিয়ে বুঝিয়ে বলল যে, তুমি সকালে ঘুম থেকে উঠবে। কিন্তু এবার অন্য রাক্ষসরা রাত ১২টা থাকতেই কচি কচি সব জিনিস নিয়ে তাদের কোন গুপ্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখত, সকাল হলে সেগুলো খাবে। শুধু মানুষই নয়, মানুষের বাগান থেকে ফলমূল সব চুরি করে এনে রাখল, কিন্তু কচি কচি। রাক্ষস গিয়ে দেখল, সব বুড়ো-বুড়ি। রাক্ষসের আবার দু:খিনী মানুষদেরকে পছন্দ না। তাই খেতেও ভাল লাগে না। এমনিতেই তো বুড়ো-বুড়ি, তারা আবার কান্না করছিল, কারণ অন্য রাক্ষসরা সব তাদের নাতি-পুতি নিয়ে গেছে। এখন সেই রাক্ষসটা চিন্তায় পড়ল। "সবাই কেন আমাকে এমন করে?" তখন রাক্ষস ভাবল, "না, না। এভাবে না খেয়ে থাকলে চলবে না। ফল-মূল পাকা খেলে একটু ভাল লাগতে পারে। কিন্তু মানুষ একদমই না। আমি বরং ক্ষেতের সব ফসল নিয়ে নেই। প্রতিদিনই খাব ফসল। কিন্তু প্রতিদিনই তো আর মানুষ আমার জন্য ফসল লাগাবে না। রাক্ষস হয়ে কী লাভ হলো আমার? কোন যাদুশক্তি নেই। খালি ১১০ তলা বিল্ডিংয়ের মত বড়। আর আমি খাবই বা কী? সব পিচ্চি পিচ্চি। পিচ্চি পিচ্চি মানুষ, পিচ্চি পিচ্চি ফল। খেতে ভাল লাগে? আমি যদি ছোট হতাম, তাহলে এগুলোই ভাল লাগত। মানুষ হলেই ভাল ছিল। মানুষরা কত ভালো? মানুষরা এত সকালে উঠতেই পারে না। সবার এত শক্তি আছে কেন অন্য রাক্ষসদের? আর আমারই বা কেন কম শক্তি? আমি কি কোন পাপ কাজ করেছি?" একটি পিচ্চি বুড়ো মানুষ রাক্ষসটিকে দেখে ফেলল। রাক্ষসের ভাব দেখে বুঝল যে, মনে মনে কী ভাবছে সে। সেই বুড়ো মানুষটি বুঝতে পারল যে, রাক্ষসটিকে আমি যাই বলি না কেন, রাক্ষসটি আমাকে খাবে না। কারণ, আমাকে খেয়ে ফেললে তার তো কোন মজাই লাগবে না। তাই সে রাক্ষসকে বলল, "রাজা! রাজামশাই!" রাজামশাই কেন বলল জান? কারণ, রাক্ষসটিকে যদি রাক্ষস ভাই বলে, তাহলে যদি তাকে খেয়ে ফেলে! একটু পরে আবার বলল, "মহারাজ! আপনি এমন করে বসে আছেন কেন? বলুন না মহারাজ! আমি আপনার বন্ধু হয়ে যাব। ও মহারাজ! চুপ করে থাকবেন না মহারাজ! ও রাজামশাই! বলতে বলেছি। কিছু শুনছেন, রাজামশাই?" আস্তে করে বলল বুড়োমানুষটি। আস্তে করে বলায় রাক্ষসটি শুনতে পেল না। বুড়ো মানুষটি আবার জোরে করে বলল। তারপর শুনতে পেল। রাক্ষসটি বলল, "কে তুই? পিচ্চি একখানা মানুষ। তুই নাকি আমার বন্ধু রে! কী বলছিস? তুই কিসের বন্ধুর মত কাজ করেছিস? আমাকে কিছু খেতে দিয়েছিস, না আমার গায়ে ছোঁয়া দিয়েছিস? আমাকে শুধু আপনি বলা, এইটাকে কি বন্ধু বলে নাকি?" "রাজামশাই! বন্ধু এখনো পুরোপুরি হইনি। আপনাকে খাবার খেতে দেব কচি দেখে।" বুড়ো মানুষটি কি করল জান? বুড়ো মানুষটি যা দেবে, সেটাও রাক্ষস সুন্দর মজা করে খাবে। রাক্ষসটিও বোকা ছিল। বেশি ক্ষুধার বেলায় জামাও সে চিবিয়ে খেতে পারত। বুড়ো মানুষটি মানুষের মত দেখতে একটি পুতুল তৈরি করে এনে দিল রাক্ষসটিকে। কিন্তু রাক্ষস তো সেটা বুঝতে পারল না। আর ক্ষুধার বেলায় যা খায় তাই তো ভাল লাগে। পুতুলটিই চিবিয়ে চিবিয়ে সুন্দর খেয়ে ফেল। আর বুড়ো মানুষটিকে বলল, "ধন্যবাদ। তুই দেখছি খুব ভালো। তবে আমাকে আরো কিছু এনে দিতে হবে। খালি এই মানুষখানা খেলে আমার পেট ভরে না। অনেকদিন তো খাইনি।" এবার কি করল জান বুড়ো মানুষটি? বুড়ো মানুষটি তার বাগান থেকে কিছু আলু নিয়ে আলু ছিলে সব আলুগুলো মাখিয়ে মাখিয়ে পানি দিয়ে জুসের মত করল। আর সেগুলো অনেক বড় বোতলে ভরে রাক্ষসকে বলল, "এটা খেয়ে নিন মহারাজ!" "এটা কী?" "এইটা মানুষের চামড়া আমি বেটে জুস বানিয়ে এনেছি।" "আচ্ছা। তবে মানুষের চামড়াটি এত শক্ত লাগছে কেন?" "হা হা! রাজামশাই! আপনি এটা খেয়ে দেখুন। এই মানুষটি খুব শক্তিশালী ছিল। তার গায়ের জোর অনেক বেশি ছিল তো, তাই চামড়াটাও শক্ত ছিল। সে যুদ্ধ করতে গিয়ে তলোয়ার দিয়ে আঘাত লেগে অনেক চামড়াখানি যুদ্ধের জায়গায় পড়েছিল। সেগুলো এনে আমি বেটে আপনাকে খেতে দিয়েছি। খেয়ে নিন মহারাজ।" "তুই আমায় মহারাজ বলছিস কেন গো!" "মহারাজ বলব না তো কি বলব? আপনি তো মহারাজই। রাজামশাইও বলছি। কারণ, আপনি যত শক্তিশালী, আপনাকে দেখে তো রাজামশাই বা মহারাজই মনে হচ্ছে। আপনি এখন কথা না বাড়িয়ে খেয়ে নিন। রাজামশাই! আপনার আরো কিছু প্রয়োজন হলে আমি আরো এনে দেব। আর আমি তো পুরোপুরি বন্ধু হইনি, তাই আমি বেশি দিতেও পারছি না। কারণ, আমি আর বেশি যোগাড় করতে পারছি না, রাজামশাই! দয়া করে এটুকু অন্তত খেয়ে নিন। কালকের দিনটা আমি এখানে থাকতে পারব না। কালকে আমার খুব জরুরী কাজ আছে বিদেশে। বিদেশে একদিন গিয়েছিলাম। একজন লোক বলেছে, একদিন পরপর যেতে হবে বিদেশে। তাহলে যেতে আসতে একদিন, আর থাকতে একদিন দরকার। তাহলে দুইদিন পরপর আমি এখানে থাকব। আপনাকেও খেতে দেব।" দুই দিন পর পর কেন দিল জান? যাতে সবসময় ক্ষুধা থাকে। যাতে সবসময় ধোঁকা দিতে পারে। কারণ, বুড়ো মানুষটি কখনো মানুষ মেরে পাপ কাজ করতে চায় না। রাক্ষসটি বলল, "ঠিক আছে, খেয়ে নিচ্ছি। বাহ! এ যে দেখছি খুব দারুন হয়েছে। খেয়ে নিন পুরোটা। বেশি মজা হয়েছে।" "বাহ! খাওয়া তো শেষ করেছি। কিন্তু তোকে এত সুন্দর খাবার দিল কে?" "মহারাজ! দিল আবার কে? আমি নিজেই তো নিলাম যুদ্ধের জায়গা থেকে। এবার আমি বিদেশে যাই, রাজামশাই! যদি আপনি অনুমতি দেন, আমার খুব জরুরী কাজ আছে।" "ঠিক আছে, যা।" বিদেশে যাওয়ার পর বিদেশ থেকে যখন ফিরে এল, সাথে সাথেই রাক্ষসটি বলল, "কী মজা, কী মজা! আমার বন্ধু এসে গেছে। এসে গেছিস তুই? দে না একটু খাবার আমায়। তোর কাছে এত খাবার থাকে কেমনে গো, যা আমার পছন্দ? তুই তো একটি মানুষ।" "ঠিক আছে, আজকে আপনাকে দুটো কচি বাচ্চা খেতে দেব।"- বলে সে আবার পুতুল বানিয়ে বানিয়ে খেতে দিল রাক্ষসটিকে। তবে রাক্ষসটির ক্ষুধা আছেই তো। কারণ দুই দিন না খেয়ে আছে না? রাক্ষসরা তো সারাদিন শুধু খেতেই থাকে। দুটো মানুষ পেয়েই সাথে সাথে গবগব করে খেয়ে ফেলল। বলল, "তুই খুব ভাল রে! আমায় কত ভাল ভাল খাবার দিস! কালকে তুই আবার যাবি?" "হ্যাঁ, কারণ আমার খুব জরুরী কাজ।" "কী এত জরুরী কাজ তোর, বল্ না।" "ইয়ে মানে, আমার বাড়িটি না শুধু এক মাস থাকার জন্যে। তার জন্য প্রতিদিন ওখানে গিয়ে একটি করে কাপড় দেয়া লাগছে। কাপড় দিলেই তারা থাকতে দেয় আমার বাড়িতে।" এখন থেকে নিয়মিত রাক্ষসটিকে খাবার দেয়, কিন্তু দুই দিন পর পর। আমার গল্পটি শেষ, কিন্তু এটা বাস্তব নয়। এটি রূপকথা।
Saturday, April 30, 2016
Tuesday, April 19, 2016
ভাল ছেলে
এমন একটি দেশ যেখানে শুধু বিপদ আর বিপদ দিয়ে ভরা। সেই দেশের দু'জন লোক ছিল। একটি মেয়ে এবং একটি ছেলে। তাদের একটি বাচ্চা হবে। আর মায়ের মন বলছিল, তার বারবার মনে হচ্ছিল যে, তার সন্তান নবীরা ছাড়া অন্যদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল হবে। শুধু তার মায়ের মনে হচ্চিল, কিন্তু সে ভাবল যে, এটা হচ্ছে শুধু মনের ভাব, এটা সত্যি হতে পারে না। আমার সন্তান কী করে এমন হবে? না, না। আমার সন্তান নিশ্চয়ই সাধারণ সন্তান হবে। মায়ের নাম ছিল রুশতী। বাবা বলল, "রুশতী! তুমি কি ভাবছ? আমি তোমার মনের কথা বুঝতে পারছি। তুমি নিশ্চয়ই তোমার সন্তানকে নিয়ে চিন্তাই করছ। কিন্ত এটা বুঝতে পারছি না, সন্তানের ব্যাপারে তুমি কি ভাবছ? নিশ্চয়ই এটা ভাবছ যে, বাচ্চার জন্ম কখন হবে?" তখন রুশতী বলল, "না, আমি তা নিয়ে তো চিন্তা করছি, তার সাথে আমার আরো একটি চিন্তা হচ্ছে। কেন এ চিন্তাগুলো আমার মনের মধ্যে ঢুকছে, আমি বুঝতে পারছি না। কারণ, এটা সত্যি হওয়া সম্ভবনা থাকতে পারে। নাহলে আল্লাহ আমার মনের মধ্যে এমন ভাবনা দেবে কেন?" বাবা বলল, "আরে! কি ভাবছ তা তো আগে বল। সত্যি হবে কি না হবে তা আগেই ভেবো না।" রুশপী বলল, "কি ভাবনা জান? আমার মনে হচ্ছে, আমার সন্তান নবীদের ছাড়া অন্য সব মানুষের চেয়ে সবচেয়ে ভাল হবে।" বাবা বলল, "আরে, না। আমাদের সন্তান এমন কি করে হবে গো? তুমি কেমন যেন ভুল ভাবছ।" বাচ্চা হবে পরের দিন। তার পরের দিন আসতে শুরু করছে। মাঝরাত্রি। কিছুক্ষণ পরই বাচ্চা হবে। বাবা বলল, "রুশপী! তুমি শুয়ে থাক। পাতলা পাতলা খাবার খাও। আমি তোমার জন্য এনে দেই।" হয়ে গেল সেই দিন। সেই দিন হয়ে তার পরের দিন হয়ে গেল। বাচ্চা হয়ে গেল। এটি হচ্ছে পুত্র সন্তান। বাচ্চাটিকে নিয়ে তার মা-বাবা খুবই চিন্তিত। ঐ দেশটি তো বিপদের দেশ। তাই তারা খুবই চিন্তিত হলো। তারা ভাবছে, তাদের বাচ্চার যেন কোন ক্ষতি না হয়। তারা বাচ্চাকে বাড়িয়ে বাড়িয়ে তুলে বাচ্চার ৫ বছর করল। এমন সময় বিপদ আসবে। এবার শুরু হল বন্যা। ঘরের চাল ডুবে যায় ডুবে যায়। কেমন যেন তারা বাচ্চাকে নিয়ে জলদি চালের উপর উঠল। চালের উপর বসে বসে পানিতে পা ভিজিয়ে বাচ্চাকে আদর করতে লাগল। বাচ্চাটি বলল, "একটু পানি দেবে মা?" তারপর মা বলল, "ইস! এখন নিচে গেলে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে।" "বাবা, তুমি অন্তত আমাকে দাও পানি।" বাবা বলল, "এই! নিচে যাওয়ার দরকারটা কি, অ্যাঁ? এই বন্যায়ই তো পানি আছে। আর বাইরে কত পাথর ভাসছে না? পাথরগুলো দিয়ে তো পানি পরিস্কার করা যায়। কিন্তু তা করার জন্য তো মেশিন দরকার। ঠিক আছে, ওদিকটার পানিটা একটু পরিস্কার লাগছে। আমি একটু সাঁতার কেটে গিয়ে দেখি। হাতে একটু নিয়ে দেখি, পরিস্কার কিনা।" ছেলেটি বলল, "বাবা! আমিও সাঁতার কেটে যাব ওখানে।" বাবা বলে, "ধূর বাবা। না, ন, তুমি যেও না।" "ঠিক আছে, তাই হোক।" বাবা সাঁতার কেটে গিয়ে দেখল, সেখানকার পানিটা একটু ভাল আছে। সেখান থেকে হাতে করে একটু নিয়ে আসল। খেতে দিল। এইবার পরের মাস। এক সপ্তাহ পরে কি হলো জান? তখন ছিল ২০১৫ সাল। জানুয়ারী মাসেই এটা হয়েছে। কি জান? এক বড় রকমের ভূমিকম্প। বাড়ি সব ভেঙ্গে গেল। কিন্তু তারা খুবই অবাক হলো। কারণ দেখল, সব বাড়ি ভেঙ্গেছে, কিন্তু তাদের বাড়িটা ভাঙ্গেনি। একটু সিমেন্টও ভেঙ্গে পড়েনি। তাহলে মা বলল, আমি যা ভাবছিলাম তাই। কারণ, আমি ভাবছিলাম তো, আমার ছেলে নবীদের ছাড়া অন্য সবার চেয়ে খুব ভাল মানুষ হবে। নাহলে আল্লাহ কেন তাকে বাঁচিয়ে রাখবেন? অন্যদের সবার অনেকের মৃত্যু হয়েছে, একটা বাড়িও আস্ত নেই। গ্রামে কোন মানুষ নেই। তাহলে আমার ধারণাই ঠিক। এটা আমি কী দেখছি? এটা কি সত্যি হতে পারে? গরীব লোকের ছেলে কি আবার সবচেয়ে ভালো? না, না, ওকে সবসময় বাঁচিয়ে রাখতে হবে আমাদের। ওকে সবসময় নিরাপদে রাখতে হবে। কারণ, ওর যদি কোন ক্ষতি হয়, তাহলে তো সবাই আস্তে আস্তে খারাপ হতে চলবে। ও ছাড়া কে সব খারাপদেরকে ভালো করবে? আরেক বছর পর কি হলো জান? ভালো ছেলেটি জঙ্গলে গিয়ে দেখল, শিকারীরা একটি নিরীহ ময়ুরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ময়ুরটির মুখ শিকারীরা বেঁধে রেখেছে। যাতে সে কোন চিৎকার করতে না পারে, আর চিৎকার শুনে যেন সবাই উদ্ধার করতে না চলে আসে। শিকারী বলল, "সবাই শোন! এই ময়ুরটিকে বেচে আমাদের অনেক টাকা হবে। আর এই ময়ুরটি যারা পালবে, তারা তো অনেক কিছু পাবে। এই ময়ুরটি নিশ্চয়ই প্রতিদিন খুব মিষ্টি সুরে ডাকবে। সবাইকে আনন্দ দেবে। আর তাই সবাই আমাদেরকে আরো অনেক বেশি টাকা দেবে। এটা যে কিনবে তার মনে অনেক বেশি আনন্দ থাকবে। তাই সে অনেক অনেক টাকা দেবে। আমরা সবাই সেই টাকাগুলো ভাগ করে নেব। আমার ভাগেরটা অনেক বেশি থাকবে। সেই টাকা দিয়ে আমরা সবাই নানা রকম ফল ও নানা রকম সবজি কিনে খাব।" সবাই বলল, "না, না, না না, আপনি কেন বেশি খাবেন? আপনি দলের নেতা হলেই কি? আমাদেরকে একটু অন্তত বেশি দেন।" ভালো ছেলেটি ভাবল, "হায় হায়! একটি নিরীহ ময়ুরকে এভাবে কেউ বুঝি মারে? তাও আবার খুব ছোট্ট একটা শিশু ময়ুর। এই ময়ুরটি যদি তার জঙ্গলেই বাস করতে পারত, তাহলে তো ময়ুরটিরও কোন ক্ষতি হতো না। ময়ুরটি এবার এইদিকে আসলে ময়ুরটিকে যদি কেউ মারে? কেন এত খারাপ এই শিকারীরা? না, না। আমাকে সবকিছু ঠিক করে ফেলতেই হবে। ঐ ময়ুরটিকে আমাদের বাঁচাতেই হবে। কিন্তু আমার যে মাত্র ৮ বছর। বন্যার সময় তো আমার ৫ বছর ছিল। কিন্তু কিছুটা বড় হওয়াতেই কি আমি অনেক বড় হয়ে গেছি? কিন্তু এ কাজ আমি কিভাবে করব? বেচারা ময়ুর। আর এ ময়ুরটি খুবই ভালো নিশ্চয়ই। তার আচার-আচরণ তো আমি দেখিনি, কিন্তু তাকে দেখে আমি বুঝতে পারছি, সে নিশ্চয়ই খুবই ভালো হবে। কিন্তু শিকারীরা এত খারাপ কেন? আমাকে যে ঐ ময়ুরটাকে রক্ষা করতেই হবে। নাহলে বেচারা ময়ুরটি তো আর কোনদিনই তার মা-বাবাকে দেখতে পাবে না। তাকে যদি শিকারীরা বিক্রি করে দেয়। কিছু একটা আমাকে করতেই হবে। কিন্তু আমি কী করব? দেখি, শিকারীরা ময়ুরটাকে একা রেখে কোথাও যায় কিনা। তারপরে আমি ময়ুরটির বাঁধন খুলে দেব। শিকারীদের কাউকে মারার দরকার নেই। কারণ, আমি পৃথিবীর কারো কোন ক্ষতি হতে দিতে চাই না।" ভালো ছেলেটি বসে থাকল। শিকারী বলল, "সবাই শোন। এখন ময়ুরটিকে আরো শক্ত বাঁধন দিয়ে বেঁধে চল আমরা অন্য কোন প্রাণীকে খুঁজতে যাই। তাহলে আমরা নিশ্চয়ই আরো অনেক টাকা পাব।" সবাই অন্যদিকে চলে গেল। ভাল ছেলেটি ভাবল, ও বাবা! এরা দেখি চলে যাচ্ছে। এখনই যাই। বাঁধনমুক্ত করি ময়ুরটিকে। সে ময়ুরটির কাছে গেল। ময়ুরটি ভয় পেয়ে গেল। এ কি শিকারীদের মধ্যে একজন নাকি? তখন ভালো ছেলেটি বলল, "আমি বুঝতে পারছি, তুমি ভয় পেয়ে যাচ্ছ, তাই না ময়ুর?" সে বাঁধনটা খুলে দিল। কিন্তু পায়ের বাঁধনটা অনেক শক্ত ছিল। সে অনেক চেষ্টা করল। অনেক কঠিন ছিল সেই বাঁধনটি খোলা। তখন ময়ুরেরও তো মুখের বাঁধন খোলা হয়েছে। ময়ুরও ঠোঁট দিয়ে খোলার চেষ্টা করল। কিন্তু তারা খুলতে পারল না। আরো অনেক চেষ্টা করল। অবশেষে খুলতে পারল। কিন্তু ময়ুরটি তো মানুষের ভাষা জানে না। কিভাবে মানুষদেরকে ধন্যবাদ জানাবে? সে একটু তার ডানা দিয়ে ভালো ছেলেটিকে আদর করে দিল। তারপর তার মা-বাবার কাছে সে ছুটে চলে গেল। ভালো ছেলেটিও বাড়ি ফিরে গেল। মা বলল, "তুই কোথায় গিয়েছিলি? আমাকে বল। বলো না, চুপ করে আছ কেন? কোথাও দুষ্টামি করতে যাওনি তো?" ভালো ছেলে বলল, "দুষ্টামি আর কি? কি করেছি জান? জান, আমি জঙ্গলের দিকে গিয়েছিলাম।" মা বলল, "হায় হায়! তুই জঙ্গলের দিকে গিয়েছিস কেন? তুই ঠিক আছিস তো? জঙ্গলে গিয়ে কি ঘটেছিল সেটা বল তো?" "জান? সেখানে আমি দেখেছি, একটা ময়ুরকে শিকারীরা বন্দী করে রেখেছে। শিকারীরা ময়ুরটিকে বিক্রি করে দিতে চেয়েছিল। শিকারীরা যখন অন্য শিকারের খোঁজে গিয়েছিল, তখন ময়ুরটার পায়ে অনেক শক্ত বাঁধন দিয়ে ময়ুরটিকে একদম একা ফেলে রেখে তারা অন্য শিকারের খোজে গেল। আমি তখন ময়ুরটির গায়ের সব বাঁধন খুলে দিলাম। পায়েরটা তো অনেক শক্ত ছিল। পায়েরটা আমি অনেক কষ্ট করেও খুলতে পারলাম না। ময়ুর নিজেও আমাকে সাহায্য করল। অবশেষে আমি খুলতে পারলাম। তখন ময়ুরটি আমাকে ধন্যবাদ জানাতে পারছিল না। আমি বুঝতে পেরেছি, সে আমাকে ধন্যবাদ জানাতে চাচ্ছে। সে তার ডানা দিয়ে আমাকে আদর করে দেয়ার পরই আমি বুঝে গিয়েছি।" বাবা বলল, "কি বলছিস তুই? তোর কি মাথা খারাপ? তুই একা একা জঙ্গলে গিয়ে অন্যদের বাঁচাতে গিয়েছিস কেন?" ভালো ছেলেটি আবার বলল, "ও বাবা! তুমি কেন বুঝতে পারছ না? অন্যের উপকার করলে নেকী হয়। অন্যদের উপকার করলে তো তারাও মুক্তি পায়, আর আমারও একটি ভালো কাজ করা হয়। তুমি কেন এমন কথা বলছ? এমন কথা বলো না। আর ময়ুরটি আমায় ধন্যবাদও জানাতে চাচ্ছিল। আমি যদি ময়ুরটিকে না বাঁচাতাম, শিকারীরা তো ময়ুরটিকে বিক্রিই করে দিত। তখন জঙ্গলে ময়ুরের কান্না কি শুনতে পেতে চাও? ময়ুরের মা-বাবার কান্না? কেন তুমি বুঝতে পারছ না? আমি একটু আরেকজনের উপকার করেছি। তাতে তোমার কি গো?" মা বলল, "হ্যাঁ রে। খুবই ভালো কাজ করেছিস তুই। কিন্তু তুই না বুঝে শিকারীদের উপস্থিত সময়ে তুই যেন আবার যাস না।" মা বাবাকে চুপি চুপি করে বলল, "আমি যা ভাবছিলাম, তার প্রমাণ আরো একটা হয়ে গেছে। কারণ দেখেছ, ৮ বছর বয়সেই কত ভালো ভালো কাজ করছে। তাহলে আমার ভাবনাটাই কি সত্যি? আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। বিশ্বাস তো হবেই না। এটা কী করে সম্ভব? আমি বার বার ভাবছি এটা নিয়ে। দেখি, বড় হয়ে সে কী হয়। তাহলেই আমি বুঝব।" বাবা বলল, "আমারও তো তাই মনে হচ্ছে। প্রথমে তো আমি তোমার কথা শুনে একটুও বিশ্বাস করতে পারিনি। তারপরে একটা প্রমাণ আসল, একটু একটু মনের মধ্যে ঢুকল। আরও একটি ভালো কাজ করে আমার এটা সত্যিই মনে হয়ে যাচ্ছে। আমার মনের চিন্তা যে কত!" ভালো ছেলে বলল, "লুকিয়ে রেখো না মা, বাবা। কি কথা বলছ আমাকে বল না! আমি কোন রাগ করব না। কিসের কথা বল?" তখন মা বলল, "আমার যা মনে হচ্ছে, তুই শুনলে বলবি, এটা কেমন করে হয়? কি বলছি জান? আমার মনে হয়, তুমি সবচেয়ে ভালো লোক পৃথিবীর।" তখন ভালো ছেলে বলল, "ঠিক আছে। তোমার এমন চিন্তার কী আছে? এটা হবে কি করে? এটা হতে পারবে না। ধূর বাবা, এ নিয়ে কোন চিন্তা করো না তুমি।" একদিন ভালো ছেলেটি একটি পথ দিয়ে যাচ্ছিল। সেই পথের পাশে দেখল, একটি বুড়ো লোক তার ভর দিয়ে হাঁটার লাঠিটি খুঁজে পাচ্ছে না। সে বসে বসে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। দাঁড়াতেও পারে না। অনেক বৃদ্ধ তো।" তখন ভালো ছেলেটি বলল, "কে আপনি? আপনার বাড়ি কোথায়? আপনি কি কোন বিপদে পড়েছেন?" বৃদ্ধ লোকটি বলল, "তুমি কে বাবা? আমি ঐ গ্রামে বাস করি। বিপদে তো পড়েছি। কারণ, আমি আমার লাঠি ভর করে হাঁটার জন্য যে লাঠিটি ব্যবহার করতাম, সেটা হারিয়ে গেছে। আর লাঠি ছাড়া তো আমি দাঁড়াতেও পারি না। আমার লাঠিটা যে কই গেল?" ভালো ছেলেটি বলল, "আমার নাম রুহুল আমীন। আমি অনেক দূরের একটা জায়গায় বাস করি। এখানে একটু ঘুরতে এসেছি। আপনার লাঠিটা বুঝি আপনি খুজে পাচ্ছেন না? দাঁড়ান, আমি আপনার লাঠিটি খুঁজে দেখছি। আমি পথে হাঁটতে হাঁটতে একটা লাঠি পেয়েছিলাম। দেখতো এটা কি তোমার?" বৃদ্ধ লোকটি বললো, "না, না। এটা তো আমার নয়। তুমি দেখতো, আমার লাঠিটি লোহার। তাতে একটু রং করা আছে। রংটি হচ্ছে সবুজ। একটু খুঁজে দিবে? আর এই লাঠিটা তুমি যে পেয়েছ, এটা তুমি তোমার কাছে রেখে দিও।" রুহুল আমীন বলল, "খুঁজে দেব না কেন? আপনি একটু অপেক্ষা করুন। আমি তাড়াতাড়ি করে এনে দিচ্ছি। আপনার লাঠিটা কি লম্বা না খাটো?" "আমার লাঠিটি খুবই লম্বা। আর অনেক শক্ত।" "ঠিক আছে, আমি এনে দিচ্ছি।" সে ঠিকমতই লাঠিটি খুঁজে পেল। সে বৃদ্ধ লোকটিকে এটা দিয়ে বলল, "এটা কি তোমার?" "হ্যাঁ, হ্যাঁ। এটাই তো আমার। আমাকে একটু ধরে তুলবে? লাঠিটা হাতে ধরিয়ে দেয়ার জন্যেও তো একটু ধরা প্রয়োজন। দাঁড়িয়েই তো ধরতে হবে লাঠি।" "কেন তুলব না আপনাকে? এই যে আমার হাতটা ধরে উঠে পড়ুন। আস্তে আস্তে। এই নিন।" বৃদ্ধ লোকটি রুহুল আমীনের মাথায় হাত রেখে বলল, "বাবা! তুমি কত ভালো! তোমার উপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক। তুমি সুখে থেকো। তুমি আমার খুব উপকার করলে। আমি এই পথেই বেশির ভাগ চলাফেরা করি। তুমি এদিকে এসে একবার আমার খোঁজ নিও। ঐ গ্রামেই তো আমার বাড়ি। আমার বাড়িতে যেও, ঠিক আছে? এবার তুমি যাও। খুবই ভালো তুমি।" রুহুল আমীন বাড়ি ফিরে গেল। মাকে বলল, "জান মা? আমি কোথায় গিয়েছিলাম? আমি অনেক দূরে একটি পথ দিয়ে হাঁটছিলাম বেড়ানোর জন্য। পথে এক বৃদ্ধ লোক তার লাঠি হারিয়ে ফেলেছিলেন, যেটা দিয়ে তিনি ভর করে হাঁটেন। আমি সেই লাঠিটি তাকে খুঁজে দিয়েছি। তাকে আমার হাত ধরে দাঁড় করিয়ে তার হাতে সেই লাঠিটি তুলে দিয়েছি। তখন তিনি খুব খুশী হয়েছেন আমার উপর। আমাকে বলেছেন তাঁর বাড়িতে যেতে। আমিও যেতে চাই।" মা বলল, "তাই নাকি গো? খুবই ভালো কাজ করেছ তুমি।" বাবা বলল, "ও বাবা! এ তো অনেক ভালো কাজ করেছ তুমি। বেশ। তুমি এবার খাওয়া-দাওয়া কর।" মা আবার লুকিয়ে লুকিয়ে বাবাকে বলল, "তিনটি প্রমাণ পেলাম। আসলে কি যা ভাবছি তাই? বল না তুমি আমাকে। এটা কি সত্যি হতে পারে? আমার ছেলে কি করে এমন হবে?" বাবা বলল, "সত্য হতে পারে, কিন্তু আমারও তো তাই মনে হচ্ছে। তিন তিনটে প্রমাণ পেয়েছি। দুটো ভালো কাজ করেছে, আর একটি ঘটনায় আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।" সে বড় হয়ে কি হলো জান? সে হলো বাচ্চাদেরকে আরবী ও ধর্ম শিক্ষা শেখানোর এক শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম। আর সে সবসময় বাচ্চাদের নামায পড়তে শেখাতো। আর কেউ বিপদে পড়লে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করতো। তোমরাও কিন্তু এমন হওয়ার চেষ্টা করবে। ছোটবেলা থেকেই।
Wednesday, April 13, 2016
এলিয়েনের গল্প
তোমরা কি জান, এলিয়েন কাকে বলে? যারা পৃথিবীতে থাকে না, পৃথিবীরও বাইরে, অন্য গ্রহে বাস করে, তাদেরকে বলা হয় এলিয়েন। এলিয়েনের একটা পরিবার ছিল অন্য গ্রহে। তার মধ্যে তাদেরও একটি ধর্ম ছিল। তাদের প্রভুকে সবসময় দেখা যেত না, কিন্তু মাঝেমধ্যে দেখা যেত। তাদের সেই প্রভুটি কেমন দেখতে জান? তাতো বলা যায় না। অন্য গ্রহের মানুষ, আমরা কী করে বলব? সেই এলিয়েনদেরও স্কুল আছে। স্কুলে ছুটি দিল। সবাই ভাবল, কাল আমরা পৃথিবীতে ঘুরতে যাব। এলিয়েনের মা বলল, "হ্যাঁ, আমাদের তো জাদুমন্ত্র আছে। আমরা তা দিয়ে যানবাহন তৈরি করতে পারব। আর বাবা তো উড়তে পারে। ছোট যানবাহন হলেই হবে। তুমি উড়ে উড়েই তো যেতে পারবে। নাহলে আমাদের পিঠে করে নিয়ে যাবে।" বাবা বলল, "উহ! আমি কেন তোমাদের নিয়ে যাব? আমি একা একা উড়ে যাব। তোমরা যানবাহন তৈরি কর।" বাবা আগে আগে চলে গেল। আর অন্যরা যানবাহনে করে পৃথিবীতে প্রবেশ করল। এলিয়েনদের গ্রহ ছিল খুব ছোট্ট। পৃথিবীতে এসে বলল, "হায়! এ তো আমাদের ১০০টি গ্রহের সমান। কোন জায়গায় আমরা থাকব গো?" মা হেসে বলল, "হা হা হা। তোমদের জন্মের আগে আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমিও পৃথিবীতে গিয়েছিলাম। বাচ্চারা তো এলিয়েন পছন্দ করবেই। বাচ্চারা ডেকে ডেকে তাদের ঘরে বসাবে। এখন আমরা নিরূপায়। কারণ, এক বাচ্চার ঘরে গেলে আরেক বাচ্চারা কাঁদবে। অথচ একেকজন একেকটাতে থাকতে পারবে। কিন্তু ছোট্ট এলিয়েন যার বাড়িতে থাকবে, তারা তো আরো বেশি মজা করবে। থাক, আমরাও ছোটদের সাথে মজা করব। তাহলেই হবে। এবার তারা একটি বাচ্চার বাড়িতে ছোট্ট এলিয়েন থাকল, আরেকটি বাচ্চার বাড়িতে মা এলিয়েন, আরেকটি বাচ্চার বাড়িতে বাবা এলিয়েন, আরেকটি বাচ্চার বাড়িতে দাদা এলিয়েন, আরেকটি বাচ্চার বাড়িতে দাদু এলিয়েন, আরেকটি বাচ্চার ঘরে নানা এলিয়েন, আরেকটি বাচ্চার ঘরে নানু এলিয়েন। এলিয়েন বাচ্চা কি করল জান? এলিয়েন বাচ্চা সূর্য দেখে বলল, "তোমাদের প্রভু হয়তো সব বানিয়েছে। কিন্তু সূর্যটা খুবই সুন্দর। সূর্যটা তোমাদের প্রভু বানায়নি নিশ্চয়ই। এমন সুন্দর বানাতেই পারবে না।" তখন আরেকটি মানুষ বাচ্চা বলল, "আহা! তুমি বুঝতে পারছ না। তোমরাও কি প্রভু চেন নাকি?" তখন বাচ্চা এলিয়েন বলল, "প্রভু থাকবে না কেন? আমাদেরও প্রভু আছে। তোমাদের প্রভুকে একবার দেখব।" সবাই বলল, "না, আমাদের প্রভুকে দেখবেই বা কিভাবে? আমাদের প্রভুকে দেখাই যায় না।" তখন এলিয়েন বলল, "তাহলে তোমার প্রভুর নাম কি বলতো?" সবাই বলল, "প্রভুর আর নাম কি হবে আমাদের, আল্লাহ।" তখন এলিয়েন আবার বলল, "আমাদের প্রভুর কোন নামই নেই।" এবার স্কুলের ছুটি আবার শেষ হয়ে গেল। তারা ফিরে যেতে নিল। আর বাচ্চারা ওদের ধরে রাখল, "না, না। আর যেতে পারবে না।" কিন্তু এলিয়েনরা যাদু দিয়ে বাচ্চাদেরকে সরিয়ে দিয়ে ফুরুত করে সরে গেল। কেউ বুঝতে পারল না। তারপর তাকিয়ে দেখল সবাই, এলিয়েন নেই। বাচ্চারা এবার সবকিছুতেই খুব অমনোযোগী। গল্প শেষ।
গরমের দিন
গরমের দিনে রিতার দাদা রিতার ভাইকে নিয়ে ঠাণ্ডা পানিতে সাঁতার কাটছে।
রিতা: দাদা! ভাই! তোমরা সাঁতার কাটছ কেন?
দাদা: গরমের দিনে ঠাণ্ডা পানির মধ্যে থাকতে খুবই আরাম লাগে। তুমি তো ছোট। তুমি সাঁতার কাটতে পারবে না।
রিতা: তাই নাকি? অনেক ঠাণ্ডা বুঝি? তাই তো। গরমের দিনে ঠাণ্ডা জিনিসই তো ভালো লাগে। আমি সাঁতার কাটব।
ভাই: না, রিতা। দাদা বলার পরেও কেন তুমি শুনছ না? তুমি গোসল করতে পারবে না। ঠিক আছে, তবে তুমি বালতি নিয়ে এসে পুকুর থেকে পানি উঠিয়ে উঠিয়ে গোসল কর।
দাদা: খুবই ভালো হবে। তুমি মাকে বল একটি বালতি এনে দেবে। মগ দিয়ে পানি উঠিয়ে উঠিয়ে গোসল কর। দেখ খুব আরাম লাগবে।
ভাই: দাঁড়িয়ে আছ কেন গো? জলদি করে নিয়ে আস।
রিতা মায়ের কাছ থেকে বালতি ও মগ নিয়ে এল। গোসল করা শুরু করে দিল। প্রথমে এক মগ দিয়েই ভাইকে বলল, "ভাই! তোমরা এতক্ষণ ধরে এত আরাম করলে? আমার মনে হচ্ছে আমি কেন বড় একটি বালতির মধ্যে এইরূপ পানি নিয়ে সেই পানির মধ্যে বসে যাই। তোমরা কত আরমা করছ! তোমরা সেই কখন থেকে এক সেকেন্ডও পানি ছাড়া থাকলে না। আর আমি এক মগ দিয়ে আবার পানি নিতে যতটুকু সময় লাগে তার মধ্যে আমি গায়ে পানি ঢালতে পারি না। আর দাদা ভাই তো শুধু পানির মধ্যে ডুবই দিতে থাকে। আমি যদি দাদা ভাই আর তোমার মত সাতার শিখতে পারতাম, তাহলে আমিও সারাক্ষণ ডুব দিয়ে থাকতাম।
দাদা: ওরে মেয়ে! অনেকক্ষণ কি? এক সেকেন্ডও তুই ডুব দিয়ে থাকতে পারবি না। তুই কি পারবি নাকি? শ্বাস নেয়া লাগে না? আমি তো তাও শ্বাস বন্ধ করে ডুব দিতে পারি। তুই তো তাও কত ছোট। ডুব দিতেই পারবি না।
রিতা: দাদা! তুমি আমায় তুই বলে কথা বলছ কেন? 'তুমি' বলতে পার না?
দাদা: একটু রাগ হয়েছে, তাই বললাম।
রিতা: এই দাদা! আমি যদি তুমি হতাম, তাহলে খুবই ভাল হতো। কাল আমি সাঁতার শিখে পানির মধ্যে খেলব।
তখন দাদা ও ভাই দু'জনেই: রিতা! তুমি সাঁতার শিখবে। সাঁতার শেখার কোর্স আছে না, তুমি শেখানে ভর্তি হয়ে যাবে। আজকেই কোর্স করে আসবে বিকালে। এখন তো খুব সকাল। ৯টা মাত্র বাজে। জলদি জলদি গোসল করে ফেলব। ভাটি আসার আগেই জোয়ার যখন আছে, তাড়াতাড়ি করে ফেলি।
রিতা: ঠিক আছে। আমি এখনই কোর্স করব।
দাদা: ভর্তি হয়ে নাও আগে। এই তো তোমার ভাই দিয়ে আসবে কোর্সে ভর্তি করে।
ভাই: উমঁ! তুমি নিজে কেন কাজ করছ না? আমাকে দিয়ে কেন কাজ করাচ্ছ? আমি করতে পারব না। আমার আরাম লাগছে। তুমি যাও।
দাদা: এই, আমাকে বকাবকি করছ কেন? আমি কিন্তু তোমার চেয়ে বড়, ভুলে যেও না। বড়র চেয়েও বড় তোমাদের। মানে তোমাদের বাবার বাবা। এবার বুঝেছ?
রিতা: ঝগড়া করো না। দু'জন মিলেই আমাকে ভর্তি করে দেবে এখনই।
ভাই, দাদা: তুমি চুপ কর। আমাদের গোসল শেষ হয়ে নিক, তারপরে। বকা দিচ্ছি বলে আবার কান্না শুরু করে দিও না। আমাদের খুব আরাম লাগছে। আমরা একটু পরে তোমাকে ভর্তি করে দিয়ে আসব। তুমি তাড়াতাড়ি গোসল শেষ কর।
রিতা রাগ হয়ে উল্টো বকে: এই! তোমরা আমায় বকছ কেন? এত আরাম দরকার নেই।
পরের দিন সাঁতার শিখে সে পানির মধ্যে খেলল বল। পানির মধ্যে বল খেলে। সেই বলটি পুকুরের গভীরে তলিয়ে যায়। দাদা আবার ডুব দিয়ে সেটা খুঁজে বের করে আনে।
(দু'দিন পর)
রিতার আবার মিষ্টি খাওয়া নিষেধ ছিল। সে দেখল, দাদা ও তার ভাই আইসক্রিম খাচ্ছে।
রিতা: তোমরা লুকিয়ে লুকিয়ে কি খাচ্ছ?
দাদা: আইসক্রিম খাচ্ছি। তোমার খাওয়া নিষেধ। তুমি খাবে না। আইসক্রিম তো মিষ্টি।
রিতা: আইসক্রিম কি খুব মজা নাকি এমন হাউমাউ করে খাচ্ছ যে?
ভাই: খুবই মজা।
দাদা ভাইকে মাইর দিয়ে: তুমি বললে কেন, খুব মজা? ও তো এখন খেতে চাইবেই। ওর নিষেধ তুমি জান না? ভাই হয়েছ কেন তাহলে?
ভাই: আমাকে বকছ কেন? আমাকে মারছ কেন? আমি তোমাকে বলেছি যে, আমাকে মার? ওর তো খাওয়াই নিষেধ। ও তো খেতেই পারবে না। অযথা বলেছি তো কী হয়েছে? একটু কথা বলে মুখটা একটু চালু হয়। আরো বড় হয়ে মুখ দিয়ে পটর পটর কথা বলব।
তারপর রিতা একা একা বাবার পকেট থেকে টাকা নিয়ে ডাক্তারের কাছে চলে গেল। ওষুধ খেয়ে ফেলল। টাকা দিয়ে এল। তখন তার মিষ্টি খাওয়ার অনুমতি পেয়ে গেল। এখন সে মিষ্টি খেতে পারবে। সে এবার বাবা, মা, দাদা, ভাইকে রিপোর্ট দেখালো। আর বাবার পকেটটি খুলে বাবাকেও দেখাল যে, দেখ, তোমার পকেটের সব টাকা চুরি করেছে তোমার মেয়ে। চুরি করে সে ভালই করেছে। ডাক্তারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছে মিষ্টি খাওয়ার। দেখ তোমার মেয়ের রিপোর্ট।
এবার সে আইসক্রিম খাওয়া শুরু করল। তারপর ললিপপও ফ্রিজে রাখা ছিল। সেইটা বের করল। কোন গরম দেয়া নাই। বরফ হয়ে রয়েছিল, তাই একটু ধুয়ে ধুয়ে ছুটিয়ে ছুটিয়ে খেয়েছে। গরমের দিন শেষ। গল্পও শেষ।
Tuesday, April 12, 2016
মজার পিঠা
দাদীর হাতের মজার পিঠার স্বাদ,
মজার পিঠা খেতে খেতে হয়ে গেল রাত।
কী সুন্দর মজার পিঠা!
খাবে আমার মাতাপিতা।
এই পিঠাগুলো আমরা
ভাগ করে খাই।
কারণ হল মজার পিঠা
আমরা খাই তাই।
মজার পিঠা খেতে খেতে হয়ে গেল রাত।
কী সুন্দর মজার পিঠা!
খাবে আমার মাতাপিতা।
এই পিঠাগুলো আমরা
ভাগ করে খাই।
কারণ হল মজার পিঠা
আমরা খাই তাই।
Monday, April 11, 2016
বোকা মা
এক ছিল এক মহিলা। তার শখ ছিল তার ভাইবোনদের বাচ্চাদের মধ্যে তার বাচ্চাই যেন সবার বড় বোন হয়। তাই সে ভাবল যে, ইস! এখনই যদি হাসপাতালে গিয়ে পেট কেটে একটি বাচ্চা বের করে নিতাম! বোকা না মা টা? পেটে বাচ্চাই আসেনি। অথচ শুধু শুধু হাসপাতালে গিয়ে পেট কেটে যন্ত্রণা ভোগ করল। এখন সে সেইটা ভাবতে শুরু করল। তার কিন্তু বিয়েই হয়নি। সে তাড়াতাড়ি বিয়ে করার ..
শিক্ষা: সবকিছুতে প্রতিযোগিতা ও তাড়াহুড়া করতে নেই।
Sunday, April 10, 2016
Shining Star
Shine shine star
In the sky.
I can't count all
Because it is high.
Its look very shining
Day and night.
We can see the stat
At the night.
Days are also
It can't seen.
You know that color is
Yellow or green.
Q/A.
1. What is the color? Yellow, or green?
2. What about this poem we read?
Write in another copy
In the sky.
I can't count all
Because it is high.
Its look very shining
Day and night.
We can see the stat
At the night.
Days are also
It can't seen.
You know that color is
Yellow or green.
Q/A.
1. What is the color? Yellow, or green?
2. What about this poem we read?
Write in another copy
Saturday, April 9, 2016
ভালো লোক
এক ছিল এক গরীব কিন্তু খুব ভালো লোক। সে আল্লাহর কথা খুব ভালো করে মানতো। এমনকি তার কাছে এক চিমটিও টাকা ছিল না। তার যা আছে তা দিয়েই সে টুপি আর দিক গণনা করার কম্পাস কিনল। যা দিয়ে সে বুঝতে পারবে নামায কোথায় পড়তে পারব আর নামায কোথায় পড়তে পারব না। আল্লাহ তার পরীক্ষা নিচ্ছিলেন যে, সে কি এতটাই সৎ লোক? কি দিয়ে জান? সে তো জায়নামাযও কিনেছিল তার যা আছে তা দিয়ে, ছো্ট্ট একটি জায়নামায। সে দেশে-বিদেশে হেঁটে হেঁটে বেড়াতো। দেখতো, তার মতো কোন সৎ লোক আছে কিনা, যে গরীব মানুষদেরকে তার কিছু অংশ দান করে। আর সে নামাযের সময় হলেই কোন না কোন জায়গা থেকে আযান শোনার চেষ্টা করে। আর জায়নামায, দিক গণনা করার কম্পাস আর টুপিটি সে সবসময় সঙ্গে রাখে; যাতে সে নামাযটা ভালো করে পড়তে পারে। খাবার-দাবার সেগুলো তার কাছে তেমন মূল্যবান নয়। তার কাছে আল্লাহকে মানা এবং আল্লাহর কথামতো চলা এগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন মোনাজাত করতো। প্রত্যেক নামাযের পর। এখন আল্লাহ তার পরীক্ষা নিচ্ছিলেন কিভাবে, সেটার বর্ণনা দিচ্ছি। যে দেশে অনেক ঝড় হয়, অনেক জোরে বৃষ্টি হয়, অনেক জোরে বাতাস ওঠে- এমন জায়গা গেল সৎ লোকের খোঁজে। আল্লাহ পরীক্ষা নিচ্ছিলেন, সে এখন নামায কি করে পড়ে। আল্লাহ অনেক জোরে ঝড় উঠিয়ে দিলেন। কম্পাস ও জায়নামায দুটিই উড়ে গেল। সে এখন আল্লাহর কাছে জিজ্ঞেস করল যে, "আল্লাহ জায়নামাযটা তো গেলই, জায়নামায না থাকলেও এমনি মাটিতে বসে পড়তে পারতাম, কিন্তু কম্পাসটা যে উড়ে গেল, আমি দিক কিভাবে বুঝব? নামায কোন দিকে ঘুরে পড়তে হবে, সেটাই তো বুঝতে পারছি না। আল্লাহ, তুমি আমাকে বুঝিয়ে দাও, কিভাবে আমি কোন্ দিকে নামায পড়ব।" এইটাই হচ্ছে তার এক নম্বর পরীক্ষা। সে পরীক্ষায় পাস করতে পারল। কারণ সে নামাযের জন্য আল্লাহর কাছে খুবই কাকুতি মিনতি করল। আল্লাহ খুশী হয়ে উল্টো দিকে ঝড় উঠিয়ে কম্পাস ও জায়নামায দুটিই ফিরিয়ে দিলেন। সৎ লোকটি খুব খুশী হলো। সে বলল, "আলহামদুলিল্লাহ।" সে জায়নামায ও কম্পাস পেয়েই নামায পড়া শুরু করে দিল। সে অন্য সময় তো সময় পায় না সব রাকাত পড়ার, শুধু ফরযটুকু পড়তে পারে। এখন সে সুন্নত, বেতের সব পড়ল। পড়ে সে আবার পথে চলতে লাগল। আল্লাহ তার দ্বিতীয় পরীক্ষাটা নিতে চাচ্ছিলেন। কি দিয়ে জান? তখন আল্লাহ সব নদীর পানি শুকিয়ে দিলেন। তখন বর্ষাকাল ছিল। তাও কোন বৃষ্টি আল্লাহ দিচ্ছিলেন না। এখন নামাযের সময় হয়ে এসেছে। নামাযের সময় সেই লোকটি ওযুর পানি পাচ্ছিল না। সে আল্লাহর কাছে জিজ্ঞেস করল যে, "আল্লাহ! তুমি কেন আমার সাথে এরকম করছ? আল্লাহ তুমি আমার আশেপাশের নদী কেন বন্ধ করে দিয়েছ, আল্লাহ? একটুখানি পানি তো আমাকে দাও।" এখন আল্লাহ তার মনের মধ্যে বুদ্ধি দিয়ে দিলেন যে, অনেক অনেক মাটি খুঁড়ে অনেক নিচে পাবে পানি। সেই পানি উঠিয়ে ওযু করতে হবে। এই বুদ্ধিটি দিলেন তাকে আল্লাহ। সে বুদ্ধি পেয়ে বলল, "আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ, তুমি আমাকে এই বুদ্ধিটা দিয়েছ। খুবই ভালো বুদ্ধি দিয়েছ।" এই বলে সে অতি কষ্টে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে খুঁড়তে খুঁড়তে তাও মাটির নিচে পানি পেল না। তখন তার মনে হলো যে, এমনি মাটি যেখানে ছিল সেটা খুঁড়লে তো পানি পাওয়া যাবে না। যেখানে নদী ছিল সেই জায়গাটা খুঁজে আমাকে বের করতে হবে। সে খুব কষ্টে হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে সে মনে করতে চাচ্ছিলো যে, কোন্ জায়গায় নদীটি ছিল। অনেক খুঁজে তার মনে হলো, যেদিকে নামায পড়েছি আজ, তার সামনেই তো একটা নদী ছিল। আমি তো এদিকে নামায পড়তাম। তাহলে তার সামনে একটু খুঁড়ে দেখি তো। অনেক কষ্টে সে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে শেষে একটু পানি পেলো। সেই পানিতে সে খুব কষ্টে হাত গর্তের ভিতর ঢুকিয়ে একটু একটু করে পানি বের করলো। সে দেখল, নামাযের সময় তো চলে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি করতে হবে আমাকে। সে তাড়াতাড়ি করে ওযু করে ফেলল। আল্লাহ দেখছিলেন যে, সে এইটা করে কিনা, আমি আবার পড়ে যাব নাতো গর্তের মধ্যে? মাটি বন্ধ করতে গিয়ে নামাযের সময় পার করে ফেলে কিনা। কিন্তু সে ভাবল যে, আমি অত ভয় পাব না। একটু পিছিয়ে পড়লেই তো হয়। সে ওযু করে নামাযে বসলো। নামায শেষ করে সে গর্ত ভরাট করে দিল। সে দ্বিতীয় পরীক্ষায় পাস করল। আল্লাহ চাচ্ছিলেন তাকে তিনটা পরীক্ষা নিতে। কি পরীক্ষা নিতে চাইছিলেন জান? একদিন সে নামাযে দাঁড়ালো। নামায শেষ করে পিছনে তাকিয়ে দেখল, এক ঝুড়ি পেয়ারা। সে ভাবল, ওমা! নামাযে দাঁড়ানোর আগে তো এই পেয়ারাগুলো ছিল না। আর আমি তো কোন মানুষের শব্দও পাইনি নামাযের সময়। আর আশেপাশে মানুষের কোন কিছু দেখতেও পাইনি। তবে এটা আসলো কোথা থেকে? আল্লাহ সব করতে পারেন। আল্লাহ নিশ্চয়ই এই ফলগুলো দিয়েছেন। একটু খেয়ে দেখি। আর ওখান থেকে হঠাৎ এক গরীব লোক এসে হাজির হলো। তার কিছুই নেই। শুধু একটি ছেড়া গেঞ্জি আর একটি লুঙ্গি। তার তেমন কিছুই ছিল না। সে অনেক দিন ধরে না খেয়ে কোন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিল। যেখানে পারে সেখানেই থেকেছিল। সে ঐ লোকটিকে বলল, "আমাকে কিছু পেয়ারা খেতে দেবে? আমি অনেক দিন ধরে কিছুই খাইনি। শুধু একটি পুকুরের থেকে একটু পানি খেয়েছি। কিছু পেয়ারা খেতে দাও না।" তখন ভালো লোকটি তার পেয়ারা থেকে বেশির ভাগ পেয়ারাই সেই লোকটিকে খেতে দিয়ে দিল। তখন ঐ লোকটি সেই পেয়ারাগুলো নিয়ে চলে গেল। আর এই ভালো লোকটি যতটুকু পেয়ারা তার কাছে এখন আছে সেটুকু খেয়েই চলল। আল্লাহ তা দেখে খুশী হলেন। আল্লাহ এবার তাকে কিছু পুরস্কার দেবেন। কী পুরস্কার জান? তাকে একটা বড় বাড়ি, দুইটি আম গাছ, একটি নদী ও একটি ধানের ক্ষেত তাকে উপহার দিলেন। আর বাড়ির পিছনেই দিলেন একটি মসজিদ। সে গভীর বনের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছিল। কিন্তু সে হাঁটতে হাঁটতে একটু সামনে আগানোর চেষ্টা করল। সে ভাবল, সামনে কি যেন দেখছি খুব সুন্দর। একটু গিয়ে দেখি তো। গিয়ে দেখলো, কী সুন্দর নদী, আম গাছ, বাড়ি, ধানের ক্ষেত। তারপর গিয়ে দেখল অনেক সুন্দর। সে বলল, "এ তো অনেক সুন্দর। এটা কার বাড়ি। নিশ্চয়ই অন্য কোন লোকের বাড়ি। কার বাড়ি তা নিয়ে ভাবতে হবে না। আমি দূরে কোথাও চলে যাই।" কিন্তু সে তো সেটা তার উপহারই বুঝল না। এখন কী হবে? তখন আল্লাহ তার মনের মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেন যে, এটা তারই বাড়ি। তার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। তখন তার মনের মধ্যে সেটি ঢুকে গেল। সে ভাবল, "একি! আমার বাড়ি নাকি? আমার মনের মধ্যে কেমন যেন মনে হচ্ছে। আমি এতগুলো ভালো কাজ করেছি আজ। তবে আল্লাহ তো আমাকে কোন পুরস্কার দিলেন না। এটা কি সেই পুরস্কার? আমি তো বুঝতে পারছি না। কিছুই তো বুঝতে পারছি না। সত্যিই কি তাই? এটা কি আমার বাড়ি। একদিন অপেক্ষা করে দেখতে হবে। এই বাড়ির ভিতরে কেউ আসে কিনা। আর জানালা দিয়েও উঁকি দিয়ে দেখতে হবে, ভিতরে এখন কেউ আছে কিনা। জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে সে দেখল, কেউ নেই। আর ভাবল, কিছুদিন আগে তো ঝড় হয়েছিল ঠিক এই জায়গাটাতেই। তবে তখন তো এটি ছিল না। আর যদি বাড়িটি ঝড়েও উড়ে যেত, তাহলে শুধু বাড়িটিই যেত, ফসল কি ঝড়ে উড়ে যেত। আর তখন ফসল-টসল কিছুই ছিল না। আর ফসল যদি থেকেও থাকে এবং নষ্ট হয়েও থাকে, তাহলে এত জলদি আবার তা ফিরে আসবে কি করে? আর ঘরও যদি উড়েও যায়, তাহলে সেটা ফিরে আসেই বা কি করে? আমাকে বুঝতে হবে। একদিন অপেক্ষা করি, এখানে কেউ আসে কিনা। তারপর সে দুই দিন অপেক্ষা করে দেখল, বাড়িতে কেউ নেই। তারপর দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করল দেখার জন্য। কিন্তু সে ভাবল যে, এতদিন তো কারো বেড়াতে যাওয়া সম্ভব নয়। এতদিন কেন বেড়াবে মানুষ? মানুষের কি কোন কাজই থাকে না, সব কাজ ছেড়ে এ কাজ করবে? অবশেষে সে বুঝতে পারল, এটাই তার উপহার। তখন সে বলল, "আলহামদুলিল্লাহ। সে তার জায়নামাজটি ও টুপিটি ও কম্পাসটি নিয়ে গেল ঘরের ভিতরে। দেখতে চাইল, ঘরের ভিতরটা কেমন সব? দেখল, ওমা! এটা আবার কেমন ঘর? ঘরের ভিতরেই বিছানা আছে, চেয়ার, টেবিল, তারপর খাবার-দাবার টেবিলের উপরে, আলমারি, আলমারির ভিতরে অনেক কোরআন, বই, তসবীহ, সুন্দর জায়নামাজ, সুন্দর সুন্দর টুপি, চিরুনি এমনকি বাথরুমের ভিতর বালতিও যে রাখা আছে। সে খুব খুশী হলো। তারপর সে দেখল যে, ওমা! এখানে আবার সিড়ি কিসের? বেয়ে দেখি তো। সিড়ি দিয়ে উঠে দেখল, ওমা! ছাদ। কী সুন্দর! ছাদের উপর পানির ট্যাংকও দেখি আছে। আবার ছাদে বসে বাতাস খাওয়ার জন্য বা কোন কাজ করার জন্য বসার টুল ও চেয়ারও রাখা আছে। একটি ছোট্ট টেবিলও রাখা আছে। মেহমানদের বাতাস খাওয়ানোর আর ভালো ভালো খাবার খাওয়ানোর জন্য সেই টেবিলগুলি। সে আরও খুশী হয়ে পড়ল। ২৪ ঘন্টা আলো, বাতাস সব ফ্রি। আর ইচ্ছে করলে বাতাস খাওয়ার জন্য সেই বাড়িটির ছাদের ভিতর ঘুমানোও যাবে। একটি ছোট্ট বিছানাও আছে। বসে বসে বাতাস খাব, আর ঘুমোবো। বাড়ির এখানে দেখছি একটি দোকানও আছে। আর এই মানুষটিকে তো আমি কোনদিনও দেখিনি। এ তো সেই দোকানদার। আর এইটার মধ্যে আরো অনেক কিছু আছে। খাবার, বই অনেক কিছু। আমার তো খুবই ভালো হয়েছে। আমার জীবনে এত বড় ভালো জিনিস থাকবে, আমি ভাবতেও পারিনি। আমি এ খুশীর কথায় একটা শব্দও মনে আনতে পারিনি। আল্লাহর শুকরিয়া। আল্লাহ যা চান তাই হয়। এটা কিসের উপহার? আল্লাহর কাছে সে জিজ্ঞাসা করল। তার মনের মধ্যে আল্লাহ বুঝিয়ে দিলেন, "আল্লাহ তোমার পরীক্ষা নিচ্ছিলেন তিনটি। এক নম্বর ঐ ঝড়ের ঘটনাটি, দুই নম্বর ওজুর পানির ঘটনা, তিন নম্বর গরীবকে তুমি পেয়ারা দান কর কিনা। নামায পড়ার জন্য নামাযের জিনিস হারিয়ে গেলে সেগুলো খোঁজা, তারপর ওযু করার পানি না পেলে সেটা কষ্ট করে খুঁজে বের করা, তারপর অনেক গরীব যারা কোন খাবার পায় না তাদেরকে খাবার দেয়া- এ সবগুলোই তো খুব ভালো কাজ। আমি এই ভালো কাজগুলো করেছি। তাই আল্লাহ খুশী হয়ে আমাকে এই উপহারগুলো দিয়েছেন।
লোভী কন্যা
এক দেশে বাস করত এক লোভী কন্যা। তার ছিল একটি ধনী বন্ধু। সে তার বন্ধুকে বলল, "বন্ধু! তুমি আমাকে অনেক টাকা দেবে। আমি তোমার বন্ধু না? আমাকে তো টাকা দেয়া দরকার। বন্ধু কি বন্ধুর উপকার করে না?" তখন বন্ধু বলল, "তবে তোমার কি উপকারে টাকা লাগবে।" তখন সেই লোভী কন্যাটি বলল, "ঐ তো টুকটাক সব কাজের জন্যই তো টাকা লাগে। অনেক সব কাজের জন্যই তো টাকা লাগে। দেশে-বিদেশে যেখানেই যাই।" সেই দেশের এক কোণায় বাস করত এক খুবই খারাপ হিজড়া। সবার কাছে যেত আর বলত, তোমার সব টাকাই আমাকে দিয়ে দাও। একটুখানি দিলে তো হতোই না। লোভী কন্যাটির কাছে কিন্তু খুব কম টাকা ছিল। কিন্তু তখন বন্ধু বলল যে, "ঠিক আছে, ক'দিন পরে তোমাকে দেব টাকা। দেব অনেক অনেক টাকা।" তখন লোভী কন্যাটি বলল, "না, বন্ধু। কালই আমাকে সব টাকা দেবে তুমি।" তখন বন্ধুটি বলল, "ঠিক আছে যা বল তুমি, তাই হবে।" তার বন্ধু তাকে তার পরেরদিন খুব সকালবেলা ভোরে উঠেই টাকা নিয়ে রওয়ানা দিল লোভী কন্যাটির বাড়ির দিকে। সকাল বেলা সকাল ১০ টায় সে গিয়ে পৌঁছুলো। গিয়ে দেখল, লোভী কন্যাটি এখনো ঘুমাচ্ছে। সে বলল, "এই বন্ধু! তুমি এখনো ঘুমাচ্ছো কেন? ওঠ, ওঠ, দেখ তোমার জন্য কি এনেছি।" তখন লোভী কন্যাটি উঠে বলল, "দাও দাও দাও দাও দাও, দাও না টাকা।" দেখেছ তার কেমন আচরণ? এভাবে মানুষ মানুষের কাছে তাড়াতাড়ি করে কাড়াকাড়ি করে চেয়ে নেয়? এমনিতেই তো তাকে দিত। লোভী কন্যাটি আবারো বলল, "দাও না কেন? জলদি দাও।" বন্ধু দেখল, "ইস! আমার বন্ধুর এমন আচরণ তো আমি দেখিনি। আমার বন্ধু এমন হয়ে গেল কেন? মানুষ একটা বাসায় আসলে বসতে দেয়, খেতে দেয়। এর তো তাও না। এ যে দেখছি আসার সাথে সাথেই চায়। কেমন আমার বন্ধু?" তখন বন্ধু বলল, "নাও, নাও, নাও। তোমার টাকা।" তখন লোভী কন্যাটি বলল, "হ্যাঁ, হ্যাঁ, বন্ধু, দাও।" লোভী কন্যাটি টাকা নিল। তারপরে বলল যে, "নাও, এবার তুমি চলে যাও। আর কি কাজে থাকবে? যাও, তোমার বাড়ি।" তখন বন্ধু ভাবল যে, "ইস! এত খারাপ আমার বন্ধু?" তারপর কি হলো জান? লোভী কন্যাটি বলল যে, "যাও এ সিড়ির কাছে। তুমি তো বাসায় অনেক এসেছ। তুমি তো চিনবেই, যাও। আমি বসে বসে টাকাগুলো গুনি। বাবা! কত টাকা! চলে যাও তুমি, বসে বসে কী দেখছ? পরে আবার আরেকদিন আসবে।" তখন বন্ধু ভাবল, "ছি ছি ছি ছি! এ আবার কেমন? মানুষ মেহমান আসলে একটু আগিয়ে দেয়, বলে, আবার এসো, বিদায়! কিন্তু এর তো দেখছি কিছুই নেই। এমন করছে কেন?"- বলে বন্ধু মনের দু:খে বাড়ি ফিরে গেল। আর ভাবল, আর কোনদিনও ওর বাড়িতে আমি যাবই না। দেখা হলে আমিও বলব যে, "টাকা দাও আমায়।" আমি তো সবসময়ই ওকে দাওয়াত দিই, ও আসে, ওকে আদর করে ঘরে নিয়ে যাই, বসতে দেই, নাস্তা সাজিয়ে দেই সামনে, বাতাস করি, তাড়াতাড়ি চলে যেতে দেই না। বসে বসে একসাথে কথা বলি। তারপর ফিরে যাওয়ার সময় "বিদায় বন্ধু, আবার আসবে আমার বাড়িতে" এসব বলি। কিন্তু আমার সাথে বন্ধু এমন করল কেন? এবারে ঐ হিজড়ার কথা। সেই হিজড়াটি এল ঐ লোভী কন্যাটির কাছে। বলল যে, "এই! আমায় টাকা দাও। আমি কিন্তু অমন সাধারণ নই। আমি কিন্তু একটুখানি ইচ্ছা করে দিলেই হয় না। তোমার কাছে যা টাকা আছে আমায় সব টাকা দাও। নইলে কিন্তু এমন গালাগালি করব।" তখন লোভী কন্যাটি কী আর করার! সব দিয়ে দিল ঐ লোভী হিজড়াটিকে। তখন সে ভাবতে লাগল, "ইস! আমি যদি আরেকটু পরে এই টাকাগুলো নিতাম, তাহলে আমার টাকাগুলো থেকে যেত। এখন তো আমায় আর কেউ টাকা দেবে না। আর আমি এত বোকা কেন? সবসময় ঘরের বাইরে বসে বাতাস খাই? তাও আবার যা টাকা আছে সব সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াই কেন? আর বাসায় রেখে আসলে তো লাভ নেই। (হিজড়াটা) বলবে, এত কম কোন মানুষের টাকা হয় না, আরো দাও।" আর ঐদিকে বন্ধু বলল, "তাও আবার আমার কাছে টাকা চায়, ছি! আর ঘরে ঢোকার সাথে সাথে একটু আদর করে বসাবে, তাই না? শুধু টাকা দাও টাকা দাও শুরু করেছে। আর একটু ধৈর্য্যও ধরে না। যা আছে আমার ঘরে সব দিয়ে দিয়েছি। আমার এখন আবার ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে হবে। আমার তো সময়ই থাকে না। ওর তবু অনেক সময় থাকে। কত কাজ আমার! একটি মহিলা মানুষ আমার পরিবারে। তাও আবার বুড়ি। আর অন্য সব ছেলে মানুষ। তারাও বুড়ো। আর আমার পরিবারে তো পাঁচজন আছে। একজন তো ঐ বুড়ি, মানে আমার মা, আরেকজন আমার বাবা, আর তার ভাই থাকে, আর বাকি থাকে কিছু বাচ্চা, মানে আমার ভাতিজা-ভাতিজী। তাদের সবার জন্য রান্না করতে হয়ও আমার। ছেলে মানুষ কি রান্না করে? আবার ঘরের বউমারা যেমন কাজ করে, আমাকে সেই সব কাজগুলো করতে হয়। বাচ্চারা সারাদিন খেলে, একটু সাহায্য করবে তা না। আর আমার ঐ বন্ধুর অবস্থা দেখে আমার একটুও ভাল লাগে না। খুবই অশান্তি লাগে। উহ! আর ভাল্লাগে না। ওর সাথে দেখাই করব না। দেখা করতে গেলেই কিছু না কিছু দায়িত্ব দিয়ে দেয়।" আর ঐদিকে লোভী কন্যাটি এখন থেকে গরীব হয়ে পড়ল।
পরের বার:
কিছুক্ষণ আগে খারাপ কর্ম করলে খারাপ ফল হতো। আর এখন ভালো কর্ম করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। ভালো মানুষ তো বন্ধুটি। এবার বন্ধুর কথা বেশি থাকবে। পাঁচ বছর ধরে সেই বন্ধুটি তার পরিবারের জন্য অনেক রান্না করেছে। অনেক যত্ন করেছে। বাচ্চারা তো খেতে চায় না। বাচ্চাদের মন ভুলিয়ে রেখে খাইয়েছে। আর বাচ্চারা চেয়ার-টেবিলে শান্তশিস্টভাবে খায় না। তাদেরকে বলেছে, "যদি টেবিলে বস, তাহলে তোমাদেরকে আরো অনেক কিছু দেব।" আর তখন তার সেই কম টাকা দিয়েই বাচ্চাদের জন্য জিনিস কিনেছে। বাচ্চারাও মজা করত যে, মামার হাতে খাবার খাওয়া মজা। সে তো অনেক কষ্ট করেছে। একদিন সে বাজারে গেল। বাড়ি তালা দিয়ে। তার ভাগ্নিরা সব স্কুলে। আর বুড়ো-বুড়িরা আবার কি যেন কাজে গেছে। এখন সবাই বাড়ি ফিরে দেখল, তাদের বাড়িটি নেই। সবাই বলল, "আমাদের বাড়িটি কোথায় গেল?" সবাই মিলে অন্য দিকে খুঁজতে গেল। সবাই এসে দেখল যে, ওমা! একি? তাদের বাড়িটি নেই, তাদের ঐ আগের পুরানো বাড়িটা নেই আর। সেই বাড়িটি রেখে অন্য একটি দোতলা সুন্দর বাড়ি, প্রত্যেকটা রুমের সাথে বারান্দা, কী সুন্দর ছাদ, খোলামেলা জায়গা। তার মানে হচ্ছে, ভাল কাজ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়, খারাপ কাজ করলে খারাপ ফল পাওয়া যায়। শিক্ষাটি পড়ে দেখ।
শিক্ষা: যেমন কর্ম তেমনি ফল।
Thursday, April 7, 2016
গরীব মানুষের বিয়ের সমস্যা
এক দেশে বাস করত একটি গরীব লোক। বিয়ে হবে। এখন দু'জনেই গরীব। কিন্তু ওরা এতই গরীব যে, তাদের ৫০০/৬০০ টাকাও নেই। ২০০/১০০-এর মত হবে। আর বিয়ের নিয়ম তো বরেরা বউদেরকে সাজগোজের জিনিস দেয়। কিন্তু বরও তো গরীব। সে এখন গয়নাগাটি কি করে কিনবে? গয়নাগাটি অন্তত কিছু কিছু কিনতে পারবে; কিন্তু জামাকাপড়? সেগুলো কেনার টাকাও তো থাকবে না। তাই সকলেই ভাবতে লাগল, এই বিয়েটা কি হবে? দুজনেই দুজনকে পছন্দ করে। দুজনেই দুজনের আচরণ দেখে খুশী হয়েছে। কিন্তু কিছুই যে নেই টাকা-পয়সা। তার জন্য দুজন খুব চিন্তায় পড়ে গেছে। দু'জনই চাচ্ছে যে, এই বিয়েটা সুসম্পন্ন হোক। কিন্তু তা কি হবে? এই ভেবে ভেবে তারা সারাদিন কাটাতে লাগল। বউয়ের ছিল মা এবং বরের ছিল একটি বাবা। এমনকি তাদের একজনের মা এবং একজনের বাবাও কোথায় ছুটে চলে হারিয়ে গেছে। পড়ে গেল বিয়ের সমস্যায়। বউয়ের মা বরের মাথায় হাত দিয়ে বলল, "বাবা, দেখতো, কী যে সমস্যায় পড়েছি। এবার তুমি কি করে আমার মেয়েকে গয়নাগাটি কিনে দেবে? বল বাবা। কিছু টাকা-পয়সা তো দরকার। কিন্তু তুমি আবার ভিক্ষে করতে যেও না যেন। যা আছে তা দিয়ে বেশ ভাল কিছু তৈরি করে বিক্রি কর। তবেই দেখবে, তোমার টাকা কিছুটা বেড়েছে। অথচ এমন কিছু তৈরি করতে যেও না, যাতে তোমার যা আছে তার চেয়েও কম টাকা হয়ে যায়। বরং এমন জিনিস বিক্রি করবে, যা মানুষের প্রয়োজন হয়, মানুষ বেশি কেনাকাটা করতে আসে। আজকাল মা-বাবা বাচ্চাদেরকে একটু বেশি মারামারি করতে চায়। বাচ্চারা একদমই জানে না, এটা করতে হয় না। তারপরও মা-বাবারা বুঝায় না, শুধু বকে-মারে। তোমাকে বুদ্ধি বের করতে হবে, প্রমাণ করতে হবে যে, বাচ্চাদের মারতে হয় না। সেগুলোর উপায় খুঁজে বের করে তোমাকে একটা খাতায় লিখতে হবে। তারপর সেগুলোই বিক্রি করে তুমি অনেক টাকা পাবে। আর আজকাল তো মানুষ বেশির ভাগ উপরের তলায় বাস করে। তাই ধুলো-ময়লা বেশি ওড়ে বাতাসে। ঘর বেশি নোংরা হয়। আমার মেয়ের বাড়িতে কিছু পোয়াল আছে, আর একটা লাঠি আছে। পোয়ালগুলো লাঠির সাথে গেঁথে ঝাড়ু বানিয়ে সেগুলো বিক্রি করতে পারে। অনেক টাকা পেয়ে যাবে। তাহলে গয়না-গাটি, কাপড়চোপড় সব কিছুর ব্যবস্থা হয়ে যাবে।" এবার ছেলের বাবা মেয়ের মাথায় হাত দিয়ে বলল, "মা, দেখ না, আমার ছেলে এবার কী করবে? তুমি কিছু উপায় কি বলতে পার আমাদের? তুমি কি তোমার বাড়ি থেকে দয়া করে কিছু লাঠি ও কিছু পোয়াল দিতে পারবে? তোমার বাড়িতে নাকি পোয়াল আছে, যেগুলো গরু খায়? একটু দেবে? নাহলে যে আমরা খুব বিপদে আছি। দুজনেই দেখতে খুব সুন্দর, দুজনেরই আচরণ খুব ভাল, দুজনেই বিয়ে করতে চেয়েছে একসাথে, অতএব যদি বিয়েটা না হয়, তাহলে তো দুজনের মনের শখটা মিটবে না, সবসময় মন খারাপ করে থাকবে। আর মানুষকে অমন অসুখী দেখতে আমাদের মন চায় না। মা, তুমিও চেষ্টা কর কিছু একটা করার।" মেয়ে বলল, "শুধু রূপ ও গুণই নয়, নামও তো সকলের সুন্দর। কিন্তু বিয়েটাই যদি না হয়, তাহলে কী যে হবে? আমারও তো ইচ্ছে করছে, যেন আমার টাকা-পয়সাগুলোও আপনার ছেলেকে দিয়ে দেই, তাতে আপনার ছেলে আমাকে অনেক গয়নাগাটি ও কাপড়চোপড় কিনে দিতে পারবে। তখন মেয়ের মা বলল, "না। তা করবে কেন? আমি তো তোমার শ্বশুরের ছেলেকে সবই বুদ্ধি দিয়ে দিয়েছি।" তখন ছেলে বলল, "না, শুধু তাই করলেই কি হবে? মারতে হয় না তার বুদ্ধিটাও তো আগে বের করি। কি উপায়ে বোঝানো যায় যে, বাচ্চাদের মারতে হয় না, সেই বই বিক্রি করব। বইয়ের নাম হবে, "বাচ্চাদের মারতে হয় না"। পেয়েছি! কি লিখব উপায় পেয়েছি আমি। আমি লিখব ১ নম্বর পৃষ্ঠায়: বাচ্চাদের মারতে হয় না কারণ, বাচ্চাদেরকে যদি আপনারা মারেন, তারাও তাদের বাচ্চাকে একবারে ছোট থাকতেই মারা শুরু করবে। বেশি ছোটকাল থেকে মারা শুরু করলে তার ছেলেমেয়েদেরকেও সে অনেক ছোটকাল থেকে মারা-বকা শুরু করবে। অতএব, আপনারা দয়া করে বাচ্চাদেরকে মারবেন না। এমন করতে করতে তো পৃথিবীর অনেক মানুষই বাচ্চাদেরকে মারবে, অথচ এত মারা-মারি, বকা-বকি এসব তো ভাল কাজ নয়, তাই না? আর তাতে বাচ্চাদেরও কষ্ট হয়। এত ছোট বয়সী বাচ্চাদের বকা ও মারা উচিত না। ২ নম্বর পৃষ্ঠায় লিখব: মনে করুন, আপনার একটি শিশুর জন্ম হবে। এটা ভাববেন না যে, জন্মের সাথে সাথেই সে মাকে যদি কোন জ্বালা দেয়, তাহলে এক মাসও হয়নি এমন বাচ্চাকে আপনি মারবেন? তা করবেন না। আর দুই বছর বয়সীর নিচেও মারা উচিত না। আর ছয় মাসের আগে বকাও উচিত না। আর ছয় মাসের পরে বাচ্চাদের বকতে পারেন, কিন্তু মারবেন না। বকাটা কম কষ্টের, কিন্তু মারবেন না। তিন নম্বর পৃষ্ঠায় লিখব একটি গল্প। গল্পের নাম হচ্ছে, 'শিশুদের মারলে কেমন হয়?' গল্পটি হচ্ছে: এক দেশে বাস করত এক কন্যা। তার একটি বাচ্চার জন্ম হল। তাকে তার মা বেশি ছোটবেলা থেকেই মারা-বকা শুরু করেছিল। অতএব, বাচ্চার জন্মের সাথে সাথেই যদি বাচ্চা মায়ের কোন মারার মত ভাব করে, তাহলে কি তার বাচ্চাকে মারা উচিত হবে? কিন্তু সে সেজন্যই বাচ্চাকে বকল। বাচ্চা ভয় পেয়ে বাচ্চার মনটা কেমন কেমন কেমন হয়ে গেল। তা থেকে শুরু হল তার মেজাজ খারাপ। বড় হয়েই সবাইকে গালাগালি করত। কারো সাথে মিশত না। এবং সকলকেই মারা শুরু করল। অতএব, আপনারা বাচ্চাদেরকে মারবেন না। ৪ নম্বর পৃষ্ঠায় লিখব কিছু কিছু দরকারি কথা। (১) বেশি ছোটবেলা থেকে শিশুদের মারতে হয় না। (২) বাচ্চাদেরকে মারলে তারাও তাদের শিশুকে মারে। শিশুদেরকে মারা উচিত না। (৩) যদি আস্তে আস্তে সকলেই বকাবকি শোনে, তাহলে আস্তে আস্তে পৃথিবীর সব মানুষই বাচ্চাদের মারা শুরু করেছে। (৪) আপনারা কি দেখেছেন যে, আপনাদের শিশুর মনের ভেতরটা? বাচ্চাদের খুব নরম মন থাকে। (৫) বাচ্চাদের বকাবকি করলে বাচ্চাদের সেই মন বিগড়ে যায়। (৬) বাচ্চাদের যত্ন নিতে হয়। (৭) অতএব, কোনদিন আপনার বাচ্চা ছোটকাল থেকে যেন বকাবকি না শোনে। অন্য পৃষ্ঠাগুলোতে একটি করে গল্প লিখব আমি শিশুদেরকে মারতে হয় না নিয়ে। এই তো ঠিকঠাক হয়ে গেল। তখন বউ বলল, "ভালোই তো বলেছ। নামগুলোও সুন্দর আমাদের, নাম হচ্ছে আমার নাম গোলাপী, আর তোমার নাম মামুন। সকলের পরিচয় খুব সুন্দর। তবে কাজ শুরু হোক।" বরপক্ষ থেকে সব কাজ শেষ করার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কাজ করা শুরু করল। তা দিয়ে হল ১২০০ টাকা। এক মাস পর হয়ে গেল ৫০০০ টাকা। তা দিয়ে কিনল অনেক রকমের গয়না ও একটি সুন্দর শাড়ি। গোলাপী বলল, "মামুন, তুমি এত সুন্দর সুন্দর জিনিস কিনলে কোথা থেকে? জান, আমার একটা সুন্দর টিয়ে পাখি আছে। দু'দিন পরই তো বিয়ে। আমাদের মধ্যে তো তেমন কোন আত্মীয় নেই। কাদের দাওয়াত দেব বলতো? ও হ্যাঁ, মামুন, তোমাকে বলাই হয়নি, আমার দুটো বন্ধু ছিল আর দুটো বান্ধবী ছিল। তাদের আছে মা-বাবা দু'জনই। আর তার মধ্যে একটি বান্ধবীর তো মা-বাবা তো আছেই, তার সঙ্গে দাদা-দাদুও আছে। তাদের দাওয়াত দেয়া যায়।" তখন মামুন বলল, "হ্যাঁ। তা তো যাবেই। কেন যাবে না? মানুষ মাত্র দাওয়াত দেয়ার এইটুকু যখন পেয়েছ, তখন তো দাওয়াত দেবেই। আর আগামীকালকে আরো মানুষ পাব দাওয়াতের জন্য। আমার একটি ফুপাতো বোন আছে। তার আবার দুটি বান্ধবী আছে। আর আমার নিজেরও একটি বন্ধু আছে।" সবাই সবকিছু জানাজানি করল। কিন্তু বিয়েতে কি খাওয়াবে? তখন বাবা বলল, "তার কোন চিন্তে নেই। আমার বাড়িতে খিচুড়ি আছে। সেটাও তো খেতে দিতে পারি।" তখন বিয়ের জন্য সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেল। বিয়ের দিন সব ঠিকঠাক মত হল। তারপর থেকে তারা বই ও ঝাড়ু বিক্রি করা বন্ধ করল না, তখনো সেই ব্যবসা চালাতে লাগল, যেন এখনো তাদের টাকা বাড়তে থাকে। এরপর তারা সুখ-শান্তিতে বাস করতে লাগল। অর্ধেক ধনীর মতই পরিবার হয়ে গেল। গল্প শেষ।
Monday, April 4, 2016
চামেলির শখ
এক গ্রামে বাস করত একটি মেয়ে। তার বয়স ৮ বছর। তার নাম চামেলি। সকলে বলে, "ওহ! চামেলির পিছনে থাকতেই সারা দিন চলে যায়। কোন কাজ করতে দেয় না। ওহ! আর ভাল্লাগে না।" চামেলীর অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত শখ। মা একদিন চামেলিকে বলে, "তুই কি রাণী না কী? পৃথিবীটা সুখের নয়। আমরা কি তোর দাসী?"
চামেলি: মানে? তোমরা দাসী নও। কিন্তু বাচ্চার জন্য কি মায়ের কোন কাজ থাকে না?
বাবা: এই তো আমার লক্ষ্মী চামেলি। তোমার জন্য কী এনেছি।
মা: না, খবরদার কিছু দেবে না।
বাবা: কেন?
মা: অফিস থেকে এক সপ্তাহ ছুটি নাও। দেখ, চামেলি কি করে?
বাবা ছুটি নিল। রবিবার চামেলি বলল, "আমাকে প্রতিদিন প্লেনে চড়াবে।" সোমবার আবদার করল, "আমাকে তোমাদের মত বড় বানিয়ে দেবে।" মঙ্গলবার বলল, "আমাকে কখনো বিয়ে দেবে না।" বুধবার বলল, "আমাকে ক্লাস প্লেতে ভর্তি করে দাও।" বৃহস্পতিবার চামেলি বলল, "আমি সারাদিন রুটি বানাবো।" শুক্রবার বায়না ধরল, "প্রতিদিন যেন আমার জন্মদিন হয়।" আর শনিবার বলল, "প্রত্যেক সোমবার পাকিস্তানে যাব।"
মা: চামেলির বাবা! এবার বোঝ চামেলি কী করে?
এবার বাবা ইচ্ছা একটাও পূরণ করতে পারল না। এভাবেই চামেলি সবসময় বাবা-মাকে জ্বালাতন করে।
চামেলি: মানে? তোমরা দাসী নও। কিন্তু বাচ্চার জন্য কি মায়ের কোন কাজ থাকে না?
বাবা: এই তো আমার লক্ষ্মী চামেলি। তোমার জন্য কী এনেছি।
মা: না, খবরদার কিছু দেবে না।
বাবা: কেন?
মা: অফিস থেকে এক সপ্তাহ ছুটি নাও। দেখ, চামেলি কি করে?
বাবা ছুটি নিল। রবিবার চামেলি বলল, "আমাকে প্রতিদিন প্লেনে চড়াবে।" সোমবার আবদার করল, "আমাকে তোমাদের মত বড় বানিয়ে দেবে।" মঙ্গলবার বলল, "আমাকে কখনো বিয়ে দেবে না।" বুধবার বলল, "আমাকে ক্লাস প্লেতে ভর্তি করে দাও।" বৃহস্পতিবার চামেলি বলল, "আমি সারাদিন রুটি বানাবো।" শুক্রবার বায়না ধরল, "প্রতিদিন যেন আমার জন্মদিন হয়।" আর শনিবার বলল, "প্রত্যেক সোমবার পাকিস্তানে যাব।"
মা: চামেলির বাবা! এবার বোঝ চামেলি কী করে?
এবার বাবা ইচ্ছা একটাও পূরণ করতে পারল না। এভাবেই চামেলি সবসময় বাবা-মাকে জ্বালাতন করে।
মেহমান খেতে চায় না
এক ছিল একটি মহিলা। তার নাম মেরিনা। মেরিনার ফোন বাজল। মেরিনা বলল, "হ্যালো! কে?" "তুমি আমাকে চিনলে না?" "ও, মেরিনা! সুন্দর বাড়ি পেয়ে আমাকেই ভুলে গেলে? খুব কম মাস আগেই তো আমার সাথে দেখা হলো।" "ও! হ্যাঁ। আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। রাগ করিস না বোন। তাহলে কী বলবি?" বোন বলল, "এখন ফোন রেখে দাও। এখুনি আবার কল দিব। তখন কিন্তু কেমন আছ বলতে হবে। সালাম দিবে।" মেরিনা ফোন রেখে দিল। বোন আবার ফোন দিল। মেরিনা বলল, "আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছিস? কি বলবি?" বোন বলল, "ওয়াআলাইকুম আসসালাম। মেরিনা! আমি ভালো আছি। কতবার ফোন দিই ভালো আছি কথাটাই তো বলিস। জিজ্ঞেস করার কী আছে? বলছি যে কাল আমি তোর বাড়িতে যাব। বিকাল বেলায়।" "সে তো ভালো খবর।" পরের দিন বোন বাসায় বসে ভাত খেল। রোস্ট খেল। মুলা খেল। শসা, টমেটো, বিস্কুট খেল। খেয়ে দেয়ে গেল মেরিনার বাড়িতে। মেরিনা পোলাও, রোস্ট, পাকা পাকা মিষ্টি আম, শসা, পায়েস, চা খেতে দিল বোনকে। বোন বলল, "আমি খাব না। আমি বাসা থেকে খেয়ে এসেছি।" "মানে? তুই বাড়ি থেকে কেন খেয়ে এসছিস? তুই কি জানিস না যে মেহমানদের কী করা দরকার? মেহমানরা একদম না খেয়ে বেড়াতে যায়। মেহমানরা এমন করে কারণ আরেক বাড়িতে গেলে অবশ্যই খেতে দেয় অনেক কিছু। আচ্ছা। যা করেছিস।"
এবার তারা শুধু গল্প করল।
কি গল্প?
বোন: আমি ভেবেছিলাম তুই আমাকে খেতে দিবি না। ভেবেছি, আমি তো মেরিনার প্রিয় বোন। ও আমাকে চিনতে পারেনি দেখে রাগ করেছে। সবাই বলবে মেরিনা খারাপ। খেতে দেয় না।
মেরিনা: তুই এসব কথা রাখ। তুই এতগুলো খাবার নষ্ট করলি কেন? আমার খুব দু:খ হচ্ছে। কারণ পোলাউ, রোস্ট, পায়েস ও চা আমি নিজের হাতে সুস্বাদু রেধেছি। আম ও শসা আমার গাছের। তুই খেলি না কেন?
বোন: খাব না কেন? পেট ভরা তাই তো খেতে পারি না। তুই আমায় ক্ষমা করে দে। আমি আরেক দিন খাব।
আমাদের দেশটা কত সুন্দর!
আমাদের দেশটা কত সুন্দর!
রাত কখনো অন্ধকার—
কখনো ঝলমলে।
দুপুরবেলা রোদ ওঠে
প্রচুর ফসল ফলে।
খেজুর গাছের তলায় বসে
খেজুর রস খাই-
খেতে অনেক মজা লাগে
কী আনন্দ পাই।
শীতের দিনে সকাল বেলা
শিশির পড়তে থাকে,
শীতের কাপড় পড়ে মোদের
কী যে ভাল লাগে।
শীতের বেলা কুয়াশায়
মাঝি এসে নৌকা বায়।
শীতকালে পিঠাপুলি
মজার পিঠা হলো কুলি।
গরমকালে রোদের তাপে
ঘুরে বেড়াই মাঠে মাঠে।
বৃষ্টি পড়লে মেঘ ডাকে
কৈ মাছ লাফিয়ে ওঠে।
বসন্তকালে পাখি ডাকে
নতুন নতুন ফুল ফোটে।
রঙিন রঙে ভরে ওঠে।
রাত কখনো অন্ধকার—
কখনো ঝলমলে।
দুপুরবেলা রোদ ওঠে
প্রচুর ফসল ফলে।
খেজুর গাছের তলায় বসে
খেজুর রস খাই-
খেতে অনেক মজা লাগে
কী আনন্দ পাই।
শীতের দিনে সকাল বেলা
শিশির পড়তে থাকে,
শীতের কাপড় পড়ে মোদের
কী যে ভাল লাগে।
শীতের বেলা কুয়াশায়
মাঝি এসে নৌকা বায়।
শীতকালে পিঠাপুলি
মজার পিঠা হলো কুলি।
গরমকালে রোদের তাপে
ঘুরে বেড়াই মাঠে মাঠে।
বৃষ্টি পড়লে মেঘ ডাকে
কৈ মাছ লাফিয়ে ওঠে।
বসন্তকালে পাখি ডাকে
নতুন নতুন ফুল ফোটে।
রঙিন রঙে ভরে ওঠে।
Wednesday, March 30, 2016
The Inconsonable Girl
There was a girl. She was very inconsolable. Her father went from Bangladesh to America. Before his departure, he give his daughter many apples, many guavas, many oranges, many eggs, five bag rice, two bag dal and one bag tomato. And teach how to cook. Her mother was goes to the market everyday. They have no enough money. They buy food whatever they have. There was a greedy man named Samrik. The girl's name was Frantasi. Samrik was a greedy you know, but he is not only greedy, he is very very very greedy man. He has many things, many foods, many money, but is not the good man. Now also his greedy not go. Frantasi see Samrik. Samrik say, "I am very poor. What you have to give me? And another what you have what you don't give me?" Frantasi said, "Sorry, I cannot give you. I am also a poor. I have many guavas, many apples, many eggs, five bag rice, two bag dal and one bag tomato, which my father has bought for me and my mother. But the greedy man was said, "What is your name?" "My name is Frantasi. What is your name?" He said another man's name that is, "Oh! My name is Faruk." Frantasi said, "Oh! That is very nice name." Samrik said, "Oh! But I don't have any thing. I got this name with very cost. You please give me some food you have. You take another food, what you have everything give me. I will give you another thing and do you want to take or you will find.'' Frantasi said, "Oh! Dear poor man! I am sorry. Please give me two days for think." The greedy man think, Ok, I shall get these even after two days. No problem. And said, "Ok, I will give you two days for think." The father came from America. He said to the Frantasi, "What are you thinking? I think, you have in a danger." Frantasi said, "Oh father! What you said that is the true? I am in a danger. That is, a big speaking. One poor man said, give your everything to me. I give you two days for thinking. What can I do now?" The father said, "What he look like?" Daughter said, "His body color is very dark. Why you assume to him? He is very poor man. I see very clearly with my eyes. His eyes is very small small like. I see him very sick. That is why, he don't need anything in three days. He will pass these days only by drinking water from river." The father said, "I know a man that is very greedy. He look like that poor man. I thinking, he is the greedy man. As you sow, so you reap. Why you say that what you have? Now you give it to the greedy man. He is not a poor man. He has many thing, many foods, and many friends their help to him. Now you are very poor and he is very rich man. And you will become very very poor man he will become very very rich man. Now Frantasi give everything to the rich man.
Moral: As you sow, so you reap. First see, what is the man? Is it really the poor man, or not.
Thursday, March 24, 2016
সুন্দর দেশের সুন্দর মেয়ে
ঐ দেশেরই সুন্দর মেয়ে
দেখতে খুবই বেশ-
গায়ের রং সুন্দর তবে
কী সুন্দর কেশ!
দেশটাও ভাল, মেয়েটাও ভাল-
দেশের বর্ণনা শোন-
এইতো বলছি এইতো বলছি
পড়ে পড়ে বোঝ।
সকাল বেলা পাখি ডাকে
জেলে বসে মাছ ধরে-
বক ওড়ে নদীর পাড়ে
সর্ষে ক্ষেত একধারে।
গাছ ভরে যায় চিলে চিলে।
নদী-পুকুর ভরে যখন,
বৃষ্টি এসে যায়।
ছাতা না নিয়ে গেলে
গা ভিজে যায়।
বৃষ্টির পরে এসে দেখবে
গাছ থেকে পড়েছে আম।
মানুষ নিয়ে গেছে আম
কি করে ধুমধাম।
কী সুন্দর দেশ-
দেখতে তো বেশ।
বোঝ না কেন তোমরা?
আষাঢ় মাসের বৃষ্টি যে
ঘটে এই ঘটনা।
এমনিতেই তো সুন্দর এটা
বসন্ত এলে কী হবে?
সর্ষে ক্ষেতে ভরে যাবে
ছবির মতন দেখতে লাগবে।
বসন্তে তো সকলে মিলে
সাজগোজ করে পড়বে-
ঐ দেশটা তো এমনি সুন্দর
তবে যে কী হবে!
মেয়েটি তখন কী করবে?
বসন্ত কালে।
সাজগোজ কিছু করতে হবে না-
এমনি তো তাকে সুন্দর লাগে।
অন্যরা শুধু বলতে থাকে
ঐ দেশ কেন এত ভাল?
আমরা যদি থাকতাম ওখানে
তবে যে কী হতো!
খুবই ভালো হতো
ওখানে থাকতেই ইচ্ছে করছে।
ওরা কি থাকতে দেবে?
বলতে হবে একটু থাকার জায়গা দাও।
তোমরা কী সুন্দর!
এত ভালো দেশটা পাও।
আমাদের একটু দিলে
তোমাদের মত মন ভরে।
কী দিয়ে ভরে,
তা তো জান, এই সুন্দর দেশ থেকে।
ছেলেমেয়েরা একধারে
লুকোচুরি খেলতে থাকে।
অনেক ছেলেমেয়েরা একসাথে
যেমন খেলা খেলে।
বাচ্চারাও কী সুন্দর
খেলতে পারে।
দেখতে খুবই সুন্দর লাগে
সে তো তোমরা জানই।
ঐ দেশের ভাল কথা
তোমরা তো শোনই।
মানুষেরা শুধু চায়
ঐ দেশেতে থাকতে।
ঐ দেশটা বড় ছিল
তাইতো আরো থাকতে চাবে।
কারণ, সেথায় জায়গা ছিল।
জায়গাটা তো তাও বড়।
সবাই বলত আমি যাব-
তুমি এবার সর।
এইতো আমাদের দেশ কত সুন্দর!
তেমন কিছু ভেবো না রে,
এই দেশে থাকে বান্দর।
কারণ এদেশে বান্দর নেই,
সবকিছু যে কত সুন্দর।
এবার মেয়েটির কথা শুরু করি।
কত সুন্দর সে তো এমনি
বিয়েবাড়ির দাওয়াতে-
সাজতে হয় না শুধু খালি
একটু কাপড় পড়ে ফেলে।
গয়না-গাটি না দিলেও-
গয়না গাটি পরার চেয়ে বেশি সুন্দর লাগে।
শুধু বলে এত দেরি কেন অন্যদের লাগে।
সবাই বলে সান্ত্বনা দেয়,
তারা তো সুন্দর নয়।
তাই তো তাদের দেরি হয়।
বোঝ না কেন তুমি?
এত অস্থির হয়ো না।
তুমিও গয়না পর।
আরো সুন্দর লাগবে তোমায়,
এইটা একটু বুঝতে পার।
দেখতে খুবই বেশ-
গায়ের রং সুন্দর তবে
কী সুন্দর কেশ!
দেশটাও ভাল, মেয়েটাও ভাল-
দেশের বর্ণনা শোন-
এইতো বলছি এইতো বলছি
পড়ে পড়ে বোঝ।
সকাল বেলা পাখি ডাকে
জেলে বসে মাছ ধরে-
বক ওড়ে নদীর পাড়ে
সর্ষে ক্ষেত একধারে।
গাছ ভরে যায় চিলে চিলে।
নদী-পুকুর ভরে যখন,
বৃষ্টি এসে যায়।
ছাতা না নিয়ে গেলে
গা ভিজে যায়।
বৃষ্টির পরে এসে দেখবে
গাছ থেকে পড়েছে আম।
মানুষ নিয়ে গেছে আম
কি করে ধুমধাম।
কী সুন্দর দেশ-
দেখতে তো বেশ।
বোঝ না কেন তোমরা?
আষাঢ় মাসের বৃষ্টি যে
ঘটে এই ঘটনা।
এমনিতেই তো সুন্দর এটা
বসন্ত এলে কী হবে?
সর্ষে ক্ষেতে ভরে যাবে
ছবির মতন দেখতে লাগবে।
বসন্তে তো সকলে মিলে
সাজগোজ করে পড়বে-
ঐ দেশটা তো এমনি সুন্দর
তবে যে কী হবে!
মেয়েটি তখন কী করবে?
বসন্ত কালে।
সাজগোজ কিছু করতে হবে না-
এমনি তো তাকে সুন্দর লাগে।
অন্যরা শুধু বলতে থাকে
ঐ দেশ কেন এত ভাল?
আমরা যদি থাকতাম ওখানে
তবে যে কী হতো!
খুবই ভালো হতো
ওখানে থাকতেই ইচ্ছে করছে।
ওরা কি থাকতে দেবে?
বলতে হবে একটু থাকার জায়গা দাও।
তোমরা কী সুন্দর!
এত ভালো দেশটা পাও।
আমাদের একটু দিলে
তোমাদের মত মন ভরে।
কী দিয়ে ভরে,
তা তো জান, এই সুন্দর দেশ থেকে।
ছেলেমেয়েরা একধারে
লুকোচুরি খেলতে থাকে।
অনেক ছেলেমেয়েরা একসাথে
যেমন খেলা খেলে।
বাচ্চারাও কী সুন্দর
খেলতে পারে।
দেখতে খুবই সুন্দর লাগে
সে তো তোমরা জানই।
ঐ দেশের ভাল কথা
তোমরা তো শোনই।
মানুষেরা শুধু চায়
ঐ দেশেতে থাকতে।
ঐ দেশটা বড় ছিল
তাইতো আরো থাকতে চাবে।
কারণ, সেথায় জায়গা ছিল।
জায়গাটা তো তাও বড়।
সবাই বলত আমি যাব-
তুমি এবার সর।
এইতো আমাদের দেশ কত সুন্দর!
তেমন কিছু ভেবো না রে,
এই দেশে থাকে বান্দর।
কারণ এদেশে বান্দর নেই,
সবকিছু যে কত সুন্দর।
এবার মেয়েটির কথা শুরু করি।
কত সুন্দর সে তো এমনি
বিয়েবাড়ির দাওয়াতে-
সাজতে হয় না শুধু খালি
একটু কাপড় পড়ে ফেলে।
গয়না-গাটি না দিলেও-
গয়না গাটি পরার চেয়ে বেশি সুন্দর লাগে।
শুধু বলে এত দেরি কেন অন্যদের লাগে।
সবাই বলে সান্ত্বনা দেয়,
তারা তো সুন্দর নয়।
তাই তো তাদের দেরি হয়।
বোঝ না কেন তুমি?
এত অস্থির হয়ো না।
তুমিও গয়না পর।
আরো সুন্দর লাগবে তোমায়,
এইটা একটু বুঝতে পার।
Sunday, March 20, 2016
মেঘরাণীর গল্প
এক ছিল একটি বড় শহর। সেই শহরে অনেক রকম নিয়ম ছিল। বলতে পার, এমন নিয়ম কি মানুষ পালন করতে পারবে? নিয়ম হল, প্রতি বছরে আলাদা আলাদা একটি করে চাকরি নিতে হবে। এক জায়গায় সবসময় চাকরি করা যাবে না। সেইখানে থাকত একটি ছোট্ট মেয়ে। তার নাম মেঘরানী। মেঘরানী মাকে বলল, "মা! মা! এই শহরে নাকি নিয়ম আছে; কি নিয়ম, বল না মা! বল না, চুপ করে থেকো না। এটা কিন্তু বলবে না যে, এত কিছু জেনে তোমার কাজ কি?" তখন মা বলল, "কি নিয়ম বুঝতে পারছিস না এখনো। বারবার দেখছি, প্রতি বছরে আমি একটি করে চাকরির জন্য পরীক্ষা দিচ্ছি। আর তুমি তো তোমার বাবার সাথেই বেশি কথা-টথা আলাপ-টালাপ কর। বাবা কি বলতে পারবে এসব নিয়ে বেশি? বাবা তো ব্যবসা করে, তাই সে এসব বিষয়ে খেয়ালই রাখে না। সে শুধু পরীক্ষার সময় পরীক্ষার হলে আমাকে নিয়ে যায়, অন্য সময় আর কিছু করে না। তুমি এমন করো না তো। ও, নিয়মের কথা বলছ? এখনো বুঝতে পারছে না, ব্যাপারটা যে কী? নিয়ম হচ্ছে গিয়ে, প্রতি বছরে চাকরী আলাদা আলাদা করে নিতে হবে।" তখন মেঘরানী বলল, "মা, মা! এটা আবার কেমন নিয়ম গো?" এইবার মেঘরানী চিন্তায় পড়ে গেল। কারণ, প্রত্যেকটা পরীক্ষায় একটিতে পাস না করতে পারলেই সারা বছর চাকরী ছাড়াই থাকতে হবে। কম খেয়েই থাকতে হবে। শুধু বাপের ব্যবসা। তারপর মেঘরানী আরো ভাবল, আর আমি যখন বড় হব, তখন আমারও তো পরীক্ষায় পাস করতে হবে। কী যে করি! আর নিয়মটা ভাঙ্গার কোন উপায়ই তো পাই না। এবার যে কী হবে? মেঘরানী অনেক ভাবছিল। মা ডাক দিল, "মেঘরানী! ভাত খেতে আস।" তখন মেঘরানী বলল, "না, মা। এখন আমি চিন্তা করছি। একটু পরে ভাত খেলে হয় না? প্রতিদিনই তো ১২টার দিকে গোসল করে খেতে বসি। আজ একটু সাড়ে বারটায় খাই। আমাকে একটু সময় দাও ভাবার, ও মা! আর খাব না।" তখন বাবা বলল, "না, না, ছোট্ট মেঘরানী। দেখ, মা তো ভাত মাখিয়ে ফেলেছে। তোমার পছন্দের একটা জিনিস দিয়ে। টমেটোর ঝোল। তুমি খেতে খুব পছন্দ কর না? দেখ, তাও আবার বুড়া টমেটো আনিনি কিন্তু। একদম সুন্দর কচি এনেছি। সেই টমেটো তোমার নিশ্চয়ই খুব ভাল লাগবে। টমেটোর ঝোল দিয়ে মাছ রান্না হয়েছে। আজ অন্য ঝোল বা ডালের বদলে এই টমেটো মাছ আর টমেটো ভাত খাবে। খুবই স্বাদ হয়েছে। আমি খেয়েছি তো। দেখ, দেখ, মা তো মাখিয়ে ফেলেছে। নাহলে কিন্তু আবার বুড়ো টমেটোর মত স্বাদ লাগবে, খারাপ। আর একটু পরে যদি খাও, তবেই কিন্তু খারাপ। এখন যদি খেতে পার, কচির চেয়েও কচি লাগবে, খুবই ভাল। রঙ একদম টকটকে লাল, ভেতরটাও টকটকে লাল, কি সুন্দর রসালো! তুমি যদি এটা খেতে পার, তোমাকে আরো একটা রসালো টমেটো খালি খেতে দেয়া হবে।" তখন তো মেঘরানী চিন্তায় পড়ে গেল। এবার কী করব! দুটোই তো আমার প্রিয় কাজ। যাক বাবা, চিন্তা তো পরে করা যাবে। এখন খেয়ে আসি। নাহলে মা আবার খালি খালি বকবে। বকাঝকা আর ভাল্লাগে না। ওঁহো, ওঁহো। তারপর টমেটোর ভাত খেতে গেল। খাওয়া শেষ করল। এবার মাকে বলল, "মা, আরো দাও টমেটো ভাত।" তারপর আরও দিল। সেটুকু খেয়ে এবার বলল, "এবার তাহলে খালি টমেটো একটু দাও।" মা বলল, "ঠিক আছে, এই নাও টকটকে সুন্দর লাল। খেয়ে ফেল ঝটপট। চুষে খেয়ো না, ভাল লাগবে না, চিবিয়ে খাও।" তখন টমেটো খাওয়া শেষ করে মাকে বলল, "মা! আর একটা টমেটো দাও।" তখন মা বলল, "না, রাতে আবার যদি টমেটো ভাত খাও, তবেই তোমাকে আরো একটা টমেটো দেব। যাও, কি ভাববে ভাব। আমার কাজ শেষ, তোমার খাওয়ার দিকে খেয়াল রাখা। তারপর মেঘরানী গেল ভাবতে। মেঘরানী ভাবতে লাগল যে, উহ! বুদ্ধি তো পাচ্ছিই না। পেয়েছি পেয়েছি! হুররে! পেয়েছি বুদ্ধি, খুব ভাল বুদ্ধি। কী ভাল একটা বুদ্ধি পেলাম। এই শহরেই তো শুধু এই নিয়ম আছে। অন্যখানে তো এই নিয়ম নেই। অন্যখানে চলে গেলেই তো সব সমস্যা মিটে যায়, হা হা হা! মায়ের কাছে গিয়ে বলল, "মা! বুদ্ধি পেয়েছি একটা। তুমি শুধু শহরের এই চাকুরীটুকু ছেড়ে দাও। আমি একটা বুদ্ধি পেয়েছি। জান, যদি তুমি শহর থেকে চলে যেতে পার, তবে না তুমি ঐ নিয়মটা ভঙ্গ করে এক জায়গায় চাকুরী করতে পারবে। তুমি অন্য কোন একটা শহরে গিয়ে থাকলে তোমার আর কোন সমস্যা হবে না, হি হি হি।" তখন মা বলল, "বেশ ভাল বুদ্ধি তো? তবে এই চাকরিটা ছাড়ব কেন? এই চাকরিটা রেখে দেই। এই চাকরিতে থাকতেই তো ভাল লাগে। তবে চাকরিটা শেষ হয়ে গেলে আমি অন্য শহরে চলে যাব। হা, হা, হা। সোনা মেঘরানী, এজন্যই তোমার নামের শেষে রাণী আছে। আমার সোনামনি! এসব নিয়ে পরে ভাবা যাবে। এই চাকুরীটুকু অন্তত চালাই এতদিন। কিন্তু তোমার স্কুল আর তোমার বাবার ব্যবসা? এগুলোতে তো কোন সমস্যাই নেই। শহরেরই বাইরে। ওখান থেকে আসব কি করে বল?" তখন মেঘরানী বলল, "জান, আমি একটা জিনিস জানি কিন্তু? সেই জিনিসটা হচ্ছে গিয়ে রাজশাহী শহরে নাকি এমন সুন্দর একটা ভাল স্কুল আছে, যেখানে বেতনও কম এবং খুব ভাল পড়ায়। তোমার মনেই নেই। বড়দের কি মনে থাকে? আমার চাচাতো বড় বোন ঐ স্কুলে পড়েছে, অন্য কোন স্কুলেই যেতে চায়নি।" মা বলল, "বেশ ভাল তো তুমি। এজন্যই তোমাকে আমার অনেক পছন্দ। তুমি এখন আজকে শিশুপার্কে যেতে পারবে। তোমার মাথায় যে অনেক বুদ্ধি! কিন্তু বাবার ব্যবসা?" তখন মেঘরানী বলল, "হা হা হা হা হা! এতটুকু বুদ্ধিও তোমার নেই। ব্যবসার জিনিসপত্র ওখানে নিয়ে গেলে ওখানেই ব্যবসা করবে।" তখন মা বলল, "এই তো আমার মেঘরানী। কততো ভাল।" তখন মেঘরানী বলল, "কিন্তু তুমি যে কিছু বোঝ না। আমার কাছ থেকে যে শিখতে হচ্ছে।" মা বলল, "আমার শেখার কোন প্রয়োজন নেই। তুমি শিখলেই আমি শিখতে পারব তোমার কাছ থেকে। এই তো সব ঠিকঠাক হয়ে গেল।"
Friday, March 18, 2016
লটারীর বিড়ম্বনা
অদ্ভুত ঘটনা। এই গল্পটা শুনলে খুব অদ্ভুত লাগবে। তেমন অদ্ভুত নয়। এটা হচ্ছে গিয়ে শুধু লটারীর জন্যই এ ঘটনাটা হয়েছে। এক শহরে একটি মেয়ে বাস করতো। তার একটি ছোট বোন ছিল। বড় বোনের নাম রুপালী, ছোট বোনের নাম সোনালী। রূপালী পাঁচ বছর বয়স থেকেই মাকে বলে, "মা, আমি কিন্তু বড় হয়ে ডাক্তার হব।" তখন মা বলে, "তাহলে ডাক্তারের মত পড়াশোনা কর।" সে ছোটবেলা থেকে ডাক্তারের মতো অনেক পড়াশোনা করেছে, অনেক ধরনের অংক করেছে, অনেক ডাক্তারী বই পড়েছে, অনেক ধরনের পাতা-টাতা নিয়ে ওষুধ দিয়ে কি হয় না হয় সব জেনেছে। কিন্তু বড় হওয়ার পর তার বাবা বলল, "ডাক্তার হওয়ার জন্য কোন পরীক্ষায় পাস করতে হবে।" মা বলল, "ওখানে অনেকগুলো পরীক্ষা আছে। সবগুলো পরীক্ষাই দিতে হবে।" দাদা বলল, "এক নম্বর গানের শিল্পী, দুই নম্বর ডাক্তার, তিন নম্বর পাইলট, চার নম্বর ইঞ্জিনিয়ার এই কয়টা পরীক্ষাই দিতে হবে। আমি নিশ্চিত, ও ডাক্তারই হবে। কারণ, অনেক ডাক্তারের মতন পড়াশোনা করেছে। এমনকি দু'জন আত্মীয় এসেছিল, বলেছিল কিছু রোগ আছে, সেগুলোও সে পাতা দিয়ে সারিয়ে তুলতে পেরেছে।" সবার প্রথমে বড় বোন রূপালী বলল, "আমি সবার প্রথমে ডাক্তারী পড়ার পরীক্ষাটা দিতে চাই।" তখন মা বলল, "উহ! পরীক্ষা তো কত পরে। আগে ভাল করে পড়ে দেখ দেখি। তার পরে না পরীক্ষা।" তখন রূপালী বলল, "আমি তো অনেক কিছু পড়েছি, অনেক কিছু পারি। তাহলে আমার আর পড়তে হবে না।" তখন মা বলল, "অমন কথা বলতে নেই। শেষমেষ দেখা যাবে আসল জিনিসই ভুল করেছ, আর ডাক্তার হতে পারলে না। নাও, পড়তে বস। তুমি বাবাকে বলে দাও যে, কি কি পাতা আনতে হবে। তোমার বাবা অনেক রকম পাতাই আনতে পারবে। তোমার বাবা অনেক লাফালাফি এবং দৌড়াতে পারে। যত দূরেই হোক না কেন, সে পারবে। হাটতে হাটতে শুধু দেখবে, গাছের দিক তাকিয়ে শুধু দেখবে আর বোঝার চেষ্টা করবে কোন্টা তুমি আনতে চেয়েছ।" এবার বাবা পাতার খোঁজে গেল। কিন্তু পরীক্ষা করবে কাকে দিয়ে? নাটকের মধ্যে যে এমন লোক আছে যে প্রাণের ঝুঁকিও নিতে পারে, তেমন তো বাস্তবে কোন মানুষ নেই। যদি উল্টো ফল হয়! মা বলল, "ঠিক আছে, একটুখানি ডাক্তার হবার জন্য একটা মানুষকে মেরে ফেলার তো কোন দরকার নেই। যদি তুমি ওষুধ ভুল কর, তুমি যা জান তাই পড়। অথবা ছোটখাটো ইঁদুর-টিদুরকেও খাইয়ে পরীক্ষা করতে পার।" তখন রূপালী পড়ল। পরীক্ষার দিন এল বটে। কালই সেই পরীক্ষা। রূপালী ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুম থেকে উঠে মাকে বলল যে, "কি সব দিয়ে পরীক্ষা হবে মা?" তখন মা বলল যে, "ওষুধ বানাতেও দিতে পারে। অথবা অন্য কিছুও দিতে পারে। হয়তো সবার সাথে একজন করে লোক থাকবে, তাকে বলতে হবে যে, এই পাতা আন, ওই পাতা আন, ঐ জিনিসটা আন, এই জিনিসটা আন। এরকম বলে দিলেই হয়তো এনে দিতে পারবে। কিন্তু আসল জিনিসটাই কিন্তু ওনাদের দিয়ে বানানো যাবে না। অন্য কিছুতে তুমি শুধু হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। কারণ, তুমি তো ডাক্তার হতে চাও, তাই না? আবার এমন কিছু না হয় যে, তুমি ডাক্তারী একটাই ভাল করে পড়লে না। অযথা শুধু পরীক্ষা দিলে, একটাতেও হতে পারলে না- এমন যেন আবার না হয়। তারপর জলদি জলদি সে পরীক্ষা দিতে বেরিয়ে পড়ল। পরীক্ষার হল এল। মা বলেছিল যা, তাই ঠিক। রূপালী বলল, এই পাতা আন, ঐ পাতা আন। বলে দিল, তখন লোকেরা এনে দিল। পরীক্ষায় ওষুধ বানাতে দিল। এটাও পড়তে দিল যে, সবার ভাগেই একজন একজন করে অসুস্থ রোগী দেয়া হবে, তাদের অসুখ সারিয়ে তুলতে হবে। উল্টো ফল যেন না হয়। এই হল পরীক্ষা। আর যদি উল্টো ফল হয়, এজন্য আগে থেকেই তার ওষুধ (এন্টিডট) বানিয়ে রাখা হল। কারণ, অন্য ওষুধে যদি উল্টো ফল হয়, তাহলে সেই ওষুধ দিয়ে আবার সারাবে। এরপর অন্য পরীক্ষাগুলো দিল। ঐ পরীক্ষা শেষ। রেজাল্টে রূপালীর সঙ্গে একটা অদ্ভুত ঘটনা হয়ে গেল। রূপালী হয়ে গেল গানের শিল্পী। কারণ, সে লটারীতে ডাক্তারী পায়নি। সে কিন্তু গানের শিল্পী হওয়ার পরীক্ষায় হাত গুটিয়ে বসে ছিল। কি করে হলো এটা? মা লটারীতে গিয়ে সব দেখল। বাবা লটারীর সময় ছিল না। বাবা বাড়িতে ছিল। বাবার কাছে এসে সব ঘটনা বলল। বাবা তো অবাক! এটা কি হলো? কি করে হলো এটা? ডাক্তারী সবচেয়ে ভাল শিখেছে। অথচ লটারীতেই হলো না? সে গানের শিল্পী হলো? ভেবেছিলাম, সে ডাক্তার হয়ে কতই না মানুষের রোগ সারিয়ে দিতে পারবে গো! এইটা আবার কি হলো? কিন্তু এবার সোনালী বলল, "কি হলো গো? এত অদ্ভুত অদ্ভুত কি ঘটনা ঘটলো?" তখন মা-বাবা বলল, "ও সোনালী! তুই তোর বড় বোনকে নিয়ে কিচ্ছু বুঝবি না। ছোট একটা পিচ্চি মেয়ে।"- বলে বকল। আর অমনি সোনালী কান্নাকাটি শুরু করে দিল। তখন বাবা আবার কোলে নিল। বলছে, "এই মেয়ে, কাঁদে নাতো।" তখন সোনালীকে বলল, "এই মেয়ে, কাঁদে না। তুমি নাকি সবাইকে শুধু বলে বেড়াও, আমি বড় হয়েছি। আমি এখন সব কথা স্বাভাবিক বলতে পারি। দেখ, দেখ। আর এখন? এখন তো কিছুই পারছ না। এমন করে কেউ কান্না করে নাকি? আর কোলে নিতে পারব না, যাও। কান্না করছ কেন, অ্যাঁ? তুমি নাকি বড়। যাও, বড় হয়ে থাক। ছোট হয়ো না আবার। সবাই আবার ছোট বলবে। তখন তো আবার রাগ হবে ঠিকই।" শুনে বলল, "ঠিক আছে, নামিয়ে দাও। তুমি পচা।" তারপর সোনালী নামল। বলল, "আমাকে কিন্তু উত্তর দাও। কি হয়েছে রূপালীর?" তারপর মা বলল, "আবার রূপালী? রূপালী আপু।" এবার ভ্যাঁ দিয়া কাইন্দা দিছে (কেঁদে দিল)। বাবা বলল, "বলেছি না, কেঁদো না। সবাই ছোট বলবে।" তখন আবার কান্না থামল। তখন বলল, "রূপালী আপুর কি হয়েছে, বল না।" তখন মা বলল, "সব কথায় প্রশ্ন করতে নেই।" আবারো কান্না শুরু করে দিল। তখন বাবা বলল, "আবারো কাঁদে। কাঁদলে ছোট মেয়ে বলবে।" তখন বলল, "ঠিক আছে। কিন্তু একটু বল না, কি হয়েছে?" তখন বাবা বলল, "না, না। এসব জেনে তোমার কাজ নেই। তুমি বুঝবে না। যাও, তুমি তোমার কাজ কর।" তখন সোনালী বলল, "আমার আবার কি কাজ গো?" তখন বাবা বলল, "যাও, পড়ালেখা কর।" সোনালী বলল, "ঠিক আছে, যাই।" এবার রূপালী গানের শিল্পী হয়ে গেল। ছোট বোন সোনালী বলল, "আমার বড় আপু যখন গানের শিল্পী হয়েছে, আমিও গান শিখব, গানের শিল্পী হব।" তখন মাকে বলল যে, "কালকেই মার্কেটে যাব। হারমোনিয়াম, একতারা, গীটার সব কিনে আনব।" তখন মা বলে যে, "ঠিক আছে। কাল না হয় যাওয়া যাবে। এখন পড়ে ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়।" পরের দিন হল। সোনালী বলল, "মা! দাও না হারমোনিয়াম, একতারা, গীটার এসব কিনে।" তখন মা বলল, "উহ! তুমি কি রূপালীর মত বড় হয়েছ? কেবল চার-পাঁচ বছর বয়স। এখন ক্লাস কেজিতেই পড়। এখন নাকি গানের শিল্পী হবে?" মায়ের এভাবে বলাটা সোনালীর কাছে বকা মনে হল। সোনালী আবার কান্না শুরু করে দিল। বাবা আবার বলল যে, "এই মেয়ে! বলেছিলাম না, ছোট বলবে সবাই। কেঁদো না।" তখন আবার কান্না থামল। মা আবার বলল, "বোকা মেয়ে! আমি আবার বকা দিলাম নাকি?" মা বলল যে, "আরো বড় হও, তারপরে।" সোনালীও অনেক বড় হয়ে গেল। ছোটবেলা থেকেই সে গানের প্রাকটিস করেছে। আগে থেকেই গীটার, একতারা, হারমোনিয়াম সব রকমের বাজনা কিনেছে। বাঁশিও কিনেছে। কিনে সেগুলো দিয়ে অনেক গান গায়, গান শেখে। অন্যান্য বিষয় ও খুব কম শিখেছে। পরীক্ষার দিন এল। বড় একটি ব্যাগে হারমোনিয়াম, একতারা, বাঁশি গানের সবকিছু নিয়ে গেল। অনেক সুন্দর গান গাইল, যেন মনে হয় সবচেয়ে বড় শিল্পী গাইছে। রেজাল্টের সময় মাকে নিয়ে সোনালী এল রেজাল্ট দেখতে। সবার তো চক্ষু ছানাবড়া! দেখে, সোনালী ডাক্তারীতে চান্স পেয়েছে। এখন সোনালীর মনটা খারাপ হয়ে গেল। বলে, "ওমা! এটা কি হলো? চেয়েছিলাম গানের শিল্পী হতে, হয়ে গেলাম ডাক্তার। ঐ লটারীর কারণেই এমন হয়েছে। কেন যে লটারী নামক জিনিসটা এত আগে আবিস্কার হল? সব উল্টোপাল্টা হয়ে গেল এই লটারীর কারণে।"
Sunday, March 13, 2016
মহানবীর ছড়া
আমার নবী কত ভালো—
মোদের ভালোবাসেন;
এমন কেউ এখানে নেই
যাকে তিনি মারেন।
বিপদে পড়লে আসতেন,
সবার কাছে থাকতেন।
"কাউকে কখনো মেরো না"—
এটা তিনি জানতেন।
যত্ন-আদর-ভালোবাসা ভালো;
তাতে কারো মুখ হয় না কালো।
আমাদের মহানবী—
তাঁকে ভালোবাসি।
তিনিও ভালোবাসেন
সবাইকে, আমাদের।
খোকা-খুকু বইতে পড়ে,
মহানবীর কথা।
তারা চায় এতে যেন
দেয় না কেউ বাধা।
মোদের ভালোবাসেন;
এমন কেউ এখানে নেই
যাকে তিনি মারেন।
বিপদে পড়লে আসতেন,
সবার কাছে থাকতেন।
"কাউকে কখনো মেরো না"—
এটা তিনি জানতেন।
যত্ন-আদর-ভালোবাসা ভালো;
তাতে কারো মুখ হয় না কালো।
আমাদের মহানবী—
তাঁকে ভালোবাসি।
তিনিও ভালোবাসেন
সবাইকে, আমাদের।
খোকা-খুকু বইতে পড়ে,
মহানবীর কথা।
তারা চায় এতে যেন
দেয় না কেউ বাধা।
Friday, March 11, 2016
My Sumira Cat
I have a little cat. She is girl cat. Her name is Sumira. Sumira is my best and good friend cat. My sister give milk to Sumira. I give meat to Sumira. When I go to school, Sumira want to come with me. One day, I was going to school. Sumira want to come with me. Shy cry and say, "Please, take me to your school. I want to see your school, students. What I am do?" I said, "Ok! But, another time. When I come from school, then say to students to wait. Then you will see my school, students." The Sumira see. It is my cat's story.
Sunday, March 6, 2016
গরীব লোকের গল্প
এক ছিল এক গরীব লোক। তার ছিল শুধু একটি স্ত্রী আর কেউ নয়। তাদের শুধু চারটি মাত্র জিনিস আছে। ছোট্ট একটি ঘর, মনে কর একটি বিছানার সমান একটি ছোট্ট পুকুর, লুঙ্গি-গেঞ্জি, আর একটি কামিজ। কিচ্ছুই ছিল না আর। কি করবে? শুধুমাত্র এই কয়টি জিনিস আছে। এই সবগুলোই তো ওদের প্রয়োজন। পানি ছাড়া কেউ বাঁচে? তাই পুকুর। অন্য সবগুলোও তো দরকার। এখন বিক্রি কি কিছু করা যাবে নাকি? প্রয়োজনের জিনিস বিক্রি করলে তো অন্য সময় যখন প্রয়োজন পড়বে তখন কি হবে? এখন তারা চিন্তায় পড়ে গেল। স্ত্রী বলে, "এবার কি বিক্রি করব? কিছুই তো নেই।" তখন বলল, "শোন! বুদ্ধি খাটাতে হবে। ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। ছোটবেলায় মা-বাবা থাকতে যে ধনী ছিলে, তখন তো পাঠশালায় যেতে। দু'জনেই তো কাক ও কলসীর একটি গল্প পড়েছি। ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়, এটা শিখেছ না? আল্লাহর কাছে দোয়া কর। অত চিন্তায় পড়ে যেও না। আল্লাহর ইচ্ছা। আমাদের একটু ধনী করে তুলতে চাইলে করবে, নাহলে গরীব হয়েই থাকতে হবে, নাহলে আল্লাহ যদি মারতে চায় মারবে, আল্লাহ যা চায় তাই হবে, কী করব।" তখন একদিন স্ত্রী বলল, "আহ! পেটের মধ্যে কেমন যেন গুতোগুতি করছে কি যেন।" তখন লোকটি রাজার কাছে গিয়ে বলল, "রাজামশাই! আপনার বৈদ্যবুড়িকে একটু বলবেন? অন্য কোন ডাক্তার তো আমি পাই না। আর আপনিও তো অন্য ডাক্তারদের পাচ্ছেন না। রাজবৈদ্য পেয়েছেন, এখন অন্যদের খেয়াল নেই। রাজবৈদ্য দিয়ে কাজ চালাচ্ছেন। একটু বৈদ্যবুড়িকে বলতে পারবেন? ডাকতে পারবেন এখানে? আমার স্ত্রীর পেটে কি যেন হয়েছে।" তখন রাজা দাস-দাসীদেরকে বলল, "দাস-দাসীরা, তোমরা বৈদ্যবুড়িকে ডাক। এখনই ডাক।" দাস-দাসীরা ডেকে আনল। বৈদ্যবুড়ি বলল, "আমাকে একটি খালি কক্ষে নিয়ে চলুন।" তখন রাজামশাই একটা খালি কক্ষ বের করে দিল। তখন বৈদ্যবুড়ি ঐ লোকের স্ত্রীকে নিয়ে কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করল। বৈদ্যবুড়ি চিকিৎসা করে দেখল, ওমা! এইটা যে কী সুখের খবর গো! কিন্তু এইটা আবার কি করে হলো? মহিলা টেরও পেল না? ভাবল অসুখ? এ আবার কেমন কথা? তবে সবাইকে তো জানাতে হবে আসল কথাটা। স্ত্রীকে উঠতে বললেন। বললেন, "উঠুন! এদিকে আসুন। ঐদিকে চলুন। সবার কাছে গিয়ে সবকিছু বলি।" বৈদ্যিবুড়ি সবার কাছে গিয়ে বলল, "আহ! কি সুখের খবর। এই লোকের স্ত্রী তো মা হতে চলেছে।" তখন রাজা বলল, "কী হলো আবার?" তখন বৈদ্যিবুড়ি বলল, "শুনুন রাজামশাই! এই লোকের স্ত্রীর যে বাচ্চা হবে।" সবাই মিলে এবার বলল, "আ! এ কী? বাচ্চা হবে?" তখন এ রাজ্যের রাণী বলল, "বাচ্চা হবে। তো বাচ্চাকে বের করেই তো আনতে পারতে।" তখন বলল, "ঠিক আছে।" তখন বৈদ্যবুড়ি পিছনে ঘুরে দেখল, "স্ত্রী বাচ্চার কথা শুনে বসে বসে বাচ্চার জন্য কি যেন করছে।" তখন বলল, "উহ! আপনি এসব করতে বসে গেছেন কেন? বাচ্চা হওয়ার পর তারপরে করতে পারবেন। এখন করার সময় না। এতক্ষণ বাচ্চা যদি পেটে থাকে, তবে কী হবে? বেশিক্ষণ থাকা যাবে না। চলুন আপনি কক্ষে। আস্তে আস্তে চলবেন। বাচ্চা হওয়ার পর আপনি খুব পাতলা খাবার খাবেন। এবং মিষ্টি খাবার খাবেন। যাতে বাচ্চা বুকের দুধ মিষ্টি পায়। আর যদি শক্ত খান, তবে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। কতক্ষণ ধরে কিছু খাচ্ছেন না। গরীব মানুষ। তাহলে বাচ্চা হবার আগে কিছু নরম জিনিস খেয়ে নিতে হবে। কারণ, বাচ্চা হওয়ার সাথে সাথে দুধ মুখে দেয়া দরকার। আমি রাজামশাইকে বলছি খাবার দিতে। রাজামশাই! একটু পায়েস দিবেন? মানে পায়েস তো একটু বেশি শক্ত, তাহলে দুধই একটু দেন। বাচ্চা হওয়ার পর যদি দুধ না পায়, তাহলে বাচ্চার বড় রকম অসুখ হতে পারে। এখন তাহলে বাচ্চা হওয়ার পর কি করতে হবে সেগুলো আগে বলে নেই। নাহলে বাচ্চা হওয়ার পর খুশীতে সবাই মাতামাতি করবে, তখন আর এগুলো বলার সময় পাওয়া যাবে না। উল্টাপাল্টা কাজ করলে বাচ্চার ক্ষতি হবে। আপনি এখন একটু দুধ দেন।" তখন রাজা দাস-দাসীদের বলল, "এই! এক গ্লাস দুধ ঐ লোকের স্ত্রীর কাছে একটু দিন।" তারপর বৈদ্যিবুড়ি বলল, "না, ওনার কাছে দিলে উনি নিজের হাতে খেয়ে ফেলবেন। আমি ওনাকে একদিন দেখেছিলাম, কি করে পানি খায়। ঢকঢক করে খেয়ে ফেলে। ওভাবে খাওয়া যাবে না। আমার হাতে দিন। আমি আস্তে আস্তে করে এনাকে খাওয়াচ্ছি।" তখন রাজা বলল, "ঠিক আছে। দাস-দাসীরা তোমরা ঐ লোকের স্ত্রীর কাছে দিও না, বৈদ্যবুড়ির হাতে দাও।" তখন দাস-দাসীরা দুধ এনে বৈদ্যবুড়ির কাছে দিল। বৈদ্যবুড়ি এটা আস্তে করে খাইয়ে দিল। তখন কক্ষ বন্ধ করে বাচ্চা বের করল। সাথে সাথে বৈদ্যবুড়ি এটা বের করেই এসে বলল, "এখন বাচ্চা আলো সহ্য করতে পারবে না। কিছু নরম পরিস্কার কাপড় দিন আমায়।" রাজা জলদি করে পরিস্কার কাপড় দিল। তখন বাচ্চার গায়ে জড়িয়ে স্ত্রীর হাতে দিল। স্ত্রী দুধ খাওয়ালো বাচ্চাকে। আর বৈদ্যিবুড়ি বলল, "শুনুন! ৭/৮ দিনের আগে বাচ্চাকে গোসল করানো যাবে না। এতে ঠাণ্ডা লাগার ভয়। আর বাচ্চার জন্মের পর ৬ মাস শুধু মায়ের দুধই খাবে। কোন পানিরও প্রয়োজন নেই। আর বাচ্চাকে এখন বাইরে নেয়া যাবে না। গরম তাপ লাগলেও বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে। আর বাচ্চাকে আস্তে আস্তে একটু একটু করে আলো সহ্য করাবেন। খুব আস্তে আস্তে। একবারে বেশি দিলে বাচ্চার চোখেরও ক্ষতি হতে পারে। এই বললাম। সব কথা শেষ। বাচ্চাকে নিয়ে সবসময় ভাল রাখবেন। আর রাজামশাই! ওনাদের কিন্তু বাচ্চা হয়েছে। এখন আর কুড়েঘরে থাকলে চলবে না। তাতে বাচ্চার আরো কষ্ট হবে, ক্ষতি হবে। আপনি ওনাদেরকে বাচ্চার জন্য যা যা দরকার তা তা একটু দান করুন। এবার আমি আসি।"- বলে বৈদ্যিবুড়ি তার কাজে চলে গেল। তখন বাচ্চাকে নিয়ে খুব আনন্দ করল। আর রাজামশাই দাসদাসীদের সবার সাথে আলাপ করল যে, কি দান করব। তখন রানী বলল, "রাজামশাই! শোন। তুমি বরং একটি গরু দাও। বাচ্চা যাতে বেশি ভাল দুধ পায়, তাই নিজেরও হালকা মিষ্টি খেতে হবে।" তখন রাজা বলল, "ঠিক। সবার আগে একটি গরু দান করি।" তখন একটি গরু দিয়ে দিল গরীব লোককে। কিছু নরম ও পাতলা কাঁথা দিল। ছোট দুটি আরামদায়ক লিলেন কাপড় দিল। আর বাচ্চা ৬ মাসের পর তো মায়ের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবারও খাওয়াতে হবে। তাই রাজা একটি ধানক্ষেত দিয়ে দিল। ঐ ছোট পুকুরটি রেখে একটি বড় পুকুর দিল। দাস-দাসীদের বলল, "ওদের ঘরে আরেকটু মেরামত করে ভাল বানিয়ে দাও। বাচ্চা এমন ঘরে থাকলে বড় হয়ে তার সন্তানদেরকেও এমন কষ্ট দেবে।" আর একটি আমগাছও দান করল, যাতে একটু ফলফলাদিও তো দরকার হয় শরীরে। বাচ্চা ৬ মাস পার হলে আবার অন্য জিনিস খাওয়াতে হবে তো, একটু ফল খাওয়াবে, তাই আমগাছ দিল। আর বলল, "এক বছরের আগে কোন চকলেট, ললিপপ, বিস্কুট এসব বাইরের জিনিস দেয়া যাবে না। বাচ্চার জন্য যত্ন নিতে হবে। কিন্তু বাইরের জিনিস দেয়া যাবে না। আর এক বছরের আগে কোন খেলনা-টেলনা দেয়া যাবে না। কারণ, খেলনা-টেলনায় ধুলা-ময়লা থাকে। পরিস্কার করেও দেয়া যাবে না। কারণ, ছোট বাচ্চা নরম তুলতুলে থাকে, আর খেলনা কত শক্ত। আর ছোট তো খেয়েও ফেলতে পারে। আর অন্য সব বাচ্চারা দুষ্টু না? আর গরীব লোকের বাসায় তো দৌড় দিয়ে এসে পড়তে পারে। আর এসে যদি শক্ত খেলনা ছোড়াছুড়ি করে, এটা গায়ে লাগবে না? আর বাচ্চাকে সবসময় বাইরে থেকে জিনিসও কিনে দেবে না। এতে বাচ্চারা বাইরে গেলে বেশি বেশি জিনিস কিনতে চাইবে। বাচ্চাদেরকে আদর করে বড় করতে হবে। যাতে আর বকা দেয়া না লাগে, তাই সবকিছু শিখাবে। এমন করলেই তো বাচ্চা ভাল থাকে, তাই না?" এখন রাজা একটু পরে বললেন, "আচ্ছা, আমি তিন-চার প্যাকেট মিষ্টিও দিচ্ছি। এগুলো বাচ্চা হয়েছে বলে আত্মীয়-স্বজনকে একটু একটু করে দেবে। বৈদ্যবুড়ি যা বলেছে, আমিও যা বলেছি, সব মনে থাকে যেন।"-এই বলল। তখন সবাই রাজাকে বলল, "ধন্যবাদ। আমরা আসি।"-বলে বাড়ি ফিরে দেখল, দাস-দাসীরা ঘর মেরামত করে ভাল সুন্দর ঘর বানিয়ে দিয়েছে। তখন রাজার কাছে গিয়ে আবারও একটা ধন্যবাদ দিয়ে আসল। তখন রাজামশাই বলল, "আপনারা যখন রাতে ঘুমাবেন, তখন ঘরের পাশে একটি সুন্দর বাথরুমও বানিয়ে দেবে।" তখন দাস-দাসীরা রাতের বেলায় গিয়ে একটি সুন্দর বাথরুমও তৈরি করল। ফিরে এল রাজার কাছে। উঠে দেখল কি সুন্দর একটি বাথরুম। তখন রাজার কাছে গিয়ে আবারও ধন্যবাদ দিয়ে আসল। বাচ্চা বড় করতে করতে তারা কাহিল হয়ে গেল। এবার লোকটিকে স্ত্রী দায়িত্ব দিল, প্রতিদিন দুপুর বেলা খেয়ে যে গরু রাজা দিয়েছে সেই গরুর দুধ দোওয়াবে। আর লোকটি স্ত্রীকে দায়িত্ব দিল যে, তুমি এখন থেকে দুধ খুব আস্তে করে খাবে, তাহলে বাচ্চা দুধ ভাল পাবে। আর এটাও দায়িত্ব দিলাম যে, বাচ্চাকে দেখে রাখবে। আরও দায়িত্ব দিলাম যে, তুমি রাজা ও বৈদ্যবুড়ির সব কথা মনে রেখে বাচ্চাকে সেই সেই করবে। তখন স্ত্রী রাগ হয়ে বলল, "আমি কি তোমাকে এত দায়িত্ব দিয়েছি? তুমি আমাকে এত দায়িত্ব দিচ্ছ কেন? দাড়াও, এখন আমি তোমাকে এমন একটি দায়িত্ব দেব, পারবেই না। তোমাকে আমি দায়িত্ব দিলাম, প্রতিদিন অনেক ভোরে ঘুম থেকে উঠে রাজার দেয়া ক্ষেত থেকে কিছু ধান বিক্রি করবে এবং যা টাকা পাবে সেই টাকা দিয়ে বাচ্চার এক বছর কেটে গেলে সেই টাকা দিয়ে তুমি একা মার্কেটে গিয়ে বেলুন কিনবে এবং ভাল কেক আনবে। খারাপ হলে কিন্তু আবারো পাঠাব। অনেক বড় দায়িত্ব দিলাম। মনে যদি না থাকে, তোমায় এমন মারা মারব না। মনে থাকে যেন। কাগজে লিখে টানিয়ে রাখ, যাতে মনে থাকে।" তখন লোকটি বলল, "ঠিক আছে।" তখন লিখে টানিয়ে রাখল। তখন স্ত্রী বলল, "ও! তুমি তো আমায় তিনটি দিয়েছ দায়িত্ব। আমি তো শুধু দুটি দিলাম। আরো একটি দিব।" তখন লোকটি বলল, "আর না। মেয়েদেরই তো এসব কাজ করতে হয়। ছেলেমানুষ একটু সাথে নিলেই হয়। তুমি আমাকে আর কাজ দিও না। তাহলে আমি কিন্তু তোমাকে চারটি কাজ দেব।" তখন স্ত্রী বলল, "তবে কিন্তু আমিও চারটি কাজ দেব। এমন করতে করতে কিন্তু সবারই হাজারটা দায়িত্ব হয়ে যাবে। এর চেয়ে তিনটাই ভাল। এত কম চাইলে কয়েকদিন পর দেখবে, আমি কোথায় যেন গেছি, আমার সব কাজ তোমায় করতে হবে। এর চেয়ে তিনটি কাজই কর। আর সেই দায়িত্বটা হল গিয়ে শস্য থেকে আরো কিছু বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে জগ কিনবে, কলস কিনবে, তারপর কলসি নিয়ে পুকুর থেকে পানি নিয়ে জগে ভরবে। তখন লোকটি বলল, "এই না না। এটা কিন্তু ভাল হচ্ছে না। তবে তুমি আরো একটা কাজ নাও। তবেই আমি এগুলো করব।" স্ত্রী বলল, "ঠিক আছে, আমি যখন যা ইচ্ছা যেভাবে ইচ্ছা করব সেটাই হল আমার চার নম্বর দায়িত্ব। এটা বুঝেছ? এবার হয়েছে?" বলে যে, "ঠিক আছে।" তখন গরীব লোকটা বাচ্চাকে বড় করে তুলতে লাগল। এই মেয়েটা হল কেন জান? কারণ, তারা আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিল যে, তাদের যেন ভাগ্য ভাল হয়। এখন আল্লাহ এই মেয়েটিকে দিলেন, যাতে তারা সুখে থাকে। তারপর বাচ্চাটির মাথায় অনেক বুদ্ধি দিয়ে জন্ম দিয়েছেন আল্লাহ। আল্লাহ দেখলেন যে, ওরা আল্লাহ যে দিয়েছেন তার জন্য আল্লাহর কাছে কোন কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে না। শুধু রাজাকে ধন্যবাদ দিচ্ছে। আরে বাবা, আল্লাহই তো বাচ্চা দিয়েছেন, তাই তো এই সব হয়েছে। আল্লাহ একটু রেগে গেলেন। তখন আল্লাহ চাইলেন, তাদেরকে যেন বোঝানো যায় যে, দিয়েছেন আল্লাহ, তাই আল্লাহর কাছেই কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে। মানুষ বাচ্চা হলে সবার আগে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানায়, তারপর অন্য যারা সেবা-শুশ্রূষা করেছে তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কিন্তু এরা দেখছি আল্লাহর কথা মনেই করছে না। তখন আল্লাহ ওদের কোন সুখই চাইলেন না। এবার শয়তান এসে তাদেরকে কুমন্ত্রণা দেয়া শুরু করল। তারা বাচ্চার কথা ভুলে গেল। তারা নিজের সংসারের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। নামায এখন সব রাকাতগুলো পড়বে তা না। এখন শুধু তিন রাকাত আর চার রাকাত পড়তে শুরু করল। ওদিকে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়তে লাগল। বাচ্চাকে দুধ দেয়ার কথা মনেই থাকল না। কিছুক্ষণ পরে তার মনে হল যে, কি যেন, কি যেন; ভুলে গেছি কি যেন। তখন আল্লাহর কথা মনে পড়ল। আল্লাহর কাছে বলল যে, "আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে মনে করিয়ে দাও।" এবার আল্লাহ খুশী হলেন। মনের মধ্যে বাচ্চার কথা ঢুকিয়ে দিলেন। তখন মনে পড়ে গেল। দৌড়িয়ে বাচ্চার ঘরে গিয়ে দুধ খাওয়ালো, আদর-যত্ন করল। তখন তাদের মনে পড়ল যে, আল্লাহই তো আমাদের বাচ্চা দিয়েছেন। আল্লাহর কাছে তো কিছুই করা হয়নি। আল্লাহকে খুশী করার জন্য এক কি করা যায়? তখন লোকটিকে বলল, "এই! একটা কাজ আছে। এটা তুমি একটু করতে পারবে? এটা মার্কেটে গিয়ে করতে হবে। এক কপি কুরআন শরীফ কিনে আন। গরুর একটু দুধ বিক্রি করে টাকা যোগাড় কর। তাহলে ভাল কোরআন শরীফ পাওয়া যাবে। তখন লোকটি দুধ বিক্রি করা টাকা দিয়ে দুই কপি কোরআন শরীফ কিনে আনল। তখন স্ত্রী এক কপি নিয়ে পড়তে শুরু করল, আর লোকটি আরেক কপি নিয়ে পড়তে লাগল। তারপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায পুরোপুরিভাবে পড়া শুরু করে দিল। শয়তান কোরআন শরীফ পড়া দেখেই আর কাছে থাকতে পারল না। দূরে চলে গেল। তারপর তারা নামায শেষ করে তসবীহও পড়তে শুরু করল। আল্লাহ খুশী হয়ে তাদের বাচ্চার মাথায় আরো অনেক বুদ্ধি দিয়ে দিলেন। যাতে বড় হয়ে কোন বিপদ হলে বাচ্চাই তাদের বাঁচাতে পারে। এখন তারা সুখে-শান্তিতে বাস করল। বাচ্চাকেও ঠিক করে পালন করতে লাগল। প্রতিদিন কুরআন পড়ে, প্রতিদিন তসবীহ পড়ে, প্রতিদিন সব ওয়াক্ত পড়ে নামাযের। আর শুক্রবার জুমার নামায পড়ে, জুমার নামায পড়তে স্ত্রীও যায় মহিলাদের আলাদা কক্ষে। গল্প শেষ।
Tuesday, March 1, 2016
মুসলিম রাজকন্যার গল্প
এক দেশে বাস করত এক রাণী। তার একটি মাত্র মেয়ে। তার নাম রূপমালা। সে ছিল মুসলিম। রাণীর নাম রূপা। রাণী মারা যাবার আগে বলে গেল, "রূপমালা! আমি মারা যাবার পরেই রাণী হতে যেও না। তোমার রাণী হবার বয়স হয়নি। আর ভালো হয়ে থেকো।" একদিন রাজকন্যার ভালো লাগছিল না। কারণ, সেখানে শুধুমাত্র পনেরটি দাসী আছে। আর পাঁচটি দাস আছে। তাই তার অনেক কাজ করতে হচ্ছে। কারণ, দাসীগুলো অলস। একটি মাত্র দাসী একটু বিছানা ঝাড়ে, আর শুয়ে থাকে, আর খায়। আরেকটি দাসী শুধু বাথরুম ধোয়। আর বাথরুম ধোয়া তো চার-পাচদিন পরের কাজ। মাঝখানে যে কয়দিন থাকে, খায় আর ঘুমায়। আর সব দাসীই কেউ কেউ ফ্যান মোছে, কেউ কেউ কাপড় ধোয়, কেউ কেউ ঘর মোছে, কেউ কেউ ঘর ঝাড়ু দেয়, কেউ কেউ জানালা মোছে, কেউ কেউ রানীর জিনিসপত্র মোছে, কেউ কেউ রানীর সেবা করে। সবাই মিলে শুধু এই কাজগুলোই করে। তাও আবার একটি কাজ একজনে করে। রানী শুধু ছেলের রান্না করে, জগে পানি ভরে, নদী থেকে পানি আনে, নিজে নিজের ওষুধ খায়, কোথাও বেড়াতে যেতে হলে নিজে নিজের ব্যাগ গোছায়, নিজে নিজের চুল আঁচড়ায়, নিজে নিজের থালা-বাসন ধোয়, নিজেই বেড়ে খাবার খায়। এইসব কাজই তো দাসীরা করবে। উল্টে এই বেশি কাজগুলোই রানী করে। তাই রানী অনেক খোঁজ করে একটি হিন্দু দাসী পেল। রানীর সবচেয়ে অস্থির লাগত কি জান? যখনই হিন্দু দাসীকে ডাক দেয়, তখনই এসে বলে, আদেশ করুন মহারানী! যখন কোথাও গিয়ে ফিরে আসে, তখনই বলে, প্রণাম! তারপর সালাম দিলেও জবাব দেয় না। সালামের জবাবেই উল্টো আবার নমস্কার দেয়। আর রানীকে দেখলেও সবসময় শুধু নমস্কার। তারপর কোন কোন সময় রানীর চোখের সামনে প্রদীপ জ্বালায়। রানীর খুব বিরক্তি লাগে। তখনই মনে মনে ভাবে, "উহ! ওকে নিয়ে আর পারলাম না। ভালো দাসী, তাই এনেছি। আচার-আচরণগুলো না দেখে যে কেন আনলাম? এখন তো আর তাড়িয়ে দেয়াও যায় না। তেমন কোন অন্যায় যদি নাই করে, যদি তাড়িয়ে দেই, মানুষকে সে কি বলে বেড়াবে?"- এই ভাবত রানী। রানী একদিন বিরক্ত হয়ে খুবই রাগ হলো। দাসীকে ডাক দিল। বলল, "দাসী! এখন থেকে প্রদীপ জ্বালানোর দরকার নেই। আমার না চোখের সামনে আগুন ভালো লাগে না। আগুনের তাপটা চোখে লাগে। ছোট্ট একটু হলে কি? ছো্ট্ট একটুতেও চোখে তাপ লাগে। তোমার ইচ্ছা হলে দূরে গিয়ে প্রদীপ জ্বালিও। পরে চোখ নষ্ট হলে আবার সবাই তোমাকেই গালিগালাজ করবে।" তখন দাসী প্রদীপ জ্বালালো না চোখের সামনে। তখন একটু রাগটা কমলো। কিন্তু এখন তো আবার রানী চাকরী শুরু করেছে। এখন তো প্রতিদিনই আসে। প্রতিদিনই শুধু 'প্রণাম', 'প্রণাম'; 'নমস্কার', নমস্কার'- এমন করতে থাকে। তখন দাসী যাতে এসব না বলে, এজন্য কিছু একটা ভাবল রানী। ভেবে ভেবে কিছু পায় না। রানী খুঁজে পেল উপায়। দাসীকে বলল, "দাসী! শোন। তুমি আর প্রণাম বা নমস্কার কিছু বলো না। আমার তো বাচ্চাদের যেমন পড়ার চাপ, আমারও তেমনই চাকরিতে পড়ার চাপ। কারণ, ঐ স্কুলে না আবার সবাই মনে করে যে, রানী তো ভাল সব জানবে। রানীকে তো বই দেখে খাতা চেক করতে দেয়া যায় না। অতএব, না দেখেই খাতা চেক করতে হয় আমাকে। তুমি যদি সেই সময় কোন কথা বল, আমি সব ভুলে যাব।" তখন দাসী বলল, "ঠিক আছে, যা বলবেন।" তারপর থেকে আরো বিপত্তি দেখা দিল। এতদিন তো তবু শুধু মুখে প্রণাম বা নমস্কার জানাতো। আর এখন মুখে বলাটা নিষিদ্ধ হওয়াতে সে মুখে কোন শব্দ না বলে সরাসরি বাস্তবেই ইশারাতে হাতজোড় করে মাথা নুইয়ে নমস্কার জানাতে শুরু করে দিল। রানীর তো মাথায় হাত। এবার কী করবে? চাকরি দিল ছেড়ে। তারপর সেই দাসীটি আবার সব সময় অনেক বড় একটি সিদুর পড়ে ঘুরত। রানীর সেটাও সহ্য হতো না। দাসীকে দেখলেই সে দূরে সরে যেত। তখন বলত, "শোন দাসী! তুমি যদি কপালের উপর দিয়ে একটি টিকলী পড়, তবে খুবই সুন্দর দেখাবে। টিকলী পড়বে।"- এই বলল। উদ্দেশ্য, টিকলি পড়লে সিদুরটি ঢেকে যাবে। আর যে "আদেশ করুন মহারানী" বলত, এতে তেমন কিছু হতো না। এবার দাসী সব ঠিকঠাক মত করে, শুধু একটা সমস্যা। শুধু হিন্দুদের বাড়ি গিয়ে হিন্দুদের সাথে আলাপ করে। রানী ডাকলে আসেও না। কিন্তু অন্য সময় আবার বলার আগেই করে ফেলে। যেটা তেমন কিছু না, সেটাই আগে আগে করে ফেলে। যেটা অনেক দরকার, সেটাই করে না। হিন্দুদের বাড়ি ছিল দূরে। রানী বলল, "দাসী! তুমি এখন থেকে আর অত দূরে যেও না। জরুরী কাজে ডাক দিলে শুনতে পাও না তো, তাই তুমি আশে পাশে যেই মানুষদের বাড়ি আছে, সেখানে গিয়ে কথা বলো। ডাক দিলে শোনা যাবে। দূরে যেও না।" তখন দাসীটি ভাল হয়ে গেল। রানীরও কোন অসহ্য হলো না। আর রানী এখন অনেক বই পড়ে, বুদ্ধি বাড়ে, যদি কোন অসহ্যের কাজ করে, তখনই বুদ্ধির বইটা পড়ে ঐ ধরনের কিছু দিয়ে বুদ্ধি বানায় আর সেগুলো কাজে লাগায়।
শিক্ষা: রাগ না করে বুদ্ধি প্রয়োগ করে পরিস্থিতি শান্ত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
Monday, February 29, 2016
রিমার গল্প
এক শহরে বাস করত এক মেয়ে। তার নাম রিমা। তার কিসের সাধ জান? খুবই জটিল। এই সাধ আমরা পূরণ করব কিভাবে? এত ছোট বাচ্চা কিভাবে এই কাজ করতে পারে? রিমা তার বড় বোন সিমাকে বলল, "সিমা আপু! শোন। আমার না একটা শখ। আমি মহাকাশের গবেষণা করতে চাই। আমি সেটার বিজ্ঞানী হতে চাই। এটা একটু পূরণ করে দেবে? শুধু তুমি একা। বড়দেরকে বলো না। বড়রা বলবে, এই পাগল! কি করছ? এটা সম্ভব কিভাবে?- বলে বকবে। বড়দের বলো না। শুধু তুমিই আমার এ ইচ্ছাটা পূরণ করে ফেল।" সিমা বলল, "উহ! আমিও তো ছোট। আমি কি করে তোমার ইচ্ছা পূরণ করব, বল দেখি? আমারও তো বার বছর বয়স। তুমি বরং বড়দেরকেই বল। তার আগে বলো যে, আমাকে কথা দাও যে, আমাকে বকবে না। আমাকে বোকা বা পাগল এই টাইপের কিছু বলবে না। আমি একটা কথা বলছি।- বলে তোমার ইচ্ছে পূরণের কথা সবাইকে বলবে, যদি তারা বলে যে, কথা রাখবে।" "কিন্তু আমি বড়দেরকে বলব? আমার না খুব ভয় করে। যদি বকা দেয়। যদি কথা না রাখে। আমি যদি কাঁদি, তখন আবার বলবে, এত বড় মেয়ে কাঁদে নাকি। বলে আবার বকবে। আমার না ভয় করে খুব। কতবার বলব যে ভয়ের কথা। তুমি বরং বল যে, আমি বিজ্ঞানী হতে চাই।" তখন বড় বোন বলল, "আ-হা-হা-হাহা। সামান্য একটু বকাকে ভয় পেলে চলবে? আ.হা.হা.হা (হাসি)। আমার কাছে তো কোন ব্যাপারই না। আমার ভয়, যদি কোন শাস্তি দেয়। বকা বা মার কোন শাস্তি নাকি? হা..হা..হা...। কতবারে তো হাসতে হবে? আমার অনেক হাসি আসে। আমি চট করে বলব। বকা দেয়ার আগেই সরে যাব। আমার সাথে তোমাকে থাকতে হবে। এততো ভয় পেলে আমি কিন্তু বলে দেব, তুমিই আমাকে বলতে বলেছ, তুমি বকা ভয় পাও। তখন কিন্তু মানুষে হাসবে যে, বড় হয়ে গেল, এত ভয় পেলে চলবে বকাকে?- এই বলে হাসবে। তোমাকে যেতে হবে কিন্তু। আমার আবার পরীক্ষা আছে। আমি একটু দেখি, কি আছে। তারপরই বলছি। হা..হা..হা। এত হাসাচ্ছ কেন?"- এই বলে বড় বোন খাতা দেখে একটু পড়ে ফেলল। তারপর আসল। বলল, "রিমা! কথা মনে আছে? চল, মা-বাবা কোথায়?" তখন রিমা বলল, "চল, যাই। মা রান্নাঘরে। বাবা পাশের রুমে পেপার পড়ছে।" ওরা দু'জন আগে বাবার কাছে গেল। কারণ, মাকে বললে মা বেশি বকা দেবে। মা একটু রাগী। মা এরকম বলবে, "ও..মঁ! উনি নাকি বিজ্ঞানী হবে? কী শখ! লেখা নাই, পড়া নাই, কিছু নাই, এত ছুটু মানুষ! যাহ! এত রাগাস না। একশ বছর হলে বিজ্ঞানী হবি। এত ছোটবেলায় হওয়ার দরকার নেই। যা তো।"- এই বলত মা। তাই তারা বাবার কাছে গেল। বাবাকে বলল, "বাবা! আগে আমাকে কথা দাও, তুমি আমাকে বকবে না, পাগল বা বোকা টাইপের কিছু বলবে না। একটুও বকা যাবে না, একটুও মারা যাবে না। মানা করলে বুঝিয়ে বলবে। কিন্তু একটু যদি বকা দাও, আমি কিন্তু তোমার সব কাজের জিনিস ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেব। কথা দিতে পারবে? আমি একটা কথা বলব। সেই কথার জন্য তুমি কথা দাও।" বাবা ভাবল, কথা দিয়েই দেই। বলল, "আচ্ছা, কথা রাখব। তুমি বল।" তখন রিমা বলল, "আমার বিজ্ঞানী হওয়ার শখ। আমি মহাকাশ গবেষণা করতে চাই। এবার যদি বক, তবে কিন্তু তোমার সব জিনিস ময়লার ঝুড়িতে ফেলবই ফেলব।" তখন বাবা বলল, "এটা আবার কি বলছ? অংকে সবসময় কম নম্বর পাও। অংক না জানলে তো বিজ্ঞানী হতে পারবে না। বিজ্ঞান ক্লাসেও তো কিচ্ছু পড়তে পার না। পরীক্ষায় কিছু পারও না। বিজ্ঞান, অংক এ দুটোই তো বিজ্ঞানী হওয়ার আসল জিনিস। এগুলো ভাল করে পড়বে। অংক পড়লে কিন্তু ডাক্তারও হওয়া যাবে। অনেক বড় হও। তারপরে বিজ্ঞানী হবে। তুমি বড় হয়ে বিজ্ঞানী হতে চাও? আচ্ছা, বিজ্ঞানী বানিয়ে দেব। মহাকাশ বিজ্ঞানী? আচ্ছা, বানিয়ে দেব। এবার যেন বিজ্ঞানে আর অংকে ফুল নম্বর পাও।" তারপর রিমা এখন থেকে প্রতিবারই অংকে এবং বিজ্ঞানে ভাল করে। বড় হয়ে সে বিজ্ঞানী হওয়ার কথাটা মনে করল। বাবাকে বলল, "মনে আছে নাকি বিজ্ঞানী হওয়ার কথাটা? আমার সব ক্লাসের রেজাল্ট দেখ।" বাবা অবাক হয়ে গেল। বলল, "আমার একটা চেনা গবেষণাগার আছে। অনেক দূরে। ঐখানে নাকি দুই সপ্তাহ পর বিজ্ঞানী হওয়ার পরীক্ষা হবে। পরীক্ষায় পাস করতে পারলে বিজ্ঞানী হয়ে যাবে। আজ থেকে পড়া শুরু কর।" তখন রিমা পড়া শুরু করল। পরীক্ষায় ভাল নম্বর পেল। পাশ করল। সত্যি একজন বিজ্ঞানী হয়ে গেল। এখন প্রতিদিন সে গবেষণাগারে যায় এবং গবেষণা করে। কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা অনেক কিছু শিখতে চায়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুধু খোঁজে, কোন কোর্স হয় কিনা। আর বিজ্ঞানীদের কাছে প্রায়ই আসে, আর জানতে চায়, কিছু শেখাতে পারবে কিনা। রিমার কাছেও আসে, শিখে যায়।
Saturday, February 27, 2016
সুবাতের নানুবাড়ি
এক গ্রামে বাস করত এক ছো্ট্ট মেয়ে। সে তো গ্রামে থাকে। তাই শহরে গেলে খুব ভয় পায়। তার বয়স ৫ বছর। সে ক্লাস কেজিতে পড়ে। সেই ক্লাসে সবচেয়ে ছোট। ছোট হলেই ভাল। কেন জান? কারণ, তাহলে তুমি খুব তাড়াতাড়ি ক্লাস কেজিতে উঠে গেছ, বড় ক্লাসে উঠেছ। অন্যদের তো হয় সাড়ে পাঁচ, নয়তো ছয় বছর, নয়তো ছয় বছর দুই মাস। তার নানু বাড়ি ছিল আবার শহরে। ঢাকাতে। ধানমণ্ডি এলাকায় ধানমণ্ডি লেকের পাশে। সেখানে সে বেশি ভয় পাবে না, কারণ লেকে তো পানি, আর গ্রামে তো কত নদী-পুকুর দেখেছে। তাই হয়তো ভয় পাবে না। কিন্তু ভয় পাবে কেন জান? গ্রামে তো ছোট ছোট একতলা ঘর। কিন্তু শহরে তো ১০/১২ তলা, ১৫/১৬ তলা, ৫/৬ তলা, বড় বড় তলা অনেক। তাই হয়তো সেগুলো দেখলে ভয় পাবে। তার নানু জানত যে, বাচ্চাদের বেড়ানো পছন্দ। তাই নানু মেয়েটির মাকে ফোন করল। বলল, "আমার সোনামনি কি করে? তাকে একটু নিয়ে আসবে আমার এখানে? খুব সুন্দর জায়গা। অনেক কিছু দেখাব তোমায়। তুমি একটু আস। এক-আধদিন মাদ্রাসায় না গেলে কিছু হবে না।" এখন মা বলল, "উহ! ও তো দেড়টায় ভাত খেয়ে দুইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত ঘুমোয়, তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত হুজুরের কাছে আরবী পড়তে যায়, আর চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত খেলতে যায়, আর অন্য সময় বাসায় মাদ্রাসার পড়া পড়ে। তাহলে এক-আধদিন তোমার বাড়িতে গিয়ে থাকলে তো ঘুম আর পড়াশুনা সব বাদ দিয়ে ছোটাছুটি করবে, দেখাদেখি করবে সবাই কেমন। আর মাদ্রাসা আর আরবী পড়া দুইটা শিখতে পিছিয়ে যাবে।" তখন নানু বলল, "ও! আমি তো ভুলেই গিয়েছি। সময় তো ঠিকই করে রেখেছি। এখন কি মাস? ফেব্রুয়ারী না? ওর তো শুক্রবার ছুটি, তাই না? শুধু শুক্রবার। আমাদের শহরে না শনিবারও ছুটি। এখন ২০১৬ সাল, তাই তো? এখন ২২ তারিখ মাঘী পূর্ণিমা। আর ২১শে ফেব্রুয়ারী তো ভাষা দিবস। আর শুক্রবার তো এমনিতেই ছুটি। তাই শনিবার শুধু একদিন বাদ গেলে কি সমস্যা? পরে আবার অন্য সময় স্যারদের কাছে গিয়ে জেনে নেবে। ছুটির সময় স্যারকে বলে রাখবে, একটু দাঁড়ান, সেদিন কি কি পড়ালো একটু বলে দেন, নাহয় অন্য বাচ্চাদের কাছেও জেনে নিতে পারে, কি পড়ালো। তুমি নিয়ে আস। আজ কয় তারিখ, অ্যাঁ?" মা বলল, "তুমি ভুলেই গেছ। আজ ১৫ তারিখ। তাহলে এখন রাখি। আসার চেষ্টা করব। আসার জন্য চিন্তা-টিন্তা হয়ে গেলে যদি ঠিক করি, আসতে পারব, তাহলে জানাব।" এইবার ফোনে কথা বলা শেষ। মেয়েটির নাম ছিল সুবাত। মা বাবাকে বলল, "দেখেছ? আমার মা কি বলছে? আমরা নাকি শহরে যাব। তা আবার সুবাতকে নিয়ে। মানে ওর নানুবাড়ি যেতে হবে।" তখন বাবা বলল, "ও! এ তো ভাল কথা। তবে কবে যাবে?" মা বলল, "তুমি জান না, ফেব্রুয়ারী মাসে কি? আজ ১৫ তারিখ। শোন, কিছু তারিখ বলি, এগুলো কি বন্ধ, তুমি ঠিক করে বুঝে নাও। ১৯, ২১, ২২ এগুলো কি বন্ধ?" তখন বাবা বলল, "ও, হ্যাঁ....! তুমি ঠিকই বলেছ। কিন্তু তা তো শনিবার।" মা বলল, "তোমার চাকরিতে তো ছুটি নেয়া যাবে। আর আমার তো শুধু সংসারের কাজ। আর সুবাতের তো একদিন বন্ধ হলে কিছু হবে না। স্যার-ম্যাডাম বা অন্য বন্ধু-বান্ধবের খাতা দেখে সে বুঝে নেবে যে, কি করালো। তাহলেই তো হয়ে গেল। দেখি, তুমি চাকরি করে এসে টিকেট করে নেবে। আমি সবসময় কেয়া গাড়িতে যাই, যেখানেই যাই। কেয়া গাড়িটা আমার কাছে ভাল লাগে।" বাবা বলল, "কিন্তু কেয়া তো শুধু একসিডেন্টের গাড়ি।" তখন মা বলল, "আচ্ছা, পছন্দ হওয়া না হওয়ায় কি, ভালটাতেই চড়। তাহলে সবচেয়ে ভাল কি, বলতে পার তুমি?" বাবা বলে, "মানে ভাল গাড়ি হচ্ছে দেশ ট্রাভেলস। আর ওখানে করলেই ভাল হয়। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে যাচ্ছি।" মা বলে, "তবে এ গাড়িটা খারাপ না হোক, অন্যদিক থেকে আবার এক্সিডেন্টের গাড়ি যেন না আসে। ড্রাইভারকে সাবধান থাকতে বললেই হবে। যদি দেখ, এক্সিডেন্ট যেই গাড়ি করে, সেই গাড়ি সামনে এসে যাচ্ছে, তখনই পিছনে পিছিয়ে সরে যেতে বলবে। আর তুমি সামনের সিটে থাকবে। তাহলেই সাবধান হতে বলতে পারবে। আর আমরা একটু পিছনের দিকে বসব, কারণ সামনের দিকে বেশি হর্নের শব্দ থাকে, আবার সামনে পেট্রোল-টেট্রোলের গন্ধ। সামনের সিটে ঝাঁকিও বেশি লাগে।" তখন আলোচনা হল। বাবা ১৭ তারিখে টিকেট কেটে ফেলল। আর বলল, "বাস থেকে নেমে সিএনজিতে যাবে। তবেই ভাল হবে।" তখন মেয়েটি গাড়ি-ঘোড়ার কথা শুনে ফেলল। তখন ও বলল, "গাড়ি-ঘোড়ার কথা কেন? গাড়ি-ঘোড়ায় চড়ে তো কোথাও যায়। আবার কোথায় যাবে?" তখন মা বলল, "তুমি যদি লক্ষ্মী মেয়ের মত খাও, লক্ষী মেয়ের মত পড়াশোনা কর, ক্লাসে ভালভাবে থাকতে পার, সুন্দর করে ঘুমাতে পার আর যদি মা-বাবার কথা শুনতে পার, তবে তোমাকে একটা জায়গায় নিয়ে যাব।"- এই বলল মা। এই শুনে মেয়েটি লক্ষ্মী হয়ে থাকল। মা যা যা বলেছে, যা যা করলে নিয়ে যাবে বেড়াতে, সেই সেই জিনিসই করতে থাকল। আর মা এসব বলল কেন জান? বাচ্চা বেড়ানোর কথা শুনলেই যা যা করতে বলব তা তাই করবে। তাই মা বলল যদি এমন কর, তাহলে এমন হবে। আসলে তো সেটা না করলেও নিয়ে যাবে। তখন বাবা ছুটি নিয়ে নিল ২০ তারিখ। এরপর ১৯ তারিখ হতে চলল। বাচ্চাকে টিভি দেখতে দিয়ে বা লিখতে-পড়তে দিয়ে অন্য জায়গায় গিয়ে তবেই ব্যাগ গুছাতে শুরু করল। এরপর সকাল হল ১৯ তারিখে। সুবাত ঘুমোচ্ছিল। সুবাতকে ডাকল। সুবাতকে বলল, "সুবাত, সুবাত! তুমি তো লক্ষ্মী হয়ে থাকতে পেরেছ। বললাম না, কোথায় যেন বেড়াতে নেব? চল, বেড়াতে নিয়ে যাই। ঘুম থেকে উঠে পড়। এই যে সুন্দর জামা পড়ে যাবে। ওঠ সুবাত, তাড়াতাড়ি ওঠ। নাহলে কিন্তু আর যাওয়া যাবে না। উঠে জলদি করে কিছু খেয়ে নাও। আমি তোমার পছন্দের নুডুলস রান্না করেছি। বাসে বসে সেটা খাবে। উঠে পড় সুবাত, উঠে পড়। জলদি করে উঠ। না উঠলে কি করে যাবে? তাড়াতাড়ি উঠ। সুবাতের বেড়ানোর কথা মনে পড়ে গেল। সে 'ইয়ে..' বলে লাফ দিয়ে উঠে পড়ল। দৌড় দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলল। সে তো প্রতিদিন সকালে মধু খায়। মুখ ধুয়ে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলল মধু। সে জলদি করে ভাত খেয়ে রেডি হয়ে পড়ল। দৌড়ে দিয়ে ঘরের বাইরে বের হয়ে গেল। মা-বাবারাই তো ঘর থেকে নিয়ে আনবে, উল্টো সুবাতই নিচে গিয়ে ডাকল, "মা, বাবা, নিচে নেমে আস। এতক্ষণ বাড়ির ভিতর থাকা যাবে না। বাস চলে যাবে, জলদি। আমি যাবই যাব, নিয়ে চল না, নিয়ে চল না। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আস।" সুবাতই উল্টে ামা-বাবাকে ডাকল। মা-বাবারা ভাবল, "ওমা! আমরাই তো ওকে ডাকব। এখন ওই দেখি উল্টা আমাদেরকে ডাকছে। তাড়াতাড়ি রেডি হও।" মা-বাবা রেডি হয়ে আসল। সুবাত মা-বাবাকে নিয়ে মা-বাবার হাত ধরে দৌড় দিয়ে যেতে চাইল। কিন্তু মা-বাবা কি আর ছো্ট্ট বাচ্চাদের মত দৌড়াদৌড়ি করতে পারে? তারা সুবাতকে বলল, "এই, দাড়াও, দাড়াও, রিকশায় করে যাই, চল।" রিকশায় করে বাসস্ট্যান্ডে চলে গেল ওরা। সুবাত কোনদিন বাসস্ট্যান্ড তো দেখেনি। তাই সে ভয় পেয়ে গেল। বলল, "মা, এটা কি? এত বড় বড় যানবাহন কোনদিন দেখিনি। আমি শুধু ছোট ছোট গাড়ি-ঘোড়া দেখেছি। এটা আবার কি গো?এটাতে দেখি সিড়িও আছে? আমরা কোনটাতে যাব? এই যানবাহনের নাম কি?" তখন মা বলল, "হা-হা-হা! আরে বোকা! এই যানবাহনের নাম বাস।" সুবাত বলল, "কি বললে? এটা বাজ? তার মানে এখানে বাজপাখিরা চড়ে? তাহলে তুমি আমাকে বাজপাখি দেখাতে এনেছ? এ তো খুবই পুরান।" তখন মা বলল, "হা-হা-হা-হা------। মা হাহাহা করে হাসতেই লাগল।" বাবা বলল, "উহ! কিচ্ছু বোঝে না। লিখে দেখাব? বর্গীয় জ না, দন্ত স। ব-এ আকারে বা, দন্ত স। বাস। এবার বুঝেছ? বাসে মানুষরা চড়ে। এখনো আসল জায়গায় যাওইনি। এইখানে আমরা যে গাড়িতে যাব সেই গাড়ি এখনই চলে আসবে। চলে এলেই উঠিয়ে দেব তোমাকে।" দেশ ট্রাভেলসের গাড়ি চলে এল। সুবাত দেখে ভয় পেয়ে গেল। বলল যে, "গাড়িতে আবার বিভিন্ন রকমের ডিজাইন! এইটা কি লেখা, পড়ে দেখি তো। DESH Travels। ও, তার মানে দেশ ট্রাভেলস? দেশ ট্রাভেলসে আমরা চড়ব? চল মা, চড়ি। এবার বাবা, মা ও সুবাত গাড়িতে উঠল। সুবাত ভাবল, "ওহ! এইটা যে চলছে, তাতে খুব বাতাস লাগছে। কী সুন্দর বাতাস! কিন্তু ভয়ও করছে। এত উঁচু যানবাহন থেকে যদি পড়ে যাই।" সুবাত পড়ে যাওয়ার কথাটা মাকে বলল। মা বলল, "ওহ! এর মধ্যে থেকে পড়বে কি করে? জানালা দিয়ে তো আর পড়বে না। সামনে তো আর আমরা বসিনি। আমরা তো কিছু সিট পিছনেই বসেছি। সামনে বসলে তো আরো ভয় পেতে, যদি দরজা দিয়ে পড়ে যাও। পড়ে যাবে না। কত বেড়া দেয়া আছে। এর থেকে কি পড়ে যাওয়ার কোন ভয়?" তখন সুবাত বলল, "আচ্ছা, ভয় পাব না।" তারপর শহরে আসল। নেমে সে খুব ভয় পেয়ে গেল। সে বলল, "মা, দেখ! কততো বড় বড় বাড়ি! এত বড় বাড়ি আমি কোনদিন দেখিনি।" তার নানুর বাসা ছিল দশ তলা বিল্ডিংএর পাঁচ তলায়। নানুর বাড়িটা দেখে সে ভয় পেয়ে গেল। সে বলল, "মা! এটা কি রাক্ষসের বাড়ি?" বাবু মনে করল, পুরো বাসাটাই একজনের। সে খুব ভয় পেয়ে গেল। তারপর মা বলল, "চল, ভিতরে ঢুকি। বাড়ির ভিতরে ঢুকবে না?" তখন বাবু বলল, "না, মা। আমার খুব ভয় করছে। এটা কাদের বাড়ি? তুমি চিনতে ভুল করনি তো? এখানে দেখছি সবই রাক্ষসের বাড়ির মত।" মা বলল, "আহ-হা হা হা! রাক্ষস নয়, খোক্কস নয়, কার বাড়ি, তা আগে ভিতরে ঢুকে দেখ না!" তখন সুবাত বলল, "মা, আমার কিন্তু ভয় করছে। রাক্ষস থাকলে কিন্তু তোমারই দোষ।" তখন মা বলল, "তাহলে রাক্ষস না থাকলে কিন্তু তোমার দোষ হবে।" তখন বাবু বলল, "না, না। তা হবে না।" তখন বাবা বলল, "এত কথা না বলে ভিতরে ঢোক তো।" তখন সবাই ভিতরে ঢুকল। বাবু বলল, "এ বাড়িটা অনেক বড় ছিল না? ভিতরে এত ছোট্ট কেন?" তখন মা বলল, "উহ! চুপ কর।"- বলে মা কলিং বেল টিপ দিল। বাবু কলিং বেল শুনে ভয় পেল। বাবু বলল, "এটা কি? এটা কি কোন রেডিও? এটায় কি গান শোনে? কি সুন্দর একটু আগে গান হল। টিপ দিলে গান বেজে উঠল।" তখন নানু দরজা খুলল। তখন সুবাত বলল, "নানু! তুমি এখানে কি করে এলে? এটা তুমি কোনখানে এলে? এটা অনেক বড় তো, ভিতরে এত ছোট কি করে হল?"-বাইরে বসেই বলল। তখন নানু বলল, "উহ! সোনা। আমার সোনার সুবাত! বাইরে বসে কেন কথা বলছ? ভিতরে ঢোক। দেখ, কি।" তখন সুবাত বলল, "এত শক্ত মাটি তোমাদের! আমাদের জান, ল্যাদভ্যাদা মাটি।" আর এখানে তো অনেক কিছু অনেক রকম পার্থক্য আছে আমাদের বাড়ির সাথে। আমাদের বাড়িতে অনেক ছোট ছোট চুলা। তোমাদের অন্য রকম চুলা। আমাদের তো নিচে, তাও আবার ল্যাদভ্যাদা যেমন মাটি তেমন। তোমাদের চুলাটা না অনেক সুন্দর। ও বাবা! তোমাদের রুমগুলোই তো দেখিনি। আমরা কোন রুমে থাকব তোমাদের বাড়িতে এসে?" তখন নানু বলল, "তোমার যেই রুমটা পছন্দ হয় তুমি সেই রুমেই থাকবে।" সুবাত বলল, "আমার যেই রুমটা পছন্দ সেই রুমে কি ঘুমানো যায়? আমার পছন্দ যেই রুমে অনেক সোফা-টোফা, টেবিল, যেই ঘরে মেহমানদের বসতে দেয়া হয়, সেই রকম।" তখন নানু বলল, "ও! এই রুম? এই রুমের নাম তো ড্রইং রুম।" তখন সুবাত বলল, "তাহলে তো এই রুমে ছবি আকা যাবে। আমি তো আমাদের রং,
Friday, February 19, 2016
ছোট্ট ছেলের বুদ্ধি
এক গ্রামে বাস করত এক ছেলে। ছোট্ট ছেলে। তারা খুব গরীব ছিল। সে তার বাবা ও মাকে নিয়ে থাকত একটি ছোট্ট ঘরে। তিনটি মাত্র রুম। একটি মাত্র বেডরুম। একটি রান্নাঘর। একটি খাওয়ার ঘর। বেশি টাকা-পয়সাও ছিল না। তার বাবা মাঠে বাঁশি বাজানোর চাকরি করতেন। তিনি একবারে বাঁশি বাজানোর রাজার মত। এমন সুন্দর বাঁশি বাজায় না, তাই মানুষ তাকে অনেক টাকা দেয়। আর তার মা এমন নাচ জানে যে, নাচের চাকরি করতে পারে। তাই সে নাচের চাকরিই করত। প্রতিদিন একের পর এক মানুষ এসে এসে বলত, আমাদের গ্রামে বা আমাদের শহরে একটি উতসব হবে বা অনুষ্ঠান হবে। সেখানে একটু নাচ-গান হবে তো, তাই আপনাকে একটু দরকার। প্রতিদিনই এমন করত একজন না একজন। ছেলে আর কী করবে? ঘরে বসে থাকত। ছোট্ট ছেলে কি আর কাজ করতে পারে? তবে তার মা ও তার বাবা একটু বাঁশি বাজানো আর একটু নাচ শিখিয়েছিলেন। তখন ছেলেটি দেখল, একদিন কোন উৎসব নেই, আর কোন জায়গাতেই উতসব নেই। তার বাবাও উতসবের বাঁশি বাজাতো। এখন ছেলে ভাবল যে, ইস! এখন তো মা-বাবার কোন কাজ নেই। এই ভাবল সে। সে মা-বাবাকে বলল, "বাবা! তুমি আমাকে বাঁশি বাজানো শিখিও। মা! তুমি আমাকে নাচ শিখিও।" আর তার চাচী গানের ব্যবসা করত। চাচীর কাছে গিয়ে বলল, "আমায় একটু গান শিখিয়ে দিও।" তারপর সবাই শিখিয়ে দিল। তখন সে একটি সরকারী উতসবে নাচ, গান, বাঁশি বাজানো এসব করতে গেল। কারণ, "অন্য উতসবের চেয়ে সরকারী উতসবে বেশি পয়সা দেবে। আর আমি তো এখন তিনটাই একসাথে করছি। তাহলে আমাকে নিশ্চয়ই আরো বেশি পয়সা দেবে।" - এই ভেবে সে সরকারী উতসবে ঢুকল। সেখানে মনে কর অনেক রকম ধর্ম, অনেক রকম মানুষ এসেছে। ছেলেটি নাচল, গাইল, বাঁশি বাজালো, এমনকি সুন্দর ভাল ভাল গানও গাইল। টাকা পেল কত জান? দুই লাখ। এরপর দুই লাখ টাকা দিয়ে সে এক বস্তা চাউল, এক বস্তা সবজিও কিনল। আর সে তা দিয়ে একটি গরুও কিনল। কারণ, দুধ তো প্রতিদিন কিনলে বেশি টাকা লাগে, আর গরু তো একমাত্র কিনলেই প্রতিদিন দুধ পাওয়া যাবে। আর যেদিন কোন খাবার থাকবে না, সেদিন গরুটির মাংসও তো খাওয়া যাবে। আর এমন টাকা যে পাওয়া গেল, তা দিয়ে আরেকটি গরুও তো কেনা যাবে। তার চাচীর জন্যও একটি গরু কিনল। দিল চাচীকে। চাচীও ছিল খুব গরীব। তার আবার চাউল-টাউল কিছুই ছিল না। গান গেয়ে যা টাকা হতো একশ বা দুইশ তা দিয়ে সে একটু ডিম-টিম খেতে পেত। চাচীকে গরুটা সে উপহার দিল। আর চাচীকে বলল, "চাচী, তুমি প্রতিদিন এমন কর কেন? প্রতিদিনই টাকা খরচ কর কেন? তোমার একদিন একটু টাকা খরচ করলেই তো অনেক কিছু পাবে। এই দেখ তোমার জন্য কি এনেছি! দুধ খেতে যদি চাও, একটা মাত্র গরু কিনলেই প্রতিদিন পাবে। ডিম খেতে যদি চাও, একটা মাত্র মুরগী কিনলেই প্রতিদিন পাবে। শুধু তাদের একটু খেতে দিলেই হয়। এবার তাহলে আমি আসি!" এরপরে মা-বাবা ও ছোট ছেলে এবং তার চাচী সুখে দিন কাটাতে লাগল। দুই লাখ টাকা দিয়ে সারা গ্রামে যত গরীব মানুষ আছে সবাই একটু না একটু কিছু পেল। দশ বছর চলল সেই দুই লাখ টাকা দিয়ে। এরপর আবার সেই সরকারী অনুষ্ঠান খুঁজতে লাগল। কিন্তু এবার সরকারী অনুষ্ঠান নয়। এবার খোঁজ পেল বিদেশী একটি সরকারী অনুষ্ঠান। এবার তো নাচ-গান করে সে পাঁচ লাখ টাকা পেয়ে গেল। তা দিয়ে সে ১২ বছর কাটালো। এরপর সবসময়ই কোন না কোন দেশের সরকারী অনুষ্ঠান খুঁজে খুঁজে লাখ লাখ টাকা পেতে লাগল আর সুখে জীবন কাটাতে লাগল। টাকা দিয়ে জিনিস কিনে সেই সব জিনিস সে গরীব মানুষকেও দান করল। আর সরাসরি (নগদ) টাকাও কিছু গরীবদের দান করল।
Tuesday, February 16, 2016
রাজার যুদ্ধ
দিঘি নগরীর রাজা ্ওসমান। মুক্তা নগরীর রাজা সিপাইনুন। সিপাইনুন ছিলেন খুব খারাপ ্ও অত্যাচারী রাজা।ওসমান ছিল সবচেয়ে ভাল ও দয়ালু রাজা। সিপাইনুন ভাবল, "আমরা তো অনেক যুদ্ধের শখ। আমি বরং ওসমানের সাথে যুদ্ধ করি।" ঘোষণা, "পরশুদিন রাজা সিপাইনুনের সাখে রাজা ওসমানের যুদ্ধ হবে।" ওসমান শুনে ভয় পেয়ে গেল যে, "ও বাবা! আগে থেকে জানাবে না? আমি নাকি যুদ্ধ করব। সবাইকে জানানো দরকার। রাণী! রাণী! শুনে যাও।" রাণী জবাব দিল, "কী? আমি এখন যেতে পারব না। তোমার ছেলে পোলাও, রোস্ট, পায়েস জর্দ্দা এসব খাওয়ার বায়না করেছে।" "কিছুক্ষণ এসব বাদ দাও রাণী। জরুরী কথাটা শোন।" রাণী এলো। বলল, "কী হলো?" "আরে এবার যে রাজা সিপাইনুনের সাথে যুদ্ধ করতে হবে।" রাণীর জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেল।যুদ্ধ হলো। সকলে দেখতে এলো । কেউ কেউ বাচ্চাও নিয়ে গেল দেখতে। জিতল----দিঘি নগরীর রাজা।
সবাই রাজা ওসমানের জন্য গান গাইতে শুরু করল-
"জিতেছে দিঘি নগরীর রাজা-
তার নাম ওসমান রে--
যুদ্ধে গিয়েছিল,
জিতেছে রে----
পুরষ্কার কি করে দিব!
মানুষ জিতলে রাজা পুরস্কার দিবে।
কিন্তু রাজাই যদি জিতে যায়-
কি করে হবে...?
যুদ্ধ গিয়ে জিতেছে দীঘি নগরীর রাজা-
তার নাম ওসমান রে.....।"
Monday, February 8, 2016
টুপির গল্প
এক মেয়ের ছিল এক অদ্ভুত টুপি। টুপিটি দেখতে খুবই সুন্দর। যখন কোন বিপদে পড়বে, ভেবে ভেবে বিপদটি নিয়েই একটি ছন্দ বলবে আর টুপিটি পড়বে। তাহলেই টুপিটি বিপদে সাহায্য করবে। কারণ, তার ছন্দ শুনতে খুব ভাল লাগে। ছন্দ শোনা তার অনেক প্রিয়। এই টুপি দোকানদারের কাছেই ছন্দ শুনতো। এরপর তো মেয়েটি কিনে নিল টুপিকে। একদিন মেয়েটি বড় হয়ে গেল। অনেক বড়। তার বয়স হল ২৫। তাকে বিয়ে দেয়ার সময় হয়ে গেল। সেখানে একটা অদ্ভুত কাণ্ড ঘটেছে। সেখানে বিয়ে করার জন্য বর কম ছিল, আর কনে বেশি ছিল। সবাই আগে আগে বিয়ে করে ফেলেছে। আর একটা লোক ছিল বিয়ে করার জন্য। কিন্তু সে মেয়েটিকে পছন্দ করছিল না, আর মেয়েটিও ছেলেটিকে পছন্দ করছিল না। কারণ, ছেলেটি খুব কালো। ঘরে তেমন ভাল কিছুও নেই। তাকে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতে গেলে তার বাড়িতে তো কিছু নেই, তাই তারও তো কষ্টে থাকতে হবে। তাই দু'জনের কেউই দু'জনকে পছন্দ করল না। এখন তো একটা বড় বিপদে পড়েছে। তার দাদী তাকে বলে গিয়েছিল, বিয়ে করতে বেশি দেরি করলে আমি কিন্তু রাগ করব। আর তোমায় বকাও দেব। মহাবিপদ কেন জান? মেয়েটি তার দাদীর সব কথা শুনত। একটি কথা না শুনলে সবার কাছেই সেই কাজটা খুব অপমানের হবে। তখন তার একটুও ভাল লাগবে না। তার না ভাল লাগাটা একটুও পছন্দ না। সুন্দর টুপিটিকে হাতে নিয়ে ভেবে ভেবে ছন্দ খুঁজছিল।
"বিয়ে করতে পারছি না-
বর এনে দাও না।
ছন্দ শোনাবো ছন্দ শোনাবো-
একটু খুঁজে দেখ গো।"
এই বলার সাথে সাথে টুপি খুশী হয়ে বলল, "এক মিনিটের মধ্যেই আমি বর খুঁজে আনছি।" টুপি তো আর তেমনভাবে বলতে পারে না। টুপি যতটুকু পারে ততটুকুই একটু বলল। পরে সে সন্ধান পেল এমন সুন্দর একটি ছেলেকে, যাকে দেখে ছবি না তুলে তার (টুপিটার) একটুও ভাল লাগছিল না। টুপি আবার গিয়েছিল একা। টুপি কি করে গিয়েছে জান? তখন আবার একটু ঝড় ঝড় ছিল। ঝড়ে একটু বাতাসে আর নিজের একটু শক্তি দিয়ে সে আমেরিকায় গিয়ে একটি খুঁজে পেয়েছিল। সে কেমন দেখতে জান? কাল কাল চুল, গায়ের রং দুধের মতন, রাজকুমারের মত পোশাক-আশাক, প্রতিদিন মেকাপ-টেকাপ, ক্রিম-ট্রিম লাগিয়ে অনেক সুন্দরভাবে সাজে, আর তাড়াতাড়ি যাতে তাকে সুন্দর দেখায় তাই সে সাড়ে এগারটার দিকেই গোসল করে। গোসল আবার করে ভাল সাবান ও শ্যাম্পু দিয়ে। হাত-পায়ে তেল মাখে, কী সুন্দর সুন্দর শার্ট-প্যান্ট! মেয়েটির নাম ছিল জোছনা। টুপিটি ভাবল, "এটাকে যদি আমি জোছনাকে উপহার দেই, সে খুব খুশী হয়ে আমাকে অনেক ছন্দ শোনাবে। এটা আমি ওকে সরাসরি দেব না। এটাকে আমি উপহার দেব। কি করে দেব, তা তো ভেবেই রেখেছি।" টুপিটি গেল ছেলেটির কাছে। ছেলেটির নাম ছিল মধু। মধুকে ডেকে বলল, "একটা কথা শোন ভাই। আমাকে তোমার ঘরে নিয়ে চল। তারপর কিছু কথা বলব।" মধু তো টুপিকে দেখেই চমকে গেল। সে বলল, "ও রে বাবা! টুপি আবার কথা বলে। এটা আবার কি গো! টুপির মধ্যে আবার প্রাণ দিল কে?" টুপি বলল, "ভয় পেয়ো না। আমি একটি অদ্ভুত টুপি। আমাকে এত ভয় করছ কেন? আমাকে ভয় না পেয়ে একটু ঘরে নিয়ে চল। কতবার বলছি, ঘরে নিয়ে চলছ না কেন? আমায় নিয়ে যাও তোমার ঘরে। তোমার ঘরটা আমি একটু দেখব আর কথা বলব। তোমার মা-বাবার ঘরটাও দেখব, কিন্তু পরে। তখন ছেলেটি কিছু বুঝল না। সে যা বলল, তাই করল। ঘরে নিয়ে গেল টুপিকে। টুপি বলল, "কি সুন্দর তোমার ঘর! তোমার ঘরে দেখি আবার তোমার ছবিও টানানো আছে। তোমার বিছানার চাদরটি তো সুন্দর খুব! দেখি দেখি। চাদরটি কি সুন্দর টকটকে লাল! তোমার টেবিলটাও তো সুন্দর, চেয়ারটাও তো সুন্দর, আর তোমার ব্যাগটা তো সবচেয়ে সুন্দর! কী সুন্দর ফুল রাখা আছে টবে! টবটাও তো কত সুন্দর! তুমিও খুব সুন্দর। তুমি যে খুব সুন্দর, এই কথাটা আমার মনে হলেই কেমন লাগে জান? আমার মনে হয়, এটা তো স্বাভাবিক, ও তো সুন্দরই, এ তো আবার বলার কী আছে? তাই আমার মনে হয়। কারণ, তোমাকে আমি একনজর দেখেছি। একনজর দেখাতেই তুমি যে সুন্দর এটা আমি টের পেয়েছি। এবার কথাগুলো তো বলি। তোমার কয় বছর?" "কেন, আমার বয়স দিয়ে তুমি কি করবে?" এমনি একটু জানতে চেয়েছি। একটা জরুরী কাজের জন্য। একটু পরে বলছি সে কথা। মধু বলল, "আমার বয়স তো ৩০ হয়ে যাচ্ছে প্রায়। এই তো কয়দিন পর ৩০ বছর পূর্ণ হয়ে যাবে।" তখন টুপি ভাবল, "এরও তো বিয়ে করার সময় হয়েছে। তবে এরা বিয়ের কোন খোঁজ-খবরই রাখছে না।" তখন সে (টুপি) বলল, "এবার একটা কথা শোন! ভেবেচিন্তে অন্যদের বলো। কথা শুনে আবার তেমন কিছু মনে করো না। আমাদের ঘরে না একটা সুন্দর মেয়ে আছে। আমার কাছে তার একটা ছবিও আছে। দেখ তো সুন্দর কিনা ও!" তখন মধু দেখে বলল, "আমি তো দেখছিলাম যে, এইসব নিয়েই কোন কথা ভাবা যায় কিনা। অনেক মেয়েকে আমি দেখেছি। সব মেয়ের চেয়ে এই মেয়েটাই তো বেশি সুন্দর। মেয়েটার কাছে আমি একটু যেতে চাই। ছবি দেখে তো হবে না, বাস্তবেই মেয়েটাকে দেখলে আমি বুঝব।" তখন টুপি বলল, "মেয়েটা তো অনেক দূরে। বাংলাদেশে ঠিক। তবে যেতে পারবে আমার সাথে। আচ্ছা আরেকটা কথা বলি। কিছু মনেও করো না। বলতে পারি?" তখন মধু বলল, "আমি কেন মনে করতে যাব? আর আমি রাগই বা হব কেন? বল, সামান্য একটু কথায় কি রাগ হলে চলবে? সত্যি সত্যি যদি খারাপ কিছু করে তাহলে না হয় রাগ হওয়ার কারণ থাকে। বল।" তখন টুপি একটু ভয় ভয় ভাবে বলল, "সেই মেয়েটির নাম তো জোছনা। তুমি কি ওকে বিয়ে করতে পারবে?" তখন মধু বলল, "তোমাকে তো বলেছি যে, এই কথা নিয়েই তো আমি ভাবছিলাম। তুমি আমার একটা ইচ্ছে তো পূরণ করেই দিয়েছ। খুব ভাল করেছ। ধন্যবাদ। তাহলে নিয়ে চল দেখি, মেয়েটা কেমন। এ বিষয়ে তুমি আমার কাছে এভাবে বলছ কেন? আমার মা-বাবার কাছে বল।" তখন টুপি বলল, "কি বলছ? আমি বলতে পারব না, বাবা। যদি আবার কিছু বলে। তুমি বল। তোমাকে বরং কিছু বলবে না। তুমি তাদের ছেলে তো, তাই।" তখন মধুই বলতে গেল। বলল, "মা! তুমি আমার একটা কথা শুনবে? কিছু বলো না আবার, হ্যাঁ। আমার বিয়ে করার বয়স হয়ে গেছে। আমি একটি মেয়ের সন্ধান পেয়েছি। মেয়েটি খুব সুন্দর ছিল। আমি তার ছবি দেখেছি।" মা বলল, "কে দেখালো আবার ছবি? কেই বা সন্ধানটা দিল? আর কার কাছে তুমি মেয়ের কথা জেনেছ? মেয়েটির নাম কি, বলতে পার?" মধু বলল, "মেয়েটির নাম তো জোছনা। জান একটা অদ্ভুত দৃশ্য দেখেছি। আগে বল, বিশ্বাস করবে তো? কিছু বলবে না তো আবার? বললে কিন্তু হবে না। আমাকে আগে কথা দাও। কথা যদি না রাখতে পার, আমি কিন্তু কোন দিনও বিয়ে করব না।" তখন মা ভাবল, ছেলেটিকে বিয়ে না দিয়ে আমি করব? বিয়ে না দিলে মানুষে কি বলবে? ওর ছেলেমেয়েই বা হবে কেমনে? তখন সে রাজি হয়ে গেল। বলল, "ঠিক আছে আমি কথা রাখব। কথা দিয়ে দিলাম তোমায়। ভয়ংকর কিছু হলে একটু ভাবতে দিও।" তখন বলল, "আমি একটি টুপি দেখেছি। ওই টুপিতে না কথা বলে। টুপিটা একদম মানুষের মত। আমাদের কথা বোঝে। সেই টুপি আমাকে এই মেয়ের কথা বলেছে। আমি তার ছবি দেখেছি। সে কিন্তু খুবই সুন্দর, মা। আমি তার সাথে বিয়ে করব। এবার কিন্তু কথা রাখতে হবে! না রাখলে কিন্তু সত্যি সত্যি যা বলেছিলাম, তাই হবে।" তখন মা বলল, "আচ্ছা আচ্ছা, অত ভয় করব না। বিয়ে করবে, করবে। একটু শান্ত হও, বাবা। আমায় একটু ভাবতে দাও। বলেছিলাম না, ভাবতে দেবে?" তখন ভেবেশুনে মা বলল, "ঠিক আছে, ছবিটা আমায় একটু দেখাও তো! আর টুপিকে আমার সামনে এনে দাও।" টুপিটি আসল। মা দেখে বলল, "কি সুন্দর তুমি! তুমি কি টুপি, নাকি মানুষ?" "আমি হচ্ছি আজব টুপি। দেখ আমার হাত-পাও আছে।" তখন মা বলল, "আচ্ছা! তোমাকে দেখে কেমন যেন লাগছে। তুমি কে? কার সাথে থাক?" "আমি একটি মেয়ের সাথে থাকি, যেই মেয়ের নাম জোছনা। যেই মেয়েটির সাথে আপনার ছেলেকে বিয়ে দিতে চাচ্ছিলাম।" তখন বলল যে, "আচ্ছা, তোমার সবচেয়ে ভাল লাগে কি?" বলল, "আমার সবচেয়ে ভাল লাগে ছন্দ শুনতে।" তখন মা বাবাকে সব কথা বলল। বাবাও বিয়ে দিতে রাজি হয়ে গেল। তখন শুধু ছেলেটিকে নিয়ে যেতে হবে মেয়েটির কাছে। তখন সে (টুপি) মধুকে নিয়ে দেশে ফিরে আসল। বাড়ির সামনে গিয়ে দরজায় টোকা দিল। মধুকে এক জায়গায় লুকিয়ে থাকতে বলল। দরজা খোলার সাথে সাথেই বলল, "একটা জিনিস, একটা জিনিস... বলে লাফিয়ে উঠল।" তখন মধু চলে আসল, আর টুপি বলল, "সারপ্রাইজ!" তখন মেয়েটি দেখে অবাক হয়ে গেল, "ওমা! কী সুন্দর গো! এক্ষুণি আমি বিয়ে করব।" তখন টুপি বলল, "এখন তো আর করা যাবে না, পরশু করব।" তার পরের দিন বউভাত আর তার আগের দিন হলুদ হবে। তারপর ঘর-টর সাজানো হল, আলাপ আলোচনা করা হল, সবার নাম-ধাম জানা হলো। হলুদের জন্য মার্কেটে গেল, হলুদ কিনল, হলুদের বাটি কিনল। "হলুদ" লেখা একটি কাগজ কিনল। সুন্দর সুন্দর ফিতা কিনল। বেলুনও কিনল। ফুল কিনল। পোলাওয়ের চাল কিনল। একটি মোরগ কিনল। মিষ্টি কিনল, দই কিনল। বিয়ে হল। টুপিকে ছন্দ শোনালো।
Subscribe to:
Posts (Atom)
